এ অধ্যায়ের বিষয়সমূহ
Toggleআল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার দরবারে ক্ষমা, তওবা ও দোয়া করার আহ্বান
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন অপরিসীম করুণা ও রহমতের ভান্ডার। তিনি রাহমানুর রহীম ও গফুরুর রহীম – তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অতীব দয়াশীল ও ক্ষমার্হ। দুনিয়ার সব নিয়ামতরাশির দ্বার তিনি তাঁর বাধ্য-অবাধ্য সকল বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। তিনি জানেন তাঁর বান্দাগণ দুর্বল ও ভুলপ্রবণ। শয়তানের প্ররোচনায় ও নফসের তাড়নায় বিভিন্নভাবে তাদের পদস্খলন ঘটে এবং দুঃখ–কষ্টের শিকার হয়। এছাড়া আল্লাহ্ তাঁর বান্দাগণকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় ফেলেন। এমন পরীক্ষায় নবী–রসূলগণকেও ফেলা হয়েছে। এহেন সংকটময় পরিস্থিতিতে একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা হলেন তাদের ভরসাস্থল। তাই ধৈর্য সহকারে তাঁর উপর ভরসা করলে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেন এবং বিশেষ সাফল্য দান করেন। তিনি বহু আয়াতে তাঁর কাছে অনুশোচনাগ্রস্ত অন্তর নিয়ে ফিরে আসার (তওবা করার) জন্য এবং দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তওবাকারী ও দয়া–ক্ষমাপ্রার্থী সবার ডাকে তিনি সাড়া দেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, তাই তিনি ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন। বান্দার প্রতি ক্ষমা ও দয়াকে তিনি তাঁর নিজ কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর অনুতপ্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এছাড়া এমনিতেই তিনি বান্দার অনেক ছোটখাট গুনাহ মাফ করেন। বান্দা তওবা করলে বড় গুনাহসমূহ থেকে মাফ পেতে পারে। তবে তওবার শর্ত এই হলো যে, অনুতপ্ত অন্তরে আর কখনো কবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে না আল্লাহর নিকট এ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। বারবাবর তওবাভঙ্গকারীর তওবা কবুল হয় না। কোন মানুষই তার নেক আমল দ্বারা নাজাত পাবে না যদি না তা একনিষ্ঠ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্ তায়ালার সমীপে পেশ করা হয়। তাই মহান ও দয়াময় আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর নিকট প্রার্থনা ও দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন আয়াতে যা নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:
وَ قَالَ رَبُّکُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَکُمْ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَکْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ
“তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।” (৪০:৬০)
هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ۗ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ “তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।” (৪০:৬৫)ادْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً
“……. তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি–মিনতি করে এবং সংগোপনে।” (৭:৫৫)
وَ هُوَ الَّذِیْ یَقْبَلُ التَّوْبَۃَ عَنْ عِبَادِہٖ وَ یَعْفُوْا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ وَ یَسْتَجِیْبُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ یَزِیْدُهُمْ مِّنْ فَضْلِہٖ ؕ وَ الْکٰفِرُوْنَ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ
“তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তিনি মু’মিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শুনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।” (৪২:২৫ – ২৬)
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّ اسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِیِّ وَ الْاِبْكَارِ
“অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।” (৪০:৫৫)
وَ اِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ ؕ اُجِیْبُ دَعْوَۃَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ ۙ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَ لْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ
“আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে – বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।” (২:১৮৬)
قُلْ یٰعِبَادِیَ الَّذِیْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَۃِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِیْعًا ؕ اِنَّہٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ وَ اَنِیْبُوْۤا اِلٰی رَبِّکُمْ وَ اَسْلِمُوْا لَہٗ مِنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَکُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।” (৩৯:৫৩ – ৫ ৪)
وَ اِذَا حُیِّیْتُمْ بِتَحِیَّۃٍ فَحَیُّوْا بِاَحْسَنَ مِنْهَاۤ اَوْ رُدُّوْهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ حَسِیْبًا
“আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে (সালাম দেয়), তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর (প্রত্যুত্তরে সালাম প্রদান কর); তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।” (৪:৮৬)
مَنْ كَانَ یُرِیْدُ ثَوَابَ الدُّنْیَا فَعِنْدَ اللّٰهِ ثَوَابُ الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَۃِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا
“যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখিরাত (উভয় কালের) কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সব কিছু শুনেন ও দেখেন।” (৪:১৩৪)
وَ اِذَاۤ اَنْعَمْنَا عَلَی الْاِنْسَانِ اَعْرَضَ وَ نَاٰ بِجَانِبِہٖ ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُوْ دُعَآءٍ عَرِیْضٍ
“আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দূরে সরে যায়। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।” (৪১:৫১)
اَفَلَا يَتُوْبُوْنَ اِلَى اللهِ وَيَسْتَغْفِرُوْنَه وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
“তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৫:৭৪) ।”
وَ اِذَا جَآءَكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِنَا فَقُلْ سَلٰمٌ عَلَیْکُمْ كَتَبَ رَبُّکُمْ عَلٰی نَفْسِهِ الرَّحْمَۃَ ۙ اَنَّہٗ مَنْ عَمِلَ مِنْکُمْ سُوْٓءًۢ ابِجَهَالَۃٍ ثُمَّ تَابَ مِنْۢ بَعْدِہٖ وَ اَصْلَحَ فَاَنَّہٗ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ
“আর আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাসকারীগণ যখন আপনার কাছে আসবে, তখন আপনি বলে দিন: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক রহমত করা নিজ কর্তব্য বলে স্থির করেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।” (৬:৫৪)
وَ تُوْبُوْۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیْعًا اَیُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّکُمْ تُفْلِحُوْنَ…….
