১১ তম অধ্যায় : নবী ও রাসূলগণের দ্বীনের দাওয়াত

নবী ও রসূলগণের দ্বীনের দাওয়াত

প্রতিটি জাতির জন্য প্রত্যেক কালেই পরম্পরায় নবী ও রসূল প্রেরিত হয়েছেন। তাঁদের বিশেষত্ব ছিল এই যে, তাঁরা মহান আল্লাহ্ কর্তৃক মনোনীত এবং আদর্শ চরিত্রের নিষ্পাপ মানুষ ছিলেন। মানব জাতির বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোত্র থেকে তাঁরা মনোনীত হয়েছেন স্বজাতিকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত প্রদানের জন্য যাতে তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়। তাঁরা আল্লাহর তরফ থেকে লাভ করেছেন কিতাব, ঐশী জ্ঞান, জীবন–বিধান ও মু’জেযা (অলৌকিকত্ব)। তাঁদেরকে মু’জেযা এ কারণেই দান করা হয়েছিল যাতে মানুষ আল্লাহ্ তায়ালার শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর নবী ও রাসূলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে। আল্লাহর নির্দেশের বাইরে নবী ও রাসূলগণ কোন কিছুই প্রচার করেননি। তাঁরা প্রত্যেকেই স্বজাতিকে সতর্ক করেছেন যাতে তারা যাবতীয় পাপাচার থেকে বেঁচে থাকতে পারে। তাঁরা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও মুক্তি লাভ করতে পারে। নবী ও রাসূলগণের এ দাওয়াতি কাজ মোটেই নিষ্কন্টক ও নিরুপদ্রব ছিলনা। তাঁরা তাঁদের স্বজাতির অবিশ্বাসীদের কাছ থেকে চরম শত্রুতা, প্রতিরোধ, নির্যাতন, এমনকি প্রাণনাশের সম্মুখীন হয়েছেন। এহেন কঠিন পরিস্থিতি তাঁদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁরা স্বীয় লক্ষ্যে অবিচল থেকে তাঁদের দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও ধন–সম্পদের লোভে তাঁরা এ কাজ করেননি এবং এর জন্য কোন পারিশ্রমিকও দাবী করেননি। স্বজাতির প্রতি সব নবীরই আহ্বান ছিল:

اِنِّى لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِيْنٌ ۝ فَاتَّقُوْا اللهَ وَاَطِيْعُوْنِ ۝ وَمَآ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ اَجْرٍ اِنْ اَجْرِىَ اِلَّا عَلٰى رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۝

“আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব–পালনকর্তাই দেবেন।” (২৬:১৪৩ – ১৪৫)

সকল নবী ও রসূলের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এ দুনিয়ার বুকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর দ্বীন ও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। তাঁদের সকলের একই আহ্বান ছিল আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই এবং সকল উপাসনা ও ইবাদত–বন্দেগী একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। সকল সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর এবং তিনিই একমাত্র বিধান–দাতা।

হযরত নূহ (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِہٖ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرُہٗ ؕ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْکُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۝ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِہٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ ضَلٰلَۃٌ وَّ لٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ اُبَلِّغُکُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَ اَنْصَحُ لَکُمْ وَ اَعْلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۝ اَوَ عَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَکُمْ ذِکْرٌ مِّنْ رَّبِّکُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْکُمْ لِیُنْذِرَکُمْ وَ لِتَتَّقُوْا وَ لَعَلَّکُمْ تُرْحَمُوْنَ ۝ فَكَذَّبُوْهُ فَاَنْجَیْنٰهُ وَ الَّذِیْنَ مَعَہٗ فِی الْفُلْكِ وَ اَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا عَمِیْنَ۝

“নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।’ তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বলল: আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়, আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি বিশ্বপ্রতিপালকের রাসূল। তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো তোমরা জান না। তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও।’ অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আমি তাকে এবং নৌকাস্থিত লোকদেরকে উদ্ধার করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর মিথ্যারোপ করত, তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ।” (৭:৫৯ – ৬৪)

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِہٖۤ ۫ اِنِّیْ لَکُمْ نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۝ اَنْ لَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْکُمْ عَذَابَ یَوْمٍ اَلِیْمٍ ۝ فَقَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِہٖ مَا نَرٰىكَ اِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرٰىكَ اتَّبَعَكَ اِلَّا الَّذِیْنَ هُمْ اَرَاذِلُنَا بَادِیَ الرَّاْیِ ۚ وَمَا نَرٰی لَکُمْ عَلَیْنَا مِنْ فَضْلٍۭ بَلْ نَظُنُّکُمْ کٰذِبِیْنَ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ اَرَءَیْتُمْ اِنْ کُنْتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنْ رَّبِّیْ وَاٰتٰىنِیْ رَحْمَۃً مِّنْ عِنْدِہٖ فَعُمِّیَتْ عَلَیْکُمْ ؕ اَنُلْزِمُکُمُوْهَا وَاَنْتُمْ لَهَا کٰرِهُوْنَ ۝ وَیٰقَوْمِ لَاۤ اَسْئَلُکُمْ عَلَیْهِ مَالًا ؕ اِنْ اَجْرِیَ  اِلَّا عَلَی اللّٰهِ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ اِنَّهُمْ مُّلٰقُوْا رَبِّهِمْ وَلٰكِنِّیْۤ اَرٰىکُمْ قَوْمًا تَجْهَلُوْنَ ۝ وَیٰقَوْمِ مَنْ یَّنْصُرُنِیْ مِنَ اللّٰهِ اِنْ طَرَدْتُّهُمْ ؕ اَفَلَا  تَذَكَرُوْنَ ۝ وَلَاۤ  اَقُوْلُ لَکُمْ عِنْدِیْ خَزَآئِنُ اللّٰهِ وَلَاۤ اَعْلَمُ الْغَیْبَ وَلَاۤ اَقُوْلُ اِنِّیْ مَلَکٌ وَلَاۤ اَقُوْلُ لِلَّذِیْنَ تَزْدَرِیْۤ اَعْیُنُکُمْ لَنْ یُّؤْتِیَهُمُ اللّٰهُ خَیْرًا ؕ اَللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۚۖ اِنِّیْۤ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیْنَ ۝

“আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি। তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল–বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি। নূহ (আঃ) বললেন -‘হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ? আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি। আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে আল্লাহ হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না? আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব’।” (১১:২৫ – ৩১)

اِنَّاۤ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰى قَوْمِه اَنْ اَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ۝ قَالَ يٰقَوْمِ اِنِّىْ لَكُمْ نَذِيْرٌ مُّبِيْنٌ۝ اَنِ اعْبُدُوْا اللهَ وَاتَّقُوْهُ وَاَطِيْعُوْنِ۝ يَغْفِرْ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوْبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ اِلٰىۤ اَجَلٍ مُّسَمًّى اِنَّ اَجَلَ اللهِ اذَا جَآءَ لَا يُؤَخَّرُ لَوْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۝ قَالَ رَبِّ اِنِّى دَعَوْتُ قَوْمِىْ لَيْلًا وَّنَهَارًا۝ فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَآءِىۤ اِلَّا فِرَارًا۝ وَاِنِّى كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوْۤا اَصٰبِعَهُمْ فِىۤ اٰذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَاَصَرُّوْا وَاسْتَكْبَرُوْا اسْتِكْبَارًا۝

“আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি একথা বলে: তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের প্রতি মর্মন্তদ শাস্তি আসার আগে। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট সতর্ককারী। এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহ তা’আলার এবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে!’ সে বলল: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে। আমি যতবারই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, ততবারই তারা কানে অঙুলি দিয়েছে, মুখমন্ডল বস্ত্রাবৃত করেছে, জেদ করেছে এবং খুব ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে’।” (৭১:১ – ৭)

ثُمَّ اِنِّىْ دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا۝ ثُمَّ اِنِّىۤ اَعْلَنتُ لَهُمْ وَاَسْرَرْتُ لَهُمْ اِسْرَارًا۝ فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ اِنَّه كَانَ غَفَّارًا۝ يُرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَارًا۝ وَيُمْدِدْكُم بِاَمْوٰلٍ وَّبَنِيْنَ وَيَجْعَلْ لَّكُمْ جَنّٰتٍ وَّيَجْعَل لَّكُمْ اَنْهٰرًا۝ مَّا لَكُمْ لَا تَرْجُوْنَ للهِ وَقَارًا۝ وَقَدْ خَلَقَكُمْ اَطْوَارًا۝ اَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللهُ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا۝ وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيْهِنَّ نُوْرًا وَّجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا۝ وَاللهُ اَنْۢبَتَكُمْ مِّنَ الْاَرْضِ نَبَاتًا۝ ثُمَّ يُعِيْدُكُمْ فِيْهَا وَيُخْرِجُكُمْ اِخْرَاجًا۝ وَاللهُ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ بِسَاطًا۝ لِّتَسْلُكُوْا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا۝

“অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি, অতঃপর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি। অতঃপর বলেছি : ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না। অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন। অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা। যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে’।” (৭১:৮ – ২০)

وَاتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ نُوْحٍ ۘ اِذْ قَالَ لِقَوْمِہٖ یٰقَوْمِ اِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَیْکُمْ مَّقَامِیْ وَ تَذْكِیْرِیْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَعَلَی اللّٰهِ تَوَكَلْتُ فَاَجْمِعُوْۤا اَمْرَکُمْ وَ شُرَكَآءَکُمْ ثُمَّ لَا یَکُنْ اَمْرُکُمْ عَلَیْکُمْ غُمَّۃً ثُمَّ اقْضُوْۤا اِلَیَّ وَ لَا تُنْظِرُوْنِ ۝ فَاِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَمَا سَاَلْتُکُمْ مِّنْ اَجْرٍ ؕ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ ۙوَ اُمِرْتُ اَنْ اَکُوْنَ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ۝ فَكَذَّبُوْهُ فَنَجَّیْنٰهُ وَ مَنْ مَّعَہٗ فِی الْفُلْكِ وَ جَعَلْنٰهُمْ خَلٰٓئِفَ وَ اَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الْمُنْذَرِیْنَ۝

