১ম অধ্যায় : পবিত্র কুরআনের পরিচিতি ও নাযিলের পটভূমি

পবিত্র কুরআন কি? কোথা থেকে – কেন এসেছে?

পবিত্র কুরআন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নাযিলকৃত ঐশী গ্রন্থ যা মানবজাতিকে সুপথ প্রদর্শনের জন্য নাযিল হয়েছিল সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উপর। বাণী বাহক ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ) মহান আল্লাহর তরফ থেকে এ গ্রন্থের আয়াতসমূহ বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ করেন নবী করীম (সা) এর নিকট। তাঁর তেইশ বছরের নবুওতি জীবনে পরিপূর্ণ কুরআন নাযিল হয়েছিল। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে কুরআনের পরিচয় সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য এক উপদেশ বাণী, সতর্ক বার্তা, হেদায়েত ও রহমত। এ গ্রন্থটি স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কর্তৃক সুরক্ষিত। এটি সত্য, ন্যায় ও পূত–পবিত্র বাক্যাবলীর সমষ্টি এবং এতে নেই কোন সন্দেহ, গরমিল ও অশ্লীলতা।  এ কুরআন কি, কোথা থেকে এসেছে, কেন এসেছে – এসব প্রশ্নের উত্তরে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا۝  ۜقَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا۝مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا۝
“সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে–তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।” (১৮:১–৩)

كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ اِلَيْكَ مُبٰرَكٌ لِّيَدَّبَّرُوْۤا اٰيٰتِه وَلِيْتَذَكَّرَ اُوْلُوْا الْاَلْبَابِ ۝

“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।” (৩৮:২৯ )

 قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ ۝ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ۝
“….. তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালনা করেন।” (৫:১৫–১৬)

هٰذَا بَصَآئِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّقَوْمٍ يُّوْقِنُوْنَ ۝

“……এটা (কুরআন) মানুষের জন্যে জ্ঞানের কথা এবং দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত (পথের দিশারী) ও রহমত।” (৪৫:২০)

وَاِنَّه لَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ ۝

“এবং নিশ্চিতই এটা মু’মিনদের জন্যে হেদায়েত ও রহমত।” (২৭:৭৭)

وَبِالْحَقِّ اَنْزَلْنٰهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ ۝

“আমি সত্যসহ এ কুরআন নাযিল করেছি এবং সত্যসহ এটা নাযিল হয়েছে…।” (১৭:১০৫)

الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُّبِينٍ
আলিফ–লাম–রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত। (১৫:১)

وَالَّذِىۤ اَوْحَيْنَآ اِلَيْكَ مِنَ الْكِتٰبِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ

“আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য – পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী।” (৩৫:৩১)

وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَّعَدْلًا لَّا مُبَدِّلِ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ۝

“আপনার প্রতিপালকের বাণী পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাণীর কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।” (৬:১১৫)

بَلْ هُوَ قُرْاٰنٌ مَّجِيْدٌ ۝ فِىْ لَوْحٍ مَّحْفُوْظٍ ۝

“বস্তুত এটা মর্যাদাবান কুরআন, লওহে মাহফুযে (সংরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ আছে।” (৮৫:২১ – ২২)

هٰذَا بَلٰغٌ لِّلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوْا بِه وَلِيَعْلَمُوْٓا اَنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ وَّلِيَذَّكَّرَ اُوْلُوا الْاَلْبَابِ۝

“এটা মানুষের প্রতি একটি বার্তা এবং যাতে এর দ্বারা ওরা সতর্ক হয় এবং জানতে পারে যে, তিনিই একমাত্র উপাস্য এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (১৪:৫২)

تَنْزِيْلٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ كِتٰبٌ فُصِّلَتْ اٰيٰتُهقُرْاٰنًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَّعْلَمُوْنَ ۝ بَشِيْرًا وَّنَذِيْرًا فَاَعْرَضَ اَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُوْنَ ۝

“এটা অবতীর্ণ হয়েছে পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে। এই কিতাবের আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে আরবীতে কুরআনরূপে বোধসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শুনে না।” (৪১:২ – ৪)

حمٓ ۝ وَالْكِتٰبِ الْمُبِيْنِ ۝ اِنَّا جَعَلْنٰهُ قُرْءٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ ۝ وَاِنَّه فِىْۤ اُمِّ الْكِتٰبِ لَدَيْنَا لَعَلِىٌّ حَكِيْمٌ ۝

“হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি একে অবতীর্ণ করেছি, কুরআন আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বোঝ। নিশ্চয় এ (কুরআন) রয়েছে আমার কাছে উম্মুল কিতাবে (লওহে মাহফুযে), ইহা সমুন্নত, প্রজ্ঞাপূর্ণ।” (৪৩:১ – ৪)

وَاِنَّه لَتَنْزِيْلُ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۝ نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِيْنُ ۝ عَلٰى قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِيْنَ ۝ بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِيْنٍ ۝

“এই কুরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা (জিব্রাইল আ) একে নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।” (২৬:১৯২ – ১৯৫)