“……হে মু’মিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (২৪:৩১)
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا تُوْبُوْۤا اِلَی اللّٰهِ تَوْبَۃً نَّصُوْحًا ؕ عَسٰی رَبُّکُمْ اَنْ یُّكَفِّرَ عَنْکُمْ سَیِّاٰتِکُمْ وَ یُدْخِلَکُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۙ یَوْمَ لَا یُخْزِی اللّٰهُ النَّبِیَّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَہٗ ۚ نُوْرُهُمْ یَسْعٰی بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ بِاَیْمَانِهِمْ
“হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর- আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে …….।” (৬৬:৮)
اِلَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِكَ یُبَدِّلُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا وَ مَنْ تَابَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَاِنَّہٗ یَتُوْبُ اِلَی اللّٰهِ مَتَابًا
“কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহর দিকে তাদের তওবাই সত্যিকারের তওবা।” (২৫:৭০ – ৭১)
وَ اٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّ اٰخَرَ سَیِّئًا ؕ عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّتُوْبَ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَۃً تُطَهِرُهُمْ وَ تُزَكِیْهِمْ بِهَا وَ صَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ
“আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়। তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ করুন যাতে আপনি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পারেন এর মাধ্যমে। আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন, নিঃসন্দেহে আপনার দোয়া তাদের জন্য সান্ত¡নাস্বরূপ। বস্তুত আল্লাহ সবকিছুই শুনেন, জানেন।” (৯:১০২ – ১০৩)
وَ الَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِهَا وَ اٰمَنُوْۤا ۫ اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ
“আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই আপনার পরওয়ারদেগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।” (৭:১৫৩)
وَ لَیْسَتِ التَّوْبَۃُ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّیْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَ لَا الَّذِیْنَ یَمُوْتُوْنَ وَ هُمْ کُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا
“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে: আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (৪:১৮)
وَّ اَنِ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْ ثُمَّ تُوْبُوْۤا اِلَیْهِ یُمَتِّعْکُمْ مَّتَاعًا حَسَنًا اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّ یُؤْتِ کُلَّ ذِیْ فَضْلٍ فَضْلَہٗ ؕ وَ اِنْ تَوَلَّوْا فَاِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْکُمْ عَذَابَ یَوْمٍ كَبِیْرٍ
“আর যদি তোমরা নিজেদের পালনকর্তার সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর অনন্তর তাঁরই দিকে ফিরে আস – তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন – আর যদি বিমুখ হতে থাক তবে আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।” (১১:৩)
أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ۗ أَإِلَـٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ“বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর।” (২৭:৬২)
দোয়ার আদব
বান্দা কর্তৃক একনিষ্ঠ চিত্তে ও কায়মনোবাক্যে সরাসরি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা জানানোকেই দোয়া বলা হয়। দোয়ার সময় বান্দা ও তার প্রভুর মাঝখানে কোন আড়াল থাকে না। আল্লাহ্ তার তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটে অবস্থান করেন। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর নিকট তার ভুল–ভ্রান্তি ও গুনাহসমূহ মাফ চায়, পুনরায় গুনাহ না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে, খালিস দিলে তওবা করে, দুঃখ–দুর্দশা নিবারণ ও নেক মকছুদসমূহ পূরণের জন্য কাকুতি–মিনতি ও কান্নাকাটি করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করে। বিপদে-আপদে, কষ্ট ও মুসিবতের সময় বান্দা যখন ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে নীরবে-নিভৃতে ও অতি সংগোপনে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে তখন তিনি তার বান্দার ডাকে সাড়া দেন, দুঃখ–কষ্ট নিবারণ করে দেন। সুতরাং দোয়া দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও মুক্তির এক অসাধারণ উপায়। তাই আশা ও ভয় নিয়ে, দীন–হীন চিত্তে এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সম্পূর্ণ এক্বীন ও ভরসা রেখে দোয়া করা সব বান্দারই একান্ত কর্তব্য।
