এ অধ্যায়ের বিষয়সমূহ
Toggleআল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্ট ফেরেশতাকুল
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ جَاعِلِ الْمَلٰٓئِكَۃِ رُسُلًا اُولِیْۤ اَجْنِحَۃٍ مَّثْنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ؕ یَزِیْدُ فِی الْخَلْقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক – তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম।” (৩৫:১)
আল্লাহ্ রাব্বুল অলামীনের এক বিশেষ ও অনন্য সৃষ্টি হলো তাঁর সম্পূর্ণ অনুগত সম্মানিত ফেরেশতাকুল। তাঁদের ওপর বিশ্বাস ঈমান–বিল–গায়বের এক অন্যতম অঙ্গ। তাঁরা সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহর আদেশ–নির্দেশ পালন ও ইবাদত–বন্দেগীতে নিয়োজিত রয়েছেন। ঊর্ধ্বাকাশের ‘বায়তুল মা’মুর ‘ হলো তাঁদের তাওয়াফের স্থান ও ইবাদতখানা। নূর বা আলো থেকে তাঁরা সৃজিত হয়েছেন। উম্মুল মু’মেনীন হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীসে আল্লাহর রসূল (সা) বলেন, “ফেরেশতাগণ আলো থেকে সৃষ্ট যেমন জ্বিন জাতি ধূম্রহীন আগুন থেকে সৃজিত এবং তোমাদেরকে যেভাবে বলা হয়েছে মানব জাতি তা থেকে সৃষ্ট (অর্থাৎ মাটি থেকে)। “(সহীহ মুসলিম)। ফেরেশতাগণ মানুষের দৃষ্টিতে অদৃশ্য, তবে আল্লাহর হুকুমে যেকোন রূপ ধারণ করে দৃশ্যমান হতে পারেন। তাঁদের সংখ্যা অগুনতি যা স্বয়ং আল্লাহ্ ছাড়া কেহ জানে না।” মি’রাজের ঘটনা বর্ণনাকালে তিনি বলেন, “তারপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো সপ্তম আকাশে অবস্থিত ‘বায়তুল মা’মুরে’ যা ফেরেশতাদের তাওয়াফের স্থান ও ইবাদতখানা – যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতার আগমন ও নির্গমন ঘটে- যারা দ্বিতীয়বার আর ফিরে আসেন না। সেখানে প্রতিবারেই নতুন ফেরেশতাদের আগমন ঘটে।” (সহীহ বুখারী ৩২০৭/সহীহ মুসলিম ১৬৪)
বিশিষ্ট ফেরেশতাগণের নাম ও তাঁদের কার্যাবলী
আল্লাহর বিশিষ্ট ফেরেশতাদের মধ্যে অতীব সম্মানিত চারজনের নাম হলো: হযরত জিব্রাইল (আ), হযরত মিকাইল (আ), হযরত ইস্রাফিল (আ) এবং মালাকুল মওত (মৃত্যুর ফেরেশতা) যিনি হযরত আজরাইল (আ) নামে পরিচিত। এছাড়া তাঁদের অনেককে আল্লাহ্ তা’য়ালা তাঁর সমগ্র সৃষ্টি জুড়ে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কর্মে নিযুক্ত রেখেছেন। তাঁদেরকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় তারা সেভাবেই তা পালন করেন। এতে ব্যত্যয় ঘটানোর কোন ইচ্ছা বা শক্তি তাদের নেই। তাঁদের বৃত্তান্ত নিম্নে পেশ করা হলো:
আল্লাহর বাণীবাহক ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ), যিনি রুহুল আমীন নামেও পরিচিত, তিনি ফেরেশতাগণের সর্দার। তিনি প্রচন্ড শক্তিশালী এবং তাঁর ছয়শত ডানা রয়েছে। তিনি মহান আল্লাহর বাণীবাহক – নবী ও রসূলগণের নিকট আল্লাহর নাযিলকৃত ওহী ও কিতাব পৌঁছে দেওয়া ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
হযরত ইস্রাফিল (আ) সদা প্রস্তুত রয়েছেন আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষায় – আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’য়ালা ক্বিয়ামতের হুকুম জারী করা মাত্রই তিনি শিঙ্গায় ফুৎকার দেবেন – আর তখনই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
হযরত মিকাইল (আ) সৃষ্ট জীবের রিযিকের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন। বৃষ্টিপাত ঘটানো, প্রাণী জগতের পানীয় ও খাদ্যসম্ভারের যোগান দান, ফল–ফসল ও উদ্ভিদের উৎপাদন, ইত্যাদি কাজ তাঁর দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
সৃষ্ট জীবের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন ফেরেশতা হযরত আজরাইল (আ) – তিনি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিটি জীবের মৃত্যু ঘটান।
এছাড়া রয়েছেন দুই সম্মানিত লেখক ফেরেশতা – তাঁরা ‘কেরামান কাতেবীন’ নামে পরিচিত। তাঁরা প্রতিটি মানুষের দু’ পাশে অবস্থান করেন এবং তার প্রতিটি কর্ম ও কথা আমলনামায় লিপিবদ্ধ করেন। তাঁরা বিচার দিবসে এ আ’মলনামা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সামনে পেশ করবেন। এ আ’মলনামার হিসেব–নিকেশের দ্বারা নির্ধারিত হবে মানুষ জান্নাতী হবে নাকি জাহান্নামী হবে।
জান্নাতের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন ফেরেশতা রিদওয়ান যিনি সেখানকার প্রধান তত্তবধায়ক। দোযখের প্রহরী হিসেবে নিযুক্ত আছেন মালেক নামক ফেরেশতা। এছাড়াও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী মুনকার–নকীর নামে দুই জন ফেরেশতা রয়েছেন যাঁরা মৃত্যুর পর প্রতিটি মানুষের কবরে সাওয়াল–জওয়াবের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
ফেরেশতা সম্পর্কিত আয়াতসমূহ নিম্নে প্রদান করা হলো:
اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَّبِّه وَالْمُؤْمِنُوْنَ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِكَتِه وَكُتُبِه وَرُسُلِه لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِنْ رُّسُلِه وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصِيْرُ
“রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (২:২৮৫)
وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنْ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلٰٓئِكَةِ وَالْكِتٰبِ وَالنَّبِيْنَ…
“………বরং বড় ধার্মিকতা হলো – যারা ঈমান আনে আল্লাহর ওপর, ক্বিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর, কিতাবের ওপর এবং সকল নবী–রাসূলর ওপর;………।” (২:১৭৭)
وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللهِ وَمَلٰٓئِكَتِه وَكُتُبِه وَرُسُلِه وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِيْدًا
“…… যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রাসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।” (৪:১৩৬)
اِنَّه لَقَوْلُ رَسُوْلٍ كَرِيْمٍ ذِىْ قُوْةٍ عِنْدَ ذِى الْعَرْشِ مَكِيْنٍ مُّطَاعٍ ثَمَّ اَمِيْنٍ
“নিশ্চয় কুরআন সম্মানিত বাণীবাহকের (জিব্রাইল আ) আনীত বাণী, যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী, সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন।” (৮১:১৯ – ২১)
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوْا لِّجِبْرِيْلَ فَاِنَّه نَزَّلَه عَلٰى قَلْبِكَ بِاِذْنِ اللهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَّبُشْرٰى لِلْمُؤْمِنِيْنَ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِه وَرُسُلِه وَجِبْرِيْلَ وَمِيْكٰىلَ فَاِنَّ اللهَ عَدُوًّا لِّلْكٰفِرِيْنَ
“আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয় – যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মু’মিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু।” (২:৯৭ – ৯৮)
وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمْرِ رَبِّكَ لَه مَا بَيْنَ اَيْدِيْنَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذٰلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيْا
“(জিব্রাইল বললেন,) আমি আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দু’য়ের মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।” (১৯:৬৪)
وَاِنَّه لَتَنْزِيْلُ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِيْنُ عَلٰى قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِيْنَ
“এই কুরআন তো বিশ্ব–জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে – আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন।” (২৬:১৯২ – ১৯৪)
اَللهُ يَصْطَفِى مِنَ الْمَلٰٓئِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ اِنَّ اللهَ سَمِيْعٌۢ بَصِيْرٌ
“আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা!” (২২:৭৫)
لَه مُعَقِّبٰتٌ مِّنۢ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِه يَحْفَظُوْنَه مِنْ اَمْرِ اللهِ
“তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে অনুসরণকারী (ফেরেশতাগণ) রয়েছে তাদের (মানুষের) অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে ….।” (১৩:১১)
