২৯ তম অধ্যায় : পবিত্র কুরআন নিয়মিত পাঠ ও আমলের গুরুত্ব

وَ لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْکُمْ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ وَّ مَثَلًا مِّنَ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِکُمْ وَ مَوْعِظَۃً لِّلْمُتَّقِیْنَ۝

“আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের কিছু দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহ–ভীরুদের জন্যে দিয়েছি উপদেশ (২৪:৩৪) ।”

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ বলেন,

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ

“আমি কুরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি …….  (৫৪:১৭)।”

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত দু’টির মর্মার্থ হলো যে, মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনের বাণীকে সব মানুষের জন্য উপদেশস্বরূপ ও সহজবোধ্য করে দিয়েছেন যাতে তারা এর দ্বারা দুনিয়াতে ও আখিরাতে উপকৃত হয়।। তাই প্রতিদিন কুরআন পাঠ এক অপরিহার্য বিষয়। হাদীসে বর্ণিত আছে, কুরআন পাঠকে উৎসাহিত করার জন্য মহান আল্লাহ্ এর প্রতিটি হরফের জন্য দশটি নেকী বরাদ্দ করেছেন। হাদীস অনুযায়ী নিয়মিত কুরআন পাঠের একটি বড় ফজীলত হলো: ক্বিয়ামতের দিবসে কুরআন এর নিয়মিত পাঠকের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে (সহীস মুসলিম)। নবী করীম (সাঃ) আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম ব্যক্তি যে কুরআন শিখে ও শিক্ষা দেয় (সহীহ বুখারী)।’ কুরআনের সংস্পর্শে মু’মিনের মনে আল্লাহ্-ভীতি জাগ্রত হয়, অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং বেশী বেশী নেক আমল করার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এর ফলে সে একজন খাঁটি মু’মিন বান্দা ও আবেদে পরিণত হয়।

এ জন্যেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْکُمْ مَّوْعِظَۃٌ مِّنْ رَّبِّکُمْ وَ شِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوْرِ ۬ۙ وَ هُدًی وَّ رَحْمَۃٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ ۝ قُلْ بِفَضْلِ اللّٰهِ وَ بِرَحْمَتِہٖ فَبِذٰلِكَ فَلْیَفْرَحُوْا ؕ هُوَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ۝

“হে মানবকুল, তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এসেছে তোমাদের জন্য উপদেশ বাণী (কুরআন) ও অন্তরস্থ (রোগের) নিরাময়, এবং মু’মিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। (হে নবী) বলুন, এটা আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা তারা সঞ্চয় করেছে।” (১০:৫৭ – ৫৮)

 

পবিত্র কুরআনে কিছু বিশেষ সূরা ও আয়াত আছে যা খুবই তাৎপর্যমন্ডিত। মর্তবাসম্পন্ন এসব সূরা ও আয়াতের অংশ বিশেষ এখানে উল্লেখ করা হলো:

পবিত্র কুরআনের সূচনাকারী সূরা ফাতিহা

পবিত্রগ্রন্থ কুরআনের সূচনাকারী এই সূরা প্রতিটি নামাযের প্রতি রাকাতে পঠিতব্য। এ সূরা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,

وَ لَقَدْ اٰتَیْنٰكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِیْ وَ الْقُرْاٰنَ الْعَظِیْمَ۝

“আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কুরআন দিয়েছি (১৫:৮৭)।”

সুতরাং এ সূরার গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রথম অংশে বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর প্রশংসা, গুণ ও মহিমা কীর্তিত হয়েছে, দ্বিতীয় অংশে একমাত্র তাঁর উপাসনা ও তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনার কথা স্বীকৃত হয়েছে এবং তৃতীয় অংশে তাঁর নিকট হেদায়াত প্রার্থনা করা হয়েছে, সেই সাথে গযবপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে বেঁচে থাকার আকুতি ব্যক্ত হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত আছে, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) -কে মিরাজকালীন সময়ে যে দু’টি কুরআনী নূর উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন এ সূরাটি তার অন্যতম। প্রতিদিনের সালাতে অবশ্য পঠনীয় এ সূরাটি খুবই তাৎপর্যমন্ডিত। এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অন্যান্য কিতাব যেমন যবুর, তাওরাত, ইঞ্জিলে এর তুলনীয় কোন সূরা নেই (বুখারি, মিশকাত: ২১৪২)। সূরা ফাতিহা পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরা হওয়ায় এটি উম্মুল কুরআন নামে পরিচিত। সাত আয়াতবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ সূরাটি নিম্নে প্রদত্ত হলো:

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۝ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۝ مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِ ۝ اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ ۝ اِهْدِ نَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَ لَا الضَّآلِّیْنَ ۝

“(শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু।) সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক; যিনি অতীব মেহেরবান ও দয়ালু; যিনি বিচার দিবসের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, সেসব লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়েছে।” (সূরা নং ১:১ – ৭)

আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর পরিচয় বর্ণনাকারী সূরা এখলাছ

মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অতি সংক্ষেপে এ সূরায় তাওহীদ ও তাঁর নিজ পরিচয় ব্যক্ত করেছেন। এ সূরাটির বিশেষ গুরুত্ব ও মর্তবার কথা বিভিন্ন হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে। এ সূরাটির ফজীলত এতই বেশী যে, এটি তিনবার পাঠ করলে এক খতম কুরআন পাঠের সওয়াব পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ সূরাটি নীচে উল্লেখ করা হলো:

قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ ۝ اَللّٰهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۝ وَ لَمْ یَکُنْ لَّہٗ کُفُوًا اَحَدٌ۝

“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (সূরা এখলাছ – নং ১১২)।”

সমগ্র কুরআনের মর্মার্থ ধারণকারী সূরা ‘আছর’

তিন আয়াতবিশিষ্ট এই ছোট সূরাটি এমনই ব্যাপক অর্থসম্পন্ন যে, তফসীরকারগণ বলেন, পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ এই একটি সূরাতেই বিধৃত হয়েছে। তাঁদের মতে মানব জীবনের সামগ্রিক দিক–নির্দেশনা ও পরিকল্পনাকে এ সূরা ধারণ করে আছে। ঈমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন, ‘একজন মানুষ যদি এ সূরাটিকে সঠিকভাবে অনুধাবন করে তবে তার জীবনের দিক–নির্দেশনা হিসেবে তা–ই যথেষ্ট হবে।’ এ সূরাতে মানুষের যে চারটি বিশেষ কর্মকান্ডের কথা ব্যক্ত হয়েছে তা হলো: ঈমান, সৎকর্ম, সত্যের তাগিদ ও ধৈর্যের তাগিদ। ঈমান ও নেক আমল ব্যক্তি পর্যায়ে হলেও সত্য প্রতিষ্ঠা ও ধৈর্যাবলম্বনের ক্ষেত্রটি হতে হবে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক। এ চারটি বিষয়ে যারা সচেষ্ট থাকবে তারা ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে রেহাই পাবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য অর্জন করবে। পূর্ণ সূরাটি নিম্নে প্রদত্ত হলো:

وَ الْعَصْرِ ۝ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفِیْ خُسْرٍ ۝ اِلَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ تَوَاصَوْا بِالْحَقِّ ۬ۙ وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ۝

“কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাগিদ করে সত্যের এবং তাগিদ করে ধৈর্যের (১০৩:১ – ৩)।”

সূরা ‘ইয়াসীন’, ‘সাজাদাহ্’, ‘আর-রাহমান’, ‘ওয়াক্বিয়াহ’, ‘মুলক’ ও ‘কাহাফ’ এর বিশেষত্ব ও ফজীলত

পবিত্র কুরআনের ৩৬নং সূরা ইয়াসীনকে পবিত্র কুরআনের ‘ক্বলব’ বা হৃদয় বলা হয়। রাসূল (সাঃ) বলেছেন: ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটি ক্বলব আছে এবং কুরআনের ক্বলব হলো সূরা ইয়াসীন। আমি পছন্দ করি এটি আমার সকল অনুসারীর অন্তরে বিরাজ করবে (তাফসীরুল সাবুনী ২য় খন্ড)।’ অপর এক হাদীসে বর্ণিত আছে: ‘যে ইয়াসীন সূরাটি একবার পাঠ করবে আল্লাহ্ তাকে কুরআন পাঠের দশগুণ সাওয়াব দান করবেন’ (তিরমিযি: ২৮১)। সূরাটি শুরু হয়েছে বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ দিয়ে। প্রথমেই আলোচিত হয়েছে রিসালতের সত্যতা এবং এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আনুগত্য ও উপাসনা নিয়ে। এরপর রয়েছে আল্লাহর সৃষ্টিশৈলী ও তাঁর নিদর্শন সম্পর্কিত বিষয়সমূহ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক কিছু আবিষ্কারের বিষয় বহু পূর্বেই এ সূরাটিতে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের ৫৫নং সূরা ‘আর রাহমান’ হলো মানব ও জিন জাতির প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত নিয়ামতরাশি ও অপরিসীম রহমতের বর্ণনা–সমৃদ্ধ একটি সূরা। এর বিষয়বস্তু ও ছন্দময় বর্ণনা পাঠক ও শ্রোতার অন্তরকে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় সিক্ত করে তোলে এবং মুখমন্ডলকে উজ্জ্বল করে। হাদীস শরীফে রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটি অলংকরণ রয়েছে, আর কুরআনের অলংকরণ হলো সূরা আর–রাহমান (বায়হাকী)।’ অন্তরের প্রশান্তির জন্য এ সূরাটি বেশী বেশী পঠিত হয়।

পবিত্র কুরআনের ৫৫নং সূরা ‘ওয়াক্বিয়াহ্’ এর নিয়মিত পাঠ অভাব ও ক্ষুধা থেকে রক্ষা করে। ৪১ নং সূরা ‘সাজাদাহ্’ বিচার দিবসে নিয়মিত পাঠকারীর জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।