“আর তাদেরকে শুনিয়ে দিন নূহের অবস্থা যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসীহত করা ভারী বলে মনে হয়ে থাকে, তবে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি। এখন তোমরা সবাই মিলে নিজেরদের কর্ম সাব্যস্ত কর এবং এতে তোমাদের শরীকদেরকে সমবেত করে নাও, যাতে তোমাদের মাঝে নিজেদের কাজের ব্যাপারে কোন সন্দেহ-সংশয় না থাকে। অতঃপর আমার সম্পর্কে যা কিছু করার করে ফেল এবং আমাকে অব্যাহতি দিও না। তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।’ তারপরও এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে নিয়েছি এবং যথাস্থানে আবাদ করেছি। আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছি যারা আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, কেমন পরিণতি ঘটেছে তাদের যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল।” (১০:৭১ – ৭৩)

 

হযরত হুদ (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ اِلٰی عَادٍ اَخَاهُمْ هُوْدًا ؕ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرُہٗ ؕ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا مُفْتَرُوْنَ ۝ یٰقَوْمِ لَاۤ اَسْـَٔلُکُمْ عَلَیْهِ اَجْرًا ؕ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیْ فَطَرَنِیْ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ۝ وَ یٰقَوْمِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ یُرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَیْکُمْ مِّدْرَارًا وَّ یَزِدْکُمْ قُوَّۃً اِلٰی قُوَّتِکُمْ وَ لَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِیْنَ ۝

“আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন, ‘হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ। হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না? আর হে আমার কওম! তোমাদের পালনকর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না”।” (১১:৫০ – ৫২)

وَ اِلٰی عَادٍ اَخَاهُمْ هُوْدًا ؕ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ ۝ قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِہٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ سَفَاهَۃٍ وَّ اِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْکٰذِبِیْنَ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ سَفَاهَۃٌ وَّ لٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ اُبَلِّغُکُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَ اَنَا لَکُمْ نَاصِحٌ اَمِیْنٌ ۝ اَوَ عَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَکُمْ ذِکْرٌ مِّنْ رَّبِّکُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْکُمْ لِیُنْذِرَکُمْ ؕ

.“আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।’ তারা সম্প্রদায়ের সর্দাররা বলল: আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর। তোমাদের কে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাক্সক্ষী বিশ্বস্ত। তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে”….।” (৭:৬৫ – ৬৯)

قَالُوْا یٰهُوْدُ مَا جِئْتَنَا بِبَیِّنَۃٍ وَّ مَا نَحْنُ بِتَارِكِیْۤ اٰلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَ مَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِیْنَ۝ اِنْ نَّقُوْلُ اِلَّا اعْتَرٰىكَ بَعْضُ اٰلِهَتِنَا بِسُوْٓءٍ ؕ قَالَ اِنِّیْۤ اُشْهِدُ اللّٰهَ وَ اشْهَدُوْۤا اَنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تُشْرِکُوْنَ ۝ مِنْ دُوْنِہٖ فَكِیْدُوْنِیْ جَمِیْعًا ثُمَّ لَا تُنْظِرُوْنِ ۝ اِنِّیْ تَوَكَلْتُ عَلَی اللّٰهِ رَبِّیْ وَ رَبِّکُمْ ؕ مَا مِنْ دَآبَّۃٍ اِلَّا هُوَ اٰخِذٌۢ بِنَاصِیَتِهَا ؕ اِنَّ رَبِّیْ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۝ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقَدْ اَبْلَغْتُکُمْ مَّاۤ اُرْسِلْتُ بِہٖۤ اِلَیْکُمْ ؕ وَ یَسْتَخْلِفُ رَبِّیْ قَوْمًا غَیْرَکُمْ ۚ وَ لَا تَضُرُّوْنَہٗ شَیْئًا ؕ اِنَّ رَبِّیْ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ حَفِیْظٌ۝

“তারা বলল – ‘হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।’ হুদ বললেন – ‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমরাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাদের সাথে যাদেরকে তোমরা শরীক করছ, তাঁকে ছাড়া; তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না। আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালনকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই। তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌঁছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী’।” (১১:৫৩ – ৫৭)

 

হযরত সালেহ (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ اِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرُہٗ ؕ هُوَ اَنْشَاَکُمْ مِّنَ الْاَرْضِ وَ اسْتَعْمَرَکُمْ فِیْهَا فَاسْتَغْفِرُوْهُ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ ؕ اِنَّ رَبِّیْ قَرِیْبٌ مُّجِیْبٌ ۝ قَالُوْا یٰصٰلِحُ قَدْ کُنْتَ فِیْنَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هٰذَاۤ اَتَنْهٰنَاۤ اَنْ نَّعْبُدَ مَا یَعْبُدُ اٰبَآؤُنَا وَ اِنَّنَا لَفِیْ شَکٍّ مِّمَّا تَدْعُوْنَاۤ اِلَیْهِ مُرِیْبٍ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ اَرَءَیْتُمْ اِنْ کُنْتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنْ رَّبِّیْ وَ اٰتٰىنِیْ مِنْهُ رَحْمَۃً فَمَنْ یَّنْصُرُنِیْ مِنَ اللّٰهِ اِنْ عَصَیْتُہٗ ۟ فَمَا تَزِیْدُوْنَنِیْ غَیْرَ تَخْسِیْرٍ ۝ وَ یٰقَوْمِ هٰذِہٖ نَاقَۃُ اللّٰهِ لَکُمْ اٰیَۃً فَذَرُوْهَا تَاْکُلْ فِیْۤ اَرْضِ اللّٰهِ وَ لَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَیَاْخُذَکُمْ عَذَابٌ قَرِیْبٌ ۝ فَعَقَرُوْهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوْا فِیْ دَارِکُمْ ثَلٰثَۃَ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِكَ وَعْدٌ غَیْرُ مَکْذُوْبٍ ۝ فَلَمَّا جَآءَ اَمْرُنَا نَجَّیْنَا صٰلِحًا وَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَہٗ بِرَحْمَۃٍ مِّنَّا وَ مِنْ خِزْیِ یَوْمِئِذٍ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِیُّ الْعَزِیْزُ۝ وَ اَخَذَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوا الصَّیْحَۃُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دِیَارِهِمْ جٰثِمِیْنَ ۝ كَاَنْ لَّمْ یَغْنَوْا فِیْهَا ؕ اَلَاۤ اِنَّ ثَمُوْدَا۠ كَفَرُوْا رَبَّهُمْ ؕ اَلَا بُعْدًا لِّثَمُوْدَ ۝

“আর সামুদ জাতির প্রতি তাদের ভাই সালেহকে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, ‘হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।’ তারা বলল – ‘হে সালেহ, ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ-দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহ্বান জানাচ্ছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না।’ সালেহ বললেন – ‘হে আমার জাতি! তোমরা কি মনে কর, আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা লাভ করে থাকি আর তিনি যদি আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তাঁর থেকে কে আমায় রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে না। আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে।’ তবু তারা উহার পা কেটে দিল। তখন সালেহ বললেন: ‘তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা হবে না।’ অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী। আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।” (১১:৬১ – ৬৮)

 

হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

হযরত ইব্রাহীম (আ) -এর প্রচারিত “দ্বীন ই হানীফ” ছিল বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদী দ্বীন এবং পৌত্তলিকতা ও অংশীবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ছিল শক্ত অবস্থান। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনী বিশ্বাস সম্পর্কে বলেন, “তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরেক ছিলেন না” (৩:৬৭)। স্বীয় দ্বীনী বিশ্বাসের প্রতি তিনি ছিলেন অটল ও অবিচল। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন আপন পিতা, সম্প্রদায় ও শাসকের পৌত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আপোষহীন। তিনি তাদেরকে বলেছিলেন, “…… তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।” ……. (৬০:৪)। তিনি তাঁর দ্বীনের দাওয়াত যেভাবে পৌঁছিয়েছেন তা নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হলো:

وَ حَآجَّہٗ قَوْمُہٗ ؕ قَالَ اَتُحَآجُّوْٓنِّیْ فِی اللّٰهِ وَ قَدْ هَدٰىنِ ؕ وَ لَاۤ اَخَافُ مَا تُشْرِکُوْنَ بِہٖۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ رَبِّیْ شَیْئًا ؕ وَسِعَ رَبِّیْ کُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ؕ اَفَلَا تَتَذَكَرُوْنَ ۝ وَ كَیْفَ اَخَافُ مَاۤ اَشْرَکْتُمْ وَ لَا تَخَافُوْنَ اَنَّکُمْ اَشْرَکْتُمْ بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِہٖ عَلَیْکُمْ سُلْطٰنًا ؕ فَاَیُّ الْفَرِیْقَیْنِ اَحَقُّ بِالْاَمْنِ ۚ اِنْ کُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۝ اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یَلْبِسُوْۤا اِیْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ اُولٰٓئِكَ لَهُمُ الْاَمْنُ وَ هُمْ مُّہْتَدُوْنَ ۝

“তাঁর (ইব্রাহীম আ) সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বলল : ‘তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ? যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক। যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী’।” (৬:৮০ – ৮২)

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْ حَآجَّ اِبْرٰہٖمَ فِیْ رَبِّہٖۤ اَنْ اٰتٰىهُ اللّٰهُ الْمُلْكَ ۘ اِذْ قَالَ اِبْرٰہٖمُ رَبِّیَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ۙ قَالَ اَنَا اُحْیٖ وَ اُمِیْتُ ؕ قَالَ اِبْرٰہٖمُ فَاِنَّ اللّٰهَ یَاْتِیْ بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَاْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِیْ كَفَرَ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَہْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۝

