এ অধ্যায়ের বিষয়সমূহ
Toggleপ্রতিফল বা মহাবিচার দিবস
اِنَّمَا تُوْعَدُوْنَ لَصَادِقٌ وَاِنَّ الدِّيْنَ لَوَاقِعٌ ؕ
“তোমাদেরকে প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য। (বিচার দিবসে) ইনসাফের প্রতিষ্ঠা অবশ্যম্ভাবী।” (৫১:৫ – ৬)
ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেলে আল্লাহর নির্দেশে মানবজাতি কবর থেকে পুনরুত্থিত ও পুনরুজ্জীবিত হয়ে হাশরের মাঠে সমবেত হবে। এটাই হবে প্রতিফল বা মহাবিচার দিবস। বিচার দিবসের একচ্ছত্র মালিক হবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন (مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِ)। তাঁর সামনে প্রতিটি মানুষের আমলনামা পেশ করা হবে। তখন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করা হবে। সর্বশিক্তমান আল্লাহ্ অতি সূক্ষ্ম ও ইনসাফপূর্ণ ফয়সালার মাধ্যমে মানব ও জ্বীন জাতির বিচার কাজ সম্পন্ন করবেন। বিচারে যথাযথ সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। এমনকি মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য প্রদান করবে। দুনিয়ার বুকে তারা যা করেছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার কাজ সম্পন্ন হবে সেখানে। ঈমান, নিয়ত ও সৎকর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে তাদের ভাগ্য। আল্লাহ্ সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মানুষকে তাঁর ওয়াদাকৃত প্রতিফল দান করবেন। সেদিন অবিশ্বাসীদের আমল ওজনের জন্য কোন মানদন্ড স্থাপনের প্রয়োজন হবে না। এরা তাদের সৎকর্মের সুফল এ দুনিয়ায় পেয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও তাঁর কিতাবকে অবিশ্বাস ও অস্বীকার করার কারণে তারা আখিরাতে দুর্ভোগ ছাড়া কোন সুফল পাবে না। যারা মনে করে দুনিয়ার বুকে যেনতেন প্রকারে দুষ্কর্ম চালিয়ে পার পেয়ে যাবে, কখনোই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে না তাদের ধারণা কতই না মন্দ। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন,
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ۚ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ وَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ “যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৪৫:২১–২২)
বিচার দিবস সম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো :
إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا ۖ وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا ۚ إِنَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ ۚ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ“তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে প্রতিফল দেওয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা তাঁকে অস্বীকার করেছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করেছিল।” (১০:৪)فَاِنَّمَا هِیَ زَجْرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ فَاِذَا هُمْ یَنْظُرُوْنَ وَ قَالُوْا یٰوَیْلَنَا هٰذَا یَوْمُ الدِّیْنِ هٰذَا یَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِیْ کُنْتُمْ بِہٖ تُكَذِّبُوْنَ اُحْشُرُوا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا وَ اَزْوَاجَهُمْ وَ مَا كَانُوْا یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَاهْدُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطِ الْجَحِیْمِ وَ قِفُوْهُمْ اِنَّهُمْ مَّسْئُوْلُوْنَ
“বস্তুত সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র- যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে। এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস। বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের এবাদত তারা করত – আল্লাহ ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে, এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে।” (৩৭:১৯ – ২৪)
اِنَّ مَا تُوْعَدُوْنَ لَاٰتٍ ۙ وَّ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ
“যে বিষয়ের ওয়াদা তোমাদের সাথে করা হয়, তা (বিচার দিবস) অবশ্যই আগমন করবে এবং তোমরা অক্ষম করতে পারবে না।” (৬:১৩৪)
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّۃٍ ۚ وَ اِنْ تَکُ حَسَنَۃً یُّضٰعِفْهَا وَ یُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ اَجْرًا عَظِیْمًا فَكَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍۭ بِشَهِیْدٍ وَّ جِئْنَا بِكَ عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ شَهِیْدًا یَوْمَئِذٍ یَّوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ عَصَوُا الرَّسُوْلَ لَوْ تُسَوّٰی بِهِمُ الْاَرْضُ ؕ وَ لَا یَکْتُمُوْنَ اللّٰهَ حَدِیْثًا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন। আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে। যারা কাফের হয়েছিল এবং রাসূলের নাফরমানী করেছিল, সেদিন সে সমস্ত লোক কামনা করবে যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।” (৪:৪০ – ৪২)
وَ الَّذِیْنَ یُصَدِّقُوْنَ بِیَوْمِ الدِّیْنِ وَ الَّذِیْنَ هُمْ مِّنْ عَذَابِ رَبِّهِمْ مُّشْفِقُوْنَ اِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَیْرُ مَاْمُوْنٍ
“এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্ক থাকা যায় না।” (৭০:২৬ – ২৮)
وَ اَشْرَقَتِ الْاَرْضُ بِنُوْرِ رَبِّهَا وَ وُضِعَ الْكِتٰبُ وَ جِایْٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَ الشُّهَدَآءِ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ وَ وُفِّیَتْ کُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَا یَفْعَلُوْنَ
“(বিচার দিবসে) পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে -তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। প্রত্যেকে যা করেছে, তার পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। তারা যা কিছু করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।” (৩৯:৬৯ – ৭০)
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।” (১৮:১০৭–১০৮)وَ اتَّقُوْا یَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِیْهِ اِلَی اللّٰهِ ٭۟ ثُمَّ تُوَفّٰی کُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ
“ভয় কর ঐ দিনটিকে, যে দিন তোমরা ফিরে যাবে আল্লাহর কাছে, অতঃপর প্রত্যেকেই তার (জীবনভর) অর্জিত কর্মফলের পুরোপুরি বিনিময় পাবে এবং কোনরূপ অবিচার করা হবে না।” (২:২৮১)
وَ اتَّقُوْا یَوْمًا لَّا تَجْزِیْ نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَیْئًا وَّ لَا یُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَۃٌ وَّ لَا یُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ
“আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।” (২:৪৮)
وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ یَوْمَئِذٍ یَّتَفَرَّقُوْنَ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَهُمْ فِیْ رَوْضَۃٍ یُّحْبَرُوْنَ وَ اَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ لِقَآیِٔ الْاٰخِرَۃِ فَاُولٰٓئِكَ فِی الْعَذَابِ مُحْضَرُوْنَ
“যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মানুষ (ঈমান ও কুফরের ভিত্তিতে) বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে; আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের সম্মুখীন করা হবে।” (৩০:১৪ – ১৬)
قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللّٰهِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمُ السَّاعَۃُ بَغْتَۃً قَالُوْا یٰحَسْرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطْنَا فِیْهَا ۙ وَ هُمْ یَحْمِلُوْنَ اَوْزَارَهُمْ عَلٰی ظُهُوْرِهِمْ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ
“নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন ক্বিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবে: হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ত্রুটি করেছি। তার স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা।” (৬:৩১)
ذَٰلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا“জাহান্নাম – এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে।” (১৮:১০৬)وَ لَوْ تَرٰۤی اِذِ الْمُجْرِمُوْنَ نَاكِسُوْا رُءُوْسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ رَبَّنَاۤ اَبْصَرْنَا وَ سَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا اِنَّا مُوْقِنُوْنَ وَ لَوْ شِئْنَا لَاٰتَیْنَا کُلَّ نَفْسٍ هُدٰىهَا وَ لٰكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّیْ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجْمَعِیْنَ فَذُوْقُوْا بِمَا نَسِیْتُمْ لِقَآءَ یَوْمِکُمْ هٰذَا ۚ اِنَّا نَسِیْنٰکُمْ وَ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“(হে নবী), যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি। আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। অতএব এ দিবসকে ভুলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আযাব ভোগ কর।” (৩২:১২ – ১৪)
الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَہْوًا وَّ لَعِبًا وَّ غَرَّتْهُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا ۚ فَالْیَوْمَ نَنْسٰهُمْ كَمَا نَسُوْا لِقَآءَ یَوْمِهِمْ هٰذَا ۙ وَ مَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ
“তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।” (৭:৫১)
اِنَّ یَوْمَ الْفَصْلِ كَانَ مِیْقَاتًا یَّوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ فَتَاْتُوْنَ اَفْوَاجًا وَّ فُتِحَتِ السَّمَآءُ فَكَانَتْ اَبْوَابًا وَّ سُیِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا اِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا لِّلطَّاغِیْنَ مَاٰبًا لّٰبِثِیْنَ فِیْهَاۤ اَحْقَابًا
“নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে। যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে। এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে। নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।” (৭৮:১৭ – ২৩)
وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا یَوْمُ الْفَصْلِ وَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ اَلَمْ نُہْلِكِ الْاَوَّلِیْنَ ثُمَّ نُتْبِعُهُمُ الْاٰخِرِیْنَ كَذٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِیْنَ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا یَوْمُ الْفَصْلِ وَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ اَلَمْ نُہْلِكِ الْاَوَّلِیْنَ ثُمَّ نُتْبِعُهُمُ الْاٰخِرِیْنَ كَذٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِیْنَ وَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ وَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ
“আপনি জানেন বিচার দিবস কি? সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি? অতঃপর তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করব পরবর্তীদেরকে। অপরাধীদের সাথে আমি এরূপই করে থাকি। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে।” (৭৭:১৪ – ১৯)
اِسْتَجِیْبُوْا لِرَبِّکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَہٗ مِنَ اللّٰهِ ؕ مَا لَکُمْ مِّنْ مَّلْجَاٍ یَّوْمَئِذٍ وَّ مَا لَکُمْ مِّنْ نَّكِیْرٍ
“আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস (বিচার দিবস) আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না।” (৪২:৪৭)
مَنْ عَمِلَ سَیِّئَۃً فَلَا یُجْزٰۤی اِلَّا مِثْلَهَا ۚ وَ مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓئِكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّۃَ یُرْزَقُوْنَ فِیْهَا بِغَیْرِ حِسَابٍ
“যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মু’মিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিযিক দেয়া হবে।” (৪০:৪০)
کُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَۃُ الْمَوْتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَکُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدْخِلَ الْجَنَّۃَ فَقَدْ فَازَ ؕ وَ مَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ
“প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ প্রতিফল প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।” (৩:১৮৫)
وَالذّٰرِیٰتِ ذَرْوًا فَالْحٰمِلٰتِ وِقْرًا فَالْجٰرِیٰتِ یُسْرًا فَالْمُقَسِّمٰتِ اَمْرًا اِنَّمَا تُوْعَدُوْنَ لَصَادِقٌ وَّ اِنَّ الدِّیْنَ لَوَاقِعٌ ؕ
“কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর। অতঃপর বোঝা বহনকারী মেঘের। অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের, অতঃপর কর্ম বণ্টনকারী ফেরেশতাগণের, তোমাদের প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য। বিচার দিবস অবশ্যম্ভাবী।” (৫১:১ – ৬)
فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ یَّوْمِهِمُ الَّذِیْ یُوْعَدُوْنَ
“অতএব, কাফেরদের জন্যে দুর্ভোগ সেই দিনের (বিচার দিবসের), যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদেরকে দেয়া হয়েছে।” (৫১:৬০)
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُ ونَوَقَالُوا يَا وَيْلَنَا هَـٰذَا يَوْمُ الدِّينِ“বস্তুতঃ সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র-যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে। এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস।” (৩৭:১৯–২০)لِلَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنٰی ؕؔ وَ الَّذِیْنَ لَمْ یَسْتَجِیْبُوْا لَہٗ لَوْ اَنَّ لَهُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا وَّ مِثْلَہٗ مَعَہٗ لَافْتَدَوْا بِہٖ ؕ اُولٰٓئِكَ لَهُمْ سُوْٓءُ الْحِسَابِ ۬ۙ وَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَ بِئْسَ الْمِهَادُ
“যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে এবং যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণস্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান।” (১৩:১৮)
لَقَدْ کُنْتَ فِیْ غَفْلَۃٍ مِّنْ هٰذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ الْیَوْمَ حَدِیْدٌ وَ قَالَ قَرِیْنُہٗ هٰذَا مَا لَدَیَّ عَتِیْدٌ اَلْقِیَا فِیْ جَهَنَّمَ کُلَّ كَفَّارٍ عَنِیْدٍ مَّنَّاعٍ لِّلْخَیْرِ مُعْتَدٍ مُّرِیْبِۣ الَّذِیْ جَعَلَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَاَلْقِیٰهُ فِی الْعَذَابِ الشَّدِیْدِ قَالَ قَرِیْنُہٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطْغَیْتُہٗ وَ لٰكِنْ كَانَ فِیْ ضَلٰلٍۭ بَعِیْدٍ قَالَ لَا تَخْتَصِمُوْا لَدَیَّ وَ قَدْ قَدَّمْتُ اِلَیْکُمْ بِالْوَعِیْدِ مَا یُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَیَّ وَ مَاۤ اَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ
“তুমি তো এই দিন (বিচার দিবস) সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ। তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবে: আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই। তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গলজনক কাজে, সীমালংঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর। তার সঙ্গী শয়তান বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্তুত সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেন: আমার সামনে বাকবিতন্ডা করো না আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম। আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি যুলুমকারী নই।” (৫০:২২ – ২৯)
یَوْمَ یَجْمَعُکُمْ لِیَوْمِ الْجَمْعِ ذٰلِكَ یَوْمُ التَّغَابُنِ ؕ وَ مَنْ یُّؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ وَ یَعْمَلْ صَالِحًا یُّكَفِّرْ عَنْهُ سَیِّاٰتِہٖ وَ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
“সেদিন অর্থাৎ, (হাশরের মাঠে) সমাবেশের দিন আল্লাহ তোমাদেরকে সমবেত করবেন। এ দিন হার-জিতের দিন। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তার পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। যার তলদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে, তারা তথায় চিরকাল বসবাস করবে। এটাই মহাসাফল্য।” (৬৪:৯)
اِنَّہٗ كَانَ فَرِیْقٌ مِّنْ عِبَادِیْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ فَاتَّخَذْتُمُوْهُمْ سِخْرِیًّا حَتّٰۤی اَنْسَوْکُمْ ذِکْرِیْ وَ کُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَکُوْنَ اِنِّیْ جَزَیْتُهُمُ الْیَوْمَ بِمَا صَبَرُوْۤا ۙ اَنَّهُمْ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
“আমার বান্দাদের একদলে বলত: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। আজ (বিচার দিবসে) আমি তাদেরকে তাদের সবরের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম।” (২৩:১০৯ – ১১১)
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَا تَعْتَذِرُوا الْیَوْمَ ؕ اِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“হে কাফের সম্প্রদায়, তোমরা আজ ওযর পেশ করো না। তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে, যা তোমরা করতে।” (৬৬:৭)
یُدَبِّرُ الْاَمْرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الْاَرْضِ ثُمَّ یَعْرُجُ اِلَیْهِ فِیْ یَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُہٗۤ اَلْفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوْنَ
“তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌঁছাবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।” (৩২:৫)
বিচার দিবসের সাক্ষী
وَ اَشْرَقَتِ الْاَرْضُ بِنُوْرِ رَبِّهَا وَ وُضِعَ الْكِتٰبُ وَ جِایْٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَ الشُّهَدَآءِ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ
“(বিচার দিবসে) পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে – তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৩৯:৬৯)
পার্থিব জীবনে যেমন সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তেমনটি আখিরাতেও ঘটবে। পুরোপুরি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে অনুষ্ঠিত এ বিচার। মহান আল্লাহ্ বিচার দিবসে কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না। ঐ দিন কারা সাক্ষী হবে তার বিবরণও দেওয়া হয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে:
اِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ یَوْمَ یَقُوْمُ الْاَشْهَادُ یَوْمَ لَا یَنْفَعُ الظّٰلِمِیْنَ مَعْذِرَتُهُمْ وَ لَهُمُ اللَّعْنَۃُ وَ لَهُمْ سُوْٓءُ الدَّارِ
“আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মু’মিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে (বিচার দিবসে)। সে দিন যালেমদের ওযর–আপত্তি কোন উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ।” (৪০:৫১)
وَ یَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیْدًا ثُمَّ لَا یُؤْذَنُ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ لَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ
“যেদিন (বিচার দিবসে) আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব, তখন কাফেরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের তওবাও গ্রহণ করা হবে না।” (১৬:৮৪)
وَ یَوْمَ نَبْعَثُ فِیْ کُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیْدًا عَلَیْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَ جِئْنَا بِكَ شَهِیْدًا عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ…
“সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষীস্বরূপ উপস্থাপন করব ……..।” (১৬:৮৯)
وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنٰکُمْ اُمَّۃً وَّسَطًا لِّتَکُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ وَ یَکُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَیْکُمْ شَهِیْدًا ؕ…..