جَنّٰتُ عَدْنٍ يَدْخُلُوْنَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآئِهِمْ وَاَزْوٰجِهِمْ وَذُرِّيْٰتِهِمْ وَالْمَلٰٓئِكَةُ يَدْخُلُوْنَ عَلَيْهِم مِنْ كُلِّ بَابٍ سَلٰمٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
“চিরস্থায়ী মনোরম জান্নাত যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ–দাদা, স্বামী–স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। বলবে: তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম – গৃহ কতই না চমৎকার।” (১৩:২৩ – ২৪)
وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَالْمَلٰٓئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ يَخَافُوْنَ رَبَّهُم مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ
”আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে আছে এবং যা কিছু ভূমন্ডলে আছে এবং ফেরেশতাগণ; তারা অহংকার করে না। তারা তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তারা যা আদেশ পায়, তা করে।” (১৬:৪৯ – ৫০) [সিজদার আয়াত]
وَلَه مَنْ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ عِندَه لَا يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِه وَلَا يَسْتَحْسِرُوْنَ يُسَبِّحُوْنَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُوْنَ
“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা (ফেরেশতাগণ) তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত্রিদিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।” (২১:১৯ – ২০)
وَ قَالَ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا الْمَلٰٓئِكَۃُ اَوْ نَرٰی رَبَّنَا ؕ لَقَدِ اسْتَکْبَرُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ وَعَتَوْ عُتُوًّا كَبِیْرًا یَوْمَ یَرَوْنَ الْمَلٰٓئِكَۃَ لَا بُشْرٰی یَوْمَئِذٍ لِّلْمُجْرِمِیْنَ وَیَقُوْلُوْنَ حِجْرًا مَّحْجُوْرًا
“যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে। যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্যে কোন সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, কোন বাধা যদি তা আটকে রাখত।” (২৫:২১ – ২২)
وَیَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلٰٓئِكَۃُ تَنْزِیْلًا اَلْمُلْکُ یَوْمَئِذِ الْحَقُّ لِلرَّحْمٰنِ ؕ وَ كَانَ یَوْمًا عَلَی الْکٰفِرِیْنَ عَسِیْرًا
“সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং সেদিন ফেরেশতাদের নামিয়ে দেয়া হবে, সেদিন সত্যিকার রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর এবং কাফেরদের পক্ষে দিনটি হবে কঠিন।” (২৫:২৫ – ২৬)
وَمَا مِنَّآ اِلَّا لَه مَقَامٌ مَّعْلُوْمٌ وَاِنَّا لَنَحْنُ الصَّآفُّوْنَ وَاِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُوْنَ
“(সারিবদ্ধ ফেরেশতাগণ বললেন,) আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান। এবং আমরাই (নির্দেশ পালনের জন্য) সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি। এবং আমরাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।” (৩৭:১৬৪ – ১৬৬)!
اَلَّذِيْنَ يَحْمِلُوْنَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَه يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُوْنَ بِه وَيَسْتَغْفِرُوْنَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَىْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِيْنَ تَابُوْا وَاتَّبَعُوْا سَبِيْلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيْمِ رَبَّنَا وَاَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنٍ الَّتِى وَعَدتَّهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآئِهِمْ وَاَزْوٰجِهِمْ وَذُرِّيْٰتِهِمْ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ وَقِهِمُ السَّيِّـَٔاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّـَٔاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَه وَذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
“(ফেরেশতাগণ) যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ–দাদা, পতি–পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য’।” (৪০:৭ – ৯)
فَاِنِ اسْتَكْبَرُوْا فَالَّذِيْنَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُوْنَ لَه بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْـَٔمُوْنَ
“অতঃপর তারা (কাফেররা) যদি অহংকার করে, তবে (ফেরেশতাগণ) যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।” (৪১:৩৮)
تَكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَالْمَلٰٓئِكَةُ يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُوْنَ لِمَنْ فِى الْاَرْضِ ۗ اَلَآ اِنَّ اللهَ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
“আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় আর তখন ফেরেশতাগণ তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং পৃথিবীবাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শুনে রাখ, আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।” (৪২:৫)
وَنَادَوْا يٰمٰلِكُ لِيْقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ اِنَّكُم مّٰكِثُوْنَ
“তারা (দোযখবাসী) ডেকে বলবে, হে মালেক (দোযখের প্রহরী ফেরেশতা), তোমার পালনকর্তা (যদি মৃত্যুর মাধ্যমে) আমাদের একেবারেই শেষ করে দিতেন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল (এখানেই) থাকবে।” (৪৩:৭৭)
اَمْ يَحْسَبُوْنَ اَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوٰىهُم بَلٰى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُوْنَ
“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শ শুনি না? হ্যাঁ, শুনি। আমার ফেরেশতাগণ তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে।” (৪৩:৮০)
اِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْدٌ مَّا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ وَجَآءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ وَنُفِخَ فِى الصُّوْرِ ذٰلِكَ يَوْمُ الْوَعِيْدِ وَجَآءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَآئِقٌ وَشَهِيْدٌ لَّقَدْ كُنْتَ فِى غَفْلَةٍ مِنْ هٰذَا فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيْدٌ وَقَالَ قَرِيْنُه هٰذَا مَا لَدَىَّ عَتِيْدٌ اَلْقِيْا فِى جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيْدٍ مَنْ اعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُّرِيْبٍ الَّذِىْ جَعَلَ مَعَ اللهِ الٰهًا اٰخَرَ فَاَلْقِيْاهُ فِى الْعَذَابِ الشَّدِيْدِ
“যখন দুই ফেরেশতা (কেরামান–কাতেবীন) ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে। এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী (ফেরেশতাদ্বয়)। তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ম। তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবে: আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই। তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গলজনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।” (৫০:১৭ – ২৬)
وَكَمْ مِّنْ مَّلَكٍ فِى السَّمٰوٰتِ لَا تُغْنِىْ شَفٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ اَنْ يَّاْذَنَ اللهُ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَرْضٰۤى اِنَّ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ لَيُسَمُّوْنَ الْمَلٰٓئِكَةَ تَسْمِيَةَ الْاُنْثٰى وَمَا لَهُمْ بِه مِنْ عِلْمٍ اِنْ يَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِىْ مِنَ الْحَقِّ شَيْـًٔا
“আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন। যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে। অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।” (৫৩:২৬ – ২৮)