পবিত্র কুরআনের ৬৭নং সূরা ‘মুলক’ জুড়ে আল্লাহ্ তায়ালার মাহাত্ম্য ও অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এ সূরার ফজীলত সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, এটি ক্বিয়ামতের দিবসে এর নিয়মিত পাঠকারীর গুনাহসমূহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে বারবার সুপারিশ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না গুনাহ সম্পূর্ণ মাফ করা হয়। এছাড়া এ সূরা নিয়মিত পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পবিত্র কুরআনের ১৮নং সূরা কাহাফ পাঠের অনেক ফজীলত রয়েছে। বিশেষ করে জুম’আর দিনে এ সূরা নিয়মিত পাঠ করলে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত নিরাপত্তা লাভ করা যায়। এ ছাড়া এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য ও ফজীলত

আল্লাহ্ সুহবানাহু ওয়া তায়ালার গুণ-গরিমা ও মাহাত্ম্য বর্ণনায় অনন্য সাধারণ আয়াতটি হলো আয়াতুল কুরসী। রাসূলুল্লাহর (সাঃ) অনেক হাদীসে এর গুরুত্ব ও ফজীলত বর্ণিত হয়েছে। ফরয নামাজ আদায়ের পর এবং রাতে ঘুমাবার পূর্বে এ আয়াতটি পাঠের ফযীলত অপরিসীম। হযরত ইবনে মাসুদ (রা) বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে- আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যা আয়াতুল কুরসীর চেয়ে উচ্চ মর্যদাসম্পন্ন। এ আয়াতটি নীচে উদ্ধৃত করা হলো:

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُہٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوْمٌ ؕ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَہٗۤ اِلَّا بِاِذْنِہٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ ۚ وَ لَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِہٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ کُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوْدُہٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ۝

“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি অনাদি সত্তা। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাতো নয়ই। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর অধীন। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কোন কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারেনা। তাঁর আসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান (২:২৫৫)।”

পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ পাঁচটি আয়াত

হযরত মুহাম্মাদ (সা) যখন মক্কার হীরা পর্বতের গুহায় বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন ছিলেন তখন আল্লাহর ওহী বাহক ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ) প্রথমবারের মত সূরা আলাকের পাঁচটি আয়াত তাঁর ওপর নাযিল করেন। এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআন নাযিলের সূচনা হয়। সর্বপ্রথম অবতীর্ণ এ পাঁচটি আয়াত হলো:

اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِیْ خَلَقَ ۚ۝ خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ۚ۝ اِقْرَاْ وَ رَبُّكَ الْاَکْرَمُ ۙ۝ الَّذِیْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ۙ۝ عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ۝

˝পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (৯৬:১ – ৫)।”

 

ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত দ্বীন হিসেবে মনোনীত করার আয়াত

কথিত আছে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিদায় হজ্জ্বের ভাষণ শেষে যখন আরাফাতের ময়দান থেকে প্রস্থানের জন্য উদ্যত হলেন ঠিক তখনই পবিত্র কুরআনের সর্বশেষ এ আয়াতটি নাযিল হয়:

…. اَلْیَوْمَ اَکْمَلْتُ لَکُمْ دِیْنَکُمْ وَ اَتْمَمْتُ عَلَیْکُمْ نِعْمَتِیْ وَ رَضِیْتُ لَکُمُ الْاِسْلَامَ دِیْنًا ؕ…

“…….আজকের এ দিনে আমি তোমাদের ধর্মকে চূড়ান্ত করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে ধর্ম হিসেবে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম……।” (৫:৩)

 

পবিত্র কুরআন নাযিলের রাত ও মাসের মাহাত্ম্য

ইসলাম ধর্মে পবিত্র রমযান মাস দু’টি কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এ মাসে পবিত্র কুরআন নাযিল হয় এবং দ্বিতীয়ত, এটি ফরজ ইবাদত ‘সওম’ বা রোজা পালনের মাস। আবার এ মাসেরই কোন এক রাতের ইবাদত সহস্র মাসের চেয়েও উত্তম – যা লাইলাতুল ক্বদর নামে অভিহিত। রমযান মাসের প্রতিটি রাতে তারাবীর নামায দীর্ঘ কুরআন–তেলাওয়াত সহকারে আদায় করা হয়। তাই এ মাসের রাতগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে ইবাদত–বন্দেগীর মাধ্যমে পালন করা হয় যাতে লাইলাতুল ক্বদর নসীব হয়। নবী করীম (সাঃ) এর হাদীস মতে রমযান মাস এতই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত যে এর পুরোটা সময় জুড়ে রোযাদার বান্দারা আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভ, গুনাহ থেকে মাগফেরাত এবং দোযখের আগুন থেকে নাযাত লাভ করে। রমযান মাসের শেষ দশ দিন ‘ইতেকাফ’ (ইবাদতের নিয়তে মসজিদে সার্বক্ষণিক অবস্থান) করা ফরজে কেফায়া। লাইলাতুল ক্বদরের রাত সুনির্দিষ্টভাবে কোনটি তা অজ্ঞাত রয়েছে। তবে হাদীস অনুযায়ী নবী করীম (সা) রমযানের শেষ দশদিনের যেকোন বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন। লাইলাতুল ক্বদরের মাহাত্ম্য বর্ণনাকারী সূরা ‘ক্বদর’ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:

اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَۃِ الْقَدْرِ ۝ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا لَیْلَۃُ الْقَدْرِ ۝ لَیْلَۃُ الْقَدْرِ ۬ۙ خَیْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَہْرٍ ۝ تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَۃُ وَ الرُّوْحُ فِیْهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْ ۚ مِنْ کُلِّ اَمْرٍ ۝ سَلٰمٌ ۟ۛ هِیَ حَتّٰی مَطْلَعِ الْفَجْرِ ۝

আমি একে (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল-ক্বদরে। লাইলাতুল–ক্বদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল-ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিব্রাইল আ) অবতীর্ণ হন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে (৯৭:১ – ৫)।”

এছাড়া সূরা দোখানের ১–৬ আয়াতে পবিত্র কুরআন নাযিলের এই অতি বরকতময় রাতের মাহাত্ম্যের বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে যা নিম্নে পেশ করা হলো:

حٰمٓ ۝ وَ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِ ۝ اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِیْ لَیْلَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنْذِرِیْنَ ۝ فِیْهَا یُفْرَقُ کُلُّ اَمْرٍ حَكِیْمٍ ۝ اَمْرًا مِّنْ عِنْدِنَا ؕ اِنَّا کُنَّا مُرْسِلِیْنَ ۝ رَحْمَۃً مِّنْ رَّبِّكَ ؕ اِنَّہٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۝

“হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৪৪:১ – ৬)।”

شَہْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰی وَ الْفُرْقَانِ ۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْکُمُ الشَّہْرَ فَلْیَصُمْهُ ؕ وَ مَنْ كَانَ مَرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیْدُ اللّٰهُ بِکُمُ الْیُسْرَ وَ لَا یُرِیْدُ بِکُمُ الْعُسْرَ ۫ وَ لِتُکْمِلُوا الْعِدَّۃَ وَ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمْ وَ لَعَلَّکُمْ تَشْکُرُوْنَ ۝

“রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত¡ বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” (২:১৮৫)

 

আল্লাহ্ সুহবানাহু ওয়া তায়ালার দীদার লাভ সংক্রান্ত আয়াত

এ দুনিয়ায় কোন মানুষই তার চর্মচক্ষু দিয়ে আল্লাহর দীদার লাভে সক্ষম নয়। নবী হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহকে দেখতে চাইলে আল্লাহ্ তূর পর্বতের ওপর তাঁর নূরের এক ক্ষুদ্র কণিকার ঝলক নিক্ষেপ করলেন। তাতে তূর পর্বতটি ভষ্মীভূত হয়ে গেল আর মূসা (আঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। সূরা আরাফের ১৪৩নং আয়াতে ঘটনাটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

وَ لَمَّا جَآءَ مُوْسٰی لِمِیْقَاتِنَا وَ كَلَّمَہٗ رَبُّہٗ ۙ قَالَ رَبِّ اَرِنِیْۤ اَنْظُرْ اِلَیْكَ ؕ قَالَ لَنْ تَرٰىنِیْ وَ لٰكِنِ انْظُرْ اِلَی الْجَبَلِ فَاِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَہٗ فَسَوْفَ تَرٰىنِیْ ۚ فَلَمَّا تَجَلّٰی رَبُّہٗ لِلْجَبَلِ جَعَلَہٗ دَکًّا وَّ خَرَّ مُوْسٰی صَعِقًا ۚ فَلَمَّاۤ اَفَاقَ قَالَ سُبْحٰنَكَ تُبْتُ اِلَیْكَ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُؤْمِنِیْنَ۝

“তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই।’ তিনি (আল্লাহ্) বললেন, ‘তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে।’ তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, ‘হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি’ (৭:১৪৩)।”

 

আল্লাহ্ সুহবানাহু ওয়া তায়ালার নূর বা জ্যোতি বিষয়ক আয়াত

মহান আল্লাহর অনন্য–অসীম সত্তা ও রহস্যময় স্বরূপকে বোঝার মত জ্ঞান বা বোধশক্তি মানুষের মধ্যে খুবই সীমিত। তাই অসীম সত্তা আল্লাহ্ তাঁর নূরের একটি দৃষ্টান্তমূলক বর্ণনা দিয়েছেন যাতে সসীম জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী মানুষের কিছুটা বোধগম্য হয়।তবে আখিরাতে আল্লাহর নেক বান্দারা তাঁকে ঠিকই দেখতে পাবে এবং তখন তারা বিমোহিত চিত্তে তাঁর সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। সূরা নূরে বর্ণিত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নূর বা জ্যোতির দৃষ্টান্তটি নিম্নে উদ্ধৃত হলো:

اَللّٰهُ نُوْرُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ مَثَلُ نُوْرِہٖ كَمِشْکٰوۃٍ فِیْهَا مِصْبَاحٌ ؕ اَلْمِصْبَاحُ فِیْ زُجَاجَۃٍ ؕ اَلزُّجَاجَۃُ كَاَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّیٌّ یُّوْقَدُ مِنْ شَجَرَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ زَیْتُوْنَۃٍ لَّا شَرْقِیَّۃٍ وَّ لَا غَرْبِیَّۃٍ ۙ یَّكَادُ زَیْتُهَا یُضِیْٓءُ وَ لَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ؕ نُوْرٌ عَلٰی نُوْرٍ ؕ یَہْدِی اللّٰهُ لِنُوْرِہٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ لِلنَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ ۝

“আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি দীপাধার, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ। তাতে পূত–পবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল দ্বারা এটি প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন প্রায় জ্যোতির্ময়। (যদিবা আগুন তাকে স্পর্শ করেই ফেলে তখন তা হয়ে ওঠে) জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।” (২৪:৩৫)

 

সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে নবী করীম (সা) তাঁর মিরাজকালীন সময়ে যে দু’টি কুরআনী নূর উপহার পেয়েছিলেন সূরা বাক্বারার শেষ দু’টি আয়াত তার মধ্যে একটি। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এর উল্লেখ রয়েছে। হযরত ইবনে আববাস (রা) বর্ণিত হাদীসটি হলো: জিব্রাইল (আঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে অবস্থান করছিলেন তখন হঠাৎ জিব্রাঈল (আ) উপর দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি হচ্ছে আকাশের একটি দরজা খোলার শব্দ যা ইতিপূর্বে কোনদিন খোলা হয়নি। সে দরজা দিয়ে তখন একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট এসে বললেন, ‘আপনি দুইটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে – তা আপনার পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। তার একটি হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং অপরটি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (মুসলিম শরীফ: ৮০৬)। সূরা বাকারার গুরুত্বপূর্ণ এ দু’টি আয়াত হলো:

اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّہٖ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ ؕ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِكَتِہٖ وَ کُتُبِہٖ وَ رُسُلِہٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِہٖ ۟ وَ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ۝ لَا یُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَ عَلَیْهَا مَا اکْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحْمِل عَلَیْنَاۤ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَہٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِہٖ ۚ وَ اعْفُ عَنَّا وَ اغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ۝

“রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভু! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্যে কর।” (২;২৮৫ – ২৮৬)

 

সূরা কাহাফে বর্ণিত বিস্ময়কর ঘটনাবলী

পবিত্র কুরআনের ১৮নং সূরা কাহফ কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনাসম্বলিত একটি সূরা। ইহুদী পন্ডিতগণের শেখানো কিছু প্রশ্ন যখন মক্কার কাফেরগণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট উপস্থাপন করে তখন এর জবাবে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এ সূরাটি নাযিল করেন।  এ সূরাটিতে যে চারটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে তা নম্নিে উদ্ধৃত হলো:

১. আসহাবে কাহফের ঘটনা

এ ছিল কতিপয় ঈমানদার যুবকের কাহিনী যারা তাদের ঈমান রক্ষার্থে ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং সেখানে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কুদরতের নিদর্শনস্বরূপ তাদেরকে ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন। এটা ছিল তাদের ও পরবর্তীদের জন্য ঈমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি ঘটনা। পুরো ঘটনাটি এ সূরার ৯–২৬ নং আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে। এখানে এর কিছু অংশ উদ্ধৃত হলো:

اَمْ حَسِبْتَ اَنَّ اَصْحٰبَ الْكَہْفِ وَ الرَّقِیْمِ ۙ كَانُوْا مِنْ اٰیٰتِنَا عَجَبًا ۝ اِذْ اَوَی الْفِتْیَۃُ اِلَی الْكَہْفِ فَقَالُوْا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَۃً وَّ هَیِّیْٔ لَنَا مِنْ اَمْرِنَا رَشَدًا ۝ فَضَرَبْنَا عَلٰۤی اٰذَانِهِمْ فِی الْكَہْفِ سِنِیْنَ عَدَدًا ۝ ثُمَّ بَعَثْنٰهُمْ لِنَعْلَمَ اَیُّ الْحِزْبَیْنِ اَحْصٰی لِمَا لَبِثُوْۤا اَمَدًا ۝ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَیْكَ نَبَاَهُمْ بِالْحَقِّ ؕ اِنَّهُمْ فِتْیَۃٌ اٰمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَ زِدْنٰهُمْ هُدًی ۝ وَّ رَبَطْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اِذْ قَامُوْا فَقَالُوْا رَبُّنَا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ لَنْ نَّدْعُوَا۠ مِنْ دُوْنِہٖۤ اِلٰـہًا لَّقَدْ قُلْنَاۤ اِذًا شَطَطًا ۝ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِہٖۤ اٰلِهَۃً ؕ لَوْ لَا یَاْتُوْنَ عَلَیْهِمْ بِسُلْطٰنٍۭ بَیِّنٍ ؕ فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا ۝ وَ اِذِ اعْتَزَلْتُمُوْهُمْ وَمَا یَعْبُدُوْنَ اِلَّا اللّٰهَ فَاْ وٗۤا اِلَی الْكَہْفِ یَنْشُرْ لَکُمْ رَبُّکُمْ مِّنْ رَّحْمَتِہٖ وَیُهَیِّیْٔ لَکُمْ مِّنْ اَمْرِکُمْ مِّرْفَقًا ۝

“আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ? যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোয়া করে: ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।’ তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই। অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরুত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে। আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বলল: ‘আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহ্বান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে। এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে? তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তুার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন’ (১৮:৯ – ১৬)।”

وَ لَبِثُوْا فِیْ كَہْفِهِمْ ثَلٰثَ مِائَۃٍ سِنِیْنَ وَ ازْدَادُوْا تِسْعًا ۝ قُلِ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوْا ۚ لَہٗ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اَبْصِرْ بِہٖ وَ اَسْمِعْ ؕ مَا لَهُمْ مِّنْ دُوْنِہٖ مِنْ وَّلِیٍّ ۫ وَّ لَا یُشْرِکُ فِیْ حُکْمِہٖۤ اَحَدًا ۝

“তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে। বলুন: তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শুনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না (১৮:২৫ – ২৬)।”

 

২. কৃতজ্ঞ ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিদ্বয়ের ঘটনা

এ কাহিনীটি ছিল ভিন্নধর্মী কৃতজ্ঞ ও অকৃতজ্ঞ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে যা এ সূরা ৩২–৪৪ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তাদের একজন ছিল ধন–সম্পদের মালিক কিন্তু কাফের ও অকৃতজ্ঞ। আর অপরজন ছিল গরীব কিন্তু ঈমানদার ও কৃতজ্ঞ বান্দা। তাদের উভয়ের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তাদের ভিন্নধর্মী চরিত্রটি ফুটে ওঠেছে। কাফের লোকটি আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের অধিকারী হওয়া সত্তে¡ও তার দাম্ভিকতা ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। ফলে গযবপ্রাপ্ত হয়ে সে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। এখানে এ ঘটনার কিয়দাংশ বর্ণিত হলো:

وَ اضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا رَّجُلَیْنِ جَعَلْنَا لِاَحَدِهِمَا جَنَّتَیْنِ مِنْ اَعْنَابٍ وَّ حَفَفْنٰهُمَا بِنَخْلٍ وَّ جَعَلْنَا بَیْنَهُمَا زَرْعًا ۝ كِلْتَا الْجَنَّتَیْنِ اٰتَتْ اُکُلَهَا وَ لَمْ تَظْلِمْ مِّنْهُ شَیْئًا ۙ وَّ فَجَّرْنَا خِلٰلَهُمَا نَهَرًا ۝ وَّ كَانَ لَہٗ ثَمَرٌ ۚ فَقَالَ لِصَاحِبِہٖ وَ هُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَنَا اَکْثَرُ مِنْكَ مَالًا وَّ اَعَزُّ نَفَرًا ۝ وَ دَخَلَ جَنَّتَہٗ وَ هُوَ ظَالِمٌ لِّنَفْسِہٖ ۚ قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنْ تَبِیْدَ هٰذِہٖۤ اَبَدًا ۝ وَّ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنْ رُّدِدْتُّ اِلٰی رَبِّیْ لَاَجِدَنَّ خَیْرًا مِّنْهَا مُنْقَلَبًا ۝ قَالَ لَہٗ صَاحِبُہٗ وَ هُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَكَفَرْتَ بِالَّذِیْ خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَۃٍ ثُمَّ سَوّٰىكَ رَجُلًا ۝ لٰكِنَّا۠ هُوَ اللّٰهُ رَبِّیْ وَ لَاۤ اُشْرِکُ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا ۝وَ لَوْ لَاۤ اِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ۙ لَا قُوَّۃَ اِلَّا بِاللّٰهِ ۚ اِنْ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنْكَ مَالًا وَّ وَلَدًا ۝

“আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু’য়ের এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি। সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বলল: ‘আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। নিজের প্রতি যুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং আমি মনে করি না যে, ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।’ তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বলল: ‘তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না। যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই’ (১৮:৩২ – ৩৯)।”

وَ اُحِیْطَ بِثَمَرِہٖ فَاَصْبَحَ یُقَلِّبُ كَفَّیْهِ عَلٰی مَاۤ اَنْفَقَ فِیْهَا وَ هِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا وَ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ لَمْ اُشْرِکْ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا ۝ وَ لَمْ تَکُنْ لَّہٗ فِئَۃٌ یَّنْصُرُوْنَہٗ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ مَا كَانَ مُنْتَصِرًا ۝ هُنَالِكَ الْوَلَایَۃُ لِلّٰهِ الْحَقِّ ؕ هُوَ خَیْرٌ ثَوَابًا وَّ خَیْرٌ عُقْبًا ۝

“অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগল: ‘হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম।’ আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না। এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ (১৮:৪২ – ৪৪)।”

 