تَنْزِيْلُ الْكِتٰبِ لَا رَيْبَ فِيْهِ مِنْ رَّبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۝

“এ  কিতাবের অবতরণ বিশ্বপালনকর্তার নিকট থেকে, এতে কোন সন্দেহ নেই।” (৩২:২)

تَنْزِيْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيْزِ الْحَكِيْمِ ۝إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّينَ

“কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর এবাদত করুন।” (৩৯:১–২)

اِنَّه لَقُرْاٰنٌ كَرِيْمٌ ۝ فِى كِتٰبٍ مَّكْنُوْنٍ ۝ لَّا يَمَسُّه اِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ ۝ تَنْزِيْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۝

“নিশ্চয় এটা সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সুরক্ষিত কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। এটা বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” (৫৬:৭৭ – ৮০)

وَاَنْزَلْنَآ اِلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الكِتٰبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ۝

“আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববতী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।” (৫:৪৮)

كِتٰبٌ اُنْزِلَ اِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِىْ صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنذِرَ بِه وَذِكْرٰى لِلْمُؤْمِنِيْنَ ۝

“এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌঁছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকোচ থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।” (৭:২)

كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ اِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ بِاِذْنِ رَبِّهِمْ اِلٰى صِرٰطِ الْعَزِيْزِ الْحَمِيْدِ ۝

“…এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি― যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন― পরাক্রান্ত, প্রশংসারযোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।” (১৪:১)

ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَ فِيْهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ ۝

“এ সেই গ্রন্থ যাতে কোনই সন্দেহ নেই। (এটি) পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য…. ।” (২:২)

وَيَهْدِىٓ اِلٰى صِرٰطِ الْعَزِيْزِ الْحَمِيْدِ ۝

“…….এটা মানুষকে পরাক্রমশালী, প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে।” (৩৪:৬)

اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ يَهْدِىْ لِلَّتِىْ هِىَ اَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِيْنَ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ اَجْرًا كَبِيْرًا ۝

“এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে।” (১৭:৯)

قُلْ نَزَّلَه رُوْحُ الْقُدُسِ مِنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهُدًى وَّبُشْرٰى لِلْمُسْلِمِيْنَ۝

“বলুন, একে পবিত্র ফেরেশতা পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিশ্চিত সত্যসহ নাযিল করেছেন, যাতে মুমিনদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এটা মুসলমানদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সু-সংবাদ স্বরূপ।” (১৬:১০২)

وَهٰذَاكِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوْهُ وَاتَّقُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۝

“এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, অতীব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর – যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।” (৬:১৫৫)

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَۙ وَلَا يَزِيْدُ الظّٰلِمِيْنَ اِلَّا خَسَارًا ۝

“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মু’মিনের জন্য রহমত। গুনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।” (১৭:৮২)

وَمَآ اَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتٰبَ اِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِىْ اخْتَلَفُوْا فِيْهِ لا وَهُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُوْنَ ۝

“আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদেরকে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং মু’মিনদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।” (১৬:৬৪)

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِىْ هٰذَا الْقُرْاٰنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُوْنَ ۝ قُرْاٰنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِىْ عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ ۝

“আমি এ কুরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে; আরবী ভাষায় এ কুরআন জটিলতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে।” (৩৯:২৭ – ২৮)

اِنْ هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعٰلَمِيْنَ ۝ لِمَنْ شَآءَ مِنْكُمْ اَنْ يَّسْتَقِيْمَ ۝

“এ তো (কুরআন) শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ, তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্যে।” (৮১:২৭ – ২৮)

تَبَارَكَ الَّذِىْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِه لِيَكُوْنَ لِلْعٰلَمِيْنَ نَذِيْرًا۝

“পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার (নবী করীম সা:) প্রতি (সত্য–মিথ্যার) ফয়সালাকারী গ্রন্থ অবর্তীণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়।” (২৫:১)

وَكَذٰلِكَ اَنْزَلْنٰهُ قُرْاٰنًا عَرَبِيْا وَصَرَّفْنَا فِيْهِ مِنَ الوَعِيْدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ اَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا۝

“এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়।” (২০:১১৩)

تِلْكَ اٰيٰتُ الْكِتٰبِ الْحَكِيْمِ ۝ هُدًى وَّرَحْمَةً لِّلْمُحْسِنِيْنَ ۝ الَّذِيْنَ يُقِيْمُوْنَ الصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكَوٰةَ وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ ۝ اُوْلٰٓئِكَ عَلٰى هُدًى مِّنْ رَّبِّهِمْ وَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۝

“এগুলো জ্ঞানময় কিতাবের আয়াত। হেদায়েত ও রহমতস্বরূপ সৎকর্মপরায়ণদের জন্য – যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। এসব লোকই তাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে আগত হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই সফলকাম।” (৩১:২ – ৫)

 