اِنَّ الَّذِیْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَیْهِمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ اَلَّا تَخَافُوْا وَ لَا تَحْزَنُوْا وَ اَبْشِرُوْا بِالْجَنَّۃِ الَّتِیْ کُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ نَحْنُ اَوْلِیٰٓؤُکُمْ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ فِی الْاٰخِرَۃِ ۚ وَ لَکُمْ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْۤ اَنْفُسُکُمْ وَ لَکُمْ فِیْهَا مَا تَدَّعُوْنَ نُزُلًا مِّنْ غَفُوْرٍ رَّحِیْمٍ
“নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, ‘তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে যা তোমরা দাবী কর। এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন’।” (৪১:৩০ – ৩২)
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْٓا اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلٰٓئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُوْنَ اللهَ مَآ اَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ
“মু’মিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।” (৬৬:৬)
وَانْشَقَّتِ السَّمَآءُ فَهِیَ یَوْمَئِذٍ وَّاهِیَۃٌ وَّ الْمَلَکُ عَلٰۤی اَرْجَآئِهَا ؕ وَیَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ یَوْمَئِذٍ ثَمٰنِیَۃٌ یَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفٰی مِنْکُمْ خَافِیَۃٌ
“সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আটজন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের ঊর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।” (৬৯:১৬ – ১৮)
عَلَیْهَا تِسْعَۃَ عَشَرَ وَ مَا جَعَلْنَاۤ اَصْحٰبَ النَّارِ اِلَّا مَلٰٓئِكَۃً ۪ وَّ مَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ اِلَّا فِتْنَۃً لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا ۙ لِیَسْتَیْقِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَ یَزْدَادَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِیْمَانًا وَّ لَا یَرْتَابَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ ۙ وَ لِیَقُوْلَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّ الْکٰفِرُوْنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِهٰذَا مَثَلًا ؕ كَذٰلِكَ یُضِلُّ اللّٰهُ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَہْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ مَا یَعْلَمُ جُنُوْدَ رَبِّكَ اِلَّا هُوَ ؕ وَ مَا هِیَ اِلَّا ذِکْرٰی لِلْبَشَرِ
“এর উপর নিয়োজিত আছে ঊনিশ (ফেরেশতা)। আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি – যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মু’মিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মু’মিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।” (৭৪:৩০ – ৩১)
وَ اِنَّ عَلَیْکُمْ لَحٰفِظِیْنَ كِرَامًا كَاتِبِیْنَ یَعْلَمُوْنَ مَا تَفْعَلُوْنَ
“অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর।” (৮২:১০ – ১২)
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنَ الْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوْحُ فِيْهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْ مِّنْ كُلِّ اَمْرٍ سَلٰمٌ هِىَ حَتّٰى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
“ক্বদরের রাত হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিব্রাইল আ.) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা প্রশান্তিময়, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।” (৯৭:৩ – ৫)
وَ اِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اِنِّیْ جَاعِلٌ فِی الْاَرْضِ خَلِیْفَۃً ؕ قَالُوْۤا اَتَجْعَلُ فِیْهَا مَنْ یُّفْسِدُ فِیْهَا وَ یَسْفِکُ الدِّمَآءَ ۚ وَ نَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَ نُقَدِّسُ لَكَ ؕ قَالَ اِنِّیْۤ اَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ وَ عَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ کُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَی الْمَلٰٓئِكَۃِ ۙ فَقَالَ اَنْۢبِـُٔوْنِیْ بِاَسْمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ قَالُوْا سُبْحٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَلِیْمُ الْحَكِیْمُ قَالَ یٰۤاٰدَمُ اَنْۢبِئْهُمْ بِاَسْمَآئِهِمْ ۚ فَلَمَّاۤ اَنْۢبَاَهُمْ بِاَسْمَآئِهِمْ ۙ قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّکُمْ اِنِّیْۤ اَعْلَمُ غَیْبَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۙ وَ اَعْلَمُ مَا تُبْدُوْنَ وَ مَا کُنْتُمْ تَکْتُمُوْنَ وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰی وَ اسْتَکْبَرَ ٭۫ وَ كَانَ مِنَ الْکٰفِرِیْنَ
“আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেন: আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, আপনি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না। আর আল্লাহ তায়ালা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে আপনি যা আমাদিগকে শিখিয়েছন (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাবান। তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! এবং যখন আমি হযরত আদম (আ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” (২:৩০ – ৩৪)
یٰۤاَیُّهَاالَّذِیْنَ اٰمَنُوا اذْکُرُوا اللّٰهَ ذِکْرًا كَثِیْرًا وَّ سَبِّحُوْهُ بُکْرَۃً وَّ اَصِیْلًا هُوَ الَّذِیْ یُصَلِّیْ عَلَیْکُمْ وَمَلٰٓئِكَتُہٗ لِیُخْرِجَکُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ ؕ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِیْنَ رَحِیْمًا تَحِیَّتُهُمْ یَوْمَ یَلْقَوْنَہٗ سَلٰمٌ ۖۚ وَ اَعَدَّ لَهُمْ اَجْرًا كَرِیْمًا
“মু’মিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। এবং সকাল বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর। তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও রহমতের দোয়া করেন – অন্ধকার থেকে তোমাদেরকে আলোকে বের করার জন্য। তিনি মু’মিনদের প্রতি পরম দয়ালু। যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।” (৩৩:৪১ – ৪৩)
اِنَّ الَّذِیْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ قَالُوْا فِیْمَ کُنْتُمْ ؕ قَالُوْا کُنَّا مُسْتَضْعَفِیْنَ فِی الْاَرْضِ ؕ قَالُوْۤا اَلَمْ تَکُنْ اَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَۃً فَتُهَاجِرُوْا فِیْهَا ؕ فَاُولٰٓئِكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَ سَآءَتْ مَصِیْرًا
“যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলে: এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলে: আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান।” (৪:৯৭)
الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۪ فَاَلْقَوُا السَّلَمَ مَا کُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوْٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“নিজেদের উপর যুলুমরত অবস্থায় ফেরেশতারা যখন তাদের জান কবজ করবে, তখন তারা আনুগত্য প্রকাশ করে বলবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হ্যাঁ, নিশ্চয় আল্লাহ সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে।” (১৬:২৮)
یُنَزِّلُ الْمَلٰٓئِكَۃَ بِالرُّوْحِ مِنْ اَمْرِہٖ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِہٖۤ اَنْ اَنْذِرُوْۤا اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوْنِ
“তিনি স্বীয় নির্দেশে বান্দাদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছা, নির্দেশসহ ফেরেশতাদেরকে এই মর্মে নাযিল করেন যে, হুঁশিয়ার করে দাও, আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। অতএব আমাকে ভয় কর।” (১৬:২)