৩. হযরত খিযির (আঃ) ও হযরত মূসার (আঃ) ঘটনা

এ ঘটনাটি ছিল আল্লাহর এক রহমতপ্রাপ্ত ও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী বান্দা হযরত খিযিরের (আ) সাথে হযরত মূসা (আ)- এর ইলমুল গায়েবের ওপর একটি শিক্ষামূলক সফর প্রসঙ্গে। সূরা কাহাফের ৬০– ৮২ আয়াতে তাদের সফরের সময়ে হযরত খিযির (আ) দ্বারা তিনটি রহস্যজনক ঘটনা সংঘটিত হয়। এ সফরের শর্ত ছিল যে, মূসা (আ) ধৈর্য সহকারে প্রতিটি ঘটনা দেখবেন, কিন্তু কোন প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না খিযির (আ) নিজ থেকে এর ব্যাখ্যা দেন। প্রথম ঘটনাটি ছিল হযরত খিযির (আ) ও মূসা (আ) যে নৌকা দিয়ে নদী পার হয়েছিলেন তা হযরত খিযির (আঃ) ফুটো করে দিলেন। দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল তাদের সফর কালে এক স্থানে এসে হযরত খিযির (আ) একটি বালককে হত্যা করলেন। আর তৃতীয় ঘটনাটি ছিল, তারা যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছুলেন তাদের কাছে খাবার চাইলেন, তখন তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি বিনা পারিশ্রমিকে মেরামত করে দিলেন। এসব রহস্যপূর্ণ ঘটনায় হযরত মূসা (আ) ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলেন না। তিনি প্রতিবারই খিযির (আ)-কে প্রশ্ন করলেন।  ফলে তাঁদের এ শিক্ষা সফরের পরিসমাপ্তি ঘটে। সফর শেষে হযরত খিযির (আ) এগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁদের এ ভ্রমণে হযরত খিযির (আ)-কে প্রদত্ত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহস্যময় জ্ঞানের কথা বর্ণিত হয়েছে। এসব ঘটনা সংক্রান্ত আয়াগুলো এখানে বর্ণিত হলো:

فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَاۤ اٰتَیْنٰهُ رَحْمَۃً مِّنْ عِنْدِنَا وَ عَلَّمْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا ۝ قَالَ لَہٗ مُوْسٰی هَلْ اَتَّبِعُكَ عَلٰۤی اَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا ۝ قَالَ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا ۝ وَ كَیْفَ تَصْبِرُ عَلٰی مَا لَمْ تُحِطْ بِہٖ خُبْرًا ۝ قَالَ سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ صَابِرًا وَّ لَاۤ اَعْصِیْ لَكَ اَمْرًا ۝ قَالَ فَاِنِ اتَّبَعْتَنِیْ فَلَا تَسْـَٔلْنِیْ عَنْ شَیْءٍ حَتّٰۤی اُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِکْرًا ۝

“অতঃপর তাঁরা (হযরত মূসা আ ও তাঁর সহচর) আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের (হযরত খিযির আ) সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। মূসা তাঁকে বললেন: ‘আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?’ তিনি বললেন: ‘আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধারণ করে থাকতে পারবেন না। যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?’ মূসা বললেন: ‘আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।’ তিনি বললেন: ‘যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি’ (১৮:৬৫ – ৭০)।”

فَانطَلَقَا حَتّى اِذَا رَكِبَا فِى السَّفِيْنَةِ خَرَقَهَا قَالَ اَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ اَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْـا اِمْرًا۝

“অতঃপর তারা চলতে লাগল: অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেন: ‘আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন’ (১৮:৭১)।”

فَانْطَلَقَا ٝ حَتّٰۤی اِذَا رَكِبَا فِی السَّفِیْنَۃِ خَرَقَهَا ؕ قَالَ اَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ اَهْلَهَا ۚ لَقَدْ جِئْتَ شَیْئًا اِمْرًا ۝

“অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন: আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন (১৮:৭৪)।”

فَانْطَلَقَا ٝ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَیَاۤ اَهْلَ قَرْیَۃِۣ اسْتَطْعَمَاۤ اَهْلَهَا فَاَبَوْا اَنْ یُّضَیِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِیْهَا جِدَارًا یُّرِیْدُ اَنْ یَّنْقَضَّ فَاَقَامَہٗ ؕ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَیْهِ اَجْرًا ۝

“অতঃপর তারা চলতে লাগলেন, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছে তাদের কাছে খাবার চাইলেন, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেন: আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন (১৮:৭৭)।”

قَالَ هٰذَا فِرَاقُ بَیْنِیْ وَ بَیْنِكَ ۚ سَاُنَبِّئُكَ بِتَاْوِیْلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا ۝ اَمَّا السَّفِیْنَۃُ فَكَانَتْ لِمَسٰكِیْنَ یَعْمَلُوْنَ فِی الْبَحْرِ فَاَرَدْتُّ اَنْ اَعِیْبَهَا وَ كَانَ وَرَآءَهُمْ مَّلِکٌ یَّاْخُذُ کُلَّ سَفِیْنَۃٍ غَصْبًا ۝ وَ اَمَّا الْغُلٰمُ فَكَانَ اَبَوٰهُ مُؤْمِنَیْنِ فَخَشِیْنَاۤ اَنْ یُّرْهِقَهُمَا طُغْیَانًا وَّ کُفْرًا۝ فَاَرَدْنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَیْرًا مِّنْهُ زَکٰوۃً وَّ اَقْرَبَ رُحْمًا ۝ وَ اَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلٰمَیْنِ یَتِیْمَیْنِ فِی الْمَدِیْنَۃِ وَ كَانَ تَحْتَہٗ كَنْزٌ لَّهُمَا وَ كَانَ اَبُوْهُمَا صَالِحًا ۚ فَاَرَادَ رَبُّكَ اَنْ یَّبْلُغَاۤ اَشُدَّهُمَا وَ یَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا ٭ۖ رَحْمَۃً مِّنْ رَّبِّكَ ۚ وَ مَا فَعَلْتُہٗ عَنْ اَمْرِیْ ؕ ذٰلِكَ تَاْوِیْلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا ۝

