২০ তম অধ্যায় : আখিরাত সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস

يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ ۝ أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا فِي أَنفُسِهِم ۗ مَّا خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُّسَمًّى ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ لَكَافِرُونَ۝
“তারা (অবিশ্বাসী কাফেরগণ) পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে এবং তারা পরকালের খবর রাখে না। তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথরূপে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।” (৩০:৭–৮)

আখিরাত হলো দুনিয়া পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পরকাল। আখিরাতের ওপর বিশ্বাস ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ। এটাকে বলা হয় ঈমান–বিল–গায়েব অর্থাৎ অদৃশ্যলোকের ওপর বিশ্বাস। আল্লাহর সিদ্ধান্ত, ওয়াদা ও ঘোষণা অনুযায়ী একদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবার পর পৃথিবীকে নতুন রূপ দান করা হবে, মানুষ ও জিন জাতিকে পুনরুত্থিত করা হবে, হাশরের মাঠে তাদের বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং বিচারের ফলাফল অনুযায়ী তারা অনন্তকালীন জান্নাত অথবা জাহন্নামের অধিবাসী হবে। মানুষের আখিরাতের জীবন হবে স্থায়ী ও অনন্তকালীন। তাই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আখিরাতের জীবনে সাফল্য অর্জনের ওপর খুব বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিশ্বাস মানুষকে আল্লাহর সামনে তার জবাবদিহির ব্যাপারে সর্বাধিক সচেতন করে তোলে। এ সচেতনতা তাকে সকল দুষ্কর্ম থেকে বিরত রাখে এবং নেক আমল করতে উৎসাহিত করে। মহান আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক আখিরাতকে সামনে রেখে পার্থিব জীবনের কর্মকান্ড পরিচালনা করলে দুনিয়া ও আখিরাতে বয়ে আনবে কল্যাণ ও শান্তি। আখিরাতের গুরুত্ব বিষয়ক কিছু আয়াত নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّکُمْ وَ اخْشَوْا یَوْمًا لَّا یَجْزِیْ وَالِدٌ عَنْ وَّلَدِہٖ ۫ وَ لَا مَوْلُوْدٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَّالِدِہٖ شَیْئًا ؕ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا وَ لَا یَغُرَّنَّکُمْ بِاللّٰهِ الْغَرُوْرُ۝

“হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।” (৩১:৩৩)

تِلْكَ الدَّارُ الْاٰخِرَۃُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِیْنَ لَا یُرِیْدُوْنَ عُلُوًّا فِی الْاَرْضِ وَ لَا فَسَادًا ؕ وَ الْعَاقِبَۃُ لِلْمُتَّقِیْنَ ۝ مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَۃِ فَلَہٗ خَیْرٌ مِّنْهَا ۚ وَ مَنْ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَلَا یُجْزَی الَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ اِلَّا مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۝

“এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম। যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমাণেই প্রতিফল পাবে।” (২৮:৮৩ – ৮৪)

 قُلْ مَتَاعُ الدُّنْیَا قَلِیْلٌ ۚ وَ الْاٰخِرَۃُ خَیْرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی ۟ وَ لَا تُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا ۝

…. “(হে রাসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সুতা পরিমাণও খর্ব করা হবে না।” (৪:৭৭)

اِلٰـهُکُمْ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ قُلُوْبُهُمْ مُّنْكِرَۃٌ وَّ هُمْ مُّسْتَکْبِرُوْنَ۝ لَاجَرَمَ اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَ مَا یُعْلِنُوْنَ ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْتَکْبِرِیْنَ ۝

“আমাদের ইলাহ একক ইলাহ। অনন্তর যারা পরজীবনে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে অবগত। নিশ্চিতই তিনি অহংকারীদের পছন্দ করেন না।” (১৬:২২ – ২৩)

وَ اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰكِبُوْنَ ۝ وَ لَوْ رَحِمْنٰهُمْ وَ كَشَفْنَا مَا بِهِمْ مِّنْ ضُرٍّ لَّلَجُّوْا فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ ۝ وَ لَقَدْ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوْا لِرَبِّهِمْ وَ مَا یَتَضَرَّعُوْنَ ۝ حَتّٰۤی اِذَا فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِیْدٍ اِذَا هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَ ۝ وَهُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَ لَکُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَۃَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْکُرُوْنَ ۝

“আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারা সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। যদি আমি তাদের প্রতি দয়া করি এবং তাদের কষ্ট দূর করে দেই, তবুও তারা তাদের অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে লেগে থাকবে। আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের পালনকর্তার সামনে নত হল না এবং কাকুতি–মিনতিও করল না। অবশেষে যখন আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দ্বার খুলে দেব, তখন তাতে তাদের আশা ভঙ্গ হবে। তিনি তোমাদের কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক।” (২৩:৭৪ – ৭৮)

وَ قَالُوْۤاءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا وَّ رُفَاتًاءَ اِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ خَلْقًا جَدِیْدًا ۝ قُلْ کُوْنُوْا حِجَارَۃً اَوْ حَدِیْدًا ۝ اَوْ خَلْقًا مِّمَّا یَکْبُرُ فِیْ صُدُوْرِکُمْ ۚ فَسَیَقُوْلُوْنَ مَنْ یُّعِیْدُنَا ؕ قُلِ الَّذِیْ فَطَرَکُمْ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ۚ فَسَیُنْغِضُوْنَ اِلَیْكَ رُءُوْسَهُمْ وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هُوَ ؕ قُلْ عَسٰۤی اَنْ یَّکُوْنَ قَرِیْبًا ۝

“তারা বলে: যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ–বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব? বলুন: তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহা। অথবা এমন কোন বস্তু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন; তথাপি তারা বলবে: আমাদেরকে পুর্নবার কে সৃষ্টি করবে? বলুন: যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃজন করেছেন। অতঃপর তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে: এটা কবে হবে? বলুন: হবে, সম্ভবতঃ শীঘ্রই।” (১৭:৪৯ – ৫১)

اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنكُمْ عَبَثًا وَّاَنَّكُمْ اِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ۝

“তোমরা কি ধারণা করে নিয়েছ যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না।” (২৩:১১৫)?”

وَ لِکُلِّ اُمَّۃٍ اَجَلٌ ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَۃً وَّ لَا یَسْتَقْدِمُوْنَ ۝

“প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে।” (৭:৩৪)

الَّذِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ یَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ؕ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَۃِ هُمْ کٰفِرُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ لَمْ یَکُوْنُوْا مُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ وَ مَا كَانَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ اَوْلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ؕ مَا كَانُوْا یَسْتَطِیْعُوْنَ السَّمْعَ وَ مَا كَانُوْا یُبْصِرُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۝ لَا جَرَمَ اَنَّهُمْ فِی الْاٰخِرَۃِ هُمُ الْاَخْسَرُوْنَ ۝ اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اَخْبَتُوْۤا اِلٰی رَبِّهِمْ ۙ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝ مَثَلُ الْفَرِیْقَیْنِ كَالْاَعْمٰی وَ الْاَصَمِّ وَ الْبَصِیْرِ وَ السَّمِیْعِ ؕ هَلْ یَسْتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَفَلَا تَذَكَرُوْنَ۝

“যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়ায়, এরাই আখিরাতকে অস্বীকার করে। তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা (সত্য পথের কথা) শোনতে পারত না এবং (সুপথ) দেখতেও পেত না। এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, (আখিরাতে) তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে যাবে। আখিরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। (জান্নাতী ও জাহান্নামী) উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন (জাহান্নামীরা) অন্ধ ও বধির এবং (জান্নাতীরা) চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন; উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না।” (১১:১৯ – ২৪)

اِنَّمَاۤ اَمْرُہٗۤ اِذَاۤ اَرَادَ شَیْئًا اَنْ یَّقُوْلَ لَہٗ کُنْ فَیَکُوْنُ ۝ فَسُبْحٰنَ الَّذِیْ بِیَدِہٖ مَلَکُوْتُ کُلِّ شَیْءٍ وَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۝

“তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়। অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩৬:৮২ – ৮৩)

اِنَّ رَبَّكَ هُوَ یَفْصِلُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۝ اَوَ لَمْ یَہْدِ لَهُمْ كَمْ اَهْلَکْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ یَمْشُوْنَ فِیْ مَسٰكِنِهِمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ ؕ اَفَلَا یَسْمَعُوْنَ۝ اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّا نَسُوْقُ الْمَآءَ اِلَی الْاَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِہٖ زَرْعًا تَاْکُلُ مِنْهُ اَنْعَامُهُمْ وَ اَنْفُسُهُمْ ؕ اَفَلَا یُبْصِرُوْنَ ۝ وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْفَتْحُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝ قُلْ یَوْمَ الْفَتْحِ لَا یَنْفَعُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِیْمَانُهُمْ وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ۝ فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَ انْتَظِرْ اِنَّهُمْ مُّنْتَظِرُوْنَ ۝

“তারা যে বিষয়ে মত বিরোধ করছে, আপনার পালনকর্তাই কেয়ামতের দিন সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন। এতে কি তাদের চোখ খোলেনি যে, আমি তাদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যাদের বাড়ী-ঘরে এরা বিচরণ করে। অবশ্যই এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তারা কি শোনে না? তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি ঊষর ভ‚মিতে পানি প্রবাহিত করে শস্য উদগত করি, যা থেকে ভক্ষণ করে তাদের জন্তুরা এবং তারা কি দেখে না? তারা বলে তোমরা সত্যবাদী হলে বল; কবে হবে এই ফয়সালা? বলুন, ফয়সালার দিনে কাফেরদের ঈমান তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে অবকাশ ও দেয়া হবে না। অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং অপেক্ষা করুন, তারাও অপেক্ষা করছে।” (৩২:২৫ – ৩০)

وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ فَأُولَـٰئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ ۝
“আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।” (৩০:১৬)

 

পার্থিব জীবন বনাম আখিরাতের জীবন

وَ مَا هٰذِهِ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَہْوٌ وَّ لَعِبٌ ؕ وَ اِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَۃَ لَهِیَ الْحَیَوَانُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ۝

“এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া–কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের নিবাসই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।” (২৯:৬৪)

মানুষ মরণশীল জীব, তার পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। একটি নির্দিষ্ট সময় দুনিয়ায় অবস্থানের পর মৃত্যুর সাথে সাথেই হবে তার এ জীবনের অবসান। তাই এ পৃথিবী মানুষের স্থায়ী নিবাস নয়। পার্থিব জীবন মানুষের অস্থায়ী ঠিকানা আর পরকাল বা আখিরাত হলো তার স্থায়ী আবাসস্থল যেখানে সে অনন্তকাল অবস্থান করবে। সেখানে থাকবে দু‘টি আবাস্থল – একটি জান্নাত ও অপরটি জাহান্নাম। তাই  আখিরাতের জবাবদিহিতা ও জাহান্নামের শাস্তির ভয় এবং স্থায়ী শান্তি ও সুখের নিবাস জান্নাত প্রাপ্তির আশা সামনে রেখেই মানুষকে তার দুনিয়ার জীবন পরিচালিত করতে হবে। মহান আল্লাহ্ পৃথিবীকে বানিয়েছেন মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার হিসেবে। এ দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে মৃত্যুর পূর্বেই মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম দ্বারা তার স্থায়ী ঠিকানা আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয় করতে হবে। আখিরাতের সাফল্যই হলো মানুষের প্রকৃত অর্জন। যারা আল্লাহর নেক বান্দা তারা উভয়কালেই সাফল্য অর্জন করে।

মানুষ পার্থিব জীবনের সাময়িক চাকচিক্যে মুগ্ধ হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন সে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয় এবং পরকালীন অনন্ত জীবনের কথা ভুলে যায়। অধিকাংশ মানুষ মনে করে – তারা কখনও পুনরুত্থিত হবো না। তাই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের এ ভ্রান্ত ধারণাকে খন্ডন করেছেন এবং ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের চেয়ে স্থায়ী আখিরাতের জীবনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। নবী করীম (সা) দুনিয়ার জীবনের উপর আখিরাতের জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যে দুনিয়াকে ভালোবাসবে, তার আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যে আখিরাতকে ভালোবাসবে তার দুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমতাবস্থায় তোমরা চিরস্থায়ী জীবনকে ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর জীবনের ওপর অগ্রাধিকার দাও (মেশকাত, আবু মূসা রা:)।’

পার্থিব জীবন ও আখিরাতের জীবনের একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

পার্থিব জীবন

আখিরাতের জীবন

প্রতিটি মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর মৃত্যুর সাথেসাথেই হবে তার ইহকালীন জীবনের অবসান। তাই এ পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী।

 

 

পরকালীন জীবন মৃত্যুহীন, অনন্ত ও চিরস্থায়ী। দৈহিক মৃত্যুতে মানবাত্মার বিনাশ ঘটবে না। দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মের প্রতিফল লাভের জন্য পুনরুত্থান দিবসে তার পুনরুত্থান ও পুনরুজ্জীবন ঘটবে। তখন তার আবাসস্থল হবে আখিরাতের চিরস্থায়ী ও অনন্তকালীন জান্নাত অথবা জাহান্নাম।
এ পার্থিব জীবনে মানুষ অস্তিত্বশীল, দৃশ্যমান, বাহ্যিক ও বস্তুগত। এ জীবনের আনন্দ – উল্লাস ও দুঃখ – বেদনা সাময়িক।

 