পবিত্র কুরআন অবতীর্ণকালীন অবস্থা

সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের সময়টিতে পৃথিবী জুড়ে এক অরাজক অবস্থা বিরাজ করছিল। তাই তাঁর আবির্ভাবের সময়কালটি ইতিহাসের পাতায় ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ অর্থাৎ অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত ছিল। আবসিনিয়িায় অবস্থানরত মুসলমি অভবিাসীদের নেতা হযরত জাফর ইবনে আবি তালেব (রা:) সেখানকার রাজা নেগাসের সম্মুখে যে বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন তাতে সে সময়ের অবস্থার চিত্রটি নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, “হে রাজন! আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, লোকজন অজ্ঞানতা, র্ববরতা ও অনতৈকতিা, স্বহস্তে গড়া প্রস্তর নির্মিত মূর্তিকে পূজা, হারাম খাদ্য যেমন, মৃত পশুর মাংস ভক্ষণ, অবাধ যৌনাচার, লুন্ঠন, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকরণ, অতিথি ও প্রতবিশেীর সাথে দুর্ব্যবহার, সবল কর্তৃক দুর্বলের ওপর শোষণ ও নির্যাতনের মতো সব ধরনের পাপাচারে লিপ্ত ছিল …. ।”

এহেন বিরূপ পরিস্থিতিতে এক দীর্ঘ বিরতির পর মহান আল্লাহ্ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে পাঠালেন এ দুনিয়ার বুকে এবং মানুষের হেদায়েতের জন্য ওহী মারফত তাঁর ওপর নাযিল করলেন পবিত্র কুরআন। তাঁর ওপর ওহী নাযিল সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:

وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ مِنَ الْكِتٰبِ وَ مُهَیْمِنًا عَلَیْهِ فَاحْکُمْ بَیْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ عَمَّا جَآءَكَ مِنَ الْحَقِّ ؕ لِکُلٍّ جَعَلْنَا مِنْکُمْ شِرْعَۃً وَّ مِنْهَاجًا ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَکُمْ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّ لٰكِنْ لِّیَبْلُوَکُمْ فِیْ مَاۤ اٰتٰىکُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَیْرٰتِ ؕ اِلَی اللّٰهِ مَرْجِعُکُمْ جَمِیْعًا فَیُنَبِّئُکُمْ بِمَا کُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ ۝ وَ اَنِ احْکُمْ بَیْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ وَ احْذَرْهُمْ اَنْ یَّفْتِنُوْكَ عَنْۢ بَعْضِ مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ اِلَیْكَ ؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ اَنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّصِیْبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوْبِهِمْ ؕ وَ اِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ لَفٰسِقُوْنَ ۝ اَفَحُکْمَ الْجَاهِلِیَّۃِ یَبْغُوْنَ ؕ وَ مَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ حُکْمًا لِّقَوْمٍ یُّوْقِنُوْنَ ۝

“আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি – যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে। আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন – যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গুনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান। তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে।” (৫:৪৮ – ৫০)

فَاِنَّمَا يَسَّرْنٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِيْنَ وَتُنْذِرَ بِه قَوْمًا لُّدًّا۝

“আমি কুরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন।” (১৯:৯৭)

وَالْقُرْاٰنِ الْحَكِيْمِ ۝ اِنَّكَ لَمِنَ المُرْسَلِيْنَ ۝ عَلٰى صِرٰطٍ مُّسْتَقِيْمٍ ۝ تَنْزِيْلَ الْعَزِيْزِ الرَّحِيْمِ ۝ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّآ اُنْذِرَ اٰبَآؤُهُمْ فَهُمْ غٰفِلُوْنَ ۝

“প্রজ্ঞাময় কুরআনরে কসম। নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের  একজন। সরল পথে প্রতিষ্ঠিত। কুরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে অবর্তীণ, যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সর্তক করেন, যাদের র্পূব পুরুষগণকেও  সর্তক করা হয়নি।  ফলে তারা গাফেল।” (৩৬:২ – ৬)

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَىٰ فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِن بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ ۖ فَقَدْ جَاءَكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে আহলে–কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন -যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।” (৫:১৯)

 

পবিত্র কুরআনের বিষয়সমূহ

পবিত্র কুরআন উপদেশমূলক এক মহা শিক্ষাগ্রন্থ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ গ্রন্থে মানুষের ইহ ও পরকালীন জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বহুবিধ বিষয় উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কুরআনের তৌহিদের বাণী, আল্লাহর পরিচয়, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম, প্রশংসা ও গৌরব, তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও নিদর্শনসমূহের বর্ণনা, পার্থিব ও পরকালীন জীবনের অবস্থা, মানুষের কল্যাণ ও হেদায়েতের জন্য জীবন–বিধান, উপদেশ, সতর্ক বাণী ও দিক–নির্দেশনা, আখিরাতের পরিণাম ফল, অতীত জাতিসমূহের কাহিনী এবং নবী ও রাসূলগণের দ্বীনি মিশন, ইত্যাদির সাবলীল ও সহজ বর্ণনা মানুষকে সিরাতুল মুস্তাকীমের পথ প্রদর্শন করে। পবিত্র কুরআনের চর্চা ও অনুশীলন দ্বারা মানুষের অন্তরের রোগসমূহ নিরাময় লাভ করে, তাদের জীবনাচরণ বদলে যায়, তাদের জন্য পার্থিব ও পরকালীন রহমত, কল্যাণ ও সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হয়। পবিত্র কুরআনের মূল বিষয়গুলো হলো:

  • আল্লাহ্ ও অদৃশ্য বিষয়সমূহের উপর ঈমান;

  • ইহকালীন জীবনের অনিশ্চিতি ও পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের গুরুত্ব;

  • ক্বিয়ামত, পুনরুত্থান ও বিচার দিবস;

  • রিসালত, হেদায়েত ও শরীয়তভিত্তিক আমল;

  • নীতি, নৈতিকতা ও ন্যায্যতা; ইত্যাদি।

 

অধিকার বিষয়ক দু’টি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: হক্কুল্লাহ্ (আল্লাহর অধিকার) ও হক্কুল ইবাদ (সৃষ্টির অধিকার)।

  • হক্কুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ অর্থাৎ তিনি এক, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন ও শরীকবিহীন; তাঁর সর্বময় কর্তৃত্ব ও সর্বভৌমত্ব, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও ভাগ্যনিয়ন্তা, সৃষ্ট জগতসমূহের একক মালিকানা তাঁর এবং তিনিই বিচার দিবসের মালিক; সমস্ত প্রশংসা, পবিত্রতা, ইবাদত ও উপাসনার একমাত্র অধিকারী তিনি। এছাড়া পবিত্র কুরআনে রয়েছে আল্লাহর অফুরন্ত দয়া, ক্ষমা, অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাশির বর্ণনা। আরো রয়েছে তাঁর ধ্বংসকারী ও কঠোর শাস্তি প্রদানের সতর্কবাণী।

  • অপরদিকে হক্কুল ইবাদের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: মানবাধিকার ও অন্যান্য সৃষ্ট জীব ও বস্তুসমূহের অধিকার।

 

নিম্নে উদ্ধৃত আয়াতগুলো থেকে পবিত্র কুরআনের বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা করা যায়:

شَهِدَ اللّٰهُ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ وَ الْمَلٰٓئِكَۃُ وَ اُولُوا الْعِلْمِ قَآئِمًۢا بِالْقِسْطِ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۝

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” (৩:১৮)

قُلْ تَعَالَوْا اَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّکُمْ عَلَیْکُمْ اَلَّا تُشْرِکُوْا بِہٖ شَیْئًا وَّ بِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا ۚ وَ لَا تَقْتُلُوْۤا اَوْلَادَکُمْ مِّنْ اِمْلَاقٍ ؕ نَحْنُ نَرْزُقُکُمْ وَ اِیَّاهُمْ ۚ وَ لَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ مَا بَطَنَ ۚ وَ لَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَعْقِلُوْنَ۝ وَ لَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّہٗ ۚ وَ اَوْفُوا الْكَیْلَ وَ الْمِیْزَانَ بِالْقِسْطِ ۚ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ۚ وَ اِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوْا وَ لَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰی ۚ وَ بِعَہْدِ اللّٰهِ اَوْفُوْا ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَذَكَرُوْنَ ۝ وَ اَنَّ هٰذَا صِرَاطِیْ مُسْتَقِیْمًا فَاتَّبِعُوْهُ ۚ وَ لَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمْ عَنْ سَبِیْلِہٖ ؕ ذٰلِکُمْ وَصّٰکُمْ بِہٖ لَعَلَّکُمْ تَتَّقُوْنَ۝

“আপনি বলুন: এসো, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শোনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না – আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না – তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন – তাকে হত্যা করো না, কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝো। এতীমদের ধন–সম্পদের কাছেও যেয়ো না – কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল তখন সুবিচার করো, যদিও সে আত্মীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চলো এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।” (৬:১৫১ – ১৫৩)

الٓرٰ ۟ كِتٰبٌ اُحْكِمَتْ اٰیٰتُہٗ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَّدُنْ حَكِیْمٍ خَبِیْرٍ ۙ۝ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ اِنَّنِیْ لَکُمْ مِّنْهُ نَذِیْرٌ وَّ بَشِیْرٌ ۙ۝ وَّ اَنِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ یُمَتِّعْکُمْ مَّتَاعًا حَسَنًا اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّ یُؤْتِ کُلَّ ذِیْ فَضْلٍ فَضْلَہٗ ؕ وَ اِنْ تَوَلَّوْا فَاِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْکُمْ عَذَابَ یَوْمٍ كَبِیْرٍ ۝ اِلَی اللّٰهِ مَرْجِعُکُمْ ۚ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ۝

“আলিফ, লা-ম, রা; (হে নবী বলুন) এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুবিন্যস্ত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত, এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে (অবতীর্ণ)। (এর বক্তব্য বিষয় হচ্ছে) যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে (জাহান্নামের) সতর্ককারী ও (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা। আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তার সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন। আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি। আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (১১:১ – ৪)

اَلَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الرَّسُوْلَ النَّبِیَّ الْاُمِّیَّ الَّذِیْ یَجِدُوْنَہٗ مَکْتُوْبًا عِنْدَهُمْ فِی التَّوْرٰىۃِ وَ الْاِنْجِیْلِ ۫ یَاْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهٰهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ یُحِلُّ لَهُمُ الطَّیِّبٰتِ وَ یُحَرِّمُ عَلَیْهِمُ الْخَبٰٓئِثَ وَ یَضَعُ عَنْهُمْ اِصْرَهُمْ وَ الْاَغْلٰلَ الَّتِیْ كَانَتْ عَلَیْهِمْ ؕ فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِہٖ وَ عَزَّرُوْهُ وَ نَصَرُوْهُ وَ اتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ مَعَہٗۤ ۙ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۝

“সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রাসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।” (৭:১৫৭)

اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنٰکُمْ عَبَثًا وَّ اَنَّکُمْ اِلَیْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ ۝

“তোমরা কি ধারণা করে নিয়েছ যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?” (২৩:১১৫)

الَّذِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ یَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ؕ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَۃِ هُمْ کٰفِرُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ لَمْ یَکُوْنُوْا مُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ وَ مَا كَانَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ اَوْلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ؕ مَا كَانُوْا یَسْتَطِیْعُوْنَ السَّمْعَ وَ مَا كَانُوْا یُبْصِرُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۝ لَا جَرَمَ اَنَّهُمْ فِی الْاٰخِرَۃِ هُمُ الْاَخْسَرُوْنَ ۝ اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اَخْبَتُوْۤا اِلٰی رَبِّهِمْ ۙ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝ مَثَلُ الْفَرِیْقَیْنِ كَالْاَعْمٰی وَ الْاَصَمِّ وَ الْبَصِیْرِ وَ السَّمِیْعِ ؕ هَلْ یَسْتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَفَلَا تَذَكَرُوْنَ ۝

“যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়ায়, এরাই আখিরাতকে অস্বীকার করে। তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা (সত্য পথের কথা) শুনতে পারত না এবং (সুপথ) দেখতেও পেত না। এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, (আখিরাতে) তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে যাবে। আখিরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। (জান্নাতী ও জাহান্নামী) উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন (জাহান্নামীরা) অন্ধ ও বধির এবং (জান্নাতীরা) চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন; উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না।” (১১:১৯ – ২৪)

 

পবিত্র কুরআনের পাঁচটি প্রধান বিষয়

রাসূলুল্লাহর (সা) হাদীসে পবিত্র কুরআনের পাঁচটি প্রধান বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলো হলো:

  • হালালকে হালাল হিসেবে মান্য করা,

  • হারামকে হারাম হিসেবে গণ্য করে এ থেকে বিরত থাকা,

  • মুহকামাত অর্থাৎ আকীদা, ইবাদত, আমল-আখলাক ও হুকুম–আহকামের ওপর আমল করা,

  • মুতাশাবিহাত অর্থাৎ জান্নাত, জাহান্নাম, আরশ, ফেরেশতা, ইত্যাদি অদৃশ্য বিষয়সমূহের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখা,

  • এবং উদাহরণ অর্থাৎ অতীতের নাফরমান জাতিসমূহের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা (মেশকাত শরীফ)।

হযরত যাবের (রা) বর্ণিত আরেক হাদীসে আল্লাহর নবী (সা) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কিছু কাজ ফরজ করেছেন, সেগুলোকে তোমরা নষ্ট করোনা, কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো অতিক্রম করোনা, কিছু বিষয় সম্পর্কে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তোমরা সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করোনা (মেশকাত শরীফ)।’ মুহকামাতের আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন এবং অবশ্য পালনীয়। অপরদিকে মুতাশাবিহাত আয়াতগুলো রূপক অর্থে ব্যবহৃত যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই অবগত আছেন। এসব আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করা বা এ নিয়ে বিতর্ক করা আল্লাহ্ তায়ালা নিষিদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন,

هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰیٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتٰبِ وَ اُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ ؕ فَاَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ زَیْغٌ فَیَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَۃِ وَ ابْتِغَآءَ تَاْوِیْلِہٖ ۚ وَ مَا یَعْلَمُ تَاْوِیْلَہٗۤ اِلَّا اللّٰهُ ۘؔ وَ الرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ یَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِہٖ ۙ کُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَا ۚ وَ مَا یَذَّكَرُ اِلَّاۤ اُولُوا الْاَلْبَابِ ۝ رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَ هَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَۃً ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَابُ ۝

“তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেন: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।” (৩:৭ – ৮)

 

