৮ম অধ্যায় : মানব জাতি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ

আদি পিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হাওয়া (আ)–এর জন্ম বৃত্তান্ত

জিন জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে পৃথিবীর বুকে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ও বিপর্যয় সৃষ্টি করলে মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তাদের কাছ থেকে খিলাফতের দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নেন। তিনি ইচ্ছাপোষণ করলেন মানবজাতিকে পৃথিবীতে তাঁর খলীফা (প্রতিনিধি) হিসেবে পাঠাবেন। বিষয়টি তিনি ফেরেশতাগণের নিকট প্রকাশ করলে তাঁরা এ ব্যাপারে তাদের আশঙ্কা জানিয়ে বললো, ‘মানুষওতো এমনিভাবে ফেতনা–ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে। আমরাইতো প্রতি নিয়ত আপনার ইবাদত–বন্দেগী করছি, আনুগত্য করছি এবং আপনার হুকুম পালনে আমরাই যথেষ্ট।’ উত্তরে আল্লাহ্ বললেন, ‘আমি যা জানি তা তোমরা জান না।’ এরপর আল্লাহ্ এ পৃথিবীর মাটি দ্বারা প্রথম মানব হযরত আদম (আ)–কে সৃষ্টি করলেন এবং ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিলেন আদম (আ)–কে সিজদা করার জন্য। ফেরেশতাদের সবাই সিজদা করলেও ইবলীস অহঙ্কারবশত সিজদা করতে অস্বীকৃত হলো। সে ছিল জিন জাতিভুক্ত এবং ইবাদত–বন্দেগীর দ্বারা ফেরেশতাদের কাতারে উন্নীত হয়েছিল। আদেশ অমান্য করার কারণে আল্লাহ্ তাকে সান্নিধ্য থেকে বিতাড়িত করে দিলেন। সে মহান আল্লাহর নিকট ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চাইলো এবং মানবজাতিকে বিপথগামী করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার যাবতীয় কলা–কৌশল প্রয়োগের  ক্ষমতা প্রার্থনা করলো। মহান আল্লাহ্ তার প্রার্থনা মঞ্জুর করে তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দান করলেন এবং মানুষকে বিপথগামী করার সে ক্ষমতাও তাকে  দিলেন। তবে তিনি তাকে বলে দিলেন যে, সে কখনও তাঁর প্রকৃত মু’মিন বান্দাদেরকে পদস্খলিত করতে পারবে না। আরও বলে দিলেন যে, তাঁর কোন বান্দা–বান্দী অপরাধ করার পর যদি অনুশোচনগ্রস্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাঁর নিকট ফিরে আসে তবে তিনি তাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।  তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, যারা তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে তারা আখিরাতে অনন্তকালীন সুখের আবাস জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যারা তাঁর অবাধ্য হবে এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তারা অবর্ণনীয় শাস্তি ও কষ্টের চিরকালীন নিবাস জাহান্নামের অধিবাসী হবে।

মহান আল্লাহ্ মানবজাতির আদি পিতা  ও  প্রথম মানব আদমকে (আ) নিজ হাতে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে রূহ্ ফুঁকে দিয়ে তাতে করেছেন প্রাণের সঞ্চার । তিনি আদম (আ) এর  পার্শ্বদেশ থেকে তাঁর সঙ্গীনী ও আদি মাতা হাওয়া (আ) কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাঁদের উভয়কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে জান্নাতে বসবাস করা ও এর অপার নিয়ামত ভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র একটি বৃক্ষের ফল আস্বাদন ব্যতীত। কিন্তু তাঁরা উভয়ে ইবলীস শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর নিষেধ ভুলে গিয়ে সেই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করে ফেলেন। ফলে তাঁদের স্বর্গচ্যুতি ঘটে। তাঁরা অনুশোচনাগ্রস্ত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাঁদেরকে ক্ষমা করে দেন। তবে তিনি তাঁদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য জান্নাতের পরিবর্তে  পৃথিবীতে তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি তাঁদেরকে এ ওয়াদা দিলেন যে, পৃথবীতে তাঁরা এবং তাঁদের বংশধরগণ এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আনুগত্য ও উপাসনা এবং সৎকর্মের মাধ্যমে চিরস্থায়ী আবাস জান্নাত লাভ করতে পারবেন। আর এভাবেই আদি পিতা হযরত আদম (সা) ও আদি মাতা হাওয়া (আ) এর বংশধর দ্বারা পৃথিবীর বুকে মানব বসতি গড়ে উঠে।

এতদ্সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝ وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَـٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ۝ قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ۝ قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ۝ وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ۝ فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ ۝ فَتَلَقّٰىۤ اٰدَمُ مِنْ رَّبِّه كَلِمٰتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ  اِنَّه هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ۝  قُلْنَا اهْبِطُوْا مِنْهَا جَمِيْعًا ج فَاِمَّا يَاْتِيْنَّكُمْ مِّنِّى هُدًى فَمَنْ  تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ۝  وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَاۤ اُوْلٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ج  هُمْ فِيْهَا خٰلِدُوْنَ۝
“আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা–হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না। আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তুসামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তুসামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে আপনি যা আমাদিগকে শিখিয়েছেন (সেগুলো ব্যতীত), নিশ্চয় আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা। তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ–স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে। অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা–ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।” (২:৩০–৩৯)

وَ لَقَدْ خَلَقْنٰکُمْ ثُمَّ صَوَّرْنٰکُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اسْجُدُوْا  لِاٰدَمَ ٭ۖ فَسَجَدُوْۤا  اِلَّاۤ  اِبْلِیْسَ ؕ لَمْ  یَکُنْ مِّنَ السّٰجِدِیْنَ ۝ قَالَ مَا مَنَعَكَ  اَلَّا  تَسْجُدَ   اِذْ   اَمَرْتُكَ ؕ قَالَ  اَنَا خَیْرٌ  مِّنْهُ ۚ خَلَقْتَنِیْ مِنْ نَّارٍ  وَّ  خَلَقْتَہٗ  مِنْ  طِیْنٍ ۝ قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا یَکُوْنُ لَكَ اَنْ تَتَكَبَّرَ فِیْهَا فَاخْرُجْ  اِنَّكَ مِنَ الصّٰغِرِیْنَ۝

“আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার–অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছি- আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।” (৭:১১–১৩)|

اِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓئِكَۃِ  اِنِّیْ خَالِقٌۢ  بَشَرًا مِّنْ طِیْنٍ ۝ فَاِذَا سَوَّیْتُہٗ وَ نَفَخْتُ فِیْهِ مِنْ رُّوْحِیْ فَقَعُوْا  لَہٗ سٰجِدِیْنَ ۝ فَسَجَدَ الْمَلٰٓئِكَۃُ  کُلُّهُمْ  اَجْمَعُوْنَ ۝ اِلَّاۤ  اِبْلِیْسَ ؕ اِسْتَکْبَرَ وَ كَانَ مِنَ الْکٰفِرِیْنَ۝

“যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব। যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সম্মুখে সেজদায় নত হয়ে যেয়ো। অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই একযোগে সেজদায় নত হল, কিন্তু ইবলীস ব্যতীত; সে অহংকার করল এবং অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” (৩৮:৭১–৭৪)
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ۚ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا۝
“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।” (১৮:৫০)

ثُمَّ اجْتَبٰهُ رَبُّہٗ فَتَابَ عَلَیْهِ  وَ هَدٰی ۝ قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِیْعًۢا بَعْضُکُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاْتِیَنَّکُمْ مِّنِّیْ هُدًی ۬ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَایَ  فَلَا  یَضِلُّ  وَ لَا  یَشْقٰی۝

“এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।” (২০:১২২–১২৩)

মানবজাতি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের এক অনন্য সৃষ্টি

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقْنٰکُمْ مِّنْ ذَكَرٍ وَّ اُنْثٰی وَ جَعَلْنٰکُمْ شُعُوْبًا وَّ قَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوْا ؕ اِنَّ اَکْرَمَکُمْ عِنْدَ اللّٰهِ اَتْقٰکُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ ۝

“হে মানব সমাজ, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরের সাথে পরিচিতি হতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক সৎকর্মশীল। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।” (৪৯:১৩)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এক অনন্য সৃষ্টি হলো মানবজাতি। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন প্রথম ও আদি মানব আদম (আ)- কে শিক্ষা দিয়েছেন জ্ঞান ও দান করেছেন প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, বিবেকবোধ, চিন্তাশক্তি ও অপার সম্ভাবনা। মানুষের এসব বৈশিষ্ট্য তাকে সৃষ্ট সকল জীবের মধ্যে করেছে অনন্য। মহান আল্লাহ্ মানুষকে অন্য সব সৃষ্টির উপর মর্যাদা দান করেছেন। এ পৃথিবীতে মানুষকে তিনি তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং এ প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সক্ষমতাও তাকে দিয়েছেন। সে সাথে তিনি তাঁর যাবতীয় নিয়ামত ভোগ করার অধিকারও মানুষকে দিয়েছেন। তিনি তাঁর সব সৃষ্টিকে করেছেন মানব জাতির অধীন। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ তায়ালা দেখতে চান মানুষ কিভাবে তাঁর এ প্রদত্ত আমানত ও নিয়ামতসমূহের সদ্ব্যবহার করে। এ গুরুদায়িত্ব পালন সম্পর্কে মানুষ মৃত্যুর পর আখিরাতে মহান আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসিত হবে। এ দুনিয়ায় মানুষ ক্ষণস্থায়ী  এবং এখানকার জীবন তার জন্য এক বিরাট পরীক্ষাক্ষেত্র। মানব জীবনের একদিকে রয়েছে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের প্রদর্শিত সহজ–সরল পথ – ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ অপরদিকে রয়েছে কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের কুপ্ররোচনায় ভরা ভ্রান্ত পথ।  তাই এ জীবনের পথ মানুষকে পাড়ি দিতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। এর মধ্যেই রয়েছে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতা।

পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত মানব জন্মের বর্ণনার সাথে পরিবেশ বিজ্ঞানী ডারউেইনের ‘বানর প্রজাতি থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে মানবজাতির উদ্ভব’ মতবাদটি একেবারেই সাংঘর্ষিক। কারণ মানুষ মহান আল্লাহর এক অনন্য সৃষ্টি। তিনি মানবজাতিকে এ দুনিয়ার বুকে তাঁর প্রতিনিধিত্ব, আনুগত্য ও ইবাদত করার এক বিশেষ উদ্দশ্যে  সৃষ্টি করেছেন। এসব দায়িত্ব পালনের উপযোগি জ্ঞান–চিন্তাশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, স্বাধীন সত্তা ও বিবেকবোধ দিয়েই মানুষ সৃজিত হয়েছে – কোন ইতর প্রাণীর বংশধর হিসেবে নয়। কারণ মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর এসব দায়িত্ব, বিবেকবোধ, স্বাধীন সত্তা ও জবাবদিহিতা নেই। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে রয়েছে সভ্যতা ও শালীনতবোধ এবং পোষাক–পরিচ্ছদের প্রচলন যা অন্য কোন প্রাণীর নেই। অন্য সব প্রাণী উলঙ্গাবস্থায় পৃথিবীতে সব ধরনের পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলতে পারে – যা মানুষ পারে না। মানুষকে তার পরিবেশ অনুযায়ী বাসস্থান ও পোষাক তৈরী করতে হয়। বৈরী পার্থিব পরিবেশে মানুষের মধ্যে অসুস্থতার প্রবণতাও বেশী। প্রকৃতপক্ষে মানব সৃষ্টির বিষয়টি অনন্য ও অপূর্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এবং বিবর্তনবাদ বিরোধী।

মানবজাতির সৃষ্টির উদ্দেশ্য সংক্রান্ত আয়াতগুলো নীচে প্রদান করা হলো:

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّکُمُ الَّذِیْ خَلَقَکُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّ خَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَ بَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِیْرًا وَّ نِسَآءً ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِیْ تَسَآءَلُوْنَ بِہٖ وَ الْاَرْحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلَیْکُمْ رَقِیْبًا ۝

“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাক এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।” (৪:১)

وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَکُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَۃٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَّ مُسْتَوْدَعٌ ؕ قَدْ فَصَّلْنَا الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّفْقَهُوْنَ ۝

“তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।” (৬:৯৮)

هُوَ الَّذِیْ خَلَقَکُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِیَسْکُنَ اِلَیْهَا ۚ فَلَمَّا تَغَشّٰهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِیْفًا فَمَرَّتْ بِہٖ ۚ فَلَمَّاۤ اَثْقَلَتْ دَّعَوَا اللّٰهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ اٰتَیْتَنَا صَالِحًا لَّنَکُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ ۝

“তিনিই সে (পরম সত্তা) যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একজন (আদম আ) থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন ভারী হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল (সন্তান) দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।” (৭:১৮৯)

خَلَقَکُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَ اَنْزَلَ لَکُمْ مِّنَ الْاَنْعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزْوَاجٍ ؕ یَخْلُقُکُمْ فِیْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِکُمْ خَلْقًا مِّنْۢ بَعْدِ خَلْقٍ فِیْ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰهُ رَبُّکُمْ لَهُ الْمُلْکُ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصْرَفُوْنَ ۝

“তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?” (৩৯:৬)

يٰۤاَيُّهَا الْاِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيْمِ ۝ اَلَّذِىْ خَلَقَكَ فَسَوّٰىكَ فَعَدَلَكَ ۝ فِىْۤ اَىِّ صُوْرَةٍ مَّا شَآءَ رَكَّبَكَ ۝ كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُوْنَ بِالدِّيْنِ ۝

“হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন। কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না; বরং তোমরা দান–প্রতিদানকে মিথ্যা মনে কর।” (৮২:৬ – ৯)

اَلَّذِىۤ اَحْسَنَ كُلَّ شَىْءٍ خَلَقَه وَبَدَاَ خَلْقَ الْاِنْسَانِ مِنْ طِيْنٍ۝ ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَه مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ مَّآءٍ مَّهِيْنٍ۝ ثُمَّ سَوّٰىهُ وَنَفَخَ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِه وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَالْاَفْـِٔدَةَ ط قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে। অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (৩২:৭ – ৯)

وَ مِنْ اٰیٰتِہٖۤ اَنْ خَلَقَکُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُوْنَ ۝ وَ مِنْ اٰیٰتِہٖۤ اَنْ خَلَقَ لَکُمْ مِّنْ اَنْفُسِکُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْکُنُوْۤا اِلَیْهَا وَ جَعَلَ بَیْنَکُمْ مَّوَدَّۃً وَّ رَحْمَۃً ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَرُوْنَ ۝

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ। আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (৩০:২০ – ২১)

وَهُوَ الَّذِىْ خَلَقَ مِنَ الْمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَه نَسَبًا وَصِهْرًا ط وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيْرًا۝

“তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে, অতঃপর তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার পালনকর্তা সবকিছু করতে সক্ষম।” (২৫:৫৪)

وَ اِذْ اَخَذَ رَبُّكَ مِنْۢ بَنِیْۤ اٰدَمَ مِنْ ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَ اَشْهَدَهُمْ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ ۚ اَلَسْتُ بِرَبِّکُمْ ؕ قَالُوْا بَلٰی ۚۛ شَهِدْنَا ۚۛ اَنْ تَقُوْلُوْا یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ اِنَّا کُنَّا عَنْ هٰذَا غٰفِلِیْنَ ۝

“আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের কটিদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজেদের সম্পর্কে স্বীকারোক্তি নেন এবং বলেন, ‘আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ এটা এ জন্য যে, তোমরা যেন ক্বিয়ামতের দিন বলতে শুরু না কর, ‘এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না’।” (৭:১৭২)

اَللهُ يَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيْدُه ثُمَّ اِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ۝

“আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এরপর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩০:১১)

وَاللهُ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ اَزْوٰجًا ط وَمَا تَحْمِلُ مِنْ اُنْثٰى وَلَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلْمِه ط وَمَا يُعَمَّرُ مِنْ مُّعَمَّرٍ وَّلَا يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِه اِلَّا فِىْ كِتٰبٍ ط اِنَّ ذٰلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيْرٌ۝

“আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর করেছেন তোমাদেরকে যুগল। কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না; কিন্তু তাঁর জ্ঞাতসারে। কোন বয়স্ক ব্যক্তি বয়স পায় না। এবং তার বয়স হ্রাস পায় না; কিন্তু তা লিখিত আছে কিতাবে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।” (৩৫:১১)

لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ فِىۤ اَحْسَنِ تَقْوِيْمٍ۝ ثُمَّ رَدَدْنٰهُ اَسْفَلَ سٰفِلِيْنَ۝

“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে। অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।” (৯৫:৪ – ৫)

فَلَاۤ اُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشٰرِقِ وَالْمَغٰرِبِ اِنَّا لَقٰدِرُوْنَ۝ عَلٰۤى اَنْ نُّبَدِّلَ خَيْرًا مِّنْهُمْ لا وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِيْنَ۝

“আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের পালনকর্তার, নিশ্চয়ই আমি সক্ষম! তাদের পরিবর্তে উৎকৃষ্টতর মানুষ সৃষ্টি করতে এবং এটা আমার সাধ্যের অতীত নয়।” (৭০:৪০ – ৪১)

مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرَى۝

“এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।” (২০:৫৫)

اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ نُّطْفَۃٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ ۝ وَ ضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّ نَسِیَ خَلْقَہٗ ؕ قَالَ مَنْ یُّحْیِ الْعِظَامَ وَ هِیَ رَمِیْمٌ ۝ قُلْ یُحْیِیْهَا الَّذِیْۤ اَنْشَاَهَاۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ؕ وَ هُوَ بِکُلِّ خَلْقٍ عَلِیْمُۨ ۝ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْاَخْضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُوْنَ۝

“মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও।” (৩৬:৭৮ – ৮০)

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِىْ رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَّغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِى الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰىۤ اَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰىۤ اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْۢ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْـًٔا ط

“হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না ।” ….. (২২:৫)

قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا
“তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?” (১৮:৩৭)

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُوْنُوْا شُيُوْخًا وَّمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى مِنْ قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوْۤا اَجَلًا مُّسَمًّى وَّلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ۝ هُوَ الَّذِىْ يُحْى وَيُمِيْتُ فَاِذَا قَضٰىۤ اَمْرًا فَاِنَّمَا يَقُوْلُ لَه كُنْ فَيَكُوْنُ۝

“তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর। তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, ‘হয়ে যা’ – তা হয়ে যায়।” (৪০:৬৭ – ৬৮)

وَاِنَّا لَنَحْنُ نُحْى وَنُمِيْتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُوْنَ۝

“আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।” (১৫:২৩)

اَلَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا وَّهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ۝

“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন – কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” (৬৭:২)

اَفَعَیِیْنَا بِالْخَلْقِ الْاَوَّلِ ؕ بَلْ هُمْ فِیْ لَبْسٍ مِّنْ خَلْقٍ جَدِیْدٍ ۝ وَ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ وَ نَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِہٖ نَفْسُہٗ ۚۖ وَ نَحْنُ اَقْرَبُ اِلَیْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِیْدِ ۝ اِذْ یَتَلَقَّی الْمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الْیَمِیْنِ وَ عَنِ الشِّمَالِ قَعِیْدٌ ۝ مَا یَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَیْهِ رَقِیْبٌ عَتِیْدٌ ۝ وَ جَآءَتْ سَکْرَۃُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِكَ مَا کُنْتَ مِنْهُ تَحِیْدُ۝

“আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বরং তারা নতুন সৃষ্টির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছে। আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে।” (৫০:১৫ – ১৯)

نَحْنُ خَلَقْنٰکُمْ فَلَوْ لَا تُصَدِّقُوْنَ ۝ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تُمْنُوْنَ ۝ ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَہٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ ۝ نَحْنُ قَدَّرْنَا بَیْنَکُمُ الْمَوْتَ وَ مَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِیْنَ ۝ عَلٰۤی اَنْ نُّبَدِّلَ اَمْثَالَکُمْ وَ نُنْشِئَکُمْ فِیْ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۝ وَ لَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْاَۃَ الْاُوْلٰی فَلَوْ لَا تَذَكَرُوْنَ۝

“আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না? তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে? তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই। এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না। তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?।” (৫৬:৫৭ – ৬২)

هَلْ اَتٰى عَلَى الْاِنْسٰنِ حِيْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْـًٔا مَّذْكُوْرًا۝ اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنٰهُ سَمِيْعًۢا بَصِيْرًا۝ اِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَاِمَّا كَفُوْرًا۝

“মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।” (৭৬:১ – ৩)

مَّا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ اِلَّا كَنَفْسٍ وَّاحِدَةٍ ط اِنَّ اللهَ سَمِيْعٌۢ بَصِيْرٌ ۝

“তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।” (৩১:২৮)

اَللهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ اُنْثٰى وَمَا تَغِيْضُ الْاَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَه بِمِقْدَارٍ۝

“আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সংকুচিত ও বর্ধিত হয়। এবং তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমাণ রয়েছে।” (১৩:৮)

اَلَمْ نَخْلُقكُّمْ مِّنْ مَّآءٍ مَّهِيْنٍ۝ فَجَعَلْنٰهُ فِىْ قَرَارٍ مَّكِيْنٍ۝ اِلٰى قَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ۝ فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقٰدِرُوْنَ۝

“আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ তরল পদার্থ থেকে সৃষ্টি করিনি? অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সংরক্ষিত আধারে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কতই নিপুণ স্রষ্টা!” (৭৭:২০ – ২৩)

وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ز لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ اَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَاۤ ط اُوْلٰٓئِكَ كَالْاَنْعٰمِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ط اُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ۝

“আর আমি সৃষ্টি করেছি বহু জ্বিন ও মানুষ দোযখের জন্য। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।” (৭:১৭৯)

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِّنْ طِيْنٍ ثُمَّ قَضٰىۤ اَجَلًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّى عِنْدَه ثُمَّ اَنْتُمْ تَمْتَرُوْنَ۝

“তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।” (৬:২)

اَللهُ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِّنْ ضُعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْۢ بَعْدِ ضُعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْۢ بَعْدِ قُوَّةٍ ضُعْفًا وَّشَيْبَةً يَّخْلُقُ مَا يَشَآءُ وَهُوَ الْعَلِيْمُ الْقَدِيْرُ۝

“আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায় অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” (৩০:৫৪)

وَاللهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفّٰىكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰىۤ اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَىْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْـًٔا اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ قَدِيْرٌ۝

“আল্লাহ, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এরপর তোমাদের মৃত্যুদান করেন। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ পৌঁছে যায় জরাগ্রস্ত অকর্মণ্য বয়সে, ফলে যা কিছু তারা জানত সে সম্পর্কে তারা সজ্ঞান থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ সর্বশক্তিমান।” (১৬:৭০)

وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَنفُسِكُمْ اَزْوٰجًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ بَنِيْنَ وَحَفَدَةً وَّرَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ اَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُوْنَ وَبِنِعْمَتِ اللهِ هُمْ يَكْفُرُوْنَ۝

“আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?” (১৬:৭২)

وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ۝ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ فِىْ كَبَدٍ۝