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রাসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য…………..।” (২:১৪৩)
فَكَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍۭ بِشَهِیْدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ شَهِیْدًا یَوْمَئِذٍ یَّوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَعَصَوُا الرَّسُوْلَ لَوْ تُسَوّٰی بِهِمُ الْاَرْضُ ؕ وَلَا یَکْتُمُوْنَ اللّٰهَ حَدِیْثًا
“আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে। সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।” (৪:৪১–৪২)
….لِیَکُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِیْدًا عَلَیْکُمْ وَ تَکُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ……
“……….যাতে রাসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে ………।” (২২:৭৮)
وَ نَزَعْنَا مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیْدًا فَقُلْنَا هَاتُوْا بُرْهَانَکُمْ فَعَلِمُوْۤا اَنَّ الْحَقَّ لِلّٰهِ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ
“প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমি একজন সাক্ষী আলাদা করব; অতঃপর বলব, তোমাদের প্রমাণ আন। তখন তারা জানতে পারবে যে, সত্য আল্লাহর এবং তারা যা গড়ত, তা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে।” (২৮:৭৫)
وَ اِنَّ عَلَیْکُمْ لَحٰفِظِیْنَ كِرَامًا كَاتِبِیْنَ یَعْلَمُوْنَ مَا تَفْعَلُوْنَ
“অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। কেরামান কাতেবীন (সম্মানিত লেখকবৃন্দ)। তারা জানে যা তোমরা কর।” (৮২:১০ – ১২)
اِذْ یَتَلَقَّی الْمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الْیَمِیْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِیْدٌ مَا یَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَیْهِ رَقِیْبٌ عَتِیْدٌ وَ جَآءَتْ سَکْرَۃُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِكَ مَا کُنْتَ مِنْهُ تَحِیْدُ وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ ؕ ذٰلِكَ یَوْمُ الْوَعِیْدِ وَ جَآءَتْ کُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَآئِقٌ وَّ شَهِیْدٌ
“যখন দুই ফেরেশতা (কেরামান কাতেবীন) ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে। এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী (ফেরেশতাদ্বয়)।” (৫০:১৭ – ২১)
اَلْیَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤی اَفْوَاهِهِمْ وَ تُكَلِّمُنَاۤ اَیْدِیْهِمْ وَ تَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَکْسِبُوْنَ
“আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।” (৩৬:৬৫)
حَتّٰۤی اِذَا مَا جَآءُوْهَا شَهِدَ عَلَیْهِمْ سَمْعُهُمْ وَ اَبْصَارُهُمْ وَ جُلُوْدُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ وَ قَالُوْا لِجُلُوْدِهِمْ لِمَ شَهِدْتُّمْ عَلَیْنَا ؕ قَالُوْۤا اَنْطَقَنَا اللّٰهُ الَّذِیْۤ اَنْطَقَ کُلَّ شَیْءٍ وَّ هُوَ خَلَقَکُمْ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ وَ مَا کُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ اَنْ یَّشْهَدَ عَلَیْکُمْ سَمْعُکُمْ وَ لَاۤ اَبْصَارُکُمْ وَ لَا جُلُوْدُکُمْ وَ لٰكِنْ ظَنَنْتُمْ اَنَّ اللّٰهَ لَا یَعْلَمُ كَثِیْرًا مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ وَ ذٰلِکُمْ ظَنُّکُمُ الَّذِیْ ظَنَنْتُمْ بِرَبِّکُمْ اَرْدٰىکُمْ فَاَصْبَحْتُمْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ
“তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চক্ষু ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমাদের কান, তোমাদের চক্ষু এবং তোমাদের ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে না ধারণার বশবর্তী হয়ে তোমরা তাদের কাছে কিছু গোপন করতে না। তবে তোমাদের ধারণা ছিল যে, তোমরা যা কর তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।” (৪১:২০ – ২৩)
یَّوْمَ تَشْهَدُ عَلَیْهِمْ اَلْسِنَتُهُمْ وَ اَیْدِیْهِمْ وَ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ یَوْمَئِذٍ یُّوَفِّیْهِمُ اللّٰهُ دِیْنَهُمُ الْحَقَّ وَ یَعْلَمُوْنَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِیْنُ
“যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহ্বা তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করত; সেদিন আল্লাহ তাদের সমুচিত শাস্তি পুরোপুরি দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, অল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী।” (২৪:২৪ – ২৫)
ইনসাফের ন্যায়দন্ড
وَ نَضَعُ الْمَوَازِیْنَ الْقِسْطَ لِیَوْمِ الْقِیٰمَۃِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْئًا ؕ وَ اِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّۃٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَیْنَا بِهَا ؕ وَ كَفٰی بِنَا حٰسِبِیْنَ
“আমি ক্বিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি যুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।” (২১:৪৭)
আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক। বিচার দিবসে তিনি বান্দার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও সঠিক বিচারের জন্য ন্যায়ের মানদন্ড স্থাপন করবেন যাতে অনু পরিমাণ জুলুম যেন কারো উপর সংঘটিত না হয়। মিযানের পাল্লায় মানুষের সব পাপ ও পূণ্যের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এবং এর ভিত্তিতে কেহ শাস্তি পাবে ও কেহ পুরস্কারে ভূষিত হবে। অবিশ্বাসী ও বিদ্রোহী কাফেরদের পাপ–পূণ্যের কোন ওজন নেবার প্রয়োজন হবে না। তাদের সৎকর্মের সুফল আল্লাহ্ পৃথিবীর বুকেই তাদেরকে দিয়ে দিবেন, আখিরাতে তারা অবিশ্বাস ও কুফরীর কারণে শুধু শাস্তির ভাগীদার হবে। এতদ্সম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:
وَ الْوَزْنُ یَوْمَئِذِ ۣالْحَقُّ ۚ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُہٗ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ وَ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُہٗ فَاُولٰٓئِكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَظْلِمُوْنَ
“আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করতো।” (৭:৮ – ৯)
فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَـٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ “যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম, এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।” (২৩:১০২–১০৩)اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّۃٍ ۚ وَاِنْ تَکُ حَسَنَۃً یُّضٰعِفْهَا وَیُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ اَجْرًا عَظِیْمًا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু–বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।” (৪:৪০)
أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا “তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন আমি তাদের (পরিত্রাণের) জন্য ওজনের কোন মানদন্ড স্থাপন করব না।” (১৮:১০৫)مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ۖ وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ “যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (৬:১৬০)
মানুষের আফসোস
اِنَّاۤ اَنْذَرْنٰکُمْ عَذَابًا قَرِیْبًا ۬ۚۖ یَّوْمَ یَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ یَدٰهُ وَیَقُوْلُ الْکٰفِرُ یٰلَیْتَنِیْ کُنْتُ تُرٰبًا
“আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ ‘হায়, আফসোস – আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।’!” (৭৮:৪০)
বিচার দিবসে পাপী ব্যক্তিরা যখন ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হবে তখন কৃতকর্মের জন্য তাদের অন্তরে তীব্র অপরাধবোধ ও অনুশোচনার সৃষ্টি হবে। তারা তখন এর পরিণাম ফল উপলব্ধী করতে পারবে। কিন্তু এ বিলম্বিত উপলব্ধি তাদের কোন উপকারে আসবে না, কারণ প্রত্যাবর্তনের কোন সুযোগ নেই। সংশোধনের সুযোগ পৃথিবীতে যথেষ্ট পেয়েছিল, কিন্তু হেলাফেলা করে তারা তা বিনষ্ট করে ফেলেছে। এখন তাদেরকে এর করুণ পরিণতি ভোগ করতেই হবে। তারা যে পরিতাপজনিত ভাষায় মনস্তাপ ব্যক্ত করবে তা নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে উদ্ধৃত করা হলো:
وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
“এবং (শযতানী শক্তির) অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।” (২:১৬৭)
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
“আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা অনবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।” (১৯:৩৯)
وَوُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَی الْمُجْرِمِیْنَ مُشْفِقِیْنَ مِمَّا فِیْهِ وَیَقُوْلُوْنَ یٰوَیْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیْرَۃً وَلَا كَبِیْرَۃً اِلَّاۤ اَحْصٰهَا
“আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত–সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না!” (১৮:৪৯)
وَ یَوْمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیْهِ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِی اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِیْلًايَا وَيْلَتَىٰ لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا
“জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।.” (২৫:২৭–২৮)
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ”হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।” (২৬:১০২)وَ جِایْٓءَ یَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۬ۙ یَوْمَئِذٍ یَّتَذَكَرُ الْاِنْسَانُ وَاَنّٰی لَهُ الذِّکْرٰی یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ قَدَّمْتُ لِحَیَاتِیْ
“এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? ‘সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!’” (৮৯:২৩ – ২৪)
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ لَعَلِّیْۤ اَعْمَلُ صَالِحًا فِیْمَا تَرَکْتُ كَلَّا ؕ اِنَّهَا كَلِمَۃٌ هُوَ قَآئِلُهَا ؕ وَمِنْ وَّرَآئِهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ
“যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে: হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” (২৩:৯৯ – ১০০)
یَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ یَقُوْلُوْنَ یٰلَیْتَنَاۤ اَطَعْنَا اللّٰهَ وَاَطَعْنَا الرَّسُوْلَا
“যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম’।” (৩৩:৬৬)