ইসলামী শরীয়তের পাঁচটি বিষয়

ইসলামী শরীয়াহ্ হলো আল্লাহর পবিত্র কুরআন এবং নবী ও রসূল হযরত মুহাম্মদ (সা) এর হাদীস ও সুন্নাহ্ ভিত্তিক ইসলামী আইন ও বিধানসমূহ। ধর্মীয় উপাসনা ছাড়াও শরীয়ত মুসলমানদের জীবনের বিভিন্ন দিক অর্থাৎ তাদের ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিকতা, পারিবারিক বিষয়াদি, ব্যবসায়িক লেনদেন, সামাজিক সম্পর্ক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি ব্যাপক বিষয়  নিয়ন্ত্রণ করে।

ইসলামী শরীয়তে পাঁচটি বিষয় রয়েছে যা পবিত্র কুরআনের বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন:

  • ঈমান ও আকাইদ, ইবাদত: নামায, রোজা, যাকাত, হজ্জ্ব, ইত্যাদি ফরজ ও নফল ইবাদত,

  • মু‘আমালাত: লেন–দেন, দেনা–পাওনা, ব্যবসা–বাণিজ্য, পেশা–চাকুরী, চুক্তি, উত্তরাধিকার, ওসীয়ত, ইত্যাদি সম্পর্কিত নীতিমালা ও নির্দেশনা,

  • মু’আশারাত: পারিবারিক বিধি–বিধান  (যেমন বিয়ে–শাদী–তালাক), পারস্পরিক হক, দান–খয়রাত, ব্যক্তিগত ও ও সামাজিক আচার–আচরণ, শিষ্টাচার ও আদব–কায়দা, পরিচ্ছন্নতা ও পাক–পবিত্রতা (গোছল, অজু, তয়ম্মুম), হালাল খাদ্য ও পানীয়, শালীনতা (পোষাক–পরিচ্ছদ), ইত্যাদি।

  • সিয়াসাত: রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, আইন ও সুশাসন, ন্যায়বিচার ব্যবস্থা, জান–মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা, যুদ্ধ ও সন্ধিচুক্তি, ইত্যাদি,

  • ইকতিসাদিয়্যাত : অর্থনৈতিক নীতিমালা, উপার্জন ও ব্যয়, ব্যবসা–বাণিজ্য, সম্পদের বণ্টননীতি, ইত্যাদি),

  • দ্বীনি দাওয়াত: ইসলামের পথে আহ্বান ও জিহাদ ফী–সাবিলিল্লাহ্ (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ), এবং

  • আখলাকিয়াত :চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি, পরহেজগারি, আল্লাহর জিকির, কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও দরুদ, ইত্যাদি।

 

পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের সংক্ষিপ্ত তথ্য

সমগ্র কুরআন শরীফ ৩০টি পারায় বিভক্ত। পবিত্র কুরআনের সূরার সংখ্যা মোট ১১৪টি। ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী প্রথমটি হলো ‘সূরা ফাতিহা’ এবং সর্বশেষটি হলো ‘সূরা নাছ’। সূরাগুলোর মধ্যে ২৮৬-আয়াত বিশিষ্ট ‘সূরা বাক্বারা’ হলো সর্ববৃহৎ যা কুরঅনের প্রথম ৩টি পারা নিয়ে বিস্তৃত। অপরদিকে ৩–আয়াত বিশিষ্ট সবচেয়ে ছোট সূরাটি হলো ‘সূরা কাওসার’। পবিত্র কুরআনে ওয়াজিব সেজদার আয়াতসহ ছয় সহস্রাধিক আয়াত রয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর নবুওতি জীবনের ১৩ বছর মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে ৮৬টি সূরা নাযিল হয়। এ সূরাগুলো মক্কী সূরা নামে অভিহিত। আর মদীনায় হিজরতের পর তথায় তাঁর ১০ বছরের জীবৎকালীন সময়ে যে ২৮টি সূরা নাযিল হয় সেগুলো মাদানী সূরা নামে পরিচিত। মাদানী সূরাগুলো বৃহদাকার আর মক্কী সূরাগুলো মাঝারি ও ক্ষুদ্রাকার। নবীজী (সা) এর ২৩ বছরের নবুওতি জীবনে সমগ্র কুরআনের নাযিল সমাপ্ত হয়। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ যে সূরাটি নাযিল হয়েছিল তা হলো ‘সূরা আন–নছর’। এ সূরার মাধ্যমে আল্লাহ্ তায়ালা ইসলামের বিজয় ও হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর নবুওতি মিশনের পরিসমাপ্তি ও তাঁর তিরোধানের ইঙ্গিত প্রদান করেন।

মক্কী সূরাগুলোতে আল্লাহর একত্ববাদ, পৌত্তলিকতার অসারতা, পরকালীন জীবন, ক্বিয়ামত, বিচার দিবস, পুনরুজ্জীবন, বেহেশত–দোযখ, ইবাদত–বন্দগী, নৈতিকতা, ইত্যাদি বিষয়াদি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। অপরদিকে মাদানী সূরাগুলোতে ইসলাম ধর্ম ও শরীয়তের বিধি–বিধান, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, হিজরত, জিহাদ, হজ্জ্ব ও যাকাতের বিধানসমূহ, ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে।

