৪র্থ অধ্যায় : পবিত্র কুরআন: আলোকিত পথের দিশারী

মানবজাতির প্রতি পবিত্র কুরআনের দিক–নির্দেশনা

পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য় এক আলোকিত পথের দিশারী। লক্ষ্যভ্রষ্ট মানবসমাজকে সার্বিক কল্যাণের পথে পরিচালিত করাই এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জাগতিক উন্নয়নের ব্যাপারে মানুষ এতটাই মশগুল যে, তাদের কাছে পরকালীন চিরন্তন জীবন চরমভাবে উপেক্ষিত। ফলে বিশ্ব জুড়ে দ্বন্দ–সংঘর্ষ, হানাহানি, শোষণ ও বঞ্চনার এমন এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যা মানুষের আত্মার শান্তিকে করেছে বিনষ্ট। এহেন পরিস্থিতিতে পবিত্র কুরআন মানবজাতিকে উপহার দিয়েছে এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে এ জীবন ব্যবস্থাই দিতে পারে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তির বার্তা এবং করতে পারে সকল সমস্যার সমাধান।

মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মানুষের প্রতি নির্দেশাবলী জারী করেছেন। এগুলো আল্লাহর দ্বীনের মৌলিক ও অতীব জরুরী নির্দেশনা এবং শিক্ষণীয় বিষয় যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও উল্লেখিত হয়েছিল। এ নির্দেশনামায় মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকার বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত যা মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সুনিশ্চিত করে। যেমন,

  • শিরক, কুফর, নিফাক  এবং অধার্মিকতা থেকে বেঁচে থাকা,
  • মাতাপিতার প্রতি অসম্মান ও অশ্রদ্ধা পোষণ না করা, এবং
  • খুন–যখম, জুলুম–অত্যাচার, ফেতনা–ফ্যাসাদ, চুরি–প্রতারণা, যেনা–ব্যভিচার, মিথ্যাচার–বেইনসাফি, গীবত–অপবাদ, হিংসা–বিদ্বেষ, হকদারের হক বিনষ্টকরণ, ইত্যাদি অপকর্মে লিপ্ত না হওয়া।
  • আল্লাহ্ মানুষকে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার তাগিদ দিয়েছেন যাতে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থকে।

 

এতদ্সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

قُلْ تَعَالَوْا اَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّکُمْ عَلَیْکُمْ اَلَّا تُشْرِکُوْا بِہٖ شَیْئًا وَبِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا ۚ  وَلَا تَقْتُلُوْۤا اَوْلَادَکُمْ مِّنْ اِمْلَاقٍ ؕ نَحْنُ نَرْزُقُکُمْ وَاِیَّاهُمْ ۚ  وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَعْقِلُوْنَ۝ وَلَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّہٗ ۚ وَاَوْفُوا الْكَیْلَ وَالْمِیْزَانَ بِالْقِسْطِ ۚ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ۚ وَاِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوْا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰی ۚ وَبِعَہْدِ اللّٰهِ اَوْفُوْا ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَذَكَرُوْنَ ۝ وَ اَنَّ هٰذَا صِرَاطِیْ مُسْتَقِیْمًا فَاتَّبِعُوْهُ ۚ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمْ عَنْ سَبِیْلِہٖ ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَتَّقُوْنَ۝

“আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা–মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।” (সূরাহ আন’আম, ৬:১৫১ – ১৫৩)

فَاعْلَمْ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ؕ وَاللّٰهُ یَعْلَمُ مُتَقَلَّبَکُمْ وَ مَثْوٰىکُمْ ۝

“জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ত্রুটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।” (সূরাহ মুহাম্মদ, ৪৭:১৯)

اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَ الْاِحْسَانِ وَ اِیْتَآیِٔ ذِی الْقُرْبٰی وَ یَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْیِ ۚ یَعِظُکُمْ  لَعَلَّکُمْ  تَذَكَرُوْنَ ۝

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরাহ নাহল, ১৬:৯০)

وَ قَضٰی رَبُّكَ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّاۤ اِیَّاهُ وَ بِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا ؕ اِمَّا یَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ اَحَدُهُمَاۤ اَوْ كِلٰهُمَا فَلَا تَقُلْ لَّهُمَاۤ اُفٍّ وَّ لَا تَنْهَرْهُمَا وَ قُلْ لَّهُمَا قَوْلًا كَرِیْمًا۝وَ اخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَۃِ وَ قُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّیٰنِیْ صَغِیْرً ۝

“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা–মাতার সাথে সদ্বব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:২৩–২৪)

وَآتِ ذَا الْقُرْبَىٰ حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ۝ إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

“আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:২৬–২৭)

وَ اِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَآءَ رَحْمَۃٍ مِّنْ رَّبِّكَ تَرْجُوْهَا فَقُلْ لَّهُمْ قَوْلًا مَّیْسُوْرًا۝

“এবং তোমার পালনকর্তার করুণার প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে (দুঃস্থ) বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:২৮)

وَ لَا تَجْعَلْ یَدَكَ مَغْلُوْلَۃً اِلٰی عُنُقِكَ وَ لَا تَبْسُطْهَا کُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُوْمًا مَّحْسُوْرًا۝

“তুমি একেবারে ব্যয়-কুষ্ঠ (কৃপণ) হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত  নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:২৯)

وَلَا تَقْتُلُوْۤا  اَوْلَادَکُمْ  خَشْیَۃَ  اِمْلَاقٍ ؕ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ  وَاِیَّاکُمْ ؕ     اِنَّ  قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْاً كَبِیْرًا۝

“দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩১)

وَ لَا تَقْرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّہٗ كَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیْلًا۝

“আর ব্যভিচারের ধারে–কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩২)

وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالْحَقِّ ؕ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوْمًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِیِّہٖ سُلْطٰنًا فَلَا یُسْرِفْ فِّی الْقَتْلِ ؕ اِنَّہٗ كَانَ مَنْصُوْرًا۝

“সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৩)

وَلَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّہٗ ۪ص وَاَوْفُوْا بِالْعَہْدِ ۚ اِنَّ الْعَہْدَ كَانَ مَسْـُٔوْلًا۝

“আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাঙ্খা ছাড়া — যতক্ষণ না সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয় এবং অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৪)

وَ اَوْفُوا الْكَیْلَ اِذَا كِلْتُمْ وَ زِنُوْا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِیْمِ ؕ ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا۝

“মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৫)

وَلَا تَقْفُ مَا لَیْسَ لَكَ بِہٖ عِلْمٌ ؕ  اِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ کُلُّ اُولٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ  مَسْـُٔوْلًا۝

“যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৬)

وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا ۚ اِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْاَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُوْلًا ۝

“পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূপৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৭)

وَ لَا تَجْعَلْ مَعَ اللّٰهِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَتُلْقٰی فِیْ جَهَنَّمَ مَلُوْمًا مَّدْحُوْرًا۝

“………. আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করবেন না। তাহলে অভিযুক্ত ও আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেন।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৩৯)

وَلَا تَجْعَلُوا اللّٰهَ عُرْضَۃً لِّاَیْمَانِکُمْ اَنْ تَبَرُّوْا وَتَتَّقُوْا وَتُصْلِحُوْا بَیْنَ النَّاسِ ؕ وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ۝

“আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না মানুষের সাথে কোন আচার আচরণ থেকে পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ সবকিছুই শুনেন ও জানেন।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:২২৪)

وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَّقْبُوضَةٌ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ

“আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর।” …… (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:২৮৩)

وَ لَا تَکْتُمُوْا الشَّهَادَۃَ ؕ وَمَنْ یَّکْتُمْهَا فَاِنَّہٗۤ اٰثِمٌ قَلْبُہٗ ؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌ ۝

“……….. তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:২৮৩)

اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُکُمْ اَنْ تُؤَدُّوا الْاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَهْلِهَا ۙ وَاِذَا حَكَمْتُمْ بَیْنَ النَّاسِ اَنْ تَحْکُمُوْا بِالْعَدْلِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ نِعِمَّا یَعِظُکُمْ بِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا ۝

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।” (সূরাহ আন নিসা, ৪:৫৮)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اجْتَنِبُوْا كَثِیْرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ  اِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوْا وَلَا یَغْتَبْ بَّعْضُکُمْ بَعْضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُکُمْ اَنْ یَّاْکُلَ لَحْمَ اَخِیْهِ مَیْتًا فَكَرِهْتُمُوْهُ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ رَّحِیْمٌ ۝

“মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” (সূরাহ আল হুজরাত, ৪৯:১২)

خُذِ الْعَفْوَ وَ اْمُرْ بِالْعُرْفِ وَ اَعْرِضْ عَنِ  الْجٰهِلِیْنَ۝

“আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:১৯৯)

  اَقِمِ الصَّلٰوۃَ  وَ اْمُرْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ انْهَ  عَنِ الْمُنْكَرِ وَ اصْبِرْ عَلٰی مَاۤ اَصَابَكَ ؕ اِنَّ  ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ  الْاُمُوْرِ ۝

“…… নামায কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।” (সূরাহ লোকমান, ৩১:১৭)

পবিত্র কুরআন: সত্য ও মিথ্যার মধ্যে ফয়সালাকারী গ্রন্থ

সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ চিরন্তন। মিথ্যা শয়তানী প্ররোচনা থেকে উদ্ভূত যা মানুষকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করে, বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে ও পদস্খলন ঘটায়। আল্লাহ্ পাক তাঁর পবিত্র কালামে সত্যকে পরিস্ফুট এবং মিথ্যাকে চিহ্নিত ও বর্জনীয় করেছেন। মানব জাতির চরম শত্রু শয়তান ও তার অনুসারীরা প্রতি নিয়ত মিথ্যা ও প্রতারণার জাল বিস্তার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, অসততা, দ্বন্দ ও সংঘাত সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। তারা তাদের মিথ্যাচার ও দুষ্কর্ম দ্বারা মহান আল্লাহর সত্য ধর্ম ও বাণীকে বিকৃত করেছে এবং তাঁর নূরকে নির্বাপিত করতে চেয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্ মানব জাতির হেদায়েতের জন্য তাঁর সত্য–পথ নির্দেশক নূরকে  চির সমুজ্জ্বল রাখতে চান। এ জন্য তিনি যুগে যুগে পাঠিয়েছেন নবী ও রাসূল এবং নাযিল করেছেন আসমানী কিতাব যাতে মানুষ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। প্রত্যেক নবী ও রাসূল নিজ নিজ জাতি ও গোত্রকে আল্লাহর বাণীর দ্বারা সত্য ও সুপথের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁরা সত্যের আলোকে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন। অবশেষে মিথ্যা পরাভূত হয়েছে এবং সত্যের জয় নিশ্চিত হয়েছে।  এরই ধারাবাহিকতায় আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাযিল হয়েছে সর্বশেষ কিতাব পবিত্র কুরআন। এ কুরআন সত্য ও মিথ্যার ফয়সালাকারী গ্রন্থ। তাই মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এ কিতাবকে আখ্যা দিয়েছেন “ফুরকান” যার অর্থ হলো সত্য ও মিথ্যার ফয়সালাকারী। এতদ্ সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

تَبَارَكَ الَّذِىْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِه لِيَكُوْنَ لِلْعٰلَمِيْنَ نَذِيْرًا۝

“পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার (সত্য–মিথ্যার পার্থক্যকারী) গ্রন্থ অবর্তীণ করেছেন, যাতে তিনি (নবী মুহাম্মাদ সাঃ) বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হন।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:১)

نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَاَنْزَلَ التَّوْرٰىةَ وَالْاِنْجِيْلَ۝ مِنْ قَبْلُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَاَنْزَلَ الْفُرْقَانَ ۬ ؕ …… ۝

“তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের — নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন ফুরকান (কুরআন)।……” (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:৩–৪)

هُوَ الَّذِىۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَه بِالْهُدٰى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيْظْهِرَه عَلَى الدِّيْنِ كُلِّه وَكَفٰى بِاللهِ شَهِيْدًا۝

“তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।” (সূরাহ আল ফাতহ, ৪৮:২৮)