“তিনি (হযরত খিযির আঃ) বললেন: এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি। নৌকাটির ব্যাপারে – সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ছিদ্রযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি (অক্ষত) নৌকা ছিনিয়ে নিত। বালকটির ব্যাপার – তার পিতা–মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে। অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক। প্রাচীরের ব্যাপার – সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশত ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পণ করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা (১৮:৭৮ – ৮২)।”

 

৪. হযরত যুলকারনাইন (র) ও ইয়া’জুজ–মা’জুজ সম্পর্কিত ঘটনা

এটি সূরা কাহফে বর্ণিত সর্বশেষ ঘটনা। যুলকারনাইন (র) নামক আল্লাহর বিশ্বস্ত ও দিগ্বিজয়ী এক সম্রাট এবং ইয়া’জুজ ও মা’জুজ সম্পর্কিত বৃত্তান্ত যা এ সূরার ৮৩– ৯৮ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। যুলকারনাইন তাঁর দিগ্বিজয় অভিযানের এক পর্যায়ে একটি পার্বত্য অঞ্চলের দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে উপস্থিত হলে সেখানকার অধিবাসীরা ইয়াজুজ ও মাজুজ নামীয় দুর্ধর্ষ সম্প্রদায়ের অত্যাচার–নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে। তিনি তাদের অনুরোধে গলিত লোহা ও তামার দ্বারা এমন এক শক্তিশালী প্রাচীর তৈরী করে দিলেন যা ছিল ইয়া’জুজ ও মা’জুজের পক্ষে ছিল অলঙ্ঘনীয়। এ দু’টি সম্প্রদায় এখনও প্রাচীরটি ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অসীম কুদরতে প্রতিরোধের এ প্রাচীরটি এখন পর্যন্ত টিকে আছে। তিনি ক্বিয়ামতের নিদর্শনস্বরূপ এ দুই দুর্ধর্ষ সম্প্রদায় ও এ প্রাচীরটিকে লোকচক্ষুর অন্তরাল করে রেখেছেন। অবশ্য ক্বিয়ামতের কিছু কাল পূর্বে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইচ্ছায় তারা এটি ভেঙ্গে পঙ্গপালের মত বেরিয়ে আসবে এবং মানব জাতির ওপর হামলা চালাবে। এ কাহিনীটির কিয়দংশ এখানে বর্ণিত হলো:

حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ بَیْنَ السَّدَّیْنِ وَجَدَ مِنْ دُوْنِهِمَا قَوْمًا ۙ لَّا یَكَادُوْنَ یَفْقَهُوْنَ قَوْلًا ۝ قَالُوْا یٰذَاالْقَرْنَیْنِ اِنَّ یَاْجُوْجَ وَ مَاْجُوْجَ مُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلٰۤی اَنْ تَجْعَلَ بَیْنَنَا وَ بَیْنَهُمْ سَدًّا ۝ قَالَ مَا مَكَنِّیْ فِیْهِ رَبِّیْ خَیْرٌ فَاَعِیْنُوْنِیْ بِقُوَّۃٍ اَجْعَلْ بَیْنَکُمْ وَ بَیْنَهُمْ رَدْمًا ۝ اٰتُوْنِیْ زُبَرَ الْحَدِیْدِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا سَاوٰی بَیْنَ الصَّدَفَیْنِ قَالَ انْفُخُوْا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَعَلَہٗ نَارًا ۙ قَالَ اٰتُوْنِیْۤ اُفْرِغْ عَلَیْهِ قِطْرًا ۝ فَمَا اسْطَاعُوْۤا اَنْ یَّظْهَرُوْهُ وَ مَا اسْتَطَاعُوْا لَہٗ نَقْبًا۝ قَالَ هٰذَا رَحْمَۃٌ مِّنْ رَّبِّیْ ۚ فَاِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّیْ جَعَلَہٗ دَكَآءَ ۚ وَ كَانَ وَعْدُ رَبِّیْ حَقًّا ۝ وَ تَرَکْنَا بَعْضَهُمْ یَوْمَئِذٍ یَّمُوْجُ فِیْ بَعْضٍ وَّ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَجَمَعْنٰهُمْ جَمْعًا ۝

“অবশেষে যখন তিনি (যুলকারনাইন) দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বলল: হে যুলকারনাইন, ইয়া’জুজ ও মা’জুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। তিনি বললেন: আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব। তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেন: তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই। অতঃপর ইয়া’জুজ ও মা’জুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না। যুলকারনাইন বললেন: এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ–বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।” (১৮:৯৩ – ৯৯)

 

 

অধ্যায়সমূহ