পরকালীন জীবন অদৃশ্য ও বিমূর্ত এবং ঈমান ও আক্বিদার সাথে সম্পৃক্ত। পুনরুত্থান দিবসে পরকালীন জীবনের ঘটনাবলী দৃশ্যমান হবে।  আখিরাতে জান্নাতের সুখ ও শান্তি এবং জাহান্নামের শাস্তি ও কষ্ট হবে চিরস্থায়ী।
  এ পার্থিব জীবনে আল্লাহ্ মানুষের মধ্যে বিবেকবোধ ও ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন যাতে তিনি তাদের বিশ্বাস ও কর্মের পরীক্ষা নিতে পারেন। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য মানুষকে আমৃত্যু চেষ্টা সাধনা চালাতে হয়। আখিরাত হলো প্রতিদান লাভ ও ভোগের স্থল। আখিরাতে আল্লাহ্  সুক্ষ্ম ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাঁর প্রতিটি বান্দার বিশ্বাস ও কর্মের প্রতিফল দান করবেন। তারা তাদের কর্মফল অনুযায়ী প্রতিদান হিসেবে জান্নাত অথবা জাহান্নামের অধিকারী হবে।
 এ পার্থিব জীবনের সুখ ও আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু অধিকাংশ মানুষের কাছে তা চাকচিক্যময়। পরকালীন জীবনের সুখ ও শান্তি চিরস্থায়ী, অথচ অধিকাংশ মানুষের কাছেই তা উপেক্ষিত।
পার্থিব জীবন হলো  মানুষের কর্মস্থল অর্থাৎ সাওয়াব কামানোর জায়গা যা পরকালের পাথেয়।

 

যারা যত বেশী সাওয়াব কামাবে পরকালে তারা তত বেশী কামিয়াবী অর্জন করবে। আর যাদের সাওয়াব যত কম হবে তাদের পরকালীন জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
মহান আল্লাহ্ মানুষকে এ দুনিয়ায় তাদের পাপমোচন ও অপকর্ম সংশোধনের জন্য অনেক অবকাশ ও সুযোগ দিয়ে থাকেন যাতে তারা পবিত্র জীবন যাপন করতে পারে। তিনি তাদেরকে দয়া ও ক্ষমা করেন যারা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা চায় ও  তাঁর কাছে ফিরে আসে। পরকালে নিজেকে সংশোধন করা ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না। (৩২:২৯)

 

 

 

পার্থিব জীবনকে যারা পরম প্রাপ্তি মনে করে আর আখিরাতকে অবিশ্বাস বা উপেক্ষা করে তারাই অখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত। পরকালকে যারা বিশ্বাস করে, কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সৎ জীবন যাপন করে ও সৎকর্ম করে আখিরাতে তারাই সর্বাধিক সাফল্য লাভকারী।

 

দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতসমূহ নিম্নে বর্ণিত হলো:

وَ اضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلَ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا كَمَآءٍ اَنْزَلْنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخْتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الْاَرْضِ فَاَصْبَحَ هَشِیْمًا تَذْرُوْهُ الرِّیٰحُ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ مُّقْتَدِرًا ۝ اَلْمَالُ وَالْبَنُوْنَ زِیْنَۃُ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۚ وَ الْبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّ خَیْرٌ اَمَلًا ۝

“তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভ‚মিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য, কিন্তু স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম।” (১৮:৪৫ – ৪৬)

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّمَا بَغْیُکُمْ عَلٰۤی اَنْفُسِکُمْ ۙ مَّتَاعَ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۫ ثُمَّ اِلَیْنَا مَرْجِعُکُمْ فَنُنَبِّئُکُمْ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۝ اِنَّمَا مَثَلُ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا كَمَآءٍ اَنْزَلْنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخْتَلَطَ بِہٖ نَبَاتُ الْاَرْضِ مِمَّا یَاْکُلُ النَّاسُ وَ الْاَنْعَامُ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذَتِ الْاَرْضُ زُخْرُفَهَا وَ ازَّیَّنَتْ وَ ظَنَّ اَهْلُهَاۤ اَنَّهُمْ قٰدِرُوْنَ عَلَیْهَاۤ ۙ اَتٰهَاۤ اَمْرُنَا لَیْلًا اَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنٰهَا حَصِیْدًا كَاَنْ لَّمْ تَغْنَ بِالْاَمْسِ ؕ كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّتَفَكَرُوْنَ۝

“…….হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও – অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে। পার্থিব জীবনের উদাহরণ তেমনি, যেমনি আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করলাম, পরে তা মিলিত সংমিশ্রিত হয়ে তা থেকে যমীনের শ্যামল উদ্ভিদ বেরিয়ে এল যা মানুষ ও জীব–জন্তুরা খেয়ে থাকে। এমনকি যমীন যখন সৌন্দর্য -সুষমায় ভরে উঠলো আর যমীনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল, এগুলো আমাদের হাতে আসবে, হঠাৎ করে তার উপর আমার নির্দেশ এল রাত্রে কিংবা দিনে, তখন সেগুলোকে কেটে স্তুপাকার করে দিল যেন কালও এখানে কোন আবাদ ছিল না। এমনিভাবে আমি খোলাখুলি বর্ণনা করে থাকি নিদর্শনসমূহ সে সমস্ত লোকদের জন্য যারা অনুধাবন করে।” (১০:২৩ – ২৪)

اِعْلَمُوْۤا اَنَّمَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّ لَہْوٌ وَّ زِیْنَۃٌ وَّ تَفَاخُرٌۢ بَیْنَکُمْ وَ تَكَاثُرٌ فِی الْاَمْوَالِ وَ الْاَوْلَادِ ؕ كَمَثَلِ غَیْثٍ اَعْجَبَ الْکُفَّارَ نَبَاتُہٗ ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَکُوْنُ حُطَامًا ؕ وَ فِی الْاٰخِرَۃِ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ۙ وَّ مَغْفِرَۃٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانٌ ؕ وَ مَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ ۝

“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ–সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।” (৫৭:২০)

وَ لَا تَمُدَّنَّ عَیْنَیْكَ اِلٰی مَا مَتَّعْنَا بِہٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَۃَ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۬ۙ لِنَفْتِنَهُمْ فِیْهِ ؕ وَ رِزْقُ رَبِّكَ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی ۝

“আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ–বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।” (২০:১৩১)

وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّمَاۤ اَمْوَالُکُمْ وَ اَوْلَادُکُمْ فِتْنَۃٌ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ عِنْدَہٗۤ اَجْرٌ عَظِیْمٌ

“আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি অকল্যাণের সম্মুখীনকারী। বস্তুত আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাসওয়াব।” (৮:২৮)

مَتَاعٌ فِی الدُّنْیَا ثُمَّ اِلَیْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِیْقُهُمُ الْعَذَابَ الشَّدِیْدَ بِمَا كَانُوْا یَکْفُرُوْنَ۝

“পার্থিবজীবনে সামান্যই লাভ, অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন আযাব -তাদেরই কৃত কুফরীর বদলাতে।” (১০:৭০)

اَللّٰهُ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یَقْدِرُ ؕ وَ فَرِحُوْا بِالْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ؕ وَ مَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا فِی الْاٰخِرَۃِ اِلَّا مَتَاعٌ ۝

“আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিব জীবন পরকালের সামনে অতি সামান্য সম্পদ বৈ নয়।” (১৩:২৬)

الَّذِیْنَ یَسْتَحِبُّوْنَ الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا عَلَی الْاٰخِرَۃِ وَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ یَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ؕ اُولٰٓئِكَ فِیْ ضَلٰلٍۭ بَعِیْدٍ ۝

“যারা পরকালের চাইতে পার্থিব জীবনকে পছন্দ করে; আল্লাহর পথে বাধা দান করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে, তারা পথ ভুলে দূরে পড়ে আছে।” (১৪:৩)

یَعْلَمُوْنَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۚۖ وَ هُمْ عَنِ الْاٰخِرَۃِ هُمْ غٰفِلُوْنَ ۝ اَوَ لَمْ یَتَفَكَرُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۟ مَا خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَاِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَآیِٔ رَبِّهِمْ لَکٰفِرُوْنَ ۝

“তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে এবং তারা পরকালের খবর রাখে না। তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথরূপে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ (পরকালে) তাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।” (৩০:৭ – ৮)

مَنْ كَانَ یُرِیْدُ الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا وَ زِیْنَتَهَا نُوَفِّ اِلَیْهِمْ اَعْمَالَهُمْ فِیْهَا وَ هُمْ فِیْهَا لَا یُبْخَسُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ لَیْسَ لَهُمْ فِی الْاٰخِرَۃِ اِلَّا النَّارُ ۫ۖ وَ حَبِطَ مَا صَنَعُوْا فِیْهَا وَ بٰطِلٌ مَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۝

“যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না। এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।” (১১:১৫ – ১৬)

زُیِّنَ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا وَ یَسْخَرُوْنَ مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۘ وَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ؕ وَ اللّٰهُ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ ۝

“পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে মোহগ্রস্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন জীবিকা দান করেন।” (২:২১২)

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا وَلَا یَغُرَّنَّکُمْ بِاللّٰهِ الْغَرُوْرُ۝

“হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারণা না করে। এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে।” (৩৫:৫)

وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّعْجِبُكَ قَوْلُہٗ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ یُشْهِدُ اللّٰهَ عَلٰی مَا فِیْ قَلْبِہٖ ۙ وَ هُوَ اَلَدُّ الْخِصَامِ ۝

“আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা আপনাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক।” (২:২০৪)

لَا یَسْـَٔمُ الْاِنْسَانُ مِنْ دُعَآءِ الْخَیْرِ ۫ وَ اِنْ مَّسَّهُ الشَّرُّ فَیَـُٔوْسٌ قَنُوْطٌ ۝ وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ رَحْمَۃً مِّنَّا مِنْۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ هٰذَا لِیْ ۙ وَ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنْ رُّجِعْتُ اِلٰی رَبِّیْۤ اِنَّ لِیْ عِنْدَہٗ لَلْحُسْنٰی ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِمَا عَمِلُوْا ۫ وَ لَنُذِیْقَنَّهُمْ مِّنْ عَذَابٍ غَلِیْظٍ ۝ وَ اِذَاۤ اَنْعَمْنَا عَلَی الْاِنْسَانِ اَعْرَضَ وَنَاٰ بِجَانِبِہٖ ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُوْ دُعَآءٍ عَرِیْضٍ۝

“মানুষ (পার্থিব) উন্নতি কামনায় ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি। আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।” (৪১:৪৯ – ৫১)

وَ مَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ؕ وَ مَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الدُّنْیَا نُؤْتِہٖ مِنْهَا ۚ وَ مَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الْاٰخِرَۃِ نُؤْتِہٖ مِنْهَا ؕ وَ سَنَجْزِی الشّٰكِرِیْنَ۝

“আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না – সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুত যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে, যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো।” (৩:১৪৫)

بَلْ تُؤْثِرُوْنَ الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا ۝ وَ الْاٰخِرَۃُ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی ۝ اِنَّ هٰذَا لَفِی الصُّحُفِ الْاُوْلٰی ۝ صُحُفِ اِبْرٰهِیْمَ وَ مُوْسٰی ۝

“বস্তুত তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবসমূহে; ইব্রাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।” (৮৭:১৬ – ১৯)

اِنَّمَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّ لَہْوٌ ؕ وَ اِنْ تُؤْمِنُوْا وَ تَتَّقُوْا یُؤْتِکُمْ اُجُوْرَکُمْ وَ لَا یَسْـَٔلْکُمْ اَمْوَالَکُمْ ۝

“পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও এবং সংযম অবলম্বন কর, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দেবেন এবং তিনি তোমাদের কাছ থেকে ধন-সম্পদ চাইবেন না।” (৪৭:৩৬)

وَقَالُوْا اِنْ هِىَ اِلَّاحَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِيْنَ۝

“তারা বলে: আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন। আমাদেরকে পুনরায় জীবিত হতে হবে না।” (৬:২৯)

وَمَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّ لَہْوٌ ؕ وَلَلدَّارُ الْاٰخِرَۃُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ۝

“পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্ঠতর। তোমরা কি বুঝ না।” (৬:৩২)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَا لَکُمْ اِذَا قِیْلَ لَکُمُ انْفِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اثَّاقَلْتُمْ اِلَی الْاَرْضِ ؕ اَرَضِیْتُمْ بِالْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا مِنَ الْاٰخِرَۃِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا فِی الْاٰخِرَۃِ اِلَّا قَلِیْلٌ ۝

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।” (৯:৩৮)

وَ ذَرِ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَعِبًا وَّ لَہْوًا وَّ غَرَّتْهُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا وَ ذَكِرْ بِہٖۤ اَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌۢ بِمَا كَسَبَتْ ٭ۖ لَیْسَ لَهَا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیٌّ وَّ لَا شَفِیْعٌ ۚ وَ اِنْ تَعْدِلْ کُلَّ عَدْلٍ لَّا یُؤْخَذْ مِنْهَا ؕ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ اُبْسِلُوْا بِمَا كَسَبُوْا ۚ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّ عَذَابٌ اَلِیْمٌۢ بِمَا كَانُوْا یَکْفُرُوْنَ۝

“তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। এর (কুরআন) দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যখন আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী থাকবে না এবং যদি তারা জগতের সব বিনিময়ও প্রদান করে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এরাই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে-কুফরের কারণে।” (৬:৭০)

اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوْنَ الْعَاجِلَۃَ وَ یَذَرُوْنَ وَرَآءَهُمْ یَوْمًا ثَقِیْلًا ۝ نَحْنُ خَلَقْنٰهُمْ وَ شَدَدْنَاۤ اَسْرَهُمْ ۚ وَ اِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَاۤ اَمْثَالَهُمْ تَبْدِیْلًا ۝