দোয়ার ফল লাভের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করতে নেই। বান্দার কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখেই দয়াময় আল্লাহ্ যথাসময়ে দোয়া কবুল করেন অথবা বান্দার বৃহত্তর কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখে পরবর্তী সময়ের জন্য তা স্থগিত রাখেন। বান্দার ভাল–মন্দের ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। সুতরাং কোন দোয়া কবুল না হলে বা কবুল হতে দেরী হলে তার জন্য নিরাশ হতে নেই। ধৈর্য ধারণ করলে উত্তম ফল লাভের আশা বিদ্যমান থাকে। দোয়া শুরুর পূর্বে আল্লাহ্ তায়ালার প্রশংসা ও নবী–রাসূলগণের ওপর সালাম পেশ করা একটি বিশেষ আদব। বেশী বেশী দরুদশরীফ পাঠ করলে দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। দোয়াতে মাতাপিতার জন্য প্রার্থনা করা বিশেষ কর্তব্য। এছাড়া সন্তানসন্ততি ও মু’মিন নরনারীর জন্যও দোয়া করা আবশ্যক।
দোয়ার শুরুতে ও শেষে পঠিত আয়াতসমূহ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعلَمِيْنَ
“সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য।” (১:১)
دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَ تَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ ۚ وَ اٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ
“সেখানে তাদের প্রার্থনা হল ‘পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ’। আর অভিবাদন হল সালাম আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য’ বলে।” (১০:১০)
سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّۃِ عَمَّا یَصِفُوْنَ وَ سَلٰمٌ عَلَی الْمُرْسَلِیْنَ وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ
“পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র তা থেকে যা তারা বলে থাকে। পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।” (৩৭:১৮০ – ১৮২)
পবিত্র কুরআন পাঠ শুরুর দোয়া
পবিত্র কুরআন পাঠের শুরুতে শয়তান থেকে আশ্রয় গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন:
فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ اِنَّہٗ لَیْسَ لَہٗ سُلْطٰنٌ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَلُوْنَ اِنَّمَا سُلْطٰنُہٗ عَلَی الَّذِیْنَ یَتَوَلَّوْنَہٗ وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِہٖ مُشْرِکُوْنَ
“অতএব, যখন আপনি কুরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। তার আধিপত্য চলে না তাদের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আপন পালন কর্তার উপর ভরসা রাখে। তার আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং যারা তাকে অংশীদার মানে।” (১৬:৯৮ – ১০০)
اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
“আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।”
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰـنِ الرَّحِيْمِ
“শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু।”
[সূরা তওবা ব্যতীত প্রতিটি সূরার শুরুতে এ দোয়াটি রয়েছে এবং এছাড়া সূরা নমলের ৩০নং আয়াতেও রয়েছে।]
সূরা ফাতিহায় বর্ণিত দোয়া
পবিত্র কুরআনের সূচনাকারী সূরা ফাতিহা যা উম্মুল কুরআন নামে পরিচিত। এটি অতি বরকতময় দোয়া সমৃদ্ধ একটি সূরা যার পঠন শেষে ‘আমীন’ বলার তাগিদ দিয়েছেন নবী করীম (সা)। প্রতিটি নামাযের প্রত্যেক রাকাতের শুরুতেই এ সূরা পাঠ করা বাধ্যতামূলক। হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, এ সূরায় পঠিত বান্দার প্রতিটি দোয়ার প্রত্যুত্তর স্বয়ং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দিয়ে থকেন। ৭–আয়াত বিশিষ্ট সূরাটি নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰـنِ الرَّحِيْمِ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِ اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ اِهْدِ نَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَ لَا الضَّآلِّیْنَ
“সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক; যিনি অতীব মেহেরবান ও দয়ালু; যিনি বিচার দিবসের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, সেসব লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়েছে।” (১:১ – ৭)
পবিত্র কুরআনের বিশেষ কল্যাণকর দোয়াসমূহ
মু’মিন মুসলমানদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় দোয়া করা জরুরী। যারা শুধু দুনিয়ার কল্যাণ কামনায় দোয়া করবে তারা আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা আখিরাতের কল্যাণে তাদের কোন অংশ থাকবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন: يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ: “…….তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।” (২:২০০)। মহান আল্লাহর এ সতর্কবাণী স্মরণ রেখে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কালের কল্যাণের জন্যই দোয়া করা একান্ত জরুরী।
رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِى الْاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ .
“………. হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।” (২:২০১)
سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ لَا یُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَ عَلَیْهَا مَا اکْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحْمِل عَلَیْنَاۤ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَہٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِہٖ ۚ وَ اعْفُ عَنَّا وَ اغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ
“………. আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভু! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্যে কর।” (২:২৮৫ – ২৮৬)
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَ هَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَۃً ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَابُ رَبَّنَاۤ اِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُخْلِفُ الْمِیْعَادَ
“হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবে: এতে কোনই সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না।” (৩:৮ – ৯)
رَبَّنَاۤ اَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَ اغْفِرْ لَنَا ۚ اِنَّكَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ
……… “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।” (৬৬:৮)
قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِی الْمُلْكَ مَنْ تَشَآءُ وَ تَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَآءُ ۫ وَ تُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَ تُذِلُّ مَنْ تَشَآءُ ؕ بِیَدِكَ الْخَیْرُ ؕ اِنَّكَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ تُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ تُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ۫ وَ تُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَ تُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ ۫ وَ تَرْزُقُ مَنْ تَشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ
“ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।” (৩:২৬ – ২৭)
رَّبِّ اَدْخِلْنِیْ مُدْخَلَ صِدْقٍ وَّ اَخْرِجْنِیْ مُخْرَجَ صِدْقٍ وَّ اجْعَلْ لِّیْ مِنْ لَّدُنْكَ سُلْطٰنًا نَّصِیْرًا
…….“ হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য।” (১৭:৮০)
رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنْزَلْتَ وَ اتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاکْتُبْنَا مَعَ الشّٰهِدِیْنَ
“হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রাসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদিগকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও।” (৩:৫৩)
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ اِسْرَافَنَا فِیْۤ اَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ
“…….. হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।” (৩:১৪৭)
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَاۤ اِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَیْتَہٗ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّکُمْ فَاٰمَنَّا ٭ۖ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا. سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ
“…………. পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে সবসময়ে অপমানিত করলে; আর যালেমদের জন্যে তো সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সকল গোনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দুর করে দাও, আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।” (৩:১৯১ – ১৯৪)
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّیْ لَاۤ اُضِیْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْکُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی ۚ بَعْضُکُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ
“অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক……….।” (৩:১৯৫)
رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
“………. হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।” (৩:১৬)
رَّبِّ زِدْنِىْ عِلْمًا
“……… হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।” (২০:১১৪)
رَبِّ احْکُمْ بِالْحَقِّ ؕ وَ رَبُّنَا الرَّحْمٰنُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوْنَ
“………. হে আমার পালনকর্তা, আপনি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দিন। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।” (২১:১১২)
رَّبِّ اِمَّا تُرِیَنِّیْ مَا یُوْعَدُوْنَ رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِیْ فِی الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ
“………… হে আমার পালনকর্তা! যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাকে দেখান, হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।” (২৩:৯৩ – ৯৪)
رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ
“……. হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (২৩:১০৯)
رَّبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ
“…….. আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ঠ রহমকারী।” (২৩:১১৮)
……الْحَمْدُ لِلّٰهِ وَ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِهِ الَّذِیْنَ اصْطَفٰی ؕ
“……. সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! …..” (২৭:৫৯)
حَسْبِیَ اللّٰهُ ۫٭ۖ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ عَلَیْهِ تَوَكَلْتُ وَ هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ
“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।” (৯:১২৯)
জাহান্নামের শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার দোয়া
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ٭ۖ اِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا
“……. হে আমার পালনকর্তা, আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা।” (২৫:৬৫–66)
মাতা-পিতার জন্য দোয়া
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِىْ صَغِيرًا
“হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন–পালন করেছেন’।” (১৭:২৪)
رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنْ دَخَلَ بَیْتِیَ مُؤْمِنًا وَّ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ ؕ وَ لَا تَزِدِ الظّٰلِمِیْنَ اِلَّا تَبَارًا
“হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা–মাতাকে, যারা মু’মিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে -তাদেরকে এবং মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।” (৭১:২৮)
رَبَّنَا اغْفِرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْحِسَابُ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা–মাতাকে এবং সব মু’মিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।” (১৪:৪১)
সন্তান-সন্ততির জন্য দোয়া
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعْیُنٍ وَّ اجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِیْنَ اِمَامًا
“………. হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।” (২৫:৭৪)
رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْکُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰهُ وَ اَصْلِحْ لِیْ فِیْ ذُرِّیَّتِیْ ۚؕ اِنِّیْ تُبْتُ اِلَیْكَ وَ اِنِّیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ
“……….. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা–মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।” (৪৬:১৫)
رَبِّ اجْعَلْنِیْ مُقِیْمَ الصَّلٰوۃِ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ ٭ۖ رَبَّنَا وَ تَقَبَّلْ دُعَآءِ
“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া।” (১৪:৪০)
মু’মিন ভাইদের জন্য দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ
“……… হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।” (৫৯:১০)
নবী-রাসূল ও তাঁদের সঙ্গী-সাথীগণের দোয়া:
হযরত আদম (আ) ও মা হাওয়ার দোয়া
رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَکُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
“……… হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।” (৭:২৩)
হযরত নূহ (আ)-এর দোয়াসমূহ
بِسْمِ اللّٰهِ مَجْؔرٖىهَا وَ مُرْسٰىهَا ؕ اِنَّ رَبِّیْ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ
“……… আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ণ, মেহেরবান।” (১১:৪১)
رَبِّ اِنِّیْۤ اَعُوْذُ بِكَ اَنْ اَسْـَٔلَكَ مَا لَـیْسَ لِیْ بِہٖ عِلْمٌ ؕ وَ اِلَّا تَغْفِرْ لِیْ وَ تَرْحَمْنِیْۤ اَکُنْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ
“……..হে আমার পালনকর্তা আমার যা জানা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।” (১১:৪৭)
رَبِّ انْصُرْنِي بِمَا كَذَّبُوْنِ
“…….. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে সাহায্য কর; কেননা, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।” (২৩:২৬)
رَّبِّ اَنْزِلْنِى مُنْزَلًا مُّبَارَكًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِيْنَ
“…….. পালনকর্তা, আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারক।” (২৩:২৯)
رَبِّ اِنَّ قَوْمِیْ كَذَّبُوْنِ فَافْتَحْ بَیْنِیْ وَ بَیْنَهُمْ فَتْحًا وَّ نَجِّنِیْ وَ مَنْ مَّعِیَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ
“…….. হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মু’মিনগণকে রক্ষা করুন।” (২৬:১১৭ – ১১৮)
اَنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ
“আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর।” (৫৪:১০)
وَ قَالَ نُوْحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَی الْاَرْضِ مِنَ الْکٰفِرِیْنَ دَیَّارًا اِنَّكَ اِنْ تَذَرْهُمْ یُضِلُّوْا عِبَادَكَ وَ لَا یَلِدُوْۤا اِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا
“…………. এবং নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী, কাফের।” (৭১:২৬ – ২৭)
হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর দোয়াসমূহ
মক্কা শহরের পত্তনকালে হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর দোয়া :
رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّ ارْزُقْ اَهْلَہٗ مِنَ الثَّمَرٰتِ مَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ
“………..পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর ……।” (২:১২৬)
رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا الْبَلَدَ اٰمِنًا وَّ اجْنُبْنِیْ وَ بَنِیَّ اَنْ نَّعْبُدَ الْاَصْنَامَ رَبِّ اِنَّهُنَّ اَضْلَلْنَ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ ۚ فَمَنْ تَبِعَنِیْ فَاِنَّہٗ مِنِّیْ ۚ وَ مَنْ عَصَانِیْ فَاِنَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ رَبَّنَاۤ اِنِّیْۤ اَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ بِوَادٍ غَیْرِ ذِیْ زَرْعٍ عِنْدَ بَیْتِكَ الْمُحَرَّمِ ۙ رَبَّنَا لِیُـقِیْمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجْعَلْ اَفْئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَہْوِیْۤ اِلَیْهِمْ وَارْ زُقْهُمْ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمْ یَشْکُرُوْنَ
“…….. হে পালনকর্তা, এ (মক্কা) শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন। হে পালনকর্তা, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার এবং কেউ আমার অবাধ্যতা করলে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের পালনকর্তা, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় আবাদ করেছি; হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা নামায কায়েম রাখে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।” (১৪:৩৫ – ৩৭)
কা’বার ভিত্তি স্থাপনকালে হযরত ইব্রাহীম (আ) ও ঈসমাইল (আ)-এর দোয়া
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ؕ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ رَبَّنَا وَ اجْعَلْنَا مُسْلِمَیْنِ لَكَ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّۃً مُّسْلِمَۃً لَّكَ ۪ وَ اَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَ تُبْ عَلَیْنَا ۚ اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ رَبَّنَا وَ ابْعَثْ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِکْمَۃَ وَ یُزَكِیْهِمْ ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ
“………পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু। হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুন যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।” (২:১২৭ – ১২৯)
হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর অন্যান্য দোয়া
رَبِّ هَبْ لِیْ حُکْمًا وَّ اَلْحِقْنِیْ بِالصّٰلِحِیْنَ وَ اجْعَلْ لِّیْ لِسَانَ صِدْقٍ فِی الْاٰخِرِیْنَ وَ اجْعَلْنِیْ مِنْ وَّرَثَۃِ جَنَّۃِ النَّعِیْمِ
“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর। এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।” (২৬:৮৩ – ৮৫)
وَ لَا تُخْزِنِیْ یَوْمَ یُبْعَثُوْنَ یَوْمَ لَا یَنْفَعُ مَالٌ وَّ لَا بَنُوْنَ
“এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না, যে দিবসে ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি কোন উপকারে আসবে না।” (২৬:৮৭ – ৮৮)
رَبِّ هَبْ لِیْ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ
“হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎ পুত্র দান কর।” (৩৭:১০০)
رَبَّنَا عَلَیْكَ تَوَكَلْنَا وَ اِلَیْكَ اَنَبْنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَۃً لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ اغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ
………..“হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে কাফেরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (৬০:৪ – ৫)
নবী হযরত লূত (আ)-এর দোয়া
رَبِّ نَجِّنِىْ وَاَهْلِىْ مِمَّا يَعْمَلُوْنَ
“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।” (২৬:১৬৯)
رَبِّ انْصُرْنِىْ عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِيْنَ
“………. হে আমার পালনকর্তা, দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর।” (২৯:৩০)
হযরত ইউছুফ (আ)-এর দোয়া
رَبِّ السِّجْنُ اَحَبُّ اِلَیَّ مِمَّا یَدْعُوْنَنِیْۤ اِلَیْهِ ۚ وَ اِلَّا تَصْرِفْ عَنِّیْ كَیْدَهُنَّ اَصْبُ اِلَیْهِنَّ وَ اَکُنْ مِّنَ الْجٰهِلِیْنَ
“হে পালনকর্তা, তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহ্বান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (১২:৩৩)
رَبِّ قَدْ اٰتَیْتَنِیْ مِنَ الْمُلْكِ وَ عَلَّمْتَنِیْ مِنْ تَاْوِیْلِ الْاَحَادِیْثِ ۚ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۟ اَنْتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَۃِ ۚ تَوَفَّنِیْ مُسْلِمًا وَّ اَلْحِقْنِیْ بِالصّٰلِحِیْنَ
“হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্যসহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।” (১২:১০১)
হযরত ইউনুছ (আ)-এর দোয়া
لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ٭ۖ اِنِّیْ کُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ فَاسْتَجَبْنَا لَہٗ ۙ وَ نَجَّیْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ ؕ وَ كَذٰلِكَ نُــْۨجِی الْمُؤْمِنِیْنَ
“………….তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র আমি গুনাহগার। অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।” (২১:৮৭ – ৮৮)
হযরত আইয়ুব (আ)-এর দোয়া
اَنِّیْ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَ
“……আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান।” (২১:৮৩)
হযরত মূসা (আ)-এর দোয়াসমূহ
رَبِّ اِنِّیْ لِمَاۤ اَنْزَلْتَ اِلَیَّ مِنْ خَیْرٍ فَقِیْرٌ
“হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।” (২৮:২৪)
….. رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ فَاغْفِرْ لِیْ فَغَفَرَ لَہٗ ؕ اِنَّہٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ فَلَنْ اَکُوْنَ ظَهِیْرًا لِّلْمُجْرِمِیْنَ
“…… হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর যুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।” (২৮:১৬ – ১৭)
رَبِّ نَجِّنِیْ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ
“……….. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে যালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা কর।” (২৮:২১)
رَبِّ لَوْ شِئْتَ اَهْلَکْتَهُمْ مِّنْ قَبْلُ وَ اِیَّایَ ؕ اَتُہْلِکُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَآءُ مِنَّا ۚ اِنْ هِیَ اِلَّا فِتْنَتُكَ ؕ تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَآءُ وَ تَہْدِیْ مَنْ تَشَآءُ ؕ اَنْتَ وَلِیُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الْغٰفِرِیْنَ وَ اکْتُبْ لَنَا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الْاٰخِرَۃِ اِنَّا هُدْنَاۤ اِلَیْكَ ؕ ..
“……হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও। আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক – সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুণা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি ……।” (৭:১৫৫ – ১৫৬)
رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِاَخِیْ وَ اَدْخِلْنَا فِیْ رَحْمَتِكَ ۫ۖ وَ اَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَ
“…………. হে আমার পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যে সর্বাধিক করুণাময়।” (৭:১৫১)
رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْ وَ یَسِّرْ لِیْۤ اَمْرِیْ وَ احْلُلْ عُقْدَۃً مِّنْ لِّسَانِیْ یَفْقَهُوْا قَوْلِیْ
“………… হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।” (২০:২৫ – ২৮)
رَبَّنَاۤ اِنَّكَ اٰتَیْتَ فِرْعَوْنَ وَ مَلَاَہٗ زِیْنَۃً وَّ اَمْوَالًا فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۙ رَبَّنَا لِیُضِلُّوْا عَنْ سَبِیْلِكَ ۚ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلٰۤی اَمْوَالِهِمْ وَ اشْدُدْ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْا حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ
“……হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থিব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ, – হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করবে! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন–সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।” (১০:৮৮)
হযরত মূসা (আ)-এর কওমের দোয়া
