ভূমিকা

পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াতসমগ্র

 

ভূমিকা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ ۝ قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ۝

“হে মানবকুল, তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এসেছে তোমাদের জন্য উপদেশ বাণী (কুরআন) ও অন্তরস্থ (রোগের) নিরাময় এবং মু’মিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। (হে নবী) বলুন, এটা আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা তারা সঞ্চয় করেছে।” (১০:৫৭–৫৮)

পরম করুণাময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালার শানে, যিনি নাযিল করেছেন এ পবিত্র কুরআন মানব জাতির হেদায়েতর জন্য। অসংখ্য দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর বংশধর ও সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও নেক মু’মিন নর-নারীগণের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহ্ তাঁর সর্বশেষ নবীর (সা) ওপর ওহীর মাধ্যমে নাযিল করেছেন এ পবিত্র কুরআন। আমি আরও বিশ্বাস করি পবিত্র কুরআনের পূর্বে নাযিলকৃত সকল আসমানী কিতাবসমূহে।

সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল–কুরআন মানব জাতির জন্য এক চিরন্তন উপদেশ গ্রন্থ। কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্যই হলো, মানুষ নিয়মিত এ গ্রন্থ পাঠ করবে, এর দ্বারা হেদায়েত লাভ করবে এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকা অনুযায়ী এর ওপর আমল করে ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সাফল্য অর্জন করবে। তাই নিয়মিত কুরআন পাঠ করা ও এর ওপর আমল করা সব বিশ্বাসী মুসলমানের ওপর এক অপরিহার্য কর্তব্য। পবিত্র কুরআন মানুষের জন্য আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত এক জীবন বিধান। মানব জীবনের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে আলোচিত হয়েছে, অনেক উপদেশমূলক বাণী, শিক্ষণীয় কাহিনী ও দৃষ্টান্ত বর্ণিত হয়েছে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য অনেক মৌলিক বিধি–বিধান নাযিল করা হয়েছে। যদিও এ পবিত্র গ্রন্থ আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এর আহ্বান দুনিয়ার সব ভাষাভাষি জনগোষ্ঠীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। নিজ নিজ মাতৃভাষায় একে অনুধাবন করার ক্ষেত্রে ভাষাগত সমস্যাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য বর্তমানে পৃথিবীর সব প্রধান প্রধান ভাষায় তফসীরসহ কুরআনের বহু অনুবাদ অনুবাদ গ্রন্থ বেরিয়েছে। বাংলা ভাষায়ও এর বহু অনুবাদ ও তফসীর প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন বিষয়ে কুরআনের বক্তব্য, উপদেশ বাণী ও নির্দেশাবলী এর বিশাল কলেবর জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। পবিত্র কুরআনের একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে বিভিন্ন সূরায় একই বিষয়ের ওপর আলোচিত আয়াতগুলোকে বিষয়-ভিত্তিক আকারে একত্রে গ্রথিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পেরে সম্পূর্ণ নেক ও খালিস নিয়তে ‘পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াতসমগ্র’ Ñনামীয় এ সংকলনটি তৈরী করতে উদ্যোগী হয়েছি। এ বিষয়–ভিত্তিক সংকলনটি থেকে পাঠক/গবেষকবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ে কুরআনের আয়াতসমূহ সহজেই জেনে নিতে পারবেন। পবিত্র কুরআনের বিষয়–সংশ্লিষ্ট সব আয়াতের উদ্ধৃতি এ সংকলনে আনতে না পারলেও প্রধান প্রধান বিষয় সম্পর্কিত আয়াতগুলো এতে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে এ সংকলনটিতে হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রাঃ) রচিত এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের অনুবাদকৃত তফসীর গ্রন্থ ‘মাআরেফুল কুরআনের’ অনুবাদ অনুসৃত হয়েছে। তবে দুয়েকটি ক্ষেত্রে অন্য অনুবাদের সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। আয়াতের অনুবাদ ব্যতীত পটভূমি হিসেবে দ্বীনের আলোকে কিছু কথা এতে সংযোজন করেছি।