ওহীবাহক ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ) মহান আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত পবিত্র কালাম ওহীর মাধ্যমে তাঁর নিকট নিয়ে আসতেন। শুধুমাত্র সূরা তাওবা ব্যতীত অপর সকল সূরার সূচনা বাক্য (তাসমিহ্) হলো : بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) অর্থাৎ ‘শুরু করছি পরম করুণাময় আল্লাহর নামে’। তবে সূরা ‘নমলে’ এ বাক্যটি দুইবার থাকায় সমগ্র কুরআনে তাসমিহের সংখ্যা মোট ১১৪টি।

পবিত্র কুরআন বিভিন্ন নামে অভিহিত হয়েছে, যেমন:

قُرْآنٌ مَّجِيدٌ – “কুরআন মজীদ” (৮৫:২১), الْفُرْقَانَ – “আল ফুরকান” (২৫:১), هُدًى وَرَحْمَةٌ – “হুদা ওয়া রাহমত” (১০:৫৭), لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ – “কুরআনুল করীম” (৫৬:৭৭), الْكِتَابِ الْمُبِينِ – “কিতাবুল মুবীন” (৪৩:২), نُورًا مُّبِينًا “নূরাম মুবীনা” (৪:১৭৪), الْكِتَابِ الْحَكِيمِ – “কিতাবুল হাকীম” (১০:১), ذِكْرٌ – “যিকর” (২১:৪৫), ইত্যাদি।

পবিত্র কুরআনের সূরার নামের তালিকা

১. ফাতিহা ২. বাক্বারাহ্ ৩. আল – ইমরান ৪. আন – নিসা
৫. মা’য়েদাহ ৬. আন’আম ৭. আ’রাফ ৮. আনফাল
৯. তাওবাহ্ ১০. ইউনুস ১১. হুদ ১২. ইউছুফ
১৩. রা’দ ১৪. ইব্রাহীম ১৫. হিজর ১৬. নাহল
১৭. বনী ইসরাইল/ইসরা ১৮. কাহাফ ১৯. মরিয়ম ২০. ত্বোয়া-হা
২১. আম্বিয়া ২২. হাজ্জ্ব ২৩. মু’মিনূন ২৪. আন-নূর
২৫. ফুরকান ২৬. শো’য়ারা ২৭. নামল ২৮. আল-কাসাস
২৯. আনকাবুত ৩০. আর রোম ৩১. লোকমান ৩২. সাজাদাহ
৩৩. আহযাব ৩৪. সাবা ৩৫. ফাতির ৩৬. ইয়াসীন
৩৭. সাফফাত ৩৮. ছোয়াদ ৩৯. যুমার ৪০. মু’মিন
৪১. হা-মীম সাজাদাহ ৪২. শূরা ৪৩. যুখরুফ ৪৪. দোখান
৪৫. জাছিয়া ৪৬. আহক্বাফ ৪৭. মুহাম্মদ ৪৮. ফাতহ্
৪৯. হুজুরাত ৫০. ক্বাফ ৫১. যারিয়াত ৫২. আত-তূর
৫৩. নাজম ৫৪. ক্বামার ৫৫. রাহমান ৫৬. ওয়াক্বিয়া
৫৭. হাদীদ ৫৮. মুজাদালাহ্ ৫৯. হাশর ৬০. মুমতাহিনা
৬১. আস-সাফ ৬২. জুমআহ্ ৬৩. মুনাফিকুন ৬৪. তাগাবুন
৬৫. ত্বালাক্ব ৬৬. তাহরীম ৬৭. মুলক ৬৮. কালাম
৬৯. হাক্বক্বাহ ৭০. মা’আরিজ ৭১. নূহ ৭২. জিন
৭৩. মুযযাম্মিল ৭৪. মুদ্দাসসির ৭৫. ক্বিয়ামাহ ৭৬. দাহর/ইনসান
৭৭. মুরসালাত ৭৮. নাবা ৭৯. নাযি’য়াত ৮০. আবাসা
৮১. তাকভীর ৮২. ইনফিতার ৮৩. মুতাফফিফীন ৮৪. ইনশিক্বাক্ব
৮৫. বুরুজ ৮৬. তারিক্ব ৮৭. আ’লা ৮৮. গাশিয়াহ্
৮৯. ফজর ৯০. বালাদ ৯১. শামস ৯২. লায়ল
৯৩. দ্বোহা ৯৪. ইনশিরাহ ৯৫. ত্বীন ৯৬. আলাক্ব
৯৭. ক্বদর ৯৮. বাইয়্যিনাহ্ ৯৯. যিলযাল ১০০. আদিয়াত
১০১. ক্বারিয়া ১০২. তাকাছুর ১০৩. আছর ১০৪. হুমাযাহ্
১০৫. ফীল ১০৬. কুরাইশ ১০৭. মাউন ১০৮. কাওছার
১০৯. কাফিরূন ১১০. নাসর ১১১. লাহাব/মাসাদ ১১২. ইখলাছ
১১৩. ফালাক্ব ১১৪, নাস

[এ সংকলনে উদ্ধৃত আয়াতের শেষে ব্র্যাকেটে সূরা নং ও আয়াত নং উল্লিখিত হয়েছে]

 