“নিশ্চয় এরা (কাফেরগণ) পার্থিব জীবনকে ভালবাসে এবং পরবর্তী এক কঠিন দিবসকে উপেক্ষাবশত পশ্চাতে ফেলে রাখে। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন। আমি যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরূপ কোন জাতিকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করব।” (৭৬:২৭ – ২৮)।

مَنْ كَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الْاٰخِرَۃِ نَزِدْ لَہٗ فِیْ حَرْثِہٖ ۚ وَ مَنْ كَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الدُّنْیَا نُؤْتِہٖ مِنْهَا وَ مَا لَہٗ فِی الْاٰخِرَۃِ مِنْ نَّصِیْبٍ۝

“যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।” (৪২:২০)

مَنْ كَانَ یُرِیْدُ ثَوَابَ الدُّنْیَا فَعِنْدَ اللّٰهِ ثَوَابُ الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَۃِ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا۝

“যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখিরাতের (উভয় কালের) কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সব কিছু শুনেন ও দেখেন।” (৪:১৩৪)

فَاٰتٰىهُمُ اللّٰهُ ثَوَابَ الدُّنْیَا وَ حُسْنَ ثَوَابِ الْاٰخِرَۃِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ۝

“অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা এই নেক বান্দাদেরকে দুনিয়ার জীবনেও ভালো প্রতিফল দিয়েছেন এবং পরকালীন জীবনেও তিনি তাদের জন্য সুন্দর পুরস্কারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ্ তা’আলা নেককার বান্দাদের ভালবাসেন।” (৩:১৪৮)।

وَمَا الْحَيَوةُ الدُّنْيَا اِلَّا مَتعُ الْغُرُوْرِ۝

“…………আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।” (৩:১৮৫)

زُیِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوٰتِ مِنَ النِّسَآءِ وَ الْبَنِیْنَ وَ الْقَنَاطِیْرِ الْمُقَنْطَرَۃِ مِنَ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّۃِ وَ الْخَیْلِ الْمُسَوَّمَۃِ وَ الْاَنْعَامِ وَ الْحَرْثِ ؕ ذٰلِكَ مَتَاعُ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ۚ وَ اللّٰهُ عِنْدَہٗ حُسْنُ الْمَاٰبِ۝

“মানবক‚লকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান–সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ–রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।” (৩:১৪)

وَاِنَّہٗ لِحُبِّ الْخَیْرِ لَشَدِیْدٌ ۝ اَفَلَا یَعْلَمُ اِذَا بُعْثِرَ مَا فِی الْقُبُوْرِ ۝ وَ حُصِّلَ مَا فِی الصُّدُوْرِ۝ اِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ یَوْمَئِذٍ لَّخَبِیْرٌ ۝

“এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত। সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে, তা প্রতীয়মান করা হবে? সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ পরিজ্ঞাত।” (১০০:৮ – ১১)

وَ مَاۤ اُوْتِیْتُمْ مِّنْ شَیْءٍ فَمَتَاعُ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ زِیْنَتُهَا ۚ وَ مَا عِنْدَ اللّٰهِ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۝ اَفَمَنْ وَّعَدْنٰهُ وَعْدًا حَسَنًا فَهُوَ لَاقِیْهِ كَمَنْ مَّتَّعْنٰهُ مَتَاعَ الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا ثُمَّ هُوَ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ مِنَ الْمُحْضَرِیْنَ ۝

“তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা বৈ নয়। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বোঝ না? যাকে আমি উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা সে পাবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার দিয়েছি, অতঃপর তাকে কেয়ামতের দিন অপরাধীরূপে হাযির করা হবে।” (২৮:৬০ – ৬১)

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَ رَضُوْا بِالْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ ۝ اُولٰٓئِكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَکْسِبُوْنَ ۝ اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ ۚ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ۝

“অবশ্যই যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করেছে এবং যারা আমার নির্দশনসমূহ সম্পর্কে বেখবর। এমন লোকদের ঠিকানা হল আগুন সেসবের বদলা হিসাবে যা তারা অর্জন করছিল। অবশ্য যেসব লোক ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে হেদায়েত দান করবেন তাদের পালনকর্তা, তাদের ঈমানের মাধ্যমে। এমন সুখময় কাননকুঞ্জের প্রতি যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণসমূহ।” (১০:৭ – ৯)

مَنْ كَانَ یُرِیْدُ الْعَاجِلَۃَ عَجَّلْنَا لَہٗ فِیْهَا مَا نَشَآءُ لِمَنْ نُّرِیْدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَہٗ جَهَنَّمَ ۚ یَصْلٰىهَا مَذْمُوْمًا مَّدْحُوْرًا ۝ وَ مَنْ اَرَادَ الْاٰخِرَۃَ وَ سَعٰی لَهَا سَعْیَهَا وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓئِكَ كَانَ سَعْیُهُمْ مَّشْکُوْرًا ۝ کُلًّا نُّمِدُّ هٰۤؤُلَآءِ وَ هٰۤؤُلَآءِ مِنْ عَطَآءِ رَبِّكَ ؕ وَمَا كَانَ عَطَـآءُ رَبِّكَ مَحْظُوْرًا۝ اُنْظُرْ كَیْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ وَ لَلْاٰخِرَۃُ اَکْبَرُ دَرَجٰتٍ وَّ اَکْبَرُ تَفْضِیْلًا ۝

“যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্ত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করি। ওরা তাতে নিন্দিত–বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে। আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মু’মিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা-সাধনা করে, এমন লোকদের চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে। এদেরকে এবং ওদেরকে প্রত্যেককে আমি আপনার পালনকর্তার দান পৌঁছে দেই এবং আপনার পালকর্তার দান অবধারিত। দেখুন, আমি তাদের একদলকে অপরের উপর কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম। পরকাল তো নিশ্চয়ই মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং ফযীলতে শ্রেষ্ঠতম।” (১৭:১৮ – ২১)

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُکُمْ بِالْاَخْسَرِیْنَ اَعْمَالًا ۝ اَلَّذِیْنَ ضَلَّ سَعْیُهُمْ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ هُمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ یُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ۝ اُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ وَ لِقَآئِہٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِیْمُ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ وَزْنًا ۝

“বলুন: আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং ক্বিয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না।” (১৮:১০৩ – ১০৫)

فَاَعْرِضْ عَنْ مَّنْ تَوَلّٰی ۬ۙ عَنْ ذِکْرِنَا وَ لَمْ یُرِدْ اِلَّا الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا ۝ ذٰلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِہٖ ۙ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدٰی ۝

“অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন। তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।” (৫৩:২৯ – ৩০)

وَ قَالُوْا مَا هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا نَمُوْتُ وَ نَحْیَا وَ مَا یُہْلِکُنَاۤ اِلَّا الدَّهْرُ ۚ وَ مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۚ اِنْ هُمْ اِلَّا یَظُنُّوْنَ ۝

“তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।” (৪৫:২৪)

 

মৃত্যু বিষয়ক আয়াতসমূহ

……كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَاِنَّمَا تُوْفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيْمَةِ

“প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে ………।” (৩:১৮৫)

সৃষ্টির অমোঘ নিয়মেই মানুষ মরণশীল প্রাণী। ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’ — এ এক নিশ্চিত ও অবধারিত ঘটনা। অথচ অবিশ্বাসী ও উদাসী মানুষ এ অবশ্যাম্ভাবী বিষয়টি সম্পর্কে জেনেও বেখবর। এ দুনিয়ার কামনা–বাসনা তাকে এমনই মোহাবিষ্ট করে রাখে যে কবর তার সামনে না আসা পর্যন্ত তার কোন হুঁশ–জ্ঞান থাকেনা। মৃত্যুর সোপান পেরিয়েই এক নির্দিষ্ট দিনে মানুষ প্রবেশ করবে তার আখিরাতের জীবনে। আর তখনই শুরু হবে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের প্রদত্ত ওয়াদাসমূহ বাস্তবায়নের কাল। মৃত্যু বিষয়ক আয়াতসমূহ নিম্নে উদ্ধৃত হলো :

وَ جَآءَتْ سَکْرَۃُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِكَ مَا کُنْتَ مِنْهُ تَحِیْدُ

“মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে।” (৫০:১৯)

وَ مَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ؕ …..۝

“আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না – সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। ………।” (৩:১৪৫)

قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِیْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّہٗ مُلٰقِیْکُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰی عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ فَیُنَبِّئُکُمْ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۝

“বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।” (৬২:৮)

وَ هُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِہٖ وَ یُرْسِلُ عَلَیْکُمْ حَفَظَۃً ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا یُفَرِّطُوْنَ ۝ ثُمَّ رُدُّوْۤا اِلَی اللّٰهِ مَوْلٰىهُمُ الْحَقِّ ؕ اَلَا لَهُ الْحُکْمُ ۟ وَ هُوَ اَسْرَعُ الْحٰسِبِیْنَ ۝

“অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী (ফেরেশতা)। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়। অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন।” (৬:৬১ – ৬২)

كَلَّاۤ اِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِیَ ۝ وَ قِیْلَ مَنْ رَاقٍ ۝ وَّ ظَنَّ اَنَّهُ الْفِرَاقُ ۝ وَ الْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ ۝ اِلٰی رَبِّكَ یَوْمَئِذِۣ الْمَسَاقُ ۝

“কক্ষনো নয়, মানুষের প্রাণ (যখন) তার কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে যাবে, তাকে বলা হবে এ (সঙ্কটের) সময় ঝাড়-ফুঁক দেয়ার মত কেউ আছে কি? সে (তখন ঠিকই) বুঝে যাবে, (পৃথিবী থেকে এখন) তার বিদায়ের পালা। (আর এভাবেই) তার (এ জীবনের শেষ) পা’ (পর জীবনের প্রথম) পা’র সাথে জড়িয়ে যাবে, আর সে দিনটিই হবে আপনার মালিকের দিকে (তার অনন্ত) যাত্রার (প্রথম) সময়।” (৭৫:২৬ – ৩০)

وَ مَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ ؕ اَفَا۠ئِنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخٰلِدُوْنَ ۝ کُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَۃُ الْمَوْتِ ؕ وَ نَبْلُوْکُمْ بِالشَّرِّ وَ الْخَیْرِ فِتْنَۃً ؕ وَ اِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ ۝

“আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (২১:৩৪ – ৩৫)

اَيْنَمَا تَكُوْنُوْا يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِى بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ ۗ وَاِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُوْلُوْا هذِه مِنْ عِندِ اللهِ وَاِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُوْلُوْا هذِه مِنْ عِندِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِندِ اللهِ فَمَالِ هؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُوْنَ يَفْقَهُوْنَ حَدِيْثًا۝

“তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুত তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।” (৪:৭৮)

وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ۝ وَ لَنْ یُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُهَا ؕ وَاللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ۝

“আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবে: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। প্রত্যেক ব্যক্তির (মৃত্যুর) নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।” (৬৩:১০ – ১১)

کُتِبَ عَلَیْکُمْ اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ اِنْ تَرَكَ خَیْرَۨا ۚۖ الْوَصِیَّۃُ لِلْوَالِدَیْنِ وَ الْاَقْرَبِیْنَ بِالْمَعْرُوْفِ ۚ حَقًّا عَلَی الْمُتَّقِیْنَ۝

“তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন–সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওছিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা–মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে – পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী।” (২:১৮০)

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَ لَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْن۝

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।।” (৩:১০২)

اِنَّ اللّٰهَ لَہٗ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ؕ وَ مَا لَکُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ۝

“নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।” (৯:১১৬)

وَ مَنْ یَّرْتَدِدْ مِنْکُمْ عَنْ دِیْنِہٖ فَیَمُتْ وَ هُوَ كَافِرٌ فَاُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَۃِ ۚ وَ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝

“……. তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।।” (২:২১৭)

اِنَّ اللّٰهَ عِنْدَہٗ عِلْمُ السَّاعَۃِ ۚ وَ یُنَزِّلُ الْغَیْثَ ۚ وَ یَعْلَمُ مَا فِی الْاَرْحَامِ ؕ وَ مَا تَدْرِیْ نَفْسٌ مَّاذَا تَکْسِبُ غَدًا ؕ وَ مَا تَدْرِیْ نَفْسٌۢ بِاَیِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ۝

“নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই ক্বিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” (৩১:৩৪)

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ ۝ لَعَلِّیْۤ اَعْمَلُ صَالِحًا فِیْمَا تَرَکْتُ كَلَّا ؕ اِنَّهَا كَلِمَۃٌ هُوَ قَآئِلُهَا ؕ وَ مِنْ وَّرَآئِهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ ۝

“যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” (২৩:৯৯ – ১০০)

قُلْ یَتَوَفّٰىکُمْ مَّلَکُ الْمَوْتِ الَّذِیْ وُكِلَ بِکُمْ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمْ تُرْجَعُوْنَ

“বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩২:১১)

قُلِ اللّٰهُ یُحْیِیْکُمْ ثُمَّ یُمِیْتُکُمْ ثُمَّ یَجْمَعُکُمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَۃِ لَا رَیْبَ فِیْهِ وَ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ۝

“আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।” (৪৫:২৬)

فَلَوْ لَاۤ اِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ ۝ وَ اَنْتُمْ حِیْنَئِذٍ تَنْظُرُوْنَ ۝ وَ نَحْنُ اَقْرَبُ اِلَیْهِ مِنْکُمْ وَ لٰكِنْ لَّا تُبْصِرُوْنَ ۝ فَلَوْ لَاۤ اِنْ کُنْتُمْ غَیْرَ مَدِیْنِیْنَ ۝ تَرْجِعُوْنَهَاۤ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝

“অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। যদি তোমাদের হিসাব–কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়, তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (৫৬:৮৩ – ৮৭)

یٰۤاَیَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّۃُ ۝ ارْجِعِیْۤ اِلٰی رَبِّكِ رَاضِیَۃً مَّرْضِیَّۃً ۝ فَادْخُلِیْ فِیْ عِبٰدِیْ ۝ وَ ادْخُلِیْ جَنَّتِیْ ۝

“হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।” (৮৯:২৭ – ৩০)

الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۪ فَاَلْقَوُا السَّلَمَ مَا کُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوْٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۝ فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ ۝

“নিজেদের উপর যুলুমরত অবস্থায় ফেরেশতারা যখন তাদের জান কবজ করবে, তখন তারা আনুগত্য প্রকাশ করে বলবে যে, আমরা তো কোন মন্দ কাজ করতাম না। হ্যাঁ, নিশ্চয় আল্লাহ সববিষয় অবগত আছেন, যা তোমরা করতে। অতএব, জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।” (১৬:২৮ – ২৯)

الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ طَیِّبِیْنَ ۙ یَقُوْلُوْنَ سَلٰمٌ عَلَیْکُمُ ۙ ادْخُلُوا الْجَنَّۃَ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۝

“পবিত্র থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করেন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।” (১৬:৩২)

 

আলমে বরযখ (কবরের জীবন)

মৃত্যুর পর থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কবরের জীবনকে বলা হয় “আলমে বরযখ”। সৎকর্মশীল বিশ্বাসী মানুষ এবং কাফের ও অসৎ মানুষের কবরের জীবন হয় বিপরীতধর্মী। আল্লাহর নেক বান্দারা কবরে সুখ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে। তারা তাদের ঈমান ও নেক আমলের কারণে তখন থেকেই বেহেশতের সুগন্ধ ও শান্তিময় পরশ পেতে থাকবে। অপরদিকে, অসৎ ও কাফের বান্দারা কবরে দুঃস্বপ্নের ঘোরে সদা সর্বদা ভীত–সন্ত্রস্ত ও উৎকন্ঠিত অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের আযাবের মধ্যে থাকবে। এটা তাদের জন্য এক ভীষণ সঙ্কটকালীন সময়। নেক বান্দাদের রূহকে রাখা হয় ইল্লীয়্যীনে, আর কাফের ও বদ–অমলদারদের রূহকে রাখা হয় সিজ্জীনে। ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে এ অবস্থায় কবরের জীবন কাটাতে হবে। কবরে মুনকার–নকীর এ দুই ফেরেশতার সওয়াল–জবাব শেষেই মানুষের আমল অনুযায়ী তাদের রূহকে ইল্লীয়্যীন অথবা সিজ্জীনে নেওয়া হবে।

এতদসংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো :

وَ لَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتٌ ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّ لٰكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ

“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না।” (২:১৫৪)

وَ لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتًا ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُوْنَ ۝ فَرِحِیْنَ بِمَاۤ اٰتٰهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِہٖ ۙ وَ یَسْتَبْشِرُوْنَ بِالَّذِیْنَ لَمْ یَلْحَقُوْا بِهِمْ مِّنْ خَلْفِهِمْ ۙ اَلَّا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۝ یَسْتَبْشِرُوْنَ بِنِعْمَۃٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ فَضْلٍ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیْعُ اَجْرَ الْمُؤْمِنِیْنَ۝

“আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তাদের পেছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ, তাদের কোন ভয় ভীতিও নেই এবং কোন চিন্তা ভাবনাও নেই। আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ, ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।” (৩:১৬৯ – ১৭১)

َلنَّارُ یُعْرَضُوْنَ عَلَیْهَا غُدُوًّا وَّ عَشِیًّا ۚ وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ ۟ اَدْخِلُوْۤا اٰلَ فِرْعَوْنَ اَشَدَّ الْعَذَابِ۝

“সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।” (৪০:৪৬)

كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الْفُجَّارِ لَفِیْ سِجِّیْنٍ ۝ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا سِجِّیْنٌ ۝ كِتٰبٌ مَّرْقُوْمٌ ۝

“এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে। আপনি জানেন, সিজ্জীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা।” (৮৩:৭ – ৯)

كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الْاَبْرَارِ لَفِیْ عِلِّیِّیْنَ ۝ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا عِلِّیُّوْنَ ۝ كِتٰبٌ مَّرْقُوْمٌ ۝ یَّشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُوْنَ ۝ اِنَّ الْاَبْرَارَ لَفِیْ نَعِیْمٍ ۝

“কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে। আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি? এটা লিপিবদ্ধ খাতা। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে। নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে।” (৮৩:১৮ – ২২)

 

 

ক্বিয়ামতের নিদর্শন

….اِنَّ اللهَ عِنْدَه عِلْمُ السَّاعَةِ

“নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই আছে ক্বিয়ামতের জ্ঞান।” ……… (৩১:৩৪)

ক্বিয়ামত এক অবশ্যাম্ভাবী ঘটনা। সেই দিন একমাত্র আল্লাহর অস্তিত্ব ছাড়া সৃষ্টির সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টিকে নতুন রূপ দান করবেন। এ মহাপ্রলয় কখন সংঘটিত হবে সে খবর একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এর কিছু নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নিদর্শনগুলো হলো:

وَ اِنَّہٗ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَۃِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَ اتَّبِعُوْنِ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۝

“তা হলো (মরিয়ম তনয় ঈসার পুনরাবির্ভাব) ক্বিয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তোমরা ক্বিয়ামতে সন্দেহ করো না এবং আমার কথা মান। এটা এক সরল পথ।” (৪৩:৬১)

وَ اِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ اَخْرَجْنَا لَهُمْ دَآبَّۃً مِّنَ الْاَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ ۙ اَنَّ النَّاسَ كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا لَا یُوْقِنُوْنَ ۝

“যখন প্রতিশ্রুতি (ক্বিয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভ‚গর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।” (২৭:৮২)

قَالَ هٰذَا رَحْمَۃٌ مِّنْ رَّبِّیْ ۚ فَاِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّیْ جَعَلَہٗ دَكَآءَ ۚ وَ كَانَ وَعْدُ رَبِّیْ حَقًّا ۝ وَ تَرَکْنَا بَعْضَهُمْ یَوْمَئِذٍ یَّمُوْجُ فِیْ بَعْضٍ وَّ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَجَمَعْنٰهُمْ جَمْعًا ۝

“(যুলকারনাইন) বললেন: এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে (অত্যাচরী জাতি ইয়া’জুজ মা’জুজের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তাঁর নির্মিত প্রাচীর) চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।” (১৮:৯৮ – ৯৯) ।”

حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتْ یَاْجُوْجُ وَ مَاْجُوْجُ وَ هُمْ مِّنْ کُلِّ حَدَبٍ یَّنْسِلُوْنَ۝

“যে পর্যন্ত না ইয়া’জুজ ও মা’জুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভ‚মি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।” (২১:৯৬)

فَارْتَقِبْ یَوْمَ تَاْتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیْنٍ ۝ یَّغْشَی النَّاسَ ؕ هٰذَا عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۝

“অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ ধূয়ায় ছেয়ে যাবে। যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (৪৪:১০ – ১১)

فَهَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا السَّاعَۃَ اَنْ تَاْتِیَهُمْ بَغْتَۃً ۚ فَقَدْ جَآءَ اَشْرَاطُهَا ۚ فَاَنّٰی لَهُمْ اِذَا جَآءَتْهُمْ ذِکْرٰىهُمْ ۝

“তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, ক্বিয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে যাক। বস্তুত ক্বিয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং ক্বিয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?” (৪৭:১৮)

اَزِفَتِ الْاٰزِفَۃُ ۝ لَیْسَ لَهَا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ كَاشِفَۃٌ ۝

“ক্বিয়ামত নিকটে এসে গেছে। আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।” (৫৩:৫৭ – ৫৮)

اِقْتَرَبَتِ السَّاعَۃُ وَ انْشَقَّ الْقَمَرُ ۝ وَ اِنْ یَّرَوْا اٰیَۃً یُّعْرِضُوْا وَ یَقُوْلُوْا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ ۝

“ক্বিয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু।” (৫৪:১ – ২)

اِنَّهُمْ یَرَوْنَہٗ بَعِیْدًا ۝ وَّ نَرٰىهُ قَرِیْبًا ۝ یَوْمَ تَکُوْنُ السَّمَآءُ كَالْمُہْلِ ۝ وَ تَکُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِہْنِ ۝

“তারা এই আযাবকে সুদূরপরাহত মনে করে, আর আমি একে আসন্ন দেখছি। সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত। এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত।” (৭০:৬ – ৯)

 

 

ক্বিয়ামতের বর্ণনা

کُلُّ مَنْ عَلَیْهَا فَانٍ ۝ وَّ یَبْقٰی وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلٰلِ وَ الْاِکْرَامِ ۝

“ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমাময় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” (৫৫:২৬ – ২৭)

একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া এ সৃষ্টরি সবকছিুই ধ্বংসশীল। ক্বিয়ামত হবে এমনই এক ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী ধ্বংসলীলা যেদিন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশে ইস্রাফিল (আ) সিঙ্গায় ফুৎকার দেবেন এবং মুহূর্তেই সৃষ্টিকুলের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। সেদিন একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পবিত্র সত্তা ছাড়া কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না। এরপর নতুন এক পৃথিবী সৃষ্টি করা হবে যা হবে একটি উন্মুক্ত প্রান্তর, যেখানে কোন মোড় বা টিলা থাকবে না। কবর থেকে সকল মৃতদেহ পুনর্জীবিত হয়ে হাশরের মাঠে সমবেত হবে। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে ক্বিয়ামতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তবে রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যারা ক্বিয়ামতকে চাক্ষুষ ঘটনার আকারে দেখতে আগ্রহী তারা যেন ‘তাকভীর’, ‘ইনফিতার’ ও ‘ইনশিকাক’ (৮১, ৮২ ও ৮৪নং সূরা) – এ তিনটি সূরা পড়ে নেয়। এ সূরাগুলোতে ক্বিয়ামতের এমন নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে যে, তা তাদের মনমগজে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করবে (তিরমিযী)।’ এ ছাড়াও বিভিন্ন আয়াতে ক্বিয়ামতের বর্ণনা রয়েছে।

এতদসম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে প্রদত্ত হলো :

وَهُوَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ وَ یَوْمَ یَقُوْلُ کُنْ فَیَکُوْنُ ۬ؕ قَوْلُهُ الْحَقُّ ؕ وَ لَهُ الْمُلْکُ یَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ ؕ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْخَبِیْر۝

“তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি (আবার) বলবেন: (সবকিছু বিলীন) হয়ে যাও, (তৎক্ষণাৎ) তা (বিলীন) হয়ে যাবে, তাঁর কথাই হচ্ছে চ‚ড়ান্ত সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার করা হবে, সেদিন যাবতীয় কর্তৃত্ব ও আধিপত্য হবে একমাত্র তাঁরই। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।” (৬:৭৩)

وَ یَوْمَ نُسَیِّرُ الْجِبَالَ وَ تَرَی الْاَرْضَ بَارِزَۃً ۙ وَّ حَشَرْنٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ اَحَدًا ۝ وَ عُرِضُوْا عَلٰی رَبِّكَ صَفًّا ؕ لَقَدْ جِئْتُمُوْنَا كَمَا خَلَقْنٰکُمْ اَوَّلَ مَرَّۃٍۭ ۫ بَلْ زَعَمْتُمْ اَلَّنْ نَّجْعَلَ لَکُمْ مَّوْعِدًا ۝

“যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব। অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না। তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধভাবে এবং বলা হবে: তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।” (১৮:৪৭ – ৪৮)

وَ یَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ فَفَزِعَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللّٰهُ ؕ وَ کُلٌّ اَتَوْهُ دٰخِرِیْنَ ۝ وَ تَرَی الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَۃً وَّ هِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ صُنْعَ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اَتْقَنَ کُلَّ شَیْءٍ ؕ اِنَّہٗ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَفْعَلُوْنَ۝

“যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, অতঃপর আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন, তারা ব্যতীত নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তাঁর কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়। তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন।” (২৭:৮৭ – ৮৮)

اِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَۃُ ۝ لَیْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَۃٌ ۝ خَافِضَۃٌ رَّافِعَۃٌ ۝ اِذَا رُجَّتِ الْاَرْضُ رَجًّا ۝ وَّ بُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ۝ فَكَانَتْ هَبَآءً مُّنْۢبَثًّا ۝

“যখন ক্বিয়ামতের ঘটনাটি ঘটবে, যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই। এটা (কারো মর্যাদা) নীচু করে দেবে, (কারো মর্যাদা) সমুন্নত করে দেবে। যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী। এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।” (৫৬:১ – ৬)

وَ اِنْ مِّنْ قَرْیَۃٍ اِلَّا نَحْنُ مُہْلِکُوْهَا قَبْلَ یَوْمِ الْقِیٰمَۃِ اَوْ مُعَذِّبُوْهَا عَذَابًا شَدِیْدًا ؕ كَانَ ذٰلِكَ فِی الْكِتٰبِ مَسْطُوْرًا ۝

“এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি ক্বিয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।” (১৭:৫৮)

فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوْرِ نَفْخَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۝ وَّ حُمِلَتِ الْاَرْضُ وَ الْجِبَالُ فَدُكَتَا دَكَۃً وَّاحِدَۃً ۝ فَیَوْمَئِذٍ وَّقَعَتِ الْوَاقِعَۃُ ۝ وَ انْشَقَّتِ السَّمَآءُ فَهِیَ یَوْمَئِذٍ وَّاهِیَۃٌ ۝ وَّ الْمَلَکُ عَلٰۤی اَرْجَآئِهَا ؕ وَ یَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ یَوْمَئِذٍ ثَمٰنِیَۃٌ ۝ یَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفٰی مِنْکُمْ خَافِیَۃٌ ۝

“যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুৎকার এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চূর্ণ–বিচূর্ণ করে দেয়া হবে, সেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের ঊর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।” (৬৯:১৩ – ১৮)

اِذَا زُلْزِلَتِ الْاَرْضُ زِلْزَالَهَا ۝ وَ اَخْرَجَتِ الْاَرْضُ اَثْقَالَهَا ۝وَ قَالَ الْاِنْسَانُ مَا لَهَا ۚ۝ یَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخْبَارَهَا ۝ بِاَنَّ رَبَّكَ اَوْحٰی لَهَا ۝ یَوْمَئِذٍ یَّصْدُرُ النَّاسُ اَشْتَاتًا ۬ۙ لِّیُرَوْا اَعْمَالَهُمْ ۝ فَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّۃٍ خَیْرًا یَّرَہٗ ۝ وَ مَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّۃٍ شَرًّا یَّرَہٗ ۝

“যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (৯৯:১ – ৮)

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّکُمْ ۚ اِنَّ زَلْزَلَۃَ السَّاعَۃِ شَیْءٌ عَظِیْمٌ ۝ یَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ کُلُّ مُرْضِعَۃٍ عَمَّاۤ اَرْضَعَتْ وَ تَضَعُ کُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَ تَرَی النَّاسَ سُکٰرٰی وَ مَا هُمْ بِسُکٰرٰی وَ لٰكِنَّ عَذَابَ اللّٰهِ شَدِیْدٌ ۝

“হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় ক্বিয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুত আল্লাহর আযাব সুকঠিন।” (২২:১-২)

اِذَا السَّمَآءُ انْشَقَّتْ ۝ وَ اَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَ حُقَّتْ ۝ وَ اِذَا الْاَرْضُ مُدَّتْ ۝ وَ اَلْقَتْ مَا فِیْهَا وَ تَخَلَّتْ ۝ وَ اَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَ حُقَّتْ ۝

“যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে। এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শূন্যগর্ভ হয়ে যাবে। এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত।” (৮৪:১ – ৫)

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝ قُلْ اِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللّٰهِ ۪ وَ اِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۝ فَلَمَّا رَاَوْهُ زُلْفَۃً سِیْٓـَٔتْ وُجُوْهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ قِیْلَ هٰذَا الَّذِیْ کُنْتُمْ بِہٖ تَدَّعُوْنَ ۝

“কাফেররা বলে: (ক্বিয়ামতের) এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? (হে নবী) বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহ তা’আলার কাছেই আছে। আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী। যখন তারা সেই প্রতিশ্রুতিকে আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখমন্ডল মলিন হয়ে পড়বে এবং বলা হবে: এটাই তো তোমরা চাইতে।” (৬৭:২৫ – ২৭)

وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ ؕ ذٰلِكَ یَوْمُ الْوَعِیْدِ ۝ وَ جَآءَتْ کُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَآئِقٌ وَّ شَهِیْدٌ ۝ لَقَدْ کُنْتَ فِیْ غَفْلَۃٍ مِّنْ هٰذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ الْیَوْمَ حَدِیْدٌ ۝ وَ قَالَ قَرِیْنُہٗ هٰذَا مَا لَدَیَّ عَتِیْدٌ ۝ اَلْقِیَا فِیْ جَهَنَّمَ کُلَّ كَفَّارٍ عَنِیْدٍ ۝ مَّنَّاعٍ لِّلْخَیْرِ مُعْتَدٍ مُّرِیْبِۣ ۝ الَّذِیْ جَعَلَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَاَلْقِیٰهُ فِی الْعَذَابِ الشَّدِیْدِ ۝ قَالَ قَرِیْنُہٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطْغَیْتُہٗ وَ لٰكِنْ كَانَ فِیْ ضَلٰلٍۭ بَعِیْدٍ ۝ قَالَ لَا تَخْتَصِمُوْا لَدَیَّ وَ قَدْ قَدَّمْتُ اِلَیْکُمْ بِالْوَعِیْدِ ۝ مَا یُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَیَّ وَ مَاۤ اَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ ۝ یَوْمَ نَقُوْلُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَاْتِ وَ تَقُوْلُ هَلْ مِنْ مَّزِیْدٍ ۝

“এবং (ক্বিয়ামতের দিবসে) শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে – এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। তুমি তো এই দিন (বিচার দিবস) সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ। তার সঙ্গী ফেরেশতা (কেরামান কাতেবীন) বলবে: আমার কাছে যে আমলনামা ছিল, তা এই। তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গলজনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর। তার সঙ্গী শয়তান বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্তুত সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেন: আমার সামনে বাকবিতন্ডা করো না আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম। আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি যুলুমকারী নই। যেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞাসা করব; তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে বলবে: আরও আছে কি?” (৫০:২০ – ৩০)

یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرْسٰهَا ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ ۚ لَا یُجَلِّیْهَا لِوَقْتِهَاۤ اِلَّا هُوَ ؕۘؔ ثَقُلَتْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ لَا تَاْتِیْکُمْ اِلَّا بَغْتَۃً ؕ یَسْـَٔلُوْنَكَ كَاَنَّكَ حَفِیٌّ عَنْهَا ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ وَ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۝

“আপনাকে জিজ্ঞেস করে, ক্বিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।” (৭:১৮৭)

اِلَیْهِ یُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَۃِ ؕ وَ مَا تَخْرُجُ مِنْ ثَمَرٰتٍ مِّنْ اَکْمَامِهَا وَ مَا تَحْمِلُ مِنْ اُنْثٰی وَ لَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلْمِہٖ ؕ وَ یَوْمَ یُنَادِیْهِمْ اَیْنَ شُرَكَآءِیْ ۙ قَالُوْۤا اٰذَنّٰكَ ۙ مَا مِنَّا مِنْ شَهِیْدٍ ۝ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَدْعُوْنَ مِنْ قَبْلُ وَ ظَنُّوْا مَا لَهُمْ مِّنْ مَّحِیْصٍ۝

“ক্বিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণমুক্ত হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকরা কোথায়? সেদিন তারা বলবে, আমরা আপনাকে নিবেদন করছি যে, আমাদের মধ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার মত কেউ নেই। পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিষ্কৃতি নেই।” (৪১:৪৭ – ৪৮)

قُلْ اِنْ اَدْرِیْۤ اَقَرِیْبٌ مَّا تُوْعَدُوْنَ اَمْ یَجْعَلُ لَہٗ رَبِّیْۤ اَمَدًا ۝ عٰلِمُ الْغَیْبِ فَلَا یُظْهِرُ عَلٰی غَیْبِہٖۤ اَحَدًا ۝

“বলুন: আমি জানি না তোমাদের প্রতিশ্রুত বিষয় (ক্বিয়ামত) আসন্ন না আমার পালনকর্তা এর জন্যে কোন মেয়াদ স্থির করে রেখেছেন। তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না।” (৭২:২৫ – ২৬)

فَذَرْهُمْ یَخُوْضُوْا وَ یَلْعَبُوْا حَتّٰی یُلٰقُوْا یَوْمَهُمُ الَّذِیْ یُوْعَدُوْنَ ۝ یَوْمَ یَخْرُجُوْنَ مِنَ الْاَجْدَاثِ سِرَاعًا كَاَنَّهُمْ اِلٰی نُصُبٍ یُّوْفِضُوْنَ ۝ خَاشِعَ ۃً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّۃٌ ؕ ذٰلِكَ الْیَوْمُ الَّذِیْ كَانُوْا یُوْعَدُوْنَ ۝

“অতএব, আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা বাকবিতন্ডা ও ক্রীড়া–কৌতুক করুক সেই দিবসের সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যে দিবসের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে। সে দিন তারা কবর থেকে দ্রুতবেগে বের হবে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত; তারা হবে হীনতাগ্রস্ত। এটাই সেইদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত।” (৭০:৪২ – ৪৪)

 وَ مَا یُدْرِیْكَ لَعَلَّ السَّاعَۃَ قَرِیْبٌ ۝ یَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهَا ۚ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مُشْفِقُوْنَ مِنْهَا ۙ وَ یَعْلَمُوْنَ اَنَّهَا الْحَقُّ ؕ اَلَاۤ اِنَّ الَّذِیْنَ یُمَارُوْنَ فِی السَّاعَۃِ لَفِیْ ضَلٰلٍۭ بَعِیْدٍ ۝

“আপনি কি জানেন, সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটবর্তী। যারা তাতে বিশ্বাস করে না তারা তাকে ত্বরিত কামনা করে। আর যারা বিশ্বাস করে, তারা তাকে ভয় করে এবং জানে যে, তা সত্য। জেনে রাখ, যারা ক্বিয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা দূরবর্তী পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত রয়েছে।” (৪২:১৭ – ১৮)

وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَا تَاْتِیْنَا السَّاعَۃُ ؕ قُلْ بَلٰی وَ رَبِّیْ لَتَاْتِیَنَّکُمْ ۙ عٰلِمِ الْغَیْبِ ۚ لَا یَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الْاَرْضِ وَ لَاۤ اَصْغَرُ مِنْ ذٰلِكَ وَ لَاۤ اَکْبَرُ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ ٭ۙ۝

“কাফেররা বলে আমাদের উপর ক্বিয়ামত আসবে না। বলুন কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ -অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে তাঁর আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ – সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।” (৩৪:৩)

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَیَجْمَعَنَّکُمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَۃِ لَا رَیْبَ فِیْهِ ؕ وَ مَنْ اَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ حَدِیْثًا ۝

“আল্লাহ – তিনি ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন ক্বিয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে?” (৪:৮৭)

لَنْ تَنْفَعَکُمْ اَرْحَامُکُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُکُمْ ۚۛ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ۚۛ یَفْصِلُ بَیْنَکُمْ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ ۝

“তোমাদের স্বজন-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি ক্বিয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।” (৬০:৩)

مَنْ كَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ اللّٰهِ فَاِنَّ اَجَلَ اللّٰهِ لَاٰتٍ ؕ وَ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۝

“যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, সে সর্বাত্মক সাধনা চালিয়ে যাক, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল (ক্বিয়ামত) অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।” (২৯:৫)

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝ لَوْ یَعْلَمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا حِیْنَ لَا یَکُفُّوْنَ عَنْ وُّجُوْهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُوْرِهِمْ وَ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ ۝ بَلْ تَاْتِیْهِمْ بَغْتَۃً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ رَدَّهَا وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ۝

“এবং তারা বলে: যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে? যদি কাফেররা ঐ সময়টি জানত, যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পৃষ্ঠদেশ থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না। বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিতভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।” (২১:৩৮ – ৪০)

….. وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَکُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدْخِلَ الْجَنَّۃَ فَقَدْ فَازَ ؕ وَ مَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ ۝ …

“…….আর তোমরা ক্বিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে …।” (৩:১৮৫)

وَ لِلّٰهِ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ مَاۤ اَمْرُ السَّاعَۃِ اِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ اَوْ هُوَ اَقْرَبُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ۝

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। ক্বিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।” (১৬:৭৭)

یَّوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ وَ نَحْشُرُ الْمُجْرِمِیْنَ یَوْمَئِذٍ زُرْقًا ۝ یَّتَخَافَتُوْنَ بَیْنَهُمْ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا عَشْرًا ۝ نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَقُوْلُوْنَ اِذْ یَقُوْلُ اَمْثَلُهُمْ طَرِیْقَۃً اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا یَوْمًا ۝ وَ یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ یَنْسِفُهَا رَبِّیْ نَسْفًا ۝ فَیَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ۝ لَّا تَرٰی فِیْهَا عِوَجًا وَّ لَاۤ اَمْتًا ۝ یَوْمَئِذٍ یَّتَّبِعُوْنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَہٗ ۚ وَ خَشَعَتِ الْاَصْوَاتُ لِلرَّحْمٰنِ فَلَا تَسْمَعُ اِلَّا هَمْسًا ۝ یَوْمَئِذٍ لَّا تَنْفَعُ الشَّفَاعَۃُ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَ رَضِیَ لَہٗ قَوْلًا ۝

“যেদিন (কেয়ামতের দিন) সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়। তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবে: তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে। তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবে: তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে। তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করে। অতএব, আপনি বলুন: আমার পালনকর্তা পহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন। তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না। সেই দিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার কথা এদিক-সেদিক হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।” (২০:১০২ – ১০৯)

وَ کُلُّهُمْ اٰتِیْهِ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ فَرْدًا ۝ اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمٰنُ وُدًّا ۝

“ক্বিয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে। যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ভালবাসা দেবেন।” (১৯:৯৫ – ৯৬)

اِنَّ یَوْمَ الْفَصْلِ مِیْقَاتُهُمْ اَجْمَعِیْنَ ۝ یَوْمَ لَا یُغْنِیْ مَوْلًی عَنْ مَّوْلًی شَیْئًا وَّ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ ۝ اِلَّا مَنْ رَّحِمَ اللّٰهُ ؕ اِنَّہٗ هُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۝ اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوْمِ ۝ طَعَامُ الْاَثِیْمِ ۝ كَالْمُہْلِ ۚۛ یَغْلِیْ فِی الْبُطُوْنِ ۝ كَغَلْیِ الْحَمِیْمِ ۝ خُذُوْهُ فَاعْتِلُوْهُ اِلٰی سَوَآءِ الْجَحِیْمِ ۝ ثُمَّ صُبُّوْا فَوْقَ رَاْسِہٖ مِنْ عَذَابِ الْحَمِیْمِ ۝ ذُقْ ۚۙ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْكَرِیْمُ ۝ اِنَّ هٰذَا مَا کُنْتُمْ بِہٖ تَمْتَرُوْنَ ۝