“শপথ জনকের ও যা জন্ম দেয়। নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।” (৯০:৩ – ৪)

اِنْ كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ۝ فَلْيَنْظُرِ الْاِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ۝ خُلِقَ مِنْ مَّآءٍ دَافِقٍ۝ يَخْرُجُ مِنْۢ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَآئِبِ۝ اِنَّه عَلٰى رَجْعِه لَقَادِرٌ۝

“প্রত্যেক নফসের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে। অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।” (৮৬:৪ – ৮)

وَاللهُ اخْرَجَكُمْ مِّنْۢ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ شَيْـًٔا وَّجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصٰرَ وَالْاَفْـِٔدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।” (১৬:৭৮)

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَّمِنْكُمْ مُّؤْمِنٌ ط وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ۝ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَاَحْسَنَ صُوْرَكُمْ وَاِلَيْهِ الْمَصِيْرُ۝

“তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফের এবং কেউ মু’মিন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন।” (৬৪:২ – ৩)

 

মানবজাতির সম্মান ও মর্যাদা

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِى ادَمَ وَحَمَلْنهُمْ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنهُم مِنَ الطَّيِّبتِ وَفَضَّلْنهُمْ عَلى كَثِيْرٍ مِّمَنْ خَلَقْنَا تَفْضِيْلًا۝

“নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (১৭:৭০)

জ্ঞান–গরিমায়, চিন্তাশীলতায়, বিবেক ও বুদ্ধিমত্তায় এবং সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্ট মান–মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ হলো মহান আল্লাহর এক অনন্য ও সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি।  মহান স্রষ্টা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধির মর্যাদা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এ পৃথিবীতে বসবাসের জন্য তিনি মানুষকে দিয়েছেন যাবতীয় জীবনোপকরণ, সুযোগ–সুবিধা এবং সর্বোপরি জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা। এসব কিছু বিবেচনায় মানুষ হলো সৃষ্টির সেরা জীব। যারা নিজেদের জীবন ও জগৎ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে তারা অনুধাবন করতে পারে – আল্লাহ্ তা’আলা এমনি এমনি এসব সৃষ্টি করেননি, তাঁর সমগ্র সৃষ্টির পেছনে রয়েছে এক সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, গূঢ় রহস্য এবং মহৎ উদ্দেশ্য। আল্লাহ্ প্রদত্ত মান–মর্যাদা ও নিয়ামতসমূহ মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে ভোগ করবে এটাই আল্লাহর প্রত্যাশা।

এ প্রসঙ্গে যেসব আয়াত নাযিল হয়েছে তা নীচে পেশ করা হলো:

وَعَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلٰٓئِكَةِ فَقَالَ اَنۢبِـُٔوْنِىْ بِاَسْمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِيْنَ۝ قَالُوْا سُبْحٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمْتَنَاۤ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَلِيْمُ الْحَكِيْمُ۝ قَالَ يٰۤاٰ دَمُ اَنْۢبِئْهُمْ بِاَسْمَآئِهِمْ فَلَمَّاۤ اَنْۢبَاَهُم بِاَسْمَآئِهِمْ قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ اِنِّىۤ اَعْلَمُ غَيْبَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاَعْلَمُ مَا تُبْدُوْنَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُوْنَ۝

“আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু–সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু–সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে আপনি যা আমাদিগকে শিখিয়েছেন (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা। তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!” (২:৩১ – ৩৩)

اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاء بِنَاء وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

“আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।” (৪০:৬৪)

هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللهِ واللهُ بَصِيْرٌ بِمَا يَعْمَلُوْنَ۝

“আল্লাহর নিকট মানুষের মর্যাদা বিভিন্ন স্তরের। আর আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে।” (৩:১৬৩)

لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ فِىۤ اَحْسَنِ تَقْوِيْمٍ۝

“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।” (৯৫:৪)

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا ثُمَّ اسْتَوٰىۤ اِلَى السَّمَآءِ فَسَوّٰىهُنَّ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ وَهُوْ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“তিনিই সে সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু যমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুত তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।” (২:২৯)

وَاِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓئِكَةِ اِنِّى خٰلِقٌۢ بَشَرًا مِّنْ صَلْصٰلٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ۝ فَاِذَا سَوَّيْتُه وَنَفَخْتُ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِىْ فَقَعُوْا لَه سٰجِدِيْنَ۝ فَسَجَدَ الْمَلٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ اَجْمَعُوْنَ۝ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ اَبٰىۤ اَنْ يَّكُوْنَ مَعَ السّٰجِدِيْنَ۝

“আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন: আমি কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব। অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো। তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল। কিন্তু ইবলীস – সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে স্বীকৃত হল না।” (১৫:২৮ – ৩১)

اَلَمْ تَرَوْا اَنَّ اللهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ وَاَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَه ظٰهِرَةً وَّبَاطِنَةً ط وَّمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّلَا هُدًى وَّلَا كِتٰبٍ مُّنِيْرٍ۝

“তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে।” (৩১:২০)

اَللهُ الَّذِىْ سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِىَ الْفُلْكُ فِيْهِ بِاَمْرِه وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝ وَسَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا مِّنْهُ اِنَّ فِى ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُوْنَ۝

“তিনি আল্লাহ যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (৪৫:১২ – ১৩)

وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ لا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمْرِه ط اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ۝ وَمَا ذَرَاَ لَكُمْ فِى الْاَرْضِ مُخْتَلِفًا اَلْوٰنُه ط اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَذَّكَّرُوْنَ۝ وَهُوَ الَّذِىْ سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَاْكُلُوْا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَّتَسْتَخْرِجُوْا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُوْنَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيْهِ وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝

“তিনিই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকাসমূহ তাঁরই বিধানের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং–বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা–ভাবনা করে। তিনিই সমুদ্রকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযানসমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর।” (১৬:১২ – ১৪)

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ اُولٰٓئِكَ هُمْ خَیْرُ الْبَرِیَّۃِ ۝ جَزَآؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ رَضِیَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُ ؕ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِیَ رَبَّہٗ ۝

“যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা। তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় করে।” (৯৮:৭ – ৮)

 

মানুষ আল্লাহর খলীফা (প্রতিনিধি)

ثُمَّ جَعَلْنٰكُمْ خَلٰٓئِفَ فِى الْاَرْضِ مِنْۢ بَعْدِهِمْ لِنَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُوْنَ۝

অতঃপর আমি তোমাদেরকে যমীনে তাদের পর প্রতিনিধি বানিয়েছি যাতে দেখতে পারি তোমরা কি কর।” (১০:১৪)।

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মানব জাতিকে তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে এ দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করেছেন। এ জন্যে তিনি তাঁর অফুরন্ত নিয়ামতরাশি দ্বারা পৃথিবীকে সাজিয়েছেন মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টিকুলের বসবাসোপযোগি করে। খলীফার মহান দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মানুষকে দান করেছেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিবেক, বিচার, বুদ্ধি ও ভাল–মন্দ বোঝার সক্ষমতা এবং ইচ্ছার স্বাধীনতা। এ কাজে মানুষকে সহায়তা করার জন্য তিনি যুগে যুগে পাঠিয়েছেন নবী–রাসুল এবং আসমানী কিতাব। এ পৃথিবীতে খলীফা হিসেবে মানুষের দায়িত্ব হলো প্রধানত দু’টি — প্রথমটি হলো ‘হক্কুল্লাহ্’ – আল্লাহর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, আর দ্বিতীয়টি হলো ‘হক্কুল ইবাদ’ – সৃষ্টিকুলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকায় মানুষ তার উপরোক্ত দায়িত্ব আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় সততা ও আনুগত্যের সাথে পালন করতে পারে আবার হীন স্বার্থে এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অস্বীকৃতি দেখাতে পারে। তবে মানুষকে তার প্রতিটি কাজের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। খলীফা হিসেবে যারা দায়িত্ব পালনে কামিয়াবী হবে তারা ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করবে এবং যারা ব্যর্থ হবে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

وَ اِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اِنِّیْ جَاعِلٌ فِی الْاَرْضِ خَلِیْفَۃً ط قَالُوْۤا اَتَجْعَلُ فِیْهَا مَنْ یُّفْسِدُ فِیْهَا وَ یَسْفِکُ الدِّمَآءَ ج وَ نَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَ نُقَدِّسُ لَكَ ط قَالَ اِنِّیْۤ اَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۝

“আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেন: আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।” (২:৩০)

وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَکُمْ خَلٰٓئِفَ الْاَرْضِ وَ رَفَعَ بَعْضَکُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَبْلُوَکُمْ فِیْ مَاۤ اٰتٰکُمْ ؕ اِنَّ رَبَّكَ سَرِیْعُ الْعِقَابِ ۫ۖ وَ اِنَّہٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۝

“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদেরকে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৬:১৬৫)

هُوَ الَّذِیْ جَعَلَکُمْ خَلٰٓئِفَ فِی الْاَرْضِ ؕ فَمَنْ كَفَرَ فَعَلَیْهِ کُفْرُہٗ ؕ وَ لَا یَزِیْدُ الْکٰفِرِیْنَ کُفْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ اِلَّا مَقْتًا ۚ وَ لَا یَزِیْدُ الْکٰفِرِیْنَ کُفْرُهُمْ اِلَّا خَسَارًا ۝

“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্বীয় প্রতিনিধি করেছেন। অতএব যে কুফরী করবে তার কুফরী তার উপরই বর্তাবে। কাফেরদের কুফর কেবল তাদের পালনকর্তার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফেরদের কুফর কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” (৩৫:৩৯)

وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْکُمْ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْاَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۪ وَ لَیُمَكِنَنَّ لَهُمْ دِیْنَهُمُ الَّذِی ارْتَضٰی لَهُمْ وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْنًا ؕ یَعْبُدُوْنَنِیْ لَا یُشْرِکُوْنَ بِیْ شَیْئًا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ ۝

“তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়–ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।” (২৪:৫৫)

یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلْنٰكَ خَلِیْفَۃً فِی الْاَرْضِ فَاحْکُمْ بَیْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَ لَا تَتَّبِعِ الْهَوٰی فَیُضِلَّكَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌۢ بِمَا نَسُوْا یَوْمَ الْحِسَابِ ۝

“হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল–খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাব দিবসকে ভুলে যায়।” (৩৮:২৬)

 

মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাব

মানুষ অরিসীম সম্ভাবনার অধিকারী হলেও সে এক সীমাবদ্ধ জীব। প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ দুর্বল স্বভাবের।  মানুষ সৃজিত হয়েছে কিছুটা দুর্বল প্রবণতা নিয়ে। সুতরাং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ নয়। এ কারণে কখনও সে ভুল ও ত্বরাপ্রবণ, আন্দাজ–অনুমান নির্ভর ও সংশয়বাদী, কখনও ভীরু ও সংকীর্ণমনা আবার কখনওবা বেপরোওয়া। সীমালঙ্ঘন মানুষের একটি স্বভাবজাত ত্রুটি। তবে দয়াময় ও ক্ষমাশীল আল্লাহ্ মানুষের মধ্যে অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ দান করেছন। দুর্বলতা সত্ত্বেও মানুষ তাদের ভুল–ত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভ করতে পারে। মানুষের স্বভাব সম্পর্কিত কিছু আয়াত নিম্নে উদ্ধৃত হলো:

اِنَّ الْاِنْسٰنَ خُلِقَ هَلُوْعًا۝ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوْعًا۝ وَاِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوْعًا۝

“মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা–হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।” (৭০:১৯ – ২১)।

خُلِقَ الْاِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَاُوْرِيْكُمْ اٰيٰتِىْ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْنِ۝

“সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরাপ্রবণ, আমি সত্তরই তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব। অতএব আমাকে শীঘ্র করতে বলো না।” (২১:৩৭)

وَيَدْعُ الْاِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَآءَه بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْاِنْسَانُ عَجُوْلًا۝

“মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়।” (১৭:১১)

اَوَلَمْ يَرَ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ نُّطْفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِيْمٌ مُّبِيْنٌ۝

“মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী।” (৩৬:৭৭)

قُلْ لَّوْ اَنْتُمْ تَمْلِکُوْنَ خَزَآئِنَ رَحْمَۃِ رَبِّیْۤ اِذًا لَّاَمْسَکْتُمْ خَشْیَۃَ الْاِنْفَاقِ ؕ وَ كَانَ الْاِنْسَانُ قَتُوْرًا

“বলুন : যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভান্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে ব্যয়িত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশ্যই তা ধরে রাখতে। মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।” (১৭:১০০)

لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ فِیْ كَبَدٍؕ

“আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রমনির্ভর ও সংগ্রামশীলরূপে।” (৯০:৪)

 قُلْ هَلْ عِنْدَكُمْ مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوْهُ لَنَا اِنْ تَتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَخْرُصُوْنَ۝

“…….আপনি বলুন: তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।” (৬:১৪৮)

وَالسَّمَآءِ ذَاتِ الْحُبُكِ۝ اِنَّكُمْ لَفِىْ قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ۝ يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ اُفِكَ۝ قُتِلَ الْخَرّٰصُوْنَ۝ الَّذِيْنَ هُمْ فِىْ غَمْرَةٍ سَاهُوْنَ۝

“পথবিশিষ্ট আকাশের কসম, তোমরা তো বিরোধপূর্ণ কথা বলছ। যে ভ্রষ্ট, সেই এ থেকে মুখ ফিরায়, অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক, যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।” (৫১: ৭ – ১১)

وَ مَا یَتَّبِعُ اَکْثَرُهُمْ اِلَّا ظَنًّا ؕ اِنَّ الظَّنَّ لَا یُغْنِیْ مِنَ الْحَقِّ شَیْئًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا یَفْعَلُوْنَ۝

“বস্তুত তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ–অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।” (১০:৩৬)

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِى هٰذَا الْقُرْاٰنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَّكَانَ الْاِنسٰنُ اَكْثَرَ شَىْءٍ جَدَلًا ۝

“নিশ্চয় আমি এ কুরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। কিন্তু মানুষ সব কিছু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।” (১৮:৫৪)

اَمْ خُلِقُوْا مِنْ غَیْرِ شَیْءٍ اَمْ هُمُ الْخٰلِقُوْنَ ۝ اَمْ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ بَلْ لَّا یُوْقِنُوْنَ ۝ اَمْ عِنْدَهُمْ خَزَآئِنُ رَبِّكَ اَمْ هُمُ الْمُصَۜیْطِرُوْنَ ۝ اَمْ لَهُمْ سُلَّمٌ یَّسْتَمِعُوْنَ فِیْهِ ۚ فَلْیَاْتِ مُسْتَمِعُهُمْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ۝

“তারা কি আপনা–আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে কি আপনার পালনকর্তার ভান্ডার রয়েছে, না তারাই সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক? না তাদের কোন সিঁড়ি আছে, যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? থাকলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক।” (৫২:৩৫ – ৩৮)

كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَ

“বস্তুত, মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে।” (৯৬:৬)

 

মানুষের অকৃতজ্ঞতা

وَلَقَدْ مَكَّنّٰكُمْ فِى الْاَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيْهَا مَعٰيِشَ ۗ قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাঁই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” (৭:১০)

মানুষ এ দুনিয়ায় আল্লাহর খলীফা (প্রতিনিধি) হিসেবে সমগ্র সৃষ্টির সেরা জীব ও অফুরন্ত নিয়ামতের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে রয়েছে অকৃতজ্ঞতাসুলভ স্বভাব। সে আল্লাহর অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে এবং তাঁকে অস্বীকার করে। এর কারণ হলো তার অজ্ঞানতা ও সীমালঙ্ঘন। আল্লাহ্ মানব সত্তার মধ্যে যে কিঞ্চিৎ স্বাধীনতা দান করেছেন তারই অপব্যবহার করে মানুষ এধরনের অবান্তর ধারণা পোষণ করে। মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু ইবলিস এ ক্ষেত্রে মানুষকে প্ররোচনা দেয় কারণ সে নিজেও অহংকারবশত আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে অকৃতজ্ঞ ও অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়েছে। সে চায় মানুষেরও একই পরিণতি হোক।

নিম্নের আয়াতগুলোতে আল্লাহ্ মানুষের অকৃতজ্ঞতাসুলভ আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন:

وَ لَئِنْ اَذَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَۃً ثُمَّ نَزَعْنٰهَا مِنْهُ ۚ اِنَّہٗ لَیَـُٔوْسٌ كَفُوْرٌ ۝ وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ نَعْمَآءَ بَعْدَ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ ذَهَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیْ ؕ اِنَّہٗ لَفَرِحٌ فَخُوْرٌ ۝

“আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়। আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্মহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্ধত হয়ে পড়ে।” (১১:৯ – ১০)

وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ رَحْمَۃً مِّنَّا مِنْۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ هٰذَا لِیْ ۙ وَ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنْ رُّجِعْتُ اِلٰی رَبِّیْۤ اِنَّ لِیْ عِنْدَہٗ لَلْحُسْنٰی ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِمَا عَمِلُوْا ۫ وَ لَنُذِیْقَنَّهُمْ مِّنْ عَذَابٍ غَلِیْظٍ ۝ وَ اِذَاۤ اَنْعَمْنَا عَلَی الْاِنْسَانِ اَعْرَضَ وَ نَاٰ بِجَانِبِہٖ ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُوْ دُعَآءٍ عَرِیْضٍ ۝ قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ كَانَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ثُمَّ كَفَرْتُمْ بِہٖ مَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِیْ شِقَاقٍۭ بَعِیْدٍ ۝

“বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি। আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।” (৪১:৫০ – ৫১)

وَ اِذَا مَسَّ الْاِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْۢبِہٖۤ اَوْ قَاعِدًا اَوْ قَآئِمًا ۚ فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّہٗ مَرَّ كَاَنْ لَّمْ یَدْعُنَاۤ اِلٰی ضُرٍّ مَّسَّہٗ ؕ كَذٰلِكَ زُیِّنَ لِلْمُسْرِفِیْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۝

“আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে ।” (১০:১২)

اَللهُ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ لِتَسْكُنُوْا فِيْهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا اِنَّ اللهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তিনিই আল্লাহ যিনি রাত্র সৃষ্টি করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না ।” (৪০:৬১)

وَ اِذَاۤ اَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَۃً مِّنْۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُمْ اِذَا لَهُمْ مَّکْرٌ فِیْۤ اٰیَاتِنَا ؕ قُلِ اللّٰهُ اَسْرَعُ مَکْرًا ؕ اِنَّ رُسُلَنَا یَکْتُبُوْنَ مَا تَمْکُرُوْنَ ۝ هُوَ الَّذِیْ یُسَیِّرُکُمْ فِی الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا کُنْتُمْ فِی الْفُلْكِ ۚ وَ جَرَیْنَ بِهِمْ بِرِیْحٍ طَیِّبَۃٍ وَّ فَرِحُوْا بِهَا جَآءَتْهَا رِیْحٌ عَاصِفٌ وَّ جَآءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ کُلِّ مَكَانٍ وَّ ظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ اُحِیْطَ بِهِمْ ۙ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۬ۚ لَئِنْ اَنْجَیْتَنَا مِنْ هٰذِہٖ لَنَکُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ ۝ فَلَمَّاۤ اَنْجٰهُمْ اِذَا هُمْ یَبْغُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ ط

“আর যখন আমি মানুষকে আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী। তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায়ভাবে….” (১০:২১ – ২৩)

يَعْرِفُوْنَ نِعْمَتَ اللهِ ثُمَّ يُنْكِرُوْنَهَا وَاَكْثَرُهُمُ الْكٰفِرُوْنَ۝

“তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ ।” (১৬:৮৩)

وَمَا ظَنُّ الَّذِيْنَ يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ ط اِنَّ اللهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُوْنَ۝

“আর আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপকারীদের কি ধারণা ক্বিয়ামত সম্পর্কে? আল্লাহ তো মানুষের প্রতি অনুগ্রহই করেন, কিন্তু অনেকেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।” (১০:৬০)

اَلَمْ تَرَ اَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِنِعْمَتِ اللّٰهِ لِیُرِیَکُمْ مِّنْ اٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوْرٍ ۝ وَ اِذَا غَشِیَهُمْ مَّوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۬ۚ فَلَمَّا نَجّٰهُمْ اِلَی الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُّقْتَصِدٌ ؕ وَ مَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا کُلُّ خَتَّارٍ كَفُوْرٍ ۝

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নিদর্শন রয়েছে। যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।” (৩১:৩১ – ৩২)

وَجَعَلُوْا لَه مِنْ عِبَادِه جُزْءًا اِنَّ الْاِنْسٰنَ لَكَفُوْرٌ مُّبِيْنٌ۝

“তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে। বাস্তবিক মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।” (৪৩:১৫)

وَاِذَا مَسَّ الْاِنْسٰنَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّه مُنِيْبًا اِلَيْهِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَه نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِىَ مَا كَانَ يَدْعُوْۤا اِلَيْهِ مِنْ قَبْلُ وَجَعَلَ لِلّٰهِ اَنْدَادًا لِّيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِه ط قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيْلًا ط اِنَّكَ مِنْ اَصْحٰبِ النَّارِ۝

“যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্র্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর –সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার অকৃতজ্ঞতা সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।” (৩৯:৮)

وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَاَزِيْدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ اِنَّ عَذَابِىْ لَشَدِيْدٌ۝

“যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।” (১৪:৭)

ذٰلِكَ جَزَيْنٰهُمْ بِمَا كَفَرُوْا وَهَلْ نُجٰزِىۤ اِلَّا الْكَفُوْرَ۝

“এটা ছিল কুফরের কারণে তাদের প্রতি আমার শাস্তি। আমি অকৃতজ্ঞ ব্যতীত কাউকে শাস্তি দেই না।” (৩৪:১৭)

وَاٰتٰكُمْ مِّنْ كُلِّ مَا سَاَلْتُمُوْهُ وَاِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَتَ اللهِ لَا تُحْصُوْهَاۤ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَظَلُوْمٌ كَفَّارٌ۝

“যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।” (১৪:৩৪)

وَهُوَ الَّذِىۤ اَنْشَاَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصٰرَ وَالْاَفْـِٔدَةَ قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“তিনি তোমাদের কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক ।” (২৩:৭৮)

قُلْ هُوَ الَّذِىۤ اَنْشَاَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصٰرَ وَالْاَفْـِٔدَةَ قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (৬৭:২৩)

فَاِذَا رَكِبُوْا فِى الْفُلْكِ دَعَوُا اللهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ فَلَمَّا نَجّٰىهُمْ اِلَى الْبَرِّ اِذَا هُمْ يُشْرِكُوْنَ۝ لِيَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَيْنٰهُمْ وَلِيَتَمَتَّعُوْا فَسَوْفَ يَعْلَمُوْنَ۝

“তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে। যাতে তারা তাদের প্রতি আমার দান অস্বীকার করে এবং ভোগ–বিলাসে ডুবে থাকে। সত্বরই তারা জানতে পারবে।” (২৯:৬৫ – ৬৬)

اَلَمْ تَرَ اِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِيٰرِهِمْ وَهُمْ اُلُوْفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللهُ مُوْتُوْا ثُمَّ اَحْيٰهُمْ اِنَّ اللهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল? অথচ তারা ছিল হাজার হাজার। তারপর আল্লাহ তাদেরকে বললেন মরে যাও। তারপর তাদেরকে জীবিত করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের উপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া প্রকাশ করে না।” (২:২৪৩)

اِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّاِمَّا كَفُوْرًا۝ اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِيْنَ سَلٰسِلَا وَاَغْلٰلًا وَسَعِيْرًا۝

“আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়। আমি অকৃতজ্ঞদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছি শিকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি।” (৭৬:৩ – ৪)

اِنَّ اللهَ يُدٰفِعُ عَنِ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ط اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُوْرٍ۝

“আল্লাহ মু’মিনদের থেকে শত্রুদেরকে  হটিয়ে দেবেন। আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।” (২২:৩৮)

وَهُوَ الَّذِىۤ اَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيْكُمْ ط اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ۝

“তিনিই তোমাদেরকে জীবিত করেছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে মৃত্যুদান করবেন ও পুনরায় জীবিত করবেন। নিশ্চয় মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ।” (২২:৬৬)

اِنَّ الْاِنْسٰنَ لِرَبِّه لَكَنُوْدٌ۝ وَاِنَّه عَلٰى ذٰلِكَ لَشَهِيْدٌ۝

“নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত।” (১০০:৬ – ৭)

قُتِلَ الْاِنْسَانُ مَاۤ اَكْفَرَه۝

“মানুষ ধ্বংস হোক, সে কত অকৃতজ্ঞ।” (৮০:১৭)!”

لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ اَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ۝

“মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না ।” (৪০:৫৭)

وَاِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِى الْبَحْرِ ضَلَّ مَنْ تَدْعُوْنَ اِلَّاۤاِيَّاهُ فَلَمَّا نَجّٰىكُمْ اِلَى الْبَرِّ اَعْرَضْتُمْ وَكَانَ الْاِنْسَانُ كَفُوْرًا۝

“যখন সমুদ্রে তোমাদের উপর বিপদ আসে, তখন শুধু আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা আহ্বান করে থাক তাদেরকে তোমরা বিস্মৃত হয়ে যাও। অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে স্থলে ভিড়িয়ে উদ্ধার করে নেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ।” (১৭:৬৭)

فَاذْكُرُوْنِىْ اَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوْا لِىْ وَلَا تَكْفُرُوْنِ۝

“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।” (২:১৫২)

وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَىٰ بِجَانِبِهِ ۖ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ يَئُوسًا۝
“আমি মানুষকে নেয়ামত দান করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দুরে সরে যায়; যখন তাকে কোন অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একেবারে হতাশ হয়ে পড়ে।” (১৭:৮৩)

 

আল্লাহ্ যাদের ভালবাসেন ও যাদের ভালবাসেননা

এ দুনিয়ায় দু’ধরনের মানুষ রয়েছে — ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে তারা দু’ শ্রেণীতে বিভক্ত। যারা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং নেক আমল করে তারা নেককার বান্দা হিসেবে আল্লাহর প্রিয়পাত্র বিবেচিত হয় আর যারা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে না এবং তাঁর নির্দেশ মোতাবেক নেক আমল করে না তারা তাঁর অপ্রিয় ও বিরাগভাজন হিসেবে পরিগণিত হয়। মানুষ  কিভাবে তার বিশ্বাস ও কর্মের দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালবাসা লাভ করে এবং কিসে তাঁর অপ্রিয় বান্দায় পরিণত হয় তার বর্ণনা নিম্নের আয়াতসমূহে পেশ করা হলো:

وَاَنْفِقُوْا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ وَلَا تُلْقُوْا بِاَيْدِيْكُمْ اِلَى التَّهْلُكَةِۛ ج وَاَحْسِنُوْٓا ۛ ج اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ۝

“আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।” (২:১৯৫)

فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ۝

“……অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।” (৫:১৩)

اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ۝

“…….নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” (৫:৪২)

اِلَّا الَّذِيْنَ عٰهَدْتُّمْ مِّنَ الْمُشْرِكِيْنَ ثُمَّ لَمْ يَنْقُصُوْكُمْ شَيْـًٔا وَّلَمْ يُظٰهِرُوْا عَلَيْكُمْ اَحَدًا فَاَتِمُّوْۤا اِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ اِلٰى مُدَّتِهِمْ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِيْنَ۝

“তবে যে মুশরেকদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অতঃপর যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের ভালবাসেন।” (৯:৪)

اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِيْنَ يُقٰتِلُوْنَ فِىْ سَبِيْلِه صَفًّا كَاَنَّهُمْ بُنْيٰنٌ مَّرْصُوْصٌ۝

“আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগলানো প্রাচীর ।” (৬১:৪)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَنْ يَّرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِيْنِه فَسَوْفَ يَاْتِىَ اللهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّوْنَه اَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اَعِزَّةٍ عَلَى الْكٰفِرِيْنَ يُجٰهِدُوْنَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ وَلَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لَاۤئِمٍ ذٰلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِيْهِ مَنْ يَّشَآءُ وَاللهُ وٰسِعٌ عَلِيْمٌ۝

“হে মু’মিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।” (৫:৫৪)

وَاللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ۝

“……আর যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।” (৩:১৪৮)

اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرًا۝ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ وَيَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُوْنَ مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهط وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِيْنَ عَذَابًا مُّهِيْنًا۝ وَالَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ اَمْوٰلَهُمْ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْاٰخِرِ ط وَمَنْ يَّكُنِ الشَّيْطٰنُ لَه قَرِيْنًا فَسَآءَ قَرِيْنًا۝

“…….নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন না দাম্ভিক–গর্বিতজনকে – যারা নিজেরাও কার্পণ্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে, বস্তুত কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব। আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন–সম্পদ লোক – দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী (৪:৩৬ – ৩৮)।”

وَلَا تُجٰدِلْ عَنِ الَّذِيْنَ يَخْتَانُوْنَ اَنْفُسَهُمْ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا اَثِيْمًا۝

“যারা মনে বিশ্বাসঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ ভালবাসেন না তাকে, যে বিশ্বাসঘাতক পাপী হয়।” (৪:১০৭)

اَللهُ وَيَسْعَوْنَ فِى الْاَرْضِ فَسَادًا وَّاللهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِيْنَ۝

“…….আল্লাহ অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (৫:৬৪)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحَرِّمُوْا طَيِّبٰتِ مَا اَحَلَّ اللهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوْا اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ۝

“হে মু’মিনগণ, তোমরা ঐসব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (৫:৮৭)

ادْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَّخُفْيَةً اِنَّه لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ۝

“তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি–মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে ভালবাসেন না।” (৭:৫৫)

كُلُوْا مِنْ ثَمَرِه اِذَاۤ اَثْمَرَوَاٰتُوْا حَقَّه يَوْمَ حَصَادِه ز وَلَاتُسْرِفُوْا ط اِنَّه لَايُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ۝

“……এসব (ফলের বৃক্ষসমূহ) যখন ফলবান হয় তখন এগুলোর ফল–ফসল খাও ও প্রাপ্য হক দান করো ফসল তোলার সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (৬:১৪১)

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِیْنَتَکُمْ عِنْدَ کُلِّ مَسْجِدٍ وَّ کُلُوْا وَ اشْرَبُوْا وَ لَا تُسْرِفُوْا ۚ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْرِفِیْنَ۝

“হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা (সুন্দর, শালীন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক) পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (৭:৩১)

 

মানুষের পরীক্ষা, হিসাবনিকাশ ও জবাবদিহিতা

সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে আল্লাহ পৃথিবীর বুকে তাঁর প্রতিনিধি মনোনীত করেছেন। এ দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে মানুষকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর নিকট। এ জবাবদিহির ব্যাপারটি ঘটবে ক্বিয়ামতের দিবসে বিচারের কাঠগড়ায়। সে দিন সবাই পরিপূর্ণ ন্যায় বিচার পাবে। যারা পার্থিব জীবনে সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিল সেদিন তারা অনন্ত শান্তির অধিকারী হবে। আর যারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়ম করেছে এবং বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে তাদের শাস্তি হবে কঠিন ও কঠোর। আল্লাহর বিচার অতি সূক্ষ্ম ও ন্যায্য – একমাত্র তাঁর দয়া ও ক্ষমা ছাড়া পরকালের বিচার থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। বিচার দিবসে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকারের ক্ষণটি সম্পর্কে তিনি পবিত্র কুরআনে বারবার সতর্ক করেছেন। এ জবাবদিহির কঠিন দিনটিতে মানুষের ঈমান ও নেক আমলই তাদের কে সাহয্য করতে পারবে – অন্য কিছু নয়।

এ দুনিয়ায় অফুরন্ত নিয়ামত ভোগের অধিকার দিয়েছেন মানুষকে। জ্ঞান–বিবেক ও বুদ্ধিতে তাকে দিয়েছেন সবার ওপরে প্রাধান্য। যেহেতু আল্লাহ্ প্রদত্ত যাবতীয় নিয়ামতরাশি সম্পর্কে মানুষ পরকালে জিজ্ঞাসিত হবে, তাই এ পার্থিব জগত হচ্ছে তাদের জন্য এক পরীক্ষাগার। আর আখিরাত হলো তার ফল ভোগ করার ক্ষেত্র। দুনিয়ার এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তিনি মানুষকে দিয়েছেন বিবেকবোধ অর্থাৎ ভালো–মন্দ বোঝার স্বাভাবিক জ্ঞান। এ দুনিয়ায় মানুষের প্রতিটি কর্মই তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে এবং আখিরাতে বিচার দিবসে ঈমান, নিয়ত ও সততার কষ্টিপাথরে তা পরীক্ষিত হবে। রোগ–শোক, দুঃখ–কষ্ট, অভাব–অনটন, দারিদ্র–দুর্দশা পতন ও ব্যর্থতা এসব বিরূপ পরিস্থিতিতে ফেলে আল্লাহ্ মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতা, এবং তাঁর ওপর ঈমান ও তাওয়াক্কুলের বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেন। এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই তাদের পরকালীন জীবনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আবার প্রাচুর্য, সুখ, সাফল্য ও উত্থান কালে অর্থাৎ মানব জীবনের অনুকুল পরিস্থিতিতে আল্লাহ্ মানুষের সংযম, দানশীলতা ও আল্লাহর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো যাচাই করে নেন। প্রতিটি কাজের পিছনে নিয়ত বা উদ্দেশ্য কি ছিল, কতটুকু নিষ্ঠা, সততা, সংযম ও ধৈর্যশীলতার সাথে তারা এসব অবস্থার মোকাবিলা করছে সেটাই আল্লাহ্ পরখ করেন।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের ভাল–মন্দ কাজের অণু পরিমাণও হিসাবের বাইরে রাখবেন না। মানুষের মনের গভীরে যে চিন্তা–ভাবনার উদয় হয় তাও তিনি এ হিসাবের আওতায় আনবেন। মানুষের আমলনামার তৈরী এ হিসাব হবে অতি সূক্ষ্মতিসূক্ষ্ম। আমলনামার এ হিসাবের উপর ভিত্তি করেই বিচার দিবসে প্রতিটি মানুষের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। কিছু মানুষ আছে পরকালের প্রতি তাদের কোন বিশ্বাস নেই। তারা মনে করে মৃত্যুই সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দেবে, মরে গেলে এ জীবনের কাজকর্মের কোন হিসাব দিতে হবে না। এটা কোন যৌক্তিক কথা নয়, কারণ অনেকেই অন্যায় কর্ম ঘটিয়ে এ দুনিয়ার বিচারকে ফাঁকি দিতে পারে, কিন্তু সর্বদ্রষ্টা আল্লাহর দৃষ্টিকে ফাঁকি দেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক হিসেবে নিশ্চিতভাবেই সব মানুষকে ক্বিয়ামত দিবসে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন যাতে সবাই তাদের কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে।

এতদসংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো:

اَحَسِبَ النَّاسُ اَنْ یُّتْرَکُوْۤا اَنْ یَّقُوْلُوْۤا اٰمَنَّا وَ هُمْ لَا یُفْتَنُوْنَ ۝ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ الَّذِيْنَ صَدَقُوْا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكٰذِبِيْنَ۝ اَمْ حَسِبَ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّـَٔاتِ اَنْ يَّسْبِقُوْنَا سَآءَ مَا يَحْكُمُوْنَ۝ مَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَآءَ اللهِ فَاِنَّ اَجَلَ اللهِ لَاٰتٍ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ۝

“মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে। যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ। যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।” (২৯:২ – ৫)

اَتُتْرَكُوْنَ فِىْ مَا هٰهُنَاۤ اٰمِنِيْنَ ۝ فِىْ جَنّٰتٍ وَّعُيُوْنٍ ۝ وَّزُرُوْعٍ وَّنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيْمٌ۝ وَتَنْحِتُوْنَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوْتًا فٰرِهِيْنَ۝ فَاتَّقُوْا اللهَ وَاَطِيْعُوْنِ ۝ وَلَا تُطِيْعُوْۤا اَمْرَ الْمُسْرِفِيْنَ۝ الَّذِيْنَ يُفْسِدُوْنَ فِى الْاَرْضِ وَلَا يُصْلِحُوْنَ۝

“তোমাদেরকে কি এ পার্থিব ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে? উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে? শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জরিত খেজুর বাগানের মধ্যে? তোমরা পাহাড় কেটে জাঁকজমকের গৃহ নির্মাণ করছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর। এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না – যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না।” (২৬:১৪৬ – ১৫২)

اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّۃَ وَ لَمَّا یَاْتِکُمْ مَّثَلُ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِکُمْ ؕ مَسَّتْهُمُ الْبَاْسَآءُ وَ الضَّرَّآءُ وَ زُلْزِلُوْا حَتّٰی یَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَہٗ مَتٰی نَصْرُ اللّٰهِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ نَصْرَ اللّٰهِ قَرِیْبٌ ۝

“তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।” (২:২১৪)

اَمْ حَسِبَ الَّذِیْنَ اجْتَرَحُوا السَّیِّاٰتِ اَنْ نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ سَوَآءً مَّحْیَاهُمْ وَ مَمَاتُهُمْ ؕ سَآءَ مَا یَحْکُمُوْنَ ۝ وَ خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ وَ لِتُجْزٰی کُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۝ اَفَرَءَیْتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهَہٗ هَوٰىهُ وَ اَضَلَّهُ اللّٰهُ عَلٰی عِلْمٍ وَّ خَتَمَ عَلٰی سَمْعِہٖ وَ قَلْبِہٖ وَ جَعَلَ عَلٰی بَصَرِہٖ غِشٰوَۃً ؕ فَمَنْ یَّہْدِیْهِ مِنْۢ بَعْدِ اللّٰهِ ؕ اَفَلَا تَذَكَرُوْنَ ۝ وَ قَالُوْا مَا هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا نَمُوْتُ وَ نَحْیَا وَ مَا یُہْلِکُنَاۤ اِلَّا الدَّهْرُ ۚ وَ مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۚ اِنْ هُمْ اِلَّا یَظُنُّوْنَ ۝

“যারা দুষ্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মৃত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্ম অনুযায়ী ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল–খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।” (৪৫:২১ – ২৪)

وَقَطَّعْنٰهُمْ فِى الْاَرْضِ اُمَمًا مِّنْهُمُ الصّٰلِحُوْنَ وَمِنْهُمْ دُوْنَ ذٰلِكَ وَبَلَوْنٰهُمْ بِالْحَسَنٰتِ وَالسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ۝

“আর পৃথিবীতে আমি তাদেরকে বিভিন্ন শ্রেনীতে বিভক্ত করে দিয়েছি, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।” (৭:১৬৮)

اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنٰهُ سَمِيْعًۢا بَصِيْرًا۝ اِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّاِمَّا كَفُوْرًا۝

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হবে, না হয় অকৃতজ্ঞ হবে।” (৭৬:২-৩)

جَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً اَتَصْبِرُوْنَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيْرًا

“… আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।” (২৫:২০)

وَ كَذٰلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِّیَقُوْلُوْۤا اَهٰۤؤُلَآءِ مَنَّ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنْۢ بَیْنِنَا ؕ اَلَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِالشّٰكِرِیْنَ۝

“আর এভাবেই আমি কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি আমাদের সবার মধ্য থেকে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন।” (৬:৫৩)?

وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَکُمْ خَلٰٓئِفَ الْاَرْضِ وَ رَفَعَ بَعْضَکُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَبْلُوَکُمْ فِیْ مَاۤ اٰتٰکُمْ ؕ اِنَّ رَبَّكَ سَرِیْعُ الْعِقَابِ ۫ۖ وَ اِنَّہٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۝

“তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৬:১৬৫)

لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِکُمْ وَ اَنْفُسِکُمْ وَ لَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِکُمْ وَ مِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَکُوْۤا اَذًی كَثِیْرًا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَ تَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ۝

“অবশ্য ধন–সম্পদে এবং জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্য তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং মুশরেকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং পরহেযগারী অবলম্বন কর, তবে তা হবে একান্ত সৎসাহসের ব্যাপার।” (৩:১৮৬)

اِنَّا بَلَوْنٰهُمْ كَمَا بَلَوْنَاۤ اَصْحٰبَ الْجَنَّۃِ ۚ اِذْ اَقْسَمُوْا لَیَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِیْنَ ۝ وَلَا یَسْتَثْنُوْنَ ۝ فَطَافَ عَلَیْهَا طَآئِفٌ مِّنْ رَّبِّكَ وَ هُمْ نَآئِمُوْنَ ۝ فَاَصْبَحَتْ كَالصَّرِیْمِ ۝ فَتَنَادَوْا مُصْبِحِیْنَ ۝ اَنِ اغْدُوْا عَلٰی حَرْثِکُمْ اِنْ کُنْتُمْ صٰرِمِیْنَ ۝ فَانْطَلَقُوْا وَ هُمْ یَتَخَافَتُوْنَ ۝ اَنْ لَّا یَدْخُلَنَّهَا الْیَوْمَ عَلَیْکُمْ مِّسْكِیْنٌ۝

“আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে – ইনশাআল্লাহ না বলে। অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল। ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম। সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল। অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে, অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে।” (৬৮:১৭ – ২৪)

 وَلَتُسْـلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ

“…….. তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।” (১৬:৯৩)

اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَاَنَّكُمْ اِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ۝

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? (২৩:১১৫)

کُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَۃُ الْمَوْتِ ؕ وَ نَبْلُوْکُمْ بِالشَّرِّ وَ الْخَیْرِ فِتْنَۃً ؕ وَ اِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ۝

“প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (২১:৩৫)

اِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْاَرْضِ زِيْنَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ اَيُّهُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا۝

“আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।” (১৮:৭)

وَلَنَبْلُوْنَّكُمْ بِشَىْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوْعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْاَمْوٰلِ وَالْاَنْفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ط وَبَشِّرِ الصّٰبِرِيْنَ۝ الَّذِيْنَ اِذَاۤ اَصٰبَتْهُمْ مُّصِيْبَةٌ قَالُوْۤا اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّاۤ اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ۝

“এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল–ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।” (২:১৫৫ – ১৫৬)

وَاَنْ لَّيْسَ لِلْاِنْسٰنِ اِلَّا مَا سَعٰى۝ وَاَنَّ سَعْيَه سَوْفَ يُرٰى۝ ثُمَّ يُجْزٰىهُ الْجَزَآءَ الْاَوْفٰى۝

“এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে, তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে। অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।” (৫৩:৩৯ – ৪১)

اَلَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَوٰةَ لِيَبْلُوْكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا وَّهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ۝

“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন – কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” (৬৭:২)

ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ۝
“এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (১০২:৮)

 

 

মানুষের শাস্তি-পূর্ব অবকাশ

وَ لَوْ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوْا مَا تَرَكَ عَلٰی ظَہْرِهَا مِنْ دَآبَّۃٍ وَلٰكِنْ یُّؤَخِّرُهُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِعِبَادِہٖ بَصِیْرًا۝

“যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমানকাউকে ছেড়ে দিতেন না। কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন সে নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহর সব বান্দা তাঁর দৃষ্টিতে থাকবে।” (৩৫:৪৫)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অতীব দয়ালু ও ন্যায় বিচারক। তাঁর মহানুভবতা এই যে, তিনি তাঁর পাপী বান্দাদেরকে তাদের পাপ কর্মের শাস্তি দানের পূর্বে যথেষ্ট অবকাশ দিয়ে থাকেন যাতে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করতে পারে। এ ছাড়া সতর্ককারী হিসেবে নবী–রসূল এবং হেদায়েতের কিতাবসমূহ না পাঠিয়ে শাস্তি প্রদান আল্লাহর রীতি নয়।

এ সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

وَ رَبُّكَ الْغَفُوْرُ ذُو الرَّحْمَۃِ ط لَوْ یُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوْا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ط بَلْ لَّهُمْ مَّوْعِدٌ لَّنْ یَّجِدُوْا مِنْ دُوْنِہٖ مَوْئِلًا۝

“আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।” (১৮:৫৮)

وَلَوْ یُعَجِّلُ اللّٰهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَیْرِ لَقُضِیَ اِلَیْهِمْ اَجَلُهُمْ ؕ فَنَذَرُ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ۝

“আর যদি আল্লাহ তা’আলা মানুষকে যথাশীঘ্র অকল্যাণ পৌঁছে দেন যতশীঘ্র তার কামনা করে, তাহলে তাদের আশাই শেষ করে দিতে হত। সুতরাং যাদের মনে আমার সাক্ষাতের আশা নেই, আমি তাদেরকে তাদের দুষ্টুমিতে ব্যতিব্যস্ত ছেড়ে দিয়ে রাখি।” (১০:১১)

وَلَا تَحْسَبَنَّ اللّٰهَ غَافِلًا عَمَّا یَعْمَلُ الظّٰلِمُوْنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمْ لِیَوْمٍ تَشْخَصُ فِیْهِ الْاَبْصَارُ۝

“জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে।” (১৪:৪২)

وَلَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ خَیْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْ ؕ اِنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ لِیَزْدَادُوْۤا اِثْمًا ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ۝

“কাফেররা যেন মনে না করে যে আমি যে, অবকাশ দান করি, তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। আমি তো তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে করে তারা পাপে উন্নতি লাভ করতে পারে। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাজনক শাস্তি।” (৩:১৭৮)

وَ لَقَدِ اسْتُہْزِیَٔ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَاَمْلَیْتُ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا ثُمَّ  اَخَذْتُهُمْ فَكَیْفَ كَانَ عِقَابِ۝

“আপনার পূর্বে কত রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছে। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে কিছু অবকাশ দিয়েছি , এর পর তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি।” (১৩:৩২)

قُلْ مَنْ كَانَ فِى الضَّلٰلَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمٰنُ مَدًّا ج حَتّٰىۤ اِذَا رَاَوْا مَا يُوْعَدُوْنَ اِمَّا الْعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَ اَضْعَفُ جُنْدًا ۝