 তেলাওয়াতে-সেজদার আয়াতসমূহ

পবিত্র কুরআনে ১৪টি তেলাওয়াতে সেজদার আয়াত রয়েছে, তবে মতভেদে ১৫টি। এসব আয়াত পাঠের পর প্রতিটির জন্য একটি সেজদা করা ওয়াজিব, নতুবা গুনাহ হবে। সেজদা স্বাভাবিক নিয়মেই করতে হবে। সেজদার আয়াতগুলো নিম্নে প্রদত্ত হলো :

اِنَّ الَّذِيْنَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِه وَيُسَبِّحُوْنَه وَلَه يَسْجُدُوْنَ ۩۝

“নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগীর ব্যাপারে অহঙ্কার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই সেজদা করেন।” (৭:২০৬)

وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَنْ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّظِلٰلُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ ۩۝

“আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।” (১৩:১৫)

وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَالْمَلٰٓئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ ۝ يَخَافُوْنَ رَبَّهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ ۩۝

“আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে আছে এবং যা কিছু ভূমন্ডলে আছে এবং ফেরেশতাগণ; তারা অহংকার করে না। তারা তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তারা যা আদেশ পায়, তা করে।” (১৬:৪৯ – ৫০)

۩وَيَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ يَبْكُوْنَ وَيَزِيْدُهُمْ خُشُوْعًا

“তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরো বৃদ্ধি পায়।” (১৭:১০৯)

۩اُوْلٰٓئِكَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّنَ مِنْ ذُرِّيْةِ اٰدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوْحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ اِبْرٰهِيْمَ وَاِسْرٰٓءِيْلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَآ ج اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيٰتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَبُكِيًا

“এরাই তারা-নবীগণের মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত।” (১৯:৫৮)

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ يَسْجُدُ لَه مَنْ فِى السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِى الْاَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُوْمُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَآبُّ وَكَثِيْرٌ مِّنَ النَّاسِ وَكَثِيْرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ ۗ وَمَنْ يُّهِنِ اللهُ فَمَا لَه مِنْ مُّكْرِمٍ ۚ اِنَّ اللهَ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ ۩۝

“তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে, যা কিছু আছে ভূমন্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি পর্বতরাজি বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের উপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।” (২২:১৮)

۩يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا وَاعْبُدُوْا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوْا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

“হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (২২:৭৭) [ইমাম শাফেয়ী (রঃ)-এর মতানুসারে]

۩وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اسْجُدُوْا لِلرَّحْمٰنِ قَالُوْا وَمَا الرَّحْمٰنُ اَنَسْجُدُ لِمَا تَاْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُوْرًا

“তাদেরকে যখন বলা হয়, দয়াময়কে সেজদা কর, তখন তারা বলে, দয়াময় আবার কে? তুমি কাউকে সেজদা করার আদেশ করলেই কি আমরা সেজদা করব? এতে তাদের পলায়নপরতাই বৃদ্ধি পায়।” (২৫:৬০)

۩اَلَّا يَسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِىْ يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُوْنَ وَمَا تُعْلِنُوْنَ ۝ اللهُ لَا اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

“তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।” (২৭:২৫ – ২৬)

۩اِنَّمَا يُؤْمِنْ بِـَٔايٰتِنَا الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِهَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ

“কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যারা আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং অহংকারমুক্ত হয়ে তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে।” (৩২:১৫)

۩قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ اِلٰى نِعَاجِه وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ الخُلَطَآءِ لَيَبْغِىْ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصّٰلِحٰتِ وَقَلِيْلٌ مَّا هُمْ ۗ وَظَنَّ دَاودُاَنَّمَا فَتَنّٰهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّه وَخَرَّ رَاكِعًا وَّاَنَابَ

“দাউদ বলল: সে তোমার দুম্বাটিকে নিজের দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবী করে তোমার প্রতি অবিচার করেছে। শরীকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি যুলুম করে থাকে। তবে তারা করে না, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও সৎকর্ম সম্পাদনকারী। অবশ্য এমন লোকের সংখ্যা অল্প। দাউদের খেয়াল হল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করছি। অতঃপর সে তার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল, সেজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করল।” (৩৮:২৪)

۩وَمِنْ اٰيٰتِهِ الَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ط لَا تَسْجُدُوْا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِىْ خَلَقَهُنَّ اِنْ كُنْتُمْ اِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ ۝ فَاِنِ اسْتَكْبَرُوْا فَالَّذِيْنَ عِنْدَ رَبِّكَ يُسَبِّحُوْنَ لَه بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْـَٔمُوْنَ

“তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর। অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।” (৪১:৩৭ – ৩৮)

۩فَاسْجُدُوا لِلّٰهِ وَاعْبُدُوْا

“অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।” (৫৩:৬২)

۩وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ الْقُرْاٰنُ لَا يَسْجُدُوْنَ

“যখন তাদের কাছে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন সেজদা করে না।” (৮৪:২১)

۩كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ

“কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।” (৯৬:১৯)

অধ্যায়সমূহ