“নিশ্চয় ফয়সালার (ক্বিয়ামতের) দিন তাদের সবারই নির্ধারিত সময়। যেদিন কোন বন্ধুই কোন বন্ধুর উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন, তার কথা ভিন্ন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী দয়াময়। নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে; গলিত তাম্রের মত পেটে ফুটতে থাকবে। যেমন ফুটে পানি। একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, অতঃপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও, স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত। এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে।” (৪৪:৪০ – ৫০)

سَاَلَ سَآئِلٌۢ بِعَذَابٍ وَّاقِعٍ ۝ لِّلْکٰفِرِیْنَ لَیْسَ لَہٗ دَافِعٌ ۝ مِّنَ اللّٰهِ ذِی الْمَعَارِجِ ۝ تَعْرُجُ الْمَلٰٓئِكَۃُ وَ الرُّوْحُ اِلَیْهِ فِیْ یَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُہٗ خَمْسِیْنَ اَلْفَ سَنَۃٍ ۝ فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِیْلًا ۝ اِنَّهُمْ یَرَوْنَہٗ بَعِیْدًا ۝ وَّ نَرٰىهُ قَرِیْبًا ۝ یَوْمَ تَکُوْنُ السَّمَآءُ كَالْمُہْلِ ۝ وَ تَکُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِہْنِ ۝ وَ لَا یَسْـَٔلُ حَمِیْمٌ حَمِیْمًا ۝ یُّبَصَّرُوْنَهُمْ ؕ یَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ یَفْتَدِیْ مِنْ عَذَابِ یَوْمِئِذٍۭ بِبَنِیْهِ ۝ وَ صَاحِبَتِہٖ وَ اَخِیْهِ ۝ وَ فَصِیْلَتِهِ الَّتِیْ تُــْٔوِیْهِ ۝ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا ۙ ثُمَّ یُنْجِیْهِ ۝ كَلَّا ؕ اِنَّهَا لَظٰی ۝ نَزَّاعَۃً لِّلشَّوٰی ۝ تَدْعُوْا مَنْ اَدْبَرَ وَ تَوَلّٰی ۝ وَ جَمَعَ فَاَوْعٰی ۝

“একব্যক্তি চাইল, সেই আযাব সংঘটিত হোক যা অবধারিত- কাফেরদের জন্যে, যার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। তা আসবে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে, যিনি সমুন্নত মর্তবার অধিকারী। ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। অতএব, আপনি উত্তম সবর করুন। তারা এই আযাবকে সুদূরপরাহত মনে করে, আর আমি একে আসন্ন দেখছি। সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত। এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত, বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পণস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান – সন্ততিকে, তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে, তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে দিবে। সে সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল। সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছিল, অতঃপর আগলিয়ে রেখেছিল।” (৭০:১ – ১৮)

لَاۤ اُقْسِمُ بِیَوْمِ الْقِیٰمَۃِ ۝ وَ لَاۤ اُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَۃِ ۝ اَیَحْسَبُ الْاِنْسَانُ اَلَّنْ نَّجْمَعَ عِظَامَہٗ ۝ بَلٰی قٰدِرِیْنَ عَلٰۤی اَنْ نُّسَوِّیَ بَنَانَہٗ ۝ بَلْ یُرِیْدُ الْاِنْسَانُ لِیَفْجُرَ اَمَامَہٗ ۝ یَسْـَٔلُ اَیَّانَ یَوْمُ الْقِیٰمَۃِ ۝ فَاِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ ۝ وَ خَسَفَ الْقَمَرُ ۝ وَ جُمِعَ الشَّمْسُ وَ الْقَمَرُ ۝ یَقُوْلُ الْاِنْسَانُ یَوْمَئِذٍ اَیْنَ الْمَفَرُّ ۝ كَلَّا لَا وَزَرَ ۝ اِلٰی رَبِّكَ یَوْمَئِذِۣ الْمُسْتَقَرُّ ۝ یُنَبَّؤُا الْاِنْسَانُ یَوْمَئِذٍۭ بِمَا قَدَّمَ وَ اَخَّرَ ۝ بَلِ الْاِنْسَانُ عَلٰی نَفْسِہٖ بَصِیْرَۃٌ ۝

“আমি শপথ করি ক্বিয়ামত দিবসের, আরও শপথ করি সেই নফসের, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়- মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? পরন্ত আমি তার অংগুলিগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। বরং মানুষ তার ভবিষ্যত জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায়, সে প্রশ্ন করে- ক্বিয়ামত দিবস কবে? যখন দৃষ্টি চমকে যাবে, চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে – সে দিন মানুষ বলবে: পলায়নের জায়গা কোথায়? না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুষ্মান।” (৭৫:১ – ১৪)

وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَۃٌ ۝ اِلٰی رَبِّهَا نَاظِرَۃٌ ۝ وَ وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍۭ بَاسِرَۃٌ ۝ تَظُنُّ اَنْ یُّفْعَلَ بِهَا فَاقِرَۃٌ ۝

“সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর অনেক মুখমন্ডল সেদিন উদাস হয়ে পড়বে। তারা ধারণা করবে যে, তাদের সাথে কোমর-ভাঙ্গা আচরণ করা হবে।” (৭৫:২২ – ২৫)

اِنَّمَا تُوْعَدُوْنَ لَوَاقِعٌ ۝ فَاِذَا النُّجُوْمُ طُمِسَتْ ۝ وَ اِذَا السَّمَآءُ فُرِجَتْ ۝ وَ اِذَا الْجِبَالُ نُسِفَتْ ۝ وَ اِذَا الرُّسُلُ اُقِّتَتْ ۝ لِاَیِّ یَوْمٍ اُجِّلَتْ ۝ لِیَوْمِ الْفَصْلِ ۝

“নিশ্চয়ই তোমাদেরকে প্রদত্ত (ক্বিয়ামতের) ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে। অতঃপর যখন নক্ষত্রসমূহ নির্বাপিত হবে, যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে, যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে এবং যখন রাসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় নিরূপিত হবে, এসব বিষয় কোন দিবসের জন্যে স্থগিত রাখা হয়েছে? বিচার দিবসের জন্য।” (৭৭:৭ – ১৩)

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝ قُلْ لَّکُمْ مِّیْعَادُ یَوْمٍ لَّا تَسْتَاْخِرُوْنَ عَنْهُ سَاعَۃً وَّ لَا تَسْتَقْدِمُوْنَ ۝

“তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, এ ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে? বলুন, তোমাদের জন্যে একটি দিনের ওয়াদা রয়েছে যাকে তোমরা এক মুহূর্তও বিলম্বিত করতে পারবে না এবং ত্বরান্বিত ও করতে পারবে না।” (৩৪:২৯ – ৩০)

عَمَّ یَتَسَآءَلُوْنَ ۝ عَنِ النَّبَاِ الْعَظِیْمِ ۝ الَّذِیْ هُمْ فِیْهِ مُخْتَلِفُوْنَ ۝ كَلَّا سَیَعْلَمُوْنَ ۝ ثُمَّ كَلَّا سَیَعْلَمُوْنَ ۝

“তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? (ক্বিয়ামতের) মহাসংবাদ সম্পর্কে, যে সম্পর্কে তারা মতানৈক্য করে। না, সত্ত¡রই তারা জানতে পারবে, অতঃপর না, সত্ত্বর তারা জানতে পারবে।” (৭৮:১ – ৫)

اَزِفَتِ الْاٰزِفَۃُ ۝ لَیْسَ لَهَا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ كَاشِفَۃٌ ۝ اَفَمِنْ هٰذَا الْحَدِیْثِ تَعْجَبُوْنَ ۝ وَ تَضْحَکُوْنَ وَ لَا تَبْکُوْنَ ۝ وَ اَنْتُمْ سٰمِدُوْنَ ۝ فَاسْجُدُوْا لِلّٰهِ وَ اعْبُدُوْا ۩۝

“ক্বিয়ামত অত্যাসন্ন। আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ? এবং হাসছ- ক্রন্দন করছ না? তোমরা ক্রীড়া–কৌতুক করছ, অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।” (৫৩:৫৭ – ৬২) [সেজদার আয়াত]

… یَوْمَ یَدْعُ الدَّاعِ اِلٰی شَیْءٍ نُّکُرٍ ۝ خُشَّعًا اَبْصَارُهُمْ یَخْرُجُوْنَ مِنَ الْاَجْدَاثِ كَاَنَّهُمْ جَرَادٌ مُّنْتَشِرٌ ۝ مُّہْطِعِیْنَ اِلَی الدَّاعِ ؕ یَقُوْلُ الْکٰفِرُوْنَ هٰذَا یَوْمٌ عَسِرٌ ۝

“….যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পংগপাল সদৃশ। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেররা বলবে, এটা কঠিন দিন।” (৫৪:৬ – ৮)

بَلِ السَّاعَۃُ مَوْعِدُهُمْ وَ السَّاعَۃُ اَدْهٰی وَ اَمَرُّ ۝ اِنَّ الْمُجْرِمِیْنَ فِیْ ضَلٰلٍ وَّ سُعُرٍ ۝ یَوْمَ یُسْحَبُوْنَ فِی النَّارِ عَلٰی وُجُوْهِهِمْ ؕ ذُوْقُوْا مَسَّ سَقَرَ ۝

“বরং ক্বিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং ক্বিয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর। নিশ্চয় অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদেরকে মুখ হিঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবে: অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।” (৫৪:৪৬ – ৪৮)

وَ مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدْرِہٖ ٭ۖ وَ الْاَرْضُ جَمِیْعًا قَبْضَتُہٗ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ وَ السَّمٰوٰتُ مَطْوِیّٰتٌۢ بِیَمِیْنِہٖ ؕ سُبْحٰنَہٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِکُوْنَ ۝ وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَصَعِقَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللّٰهُ ؕ ثُمَّ نُفِخَ فِیْهِ اُخْرٰی فَاِذَا هُمْ قِیَامٌ یَّنْظُرُوْنَ ۝ وَ اَشْرَقَتِ الْاَرْضُ بِنُوْرِ رَبِّهَا وَ وُضِعَ الْكِتٰبُ وَ جِایْٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَ الشُّهَدَآءِ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۝

“তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। ক্বিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে। শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন। অতঃপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে। পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে-তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৩৯:৬৭ – ৬৯)

فَكَیْفَ تَتَّقُوْنَ اِنْ كَفَرْتُمْ یَوْمًا یَّجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِیْبَۨا ۝ السَّمَآءُ مُنْفَطِرٌۢ بِہٖ ؕ كَانَ وَعْدُہٗ مَفْعُوْلًا ۝

“অতএব, তোমরা কিরূপে আত্মরক্ষা করবে যদি তোমরা সেদিনকে অস্বীকার কর, যেদিন বালককে করে দিব বৃদ্ধ? সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে। তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।” (৭৩:১৭ – ১৮)

یَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۝ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَۃُ ۝ قُلُوْبٌ یَّوْمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۝ اَبْصَارُهَا خَاشِعَۃٌ ۘ۝

“যেদিন (ক্বিয়ামতের দিন) প্রকম্পিত করবে শিংগাধ্বনি, অতঃপর পশ্চাতে আসবে পরবর্তী শিংগাধ্বনি; সেদিন অনেক হৃদয় সন্ত্রস্ত–ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে। তাদের দৃষ্টি হবে নত।” (৭৯:৬ –  ৯)

فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّۃُ الْکُبْرٰی ۝یَوْمَ یَتَذَكَرُ الْاِنْسَانُ مَا سَعٰ ۝ وَ بُرِّزَتِ الْجَحِیْمُ لِمَنْ یَّرٰی ۝ فَاَمَّا مَنْ طَغٰی ۝ وَ اٰثَرَ الْحَیٰوۃَ الدُّنْیَا ۝ فَاِنَّ الْجَحِیْمَ هِیَ الْمَاْوٰی ۝ وَ اَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ وَ نَهَی النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰی ۝ فَاِنَّ الْجَنَّۃَ هِیَ الْمَاْوٰی ۝ یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرْسٰهَا ۝ فِیْمَ اَنْتَ مِنْ ذِکْرٰىهَا ۝ اِلٰی رَبِّكَ مُنْتَهٰىهَا ۝ اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُنْذِرُ مَنْ یَّخْشٰهَا۝ كَاَنَّهُمْ یَوْمَ یَرَوْنَهَا لَمْ یَلْبَثُوْۤا اِلَّا عَشِیَّۃً اَوْ ضُحٰهَا ۝

“অতঃপর যখন মহাসংকট (ক্বিয়ামত) এসে যাবে। অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে; এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, ক্বিয়ামত কখন হবে? এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ? এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে। যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন। যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।” (৭৯:৩৪ – ৪৬)