“তুমি কি সে লোককে দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল ইব্রাহীমের সাথে এ কারণে যে, আল্লাহ সে ব্যাক্তিকে রাজ্য দান করেছিলেন? ইব্রাহীম যখন বললেন, ‘আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’ সে বলল, আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি। ইব্রাহীম বললেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি সূর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।’ তখন সে কাফের হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ সীমালংঘণকারী সম্প্রদায়কে সরল পথ প্রদর্শন করেন না।” (২:২৫৮)

وَ لَقَدْ اٰتَیْنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ رُشْدَہٗ مِنْ قَبْلُ وَ کُنَّا بِہٖ عٰلِمِیْنَ ۝ اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِہٖ مَا هٰذِهِ التَّمَاثِیْلُ الَّتِیْۤ اَنْتُمْ لَهَا عٰكِفُوْنَ ۝ قَالُوْا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا لَهَا عٰبِدِیْنَ ۝ قَالَ لَقَدْ کُنْتُمْ اَنْتُمْ وَ اٰبَآؤُکُمْ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۝ قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ اَمْ اَنْتَ مِنَ اللّٰعِبِیْنَ ۝ قَالَ بَلْ رَّبُّکُمْ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ الَّذِیْ فَطَرَهُنَّ ۫ۖ وَ اَنَا عَلٰی ذٰلِکُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ۝

“আর, আমি ইতিপূর্বে ইব্রাহীমকে তার সৎপন্থা দান করেছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত ও ছিলাম। যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: ‘এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ।’ তারা বলল: আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এদের পূজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন: ‘তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও।’ তারা বলল: তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছ, না তুমি কৌতুক করছ? তিনি বললেন: ‘না, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন; এবং আমি এই বিষয়েরই সাক্ষ্যদাতা’।” (২১:৫১ – ৫৬)

وَ تَاللّٰهِ لَاَكِیْدَنَّ اَصْنَامَکُمْ بَعْدَ اَنْ تُوَلُّوْا مُدْبِرِیْنَ ۝ فَجَعَلَهُمْ جُذٰذًا اِلَّا كَبِیْرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ اِلَیْهِ یَرْجِعُوْنَ ۝ قَالُوْا مَنْ فَعَلَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَاۤ اِنَّہٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیْنَ ۝ قَالُوْا سَمِعْنَا فَتًی یَّذْکُرُهُمْ یُقَالُ لَہٗۤ اِبْرٰهِیْمُ ۝ قَالُوْا فَاْتُوْا بِہٖ عَلٰۤی اَعْیُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَشْهَدُوْنَ ۝ قَالُوْۤا ءَاَنْتَ فَعَلْتَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَا یٰۤـاِبْرٰهِیْمُ ۝ قَالَ بَلْ فَعَلَہٗ ٭ۖ كَبِیْرُهُمْ هٰذَا فَسْـَٔلُوْهُمْ اِنْ كَانُوْا یَنْطِقُوْنَ ۝ فَرَجَعُوْۤا اِلٰۤی اَنْفُسِهِمْ فَقَالُوْۤا اِنَّکُمْ اَنْتُمُ الظّٰلِمُوْنَ ۝ ثُمَّ نُكِسُوْا عَلٰی رُءُوْسِهِمْ ۚ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هٰۤؤُلَآءِ یَنْطِقُوْنَ ۝ قَالَ اَفَتَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُکُمْ شَیْئًا وَّ لَا یَضُرُّکُمْ ۝ اُفٍّ لَّکُمْ وَ لِمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ۝

“আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি (ইব্রাহীম আ) তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব। অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ–বিচূর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীত – যাতে তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে। তারা বলল: আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করল? সে তো নিশ্চয়ই কোন জালিম। কতক লোকে বলল: ‘আমরা এক যুবককে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি; তাকে ইব্রাহীম বলা হয়।’ তারা বলল: ‘তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত কর, যাতে তারা দেখে।’ তারা বলল: ‘হে ইব্রাহীম তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার করেছ?’ তিনি বললেন: ‘না এদের এই প্রধানই তো একাজ করেছে। অতএব তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তারা কথা বলতে পারে।’ অতঃপর মনে মনে চিন্তা করল এবং বলল: লোক সকল, তোমরাই বেইনসাফ। অতঃপর তারা ঝুঁকে গেল মস্তক নত করে, তুমি তো জান যে, এরা কথা বলে না, তিনি বললেন: ‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর, যা তোমাদের কোন উপকার ও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না ? ধিক তোমাদের জন্যে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরই এবাদত কর, ওদের জন্যে। তোমরা কি বোঝ না’।” (২১:৫৭ – ৬৭)

وَ اذْکُرْ فِی الْكِتٰبِ اِبْرٰهِیْمَ ۬ؕ اِنَّہٗ كَانَ صِدِّیْقًا نَّبِیًّا ۝ اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ یٰۤاَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا یَسْمَعُ وَلَا یُبْصِرُ وَلَا یُغْنِیْ عَنْكَ شَیْئًا ۝ یٰۤاَبَتِ اِنِّیْ قَدْ جَآءَنِیْ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ یَاْتِكَ فَاتَّبِعْنِیْۤ اَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِیًّا ۝ یٰۤاَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّیْطٰنَ ؕ اِنَّ الشَّیْطٰنَ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ عَصِیًّا ۝ یٰۤاَبَتِ اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ فَتَکُوْنَ لِلشَّیْطٰنِ وَلِیًّا ۝ قَالَ اَرَاغِبٌ اَنْتَ عَنْ اٰلِهَتِیْ یٰۤـاِبْرٰهِیْمُ ۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهِ لَاَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِیْ مَلِیًّا ۝ قَالَ سَلٰمٌ عَلَیْكَ ۚ سَاَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّیْ ؕ اِنَّہٗ كَانَ بِیْ حَفِیًّا ۝ وَاَعْتَزِلُکُمْ وَمَا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَاَدْعُوْا رَبِّیْ ۫ۖ عَسٰۤی اَلَّاۤ اَکُوْنَ بِدُعَآءِ  رَبِّیْ شَقِیًّا ۝

“আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী। যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ ‘হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর? হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব। হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত করো না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। হে আমার পিতা, আমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’ পিতা বললঃ যে ইব্রাহীম, ‘তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।’ ইব্রাহীম বললেনঃ ‘তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান। আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না’।” (১৯:৪১ – ৪৮)

 

সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতি হযরত লূত (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর ভ্রাতষ্পুত্র হযরত লূত (আ) প্রেরিত হয়েছিলেন প্যালেস্টাইনের অন্তর্গত তৎকালীন সডম নগরীতে। সেখানকার অধিবাসীরা বিভিন্ন ধরনের জঘন্য অপরাধ কর্মে নিয়োজিত ছিল। তম্মধ্যে জঘন্যতম অশ্লীল কুকর্মটি ছিল সমকামীতা। তারা নারীদের বদলে পুরুষদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হত। জনসমক্ষে প্রকাশ্যে তারা এসব অশ্লীল কাজ করত। এদের হেদায়েতের জন্য হযরত লূত (আ) আল্লাহর নবী হিসেবে এ নগরীতে আসেন। তিনি তাদেরকে এ ধরনের অশ্লীল ও পাপপূর্ণ কাজ থেকে বিরত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম কর? এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ তিনি এর পরিণাম ফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করলেন এবং আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখালেন। সডমবাসী তাঁর এ আহ্বান ও সতর্ক বাণীতে কর্ণপাত করল না, বরং তারা তাদের কুকর্ম চালিয়ে যেতে লাগল। শুধু তাই নয়, এক পর্যায়ে তারা তাঁকে হুমকি দিল যে, তাদের বিরোধিতা বন্ধ না করলে তাঁকে নগরী থেকে বহিষ্কার করে দেবে । তিনি তাঁর পরিবারের কয়েকজন ব্যতীত আর কারো সমর্থন পেলেন না – এমন কি তাঁর স্ত্রীও তাঁর বিপক্ষে ছিলেন। হযরত লূত (আ) নিরাশ হয়ে অবশেষে মহান আল্লাহর দরবারে এ সমকামী জাতির বিরুদ্ধে শাস্তির ফয়সালা চাইলেন। আল্লাহ্ তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন এবং ফেরেশতা পাঠিয়ে এ জনপদটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলেন। এতদসংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো :

وَ لُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِہٖۤ اِنَّکُمْ لَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَۃَ ۫ مَا سَبَقَکُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ۝ اَئِنَّکُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ وَ تَقْطَعُوْنَ السَّبِیْلَ ۬ۙ وَ تَاْتُوْنَ فِیْ نَادِیْکُمُ الْمُنْكَرَ ؕ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِہٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللّٰهِ اِنْ کُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۝ قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ عَلَی الْقَوْمِ الْمُفْسِدِیْنَ ۝ وَ لَمَّا جَآءَتْ رُسُلُنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ بِالْبُشْرٰی ۙ قَالُوْۤا اِنَّا مُہْلِکُوْۤا اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَۃِ ۚ اِنَّ اَهْلَهَا كَانُوْا ظٰلِمِیْنَ ۝ قَالَ اِنَّ فِیْهَا لُوْطًا ؕ قَالُوْا نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَنْ فِیْهَا ۫ لَنُنَجِّیَنَّہٗ وَ اَهْلَہٗۤ اِلَّا امْرَاَتَہٗ ٭۫ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۝ وَ لَمَّاۤ اَنْ جَآءَتْ رُسُلُنَا لُوْطًا سِیْٓءَ بِهِمْ وَ ضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَّ قَالُوْا لَا تَخَفْ وَ لَا تَحْزَنْ ۟ اِنَّا مُنَجُّوْكَ وَ اَهْلَكَ اِلَّا امْرَاَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۝ اِنَّا مُنْزِلُوْنَ عَلٰۤی اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَۃِ رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ ۝ وَ لَقَدْ تَّرَکْنَا مِنْهَاۤ اٰیَۃًۢ بَیِّنَۃً لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ۝