…. وَ مَاۤ اُنْزِلَ عَلَی الْمَلَكَیْنِ بِبَابِلَ هَارُوْتَ وَ مَارُوْتَ ؕ وَ مَا یُعَلِّمٰنِ مِنْ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوْلَاۤ اِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَۃٌ فَلَا تَکْفُرْ ؕ
“এবং (কাফেরগণ) বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। (অথচ) তারা (হারুত ও মারুত) উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না…..(২:১০২)
জিন জাতির কথা
وَالْجَآنَّ خَلَقْنٰهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَّارِ السَّمُوْمِ
“এবং এর (মানব সৃষ্টির) আগে জিন জাতিকে উত্তপ্ত লু হাওয়ার অগ্নি শিখার দ্বারা সৃষ্টি করেছি।” (১৫:২৭)
মানবজাতির পূর্বে আল্লাহ্ তায়ালা জিন জাতিকে সৃষ্টি করে এ দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করেছিলেন। একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের উদ্দশ্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা আগুনের তৈরী ও অদৃশ্য। তবে তারা মানুষ বা অন্যকিছুর রূপ ধারণ করতে পারে। তাদেরও বুদ্ধিমত্তা রয়েছে এবং তারা দ্রুতগামী ও শক্তিমত্তার অধিকারী। মানুষের মতই জিন জাতির মধ্যে ভালো ও মন্দ রয়েছে, তাদেরও জবাবদিহিতা রয়েছে এবং ক্বিয়ামতের দিবসে তারাও বিচারের সম্মুখীন হবে। জিন জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ায় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মানব জাতিকে পৃথিবীতে তাঁর খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেন। মানব জাতির পরম শত্রু ইবলিশ শয়তান জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। জিন সম্পর্কিত আয়াতগুলো নীচে পেশ করা হলো:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيْعْبُدُوْنِ
“আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।” (৫১:৫৬)
وَخَلَقَ الْجَآنَّ مِنْ مَّارِجٍ مِنْ نَّارٍ
“এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।” (৫৫:১৫)
سَنَفْرُغُ لَکُمْ اَیُّهَ الثَّقَلٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ یٰمَعْشَرَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ اِنِ اسْتَطَعْتُمْ اَنْ تَنْفُذُوْا مِنْ اَقْطَارِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ فَانْفُذُوْا ؕ لَا تَنْفُذُوْنَ اِلَّا بِسُلْطٰنٍ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ یُرْسَلُ عَلَیْکُمَا شُوَاظٌ مِّنْ نَّارٍ ۬ۙ وَّ نُحَاسٌ فَلَا تَنْتَصِرٰنِ
“(হে জিন ও মানব!) আমি শীঘ্রই তোমাদের কাজকর্মের ফয়সালা করব। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? হে জিন ও মানবকুল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধূম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না।” (৫৫:৩১ – ৩৫)
وَ جَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ الْجِنَّ وَ خَلَقَهُمْ وَ خَرَقُوْا لَہٗ بَنِیْنَ وَ بَنٰتٍۭ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ سُبْحٰنَہٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یَصِفُوْنَ
“তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ণনা থেকে।” (৬:১০০)
وَ لٰكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّیْ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجْمَعِیْنَ فَذُوْقُوْا بِمَا نَسِیْتُمْ لِقَآءَ یَوْمِکُمْ هٰذَا ۚ اِنَّا نَسِیْنٰکُمْ وَ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“……কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। অতএব এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর ।” (৩২:১৩ – ১৪)
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ اَمْرِ رَبِّہٖ ط اَفَتَتَّخِذُوْنَہٗ وَ ذُرِّیَّتَہٗۤ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِیْ وَ هُمْ لَکُمْ عَدُوٌّ ط بِئْسَ لِلظّٰلِمِیْنَ بَدَلًا
“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের দুশমন। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।” (১৮:৫০)
وَ لِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ غُدُوُّهَا شَہْرٌ وَّ رَوَاحُهَا شَہْرٌ ۚ وَ اَسَلْنَا لَہٗ عَیْنَ الْقِطْرِ ؕ وَ مِنَ الْجِنِّ مَنْ یَّعْمَلُ بَیْنَ یَدَیْهِ بِاِذْنِ رَبِّہٖ ؕ وَ مَنْ یَّزِغْ مِنْهُمْ عَنْ اَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِیْرِ یَعْمَلُوْنَ لَہٗ مَا یَشَآءُ مِنْ مَّحَارِیْبَ وَ تَمَاثِیْلَ وَ جِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَ قُدُوْرٍ رّٰسِیٰتٍ ؕ اِعْمَلُوْۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُکْرًا ؕ وَ قَلِیْلٌ مِّنْ عِبَادِیَ الشَّکُوْرُ فَلَمَّا قَضَیْنَا عَلَیْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلٰی مَوْتِہٖۤ اِلَّا دَآبَّۃُ الْاَرْضِ تَاْکُلُ مِنْسَاَتَہٗ ۚ فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الْجِنُّ اَنْ لَّوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ الْغَیْبَ مَا لَبِثُوْا فِی الْعَذَابِ الْمُهِیْنِ
“আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করত, আমি তাকে জ্বলন্ত অগ্নির-শাস্তি আস্বাদন করাতাম। তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল। সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকলে তারা এই লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না।” (৩৪:১২ – ১৪)
وَ الشَّیٰطِیْنَ کُلَّ بَنَّآءٍ وَّ غَوَّاصٍ
“আর সকল শয়তানকে, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী (সোলায়মানের অধীন করে দিলাম)।” (৩৮:৩৭)
قَالَ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اَیُّکُمْ یَاْتِیْنِیْ بِعَرْشِهَا قَبْلَ اَنْ یَّاْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ قَالَ عِفْرِیْتٌ مِّنَ الْجِنِّ اَنَا اٰتِیْكَ بِہٖ قَبْلَ اَنْ تَقُوْمَ مِنْ مَّقَامِكَ ۚ وَ اِنِّیْ عَلَیْهِ لَقَوِیٌّ اَمِیْنٌ قَالَ الَّذِیْ عِنْدَہٗ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتٰبِ اَنَا اٰتِیْكَ بِہٖ قَبْلَ اَنْ یَّرْتَدَّ اِلَیْكَ طَرْفُكَ ؕ فَلَمَّا رَاٰهُ مُسْتَقِرًّا عِنْدَہٗ قَالَ هٰذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّیْ ۟ۖ لِیَبْلُوَنِیْۤ ءَاَشْکُرُ اَمْ اَکْفُرُ ؕ وَ مَنْ شَكَرَ فَاِنَّمَا یَشْکُرُ لِنَفْسِہٖ ۚ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیْ غَنِیٌّ كَرِیْمٌ
“(সুলায়মান) বললেন, হে পারিষদবর্গ, তারা আত্মসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে? জনৈক দৈত্য–জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত। কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।” (২৭:৩৮ – ৪০)
وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْيَا بِمَصٰبِيْحَ وَجَعَلْنٰهَا رُجُوْمًا لِّلشَّيٰطِيْنِ وَاَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيْرِِ
“আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জিত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।” (৬৭:৫)
শয়তানের অবাধ্যতা ও চ্যালেঞ্জ
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَاُغْوِیَنَّهُمْ اَجْمَعِیْنَ اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِیْنَ
“সে (ইবলিশ শয়তান) বলল, আপনার ইয্যতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের (মানবজাতির) সবাইকে বিপথগামী করে দেব। তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া।” (৩৮:৮২ – ৮৩)