“বলুন, যারা পথভ্রষ্টতায় আছে, দয়াময় আল্লাহ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দেবেন; এমনকি অবশেষে তারা প্রত্যক্ষ করবে যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা আযাব হোক অথবা কেয়ামতই হোক। সুতরাং তখন তারা জানতে পারবে কে মর্তবায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দূর্বল।” (১৯:৭৫)

وَ لَوْ لَا كَلِمَۃٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَ اَجَلٌ مُّسَمًّی۝

“আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং একটি কাল নির্দিষ্ট না থাকলে শাস্তি (তাৎক্ষণিক) অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত।.” (২০:১২৯)

وَ كَاَیِّنْ مِّنْ قَرْیَۃٍ اَمْلَیْتُ لَهَا وَهِیَ ظَالِمَۃٌ ثُمَّ اَخَذْتُهَا ۚ وَاِلَیَّ الْمَصِیْرُ۝

“এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি এমতাবস্থায় যে, তারা গোনাহগার ছিল। এরপর তাদেরকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (২২:৪৮)

حَتّٰۤی اِذَا اسْتَیْـَٔسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ قَدْ کُذِبُوْا جَآءَهُمْ نَصْرُنَا ۙ فَنُجِّیَ مَنْ نَّشَآءُ ؕ وَلَا یُرَدُّ بَاْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِیْنَ۝

“এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।” (১২:১১০)

وَیَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ؕ وَلَوْ لَاۤ اَجَلٌ مُّسَمًّی لَّجَآءَهُمُ الْعَذَابُ ؕ وَلَیَاْتِیَنَّهُمْ بَغْتَۃً وَهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ۝

“তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। যদি আযাবের সময় নির্ধারিত না থাকত, তবে আযাব তাদের উপর এসে যেত। নিশ্চয়ই আকস্মিকভাবে তাদের কাছে আযাব এসে যাবে, তাদের খবরও থাকবে না।” (২৯:৫৩)

فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِرُوْا بِہٖ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ اَبْوَابَ کُلِّ شَیْءٍ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوْا بِمَاۤ اُوْتُوْۤا اَخَذْنٰهُمْ بَغْتَۃً فَاِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ۝

“অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।” (৬:৪৪)

وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَ۝ وَ اُمْلِیْ لَهُمْ ؕ  اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ۝

“বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না। বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ।” (৭:১৮২ – ১৮৩)

اِنَّهُمْ یَكِیْدُوْنَ كَیْدًا ۝ وَاَكِیْدُ كَیْدًا ۝ فَمَهِلِ الْکٰفِرِیْنَ اَمْهِلْهُمْ رُوَیْدًا۝

“তারা ভীষণ চক্রান্ত করে, আর আমিও কৌশল করি। অতএব, কাফেরদেরকে অবকাশ দিন, তাদেরকে অবকাশ দিন, কিছু দিনের জন্যে।” (৮৬:১৫ – ১৭)

وَاَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ۝ وَلَنْ یُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُهَا ؕ وَاللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ۝

“আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।” (৬৩:১০ – ১১)

 

মানুষের আমলনামা

وَكُلَّ اِنْسٰنٍ اَلْزَمْنٰهُ طٰٓئِرَه فِىْ عُنُقِه وَنُخْرِجُ لَه يَوْمَ الْقِيٰمَةِ كِتٰبًا يَّلْقٰىهُ مَنْ شُوْرًا۝ اقْرَأْ كَتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيْبًا۝

“আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। ক্বিয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব (আমলনামা), যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। (তাকে বলা হবে) পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট”।” (১৭:১৩ – ১৪)।

আমলনামা হলো প্রতিটি মানুষের সারা জীবনের যাবতীয় কর্মকান্ড, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনার এক রেকর্ড বা দলীল। প্রত্যেকের কর্মফল দ্বারা তার আমলনামা তৈরী হয়।  প্রতিটি মানুষের দুই কাঁধে অবস্থানরত ‘কেরামান কাতেবীন’ নামীয় দুইজন ফেরেশতা তার আমলনামা রেকর্ড করার দায়িত্বে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত আছেন। তাই মানুষের মনে করার কোন কারণ নেই যে, তার প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য ও গোপন কোন কাজের কোন দলীল প্রমাণ নেই। লোক চক্ষুর অন্তরালে যতই অজ্ঞাতসারে সে যা কিছু করুক না কেন তা লিপিবদ্ধ করার জন্য ফেরেশতাদ্বয় রয়েছেন। এছাড়া মানুষের অন্তরের সব খবরই আল্লাহর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে। সুতরাং বিচার দিবসে মানুষের আমলনামাই হবে তার যাবতীয় কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনার সাক্ষী। বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ্ হাকীমুল হাকীম – সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক। তিনি আমলনামায় লিখিত সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতেই সূক্ষ্ম ও ন্যায় বিচার কাজ সম্পন্ন করবেন।

আমলনামা সংক্রান্ত আয়াতগুলো নীচে বিবৃত হলো:

اِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْدٌ۝ مَّا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ۝ وَجَآءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ۝

“মনে রেখো, দুই ফেরেশতা (কেরামান-কাতেবীন) ডানে ও বামে বসে তার কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে।” (৫০:১৭- ১৯)

لَّقَدْ كُنْتَ فِى غَفْلَةٍ مِنْ هٰذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيْدٌ۝ وَقَالَ قَرِيْنُه هٰذَا مَا لَدَىَّ عَتِيْدٌ۝

“তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ। তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবে: আমার কাছে যে আমলনামা ছিল, তা এই।” (৫০:২২ – ২৩)

وَوُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَی الْمُجْرِمِیْنَ مُشْفِقِیْنَ مِمَّا فِیْهِ وَ یَقُوْلُوْنَ یٰوَیْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیْرَۃً وَّ لَا كَبِیْرَۃً اِلَّاۤ اَحْصٰهَا ج وَ وَجَدُوْا مَا عَمِلُوْا حَاضِرًا ط وَ لَا یَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَدًا۝

“আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবে: হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি- সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি যুলুম করবেন না।” (১৮:৪৯)

وَ نَضَعُ الْمَوَازِیْنَ الْقِسْطَ لِیَوْمِ الْقِیٰمَۃِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْئًا ؕ وَ اِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّۃٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَیْنَا بِهَا ؕ وَ كَفٰی بِنَا حٰسِبِیْنَ۝

“আমি ক্বিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি যুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট ।” (২১:৪৭)

وَلِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَّخْسَرُ الْمُبْطِلُوْنَ۝ وَتَرٰى كُلَّ اُمَّةٍ جَاثِيَةً كُلُّ اُمَّةٍ تُدْعٰۤى اِلٰى كِتٰبِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۝ هٰذَا كِتٰبُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ اِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۝

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায়। প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমারদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা তোমাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলবে। তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম।” (৪৫:২৭ – ২৯)

يَوْمَ نَدْعُوْا كُلَّ اُنَاسٍۭ بِاِمٰمِهِمْ فَمَنْ اُوْتِىَ كِتٰبَه بِيَمِيْنِه فَاُوْلٰٓئِكَ يَقْرَءُوْنَ كِتٰبَهُمْ وَلَا يُظْلَمُوْنَ فَتِيْلًا۝

“স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহ্বান করব, অতঃপর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও যুলুম হবে না।” (১৭:৭১)

يٰبُنَىَّ اِنَّهَآ اِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِىْ صَخْرَةٍ اَوْ فِى السَّمٰوٰتِ اَوْ فِى الْاَرْضِ يَاْتِ بِهَا اللهُ اِنَّ اللهَ لَطِيْفٌ خَبِيْرٌ۝

“হে বৎস, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।” (৩১:১৬)

اِنَّهُمْ كَانُوْا لَا یَرْجُوْنَ حِسَابًا ۝ وَّ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا كِذَّابًا ۝ وَکُلَّ شَیْءٍ اَحْصَیْنٰهُ كِتٰبًا ۝ فَذُوْقُوْا فَلَنْ نَّزِیْدَکُمْ اِلَّا عَذَابًا۝

“নিশ্চয় তারা হিসাব–নিকাশ আশা করত না। এবং আমার আয়াতসমূহে পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত। আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষিত করেছি। অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।” (৭৮:২৭ – ৩০)

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفٰى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ۝ فَاَمَّا مَنْ اُوْتِىَ كِتٰبَه بِيَمِيْنِه فَيَقُوْلُ هَآؤُمُ اقْرَءُوْا كِتٰبِيَهْ۝ اِنِّىْ ظَنَنْتُ اَنِّىْ مُلٰقٍ حِسَابِيَهْ۝ فَهُوَ فِىْ عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ۝ فِىْ جَنَّةٍ عَالِيَةٍ۝ قُطُوْفُهَا دَانِيَةٌ۝ كُلُوْا وَاشْرَبُوْا هَنِيْٓـًٔۢا بِمَاۤ اَسْلَفْتُمْ فِى الْاَيَّامِ الْخَالِيَةِ۝ وَاَمَّا مَنْ اُوْتِىَ كِتٰبَه بِشِمَالِه فَيَقُوْلُ يٰلَيْتَنِىْ لَمْ اُوْتَ كِتٰبِيَهْ۝ وَلَمْ اَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ۝ يٰلَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ۝ مَآ اَغْنٰى عَنِّىْ مَالِيَهْ ۜ۝ هَلَكَ عَنِّىْ سُلْطٰنِيَهْ۝

“সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না। অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে: নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ। আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে, সুউচ্চ জান্নাতে। তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে। বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে: হায় আমায় যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব! হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত। আমার ধন-সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না। আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।” (৬৯:১৮ – ২৯)

یَّوْمَ یَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الْفُجَّارِ لَفِیْ سِجِّیْنٍ ۝ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا سِجِّیْنٌ ۝كِتٰبٌ مَّرْقُوْمٌ ۝وَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ ۝الَّذِیْنَ یُكَذِّبُوْنَ بِیَوْمِ الدِّیْنِ۝

“যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে। নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা আছে সিজ্জীনে। আপনি জানেন, সিজ্জীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা। সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের, যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।” (৮৩:৬ – ১১)

كَلَّآ اِنَّ كِتٰبَ الْاَبْرَارِ لَفِىْ عِلِّيِّيْنَ۝ وَمَآ اَدْرٰىكَ مَا عِلِّيُّوْنَ۝ كِتٰبٌ مَّرْقُوْمٌ۝ يَّشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُوْنَ۝ اِنَّ الْاَبْرَارَ لَفِىْ نَعِيْمٍ۝ عَلَى الْاَرَآئِكِ يَنْظُرُوْنَ۝

“নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে। আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে। নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে, সিংহাসনে বসে (সবকিছু) অবলোকন করবে।” (৮৩:১৮ – ২৩)

وَكُلُّ شَىْءٍ فَعَلُوْهُ فِى الزُّبُرِ۝ وَكُلُّ صَغِيْرٍ وَّكَبِيْرٍ مُّسْتَطَرٌ۝

“তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ।।” (৫৪:৫২ – ৫৩)

وَ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ وَ نَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِہٖ نَفْسُہٗ ۚۖ وَ نَحْنُ اَقْرَبُ اِلَیْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِیْدِ ۝ اِذْ یَتَلَقَّی الْمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الْیَمِیْنِ وَ عَنِ الشِّمَالِ قَعِیْدٌ ۝ مَا یَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَیْهِ رَقِیْبٌ عَتِیْدٌ ۝

“আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।” (৫০:১৬ – ১৮)

فَاَمَّا مَنْ اُوْتِىَ كِتٰبَه بِيْمِيْنِه۝ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا۝ وَّيَنْقَلِبُ اِلٰىۤ اَهْلِه مَسْرُوْرًا۝ وَاَمَّا مَنْ اُوْتِىَ كِتٰبَه وَرَآءَ ظَهْرِه۝ فَسَوْفَ يَدْعُوْا ثُبُوْرًا۝ وَّيَصْلٰى سَعِيْرًا۝

“যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, সে মৃত্যুকে আহ্বান করবে, এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (৮৪:৭ – ১২)

اِنَّا نَحْنُ نُحْىِ الْمَوْتٰى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوْا وَاٰثٰرَهُمْ وَكُلَّ شَىْءٍ اَحْصَيْنٰهُ فِىۤ اِمَامٍ مُّبِيْنٍ۝

“আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।” (৩৬:১২)

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ۝فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ۝وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ۝
“সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (৯৯:৬–৮)

 

মানুষের কর্মফল

وَاِنَّ كُلًّا لَّمَّا لَيُوْفِّيَنَّهُمْ رَبُّكَ اَعْمٰلَهُمْ اِنَّه بِمَا يَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ۝

“আর যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।”

মানুষের প্রতিটি কর্মেরই একটি প্রতিফল রয়েছে। মানুষ যে ধরনের কাজ করে সে ধরনের ফলই পেয়ে থাকে। একজনের কর্মের দায়িত্ব অন্যজনের ওপর বর্তাবে না। দুনিয়া ও আখিরাতে উভয়কালেই মানুষ তার কর্মফল ভোগ করবে। ভালো কাজের প্রতিফল দয়াময় আল্লাহ্ বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। অন্যদিকে মন্দ কাজের প্রতিফল শুধু নির্ধারিত পরিমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে – কারণ আল্লাহ্ যুলুমকারী নন।

এতদসংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

وَلِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوْا وَمَا رَبُّكَ بِغٰفِلٍ عَمَّا يَعْمَلُوْنَ۝

“প্রত্যেকের জন্যে তাদের কর্মের আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং আপনার প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।” (৬:১৩২)

مَنْ جَآءَبِالْحَسَنَةِ فَلَهعَشْرُاَمْثَالِهَا وَمَنْ جَآءَبِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزٰىۤ اِلَّامِثْلَهَا وَهُمْ لَايُظْلَمُوْنَ۝

“যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুত তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৬:১৬০) (১১:১১১)

فَاَلْهَمَهَا فُجُوْرَهَا وَتَقْوٰىهَا۝ قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكّٰىهَا۝ وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰىهَا۝

“অতঃপর (আল্লাহ্) তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” (৯১:৮ – ১০)

مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُمْ مِّنْ فَزَعٍ يَّوْمَئِذٍ اٰمِنُوْنَ۝ وَمَنْ جَآءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوْهُهُمْ فِى النَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۝

“যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে। এবং যে মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অগ্নিতে অধঃমুখে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছিলে, তারই প্রতিফল তোমরা পাবে।” (২৭:৮৯ – ৯০)

مَنْ عَمِلَ صٰلِحًا فَلِنَفْسِه وَمَنْ اَسَآءَ فَعَلَيْهَا ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ۝

“যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৪৫:১৫)

لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوا الْحُسْنٰی وَ زِیَادَۃٌ ؕ وَ لَا یَرْهَقُ وُجُوْهَهُمْ قَتَرٌ وَّ لَا ذِلَّۃٌ ؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝ وَ الَّذِیْنَ كَسَبُوا السَّیِّاٰتِ جَزَآءُ سَیِّئَۃٍۭ بِمِثْلِهَا ۙ وَ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّۃٌ ؕ مَا لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ عَاصِمٍ ۚ كَاَنَّمَاۤ اُغْشِیَتْ وُجُوْهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ الَّیْلِ مُظْلِمًا ؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝

“যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল। আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ অসৎ কর্মের বদলায় সে পরিমাণ অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহর হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আধাঁর রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হল দোযখবাসী। এরা এতেই থাকবে অনন্তকাল।” (১০:২৬ – ২৭)

هَلْ جَزَآءُ الْاِحْسٰنِ اِلَّا الْاِحْسٰنُ۝

“সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে।” (৫৫:৬০)

لَهُمْ دَارُ السَّلٰمِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَهُوَ وَلِيُّهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ

“তাদের জন্যেই তাদের প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের সৎকর্মের কারণে।” (৬:১২৭)

اَرَءَيْتَ الَّذِىْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ۝ فَذٰلِكَ الَّذِىْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَ۝ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ۝

“আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে কর্মফলদিবসকে মিথ্যা বলে? সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয় এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।” (১০৭:১ – ৩)

اَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ اُخْرٰى۝ وَاَنْ لَّيْسَ لِلْاِنْسٰنِ اِلَّا مَا سَعٰى۝ وَاَنَّ سَعْيَه سَوْفَ يُرٰى۝ ثُمَّ يُجْزٰىهُ الْجَزَآءَ الْاَوْفٰى۝

“এটা এই যে, কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির গোনাহ বহন করবে না। এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে, তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে। অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।” (৫৩:৩৮ – ৪১)

مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه خَيْرٌ مِّنْهَا وَمَنْ جَآءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى الَّذِيْنَ عَمِلُوْا السَّيِّـَٔاتِ اِلَّا مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ۝

“যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে।” (২৮:৮৪)

وَوُفِّيْتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُوَ اَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُوْنَ۝

“প্রত্যেকে যা করেছে, তার পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। তারা যা কিছু করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।” (৩৯:৭০)

وَ یَوْمَ یَحْشُرُهُمْ جَمِیْعًا ج یٰمَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَکْثَرْتُمْ مِّنَ الْاِنْسِ ج وَ قَالَ اَوْلِیٰٓؤُهُمْ مِّنَ الْاِنْسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَّ بَلَغْنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیْۤ اَجَّلْتَ لَنَا ط قَالَ النَّارُ مَثْوٰىکُمْ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ط اِنَّ رَبَّكَ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ ۝ وَ كَذٰلِكَ نُوَلِّیْ بَعْضَ الظّٰلِمِیْنَ بَعْضًۢا بِمَا كَانُوْا یَکْسِبُوْنَ ۝

“যেদিন আল্লাহ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষদের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ। তাদের মানব বন্ধুরা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি। আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ বলবেন: আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; কিন্তু যখন চাইবেন আল্লাহ। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব তাদের কাজকর্মের কারণে।” (৬:১২৮ – ১২৯)

قُلْ یٰقَوْمِ اعْمَلُوْا عَلٰی مَكَانَتِکُمْ اِنِّیْ عَامِلٌ ج فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ لا مَنْ تَکُوْنُ لَہٗ عَاقِبَۃُ الدَّارِج اِنَّہٗ لَا یُفْلِحُ الظّٰلِمُوْنَ۝

“আপনি বলে দিন: হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না।” (৬:১৩৫)

لِیَجْزِیَهُمُ اللّٰهُ اَحْسَنَ مَا عَمِلُوْا وَ یَزِیْدَهُمْ مِّنْ فَضْلِہٖ ؕ وَ اللّٰهُ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ۝

“(তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে) যাতে আল্লাহ তাদের উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রুযী দান করেন।” (২৪:৩৮)

قُلْ یٰعِبَادِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوْا رَبَّکُمْ ؕ لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَ اَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَۃٌ ؕ اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوْنَ اَجْرَهُمْ بِغَیْرِ حِسَابٍ۝

“বলুন, হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত।  যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।” (৩৯:১০)

وَمَآ اَصٰبَكُمْ مِّنْ مُّصِيْبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَيْدِيْكُمْ وَيَعْفُوْا عَنْ كَثِيْرٍ۝

“তোমাদের উপর যেসব বিপদ–আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।” (৪২:৩০)

وَلِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوْا وَلِيُوَفِّيَهُمْ اَعْمٰلَهُمْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

“প্রত্যেকের জন্যে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেন। বস্তুত তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৪৬:১৯)

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ اتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّیَّتُهُمْ بِاِیْمَانٍ اَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَ مَاۤ اَلَتْنٰهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ کُلُّ امْرِیًٔۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیْنٌ۝

“যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।” (৫২:২১)

یَوْمَ تَاْتِیْ کُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَنْ نَّفْسِهَا وَ تُوَفّٰی کُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ۝

“যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মসমর্থনে সওয়াল জওয়াব করতে করতে আসবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের কৃতকর্মের পূর্ণ ফল পাবে এবং তাদের উপর যুলুম করা হবে না।” (১৬:১১১)

اِنْ اَحْسَنْتُمْ اَحْسَنْتُمْ لِاَنْفُسِكُمْ وَاِنْ اَسَاْتُمْ فَلَهَا۝

তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যেই।।” (১৭:৭)

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَنَجْزِیَنَّهُمْ اَحْسَنَ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ۝

“আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব।” (২৯:৭)

وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ۙ لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اَسَآءُوْا بِمَا عَمِلُوْا وَ یَجْزِیَ الَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا بِالْحُسْنٰی۝

“নভোমন্ডল ও ভূ মন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।” (৫৩:৩১)

وَ لَوْ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوْا مَا تَرَكَ عَلٰی ظَہْرِهَا مِنْ دَآبَّۃٍ وَّ لٰكِنْ یُّؤَخِّرُهُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِعِبَادِہٖ بَصِیْرًا۝

“যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমান কাউকে ছেড়ে দিতেন না। কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন সে নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহর সব বান্দা তাঁর দৃষ্টিতে থাকবে।” (৩৫:৪৫)

اِنَّ اللّٰهَ یُدْخِلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا یَتَمَتَّعُوْنَ وَ یَاْکُلُوْنَ كَمَا تَاْکُلُ الْاَنْعَامُ وَ النَّارُ مَثْوًی لَّهُمْ۝

“যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা কাফের, তারা ভোগ–বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।” (৪৭:১২)

وَاَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّه وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰى۝ فَاِنَّ الْجَنَّةَ هِىَ الْمَاْوٰى۝

“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল–খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” (৭৯:৪০ – ৪১)

فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّةُ الْكُبْرٰى۝ يَوْمَ يَتَذَكَّرُ الْاِنْسٰنُ مَا سَعٰى۝ وَبُرِّزَتِ الْجَحِيْمُ لِمَنْ يَّرٰى۝ فَاَمَّا مَنْ طَغٰى۝ وَاٰثَرَ الْحَيَوٰةَ الدُّنْيَا۝ فَاِنَّ الْجَحِيْمَ هِىَ الْمَاْوٰى۝

“অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে। অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে; এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।” (৭৯:৩৪ – ৩৯)

وَ لَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزْرَ اُخْرٰی ؕ وَ اِنْ تَدْعُ مُثْقَلَۃٌ اِلٰی حِمْلِهَا لَا یُحْمَلْ مِنْهُ شَیْءٌ وَّ لَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰی ؕ اِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَیْبِ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَ مَنْ تَزَکّٰی فَاِنَّمَا یَتَزَکّٰی لِنَفْسِہٖ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ۝

“কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহ্বান করে কেউ তা বহন করবে না – যদি সে নিকটবর্তী আত্মীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।” (৩৫:১৮)

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُکُمْ بِالْاَخْسَرِیْنَ اَعْمَالًا ۝ اَلَّذِیْنَ ضَلَّ سَعْیُهُمْ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ هُمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ یُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ۝ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ وَ لِقَآئِہٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِیْمُ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ وَزْنًا ۝

“বলুন! আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। তারাই সেসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না।” (১৮:১০৩ – ১০৫)

اَفَمَنْ كَانَ عَلٰى بَيِّنَةٍ مِّنْ رَّبِّه كَمَنْ زُيِّنَ لَه سُوْٓءُ عَمَلِه وَاتَّبَعُوْۤا اَهْوَاۤءَهُمْ۝

“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল–খুশীর অনুসরণ করে।” (৪৭:১৪)

 

 

অধ্যায়সমূহ