اِذَا الشَّمْسُ کُوِّرَتْ ۝وَ اِذَا النُّجُوْمُ انْكَدَرَتْ ۝وَ اِذَا الْجِبَالُ سُیِّرَتْ ۝وَ اِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ ۝وَ اِذَا الْوُحُوْشُ حُشِرَتْ ۝وَ اِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ ۝وَ اِذَا النُّفُوْسُ زُوِّجَتْ ۝وَ اِذَا الْمَوْءٗدَۃُ سُئِلَتْ ۝بِاَیِّ ذَنْۢبٍ قُتِلَتْ ۝وَ اِذَا الصُّحُفُ نُشِرَتْ ۝وَ اِذَا السَّمَآءُ کُشِطَتْ ۝وَ اِذَا الْجَحِیْمُ سُعِّرَتْ ۝وَ اِذَا الْجَنَّۃُ اُزْلِفَتْ ۝عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّاۤ اَحْضَرَتْ ۝

“যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে, যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে, যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে, যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে; যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে, যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে, যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে, যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল? যখন আমলনামা খোলা হবে, যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে, যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে, তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে।” (৮১:১ – ১৪)

اِذَا السَّمَآءُ انْفَطَرَتْ ۝ وَ اِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ ۝ وَ اِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ۝ وَ اِذَا الْقُبُوْرُ بُعْثِرَتْ ۝ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَ اَخَّرَتْ ۝

“যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে, যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে, এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে, তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।” (৮২:১ – ৫)

وَ اِذَا قِیْلَ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّ السَّاعَۃُ لَا رَیْبَ فِیْهَا قُلْتُمْ مَّا نَدْرِیْ مَا السَّاعَۃُ ۙ اِنْ نَّظُنُّ اِلَّا ظَنًّا وَّ مَا نَحْنُ بِمُسْتَیْقِنِیْنَ ۝ وَ بَدَا لَهُمْ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوْا وَ حَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِہٖ یَسْتَہْزِءُوْنَ ۝ وَ قِیْلَ الْیَوْمَ نَنْسٰکُمْ كَمَا نَسِیْتُمْ لِقَآءَ یَوْمِکُمْ هٰذَا وَ مَاْوٰىکُمُ النَّارُ وَ مَا لَکُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۝ ذٰلِکُمْ بِاَنَّکُمُ اتَّخَذْتُمْ اٰیٰتِ اللّٰهِ هُزُوًا وَّ غَرَّتْکُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا ۚ فَالْیَوْمَ لَا یُخْرَجُوْنَ مِنْهَا وَ لَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ ۝

“যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং ক্বিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে আমরা জানি না ক্বিয়ামত কি ? আমরা কেবল ধারণাই করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তাদের মন্দ কর্মগুলো তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যে আযাব নিয়ে তারা ঠাট্টা–বিদ্রূপ করত, তা তাদেরকে গ্রাস করবে। বলা হবে, আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তোমরা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে। তোমাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তোমাদের সাহায্যকারী নেই। এটা এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং তাদের কাছে তওবা চাওয়া হবে না।” (৪৫:৩২ – ৩৫)

اَلْقَارِعَۃُ ۝ مَا الْقَارِعَۃُ ۝ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا الْقَارِعَۃُ ۝ یَوْمَ یَکُوْنُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوْثِ ۝ وَ تَکُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِہْنِ الْمَنْفُوْشِ ۝ فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُہٗ ۙ ۝ فَهُوَفِیْ عِیْشَۃٍ رَّاضِیَۃٍ ۝ وَ اَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُہٗ ۝ فَاُمُّہٗ هَاوِیَۃٌ ؕ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا هِیَہْ ۝ نَارٌ حَامِیَۃٌ ۝

“মহাপ্রলয় দিবস! মহাপ্রলয় কি? মহাপ্রলয় সম্পর্কে আপনি কি জানেন? যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। অতএব যার (পুণ্যের) পাল্লা ভারী হবে, সে সুখীজীবন যাপন করবে। আর যার (পুণ্যের) পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। আপনি জানেন তা কি? তা প্রজ্জ্বলিত এক অগ্নিকুন্ড।” (১০১:১ – ১১)

وَالطُّوْرِ۝ وَكِتبٍ مَّسْطُوْرٍ۝ فِى رَقٍّ مَنْ شُوْرٍ۝ وَالْبَيْتِ الْمَعْمُوْرِ۝ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوْعِ۝ وَالْبَحْرِ الْمَسْجُوْرِ۝ اِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوقِعٌ۝ مَّا لَه مِنْ دَافِعٍ۝ يَوْمَ تَمُوْرُ السَّمَاءُ مَوْرًا۝ وَتَسِيْرُ الْجِبَالُ سَيْرًا۝ فَوَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ۝ الَّذِيْنَ هُمْ فِى خَوْضٍ يَلْعَبُوْنَ۝

“কসম তূরপর্বতের, এবং লিখিত কিতাবের, প্রশস্ত পত্রে, কসম বায়তুল-মামুর তথা আবাদ গৃহের, এবং সমুন্নত ছাদের, এবং উত্তাল সমুদ্রের, আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী, তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। সেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবলভাবে। এবং পর্বতমালা হবে চলমান, সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে, যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়।” (৫২:১ – ১২)

اِذَا دُكَتِ الْاَرْضُ دَکًّا دَکًّا ۝ وَّ جَآءَ رَبُّكَ وَ الْمَلَکُ صَفًّا صَفًّا ۝ وَ جِایْٓءَ یَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۬ۙ یَوْمَئِذٍ یَّتَذَكَرُ الْاِنْسَانُ وَ اَنّٰی لَهُ الذِّکْرٰی ۝ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ قَدَّمْتُ لِحَیَاتِیْ ۝ فَیَوْمَئِذٍ لَّا یُعَذِّبُ عَذَابَہٗۤ اَحَدٌ ۝

“যখন পৃথিবী চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন, এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? সে বলবে: হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম! সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না। এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।” (৮৯:২১ – ২৬)

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۝ مَا یَنْظُرُوْنَ اِلَّا صَیْحَۃً وَّاحِدَۃً تَاْخُذُهُمْ وَ هُمْ یَخِصِّمُوْنَ ۝ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ تَوْصِیَۃً وَّ لَاۤ اِلٰۤی اَهْلِهِمْ یَرْجِعُوْنَ ۝ وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَاِذَا هُمْ مِّنَ الْاَجْدَاثِ اِلٰی رَبِّهِمْ یَنْسِلُوْنَ ۝ قَالُوْا یٰوَیْلَنَا مَنْۢ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا ۘؐ هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَ صَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ ۝ اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَیْحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا هُمْ جَمِیْعٌ لَّدَیْنَا مُحْضَرُوْنَ ۝ فَالْیَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْئًا وَّ لَا تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۝

“তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে? তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে। তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না। এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না। শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল? রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। এটা তো হবে কেবল এক মহানাদ। সে মুহূর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। আজকের দিনে কারও প্রতি যুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিদান পাবে।” (৩৬:৪৮ – ৫৪)

فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّۃُ ۝ یَوْمَ یَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِیْهِ ۝ وَ اُمِّہٖ وَ اَبِیْهِ ۝ وَ صَاحِبَتِہٖ وَ بَنِیْهِ ۝ لِکُلِّ امْرِیًٔ مِّنْهُمْ یَوْمَئِذٍ شَاْنٌ یُّغْنِیْهِ ۝ وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍ مُّسْفِرَۃٌ ۝ ضَاحِكَۃٌ مُّسْتَبْشِرَۃٌ ۝ وَ وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍ عَلَیْهَا غَبَرَۃٌ ۝ تَرْهَقُهَا قَتَرَۃٌ ۝ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَفَرَۃُ الْفَجَرَۃُ ۝

“অতঃপর যেদিন (মহাপ্রলয়ের) কর্ণবিদারক নাদ আসবে, সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল। এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধূলিধূসরিত। তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে। তারাই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফের পাপিষ্ঠের দল।” (৮০:৩৩ – ৪২)

یَسْـَٔلُوْنَ اَیَّانَ یَوْمُ الدِّیْنِ ۝ یَوْمَ هُمْ عَلَی النَّارِ یُفْتَنُوْنَ ۝ ذُوْقُوْا فِتْنَتَکُمْ ؕ هٰذَا الَّذِیْ کُنْتُمْ بِہٖ تَسْتَعْجِلُوْنَ ۝

“তারা জিজ্ঞাসা করে, ক্বিয়ামত কবে হবে? যেদিন তারা অগ্নিতে পতিত হবে, তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা একেই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।” (৫১:১২ – ১৪)

وَّ اَنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ لَّا رَیْبَ فِیْهَا ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ یَبْعَثُ مَنْ فِی الْقُبُوْرِ ۝ وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ لَا هُدًی وَّ لَا كِتٰبٍ مُّنِیْرٍ ۝ ثَانِیَ عِطْفِہٖ لِیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ لَہٗ فِی الدُّنْیَا خِزْیٌ وَّ نُذِیْقُہٗ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ عَذَابَ الْحَرِیْقِ ۝ ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ یَدٰكَ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ ۝

“এবং এ কারণে যে, ক্বিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। কতক মানুষ জ্ঞান; প্রমাণ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে। সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে বিতর্ক করে, যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। তার জন্যে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আছে এবং কেয়ামতের দিন আমি তাকে দহন–যন্ত্রণা আস্বাদন করাব। এটা তোমার দুই হাতের কর্মের কারণে, আল্লাহ বান্দাদের প্রতি যুলুম করেন না।” (২২:৭ – ১০)

هَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ الْغَاشِیَۃِ ۝ وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍ خَاشِعَۃٌ ۝ عَامِلَۃٌ نَّاصِبَۃٌ ۝ تَصْلٰی نَارًا حَامِیَۃً ۝ تُسْقٰی مِنْ عَیْنٍ اٰنِیَۃٍ ۝ لَیْسَ لَهُمْ طَعَامٌ اِلَّا مِنْ ضَرِیْعٍ ۝ لَّا یُسْمِنُ وَ لَا یُغْنِیْ مِنْ جُوْعٍ ۝ وُجُوْہٌ یَّوْمَئِذٍ نَّاعِمَۃٌ ۝ لِّسَعْیِهَا رَاضِیَۃٌ ۝

“আপনার কাছে আচ্ছন্নকারী ক্বিয়ামতের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি? অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে লাঞ্ছিত, ক্লিষ্ট, ক্লান্ত। তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে। তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে। কন্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই। এটা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধায়ও উপকার করবে না। অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে, সজীব, তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট।” (৮৮:১ – ৯)

یَّوْمَ تَبْیَضُّ وُجُوْہٌ وَّ تَسْوَدُّ وُجُوْہٌ ۚ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اسْوَدَّتْ وُجُوْهُهُمْ ۟اَكَفَرْتُمْ بَعْدَ اِیْمَانِکُمْ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا کُنْتُمْ تَکْفُرُوْنَ ۝ وَ اَمَّا الَّذِیْنَ ابْیَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِیْ رَحْمَۃِ اللّٰهِ ؕ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۝ تِلْكَ اٰیٰتُ اللّٰهِ نَتْلُوْهَا عَلَیْكَ بِالْحَقِّ ؕ وَ مَا اللّٰهُ یُرِیْدُ ظُلْمًا لِّلْعٰلَمِیْنَ

“সেদিন (ক্বিয়ামতের দিন) কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো। বস্তুত যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর। আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে। তাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। এগুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, যা তোমাদিগকে যথাযথ পাঠ করে শুনানো হচ্ছে। আর আল্লাহ বিশ্ব জাহানের প্রতি উৎপীড়ন করতে চান না।” (৩:১০৬ – ১০৮)

وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ یُبْلِسُ الْمُجْرِمُوْنَ ۝ وَ لَمْ یَکُنْ لَّهُمْ مِّنْ شُرَكَآئِهِمْ شُفَعٰٓؤُا وَ كَانُوْا بِشُرَكَآئِهِمْ کٰفِرِیْنَ ۝ وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ یَوْمَئِذٍ یَّتَفَرَّقُوْنَ ۝ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَهُمْ فِیْ رَوْضَۃٍ یُّحْبَرُوْنَ ۝ وَ اَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ لِقَآیِٔ الْاٰخِرَۃِ فَاُولٰٓئِكَ فِی الْعَذَابِ مُحْضَرُوْنَ ۝

“যে দিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে। তাদের দেবতাগুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে। যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে; আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।” (৩০:১২ – ১৬)

ثُمَّ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ یُخْزِیْهِمْ وَ یَقُوْلُ اَیْنَ شُرَكَآءِیَ الَّذِیْنَ کُنْتُمْ تُشَآقُّوْنَ فِیْهِمْ ؕ قَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ اِنَّ الْخِزْیَ الْیَوْمَ وَ السُّوْٓءَ عَلَی الْکٰفِرِیْنَ ۝

“অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তিনি (আল্লাহ্) তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: আমার অংশীদাররা কোথায়, যাদের ব্যাপারে তোমরা খুব হঠকারিতা করতে? যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল তারা বলবে: নিশ্চয়ই আজকের দিনে লাঞ্ছনা ও দুর্গতি কাফেরদের জন্যে।” (১৬:২৭)

بَلْ كَذَّبُوْا بِالسَّاعَۃِ ۟ وَ اَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَۃِ سَعِیْرًا ۝ اِذَا رَاَتْهُمْ مِّنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍ سَمِعُوْا لَهَا تَغَیُّظًا وَّ زَفِیْرًا ۝ وَ اِذَاۤ اُلْقُوْا مِنْهَا مَكَانًا ضَیِّقًا مُّقَرَّنِیْنَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُوْرًا ۝ لَا تَدْعُوا الْیَوْمَ ثُبُوْرًا وَّاحِدًا وَّ ادْعُوْا ثُبُوْرًا كَثِیْرًا ۝ قُلْ اَذٰلِكَ خَیْرٌ اَمْ جَنَّۃُ الْخُلْدِ الَّتِیْ وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ؕ كَانَتْ لَهُمْ جَزَآءً وَّ مَصِیْرًا ۝ لَهُمْ فِیْهَا مَا یَشَآءُوْنَ خٰلِدِیْنَ ؕ كَانَ عَلٰی رَبِّكَ وَعْدًا مَّسْـُٔوْلًا ۝