ইবলিস নামক এক জিন আল্লাহর ইবাদত–বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং ফেরেশতাদের কাতারে উন্নীত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন উন্নত জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানব আদম (আ) -কে সৃষ্টি করলেন এবং ফেরেশতাগণ ও ইবলিসকে তাঁর প্রতি সেজদাবনত হতে নির্দেশ দিলেন তখন ফেরেশতাগণ সবাই তাঁকে সম্মানসূচক সেজদা করলেন। কিন্তু ইবলিস অহংকারবশত আদম (আ) -কে সেজদা করতে অস্বীকার করলো। সে মানব আদম (আ) এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ – এ অজুহাত দেখিয়ে ঔদ্ধত্য ও অহংকার প্রকাশ করলো। শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ্ তাকে অভিশপ্ত করলেন এবং নিকৃষ্টতম স্তরে নিক্ষপ করলেন। ফলে সে হীনতম শয়তানে পরিণত হলো। তবে সে আল্লাহর দরবারে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করলো এবং যেনতেন প্রকারে সে মানব জাতিকে বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট ও চরম ক্ষতিগ্রস্ত করার শপথ ঘোষণা করলো। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার অবকাশ প্রার্থনা কবুল করলেন আর তার শপথকে মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ করে দিলেন। এতদসংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো:
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَۃِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰی وَ اسْتَکْبَرَ ٭۫ وَ كَانَ مِنَ الْکٰفِرِیْنَ
“এবং যখন আমি হযরত আদম (আ) -কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” (২:৩৪)
قَالَ یٰۤاِبْلِیْسُ مَا مَنَعَكَ اَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِیَدَیَّ ؕ اَسْتَکْبَرْتَ اَمْ کُنْتَ مِنَ الْعَالِیْنَ قَالَ اَنَا خَیْرٌ مِّنْهُ ؕ خَلَقْتَنِیْ مِنْ نَّارٍ وَّ خَلَقْتَہٗ مِنْ طِیْنٍ قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَاِنَّكَ رَجِیْمٌ وَّ اِنَّ عَلَیْكَ لَعْنَتِیْۤ اِلٰی یَوْمِ الدِّیْنِ قَالَ رَبِّ فَاَنْظِرْنِیْۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ قَالَ فَاِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِیْنَ اِلٰی یَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَاُغْوِیَنَّهُمْ اَجْمَعِیْنَ اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِیْنَ قَالَ فَالْحَقُّ ۫ وَ الْحَقَّ اَقُوْلُ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَ مِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ اَجْمَعِیْنَ
“আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন? সে বলল: আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। আল্লাহ বললেন: বের হয়ে যা, এখান থেকে। কারণ, তুই অভিশপ্ত। তোর প্রতি আমার এ অভিশাপ বিচার দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে। সে বলল: হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ্ বললেন: তোকে অবকাশ দেয়া হল। সেই অবধারিত সময়ের দিন উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত। সে বলল, আপনার ইয্যতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব। তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া। আল্লাহ বললেন: তাই ঠিক, আর আমি সত্য বলছি – তোর দ্বারা আর তাদের মধ্যে যারা তোর অনুসরণ করবে তাদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।” (৩৮:৭৫ – ৮৫)
وَلَقَدْ خَلَقْنٰكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنٰكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ لَمْ يَكُنْ مِّنَ السّٰجِدِيْنَ قَالَ مَا مَنَعَكَ اَلَّا تَسْجُدَ اِذْ اَمَرْتُكَ قَالَ اَنَا۠ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِىْ مِنْ نَّارٍ وَخَلَقْتَه مِنْ طِيْنٍ قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُوْنُ لَكَ اَنْ تَتَكَبَّرَ فِيْهَا فَاخْرُجْ اِنَّكَ مِنَ الصّٰغِرِيْنَ قَالَ اَنْظِرْنِىۤ اِلٰى يَوْمِ يُّبْعَثُوْنَ قَالَ اِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِيْنَ قَالَ فَبِمَاۤ اَغْوَيْتَنِىْ لَاَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرٰطَكَ الْمُسْتَقِيْمَ ثُمَّ لَاٰتِيَنَّهُم مِّنْۢ بَيْنِ اَيْدِيْهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ اَيْمٰنِهِمْ وَعَنْ شَمَاۤئِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ اَكْثَرَهُمْ شٰكِرِيْنَ قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُوْمًا مَّدْحُوْرًا لَّمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَاَمْلَاَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ اَجْمَعِيْنَ
“আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার-অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি- আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আল্লাহ বললেন: আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বলল: আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলল: আমাকে ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন: তোকে সময় দেয়া হল। সে বলল: আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। আল্লাহ বললেন: বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।” (৭:১১ – ১৮)।
قَالَ يٰۤاِبْلِيْسُ مَا لَكَ اَلَّا تَكُوْنَ مَعَ السّٰجِدِيْنَ قَالَ لَمْ اَكُنْ لِّاَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَه مِنْ صَلْصٰلٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَاِنَّكَ رَجِيْمٌ وَاِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ اِلٰى يَوْمِ الدِّيْنِ قَالَ رَبِّ فَاَنْظِرْنِىۤ اِلٰى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ قَالَ فَاِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِيْنَ اِلٰى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ قَالَ رَبِّ بِمَا اَغْوَيْتَنِى لَاُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى الْاَرْضِ وَلَاُغْوِيْنَّهُمْ اَجْمَعِيْنَ اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ قَالَ هٰذَا صِرٰطٌ عَلَىَّ مُسْتَقِيْمٌ اِنَّ عِبَادِىْ لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطٰنٌ اِلَّا مَنْ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِيْنَ وَاِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ اَجْمَعِيْنَ
“আল্লাহ বললেন: হে ইবলিস, তোমার কি হলো যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে স্বীকৃত হলে না? (সে) বলল: আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বললেন: তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত। এবং তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত। সে বলল: হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন: তোমাকে অবকাশ দেয়া হল। সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত। সে বলল: হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করে দেব। আল্লাহ বললেন: এটা আমা পর্যন্ত সোজা পথ। যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার পথে চলে। তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।” (১৫:৩২ – ৪৩)
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ قَالَ ءَاَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِيْنًا قَالَ اَرَءَيْتَكَ هٰذَا الَّذِىْ كَرَّمْتَ عَلَىَّ لَئِنْ اَخَّرْتَنِ اِلٰى يَوْمِ الْقِيٰمَةِ لَاَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيْتَه اِلَّا قَلِيْلًا قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَاِنَّ جَهَنَّمَ جَزَآؤُكُمْ جَزَآءً مَّوْفُوْرًا وَاسْتَفْزِزْ مَنْ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَاَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى الْاَمْوٰلِ وَالْاَوْلٰدِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطٰنُ اِلَّا غُرُوْرًا اِنَّ عِبَادِىْ لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطٰنٌ وَكَفٰى بِرَبِّكَ وَكِيْلًا