وَ لَئِنْ مَّسَّتْهُمْ نَفْحَۃٌ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا کُنَّا ظٰلِمِیْنَ
“আপনার পালনকর্তার আযাবের কিছুমাত্রও তাদেরকে স্পর্শ করলে তারা বলতে থাকবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম’!” (২১:৪৬)
وَلَوْ تَرٰۤی اِذْ وُقِفُوْا عَلَی النَّارِ فَقَالُوْا یٰلَیْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَنَکُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ
“আর আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবে: কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃ প্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম’!” (৬:২৭)
وَاَمَّا مَنْ اُوْتِیَ كِتٰبَہٗ بِشِمَالِہٖ ۬ۙ فَیَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ لَمْ اُوْتَ كِتٰبِیَہْ وَ لَمْ اَدْرِ مَا حِسَابِیَہْ یٰلَیْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِیَۃَ مَاۤ اَغْنٰی عَنِّیْ مَالِیَہْ هَلَكَ عَنِّیْ سُلْطٰنِیَہْ خُذُوْهُ فَغُلُّوْهُ
“যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে: হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব! হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত। আমার ধন–সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না। আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল’!” (৬৯:২৫–২৯)قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
“তারা বলল: হায়, দুর্ভোগ আমাদের, আমরা অবশ্যই পাপী ছিলাম।!” (২১:১৪)
وَلَئِنْ اَصَابَکُمْ فَضْلٌ مِّنَ اللّٰهِ لَیَقُوْلَنَّ كَاَنْ لَّمْ تَکُنْۢ بَیْنَکُمْ وَبَیْنَہٗ مَوَدَّۃٌ یّٰلَیْتَنِیْ کُنْتُ مَعَهُمْ فَاَفُوْزَ فَوْزًا عَظِیْمًا
“পক্ষান্তরে তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আসলে তারা এমন ভাবে বলতে শুরু করবে যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না। (বলবে) হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমি ও যে সফলতা লাভ করতাম’!” (৪:৭৩)
وَ اقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَاِذَا هِیَ شَاخِصَۃٌ اَبْصَارُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ یٰوَیْلَنَا قَدْ کُنَّا فِیْ غَفْلَۃٍ مِّنْ هٰذَا بَلْ کُنَّا ظٰلِمِیْنَ
“আমোঘ প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হলে কাফেরদের চক্ষু উচ্চে স্থির হয়ে যাবে; হায় আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা এ বিষয়ে বেখবর ছিলাম; বরং আমরা গোনাহগরই ছিলাম’!” (২১:৯৭)
قَالُوْا یٰوَیْلَنَا مَنْۢ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا ۘؐ هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ
“তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উখিত করল? রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্য বলেছিলেন’!” (৩৬:৫২)
وَاتَّبِعُوْۤا اَحْسَنَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْکُمْ مِّنْ رَّبِّکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَکُمُ الْعَذَابُ بَغْتَۃً وَ اَنْتُمْ لَا تَشْعُرُوْنَ اَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ یّٰحَسْرَتٰی عَلٰی مَا فَرَّطْتُّ فِیْ جَنْۢبِ اللّٰهِ وَاِنْ کُنْتُ لَمِنَ السّٰخِرِیْنَ اَوْ تَقُوْلَ لَوْ اَنَّ اللّٰهَ هَدٰىنِیْ لَکُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِیْنَ اَوْ تَقُوْلَ حِیْنَ تَرَی الْعَذَابَ لَوْ اَنَّ لِیْ كَرَّۃً فَاَکُوْنَ مِنَ الْمُحْسِنِیْنَ بَلَىٰ قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
“তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আযাব আসার পূর্বে, যাতে কেউ না বলে, হায়, হায়, আল্লাহ সকাশে আমি কর্তব্যে অবহেলা করেছি এবং আমি ঠাট্টা–বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম। অথবা না বলে, আল্লাহ যদি আমাকে পথপ্রদর্শন করতেন, তবে অবশ্যই আমি পরহেযগারদের একজন হতাম। অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় না বলে, যদি কোনরূপে একবার ফিরে যেতে পারি, তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে যাব। হাঁ, তোমার কাছে আমার নির্দেশ এসেছিল; অতঃপর তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে, অহংকার করেছিলে এবং কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গিয়েছিলে “ (৩৯:৫৫–৫৯)
قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللّٰهِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمُ السَّاعَۃُ بَغْتَۃً قَالُوْا یٰحَسْرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطْنَا فِیْهَا ۙ وَهُمْ یَحْمِلُوْنَ اَوْزَارَهُمْ عَلٰی ظُهُوْرِهِمْ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ
“নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা।” (৬:৩১)
আখিরাতের নিবাস জান্নাত ও জাহান্নাম
অদৃশ্যে বিশ্বাসের অন্যতম বিষয় হলো জান্নাত ও জাহান্নাম। এগুলো মানুষের পরকালীন জীবনের চূড়ান্ত ঠিকানা ও আবাসস্থল। শেষ বিচার দিবসে অতীব সূক্ষ্ম ও ইনসাফপূর্ণ ফয়সালার মাধ্যমে মানব ও জিন জাতির বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। ঈমানদার ও নেককার মানুষেরা তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ লাভ করবে চিরকালীন সুখ ও শান্তির নিবাস জান্নাত। আর নাস্তিক, কাফের, মুশরেক ও মোনাফেকদেরকে নিক্ষেপ করা হবে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক স্থান জাহান্নামের আগুনে, সেখানে তারা তাদের কর্মফলের শাস্তি ভোগ করবে অনন্ত কাল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ জান্নাতের সুখ ও শান্তির ব্যাপারে শুভ সংবাদ দিয়েছেন এবং জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যপারে সতর্ক করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন,
اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَ رَضُوْا بِالْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ اطْمَاَنُّوْا بِهَا وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ ۙ اُولٰٓئِكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَکْسِبُوْنَ اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَہْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ ۚ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَ تَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ ۚ وَ اٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ
“অবশ্যই যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করেছে এবং যারা আমার নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বেখবর। এমন লোকদের ঠিকানা হল আগুন সেসবের বদলা হিসাবে যা তারা অর্জন করছিল। অবশ্য যেসব লোক ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে হেদায়েত দান করবেন তাদের পালনকর্তা, তাদের ঈমানের কারণে। এমন সুখদ কানন–কুঞ্জে (তারা অবস্থান করবে) যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তাদের প্রার্থনা হল ‘পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ’। আর অভিবাদন হল সালাম আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য’ বলে।” (১০:৭ – ১০)
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত জান্নাতসমূহের নাম:
جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ (জান্নাতুল ফেরদৌস: ১৮:১০৭, ২৩:১১)
دَارَ الْمُقَامَةِ (দার আল-মাক্বামাহ্: ৩৫:৩৫)
دَارِ السَّلاَمِ (দার আস-সালাম: ৬:১২৭, ১০:২৫)
جَنَّاتُ عَدْنٍ (জান্নাতুল আদন: ৩:৭২, ১৩:২৩)
جَنَّةُ الْخُلْدِ (জান্নাতুল খুলদ:২৫:১৫) جَنَّةُ الْمَأْوَى (জান্নাতুল মা’ওয়া: ৫৩:১৫)
جَنَّاتِ النَّعِيمِ (জান্নাতুল নাঈ’ম: ৫:৬৫, ১০:৯, ২:৫৬)
مَقَامٍ أَمِينٍ (মাক্বামে আমীন: ৪৪:৫১)
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত জাহান্নামসমূহের নাম:
جَهَنَّمَ (জাহান্নাম: ৭৮:২১)
لَظَى (লাযা: ৭০:১৫)
الْحُطَمَةِ (হুতামা: ১০৪:৪-৫)
السَّعِيرِ (সায়ী’র:
৪২:৭)
سَقَرُ (সাক্কক্বার: ৭৪:২৬-২৭)
الْجَحِيم (জাহীম:
২৬:৯১)
هَاوِيَةٌ (হাওয়িয়া/হাবিয়া: ১০১:৯)
জান্নাতের বর্ণনা
চির শান্তির আবাস জান্নাতের বিস্ময়কর নিয়মতরাশির র্বণনাসম্বলতি আয়াতগুলো নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:
وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ مَسٰكِنَ طَیِّبَۃً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍ ؕ وَ رِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَکْبَرُ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
“আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কাননকুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্র¯্রবণ। তারা সেগুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কাননকুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা।” (৯:৭২) ।”
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خٰلِدِیْنَ فِیْهَا لَا یَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا
“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।” (১৮:১০৭ – ১০৮)
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اِنَّا لَا نُضِیْعُ اَجْرَ مَنْ اَحْسَنَ عَمَلًا اُولٰٓئِكَ لَهُمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ یَلْبَسُوْنَ ثِیَابًا خُضْرًا مِّنْ سُنْدُسٍ وَّ اِسْتَبْرَقٍ مُّتَّكِئِیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآئِكِ ؕ نِعْمَ الثَّوَابُ ؕ وَ حَسُنَتْ مُرْتَفَقًا
“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না। তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপড় পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।” (১৮:৩০ – ৩১)
اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ جَنّٰتٍ وَّ نَعِیْمٍ فٰكِهِیْنَ بِمَاۤ اٰتٰهُمْ رَبُّهُمْ ۚ وَ وَقٰهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ کُلُوْا وَ اشْرَبُوْا هَنِیْٓـًٔۢا بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ مُتَّكِئِیْنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصْفُوْفَۃٍ ۚ وَ َوَّجْنٰهُمْ بِحُوْرٍ عِیْنٍ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ اتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّیَّتُهُمْ بِاِیْمَانٍ اَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَ َاۤ اَلَتْنٰهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ کُلُّ امْرِیًٔۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیْنٌ وَ اَمْدَدْنٰهُمْ بِفَاكِهَۃٍ وَّ َحْمٍ مِّمَّا یَشْتَهُوْنَ یَتَنَازَعُوْنَ فِیْهَا كَاْسًا لَّا لَغْوٌ فِیْهَا وَ لَا تَاْثِیْمٌ وَ یَطُوْفُ عَلَیْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَاَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَّکْنُوْنٌ وَ اَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ قَالُوْۤا اِنَّا کُنَّا قَبْلُ فِیْۤ اَهْلِنَا مُشْفِقِیْنَ فَمَنَّ اللّٰهُ عَلَیْنَا وَ وَقٰىنَا عَذَابَ السَّمُوْمِ اِنَّا کُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوْهُ ؕ اِنَّہٗ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِیْمُ
“নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতে। তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তিনি জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন। তাদেরকে বলা হবে: তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর। তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দেব। যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী। আমি তাদেরকে দেব ফল-মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে। সেখানে তারা একে অপরকে পানপাত্র দেবে; যাতে অসার বকাবকি নেই এবং পাপকর্মও নেই। সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে। তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তারা বলবে: আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত–কম্পিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু।” (৫২:১৭ – ২৮)
اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ یَوْمَئِذٍ خَیْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَّ اَحْسَنُ مَقِیْلًا
“সেদিন জান্নাতীদের বাসস্থান হবে উত্তম এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম।” (২৫:২৪)
یَوْمَ تَرَی الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ یَسْعٰی نُوْرُهُمْ بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ بِاَیْمَانِهِمْ بُشْرٰىکُمُ الْیَوْمَ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
“যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটাছুটি করছে, বলা হবে: আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।” (৫৭:১২)
مَثَلُ الْجَنَّۃِ الَّتِیْ وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ؕ فِیْهَاۤ اَنْهٰرٌ مِّنْ مَّآءٍ غَیْرِ اٰسِنٍ ۚ وَ اَنْهٰرٌ مِّنْ لَّبَنٍ لَّمْ یَتَغَیَّرْ طَعْمُہٗ ۚ وَ اَنْهٰرٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّۃٍ لِّلشّٰرِبِیْنَ ۬ۚ وَ اَنْهٰرٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّی ؕ وَ لَهُمْ فِیْهَا مِنْ کُلِّ الثَّمَرٰتِ وَ مَغْفِرَۃٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ ؕ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِی النَّارِ وَ سُقُوْا مَآءً حَمِیْمًا فَقَطَّعَ اَمْعَآءَهُمْ
“পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপ: তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফলমূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে।” (৪৭:১৫)
وَ لِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ جَنَّتٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ ذَوَاتَاۤ اَفْنَانٍ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِمَا عَیْنٰنِ تَجْرِیٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِمَا مِنْ کُلِّ فَاكِهَۃٍ زَوْجٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ مُتَّكِـِٕیْنَ عَلٰی فُرُشٍۭ بَطَآئِنُهَا مِنْ اِسْتَبْرَقٍ ؕ وَ جَنَا الْجَنَّتَیْنِ دَانٍ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِنَّ قٰصِرٰتُ الطَّرْفِ ۙ لَمْ یَطْمِثْهُنَّ اِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَ لَا جَآنٌّ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ كَاَنَّهُنَّ الْیَاقُوْتُ وَ الْمَرْجَانُ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ هَلْ جَزَآءُ الْاِحْسَانِ اِلَّا الْاِحْسَانُ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ
“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু’টি উদ্যান। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবন। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? তথায় থাকবে আনতনয়না রমনীগণ, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে? অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?” (৫৫:৪৬ – ৬১)
وَ مِنْ دُوْنِهِمَا جَنَّتٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ مُدْهَآ مَّتٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِمَا عَیْنٰنِ نَضَّاخَتٰنِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِمَا فَاكِهَۃٌ وَّ نَخْلٌ وَّ رُمَّانٌ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ فِیْهِنَّ خَیْرٰتٌ حِسَانٌ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ حُوْرٌ مَّقْصُوْرٰتٌ فِی الْخِیَامِ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ لَمْ یَطْمِثْهُنَّ اِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَ لَا جَآنٌّ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ مُتَّكِـِٕیْنَ عَلٰی رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَّ عَبْقَرِیٍّ حِسَانٍ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُكَذِّبٰنِ تَبٰرَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِی الْجَلٰلِ وَ الْاِکْرَامِ
“এই দু’টি ছাড়া আরও দু’টি উদ্যান রয়েছে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? কালোমত ঘন সবুজ। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? কোন জিন ও মানব পূর্বে তাদেরকে স্পর্শ করেনি। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? কত পুণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।” (৫৫:৬২ – ৭৮)
وَّ کُنْتُمْ اَزْوَاجًا ثَلٰثَۃً فَاَصْحٰبُ الْمَیْمَنَۃِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الْمَیْمَنَۃِ وَ اَصْحٰبُ الْمَشْـَٔمَۃِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الْمَشْـَٔمَۃِ وَ السّٰبِقُوْنَ السّٰبِقُوْنَ اُولٰٓئِكَ الْمُقَرَّبُوْنَ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ثُلَّۃٌ مِّنَ الْاَوَّلِیْنَ وَ قَلِیْلٌ مِّنَ الْاٰخِرِیْنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّوْضُوْنَۃٍ مُّتَّكِـِٕیْنَ عَلَیْهَا مُتَقٰبِلِیْنَ یَطُوْفُ عَلَیْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ بِاَکْوَابٍ وَّ اَبَارِیْقَ ۬ۙ وَ كَاْسٍ مِّنْ مَّعِیْنٍ لَّا یُصَدَّعُوْنَ عَنْهَا وَ لَا یُنْزِفُوْنَ وَ فَاكِهَۃٍ مِّمَّا یَتَخَیَّرُوْنَ وَ لَحْمِ طَیْرٍ مِّمَّا یَشْتَهُوْنَ
“এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা। এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা। অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নৈকট্যশীল, নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহে, তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে। স্বর্ণ খচিত সিংহাসনে; তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে। তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা। পানপাত্র কুঁজো ও প্রস্রবণ–নিসৃত খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে, যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না। আর তাদের পছন্দমত ফল–মূল নিয়ে, এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।” (৫৬:৭ – ২১)।
وَ حُوْرٌ عِیْنٌ كَاَمْثَالِ اللُّؤْلُؤَ الْمَکْنُوْنِ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ لَا یَسْمَعُوْنَ فِیْهَا لَغْوًا وَّ لَا تَاْثِیْمًا اِلَّا قِیْلًا سَلٰمًا سَلٰمًا وَ اَصْحٰبُ الْیَمِیْنِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الْیَمِیْنِ فِیْ سِدْرٍ مَّخْضُوْدٍ وَّ طَلْحٍ مَّنْضُوْدٍ وَّ ظِلٍّ مَّمْدُوْدٍ وَّ مَآءٍ مَّسْکُوْبٍ وَّ فَاكِهَۃٍ كَثِیْرَۃٍ لَّا مَقْطُوْعَۃٍ وَّ لَا مَمْنُوْعَۃٍ وَّ فُرُشٍ مَّرْفُوْعَۃٍ اِنَّاۤ اَنْشَاْنٰهُنَّ اِنْشَآءً فَجَعَلْنٰهُنَّ اَبْكَارًا عُرُبًا اَتْرَابًا لِّاَصْحٰبِ الْیَمِیْنِ ثُلَّۃٌ مِّنَ الْاَوَّلِیْنَ وَ ثُلَّۃٌ مِّنَ الْاٰخِرِیْنَ
“তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ, আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়, তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ। তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না। কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম। যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান। তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে। এবং কাঁদি কাঁদি কলায়, এবং দীর্ঘ ছায়ায়। এবং প্রবাহিত পানিতে, ও প্রচুর ফলমূলে, যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়, আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়। আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী। কামিনী, সমবয়স্কা। ডান দিকের লোকদের জন্যে। তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।” (৫৬:২২ – ৪০)।
وَ اُزْلِفَتِ الْجَنَّۃُ لِلْمُتَّقِیْنَ غَیْرَ بَعِیْدٍ هٰذَا مَا تُوْعَدُوْنَ لِکُلِّ اَوَّابٍ حَفِیْظٍ مَنْ خَشِیَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَیْبِ وَ جَآءَ بِقَلْبٍ مُّنِیْبِۣ ادْخُلُوْهَا بِسَلٰمٍ ؕ ذٰلِكَ یَوْمُ الْخُلُوْدِ لَهُمْ مَّا یَشَآءُوْنَ فِیْهَا وَلَدَیْنَا مَزِیْدٌ
“জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে খোদাভীরুদের অদূরে। তোমাদের প্রত্যেক অনুরাগী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হত। তোমরা এতে শান্তিতে প্রবেশ কর। এটাই অনন্তকাল বসবাসের জন্য প্রবেশ করার দিন। তারা তথায় যা চাইবে, তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।” (৫০:৩১ – ৩৫)
اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ مَفَازًا حَدَآئِقَ وَ اَعْنَابًا وَّكَوَاعِبَ اَتْرَابًا وَّ كَاْسًا دِهَاقًا لَا یَسْمَعُوْنَ فِیْهَا لَغْوًا وَّ لَا كِذّٰبًا جَزَآءً مِّنْ رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًا
“পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য, উদ্যান, আঙুর, সমবয়স্কা পূর্ণযৌবনা তরুণী, এবং পূর্ণ পানপাত্র। তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না। এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান।” (৭৮:৩১ – ৩৬)