“বরং তারা ক্বিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং যে ক্বিয়ামতকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করেছি। অগ্নি যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শোনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার। যখন এক শিকলে কয়েকজন বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক। বলুন এটা উত্তম, না চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? সেটা হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থান। তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব।” (২৫:১১ – ১৬)

 

প্রত্যাবর্তন-পুনরুজ্জীবন-পুনরুত্থান দিবস

اِنَّ اِلَیْنَاۤ اِیَابَهُمْ ۝ ثُمَّ اِنَّ عَلَیْنَا حِسَابَهُمْ ۝

“নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট, অতঃপর তাদের হিসাব–নিকাশ আমারই দায়িত্ব।” (৮৮:২৫ – ২৬)

নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তাঁর নিকট মানবজাতির প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত অবিশ্বাসীদের নেতিবাচক ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর সৃষ্ট মানব ও জিন জাতিকে পুনরুজ্জীবীত করবেন যাতে তারা হিসাব–নিকাশের সম্মুখীন হতে পারে এবং তাদের পার্থিব জীবনের কর্মফল অনুযায়ী আখিরাতের অনন্ত সুখ অথবা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে।

بَلْ عَجِبُوْۤا اَنْ جَآءَهُمْ مُّنْذِرٌ مِّنْهُمْ فَقَالَ الْکٰفِرُوْنَ هٰذَا شَیْءٌ عَجِیْبٌ ۝ ءَاِذَا مِتْنَا وَ کُنَّا تُرَابًا ۚ ذٰلِكَ رَجْعٌۢ بَعِیْدٌ ۝ قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْاَرْضُ مِنْهُمْ ۚ وَ عِنْدَنَا كِتٰبٌ حَفِیْظٌ۝

“………অতঃপর কাফেররা বলে: এটা আশ্চর্যের ব্যাপার। আমরা মরে গেলে এবং মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে গেলেও কি পুনরুত্থিত হব? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত। (কবরে) মৃত্তিকা তাদের কতটুকু গ্রাস করবে, তা আমার জানা আছে এবং আমার কাছে আছে সংরক্ষিত কিতাব।” (৫০:২ – ৪)

اِلَیْهِ مَرْجِعُکُمْ جَمِیْعًا ؕ وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ اِنَّہٗ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُہٗ لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالْقِسْطِ ؕ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّ عَذَابٌ اَلِیْمٌۢ بِمَا كَانُوْا یَکْفُرُوْنَ ۝

“তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল।” (১০:৪)

زَعَمَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنْ لَّنْ یُّبْعَثُوْا ؕ قُلْ بَلٰی وَ رَبِّیْ لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ؕ وَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ ۝

“কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে (পার্থিব জীবনে) যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।” (৬৪:৭)

اِنْ کُلُّ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحْمٰنِ عَبْدًا ۝ لَقَدْ اَحْصٰهُمْ وَ عَدَّهُمْ عَدًّا۝

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় আল্লাহর কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না। তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে গণনা করে রেখেছেন।” (১৯:৯৩ – ৯৪)

اِنْ هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا نَمُوْتُ وَ نَحْیَا وَ مَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِیْنَ۝

“আমাদের পার্থিবজীবনই একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই এবং আমারা পুনরুত্থিত হবো না।” (২৩:৩৭)

اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓئِكَ اَنَّهُمْ مَّبْعُوْثُوْنَ ۝ لِیَوْمٍ عَظِیْمٍ ۝ یَّوْمَ یَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝

“তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে, যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব–পালনকর্তার সামনে।” (৮৩:৪ – ৬)

مَا خَلْقُکُمْ وَ لَا بَعْثُکُمْ اِلَّا كَنَفْسٍ وَّاحِدَۃٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌۢ بَصِیْرٌ ۝

“তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।” (৩১:২৮)

اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَیَقُوْلُوْنَ ۝ اِنْ هِیَ اِلَّا مَوْتَتُنَا الْاُوْلٰی وَ مَا نَحْنُ بِمُنْشَرِیْنَ ۝

“কাফেররা বলেই থাকে, প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না।” (৪৪:৩৪ – ৩৫)

یَقُوْلُوْنَ ءَاِنَّا لَمَرْدُوْدُوْنَ فِی الْحَافِرَۃِ ۝ ءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ۝ قَالُوْا تِلْكَ اِذًا كَرَّۃٌ خَاسِرَۃٌ ۝

“তারা বলে: আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই- গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও? তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে।” (৭৯:১০ – ১২)

وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَہْدَ اَیْمَانِهِمْ ۙ لَا یَبْعَثُ اللّٰهُ مَنْ یَّمُوْتُ ؕ بَلٰی وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا وَّ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۝ لِیُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِیْ یَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ وَ لِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّهُمْ كَانُوْا کٰذِبِیْنَ ۝

“তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না। তিনি পুনরুজ্জীবিত করবেনই, যাতে যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল তা প্রকাশ করা যায় এবং যাতে কাফেরেরা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।” (১৬:৩৮ – ৩৯)

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنْ کُنْتُمْ فِیْ رَیْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰکُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَۃٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَۃٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَۃٍ مُّخَلَّقَۃٍ وَّ غَیْرِ مُخَلَّقَۃٍ لِّنُبَیِّنَ لَکُمْ ؕ وَ نُقِرُّ فِی الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ نُخْرِجُکُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّکُمْ ۚ وَ مِنْکُمْ مَّنْ یُّتَوَفّٰی وَ مِنْکُمْ مَّنْ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَیْلَا یَعْلَمَ مِنْۢ بَعْدِ عِلْمٍ شَیْئًا ؕ وَ تَرَی الْاَرْضَ هَامِدَۃً فَاِذَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْهَا الْمَآءَ اهْتَزَّتْ وَ رَبَتْ وَ اَنْۢبَتَتْ مِنْ کُلِّ زَوْجٍۭ بَهِیْجٍ ۝ ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ وَ اَنَّہٗ یُحْیِ الْمَوْتٰی وَ اَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۝ وَّ اَنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ لَّا رَیْبَ فِیْهَا ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ یَبْعَثُ مَنْ فِی الْقُبُوْرِ ۝

“হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভ‚মিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং এ কারণে যে, ক্বিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।” (২২:৫ – ৭)

فَسُبْحٰنَ الَّذِیْ بِیَدِہٖ مَلَکُوْتُ کُلِّ شَیْءٍ وَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۝

“অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩৬:৮৩)

وَ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ ۝

… “তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা, তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” (২:২৮৫)

وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ ۝

“আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে সে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতিই সব কিছু প্রত্যাবর্তনশীল।” (৩:১০৯) ।

ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ بِاَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ قَالُوْۤاءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا وَّ رُفَاتًاءَ اِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ خَلْقًا جَدِیْدًا ۝ اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّ اللّٰهَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ قَادِرٌ عَلٰۤی اَنْ یَّخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَ جَعَلَ لَهُمْ اَجَلًا لَّا رَیْبَ فِیْهِ ؕ فَاَبَی الظّٰلِمُوْنَ اِلَّا کُفُوْرًا ۝

“এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে: আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ–বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব? তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।” (১৭:৯৮ – ৯৯)

وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَہْدَ اَیْمَانِهِمْ ۙ لَا یَبْعَثُ اللّٰهُ مَنْ یَّمُوْتُ ؕ بَلٰی وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا وَّ لٰكِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۝

“তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না।” (১৬:৩৮)

اَللّٰهُ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُہٗ ثُمَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۝

“আল্লাহ প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এরপর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩০:১১)

قُلْ یَتَوَفّٰىکُمْ مَّلَکُ الْمَوْتِ الَّذِیْ وُكِلَ بِکُمْ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمْ تُرْجَعُوْنَ ۝

“বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৩২:১১)

یُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَ یُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ وَ یُحْیِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ وَ كَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ ۝

“তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বহির্গত করেন জীবিত থেকে মৃতকে বহির্গত করেন, এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এভাবে তোমরা উত্থিত হবে।” (৩০:১৯)

وَ مِنْ اٰیٰتِہٖۤ اَنْ تَقُوْمَ السَّمَآءُ وَ الْاَرْضُ بِاَمْرِہٖ ؕ ثُمَّ اِذَا دَعَاکُمْ دَعْوَۃً ٭ۖ مِّنَ الْاَرْضِ ٭ۖ اِذَاۤ اَنْتُمْ تَخْرُجُوْنَ ۝

“তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর যখন তিনি মৃত্তিকা থেকে উঠার জন্যে তোমাদের ডাক দেবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে।” (৩০:২৫)

وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ یُقْسِمُ الْمُجْرِمُوْنَ ۬ۙ مَا لَبِثُوْا غَیْرَ سَاعَۃٍ ؕ كَذٰلِكَ كَانُوْا یُؤْفَکُوْنَ۝ وَ قَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ وَالْاِیْمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ اِلٰی یَوْمِ الْبَعْثِ ۫ فَهٰذَا یَوْمُ الْبَعْثِ وَ لٰكِنَّکُمْ کُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ۝

“যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, এক মুহূতেরও বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবে তারা সত্যবিমুখ হত। যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে আমরা আল্লাহর কিতাবমতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এটাই পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা তা জানতে না।” (৩০:৫৫ – ৫৬)

وَ اسْتَمِعْ یَوْمَ یُنَادِ الْمُنَادِ مِنْ مَّكَانٍ قَرِیْبٍ ۝ یَّوْمَ یَسْمَعُوْنَ الصَّیْحَۃَ بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِكَ یَوْمُ الْخُرُوْجِ ۝ اِنَّا نَحْنُ نُحْیٖ وَ نُمِیْتُ وَ اِلَیْنَا الْمَصِیْرُ ۝ یَوْمَ تَشَقَّقُ الْاَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًا ؕ ذٰلِكَ حَشْرٌ عَلَیْنَا یَسِیْرٌ ۝

“শোন, যে দিন এক আহ্বানকারী নিকটবর্তী স্থান থেকে আহ্বান করবে। যেদিন মানুষ নিশ্চিত সেই ভয়াবহ আওয়াজ শোনতে পাবে, সেদিনই পুনরত্থান দিবস। আমি জীবন দান করি, মৃত্যু ঘটাই এবং আমারই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। যেদিন ভূমন্ডল বিদীর্ণ হয়ে মানুষ ছুটাছুটি করে বের হয়ে আসবে। এটা এমন সমবেত করা, যা আমার জন্যে অতি সহজ।” (৫০:৪১ – ৪৪)

وَ اللّٰهُ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیْرُ سَحَابًا فَسُقْنٰهُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَحْیَیْنَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ كَذٰلِكَ النُّشُوْرُ ۝

“আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূখন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূখন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।” (৩৫:৯)

ءَ اِذَا مِتْنَا وَ کُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ ۝ اَوَ اٰبَآؤُنَا الْاَوَّلُوْنَ ۝ قُلْ نَعَمْ وَاَنْتُمْ دَاخِرُوْنَ ۝ فَاِنَّمَا هِیَ زَجْرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ فَاِذَا هُمْ یَنْظُرُوْنَ ۝

“আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? আমাদের পিতৃপুরুষগণও কি? বলুন, হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত। বস্তুত সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র -যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।” (৩৭:১৬ – ১৯)

 

হযরত উজায়ের (আ)-এর পুনর্জীবন বৃত্তান্ত

হযরত উজায়ের (আ) এর সময়ে জেরুযালেম নগরী প্রতিপক্ষের আক্রমণে ধ্বংস-স্তুপে পরিণত হয়। তিনি তাঁর ভ্রমণকালে যখন উক্ত নগরীর ধ্বংসাবশেষ অতিক্রম করছিলেন তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে মহান আল্লাহ্ কিভাবে এ নগরীকে পুনরুজ্জীবিত করবেন? তাঁকে পুনরুজ্জীবন সংক্রান্ত জ্ঞান দানের জন্য মহান আল্লাহ একশত বছর তাঁকে মৃত অবস্থায় সেখানে রেখে দিলেন। এরপর জীবিত হয়ে তিনি দেখতে পেলেন জনবসতিপূর্ণ এক পুনরুজ্জীবিত নগরী। তাঁর এ ঘটনাটি পুনরুজ্জীবনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

اَوْ كَالَّذِیْ مَرَّ عَلٰی قَرْیَۃٍ وَّ هِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا ۚ قَالَ اَنّٰی یُحْیٖ هٰذِهِ اللّٰهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ فَاَمَاتَهُ اللّٰهُ مِائَۃَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَہٗ ؕ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ؕ قَالَ لَبِثْتُ یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ قَالَ بَلْ لَّبِثْتَ مِائَۃَ عَامٍ فَانْظُرْ اِلٰی طَعَامِكَ وَ شَرَابِكَ لَمْ یَتَسَنَّہْ ۚ وَ انْظُرْ اِلٰی حِمَارِكَ وَ لِنَجْعَلَكَ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَ انْظُرْ اِلَی الْعِظَامِ كَیْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَکْسُوْهَا لَحْمًا ؕ فَلَمَّا تَبَیَّنَ لَہٗ ۙ قَالَ اَعْلَمُ اَنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۝

“তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরণের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কিংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে -সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য নিদর্শন বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল – আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” (২:২৫৯)

 

অধ্যায়সমূহ