“আর (স্মরণ কর) লূতকে। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল, ‘তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ করেনি। তোমরা কি পুংমৈথুনে লিপ্ত আছ, রাহাজানি করছ এবং নিজেদের মজলিসে (প্রকাশ্যে) গর্হিত কর্ম করছ?’ জওয়াবে তাঁর সম্প্রদায় কেবল একথা বলল, আমাদের উপর আল্লাহর আযাব আন যদি তুমি সত্যবাদী হও। সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর।’ যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, আমরা এই জনপদের অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করব। নিশ্চয় এর অধিবাসীরা জালেম। সে বলল, এই জনপদে তো লূতও রয়েছে। তারা বলল, সেখানে কে আছে, তা আমরা ভাল জানি। আমরা অবশ্যই তাকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করব তাঁর স্ত্রী ব্যতীত; সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের কাছে আগমন করল, তখন তাদের কারণে সে বিষন্ন হয়ে পড়ল এবং তার মন সংকীর্ণ হয়ে গেল। তারা বলল, ভয় করবেন না এবং দুঃখ করবেন না। আমরা আপনাকে ও আপনার পরিবারবর্গকে রক্ষা করবই আপনার স্ত্রী ব্যতীত, সে ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের উপর আকাশ থেকে আযাব নাজিল করব তাদের পাপাচারের কারণে। আমি বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে এতে একটি স্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি।” (২৯:২৮ – ৩৫)

اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ لُوْطٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۝ اِنِّیْ لَکُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۝ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوْنِ۝ وَمَاۤ اَسْـَٔلُکُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ اَتَاْتُوْنَ الذُّکْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ۝ وَ تَذَرُوْنَ مَا خَلَقَ لَکُمْ رَبُّکُمْ مِّنْ اَزْوَاجِکُمْ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ عٰدُوْنَ ۝ قَالُوْا لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهِ یٰلُوْطُ لَتَکُوْنَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِیْنَ ۝ قَالَ اِنِّیْ لِعَمَلِکُمْ مِّنَ الْقَالِیْنَ ۝ رَبِّ نَجِّنِیْ وَ اَهْلِیْ مِمَّا یَعْمَلُوْنَ ۝ فَنَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَہٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۝ اِلَّا عَجُوْزًا فِی الْغٰبِرِیْنَ ۝ ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۝

“যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি ভয় কর না? আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন। সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম কর? এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিষ্কৃত করা হবে। লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি। ‘হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।’ অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম। এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।।” (২৬:১৬১ – ১৭২)

لَمَّا جَآءَتْ رُسُلُنَا لُوْطًا سِیْٓءَ بِهِمْ وَ ضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَّ قَالَ هٰذَا یَوْمٌ عَصِیْبٌ ۝ وَ جَآءَہٗ قَوْمُہٗ یُہْرَعُوْنَ اِلَیْهِ ؕ وَ مِنْ قَبْلُ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ ؕ قَالَ یٰقَوْمِ هٰۤؤُلَآءِ بَنَاتِیْ هُنَّ اَطْهَرُ لَکُمْ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ لَا تُخْزُوْنِ فِیْ ضَیْفِیْ ؕ اَلَـیْسَ مِنْکُمْ رَجُلٌ رَّشِیْدٌ ۝ قَالُوْا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِیْ بَنٰتِكَ مِنْ حَقٍّ ۚ وَ اِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِیْدُ ۝ قَالَ لَوْ اَنَّ لِیْ بِکُمْ قُوَّۃً اَوْ اٰوِیْۤ اِلٰی رُکْنٍ شَدِیْدٍ۝ قَالُوْا یٰلُوْطُ اِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ یَّصِلُوْۤا اِلَیْكَ فَاَسْرِ بِاَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ الَّیْلِ وَ لَا یَلْتَفِتْ مِنْکُمْ اَحَدٌ اِلَّا امْرَاَتَكَ ؕ اِنَّہٗ مُصِیْبُهَا مَاۤ اَصَابَهُمْ ؕ اِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ؕ اَلَـیْسَ الصُّبْحُ بِقَرِیْبٍ ۝ فَلَمَّا جَآءَ اَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِیَهَا سَافِلَهَا وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهَا حِجَارَۃً مِّنْ سِجِّیْلٍ ۬ۙ مَّنْضُوْدٍ۝

“আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন। আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাঁর (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আ) বললেন – ‘হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।’ তারা বলল, তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান। লূত (আ) বললেন – ‘হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।’ মেহমান ফেরেশতাগন বলল – হে লূত (আ), আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস, তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়? অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।” (১১:৭৭ – ৮২)

 

হযরত ইউছুফ (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ اتَّبَعْتُ مِلَّۃَ اٰبَآءِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ ؕ مَا كَانَ لَنَاۤ اَنْ نُّشْرِكَ بِاللّٰهِ مِنْ شَیْءٍ ؕ ذٰلِكَ مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ عَلَیْنَا وَ عَلَی النَّاسِ وَ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَشْکُرُوْنَ ۝ یٰصَاحِبَیِ السِّجْنِ ءَاَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُوْنَ خَیْرٌ اَمِ اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْقَهَارُ ۝ مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِہٖۤ اِلَّاۤ اَسْمَآءً سَمَّیْتُمُوْهَاۤ اَنْتُمْ وَ اٰبَآؤُکُمْ مَّاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ بِهَا مِنْ سُلْطٰنٍ ؕ اِنِ الْحُکْمُ اِلَّا لِلّٰهِ ؕ اَمَرَ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّاۤ اِیَّاهُ ؕ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ وَ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۝

“আমি আপন পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করছি। আমাদের জন্য শোভা পায় না যে, কোন বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার করি। এটা আমাদের প্রতি এবং অন্য সব লোকের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্ত অধিকাংশ লোক অনুগ্রহ স্বীকার করে না। হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।” (১২:৩৮ – ৪০)

 

হযরত শোয়াইব (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ اِلٰی مَدْیَنَ اَخَاهُمْ شُعَیْبًا ؕ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرُہٗ ؕ وَ لَا تَنْقُصُوا الْمِکْیَالَ وَ الْمِیْزَانَ اِنِّیْۤ اَرٰىکُمْ بِخَیْرٍ وَّ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْکُمْ عَذَابَ یَوْمٍ مُّحِیْطٍ ۝ وَ یٰقَوْمِ اَوْفُوا الْمِکْیَالَ وَ الْمِیْزَانَ بِالْقِسْطِ وَ لَا تَبْخَسُوا النَّاسَ اَشْیَآءَهُمْ وَ لَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ ۝ بَقِیَّتُ اللّٰهِ خَیْرٌ لَّکُمْ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۬ۚ وَ مَاۤ اَنَا عَلَیْکُمْ بِحَفِیْظٍ ۝ قَالُوْا یٰشُعَیْبُ اَصَلٰوتُكَ تَاْمُرُكَ اَنْ نَّتْرُكَ مَا یَعْبُدُ اٰبَآؤُنَاۤ اَوْ اَنْ نَّفْعَلَ فِیْۤ اَمْوَالِنَا مَا نَشٰٓؤُاؕ اِنَّكَ لَاَنْتَ الْحَلِیْمُ الرَّشِیْدُ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ اَرَءَیْتُمْ اِنْ کُنْتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنْ رَّبِّیْ وَ رَزَقَنِیْ مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا ؕ وَ مَاۤ اُرِیْدُ اَنْ اُخَالِفَکُمْ اِلٰی مَاۤ اَنْهٰکُمْ عَنْهُ ؕ اِنْ اُرِیْدُ اِلَّا الْاِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ؕ وَمَا تَوْفِیْقِیْۤ اِلَّا بِاللّٰهِ ؕعَلَیْهِ تَوَكَلْتُ وَ اِلَیْهِ اُنِیْبُ ۝ وَ یٰقَوْمِ لَا یَجْرِمَنَّکُمْ شِقَاقِیْۤ اَنْ یُّصِیْبَکُمْ مِّثْلُ مَاۤ اَصَابَ قَوْمَ نُوْحٍ اَوْ قَوْمَ هُوْدٍ اَوْ قَوْمَ صٰلِحٍ ؕ وَ مَا قَوْمُ لُوْطٍ مِّنْکُمْ بِبَعِیْدٍ۝ وَ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ ؕ اِنَّ رَبِّیْ رَحِیْمٌ وَّدُوْدٌ ۝

“আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়াইব (আ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন- ‘হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী। আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না। আল্লাহ প্রদত্ত উদ্বৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা ঈমানদার হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।’ তারা বলল – হে শোয়াইব (আ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক। শোয়াইব (আ) বললেন: ‘হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই। আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়। আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতি স্নেহময়’।” (১১:৮৪ – ৯০)

قَالُوْا یٰشُعَیْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِیْرًا مِّمَّا تَقُوْلُ وَ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْنَا ضَعِیْفًا ۚ وَ لَوْ لَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنٰكَ ۫ وَ مَاۤ اَنْتَ عَلَیْنَا بِعَزِیْزٍ ۝ قَالَ یٰقَوْمِ اَرَهْطِیْۤ اَعَزُّ عَلَیْکُمْ مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اتَّخَذْتُمُوْهُ وَرَآءَکُمْ ظِہْرِیًّا ؕ اِنَّ رَبِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ مُحِیْطٌ ۝ وَ یٰقَوْمِ اعْمَلُوْا عَلٰی مَكَانَتِکُمْ اِنِّیْ عَامِلٌ ؕ سَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۙ مَنْ یَّاْتِیْهِ عَذَابٌ یُّخْزِیْهِ وَ مَنْ هُوَ كَاذِبٌ ؕ وَ ارْتَقِبُوْۤا اِنِّیْ مَعَکُمْ رَقِیْبٌ ۝