এ সংকলনটির সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজটি ছিল আমার জন্য অত্যন্ত দুরূহ। এ কঠিন সময়ে আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধুবর মাওলানা মোহাম্মাদ নূর হোসাইন সাহেব পুরো সংকলনটির পান্ডুলিপির সম্পাদনা ও এর প্রকাশনার ব্যাপারে এক বিরাট ও মহতী অবদান রেখেছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মাসিক আল উসওয়া’র সম্পাদক, বহু ইসলামী গ্রন্থের প্রণেতা ও ইসলামী প্রচার সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি তাঁর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এ গ্রন্থের সম্পাদনার কাজটি সম্পন্ন করেছেন। নিজ প্রকাশনার কাজ স্থগিত রেখে তিনি তাঁর অমূল্য সময় ও শ্রম এ কাজে ব্যয় করায় তাঁকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ – জাযাকাল্লাহ্ খায়রান।

প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমাকে বিভিন্নভাবে মূল্যবান সহযোগিতা প্রদান করেছেন আমার ছোট ভাই ও এ সংকলনের প্রকাশক জনাব শহীদ উদ্দীন আহমদ এবং আমার পুত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আলমগীর। কৃতজ্ঞ চিত্তে তাঁদের সহযোগিতার কথা স্বীকার করছি।

সংকলনটিতে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি–বিচ্যুতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সহৃদয় পাঠকবৃন্দের নিকট সবিনয় অনুরোধ রইল এ ধরনের কিছু দৃষ্টিগোচর হলে মতামতসহ অবশ্যই প্রকাশককে তা জানাবেন। আমার মতো এক নাদান বান্দার ক্ষুদ্র জ্ঞানে সম্পাদিত এ সংকলনটি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের রেযামন্দির জন্যই নিবেদিত। তিনি যে আমাকে এ কাজের তওফিক দিয়েছেন এ জন্য তাঁর নিকট অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। তাঁর সকাশে আমার প্রার্থনা এই যে, বিনিময় হিসেবে তিনি যেন আখিরাতে আমাদেরকে দোযখের আগুন থেকে নাযাত দান করেন। আমীন!

―শিহাব উদ্দিন আহমদ
suahmed48@gmail.com
ফোন: ১–৫৮৬–৪৩৮–৬৭০৪

 

সংকলন সম্পর্কিত

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ۝
وَالصَّلوةُ وَالسَّلاَمُ عَلى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلى الِه وَاَصَحَابِه اَجْمَعِيْنَ

অত্র গ্রন্থ প্রণেতা আলহাজ্জ শিহাব উদ্দিন আহমদ আমার দীর্ঘ দিনের সহকর্মী, সুহৃদ ও অকৃত্রিম বন্ধু। আলোচ্য গ্রন্থটি তাঁর দীর্ঘ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়ন ও গবেষণারই সোনালী ফসল।

আমি গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। রচনাশৈলী ও ভাবলালিত্যে এবং অধ্যায়-গুলোর শ্রেণীবিন্যাসে গ্রন্থকার দক্ষতা ও নৈপুণ্যের সাক্ষর রেখেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের যুব ও তরুণ সমাজ যারা ইসলাম সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞানলাভে আগ্রহী, তাদের জন্য গ্রন্থটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে এবং তাদের অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাছাড়া, আমাদের সম্মানিত লেখক, গবেষক এবং অনুসন্ধিৎসু পাঠকবর্গের জন্য গ্রন্থটি হাতের কাছে পাওয়া এবং সদাপ্রস্তুত একটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমার ধারণা।

পরিশেষে এ গ্র্রন্থের লেখক, প্রকাশক এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে বিনয়াবনত হয়ে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এই গ্রন্থটিকে কবুল করেন এবং পরকালে এটিকে আমাদের সকলের জন্য নাজাতের উসিলা করেন। আমীন!

মাওলানা মোহাম্মদ নূর হোসাইন
সম্পাদক
মাসিক আল্–উস্‌ওয়া
মিরপুর, ঢাকা।

 

৩০টি অধ্য়ায়ে বিভক্ত সূচীপত্র (ডান পাশের কলামে)

 

 

 

অধ্যায়সমূহ