“স্মরণ করুন, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদায় পড়ে গেল। কিন্তু সে বলল: আমি কি এমন ব্যক্তিকে সেজদা করব, যাকে আপনি মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন? সে বলল: দেখুন তো, এতো সে ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার চাইতেও উচ্চ মার্যাদা দিয়ে দিয়েছেন। যদি আপনি আমাকে ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত সময় দেন, তবে আমি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দেব। আল্লাহ বলেন: চলে যা, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে যে তোর অনুগামী হবে, জাহান্নামই হবে তাদের সবার শাস্তি–ভরপুর শাস্তি। তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় কথা দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।” (১৭:৬১ – ৬৫)
শয়তানের প্ররোচনা সম্পর্কে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সতর্কবাণী
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ادْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَآفَّةً وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوْٰتِ الشَّيْطٰنِ اِنَّه لَكُمْ عَدُوْ مُّبِيْنٌ
“হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (২:২০৮)
মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শয়তান। মানব–বিদ্বেষী শয়তান ও তার বাহিনী শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আল্লাহর সাবধান বাণী ভুলে গিয়ে আদিপিতা আদম (আ) ও আদিমাতা হাওয়া (আ) শয়তানের কুমন্ত্রণার ফাঁদে পড়েন। ফলে তাঁদের স্বর্গচ্যুতি ঘটে। মহান আল্লাহ্ যখন তাঁদেরকে এ দুনিয়ায় প্রেরণ করেন তখন তাঁদেরকে ও তাঁদের বংশধরদেরকে শয়তানের ষড়যন্ত্র ও কুমন্ত্রণা থেকে বারবার সতর্ক করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যুগে যুগে নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন যাতে মানুষ সহজ সরল পথ–নির্দেশনা পায় ও শয়তানের ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যারা তাঁর উপর ঈমান আনবে, সৎ কর্ম করবে এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলবে তাদেরকে তিনি চির সুখ ও শান্তির আবাস জান্নাতে স্থান দেবেন। আর যারা শয়তানের কুপ্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে জীবন যাপন করবে তাদের স্থান হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। এতদ্সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:
يٰۤـَٔادَمُ اسْكُنْ اَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُوْنَا مِنَ الظّٰلِمِيْنَ فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطٰنُ لِيُبْدِىَ لَهُمَا مَا ورِىَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْءٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهٰىكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَا مَلَكَيْنِ اَوْ تَكُوْنَا مِنَ الْخٰلِدِيْنَ وَقَاسَمَهُمَاۤ اِنِّى لَكُمَا لَمِنَ النّٰصِحِيْنَ فَدَلّٰىهُمَا بِغُرُوْرٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْءٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَنَادٰىهُمَا رَبُّهُمَاۤ اَلَمْ اَنْهَكُمَا عَن تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَاَقُل لَّكُمَاۤ اِنَّ الشَّيْطٰنَ لَكُمَا عَدُوْ مُّبِيْنٌ قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنفُسَنَا وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِيْنَ
“হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বলল: তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও – কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল: আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী। অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তারা উভয়ে বলল: হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।” (৭:১৯ – ২৩)
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ اَبٰى فَقُلْنَا يٰۤاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوْ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقٰىۤ اِنَّ لَكَ اَلَّا تَجُوْعَ فِيْهَا وَلَا تَعْرٰى وَاَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِيْهَا وَلَا تَضْحٰى فَوَسْوَسَ اِلَيْهِ الشَّيْطٰنُ قَالَ يٰۤاٰدَمُ هَلْ اَدُلُّكَ عَلٰى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلٰى فَاَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْءٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَعَصٰىۤ اٰدَمُ رَبَّه فَغَوٰى ثُمَّ اجْتَبٰهُ رَبُّه فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدٰى
“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম: তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল। অতঃপর আমি বললাম: হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে। তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না। এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না। অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, বলল: হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা? অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল। এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন।” (২০:১১৬ – ১২২)
يٰبَنِىۤ اٰدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطٰنُ كَمَآ اَخْرَجَ اَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيَرِيَهُمَا سَوْءٰتِهِمَا ط اِنَّه يَرٰىكُمْ هُوَ وَقَبِيْلُه مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ط اِنَّا جَعَلْنَا الشَّيٰطِيْنَ اَوْلِيْآءَ لِلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ
“হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি – যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।” (৭:২৭)
وَاِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ اِنَّه سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ اِنَّ الَّذِيْنَ اتَّقَوْا اِذَا مَسَّهُمْ طٰٓئِفٌ مِّنَ الشَّيْطٰنِ تَذَكَّرُوْا فَاِذَا هُمْ مُّبْصِرُوْنَ وَاِخْوٰنُهُمْ يَمُدُّوْنَهُمْ فِى الْغَىِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُوْنَ
“আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে। পক্ষান্তরে যারা শয়তানের ভাই, তাদেরকে সে ক্রমাগত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় অতঃপর তাতে কোন কমতি করে না।” (৭:২০০ – ২০২)
اِنَّ الشَّيْطٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا اِنَّمَا يَدْعُوْا حِزْبَه لِيَكُوْنُوْا مِنْ اَصْحٰبِ السَّعِيْرِ
“শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহ্বান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।” (৩৫:৬)
فَرِيْقًا هَدٰى وَفَرِيْقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلٰلَةُ اِنَّهُمُ اتَّخَذُوْا الشَّيٰطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ
“(আল্লাহ) একদলকে পথ প্রদর্শন করেছেন এবং একদলের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং ধারণা করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে।” (৭:৩০) ।”
اَلَمْ اَعْهَدْ اِلَيْكُمْ يٰبَنِىۤ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوْا الشَّيْطٰنَ اِنَّه لَكُمْ عَدُوْ مُّبِيْنٌ وَاَنِ اعْبُدُوْنِىْ هٰذَا صِرٰطٌ مُّسْتَقِيْمٌ وَلَقَدْ اَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًّا كَثِيْرًا اَفَلَمْ تَكُوْنُوْا تَعْقِلُوْنَ
“হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ। শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি।” (৩৬:৬০ – ৬২)