“তারা বলল: হে শোয়াইব আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দুর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন। শোয়াইব বলেন: ‘হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে। আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম’।” (১১:৯১ – ৯৩)

 

হযরত মূসা (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ اصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِیْ ۝ اِذْهَبْ اَنْتَ وَ اَخُوْكَ بِاٰیٰتِیْ وَ لَا تَنِیَا فِیْ ذِکْرِیْ ۝ اِذْهَبَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّہٗ طَغٰی ۝ فَقُوْلَا لَہٗ قَوْلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّہٗ یَتَذَكَرُ اَوْ یَخْشٰی ۝ قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنْ یَّفْرُطَ عَلَیْنَاۤ اَوْ اَنْ یَّطْغٰی ۝ قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیْ مَعَکُمَاۤ اَسْمَعُ وَ اَرٰی ۝ فَاْتِیٰهُ فَقُوْلَاۤ اِنَّا رَسُوْلَا رَبِّكَ فَاَرْسِلْ مَعَنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۬ۙ وَ لَا تُعَذِّبْهُمْ ؕ قَدْ جِئْنٰكَ بِاٰیَۃٍ مِّنْ رَّبِّكَ ؕ وَ السَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الْهُدٰی ۝ اِنَّا قَدْ اُوْحِیَ اِلَیْنَاۤ اَنَّ الْعَذَابَ عَلٰی مَنْ كَذَّبَ وَ تَوَلّٰی ۝ قَالَ فَمَنْ رَّبُّکُمَا یٰمُوْسٰی ۝ قَالَ رَبُّنَا الَّذِیْۤ اَعْطٰی کُلَّ شَیْءٍ خَلْقَہٗ ثُمَّ هَدٰی ۝ قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُوْنِ الْاُوْلٰی ۝ قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ فِیْ كِتٰبٍ ۚ لَّا یَضِلُّ رَبِّیْ وَ لَا یَنْسَی۝

(হে মূসা আ), “এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি। তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না। তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে। তারা বললেন: ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি যুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।’ আল্লাহ বললেন: তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি। অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বল: ‘আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রাসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি। আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর আযাব পড়বে।’ সে বলল: তবে হে মূসা, তোমাদের পালনকর্তা কে? মূসা বললেন: ‘আমাদের পালনকর্তা তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।’ ফেরাউন বলল: তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি? মূসা বললেন: ‘তাদের খবর আমার পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না’।” (২০:৪১ – ৫২)

وَ قَالَ مُوْسٰی رَبِّیْۤ اَعْلَمُ بِمَنْ جَآءَ بِالْهُدٰی مِنْ عِنْدِہٖ وَ مَنْ تَکُوْنُ لَہٗ عَاقِبَۃُ الدَّارِ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفْلِحُ الظّٰلِمُوْنَ ۝ وَ قَالَ فِرْعَوْنُ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَاُ مَا عَلِمْتُ لَکُمْ مِّنْ اِلٰہٍ غَیْرِیْ ۚ فَاَوْقِدْ لِیْ یٰهَامٰنُ عَلَی الطِّیْنِ فَاجْعَلْ لِّیْ صَرْحًا لَّعَلِّیْۤ اَطَّلِعُ اِلٰۤی اِلٰهِ مُوْسٰی ۙ وَ اِنِّیْ لَاَظُنُّہٗ مِنَ الْکٰذِبِیْنَ ۝ وَ اسْتَکْبَرَ هُوَ وَ جُنُوْدُہٗ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَ ظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ اِلَیْنَا لَا یُرْجَعُوْنَ ۝ فَاَخَذْنٰهُ وَ جُنُوْدَہٗ فَنَبَذْنٰهُمْ فِی الْیَمِّ ۚ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الظّٰلِمِیْنَ۝

“মূসা বলল, ‘আমার পালনকর্তা সম্যক জানেন যে তার নিকট থেকে হেদায়েতের কথা নিয়ে আগমন করেছে এবং যে প্রাপ্ত হবে পরকালের গৃহ। নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হবে না।’ ফেরাউন বলল, হে পারিষদবর্গ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য আছে। হে হামান, তুমি ইট পোড়াও, অতঃপর আমার জন্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি মূসার উপাস্যকে উঁকি মেরে দেখতে পারি। আমার তো ধারণা এই যে, সে একজন মিথ্যাবাদী। ফেরাউন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করতে লাগল এবং তারা মনে করল যে, তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে না। অতঃপর আমি তাকে ও তার বাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তৎপর আমি তাদেরকে সমুদ্র নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ যালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।” (২৮:৩৭ – ৪০)

وَ قَالَ مُوْسٰی یٰفِرْعَوْنُ اِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ حَقِیْقٌ عَلٰۤی اَنْ لَّاۤ اَقُوْلَ عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ ؕ قَدْ جِئْتُکُمْ بِبَیِّنَۃٍ مِّنْ رَّبِّکُمْ فَاَرْسِلْ مَعِیَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۝ قَالَ اِنْ کُنْتَ جِئْتَ بِاٰیَۃٍ فَاْتِ بِهَاۤ اِنْ کُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۝ فَاَلْقٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ ثُعْبَانٌ مُّبِیْنٌ۝ وَّ نَزَعَ یَدَہٗ فَاِذَا هِیَ بَیْضَآءُ لِلنّٰظِرِیْنَ ۝ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیْمٌ ۝ یُّرِیْدُ اَنْ یُّخْرِجَکُمْ مِّنْ اَرْضِکُمْ ۚ فَمَا ذَا تَاْمُرُوْنَ ۝ قَالُوْۤا اَرْجِہْ وَ اَخَاهُ وَ اَرْسِلْ فِی الْمَدَآئِنِ حٰشِرِیْنَ ۝ یَاْتُوْكَ بِکُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ۝

“আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, ‘আমি বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রাসূল। আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।’ সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-জাদুকর। সে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের কি মত? তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের সমবেত করার জন্য। যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে।” (৭:১০৪ – ১১২)

وَجَآءَ السَّحَرَۃُ فِرْعَوْنَ قَالُوْۤا اِنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ کُنَّا نَحْنُ الْغٰلِبِیْنَ ۝ قَالَ نَعَمْ وَاِنَّکُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ ۝ قَالُوْا یٰمُوْسٰۤی اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِیَ وَ اِمَّاۤ اَنْ نَّکُوْنَ نَحْنُ الْمُلْقِیْنَ ۝ قَالَ اَلْقُوْا ۚ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا سَحَرُوْۤا اَعْیُنَ النَّاسِ وَ اسْتَرْهَبُوْهُمْ وَ جَآءُوْ بِسِحْرٍ عَظِیْمٍ ۝ وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِکُوْنَ ۝ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَ بَطَلَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۝ فَغُلِبُوْا هُنَالِكَ وَ انْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ۝ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ۝ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ رَبِّ مُوْسٰی وَ هٰرُوْنَ۝

“বস্তুত জাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। তিনি বললেন, ‘তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাঁধিয়ে দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাজাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল জাদু বলে। সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। এবং জাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি। যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার।” (৭:১১৩ – ১২২)

قَالَ فِرْعَوْنُ اٰمَنْتُمْ بِہٖ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَکُمْ ۚ اِنَّ هٰذَا لَمَکْرٌ مَّكَرْتُمُوْهُ فِی الْمَدِیْنَۃِ لِتُخْرِجُوْا مِنْهَاۤ اَهْلَهَا ۚ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۝ لَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَکُمْ وَ اَرْجُلَکُمْ مِّنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَاُصَلِّبَنَّکُمْ اَجْمَعِیْنَ ۝ قَالُوْۤا اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنْقَلِبُوْنَ ۝ وَ مَا تَنْقِمُ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنْ اٰمَنَّا بِاٰیٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتْنَا ؕ رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِیْنَ۝

“ফেরাউন বলল, তোমরা কি (তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে। যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে শহর থেকে বের করে দিতে পার। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে। অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব। তারা বলল, আমাদেরকে তো মৃত্যুর পর নিজেদের পরওয়ারদেগারের নিকট ফিরে যেতেই হবে। বস্তুত আমাদের সাথে তোমার শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যরে দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।” (৭:১২৩ – ১২৬)

وَ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اَتَذَرُ مُوْسٰی وَ قَوْمَہٗ لِیُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ وَ یَذَرَكَ وَ اٰلِهَتَكَ ؕ قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبْنَآءَهُمْ وَ نَسْتَحْیٖ نِسَآءَهُمْ ۚ وَ اِنَّا فَوْقَهُمْ قٰهِرُوْنَ ۝ قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهِ اسْتَعِیْنُوْا بِاللّٰهِ وَ اصْبِرُوْا ۚ اِنَّ الْاَرْضَ لِلّٰهِ ۟ۙ یُوْرِثُهَا مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِہٖ ؕ وَ الْعَاقِبَۃُ لِلْمُتَّقِیْنَ۝ قَالُوْۤا اُوْذِیْنَا مِنْ قَبْلِ اَنْ تَاْتِیَنَا وَ مِنْۢ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ؕ قَالَ عَسٰی رَبُّکُمْ اَنْ یُّہْلِكَ عَدُوَّکُمْ وَ یَسْتَخْلِفَکُمْ فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرَ كَیْفَ تَعْمَلُوْنَ ۝