عَلَی اللّٰهِ تَوَكَلْنَا ۚ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَۃً لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ وَ نَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ
“………আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের উপর এ যালেম কওমের শক্তি পরীক্ষা করিও না। আর আমাদেরকে অনুগ্রহ করে ছাড়িয়ে দাও এই কাফেরদের কবল থেকে।” (১০:৮৫ – ৮৬)
হযরত মূসা (আ)-এর ওপর ঈমান আনয়নকারী জাদুকরগণের দোয়া
رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتْنَا ؕ رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِیْنَ
“…….. হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যরে দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।” (৭:১২৬)
ফেরাউন-পত্নী হযরত আছিয়া (র)-এর দোয়া
رَبِّ ابْنِ لِیْ عِنْدَكَ بَیْتًا فِی الْجَنَّۃِ وَ نَجِّنِیْ مِنْ فِرْعَوْنَ وَ عَمَلِہٖ وَ نَجِّنِیْ مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ
“………. হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।” (৬৬:১১)
হযরত ঈসা (আ)-এর দোয়া
اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنْزِلْ عَلَیْنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ تَکُوْنُ لَنَا عِیْدًا لِّاَوَّلِنَا وَ اٰخِرِنَا وَ اٰیَۃً مِّنْكَ ۚ وَ ارْزُقْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ
“হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ রিযেকদাতা।” (৫:১১৪)
হযরত ঈসা (আ)-এর সঙ্গী-সাথী হাওয়ারীগণের দোয়া
رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنْزَلْتَ وَ اتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاکْتُبْنَا مَعَ الشّٰهِدِیْنَ
“হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রাসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদিগকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও।” (৩:৫৩)
শোয়াইব (আ)-এর দোয়া
عَلَی اللّٰهِ تَوَكَلْنَا ؕ رَبَّنَا افْتَحْ بَیْنَنَا وَ بَیْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَ اَنْتَ خَیْرُ الْفٰتِحِیْنَ
“…….আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠতম ফয়সালাকারী।” (৭:৮৯)
وَمَا تَوْفِیْقِیْۤ اِلَّا بِاللّٰهِ ؕعَلَیْهِ تَوَكَلْتُ وَ اِلَیْهِ اُنِیْبُ
“…… আল্লাহর মদদ দ্বারাই আমার কর্ম–সম্পাদন হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।” (১১:৮৮)
হযরত যাকারিয়া (আ)-এর দোয়া
رَبِّ اِنِّیْ وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّیْ وَ اشْتَعَلَ الرَّاْسُ شَیْبًا وَّ لَمْ اَکُنْۢ بِدُعَآئِكَ رَبِّ شَقِیًّا وَ اِنِّیْ خِفْتُ الْمَوَالِیَ مِنْ وَّرَآءِیْ وَ كَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا فَهَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا یَّرِثُنِیْ وَ یَرِثُ مِنْ اٰلِ یَعْقُوْبَ ٭ۖ وَ اجْعَلْهُ رَبِّ رَضِیًّا
“….. হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল-মনোরথ হইনি। আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন কর্তব্যপালনকারী দান করুন। সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।” (১৯:৪ – ৬)
رَبِّ لَا تَذَرْنِیْ فَرْدًا وَّ اَنْتَ خَیْرُ الْوٰرِثِیْنَ
“……. হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।” (২১:৮৯)
হযরত তালূত (আ) ও তাঁর সৈন্য বাহিনীর দোয়া
رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ
“……. হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ – আর আমাদের সাহায্য কর কাফের জাতির বিরুদ্ধে।” (২:২৫০)
হযরত সোলায়মান (আ)-এর দোয়া
رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْکُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰىهُ وَ اَدْخِلْنِیْ بِرَحْمَتِكَ فِیْ عِبَادِكَ الصّٰلِحِیْنَ
“হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা–মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।” (২৭:১৯)
رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ هَبْ لِیْ مُلْکًا لَّا یَنْۢبَغِیْ لِاَحَدٍ مِّنْۢ بَعْدِیْ ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَابُ
“……. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” (৩৮:৩৫)
রাণী বিলকিসের দোয়া
رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ وَ اَسْلَمْتُ مَعَ سُلَیْمٰنَ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ
“…….. হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি যুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করলাম।” (২৭:৪৪)
ফেরেশতাগণের দোয়া
رَبَّنَا وَسِعْتَ کُلَّ شَیْءٍ رَّحْمَۃً وَّ عِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِیْنَ تَابُوْا وَ اتَّبَعُوْا سَبِیْلَكَ وَ قِهِمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ رَبَّنَا وَ اَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنِۣ الَّتِیْ وَعَدْتَّهُمْ وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآئِهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ وَ قِهِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ وَ مَنْ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَہٗ ؕ وَ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
“…….. হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।” (৪০:৭ – ৯)
আসহাবে কাহফের দোয়া
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَۃً وَّ هَیِّیْٔ لَنَا مِنْ اَمْرِنَا رَشَدًا
“……… হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।” (১৮:১০)
আরাফবাসীর দোয়া
وَاِذَا صُرِفَتْ اَبْصَارُهُمْ تِلْقَآءَ اَصْحٰبِ النَّارِ ۙ قَالُوْا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ
“ যখন তাদের (আরাফবাসীর) দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে তখন বলবে, ‘হে আমাদের প্রতপিালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করোনা’।” (৭:৪৭)
শয়তানের কাছ থেকে আল্লাহ তায়ালার নিকট আশ্রয় গ্রহণের দোয়া
শয়তান মানব জাতির মহাশত্রু। সে তার দলবল নিয়ে সর্বোতভাবে মানুষকে বিপথগামী করার প্রচেষ্টা চালায় যাতে মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ মানব জাতিকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য বারবার সাবধান করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রিয় নবী (সা)-কেও সতর্ক করেছেন শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য। এতদ্সংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিমেন পেশ করা হলো:
اِمَّا یَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ ؕ اِنَّہٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ
“(হে নবী) যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৪১:৩৬)।
فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ
“অতএব, যখন আপনি কুরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন।” (১৬:৯৮)
رَّبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیْنِ وَ اَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ یَّحْضُرُوْنِ
“………. হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। এবং হে আমার পালনকর্তা! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।” (২৩:৯৭ – ৯৮)
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ
“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার পালনকর্তার নিকট, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে – যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।” (১১৩:১ – ৫)
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ اِلٰهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ
“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা‘বুদের নিকট আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।” (১১৪:১ – ৬)
অবিশ্বাসী কাফেরদের দোয়া
আখিরাতের অফুরন্ত নিয়ামত আল্লাহ্ শুধু তাঁর অনুগত ও আখিরাতে বিশ্বাসী বান্দদের জন্য মজুদ রেখেছেন। আখিরাতের ব্যাপারে অবিশ্বাসী কাফেরদের দোয়া কবুল হয় না। অবিশ্বাস, অবাধ্যতা ও দুষ্কর্মের কারণে তারা পরকালীন জীবনে অনন্ত শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহর পথে ফিরে আসার জন্য এ দুনিয়ায় তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করেছিল এবং তাঁর অবাধ্য হয়ে গোমরাহী ও নাফরমানীতে লিপ্ত ছিল। এতদ্সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:
وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُو رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ
“যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (৩২:১২)
قَالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُم مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ فِي النَّارِ ۖ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَهَا ۖ حَتَّىٰ إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَـٰؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ ۖ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَـٰكِن لَّا تَعْلَمُونَ
“আল্লাহ্ (কাফেরদের) বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।” (৭:৩৮)
حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
“যখন তাদের (কাফেরদের) কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলেঃ হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (২৩:৯৯ –১০০)
قَالُوا رَبَّنَا مَن قَدَّمَ لَنَا هَـٰذَا فَزِدْهُ عَذَابًا ضِعْفًا فِي النَّارِ
“তারা (অবিশ্বাসীরা) বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, যে আমাদেরকে এর সম্মুখীন করেছে, আপনি জাহান্নামে তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দিন।” (৩৮:৬১)
وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا
“তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।” (৩৩:৬৭)
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ ۚ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ ۖ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِن نَّصِي
“সেখানে (জাহান্নামে) তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না।’ (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।” (৩৫:৩৭)
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَىٰ خُرُوجٍ مِّن سَبِيلٍ
”তারা (কাফেরগণ) বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?” (৪০:১১)
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا رَبَّنَا أَرِنَا اللَّذَيْنِ أَضَلَّانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ نَجْعَلْهُمَا تَحْتَ أَقْدَامِنَا لِيَكُونَا مِنَ الْأَسْفَلِينَ
“কাফেররা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! যেসব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দাও, আমরা তাদেরকে পদদলিত করব, যাতে তারা যথেষ্ট অপমানিত হয়।” (৪১:২৯)
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مَّاكِثُونَ
“তারা (কাফেররা) ডেকে বলবে, ‘হে মালেক (দোযখের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা), পালনকর্তা আমাদেরকেে একেবারেই শেষ করে দিন।’ তিনি বলবেন, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল (এখানে) থাকবে।” (৪৩:৭৭)
رَّبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ
“(কাফেররা বলবে) হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের উপর থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।” (৪৪:১২)
শয়তানের দোয়া
জিন জাতিভুক্ত ইবলিস (শয়তান) তার ইবাদত বন্দেগীর দ্বারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করে ফেরেশতাদের কাতারে অবস্থান করছিল। মহান আল্লাহ্ প্রথম মানব হযরত আদমকে (সা) সৃষ্টির পর যখন তাঁকে (আদমকে) সিজদার হুকুম করলেন তখন ইবলিস ব্যতীত সকল ফেরেশতা তাঁকে সিজদা করলো, কিন্তু সেখানে অবস্থানরত ইবলিস অহংকারবশত আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে আদমকে (আ) সিজদা করতে অস্বীকার করলো এবং বিতাড়িত ও অভিশপ্ত শয়তানে পরিগণিত হলো। এ সময় শয়তান তার ঔদ্ধত্য ও নাফরমানির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করে বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত শাস্তি থেকে অবকাশ চেয়ে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নিকট প্রার্থনা করলে তিনি তার প্রার্থিত অবকাশ মঞ্জুর করলেন। নিম্নোক্ত আয়াতে এ দোয়াটির কথা উল্লেখ আছে:
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِي إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
“সে (শয়তান) বললঃ ‘হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন’।” (৩৮:৭৯)