وَقُل رَّبِّ اَدْخِلْنِىْ مُدْخَلَ صِدْقٍ وَاَخْرِجْنِىْ مُخْرَجَ صِدْقٍ وَّاجْعَلْ لِّىْ مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطٰنًا نَّصِيْرًا۝ وَقُلْ جَآءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبٰطِلُ اِنَّ الْبٰطِلَ كَانَ زَهُوْقًا۝

“বলুনঃ হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য। বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৮০–৮১)

قُلْ اِنَّ رَبِّىْ يَقْذِفُ بِالْحَقِّ ط عَلّٰمُ الْغُيُوْبِ۝ قُلْ جَآءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبٰطِلُ وَمَا يُعِيْدُ۝

“বলুন, আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতরণ করেছেন। তিনি আলেমুল গায়ব। বলুন, সত্য আগমন করেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে এবং না পারে পূনঃ প্রত্যাবর্তিত হতে।” (সূরাহ সাবা, ৩৪:৪৮–৪৯)

وَبِالْحَقِّ اَنْزَلْنٰهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَآ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا۝

“আমি সত্যসহ এ কোরআন নাযিল করেছি এবং সত্য সহ এটা নাযিল হয়েছে। আমি তো আপনাকে শুধু সুসংবাদাতা ও ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:১০৫)

ذٰلِكَ بِاَنَّ اللهَ نَزَّلَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ ۗ  وَاِنَّ الَّذِيْنَ اخْتَلَفُوْا فِى الْكِتٰبِ لَفِىْ شِقَاقٍۭ بَعِيْدٍ۝

“আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:১৭৬)

وَلَا تَلْبِسُوْا الْحَقَّ بِالْبٰطِلِ وَتَكْتُمُوْا الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۝

“তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:৪২)

لَہٗ دَعْوَۃُ  الْحَقِّ ؕ وَالَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِہٖ لَا یَسْتَجِیْبُوْنَ لَهُمْ بِشَیْءٍ اِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّیْهِ اِلَی الْمَآءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبٰلِغِه وَمَا دُعَآءُ الْکٰفِرِیْنَ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ ۝

“সত্যের আহবান একমাত্র তাঁরই এবং তাকে ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না; ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ, যেমন কেউ দু’ হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোন সময় পৌঁছাবে না। কাফেরদের যত আহবান তার সবই পথভ্রষ্টতা।” (সূরাহ আর রা’দ, ১৩:১৪)

وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ اَهْوَاۤءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَالْاَرْضُ وَمَنْ فِيْهِنَّ بَلْ اَتَيْنٰهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُّعْرِضُوْنَ۝

“সত্য যদি তাদের কাছে কামনা-বাসনার অনুসারী হত, তবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। বরং আমি তাদেরকে দান করেছি উপদেশ, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ অনুধাবন করে না।” (সূরাহ আল মু’মিনূন, ২৩:৭১)

یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَلْبِسُوْنَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَکْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۝

“হে আহলে কিতাবগণ, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে সংমিশ্রণ করছ এবং সত্যকে গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জান।” (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:৭১)

فَمَنِ افْتَرٰى عَلَى اللهِ الْكَذِبَ مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ فَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ۝ قُلْ صَدَقَ اللهُ ۗ فَاتَّبِعُوْا مِلَّةَ اِبْرٰهِيْمَ حَنِيْفًا وَّمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ۝

“অতঃপর আল্লাহর প্রতি যারা মিথ্যা আরোপ করেছে, তারাই যালেম সীমালংঘনকারী। বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ভাবে সত্যধর্মের অনুসারী। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:৯৪–৯৫)

قُلْ سِيْرُوْا فِى الْاَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عٰقِبَةُ الْمُكَذِّبِيْنَ۝

“বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কি হয়েছে?” (সূরাহ আন’আম, ৬:১১)

فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ اِذْ جَآءَه اَلَيْسَ فِىْ جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكٰفِرِيْنَ۝ وَالَّذِىْ جَآءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِه اُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ۝

“যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং তার কাছে সত্য আগমন করার পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তার চেয়ে অধিক যালেম আর কে হবে? কাফেরদের বাসস্থান জাহান্নামে নয় কি? যারা সত্য নিয়ে আগমন করছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।” (সূরাহ আল-যুমার, ৩৯:৩২–৩৩)

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الْحُبُكِ ۝ اِنَّكُمْ لَفِىْ قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ ۝ يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ اُفِكَ ۝ قُتِلَ الْخَرّٰصُوْنَ۝ الَّذِيْنَ هُمْ فِىْ غَمْرَةٍ سَاهُوْنَ۝

“পথবিশিষ্ট আকাশের কসম, তোমরা তো বিরোধপূর্ণ কথা বলছ। যে ভ্রষ্ট, সেই এ থেকে মুখ ফিরায়, অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক, যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।” (সূরাহ আয-যারিয়াত, ৫১:৭-১১)

ذٰلِكَ بِاَنَّ اللهَ هُوَ الْحَقُّ وَاَنَّ مَا يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه هُوَ الْبٰطِلُ وَاَنَّ اللهَ هُوَ الْعَلِىُّ الْكَبِيْرُ۝

“এটা এ কারণেও যে, আল্লাহই সত্য; আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য এবং আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।” (সূরাহ হাজ্জ্ব, ২২:৬২)

قُلْ اِنَّ رَبِّىْ يَقْذِفُ بِالْحَقِّ ط عَلّٰمُ الْغُيُوْبِ۝ قُلْ جَآءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبٰطِلُ وَمَا يُعِيْدُ۝

“বলুন, আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতরণ করেছেন। তিনি আলেমুল গায়ব। বলুন, সত্য আগমন করেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে এবং না পারে পুনঃ প্রত্যাবর্তিত হতে।” (সূরাহ সাবা, ৩৪:৪৮–৪৯)

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ۝ وَالْاَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ۝ اِنَّه لَقَوْلٌ فَصْلٌ ۝ وَّمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ۝

“শপথ চক্রশীল আকাশের এবং বিদারণশীল পৃথিবীর, নিশ্চয় কুরআন সত্য–মিথ্যার ফয়সালাকারী। এবং এটা উপহাস নয়।” (সূরাহ আত্ব-তারিক্ব, ৮৬:১১–১৪)