اِنَّ الَّذِیْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَیْهِمُ الْمَلٰٓئِكَۃُ اَلَّا تَخَافُوْا وَ لَا تَحْزَنُوْا وَ اَبْشِرُوْا بِالْجَنَّۃِ الَّتِیْ کُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ نَحْنُ اَوْلِیٰٓؤُکُمْ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ فِی الْاٰخِرَۃِ ۚ وَ لَکُمْ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْۤ اَنْفُسُکُمْ وَ لَکُمْ فِیْهَا مَا تَدَّعُوْنَ نُزُلًا مِّنْ غَفُوْرٍ رَّحِیْمٍ
“নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে যা তোমরা দাবী কর। এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।” (৪১:৩০ – ৩২)
یٰعِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَیْکُمُ الْیَوْمَ وَ لَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ كَانُوْا مُسْلِمِیْنَ اُدْخُلُوا الْجَنَّۃَ اَنْتُمْ وَ اَزْوَاجُکُمْ تُحْبَرُوْنَ یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِصِحَافٍ مِّنْ ذَهَبٍ وَّ اَکْوَابٍ ۚ وَ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْهِ الْاَنْفُسُ وَ تَلَذُّ الْاَعْیُنُ ۚ وَاَنْتُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ وَ تِلْكَ الْجَنَّۃُ الَّتِیْۤ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ لَکُمْ فِیْهَا فَاكِهَۃٌ كَثِیْرَۃٌ مِّنْهَا تَاْکُلُوْنَ
“হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের আজ কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। তোমরা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে। জান্নাতের প্রবেশ কর তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে। তাদের কাছে পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র এবং তথায় রয়েছে মনে যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল। তথায় তোমাদের জন্যে আছে প্রচুর ফল-মূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।” (৪৩:৬৮ – ৭৩)
اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ مَقَامٍ اَمِیْنٍ فِیْ جَنّٰتٍ وَّ عُیُوْنٍ یَّلْبَسُوْنَ مِنْ سُنْدُسٍ وَّ اِسْتَبْرَقٍ مُّتَقٰبِلِیْنَ كَذٰلِكَ ۟ وَ زَوَّجْنٰهُمْ بِحُوْرٍ عِیْنٍ یَدْعُوْنَ فِیْهَا بِکُلِّ فَاكِهَۃٍ اٰمِنِیْنَ لَا یَذُوْقُوْنَ فِیْهَا الْمَوْتَ اِلَّا الْمَوْتَۃَ الْاُوْلٰی ۚ وَ وَقٰهُمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكَ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ
“নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে। তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে আনতলোচনা স্ত্রী দেব। তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফলমূল আনতে বলবে। তারা সেখানে মৃত্যু আস্বাদন করবে না, প্রথম মৃত্যু ব্যতীত এবং আপনার পালনকর্তা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই মহা সাফল্য।” (৪৪:৫১ – ৫৭)
وَ سِیْقَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ اِلَی الْجَنَّۃِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا وَ فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلٰمٌ عَلَیْکُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوْهَا خٰلِدِیْنَ وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ صَدَقَنَا وَعْدَہٗ وَ اَوْرَثَنَا الْاَرْضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الْجَنَّۃِ حَیْثُ نَشَآءُ ۚ فَنِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَ وَ تَرَی الْمَلٰٓئِكَۃَ حَآفِّیْنَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ یُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ ۚ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ قِیْلَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ
“যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমৎকার। আপনি ফেরেশতাগণকে দেখবেন, তারা আরশের চার পাশ ঘিরে তাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছে। তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর।” (৩৯:৭৩ – ৭৫)
فِیْ جَنَّۃٍ عَالِیَۃٍ لَّا تَسْمَعُ فِیْهَا لَاغِیَۃً فِیْهَا عَیْنٌ جَارِیَۃٌ فِیْهَا سُرُرٌ مَّرْفُوْعَۃٌ وَّ اَکْوَابٌ مَّوْضُوْعَۃٌ وَّ نَمَارِقُ مَصْفُوْفَۃٌ وَّ زَرَابِیُّ مَبْثُوْثَۃٌ
“তারা থাকবে, সুউচ্চ জান্নাতে। তথায় শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা। তথায় থাকবে প্রবাহিত ঝরণা। তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন। এবং সংরক্ষিত পানপাত্র এবং সারি সারি গালিচা এবং বিস্তুৃত বিছানো গালিচা।” (৮৮:১০ – ১৬)
جَزَآؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ رَضِیَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُ ؕ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِیَ رَبَّہٗ
“তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।” (৯৮:৮)
سَابِقُوْۤا اِلٰی مَغْفِرَۃٍ مِّنْ رَّبِّکُمْ وَ جَنَّۃٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ۙ اُعِدَّتْ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِہٖ ؕ ذٰلِكَ فَضْلُ اللّٰهِ یُؤْتِیْهِ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ
“তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।” (৫৭:২১)
فَوَقٰهُمُ اللّٰهُ شَرَّ ذٰلِكَ الْیَوْمِ وَ لَقّٰهُمْ نَضْرَۃً وَّ سُرُوْرًا وَ جَزٰىهُمْ بِمَا صَبَرُوْا جَنَّۃً وَّحَرِیْرًا مُّتَّكِـِٕیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآئِكِ ۚ لَا یَرَوْنَ فِیْهَا شَمْسًا وَّ لَا زَمْهَرِیْرًا وَ دَانِیَۃً عَلَیْهِمْ ظِلٰلُهَا وَ ذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا تَذْلِیْلًا وَ یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِاٰنِیَۃٍ مِّنْ فِضَّۃٍ وَّ اَکْوَابٍ كَانَتْ قَؔوَارِیْرَا۠ قَؔوَارِیْرَا۠ مِنْ فِضَّۃٍ قَدَّرُوْهَا تَقْدِیْرًا وَیُسْقَوْنَ فِیْهَا كَاْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِیْلًا عَیْنًا فِیْهَا تُسَمّٰی سَلْسَبِیْلًا وَ یَطُوْفُ عَلَیْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ ۚ اِذَا رَاَیْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنْثُوْرًا وَ اِذَا رَاَیْتَ ثَمَّ رَاَیْتَ نَعِیْمًا وَّ مُلْکًا كَبِیْرًا عٰلِیَهُمْ ثِیَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَّ اِسْتَبْرَقٌ ۫ وَّ حُلُّوْۤا اَسَاوِرَ مِنْ فِضَّۃٍ ۚ وَ سَقٰهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُوْرًا اِنَّ هٰذَا كَانَ لَکُمْ جَزَآءً وَّ كَانَ سَعْیُکُمْ مَّشْکُوْرًا
“অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে। তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। রূপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝরণা। তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন ‘শরাবান-তহুরা’। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে।” (৭৬:১১ – ২২)
اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ جَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ اٰخِذِیْنَ مَاۤ اٰتٰهُمْ رَبُّهُمْ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَبْلَ ذٰلِكَ مُحْسِنِیْنَ كَانُوْا قَلِیْلًا مِّنَ الَّیْلِ مَا یَہْجَعُوْنَ وَ بِالْاَسْحَارِ هُمْ یَسْتَغْفِرُوْنَ وَ فِیْۤ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآئِلِ وَ الْمَحْرُوْمِ وَ فِی الْاَرْضِ اٰیٰتٌ لِّلْمُوْقِنِیْنَ وَ فِیْۤ اَنْفُسِکُمْ ؕ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ وَ فِی السَّمَآءِ رِزْقُکُمْ وَ مَا تُوْعَدُوْنَ فَوَ رَبِّ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ اِنَّہٗ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَاۤ اَنَّکُمْ تَنْطِقُوْنَ
“খোদাভীরুরা জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে। এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ, তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত, এবং তাদের ধন-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল। বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে, এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না? আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তার কসম, তোমাদের কথাবার্তার মতই এটা সত্য।” (৫১:১৫ – ২৩)
فَاَمَّاۤ اِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ فَرَوْحٌ وَّ رَیْحَانٌ ۬ۙ وَّ جَنَّتُ نَعِیْمٍ وَ اَمَّاۤ اِنْ كَانَ مِنْ اَصْحٰبِ الْیَمِیْنِ فَسَلٰمٌ لَّكَ مِنْ اَصْحٰبِ الْیَمِیْنِ وَ اَمَّاۤ اِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِیْنَ الضَّآلِّیْنَ فَنُزُلٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّ تَصْلِیَۃُ جَحِیْمٍ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ حَقُّ الْیَقِیْنِ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِیْمِ
“যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়; তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান। আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়, তবে তাকে বলা হবে: তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম। আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়, তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা। এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে। এটা অবধারিত সত্য। অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।” (৫৬:৮৮ – ৯৬)
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّاۤ اُخْفِیَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّۃِ اَعْیُنٍ ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ اَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا ؕؔ لَا یَسْتَوٗنَ اَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَهُمْ جَنّٰتُ الْمَاْوٰی ۫ نُزُلًۢا بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ وَ اَمَّا الَّذِیْنَ فَسَقُوْا فَمَاْوٰىهُمُ النَّارُ ؕ کُلَّمَاۤ اَرَادُوْۤا اَنْ یَّخْرُجُوْا مِنْهَاۤ اُعِیْدُوْا فِیْهَا وَ قِیْلَ لَهُمْ ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیْ کُنْتُمْ بِہٖ تُكَذِّبُوْنَ
“কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন–প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। ঈমানদার ব্যক্তি কি অবাধ্যের অনুরূপ? তারা সমান নয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত। পক্ষান্তরে যারা অবাধ্য হয়, তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। যখনই তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তথায় ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের যে আযাবকে মিথ্যা বলতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর।” (৩২:১৭ – ২০)