وَ یَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالْغَمَامِ وَ نُزِّلَ الْمَلٰٓئِكَۃُ تَنْزِیْلًا اَلْمُلْکُ یَوْمَئِذِۣ الْحَقُّ لِلرَّحْمٰنِ ؕ وَ كَانَ یَوْمًا عَلَی الْکٰفِرِیْنَ عَسِیْرًا وَ یَوْمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیْهِ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِی اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِیْلًا یٰوَیْلَتٰی لَیْتَنِیْ لَمْ اَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِیْلًا لَقَدْ اَضَلَّنِیْ عَنِ الذِّکْرِ بَعْدَ اِذْ جَآءَنِیْ ؕ وَ كَانَ الشَّیْطٰنُ لِلْاِنْسَانِ خَذُوْلًا
“(ক্বিয়ামতের) সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং সেদিন ফেরেশতাদের নামিয়ে দেয়া হবে, সেদিন সত্যিকার রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর এবং কাফেরদের পক্ষে দিনটি হবে কঠিন। জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে (শয়তানকে) বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়।” (২৫:২৫ – ২৯)
هَلْ اُنَبِّئُكُمْ عَلٰى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيٰطِيْنُ تَنَزَّلُ عَلٰى كُلِّ اَفَّاكٍ اَثِيْمٍ يُلْقُوْنَ السَّمْعَ وَاَكْثَرُهُمْ كٰذِبُوْنَ
“আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে? তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর। তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।” (২৬:২২১ – ২২৩)
وَمِنَ الْاَنْعٰمِ حَمُوْلَةً وَّفَرْشًا كُلُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللهُ وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ اِنَّه لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ
“আল্লাহ তোমাদেরকে জীবিকা হিসেবে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (৬:১৪২)
وَلَقَدْ صَدَّقَ عَلَيْهِمْ اِبْلِيْسُ ظَنَّه فَاتَّبَعُوْهُ اِلَّا فَرِيْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَمَا كَانَ لَه عَلَيْهِمْ مِنْ سُلْطٰنٍ اِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يُّؤْمِنْ بِالْاٰخِرَةِ مِمَّنْ هُوَ مِنْهَا فِىْ شَكٍّ وَرَبُّكَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ حَفِيْظٌ
“আর তাদের উপর ইবলীস তার অনুমান সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। ফলে তাদের মধ্যে মু’মিনদের একটি দল ব্যতীত সকলেই তার পথ অনুসরণ করল। তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা ছিল না, তবে কে পরকালে বিশ্বাস করে এবং কে তাতে সন্দেহ করে, তা প্রকাশ করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। আপনার পালনকর্তা সব বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক।” (৩৪:২০ – ২১)
اِدْفَعْ بِالَّتِى هِىَ اَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا يَصِفُوْنَ وَقُلْ رَّبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّيٰطِيْنِ
“মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম। তারা যা বলে, আমি সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত। বলুন: হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।” (২৩:৯৬ – ৯৭)
وَاِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ اِنَّه هُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
“যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৪১:৩৬)
وَمَنْ يَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَيِّضْ لَه شَيْطٰنًا فَهُوْ لَه قَرِيْنٌ وَاِنَّهُمْ لَيَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِيْلِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُم مُّهْتَدُوْنَ حَتّٰۤى اِذَا جَآءَنَا قَالَ يٰلَيْتَ بَيْنِىْ وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِيْنُ
“যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে–ই হয় তার সঙ্গী। শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে। অবশেষে যখন সে আমার কাছে আসবে, তখন সে শয়তানকে বলবে, হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত। কত নিকৃষ্ট সঙ্গী সে।” (৪৩:৩৬ – ৩৮)
هٰذَا صِرٰطٌ مُّسْتَقِيْمٌ وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطٰنُ اِنَّه لَكُمْ عَدُوْ مُّبِيْنٌ
“এটা এক সরল পথ। শয়তান যেন তোমাদেরকে (এ পথ থেকে) নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (৪৩:৬১ – ৬২)
فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ اِنَّہٗ لَیْسَ لَہٗ سُلْطٰنٌ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَلُوْنَ اِنَّمَا سُلْطٰنُہٗ عَلَی الَّذِیْنَ یَتَوَلَّوْنَہٗ وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِہٖ مُشْرِکُوْنَ
“অতএব, যখন আপনি কুরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। তার আধিপত্য চলে না তাদের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আপন পালন কর্তার উপর ভরসা রাখে। তার আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং যারা তাকে অংশীদার মানে।” (১৬:৯৮ – ১০০)
تَاللّٰهِ لَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِیُّهُمُ الْیَوْمَ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ
“আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্মসমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (১৬:৬৩)
وَ قَالَ الشَّیْطٰنُ لَمَّا قُضِیَ الْاَمْرُ اِنَّ اللّٰهَ وَعَدَکُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَ وَعَدْتُّکُمْ فَاَخْلَفْتُکُمْ ؕ وَ مَا كَانَ لِیَ عَلَیْکُمْ مِّنْ سُلْطٰنٍ اِلَّاۤ اَنْ دَعَوْتُکُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِیْ ۚ فَلَا تَلُوْمُوْنِیْ وَ لُوْمُوْۤا اَنْفُسَکُمْ ؕ مَاۤ اَنَا بِمُصْرِخِکُمْ وَ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُصْرِخِیَّ ؕ اِنِّیْ كَفَرْتُ بِمَاۤ اَشْرَکْتُمُوْنِ مِنْ قَبْلُ ؕ اِنَّ الظّٰلِمِیْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ
“(বিচার দিবসে) যখন সব কাজের ফায়সলা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। অতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই। এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতোপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয় যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (১৪:২২)
الشَّيْطٰنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَاْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَآءِ وَاللهُ يَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا وَاللهُ وٰسِعٌ عَلِيْمٌ
“শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।” (২:২৬৮)
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ وَمَنْ يَّتَّبِعْ خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ فَاِنَّه يَاْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে …।” (২৪:২১)
اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا يُقٰتِلُوْنَ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا يُقٰتِلُوْنَ فِى سَبِيْلِ الطّٰغُوْتِ فَقٰتِلُوْٓا اَوْلِيَآءَ الشَّيْطٰنِ اِنَّ كَيْدَ الشَّيْطٰنِ كَانَ ضَعِيْفًا
“যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।” (৪:৭৬)
اِنْ يَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه اِلَّآ اِنٰثًا وَاِنْ يَّدْعُوْنَ اِلَّا شَيْطٰنًا مَّرِيْدًا لَّعَنَهُ اللهُ ۘ وَقَالَ لَاَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيْبًا مَّفْرُوْضًا وَلَاُضِلَّنَّهُمْ وَلَاُمَنْ يْنَّهُمْ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ اٰذَانَ الْاَنْعٰمِ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللهِ وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطٰنَ وَلِيًّا مِّنْ دُوْنِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِيْنًا يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيْهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطٰنُ اِلَّا غُرُوْرًا اُوْلٰٓئِكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُوْنَ عَنْهَا مَحِيْصًا
“তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল: আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে আশ্বাস দেয়। শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সব প্রতারণা বৈ নয়। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম। তারা সেখান থেকে কোথাও পালাবার জায়গা পাবে না।” (৪:১১৭ – ১২১)
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجٰدِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطٰنٍ مَّرِيْدٍ كُتِبَ عَلَيْهِ اَنَّه مَنْ تَوَلَّاهُ فَاَنَّه يُضِلُّه وَيَهْدِيْهِ اِلٰى عَذَابِ السَّعِيْرِ
“কতক মানুষ অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে। শয়তান সম্পর্কে লিখে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তার সাথী হবে, সে তাকে বিভ্রান্ত করবে এবং দোযখের আযাবের দিকে পরিচালিত করবে।” (২২:৩ – ৪)
اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطٰنُ فَاَنْسٰىهُمْ ذِكْرَ اللهِ اُوْلٰٓئِكَ حِزْبُ الشَّيْطٰنِ اَلَاۤ اِنَّ حِزْبَ الشَّيْطٰنِ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ
“শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” (৫৮:১৯)
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْٓا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْاَنصَابُ وَالْاَزْلٰمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطٰنِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ اِنَّمَا يُرِيْدُ الشَّيْطٰنُ اَنْ يُّوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدٰوَةَ وَالْبَغْضَآءَ فِى الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنِ الصَّلَوٰةِ فَهَلْ اَنْتُمْ مُّنْتَهُوْنَ
“হে মু’মিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক – যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে?” (৫:৯০ – ৯১)
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ اِلٰهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِىْ يُوْسْوِسُ فِىْ صُدُوْرِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের – তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, – যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।” (১১৪:১ – ৬)
পবিত্র কুরআন দ্বারা জিনদের হেদায়েতপ্রাপ্তির ঘটনা
হযরত মুহাম্মদ (সা) মক্কার নিকটবর্তী তায়েফ থেকে ফেরার পথে নাখলা নামক স্থানে যখন ফজরের নামাযে তেলাওয়াতরত ছিলেন তখন একদল জিন পবিত্র কুরআনের আয়াত শুনে এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং এতে তাদের হেদায়েত প্রাপ্তি ঘটে। পবিত্র কুরআনের ৭২নং সূরা জিনে এ ঘটনা বিবৃত হয়েছে যা নিম্নে পেশ করা হলো:
قُلْ اُوْحِیَ اِلَیَّ اَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوْۤا اِنَّا سَمِعْنَا قُرْاٰنًا عَجَبًا یَّہْدِیْۤ اِلَی الرُّشْدِ فَاٰمَنَّا بِہٖ ؕ وَ لَنْ نُّشْرِكَ بِرَبِّنَاۤ اَحَدًا وَّ اَنَّہٗ تَعٰلٰی جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَۃً وَّ لَا وَلَدًا وَّ اَنَّہٗ كَانَ یَقُوْلُ سَفِیْهُنَا عَلَی اللّٰهِ شَطَطًا وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنْ لَّنْ تَقُوْلَ الْاِنْسُ وَ الْجِنُّ عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا وَّ اَنَّہٗ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْاِنْسِ یَعُوْذُوْنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوْهُمْ رَهَقًا وَّ اَنَّهُمْ ظَنُّوْا كَمَا ظَنَنْتُمْ اَنْ لَّنْ یَّبْعَثَ اللّٰهُ اَحَدًا وَّ اَنَّا لَمَسْنَا السَّمَآءَ فَوَجَدْنٰهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِیْدًا وَّ شُهُبًا وَّ اَنَّا کُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ ؕ فَمَنْ یَّسْتَمِعِ الْاٰنَ یَجِدْ لَہٗ شِهَابًا رَّصَدًا وَّ اَنَّا لَا نَدْرِیْۤ اَشَرٌّ اُرِیْدَ بِمَنْ فِی الْاَرْضِ اَمْ اَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا وَّ اَنَّا مِنَّا الصّٰلِحُوْنَ وَ مِنَّا دُوْنَ ذٰلِكَ ؕ کُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدًا وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنْ لَّنْ نُّعْجِزَ اللّٰهَ فِی الْاَرْضِ وَ لَنْ نُّعْجِزَہٗ هَرَبًا وَّ اَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدٰۤی اٰمَنَّا بِہٖ ؕ فَمَنْ یُّؤْمِنْۢ بِرَبِّہٖ فَلَا یَخَافُ بَخْسًا وَّ لَا رَهَقًا وَّ اَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَ مِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ؕ فَمَنْ اَسْلَمَ فَاُولٰٓئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا وَ اَمَّا الْقٰسِطُوْنَ فَكَانُوْا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
“বলুন : আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি; যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না। এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার উর্ধ্বে। তিনি কোন পত্নী গ্রহণ করেননি এবং তাঁর কোন সন্তান নেই। আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত। অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না। আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওত পেতে থাকতে দেখে। আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন। আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত। আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না। আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব, যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে, সে লোকসান ও জোর-জবরের আশংকা করে না। আমাদের কিছু সংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছু সংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।” (৭২:১ – ১৫)
وَاِذْ صَرَفْنَاۤ اِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُوْنَ الْقُرْاٰنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوۤا اَنْصِتُوْا فَلَمَّا قُضِىَ وَلَّوْا اِلَىٰ قَوْمِهِمْ مُّنْذِرِيْنَ قَالُوا يٰقَوْمَنَاۤ اِنَّا سَمِعْنَا كِتٰبًا أُنْزِلَ مِنْۢ بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِىۤ اِلَى الْحَقِّ وَاِلَىٰ طَرِيْقٍ مُّسْتَقِيْمٍ یٰقَوْمَنَاۤ اَجِیْبُوْا دَاعِیَ اللّٰهِ وَاٰمِنُوْا بِہٖ یَغْفِرْ لَکُمْ مِّنْ ذُنُوْبِکُمْ وَیُجِرْکُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ وَمَنْ لَّا یُجِبْ دَاعِیَ اللّٰهِ فَلَیْسَ بِمُعْجِزٍ فِی الْاَرْضِ وَلَیْسَ لَہٗ مِنْ دُوْنِہٖۤ اَوْلِیَآءُ ؕ اُولٰٓئِكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ
“যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করছেলিাম, তারা কােরআন পাঠ শুনছলি, তারা যখন কােরআন পাঠের জায়গায় উপস্থতি হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়রে কাছে সর্তককারীরূপে ফিরে গলে । তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি যা মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব র্পূবর্বতী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যর্ধম ও সরলপথরে দিকে পরচিালতি করে । হে আমাদের সম্প্রদায়, তােমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর । তিনি তােমাদের গােনাহ র্মাজনা করবেন । আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মানবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তার কােন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরনের লােকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ।” (৪৬:২৯ – ৩২)