وَاِنْ كَادُوْا لَيَفْتِنُوْنَكَ عَنِ الَّذِىۤ اَوْحَيْنَاۤ اِلَيْكَ لِتَفْتَرِىَ عَلَيْنَا غَيْرَه وَاِذًا لَّاتَّخَذُوْكَ خَلِيْلًا۝ وَّلَوْلَاۤ اَنْ ثَبَّتْنٰكَ لَقَدْ كِدْتَّ تَرْكَنُ اِلَيْهِمْ شَيْـًٔا قَلِيْلًا۝

“তারা তো আপনাকে হটিয়ে দিতে চাচ্ছিল যে বিষয় আমি আপনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যা প্রেরণ করেছি তা থেকে আপনার পদস্খলন ঘটানোর জন্যে তারা চূড়ান্ত চেষ্টা করেছে, যাতে আপনি আমার প্রতি কিছু মিথ্যা সম্বন্ধযুক্ত করেন। এতে সফল হলে তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নিত। আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখলে আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:৭৩–৭৪)

قَالَ اللّٰهُ هٰذَا یَوْمُ یَنْفَعُ الصّٰدِقِیْنَ صِدْقُهُمْ ؕ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ رَضِیَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُ ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ۝

“আল্লাহ বলবেন: আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে উদ্যান রয়েছে, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত হবে; তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহা সফলতা।” (সূরাহ মায়েদাহ, ৫:১১৯)

وَقَالُوْۤا اٰمَنَّا بِه وَاَنّٰى لَهُمُ التَّنَاوُشُ مِنْ مَّكَانٍۭ بَعِيْدٍ۝ وَقَدْ كَفَرُوْا بِه مِنْ قَبْلُ وَيَقْذِفُوْنَ بِالْغَيْبِ مِنْ مَّكَانٍۭ بَعِيْدٍ۝ وَحِيْلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُوْنَ كَمَا فُعِلَ بِاَشْيَاعِهِمْ مِّنْ قَبْلُ ط اِنَّهُمْ كَانُوْا فِىْ شَكٍّ مُّرِيْبٍۭ۝

“তারা বলবে, আমরা সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। কিন্তু তারা এতদূর থেকে তার নাগাল পাবে কেমন করে? অথচ তারা পূর্ব থেকে সত্যকে অস্বীকার করছিল। আর তারা সত্য হতে দূরে থেকে অজ্ঞাত বিষয়ের উপর মন্তব্য করত। তাদের ও তাদের বাসনার মধ্যে (সত্য) অন্তরাল হয়ে গেছে, যেমন- তাদের সতীর্থদের সাথেও এরূপ করা হয়েছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। তারা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহে পতিত।” (সূরাহ সাবা, ৩৪:৫২–৫৪)

بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَی الْبَاطِلِ فَیَدْمَغُہٗ فَاِذَا هُوَ زَاهِقٌ ؕ وَ لَکُمُ الْوَیْلُ مِمَّا تَصِفُوْنَ ۝

“বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।” (সূরাহ আম্বিয়া, ২১:১৮)

اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتْ اَوْدِیَۃٌۢ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّیْلُ زَبَدًا رَّابِیًا ؕ وَ مِمَّا یُوْقِدُوْنَ عَلَیْهِ فِی النَّارِ ابْتِغَآءَ حِلْیَۃٍ اَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُہٗ ؕ كَذٰلِكَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْحَقَّ وَ الْبَاطِلَ ۬ؕ فَاَمَّا الزَّبَدُ فَیَذْهَبُ جُفَآءً ۚ وَ اَمَّا مَا یَنْفَعُ النَّاسَ فَیَمْکُثُ فِی الْاَرْضِ ؕ كَذٰلِكَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ ۝

“তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহ এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:১৭)

اَلَّذِيْنَ اٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ يَعْرِفُوْنَه كَمَا يَعْرِفُوْنَ اَبْنَآءَهُمْ وَاِنَّ فَرِيْقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ۝ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِيْنَ۝

“আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে। বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন। কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:১৪৬–১৪৭)

وَقُلِ الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ ۖ فَمَن شَاءَ فَلْيُؤْمِن وَمَن شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ۚ۝
“বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।” … (সূরাহ কাহাফ, ১৮:২৯)
وَأَنَّ هَـٰذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ۝
“(মহান আল্লাহ্) তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সত্যনিষ্ঠ হও।” (সূরাহ আন’আম, ৬;১৫৩)

 

পবিত্র কুরআন মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত ও পথ-নির্দেশক

পবিত্র কুরআনের শিক্ষার আলোকে নবী করীম (সা) এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসলেন মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে, নীতি-নৈতিকতায় ও জীবন ব্যবস্থায়। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন এক আদর্শ জীবন ব্যবস্থা – যার নাম ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মদীনা নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী দ্বীন (ধর্মীয় বিধানসমূহ) ও শরীয়ত (ধর্মীয় বিধানসমূহের আলোকে সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা)। তাঁর জীবদ্দশায় এবং পরবর্তীতে তাঁর সাহাবীগণের দ্বারা এ দ্বীন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তখন থেকেই পরিচালিত হতে থাকে মুসলিম উম্মাহর প্রাত্যহিক জীবন ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক। মুসলিম উম্মাহ্ তথা মানব জাতির জন্য রহমত ও পথ-নির্দেশক হিসেবে আসমানী গ্রন্থ পবিত্র কুরআনের এই ধারা বলবৎ থাকবে রোজ ক্বিয়ামত পর্যন্ত। মুসলিম উম্মাহ্ যতদিন পর্যন্ত কুরআন ও সুন্নাহর বিধি–বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করবে ততদিন আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ রহমত ও বরকত তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন,

“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য……।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:১৪৩)।

তিনি আরও বলেন,

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে……. । (আলে ইমরান, ৩:১১০)

হেদায়েতর বাণী সম্বলিত সঠিক পথের দিশারী পবিত্র কুরআন সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,

هٰذَا بَصَاۤئِرُ مِنْ رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ۝

“এ (কুরআন) তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত দলিল, হেদায়েত (পথনির্দেশ) ও দয়া।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:২০৩, ৪৫:২০)