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ لَهُمْ فِیْهَاۤ اَزْوَاجٌ مُّطَهَرَۃٌ ۫ وَّ نُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِیْلًا
“আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করব ঘন ছায়া নীড়ে।” (৪:৫৭)
ثُمَّ اَوْرَثْنَا الْكِتٰبَ الَّذِیْنَ اصْطَفَیْنَا مِنْ عِبَادِنَا ۚ فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِہٖ ۚ وَ مِنْهُمْ مُّقْتَصِدٌ ۚ وَ مِنْهُمْ سَابِقٌۢ بِالْخَیْرٰتِ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِیْرُ جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ لُؤْلُؤًا ۚ وَ لِبَاسُهُمْ فِیْهَا حَرِیْرٌ وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ ؕ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَکُوْرُۨ الَّذِیْۤ اَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَۃِ مِنْ فَضْلِہٖ ۚ لَا یَمَسُّنَا فِیْهَا نَصَبٌ وَّ لَا یَمَسُّنَا فِیْهَا لُغُوْبٌ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ۚ لَا یُقْضٰی عَلَیْهِمْ فَیَمُوْتُوْا وَ لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِیْ کُلَّ كَفُوْرٍ
“অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহাঅনুগ্রহ। তারা প্রবেশ করবে বসবাসের জান্নাতে। তথায় তারা স্বর্ণনির্মিত, মোতি–খচিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের। আর তারা বলবে – সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দূঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে বসবাসের গৃহে স্থান দিয়েছেন, তথায় কষ্ট আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং স্পর্শ করে না ক্লান্তি। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।” (৩৫:৩২ – ৩৬)
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۤ ۫ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ وَ نَزَعْنَا مَا فِیْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ ۚ وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ هَدٰىنَا لِهٰذَا ۟ وَ مَا کُنَّا لِنَہْتَدِیَ لَوْ لَاۤ اَنْ هَدٰىنَا اللّٰهُ ۚ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ؕ وَ نُوْدُوْۤا اَنْ تِلْکُمُ الْجَنَّۃُ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যরে চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবে: আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রাসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। সশব্দে ঘোষিত হবে: এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হয়েছ তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।” (৭:৪২ – ৪৩)
وَ نَادٰۤی اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ اَصْحٰبَ النَّارِ اَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُّمْ مَّا وَعَدَ رَبُّکُمْ حَقًّا ؕ قَالُوْا نَعَمْ ۚ فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌۢ بَیْنَهُمْ اَنْ لَّعْنَۃُ اللّٰهِ عَلَی الظّٰلِمِیْنَ الَّذِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ یَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَۃِ کٰفِرُوْنَ
“জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিসম্পাত যালেমদের উপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।” (৭:৪৪ – ৪৫)
هٰذَا ذِکْرٌ ؕ وَ اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ لَحُسْنَ مَاٰبٍ جَنّٰتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَۃً لَّهُمُ الْاَبْوَابُ مُتَّكِـِٕیْنَ فِیْهَا یَدْعُوْنَ فِیْهَا بِفَاكِهَۃٍ كَثِیْرَۃٍ وَّ شَرَابٍ وَ عِنْدَهُمْ قٰصِرٰتُ الطَّرْفِ اَتْرَابٌ هٰذَا مَا تُوْعَدُوْنَ لِیَوْمِ الْحِسَابِ اِنَّ هٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَہٗ مِنْ نَّفَادٍ
“এ এক মহৎ আলোচনা। খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা- তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্যে তার দ্বার উম্মুক্ত রয়েছে। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল-মূল ও পানীয়। তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ। তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচার দিবসের জন্যে। এটা আমার দেয়া রিযিক যা শেষ হবে না।” (৩৮:৪৯ – ৫৪)
জাহান্নামের বর্ণনা
জাহান্নামের অনন্তকালীন কঠিন–কঠোর শাস্তির র্বণনা সর্ম্পকতি আয়াতগুলো নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:
هٰذَا ؕ وَ اِنَّ لِلطّٰغِیْنَ لَشَرَّ مَاٰبٍ جَهَنَّمَ ۚ یَصْلَوْنَهَا ۚ فَبِئْسَ الْمِهَادُ هٰذَا ۙ فَلْیَذُوْقُوْهُ حَمِیْمٌ وَّ غَسَّاقٌ وَّ اٰخَرُ مِنْ شَکْلِہٖۤ اَزْوَاجٌ هٰذَا فَوْجٌ مُّقْتَحِمٌ مَّعَکُمْ ۚ لَا مَرْحَبًۢا بِهِمْ ؕ اِنَّهُمْ صَالُوا النَّارِ قَالُوْا بَلْ اَنْتُمْ ۟ لَا مَرْحَبًۢا بِکُمْ ؕ اَنْتُمْ قَدَّمْتُمُوْهُ لَنَا ۚ فَبِئْسَ الْقَرَارُ قَالُوْا رَبَّنَا مَنْ قَدَّمَ لَنَا هٰذَا فَزِدْهُ عَذَابًا ضِعْفًا فِی النَّارِ وَ قَالُوْا مَا لَنَا لَا نَرٰی رِجَالًا کُنَّا نَعُدُّهُمْ مِّنَ الْاَشْرَارِ اَتَّخَذْنٰهُمْ سِخْرِیًّا اَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ الْاَبْصَارُ اِنَّ ذٰلِكَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ اَهْلِ النَّارِ
“এটাতো শুনলে, এখন সীমালংঘনকারীদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা তথা জাহান্নাম। তারা সেখানে প্রবেশ করবে। অতএব, কত নিকৃষ্ট সেই আবাসস্থল। এটা উত্তপ্ত পানি ও পূঁজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক। এ ধরনের আরও কিছু শাস্তি আছে। এই তো একদল তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের জন্যে অভিনন্দন নেই তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারা বলবে, তোমাদের জন্যে ও তো অভিনন্দন নেই। তোমরাই আমাদেরকে এ বিপদের সম্মুখীন করেছ। অতএব, এটি কতই না ঘৃণ্য আবাসস্থল। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, যে আমাদেরকে এর সম্মুখীন করেছে, আপনি জাহান্নামে তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দিন। তারা আরও বলবে, আমাদের কি হল যে, আমরা যাদেরকে মন্দ লোক বলে গণ্য করতাম, তাদেরকে এখানে দেখছি না। আমরা কি অহেতুক তাদেরকে ঠাট্টার পাত্র করে নিয়েছিলাম, না আমাদের দৃষ্টি ভুল করছে? এটা অর্থাৎ জাহান্নামীদের পারস্পরিক বাক-বিতন্ডা অবশ্যম্ভাবী।” (৩৮:৫৫ – ৬৪)
اِنَّ الْمُجْرِمِیْنَ فِیْ عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَ لَا یُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَ هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَ وَ مَا ظَلَمْنٰهُمْ وَ لٰكِنْ كَانُوْا هُمُ الظّٰلِمِیْنَ
“নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরকাল থাকবে। তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ হয়ে। আমি তাদের প্রতি যুলুম করিনি; কিন্তু তারাই ছিল যালেম।” (৪৩:৭৪ – ৭৬)
وَیَوْمَ یُعْرَضُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَلَی النَّارِ ؕ اَذْهَبْتُمْ طَیِّبٰتِکُمْ فِیْ حَیَاتِکُمُ الدُّنْیَا وَ اسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا ۚ فَالْیَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُوْنِ بِمَا کُنْتُمْ تَسْتَکْبِرُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَ بِمَا کُنْتُمْ تَفْسُقُوْنَ
“যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের কাছে উপস্থিত করা হবে সেদিন বলা হবে, তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ সুতরাং আজ তোমাদেরকে অপমানকর আযাবের শাস্তি দেয়া হবে; কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করতে এবং তোমরা পাপাচার করতে।” (৪৬:২০)
اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْکٰفِرِیْنَ سَلٰسِلَا۠ وَ اَغْلٰلًا وَّ سَعِیْرًا اِنَّ الْاَبْرَارَ یَشْرَبُوْنَ مِنْ كَاْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوْرًا عَیْنًا یَّشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللّٰهِ یُفَجِّرُوْنَهَا تَفْجِیْرًا
“আমি অবিশ্বাসীদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছি শিকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি। নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্র। এটা একটা ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে – তারা একে প্রবাহিত করবে।” (৭৬:৪ – ৬)
اِنَّ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ اسْتَکْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ ؕ وَ كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُجْرِمِیْنَ لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَّ مِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ؕ وَ كَذٰلِكَ نَجْزِی الظّٰلِمِیْنَ
“নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি। তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে (রয়েছে অগ্নির) চাদর। আমি এমনিভাবে যালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।” (৭:৪০ – ৪১)
وَ نَادٰۤی اَصْحٰبُ النَّارِ اَصْحٰبَ الْجَنَّۃِ اَنْ اَفِیْضُوْا عَلَیْنَا مِنَ الْمَآءِ اَوْ مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰهُ ؕ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ حَرَّمَهُمَا عَلَی الْکٰفِرِیْنَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَہْوًا وَّ لَعِبًا وَّ غَرَّتْهُمُ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا ۚ فَالْیَوْمَ نَنْسٰهُمْ كَمَا نَسُوْا لِقَآءَ یَوْمِهِمْ هٰذَا ۙ وَ مَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ
“দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবে: আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন, তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।” (৭:৫০ – ৫১)
وَ سِیْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ یَاْتِکُمْ رُسُلٌ مِّنْکُمْ یَتْلُوْنَ عَلَیْکُمْ اٰیٰتِ رَبِّکُمْ وَ یُنْذِرُوْنَکُمْ لِقَآءَ یَوْمِکُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا بَلٰی وَ لٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَۃُ الْعَذَابِ عَلَی الْکٰفِرِیْنَ قِیْلَ ادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ فَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ
“কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বর আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে। বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল।” (৩৯:৭১ – ৭২)
فَلَنُذِیْقَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَذَابًا شَدِیْدًا ۙ وَّ لَنَجْزِیَنَّهُمْ اَسْوَاَ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ذٰلِكَ جَزَآءُ اَعْدَآءِ اللّٰهِ النَّارُ ۚ لَهُمْ فِیْهَا دَارُ الْخُلْدِ ؕ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ
“আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব। এটা আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি -জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ।” (৪১:২৭ – ২৮)
خُذُوْهُ فَغُلُّوْهُ ثُمَّ الْجَحِیْمَ صَلُّوْهُ ثُمَّ فِیْ سِلْسِلَۃٍ ذَرْعُهَا سَبْعُوْنَ ذِرَاعًا فَاسْلُکُوْهُ اِنَّہٗ كَانَ لَا یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ الْعَظِیْمِ وَ لَا یَحُضُّ عَلٰی طَعَامِ الْمِسْكِیْنِ فَلَیْسَ لَهُ الْیَوْمَ هٰهُنَا حَمِیْمٌ وَّ لَا طَعَامٌ اِلَّا مِنْ غِسْلِیْنٍ لَّا یَاْکُلُہٗۤ اِلَّا الْخَاطِـُٔوْنَ
“ফেরেশতাদেরকে বলা হবে: ধর একে গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও, অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে। নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না। এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না। অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহৃদ নাই। এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত–নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।” (৬৯:৩০ – ৩৭)
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِیْهِمْ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنٰهُمْ جُلُوْدًا غَیْرَهَا لِیَذُوْقُوا الْعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَزِیْزًا حَكِیْمًا
“এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে–পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।” (৪:৫৬)
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ وَ الْمُشْرِكِیْنَ فِیْ نَارِ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ اُولٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِیَّۃِ
“আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।” (৯৮:৬)
اِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا لِّلطَّاغِیْنَ مَاٰبًا لّٰبِثِیْنَ فِیْهَاۤ اَحْقَابًا لَا یَذُوْقُوْنَ فِیْهَا بَرْدًا وَّ لَا شَرَابًا اِلَّا حَمِیْمًا وَّ غَسَّاقًا جَزَآءً وِّفَاقًا
“নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে। তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পুঁজ পাবে – পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে।” (৭৮:২১ – ২৬)
وَ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ ۬ۙ مَاۤ اَصْحٰبُ الشِّمَالِ فِیْ سَمُوْمٍ وَّ حَمِیْمٍ وَّ ظِلٍّ مِّنْ یَّحْمُوْمٍ لَّا بَارِدٍ وَّ لَا كَرِیْمٍ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَبْلَ ذٰلِكَ مُتْرَفِیْنَ وَ كَانُوْا یُصِرُّوْنَ عَلَی الْحِنْثِ الْعَظِیْمِ وَ كَانُوْا یَقُوْلُوْنَ ۬ۙ اَئِذَا مِتْنَا وَ کُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ اَوَ اٰبَآؤُنَا الْاَوَّلُوْنَ قُلْ اِنَّ الْاَوَّلِیْنَ وَ الْاٰخِرِیْنَ لَمَجْمُوْعُوْنَ ۬ۙ اِلٰی مِیْقَاتِ یَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ ثُمَّ اِنَّکُمْ اَیُّهَا الضَّآلُّوْنَ الْمُكَذِّبُوْنَ لَاٰكِلُوْنَ مِنْ شَجَرٍ مِّنْ زَقُّوْمٍ فَمَالِـُٔوْنَ مِنْهَا الْبُطُوْنَ فَشٰرِبُوْنَ عَلَیْهِ مِنَ الْحَمِیْمِ فَشٰرِبُوْنَ شُرْبَ الْهِیْمِ هٰذَا نُزُلُهُمْ یَوْمَ الدِّیْنِ
“বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা। তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে, এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়। যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়। তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল। তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত। তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব? এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও! বলুন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ, সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ। তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে, অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি। পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়। কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।” (৫৬:৪১ – ৫৬)
فَوَیْلٌ یَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ خَوْضٍ یَّلْعَبُوْنَ یَوْمَ یُدَعُّوْنَ اِلٰی نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا هٰذِهِ النَّارُ الَّتِیْ کُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ اَفَسِحْرٌ هٰذَاۤ اَمْ اَنْتُمْ لَا تُبْصِرُوْنَ اِصْلَوْهَا فَاصْبِرُوْۤا اَوْ لَا تَصْبِرُوْا ۚ سَوَآءٌ عَلَیْکُمْ ؕ اِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
“সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে, যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়। সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং বলা হবে: এই সেই অগ্নি, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে, এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না? এতে প্রবেশ কর অতঃপর তোমরা সবর কর অথবা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।” (৫২:১১ – ১৬)
اَذٰلِكَ خَیْرٌ نُّزُلًا اَمْ شَجَرَۃُ الزَّقُّوْمِ اِنَّا جَعَلْنٰهَا فِتْنَۃً لِّلظّٰلِمِیْنَ اِنَّهَا شَجَرَۃٌ تَخْرُجُ فِیْۤ اَصْلِ الْجَحِیْمِ طَلْعُهَا كَاَنَّہٗ رُءُوْسُ الشَّیٰطِیْنِ فَاِنَّهُمْ لَاٰكِلُوْنَ مِنْهَا فَمَالِـُٔوْنَ مِنْهَا الْبُطُوْنَ ثُمَّ اِنَّ لَهُمْ عَلَیْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِیْمٍ ثُمَّ اِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَا۠ اِلَی الْجَحِیْمِ
“এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ? আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি। এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে। এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত। কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে। ফুটন্ত পানির মিশ্রণ, অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে।” (৩৭:৬২ – ৬৮)
اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوْمِ طَعَامُ الْاَثِیْمِ كَالْمُہْلِ ۚۛ یَغْلِیْ فِی الْبُطُوْنِ كَغَلْیِ الْحَمِیْمِ خُذُوْهُ فَاعْتِلُوْهُ اِلٰی سَوَآءِ الْجَحِیْمِ ثُمَّ صُبُّوْا فَوْقَ رَاْسِہٖ مِنْ عَذَابِ الْحَمِیْمِ ذُقْ ۚۙ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْكَرِیْمُ
“নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে; গলিত তাম্রের মত পেটে ফুটতে থাকবে। যেমন ফুটে পানি। একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, অতঃপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও, স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত।” (৪৪:৪৩ – ৪৯)
اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلظّٰلِمِیْنَ نَارًا ۙ اَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ؕ وَ اِنْ یَّسْتَغِیْثُوْا یُغَاثُوْا بِمَآءٍ كَالْمُہْلِ یَشْوِی الْوُجُوْهَ ؕ بِئْسَ الشَّرَابُ ؕ وَ سَآءَتْ مُرْتَفَقًا
“…….আমি যালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।” (১৮:২৯)
مِّنْ وَّرَآئِہٖ جَهَنَّمُ وَ یُسْقٰی مِنْ مَّآءٍ صَدِیْدٍ یَّتَجَرَّعُہٗ وَ لَا یَكَادُ یُسِیْغُہٗ وَ یَاْتِیْهِ الْمَوْتُ مِنْ کُلِّ مَكَانٍ وَّ مَا هُوَ بِمَیِّتٍ ؕ وَ مِنْ وَّرَآئِہٖ عَذَابٌ غَلِیْظٌ
“তাদের প্রত্যেকের সামনে পরিণামে রয়েছে দোযখ। তাতে পূঁজ মিশানো পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করা কঠিন হবে। এবং গলার ভিতরে প্রবেশ করাতে পারবে না। প্রতিদিক থেকে তার কাছে মৃত্যুযন্ত্রণা আগমন করবে কিন্তু সে মরবে না। তার পরও রয়েছে কঠোর আযাব।” (১৪:১৬ – ১৭)
আরাফবাসীর বর্ণনা
আরাফ জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যর্বতী স্থানে অবস্থতি একটি উঁচু প্রাচীর যা এ দু’টিকে পৃথক করে রেখেছে। যাদের পাপ–পূণ্যের পাল্লা সমান এবং তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালার সিদ্ধান্ত অনির্ধারিত রয়েছে তারা সেখানে অবস্থান করবে । তারা তখনও জান্নাতের সুখ-শান্তি বা জাহান্নামের দুঃখ–কষ্ট আস্বাদন করেনি, কিন্তু সেখান থেকে তারা জান্নাতবাসীর অপরমিয়ে আনন্দ ও জাহান্নামবাসীর অপরিসীম দুর্ভোগ দেখতে পাবে । তখন তারা চির সুখের জান্নাত পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠবে এবং জাহান্নামের অনন্তকালীন আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য কাকুতি–মিনতি করতে থাকবে । পবিত্র কুরআনের সপ্তম সূরা আরাফ এর নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে আরফবাসীর র্বণনা উদ্ধৃত করা হলো:
وَبَیْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَی الْاَعْرَافِ رِجَالٌ یَّعْرِفُوْنَ کُلًّۢا بِسِیْمٰهُمْ ۚ وَنَادَوْا اَصْحٰبَ الْجَنَّۃِ اَنْ سَلٰمٌ عَلَیْکُمْ لَمْ یَدْخُلُوْهَا وَهُمْ یَطْمَعُوْنَ وَاِذَا صُرِفَتْ اَبْصَارُهُمْ تِلْقَآءَ اَصْحٰبِ النَّارِ ۙ قَالُوْا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ وَنَادٰۤی اَصْحٰبُ الْاَعْرَافِ رِجَالًا یَّعْرِفُوْنَهُمْ بِسِیْمٰهُمْ قَالُوْا مَاۤ اَغْنٰی عَنْکُمْ جَمْعُکُمْ وَمَا کُنْتُمْ تَسْتَکْبِرُوْنَ اَهٰۤؤُلَآءِ الَّذِیْنَ اَقْسَمْتُمْ لَا یَنَالُهُمُ اللّٰهُ بِرَحْمَۃٍ ؕ اُدْخُلُوا الْجَنَّۃَ لَا خَوْفٌ عَلَیْکُمْ وَلَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ
“উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফার উপরে অনেক লোক থাকবে তারা প্রত্যককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে তখন বলবে, ‘হে আমাদের প্রতপিালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করোনা।’ আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি। এরা কি তারাই; যাদের সর্ম্পকে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।” (৭:৪৬ – ৪৯)