“ফেরাউনের সম্প্রদায়ের সর্দাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময় হৈ–চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও তোমার দেব–দেবীকে বাতিল করে দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুত আমরা তাদের উপর প্রবল। মূসা বললেন তার কওমকে, ‘সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।’ তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার আসার পরে। তিনি বললেন, ‘তোমাদের পরওয়ারদেগার শীঘ্রই তোমাদের শক্রদের ধ্বংস করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ কর’।” (৭:১২৭ – ১২৯)

وَلَقَدْ اَوْحَيْنَاۤ اِلٰى مُوْسٰىۤ اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِى فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِيْقًا فِى الْبَحْرِ يَبَسًا لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّلَا تَخْشٰى۝ فَاَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُوْدِه فَغَشِيْهُمْ مِّنَ الْيَمِّ مَا غَشِيَهُمْ۝ وَاَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَه وَمَا هَدٰى۝

“আমি মূসার প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না। অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল। ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি।” (২০:৭৭ – ৭৯)

وَقَالَ مُوْسٰى رَبَّنَاۤ اِنَّكَ اٰتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَاَه زِيْنَةً وَّاَمْوٰلًا فِى الْحَيَوٰةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوْا عَنْ سَبِيْلِكَ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلٰىۤ اَمْوٰلِهِمْ وَاشْدُدْ عَلٰى قُلُوْبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوْا حَتّٰى يَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِيْمَ۝ قَالَ قَدْ اُجِيْبَتْ دَّعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيْمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيْلَ الَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ۝ وَجٰوَزْنَا بِبَنِىۤ اِسْرٰٓءِيْلَ الْبَحْرَ فَاَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه بَغْيًا وَّعَدْوًا حَتّٰىۤ اِذَاۤ اَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ اَنَّه لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا الَّذِىۤ اٰمَنَتْ بِه بَنُوْا اِسْرٰٓءِيْلَ وَاَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ۝ آٰلْـٰٔنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ۝ فَالْيَوْمَ نُنَجِّيْكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُوْنَ لِمَنْ خَلْفَكَ اٰيَةً وَاِنَّ كَثِيْرًا مِنَ النَّاسِ عَنْ اٰيٰتِنَا لَغٰفِلُوْنَ۝

“মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থিব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ – হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করবে! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়। (আল্লাহ্) বললেন, তোমাদের দোয়া কবুল হয়েছে। অতএব তোমরা দুজন (মূসা ও হারুন) অটল থাকো এবং তাদের পথে চলো না যারা অজ্ঞ। আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী–ইসরাঈলরা। বস্তুত আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। এখন একথা বলছ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না-ফরমানী করছিলে এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে। অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।” (১০:৮৮ – ৯২)

وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اَنْ اَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ ۬ۙ وَ ذَكِرْهُمْ بِاَیّٰىمِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوْرٍ ۝ وَ اِذْ قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهِ اذْکُرُوْا نِعْمَۃَ اللّٰهِ عَلَیْکُمْ اِذْ اَنْجٰکُمْ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ یَسُوْمُوْنَکُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ وَ یُذَبِّحُوْنَ اَبْنَآءَکُمْ وَ یَسْتَحْیُوْنَ نِسَآءَکُمْ ؕ وَ فِیْ ذٰلِکُمْ بَلَآءٌ مِّنْ رَّبِّکُمْ عَظِیْمٌ ۝ وَ اِذْ تَاَذَّنَ رَبُّکُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَاَزِیْدَنَّکُمْ وَ لَئِنْ كَفَرْتُمْ اِنَّ عَذَابِیْ لَشَدِیْدٌ ۝ وَ قَالَ مُوْسٰۤی اِنْ تَکْفُرُوْۤا اَنْتُمْ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا ۙ فَاِنَّ اللّٰهَ لَغَنِیٌّ حَمِیْدٌ ۝

“আমি মূসাকে নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করেছিলাম যে, স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনয়ন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করান। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। যখন মূসা স্বজাতিকে বললেন: ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দেন। তারা তোমাদেরকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিত, তোমাদের ছেলেদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের মেয়েদেরকে জীবিত রাখত। এবং এতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে বিরাট পরীক্ষা হয়েছিল।’ যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। এবং মূসা বললেন: ‘তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর, তথাপি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, যাবতীয় গুণের আধার’।” (১৪:৫ – ৮)

 

হযরত সুলায়মান (আ) এর দ্বীনের দাওয়াত

وَ تَفَقَّدَ الطَّیْرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الْهُدْهُدَ ۫ۖ اَمْ كَانَ مِنَ الْغَآئِبِیْنَ ۝ لَاُعَذِّبَنَّہٗ عَذَابًا شَدِیْدًا اَوْ لَاَاذْبَحَنَّہٗۤ اَوْ لَیَاْتِیَنِّیْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ۝ فَمَكَثَ غَیْرَ بَعِیْدٍ فَقَالَ اَحَطْتُّ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِہٖ وَ جِئْتُكَ مِنْ سَبَاٍۭ بِنَبَاٍ یَّقِیْنٍ ۝ اِنِّیْ وَجَدْتُّ امْرَاَۃً تَمْلِکُهُمْ وَ اُوْتِیَتْ مِنْ کُلِّ شَیْءٍ وَّلَهَا عَرْشٌ عَظِیْمٌ ۝ وَجَدْتُّهَا وَ قَوْمَهَا یَسْجُدُوْنَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ زَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ فَهُمْ لَا یَہْتَدُوْنَ ۝ اَلَّا یَسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِیْ یُخْرِجُ الْخَبْءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ یَعْلَمُ مَا تُخْفُوْنَ وَ مَا تُعْلِنُوْنَ ۝ اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ ۝ قَالَ سَنَنْظُرُ اَصَدَقْتَ اَمْ کُنْتَ مِنَ الْکٰذِبِیْنَ ۝ اِذْهَبْ بِّكِتٰبِیْ هٰذَا فَاَلْقِہْ اِلَیْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانْظُرْ مَا ذَا یَرْجِعُوْنَ ۝ قَالَتْ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اِنِّیْۤ اُلْقِیَ اِلَیَّ كِتٰبٌ كَرِیْمٌ ۝ اِنَّہٗ مِنْ سُلَیْمٰنَ وَ اِنَّہٗ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۝ اَلَّا تَعْلُوْا عَلَیَّ وَ اْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ۝

“সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদ পাখীটিকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত? আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ। কিছুক্ষণ পড়েই সে (হুদহুদ পাখী) এসে বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি। আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক। সুলায়মান বললেন, এখন আমি দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী। তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পণ কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়। বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে। সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এই: অসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু; আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।” (২৭:২০ – ৩১)

 

হযরত ঈসা (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْمَسِیْحُ ابْنُ مَرْیَمَ ؕ وَ قَالَ الْمَسِیْحُ یٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اعْبُدُوا اللّٰهَ رَبِّیْ وَ رَبَّکُمْ ؕ اِنَّہٗ مَنْ یُّشْرِکْ بِاللّٰهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَیْهِ الْجَنَّۃَ وَ مَاْوٰىهُ النَّارُ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ۝

“তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিয়ম-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বনী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (৫:৭২)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْٓا اَنصَارَ اللهِ كَمَا قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيْنَ مَنْ اَنصَارِىٓ اِلَى اللهِ قَالَ الْحَوَارِيْونَ نَحْنُ اَنصَارُ اللهِ فَـَٔامَنْ ت طَّآئِفَةٌ مِّنۢ بَنِىٓ اِسْرٰٓءِيْلَ وَكَفَرَت طَّآئِفَةٌ فَاَيَّدْنَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا عَلٰى عَدُوْهِمْ فَاَصْبَحُوْا ظٰهِرِيْنَ۝

“মু’মিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে–মরিয়ম তার শিষ্যবর্গকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যবর্গ বলেছিল: আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী–ইসরাঈলের একদল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং একদল কাফের হয়ে গেল। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় শক্তি যোগালাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।” (৬১:১৪)

 

হযরত ইলিয়াস (আ)-এর দ্বীনের দাওয়াত

وَاِنَّ اِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ۝ اِذْ قَالَ لِقَوْمِه اَلَا تَتَّقُوْنَ۝ اَتَدْعُوْنَ بَعْلًا وَّتَذَرُوْنَ اَحْسَنَ الْخٰلِقِيْنَ۝ اللهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ اٰبَآئِكُمُ الْاَوَّلِيْنَ۝ فَكَذَّبُوْهُ فَاِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ۝ اِلَّا عِبَادَ اللهِ الْمُخْلَصِيْنَ۝

“নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলল: ‘তোমরা কি ভয় কর না ? তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে। যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?’ অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে। কিন্তু আল্লাহ তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।” (৩৭:১২৩ – ১২৮)

 

 

নবী–রাসূলগণের দ্বীন প্রচারে প্রতিবন্ধকতা:  তাঁদের প্রতি ঠাট্টা–বিদ্রূপ, শত্রুতা ও নির্যাতনের পরিণাম

আল্লাহর দ্বীনের বাণী প্রচারের মাধ্যমে বিরাজমান সকল কুসংস্কার ও বিভ্রান্তির নিরসন ঘটিয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল নবী–রাসূলগণের প্রধান কাজ। তাঁরা সবাই ছিলেন তাঁদের যুগের আদর্শ এবং সে যুগের প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবন–বিধান তাঁরা স্বজাতির মধ্যে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের এ মহৎ কাজে তাঁরা সর্বদাই সমাজের কায়েমী স্বার্থবাদীদের দ্বারা পদে পদে প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। স্বজাতির অবিশ্বাসীরা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী, পাগল, জাদুকর ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে এবং ব্যঙ্গ, কটুক্তি ও উপহাসের দ্বারা বিব্রত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল। এমনকি তাঁদের অনেকেই নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁরা কখনোই হতোদ্যম বা পিছ–পা হননি। অবশেষে মিথ্যা পরাভব মেনেছে এবং সত্য জয়ী হয়েছে। আল্লাহ তাঁর নবী–রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারী মু’মিনদের প্রতি উপহাসকারী ও ষড়যন্ত্রকারী আ’দ ও সামুদের মতো বহু সম্প্রদায়কে এবং নমরুদ ও ফেরাউনের মতো বহু স্বৈরাচারী ও দাম্ভিক শাসককে কিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে তার বর্ণনা রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এসব বিদ্রূপকারীরাই সমূলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতদসংক্রান্ত আয়াতসমূহ নীচে উদ্ধৃত করা হলো:

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِىْ شِيْعِ الْاَوَّلِيْنَ۝ وَمَا يَاْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ۝

“আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি। ওদের কাছে এমন কোন রাসূল আসেননি, যাদের সাথে ওরা ঠাট্টা–বিদ্রূপ করতে থাকেনি।” (১৫:১০ – ১১)

وَكَمْ اَرْسَلْنَا مِنْ نَّبِىٍّ فِى الْاَوَّلِيْنَ۝ وَمَا يَاْتِيْهِمْ مِّنْ نَّبِىٍّ اِلَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ۝

“পূর্ববর্তী লোকদের কাছে আমি অনেক রাসূলই প্রেরণ করেছি। যখনই তাদের কাছে কোন রাসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁর সাথে ঠাট্টা–বিদ্রূপ করেছে।” (৪৩:৬ – ৭)

فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَاَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِيْنَ۝ اِنَّا كَفَيْنٰكَ الْمُسْتَهْزِءِيْنَ۝

“অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরেকদের পরওয়া করবেন না। বিদ্রূপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট।” (১৫:৯৪ – ৯৫)

وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوْا عَلٰى مَاكُذِّبُوْا وَاُوْذُوْا حَتّٰۤى اَتٰى هُمْ نَصْرُنَا وَلَامُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِ اللهِ وَلَقَدْ جَآءَكَ مِنَ نَّبَاِى الْمُرْسَلِيْنَ۝

“আপনার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে তাঁরা তাঁদের প্রতি অস্বীকৃতি ও অন্যায়কে সহ্য করেছেন, যতক্ষণ না আমার সাহায্য তাঁদের নিকট পৌঁছেছিল। আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।” (৬:৩৪)

وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِىٍّ عَدُوْا شَيٰطِيْنَ الْاِنسِ وَالْجِنِّ يُوْحِى بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوْرًا وَلَوْشَآءَ رَبُّكَمَا فَعَلُوْهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُوْنَ۝ وَلِتَصْغٰىٓ اِلَيْهِ اَفْـِٔدَةُ الَّذِيْنَ لَايُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوْا مَا هُم مُّقْتَرِفُوْنَ۝

“এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে দুশমন করেছি শয়তান, (শয়তানের অনুসারী) মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্য–খচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে।” (৬:১১২ – ১১৩)

وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ اِلَّا بِاللهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِىْ ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُوْنَ۝ اِنَّ اللهَ مَعَ الَّذِيْنَ اتَّقَوا وَّالَّذِيْنَ هُم مُّحْسِنُوْنَ۝

“এবং আপিন ধৈর্যশীল হোন। কারণ আপনার ধৈর্য তো আল্লাহর প্রেরিত (সাহায্য)। তাদের জন্য দুঃখিত হবেন না, এবং তাদের ষড়যন্ত্রে নিজেকে বিপর্যস্ত করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা পরহেযগার এবং যারা সৎকর্ম করে।” (১৬:১২৭ – ১২৮)

ادْفَعْ بِالَّتِىْ هِىَ اَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا يَصِفُوْنَ۝

“মন্দকে প্রতিহত করুন সর্বোত্তম পন্থায়। (আপনার সম্পর্কে) তারা যেসব কথা বলে সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত”।” (২৩:৯৬)

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِيْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ۝

“আপনার পূর্বেও অনেক রাসূলের সাথে ঠাট্টা–বিদ্রূপ করা হয়েছে। অতঃপর যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টাকারীদের উপরই আপতিত হয়েছে।” (২১:৪১)

ثُمَّ كَانَ عٰقِبَةَ الَّذِيْنَ اَسٰٓـُٔوْا السُّوْٓاٰىۤ اَن كَذَّبُوْا بِـَٔايٰتِ اللهِ وَكَانُوْا بِهَا يَسْتَهْزِءُوْنَ۝

“অতঃপর যারা মন্দ কর্ম করত, তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা–বিদ্রূপ করত।” (৩০:১০)

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِيْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ۝ قُلْسِيْرُوْا فِى الْاَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عٰقِبَةُ الْمُكَذِّبِيْنَ۝

“নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত। বলে দিন: তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কি হয়েছে।” (৬:১০ – ১১)

قُلِ اللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ عٰلِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهٰدَةِ اَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِىْ مَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ۝ وَلَوْ اَنَّ لِلَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مَا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا وَّمِثْلَه مَعَه لَافْتَدَوْا بِه مِنْ سُوْٓءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ وَبَدَا لَهُمْ مِّنَ اللهِ مَا لَمْ يَكُوْنُوْا يَحْتَسِبُوْنَ۝ وَبَدَا لَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُوْا وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ۝

“বলুন, ‘হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত।’ যদি গোনাহগারদের কাছে পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে অবশ্যই তারা কেয়ামতের দিন সে সব কিছুই নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেবে। অথচ তারা দেখতে পাবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন শাস্তি, যা তারা কল্পনাও করত না। আর দেখবে, তাদের দুষ্কর্মসমূহ এবং যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা তাদেরকে ঘিরে নেবে।” (৩৯:৪৬ – ৪৮)

وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِيْنَ اِلَّا مُبَشِّرِيْنَ وَمُنْذِرِيْنَ وَيُجٰدِلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِالْبٰطِلِ لِيُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوْۤا اٰيٰتِى وَمَاۤ اُنْذِرُوْا هُزُوْا۝

“আমি রাসূলগনকে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্দ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।” (১৮:৫৬)

ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوْا وَاتَّخَذُوْٓا اٰيٰتِى وَرُسُلِى هُزُوْا۝

“জাহান্নাম -এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রাসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে।” (১৮:১০৬)

كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَاَصْحٰبُ الرَّسِّ وَثَمُوْدُ۝ وَعَادٌ وَفِرْعَوْنُ وَاِخْوٰنُ لُوْطٍ۝ وَاَصْحٰبُ الْاَيْكَةِ وَقَوْمُ تُبَّعٍ كُلٌّ كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِيْدِ۝

“তাদের পূর্বে মিথ্যাবাদী বলেছে নূহের সম্প্রদায়, কূপবাসীরা এবং সামুদ সম্প্রদায়। আদ, ফেরাউন, ও লূতের সম্প্রদায়, বনবাসীরা এবং তোব্বা সম্প্রদায়। প্রত্যেকেই রাসূলগণকে মিথ্যা বলেছে, অতঃপর আমার শাস্তির যোগ্য হয়েছে।” (৫০:১২ – ১৪)

كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَعَادٌ وَّفِرْعَوْنُ ذُوْالْاَوْتَادِ۝ وَثَمُوْدُ وَقَوْمُ لُوْطٍ وَّاَصْحٰبُ لْـَٔيْكَةِ فَاُوْلٰٓئِكَ الْاَحْزَابُ۝ اِنْ كُلٌّ اِلَّا كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ۝

“তাদের পূর্বেও মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ, কীলক বিশিষ্ট ফেরাউন, সামুদ, লূতের সম্প্রদায় ও আইকার লোকেরা। এরাই ছিল বহু বাহিনী। এদের প্রত্যেকেই পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। ফলে আমার আযাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” (৩৮:১২ – ১৪)

قَالُوْا رَبُّنَا یَعْلَمُ اِنَّاۤ اِلَیْکُمْ لَمُرْسَلُوْنَ ۝ وَ مَا عَلَیْنَاۤ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ ۝ قَالُوْۤا اِنَّا تَطَیَّرْنَا بِکُمْ ۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهُوْا لَنَرْجُمَنَّکُمْ وَ لَیَمَسَّنَّکُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۝ قَالُوْا طَآئِرُکُمْ مَّعَکُمْ ؕ اَئِنْ ذُكِرْتُمْ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ۝

“(রাসূলগণ বললেন), ‘আমাদের পরওয়ারদেগার জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। পরিস্কারভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব। তারা (কাফেরগণ) বলল, ‘আমরা তোমাদেরকে অশুভ–অকল্যাণকর দেখছি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।’ রাসূলগণ বললেন, ‘তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি? বস্তুত তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায় বৈ নও’।” (৩৬:১৬ – ১৯)

وَ اِذَا رَاَوْكَ اِنْ یَّتَّخِذُوْنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیْ بَعَثَ اللّٰهُ رَسُوْلًا ۝ اِنْ كَادَ لَیُضِلُّنَا عَنْ اٰلِهَتِنَا لَوْ لَاۤ اَنْ صَبَرْنَا عَلَیْهَا ؕ وَ سَوْفَ یَعْلَمُوْنَ حِیْنَ یَرَوْنَ الْعَذَابَ مَنْ اَضَلُّ سَبِیْلًا ۝ اَرَءَیْتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهَہٗ هَوٰىهُ ؕ اَفَاَنْتَ تَکُوْنُ عَلَیْهِ وَكِیْلًا ۝ اَمْ تَحْسَبُ اَنَّ اَکْثَرَهُمْ یَسْمَعُوْنَ اَوْ یَعْقِلُوْنَ ؕ اِنْ هُمْ اِلَّا كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ سَبِیْلًا ۝

“তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন আপনাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে, বলে, ‘এ -ই কি সে যাকে আল্লাহ ‘রাসূল’ করে প্রেরণ করেছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগণের কাছ থেকে সরিয়েই দিত, যদি আমরা তাদেরকে আঁকড়ে ধরে না থাকতাম।’ তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট। আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং আরও পথভ্রান্ত।” (২৫:৪১ – ৪৪)

ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوْا وَاتَّخَذُوْٓا اٰيٰتِى وَرُسُلِى هُزُوْا۝

“জাহান্নাম – এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রাসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে।” (১৮:১০৬)

وَقَالُوْا مَالِ هٰذَا الرَّسُوْلِ يَاْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِى فِى الْاَسْوَاقِ لَوْلَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْهِ مَلَكٌ فَيَكُوْنَ مَعَه نَذِيْرًا۝ اَوْ يُلْقٰىۤ اِلَيْهِ كَنْزٌ اَوْ تَكُوْنُ لَه جَنَّةٌ يَاْكُلُ مِنْهَا وَقَالَ الظّٰلِمُوْنَ اِنْ تَتَّبِعُوْنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسْحُوْرًا۝ اُنْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوْا لَكَ الْاَمْثٰلَ فَضَلُّوْا فَلَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَبِيْلًا۝

“তারা (কাফেরগণ) বলে, এ কেমন রাসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে–বাজারে চলাফেরা করে? তাঁর কাছে কেন কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত? অথবা তিনি ধন-ভান্ডার প্রাপ্ত হলেন না কেন, অথবা তাঁর একটি বাগান হল না কেন, যা থেকে তিনি আহার করতেন? জালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ। দেখুন, তারা আপনার কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে! অতএব তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, এখন তারা পথ পেতে পারে না।” (২৫:৭ – ৯)

وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِیْنَ ؕ وَ كَفٰی بِرَبِّكَ هَادِیًا وَّ نَصِیْرًا

“এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তা পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।” (২৫:৩১)

وَقَالُوْا لَوْلَاۤ اُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ وَّلَوْ اَنْزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِىَ الْاَمْرُ ثُمَّ لَا يُنْظَرُوْنَ۝ وَلَوْ جَعَلْنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنٰهُ رَجُلًا وَّلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُوْنَ۝

“তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা। যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।” (৬:৮ – ৯)

 وَمَا كَانَ لِرَسُوْلٍ اَنْ يَّاْتِىَ بِاٰيٰةٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِ فَاِذَا جَآءَ اَمْرُ اللهِ قُضِىَ بِالْحَقِّ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْمُبْطِلُوْنَ۝

“…… আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রাসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (৪০:৭৮)

وَاِنْ يُكَذِّبُوْكَ فَقَدْ كَذَّبَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنٰتِ وَبِالزُّبُرِ وَبِالْكِتٰبِ الْمُنِيْرِ۝ ثُمَّ اَخَذْتُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا فَكَيْفَ كَانَ نَكِيْرِ۝

“তারা যদি আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা এবং উজ্জল কিতাবসহ এসেছিলেন। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে ধৃত করেছিলাম। কেমন ছিল আমার আযাব!” (৩৫:২৫ – ২৬)

اَوَ لَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَانُوْۤا اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّۃً وَّ اَثَارُوا الْاَرْضَ وَ عَمَرُوْهَاۤ اَکْثَرَ مِمَّا عَمَرُوْهَا وَ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ؕ فَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَ لٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۝ ثُمَّ كَانَ عَاقِبَۃَ الَّذِیْنَ اَسَآءُوا السُّوْٓاٰۤی اَنْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَ كَانُوْا بِهَا یَسْتَہْزِءُوْنَ ۝

“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না অতঃপর দেখে না যে; তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি কি হয়েছে? তারা তাদের চাইতে শক্তিশালী ছিল, তারা যমীন চাষ করত এবং তাদের চাইতে বেশী আবাদ করত। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিল। বস্তুত আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুমকারী ছিলেন না। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। অতঃপর যারা মন্দ কর্ম করত, তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা–বিদ্রূপ করত।” (৩০:৯ – ১০)

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ رُسُلًا اِلٰى قَوْمِهِمْ فَجَآءُوْهُم بِالْبَيِّنٰتِ فَانْتَقَمْنَا مِنَ الَّذِيْنَ اَجْرَمُوْا وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِيْنَ۝

“আপনার পূর্বে আমি রাসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মু’মিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।” (৩০:৪৭)

اَلَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوِّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِى الصَّدَقٰتِ وَالَّذِيْنَ لَا يَجِدُوْنَ اِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُوْنَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ۝

“সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা-বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান–খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। আল্লাহ তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।” (৯:৭৯)

زُيِّنَ لِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا الْحَيَوٰةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُوْنَ مِنَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاط وَالَّذِيْنَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ ط وَاللهُ يَرْزُقُ مَنْ يَّشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ۝

“পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।” (২:২১২)

وَمَا نَقَمُوْا مِنْهُمْ اِلَّاۤ اَنْ يُّؤْمِنُوْا بِاللهِ الْعَزِيْزِ الْحَمِيْدِ۝ الَّذِىْ لَه مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاللهُ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيْدٌ۝ اِنَّ الَّذِيْنَ فَتَنُوْا الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوْبُوْا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيْقِ۝

“তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু। যারা মু’মিন পুরুষ ও নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা।” (৮৫: ৮ – ১০)

وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتٰنًا وَاِثْمًا مُّبِيْنًا۝

“যারা বিনা অপরাধে মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।” (৩৩:৫৮)

اسْتِكْبَارًا فِى الْاَرْضِ وَمَكْرَ السَّيِّئِ وَلَا يَحِيْقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ اِلَّا بِاَهْلِه فَهَلْ يَنظُرُوْنَ اِلَّا سُنَّتَ الْاَوَّلِيْنَ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللهِ تَبْدِيْلًا وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللهِ تَحْوِيْلًا۝ اَوَلَمْ يَسِيْرُوْا فِى الْاَرْضِ فَيَنْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عٰقِبَةُ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَكَانُوْٓا اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَّمَا كَانَ اللهُ لِيُعْجِزَه مِنْ شَىْءٍ فِى السَّمٰوٰتِ وَلَا فِى الْاَرْضِ اِنَّه كَانَ عَلِيْمًا قَدِيْرًا۝

“পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও কুচক্রের কারণে – কুচক্রীদেরকেই তাদের কূট ষড়যন্ত্র ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না। তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। অথচ তারা তাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী ছিল। আকাশ ও পৃথিবীতে কোন কিছুই আল্লাহকে অপারগ করতে পারে না। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান।” (৩৫:৪৩ – ৪৪)

ذٰلِکُمْ بِاَنَّکُمُ اتَّخَذْتُمْ اٰیٰتِ اللّٰهِ هُزُوًا وَّ غَرَّتْکُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا ۚ فَالْیَوْمَ لَا یُخْرَجُوْنَ مِنْهَا وَ لَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ۝

“এটা এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং তাদের কাছে তওবা চাওয়া হবে না।” (৪৫:৩৫)

بَلْ عَجِبْتَ وَ یَسْخَرُوْنَ ۝ وَ اِذَا ذُكِرُوْا لَا یَذْکُرُوْنَ ۝و َ اِذَا رَاَوْا اٰیَۃً یَّسْتَسْخِرُوْنَ۝ وَ قَالُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ۝

“বরং আপনি বিস্ময়বোধ করেন আর তারা বিদ্রূপ করে। যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না। তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে। এবং বলে, কিছুই নয়, এযে স্পষ্ট যাদু।” (৩৭:১২ – ১৫)

اِنَّ الَّذِیْنَ اَجْرَمُوْا كَانُوْا مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یَضْحَکُوْنَ ۝ وَاِذَا مَرُّوْا بِهِمْ یَتَغَامَزُوْنَ۝ وَاِذَا انْقَلَبُوْۤا اِلٰۤی اَهْلِهِمُ انْقَلَبُوْا فَكِهِیْنَ ۝ وَ اِذَا رَاَوْهُمْ قَالُوْۤا اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَضَآلُّوْنَ ۝ وَ مَاۤ اُرْسِلُوْا عَلَیْهِمْ حٰفِظِیْنَ ۝ فَالْیَوْمَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنَ الْکُفَّارِ یَضْحَکُوْنَ ۝ عَلَی الْاَرَآئِكِ ۙ یَنْظُرُوْنَ ۝ هَلْ ثُوِّبَ الْکُفَّارُ مَا كَانُوْا یَفْعَلُوْنَ ۝

“যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত। এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত। তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত। আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত। অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি। আজ (বিচার দিবসে) যারা বিশ্বাসী, তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে। সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে, কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?” (৮৩:২৯ – ৩৬)

فَذَكِرْ فَمَاۤ اَنْتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٍ وَّ لَا مَجْنُوْنٍ ۝ اَمْ یَقُوْلُوْنَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِہٖ رَیْبَ الْمَنُوْنِ ۝ قُلْ تَرَبَّصُوْا فَاِنِّیْ مَعَکُمْ مِّنَ الْمُتَرَبِّصِیْنَ ۝ اَمْ تَاْمُرُهُمْ اَحْلَامُهُمْ بِهٰذَاۤ اَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُوْنَ۝

“অতএব, আপনি উপদেশ দান করুন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় আপনি অতীন্দ্রিয়বাদী নন এবং অপ্রকৃতস্থও নন। তারা কি বলতে চায়: সে (নবী) একজন কবি আমরা তার মৃত্যু–দুর্ঘটনার প্রতীক্ষা করছি। বলুন: ‘তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারত আছি।’ তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।” (৫২:২৯ – ৩২)

اِنَّا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ۝ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ۝ اِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْاَبْتَرُ۝

“নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। আপনার প্রতি বিদ্বেষ–পোষণকারীইতো লেজকাটা, নির্বংশ।” (১০৮:১ – ৩)

অধ্যায়সমূহ