وَاِنَّه لَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ

“এবং নিশ্চিতই এটা মু’মিনদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত।” (সূরাহ নমল, ২৭:৭৭)

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتٰبَ تِبْيٰنًا لِّكُلِّ شَىْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرٰى لِلْمُسْلِمِيْنَ۝

“……….আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।” (সূরাহ নাহল, ১৬:৮৯)

وَلَقَدْ جِئْنٰهُم بِكِتٰبٍ فَصَّلْنٰهُ عَلٰى عِلْمٍ هُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُوْنَ۝

“আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌঁছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মু’মিনদের জন্যে রহমত।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:৫২)

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىۤ اَنْزَلَ عَلٰى عَبْدِهِ الْكِتٰبَ وَلَمْ يَجْعَل لَّه عِوَجَا ۝ قَيِّمًا لِّيُنْذِرَ بَاْسًا شَدِيْدًا مِّنْ لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِيْنَ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ اَجْرًا حَسَنًا ۝ مّٰكِثِيْنَ فِيْهِ اَبَدًا ۝

“সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মু’মিনগণ যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে – তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) রয়েছে। তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।” (সূরাহ কাহাফ, ১৮:১ – ৩)

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىۤ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الهُدٰى وَالْفُرْقَانِ۝

“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য পথের যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ–নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:১৮৫)

ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَیْبَ ۚۖۛ فِیْهِ ۚۛ هُدًی لِّلْمُتَّقِیْنَ ۝ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِالْغَیْبِ وَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوۃَ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ ۝و َ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَ مَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ ۚ وَ ِالْاٰخِرَۃِ هُمْ یُوْقِنُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ عَلٰی هُدًی مِّنْ رَّبِّهِمْ ٭ وَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۝

“এ সেই গ্রন্থ যাতে কোনই সন্দেহ নেই। (এটি) পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, যারা অদৃশ্য বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, আর আমি তাদেরকে যে জীবিকা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।” (সূরাহ হাজ্জ্ব, ২:২ – ৫)

اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ يَهْدِىْ لِلَّتِىْ هِىَ اَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِيْنَ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ اَجْرًا كَبِيْرًا۝

“এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে।” (১৭:৯)

قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ ۝ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ۝
“…….. তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালনা করেন।” (সূরাহ মায়েদাহ, ৫:১৫–১৬)

وَكَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰيٰتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ۝

“বস্তুতঃ এভাবে আমি (কুরআনে বর্ণিত) দৃষ্টান্তসমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা (সরল পথে) ফিরে আসে।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:১৭৪)

وَالَّذِيْنَ يُمَسِّكُوْنَ بِالْكِتٰبِ وَاَقَامُوْا الصَّلَوٰةَ اِنَّا لَا نُضِيْعُ اَجْرَ الْمُصْلِحِيْنَ۝

“আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মীদের সওয়াব।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:১৭০)

وَاِنَّكَ لَتَدْعُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۝ وَاِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰكِبُوْنَ۝

“আপনিতো তাদেরকে সরল পথে দাওয়াত দিচ্ছেন; আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।” (সূরাহ আল মু’মিনূন, ২৩:৭৩ – ৭৪)

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ اِمَّا یَاْتِیَنَّکُمْ رُسُلٌ مِّنْکُمْ یَقُصُّوْنَ عَلَیْکُمْ اٰیٰتِیْ ۙ فَمَنِ اتَّقٰی وَ اَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۝ وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ اسْتَکْبَرُوْا عَنْهَاۤ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝

“হে বনী–আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ শোনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে, তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:৩৫ – ৩৬)

 

কুরআন সম্পর্কে কাফের বনাম মু’মিনদের মূল্যায়ন

বিশ্বাসীগণ ঈমানের আলোকে কুরআনের বাণীর মূল্যায়ন করে। অপরদিকে অবিশ্বাসীরা হঠকারিতা ও অজ্ঞতাপ্রসূত হয়ে এর অবমূল্যায়ন করে। বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীরা কে কিভাবে কুরআনকে মূল্যায়ন করে তৎসংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

وَ اِذَا یُتْلٰی عَلَیْهِمْ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِہٖۤ اِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّنَاۤ اِنَّا کُنَّا مِنْ قَبْلِہٖ مُسْلِمِیْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ یُؤْتَوْنَ اَجْرَهُمْ مَّرَّتَیْنِ بِمَا .بَرُوْا

“যখন তাদের (মু’মিনগণ) কাছে এটা (কুরআন) পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম। তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে…।” (সূরাহ আল কাসাস, ২৮:৫৩ – ৫৪)

وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْکُۨ افْتَرٰىهُ وَ اَعَانَہٗ عَلَیْهِ قَوْمٌ اٰخَرُوْنَ ۚۛ فَقَدْ جَآءُوْ ظُلْمًا وَّ زُوْرًا ۝ وَ قَالُوْۤا اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ اکْتَتَبَهَا فَهِیَ تُمْلٰی عَلَیْهِ بُکْرَۃً وَّ اَصِیْلًا ۝ قُلْ اَنْزَلَهُ الَّذِیْ یَعْلَمُ السِّرَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّہٗ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۝

“কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা বৈ নয়, যা তিনি (হযরত মুহাম্মদ সা) উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য লোকেরা তাঁকে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা অবিচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলে, এগুলো তো পুরাকালের রূপকথা, যা তিনি লিখে রেখেছেন। এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে শেখানো হয়। (হে নবী) বলুন, একে তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য অবগত আছেন। তিনি ক্ষমাশীল, মেহেরবান।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৪ – ৬)

اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِىْ غَفْلَةٍ مُّعْرِضُوْنَ۝ مَا يَاْتِيْهِمْ مِّنْ ذِكْرٍ مِّنْ رَّبِّهِمْ مُّحْدَثٍ اِلَّا اسْتَمَعُوْهُ وَهُمْ يَلْعَبُوْنَ۝ لَاهِيْةً قُلُوْبُهُمْ ط وَاَسَرُّوْا النَّجْوَى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا هَلْ هٰذَۤا اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ اَفَتَاْتُوْنَ السِّحْرَ وَاَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ۝ قَالَ رَبِّىْ يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِى السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ۝ بَلْ قَالُوْۤا اَضْغٰثُ اَحْلٰمٍۢ بَلِ افْتَرٰىهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَاْتِنَا بِـَٔايَةٍ كَمَاۤ اُرْسِلَ الْاَوَّلُوْنَ ۝

“মানুষের হিসাব-কিতাবের সময় নিকটবর্তী; অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যখনই কোন নতুন উপদেশ আসে, তারা তা খেলার ছলে শ্রবণ করে। তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। যালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে শুনে তোমরা তার জাদুর কবলে কেন পড়? তিনি (নবী সা) বললেন: নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের (সব) কথাই আমার পালনকর্তা জানেন। তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু জানেন। এছাড়া তারা আরও বলে: অলীক স্বপ্ন; না সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, না সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন আনয়ন করুক, যেমন নিদর্শনসহ আগমন করেছিলেন পূর্ববর্তীগণ।” (সূরাহ আম্বিয়া, ২১:১ – ৫)

وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اَىُّ الْفَرِيْقَيْنِ خَيْرٌ مَّقَامًا وَّاَحْسَنُ نَدِيًّا ۝ وَكَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْنٍ هُمْ اَحْسَنُ اَثٰثًا وَّرِءْيًا ۝ قُلْ مَنْ كَانَ فِى الضَّلٰلَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمٰنُ مَدًّا ج حَتّٰىۤ اِذَا رَاَوْا مَا يُوْعَدُوْنَ اِمَّا الْعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضْعَفُ جُنْدًا ۝ وَيَزِيْدُ اللهُ الَّذِيْنَ اهْتَدَوْا هُدًى وَالْبٰقِيٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّخَيْرٌ مَّرَدًّا ۝

“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মু’মিনদেরকে বলে: দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম? তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, তারা তাদের চাইতে সম্পদে ও জাঁক-জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল। বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা আযাব হোক অথবা ক্বিয়ামতই হোক। সুতরাং তখন তারা জানতে পারবে কে মর্তবায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দূর্বল। যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।” (সূরাহ মারইয়াম, ১৯:৭৩ – ৭৬)

وَاِذَا قِيْلَ لَهُمْ مَّاذَآ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ۙ قَالُوْٓا اَسٰطِيْرُ الْاَوَّلِيْنَ ۝ لِيَحْمِلُوْٓا اَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَمِنْ اَوْزَارِ الَّذِيْنَ يُضِلُّوْنَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ ج اَلَا سَآءَ مَا يَزِرُوْنَ ۝

“যখন তাদেরকে (কাফেরদেরকে) বলা হয়: তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলে: পূর্ববর্তীদের কিসসা-কাহিনী। ফলে কেয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে ওদের পাপভার এবং পাপভার তাদেরও যাদেরকে তারা তাদের অজ্ঞতাহেতু বিপথগামী করে শুনে নাও, খুবই নিকৃষ্ট বোঝা যা তারা বহন করে।” (সূরাহ নাহল, ১৬:২৪ – ২৫) ।”

وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالُوْا مَا هٰذَۤا اِلَّا رَجُلٌ يُّرِيْدُ اَنْ يَّصُدَّكُمْ عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ اٰبَآؤُكُمْ وَقَالُوْا مَا هٰذَۤا اِلَّآ اِفْكٌ مُّفْتَرًى ج وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ اِنْ هٰذَۤا اِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ۝

“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা (কাফেরগণ) বলে, তোমাদের বাপ-দাদারা যার এবাদত করত এ লোকটি যে তা থেকে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়। তারা আরও বলে, এটা মনগড়া মিথ্যা বৈ নয়। আর কাফেরদের কাছে যখন সত্য আগমন করে, তখন তারা বলে, এতো এক সুস্পষ্ট জাদু।” (সূরাহ সাবা, ৩৪:৪৩)

وَقَالَ الرَّسُوْلُ يٰرَبِّ اِنَّ قَوْمِىْ اتَّخَذُوْا هٰذَا الْقُرْاٰنَ مَهْجُوْرًا

“রাসূল বললেন: হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৩০)

وَاِذَا قِيْلَ لَهُمْ اٰمِنُوْا بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا نُؤْمِنْ بِمَآ اُنْزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُوْنَ بِمَا وَرَآءَه وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُوْنَ اَنْۢبِيَآءَ اللهِ مِنْ قَبْلُ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ۝

“যখন তাদেরকে (কাফেরদেরকে) বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:৯১)

وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ تَعْرِفُ فِىْ وُجُوْهِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا الْمُنكَرَ ط يَكَادُوْنَ يَسْطُوْنَ بِالَّذِيْنَ يَتْلُوْنَ عَلَيْهِمْ اٰيٰتِنَا ط.

“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মারমুখো হয়ে উঠে। ……” (সূরাহ হাজ্জ্ব, ২২:৭২)

بَلْ كَذَّبُوْا بِمَا لَمْ يُحِيْطُوْا بِعِلْمِه وَلَمَّا يَاْتِهِمْ تَاْوِيْلُهط كَذٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عٰقِبَةُ الظّٰلِمِيْنَ ۝ وَمِنْهُمْ مَّنْ يُّؤْمِنُ بِهوَمِنْهُم مَنْ لَّا يُؤْمِنْ بِه ط وَرَبُّكَ اَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِيْنَ ۝

“(আসল কথা হলো, এ কুরআনের) যে বিষয়টিকে তারা তাদের জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে সক্ষম হলো না, কিংবা (মানবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে) যার ব্যাখ্যা তখন পর্যন্ত তাদের কাছে পৌঁছুয়নি, তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করলো। ঠিক এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরাও। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে তাদের পরিণতি। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনকে বিশ্বাস করবে এবং কেউ কেউ বিশ্বাস করবে না। বস্তুত তোমার পরওয়ারদেগার যথার্থই জানেন দুরাচারদিগকে।” (সূরাহ ইউনূস, ১০:৩৯ – ৪০)

وَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَاِنَّا بِه كٰفِرُوْنَ ۝ وَقَالُوْا لَوْلَا نُزِّلَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ عَلٰى رَجُلٍ مِّنَ القَرْيَتَيْنِ عَظِيْمٍ ۝

“যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা জাদু, আমরা একে মানি না। তারা বলে, কুরআন কেন দুই জনপদের কোন প্রধান ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হল না?” (সূরাহ যুখরুফ, ৪৩:৩০ – ৩১

وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَا تَسْمَعُوْا لِهٰذَا الْقُرْاٰنِ وَالْغَوَا فِيْهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُوْنَ۝ فَلَنُذِيْقَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا عَذَابًا شَدِيْدًا وَّلَنَجْزِيَنَّهُمْ اَسْوَاَ الَّذِىْ كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ ۝

“আর কাফেররা বলে, তোমরা এ কুরআন শ্রবণ করো না এবং এর আবৃত্তিতে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও। আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব।” (সূরাহ হা-মীম সেজদাহ, ৪১:২৬ – ২৭)

يَسْمَعُ اٰيٰتِ اللهِ تُتْلٰى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَاَن لَّمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ۝ وَاِذَا عَلِمَ مِنْ اٰيٰتِنَا شَيْـًٔا اتَّخَذَهَا هُزُوًا ط اُوْلٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ۝

“সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরাহ আল জাসিয়া, ৪৫:৮ – ৯)

وَاِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ هٰذَا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ۝ اَمْ يَقُوْلُوْنَ افْتَرَىٰهُ قُلْ اِنِ افْتَرَيْتُهُۥ فَلَا تَمْلِكُوْنَ لِىْ مِنَ اللهِ شَيْـًٔا هُوَ اَعْلَمُ بِمَا تُفِيْضُوْنَ فِيْهِ كَفَىٰ بِه شَهِيْدًۢا بَيْنِىْ وَبَيْنَكُمْ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيْمُ ۝

“যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে, এ তো প্রকাশ্য জাদু। তারা কি বলে যে, রাসূল একে রচনা করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী নও। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনি সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।” (সূরাহ আল আহক্বাফ, ৪৬:৭ – ৮)

وَاِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْاٰنُ لَا يَسْجُدُوْنَ ۩۝ بَلِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يُكَذِّبُوْنَ۝ وَاللهُ اعْلَمُ بِمَا يُوْعُوْنَ۝ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ۝ اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ اَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُوْنٍ۝

“যখন তাদের কাছে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সেজদা করে না। বরং কাফেররা এর প্রতি মিথ্যারোপ করে। তারা যা (তাদের আমলনামায়) সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তা জানেন। অতএব, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।” (সূরাহ আল ইনশিক্বাক্ব, ৮৪:২১ – ২৫) [সেজদার আয়াত]

وَاِنْ يَّكَادُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَيُزْلِقُوْنَكَ بِاَبْصٰرِهِمْ لَمَّا سَمِعُوْا الذِّكْرَ وَيَقُوْلُوْنَ اِنَّه لَمَجْنُوْنٌ

“কাফেররা যখন কুরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলে: সে তো একজন পাগল।” (সূরাহ আল কলম,৬৮:৫১)

وَاِذَا مَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ فَمِنْهُمْ مَّنْ يَّقُوْلُ اَيُّكُمْ زَادَتْهُ هٰذِه اِيْمٰنًا فَاَمَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فَزَادَتْهُمْ اِيْمٰنًا وَّهُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ۝ وَاَمَّا الَّذِيْنَ فِىْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا اِلٰى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوْا وَهُمْ كٰفِرُوْنَ۝

“আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে। বস্তুত যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।” (সূরাহ আত তাওবাহ, ৯:১২৪ – ১২৫)

وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّسْتَمِعُ اِلَيْكَ وَجَعَلْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ يَّفْقَهُوْ هُوَ فِىْ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا وَاِنْ يَّرَوْا كُلَّ اٰيَةٍ لَّايُؤْمِنُوْا بِهَا حَتّٰى اِذَاجَآءُوْكَ يُجٰدِلُوْنَكَ يَقُوْلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْٓا اِنْ هٰذَا اِلَّاۤ اَسٰطِيْرُالْاَوَّلِيْنَ ۝ وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْـَٔوْنَ عَنْهُ وَاِنْ يُّهْلِكُوْنَ اِلَّا اَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُوْنَ۝

“তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলে: এটি পূর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়। তারা এ থেকে বাধা প্রদান করে এবং এ থেকে পলায়ন করে। তারা নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, কিন্তু বুঝছে না।” (সূরাহ আন’আম, ৬:২৫ – ২৬)

وَمَا قَدَرُوْا اللهَ حَقَّ قَدْرِه اِذْ قَالُوْا مَآ اَنْزَلَ اللهُ عَلٰى بَشَرٍ مِّنْ شَىْءٍط قُلْ مَنْ اَنْزَلَ الْكِتٰبَ الَّذِىْ جَآءَبِه مُوْسٰى نُوْرًا وَّهُدًى لِّلنَّاسِ تَجْعَلُوْنَه قَرَاطِيْسَ تُبْدُوْنَهَا وَتُخْفُوْنَ كَثِيْرًا ج وَّعُلِّمْتُمْ مَّا لَمْ تَعْلَمُوْٓا اَنْتُمْ وَلَاۤاٰبَآؤُكُمْ ط قُلِ اللهُ لا ثُمَّ ذَرْهُمْ فِىْ خَوْضِهِمْ يَلْعَبُوْنَ۝

“তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বলল: আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুন: ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানবমন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিন: আল্লাহ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।” (সূরাহ আন’আম, ৬:৯১)

وَاِذَا بَدَّلْنَاۤ اٰيَةً مَّكَانَ اٰيَةٍ لا وَّاللهُ اَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُفْتَرٍۭ ط بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ۝

“এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলে: আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।” (সূরাহ নাহল, ১৬:১০১)

وَيَرَى الَّذِيْنَ اُوْتُوْا الْعِلْمَ الَّذِىۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِىۤ اِلٰى صِرٰطِ الْعَزِيْزِ الْحَمِيْدِ ۝ وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلٰى رَجُلٍ يُنَبِّئُكُمْ اِذَا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ اِنَّكُمْ لَفِىْ خَلْقٍ جَدِيْدٍ ۝

“যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, তারা আপনার পালনকর্তার নিকট থেকে অবর্তীর্ণ (কুরআনকে) সত্য জ্ঞান করে এবং এটা মানুষকে পরাক্রমশালী, প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে। কাফেররা বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির সন্ধান দেব, যে তোমাদেরকে খবর দেয় যে; তোমরা সম্পূর্ণ ছিন্ন–বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তোমরা নতুনরূপে সৃজিত হবে।” (সূরাহ সাবা, ৩৪:৬ – ৭)

وَقِيْلَ لِلَّذِيْنَ اتَّقَوْا مَاذَآ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ۚ قَالُوْا خَيْرًا ج لِّلَّذِيْنَ اَحْسَنُوْا فِىْ هٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۚ وَّّلَدَارُ الْاٰخِرَةِ خَيْرٌ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِيْنَ۝

“পরহেযগারদেরকে বলা হয়: তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলে: মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার।” (সূরাহ নাহল, ১৬:৩০)!”

وَالَّذِيْنَ اٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ يَفْرَحُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمِنَ الْاَحْزَابِ مَنْ يُّنْكِرُ بَعْضَه ط قُلْ اِنَّمَاۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ اللهَ وَلَاۤ اُشْرِكَ بِه ط اِلَيْهِ اَدْعُوْا وَاِلَيْهِ مَاٰبِ۝

“এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:৩৬)।

وَاِذَا سَمِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَى الرَّسُوْلِ تَرٰىۤ اَعْيُنَهُمْ تَفِيْضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوْا مِنَ الحَقِّ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشّٰهِدِيْنَ ۝ وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللهِ وَمَا جَآءَنَا مِنَ الحَقِّ وَنَطْمَعُ اَن يُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصّٰلِحِيْنَ ۝

“আর রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তারা তা যখন শুনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদেরকেও ঈমানের সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করে নাও। আমাদের কি ওযর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করবো না যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎলোকদের দলভুক্ত করে দেবেন।” (সূরাহ মায়েদাহ, ৫:৮৩ – ৮৪)

قُلْ اٰمِنُوْا بِه اَوْ لَا تُؤْمِنُوْۤا ۚ اِنَّ الَّذِيْنَ اُوْتُوْا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِه اِذَا يُتْلٰى عَلَيْهِمْ يَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ سُجَّدًا ۝ وَيَقُوْلُوْنَ سُبْحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُوْلًا ۝ وَيَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ يَبْكُوْنَ وَيَزِيْدُهُمْ خُشُوْعًا ۝

“বলুন: তোমরা কুরআনকে মান্য কর অথবা অমান্য কর; যারা এর পূর্ব থেকে এলেম প্রাপ্ত হয়েছে, যখন তাদের কাছে এর তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা নতমস্তকে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। এবং বলে : আমাদের পালনকর্তা পবিত্র, মহান। নিঃসন্দেহে আমাদের পালনকর্তার ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে। তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরো বৃদ্ধি পায়।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, ১৭:১০৭ – ১০৯) [সেজদার আয়াত]

اِنَّمَا يُؤْمِنْ بِـَٔايٰتِنَا الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِهَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ ۩۝ تَتَجَافٰى جُنُوْبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ يُنْفِقُوْنَ۝ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّآ اُخْفِىَ لَهُم مِنْ قُرَّةِ اَعْيُنٍ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ۝

“কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যারা আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং অহংকারমুক্ত হয়ে তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে। তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন–প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।” (সূরাহ সেজদাহ, ৩২:১৫ – ১৭) [সেজদার আয়াত]

اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَاِذَا تُلِيْتْ عَلَيْهِمْ اٰيٰتُه زَادَتْهُمْ اِيْمٰنًا وَعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ۝

“যারা মু’মিন, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।” (সূরাহ আনফাল, ৮:২)

وَلَوْ اَنَّ قُرْاٰنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ اَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْاَرْضُ اَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتٰى ط بَلْ لِّلّٰهِ الْاَمْرُ جَمِيْعًا ط اَفَلَمْ يَا۟يْـَٔسِ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْٓا اَنْ لَّوْ يَشَآءُ اللهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيْعًا ط وَّلَا يَزَالُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا تُصِيْبُهُمْ بِمَا صَنَعُوْا قَارِعَةٌ اَوْ تَحُلُّ قَرِيْبًا مِّنْ دَارِهِمْ حَتّٰى يَاْتِىَ وَعْدُ اللهِ ط اِنَّ اللهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيْعَادَ ۝

“যদি কোন কুরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা যমীন খন্ডিত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কি হত? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? কাফেররা তাদের কৃতকর্মের কারণে সব সময় আঘাত পেতে থাকবে অথবা তাদের গৃহের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত নেমে আসবে, যে পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা না আসে। নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:৩১)

فَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوْا لَوْلَاۤ اُوْتِىَ مِثْلَ مَاۤ اُوْتِىَ مُوْسٰى ط اَوَلَمْ يَكْفُرُوْا بِمَاۤ اُوْتِىَ مُوْسٰى مِنْ قَبْلُ ج قَالُوْا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا قف وَقَالُوْۤا اِنَّا بِكُلٍّ كٰفِرُوْنَ ۝

“অতঃপর আমার কাছ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য (গ্রন্থ) আগমন করল, তখন তারা বলল, মূসাকে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, এই রাসূলকে সেরূপ দেয়া হল না কেন? পূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল, তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, উভয়ই জাদু, পরস্পরে একাত্ম। তারা আরও বলেছিল, আমরা উভয়কে মানি না।” (সূরাহ আল কাসাস, ২৮:৪৮)

وَمِنْهُمْ مَّنْ يُّؤْمِنُ بِه وَمِنْهُمْ مَّنْ لَّا يُؤْمِنْ بِه ط وَرَبُّكَ اَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِيْنَ ۝

“আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ কুরআনকে বিশ্বাস করবে এবং কেউ কেউ বিশ্বাস করবে না। বস্তুত আপনার পরওয়ারদেগার যথার্থই জানেন দুরাচারদিগকে।” (সূরাহ ইউনূস, ১০:৪০)

 

অধ্যায়সমূহ