৬ষ্ঠ অধ্যায় : আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা, গৌরব, মাহাত্ম্য ও গুণ-গরিমা

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা, গুণ-গরিমা, পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য

سَبَّحَ لِلّٰهِ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর প্রশংসা ও গৌরব ঘোষণা করে। তিনি মহাশক্তিধর; প্রজ্ঞাময় ।” (৫৭:১)

নভোমন্ডল–ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর স্রষ্টা, মালিক ও প্রতিপালক এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ্। অতএব সকল প্রশংসা, গৌরব, মাহাত্ম্য, গুণ-গরিমা ও পবিত্রতা স্বয়ং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্যেই নিবেদিত। তাঁর সৃষ্টিকুল সর্বক্ষণ এবং সর্বাবস্থায় তাঁর প্রশংসা, পবিত্রতা, গৌরব, মহিমা ও গুণ কীর্তন করে চলেছে। তাঁর মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, শক্তিমত্তা, কঠোরতা, দয়া, ক্ষমা, অনুগ্রহ ও করুণা অপরিসীম ও সর্বব্যাপী। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের অফুরন্ত নিয়ামতরাশি ও রহমত তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি সর্বক্ষণ বর্ষিত হচ্ছে। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে তাঁর এসব গুণাবলী ও মাহাত্ম্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। এতদ্সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ اَلْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۝ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ۝ مٰلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ۝ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَاِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ ۝

“শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু। সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। যিনি অতীব মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিবসের মালিক।” (১:১ – ৪)

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَالنُّوْرَ ثُمَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُوْنَ ۝ هُوَ الَّذِىْ خَلَقَكُمْ مِّن طِيْنٍ ثُمَّ قَضٰىۤ اَجَلًاط وَاَجَلٌ مُّسَمًّى عِنْدَه ثُمَّ اَنْتُمْ تَمْتَرُوْنَ ۝ وَهُوَ اللهُ فِى السَّمٰوٰتِ وَ فِى الْاَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُوْنَ۝

“সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে সমতুল্য স্থির করে।” (৬:১)

سُبْحٰنَه وَتَعٰلٰى عَمَّا يَقُوْلُوْنَ عُلُوًّا كَبِيْرًا۝ تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوٰتُ السَّبْعُ وَالْاَرْضُ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَاِنْ مِنْ شَىْءٍ اِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِه وَلٰكِنْ لَّا تَفْقَهُوْنَ تَسْبِيْحَهُمْ اِنَّه كَانَ حَلِيْمًا غَفُوْرًا۝

“তিনি নেহায়েত পবিত্র ও মহিমান্বিত এবং তারা যা বলে থাকে তা থেকে বহু উর্ধ্বে। সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।” (১৭:৪৩ – ৪৪)

قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمٰتِ رَبِّىْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ اَنْ تَنْفَدَ كَلِمٰتُ رَبِّىْ وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِه مَدَدًا۝

˝ (হে নবী) বলুন : আমার পালনকর্তার (প্রশংসার) কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার (প্রশংসার) কথা শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে, সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।” (১৮:১০৯)।

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ يُسَبِّحُ لَه مَنْ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَالطَّيْرُ صٰٓفّٰتٍ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَه وَتَسْبِيْحَه ط وَاللهُ عَلِيْمٌۢ بِمَا يَفْعَلُوْنَ۝

“তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য এবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” (২৪:৪১)

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ لَه مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ وَلَهُ الْحَمْدُ فِى الْاٰخِرَةِ وَهُوَ الْحَكِيْمُ الْخَبِيْرُ۝

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে আছে এবং ভূমন্ডলে ‍যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।” (৩৪:১)

دَعْوٰىهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اَللّٰهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيْهَا سَلٰمٌ ط وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ۝

”সেখানে (জান্নাতে) তাদের প্রার্থনা হল ‘পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ’। আর শুভেচ্ছা হল ‘সালাম’ আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য’ বলে।” (১০:১০)

تَبٰرَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ ۝ اَلَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَوٰةَ لِيْبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ط وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ۝

“পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন – কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” (৬৭:১ – ২)

سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ۝ وَسَلٰمٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ۝ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ۝

“পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র তা থেকে যা তারা (কাফের/মুশরিক) বলে থাকে। পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।” (৩৭:১৮০ – ১৮২)

فَلِلّٰهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَرَبِّ الْاَرْضِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ۝ وَلَهُ الْكِبْرِيَآءُ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ط وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ۝

“অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, নভোমন্ডলের পালনকর্তা ও  ভূমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর-ই প্রশংসা। নভোন্ডল ও ভূমন্ডলে তাঁরই গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (৪৫:৩৬ – ৩৭)

وَلَئِنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ لَيَقُوْلُنَّ اللهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ۝ لِلّٰهِ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ اِنَّ اللهَ هُوَ الْغَنِىُّ الْحَمِيْدُ۝ وَلَوْ اَنَّمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ اَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّه مِنْ ۢ بَعْدِه سَبْعَةُ اَبْحُرٍ مَّا نَفِدَتْ كَلِمٰتُ اللهِ ط اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ۝

“আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সকল প্রশংসাই আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর (প্রশংসা, পবিত্রতা, মাহাত্ম্য ও গুণসমূহের) বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (৩১:২৫ – ২৭)

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي الْآخِرَةِ ۚ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ۝
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।” (৩৪:১)
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ۝
 “নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী।” (৫৯:১, ৬১:১)
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ۝
“রাজ্যাধিপতি, পবিত্র, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও যা কিছু আছে ভূমন্ডলে।” (৬২:১)
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ۝
“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (৬৪:১)
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ ۝وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ
“অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর সন্ধ্যায় ও সকালে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে তাঁরই প্রশংসা এবং অপরাহ্ণে ও মধ্যাহ্ণে (তাঁর প্রশংসা কীর্তন কর)। ।” (৩০:১৭–১৮)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সুন্দর ও উত্তম নামসমূহের বর্ণনা

تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِى الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

“কত পূণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।” (৫৫:৭৮)

اَللهُ لَا اِلٰهَ اِلَّا هُوَ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى

“আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য ইলাহ নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই।” (২০:৮)

وَلِلّٰهِ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوْهُ بِهَا وَذَرُوْا الَّذِيْنَ يُلْحِدُوْنَ فِىْ اَسْمَآئِه سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ۝

“আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সেসব নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।” (৭:১৮০)

قُلِ ادْعُوْا اللهَ اوِ ادْعُوْا الرَّحْمٰنَ اَيًّا مَّا تَدْعُوْا فَلَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى…. ۝

“বলুন: আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহ্বান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই ……।” (১৭:১১০)

هُوَ اللهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عٰلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهٰدَةِ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ۝ هُوَ اللهُ الَّذِىْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنَ المُهَيْمِنَ العَزِيْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحٰنَ اللهِ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ ۝ هُوَ اللهُ الْخٰلِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى يُسَبِّحُ لَه مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ۝

“তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মহিমান্বিত। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নামসমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।” (৫৯:২২ – ২৪)

صِبْغَةَ اللهِ وَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللهِ صِبْغَةً وَّنَحْنُ لَه عٰبِدُوْنَ۝

“আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে? আমরা তাঁরই এবাদত করি।” (২:১৩৮)

وَهُوَ الْغَفُوْرُ الْوَدُوْدُ ۝ ذُوالْعَرْشِ الْمَجِيْدُ۝

“তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়; মহান আরশের অধিকারী।” (৮৫:১৪ – ১৫)

هُوَ الْاَوَّلُ وَالْاٰخِرُ وَالظّٰهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত ।” (৫৭:৩)

 

আসমা উল হুসনা

পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের তালিকা (আসমা উল হুসনা) নিম্নে পেশ করা হলো:

১. الرَّحْمَنُ – পরম দয়ালু ২. الرَّحِيمُ – অতীব মেহেরবান ৩. الْمَلِكُ – সর্বকর্তৃত্বময় প্রভু
৪. الْقُدُّوسُ – নিষ্কলুষ, অতি পবিত্র ৫. السَّلاَمُ – নিরাপত্তা-দানকারী, শান্তি-দানকারী ৬. الْمُؤْمِنُ – নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী
৭. الْمُهَيْمِنُ – পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণকারী ৮. الْعَزِيزُ – পরাক্রমশালী অপরাজেয় ৯. الْجَبَّارُ – দুর্নিবার
১০. الْمُتَكَبِّرُ – নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ১১. الْخَالِقُ – সৃষ্টিকর্তা ১২. الْبَارِئُ – সঠিকভাবে সৃষ্টিকারী
১৩. الْمُصَوِّرُ ُ – আকৃতি-দানকারী ১৪. الْغَفَّارُ – পরম ক্ষমাশীল ১৫. الْقَهَّارُ – অতীব কঠোর
১৬. الْوَهَّابُ – সবকিছু দানকারী ১৭. الرَّزَّاقُ – রিযকদাতা ১৮. الْفَتَّاحُ – বিজয়দানকারী/সূচনাকারী
১৯. اَلْعَلِيْمُ – সর্বজ্ঞ ২০. الْقَابِضُ – সংকীর্ণকারী ২১. الْبَاسِطُ – প্রশস্তকারী
২২. الْخَافِضُ – অবনতকারী ২৩. الرَّافِعُ – উন্নতকারী ২৪. الْمُعِزُّ – সম্মান-দানকারী
২৫. المُذِلُّ – (অবিশ্বাসীদের) বেইজ্জতকারী ২৬. السَّمِيعُ – সর্বশ্রোতা ২৭. الْبَصِيرُ – সর্ববিষয়-দর্শনকারী
২৮. الْحَكَمُ – অটল বিচারক ২৯. الْعَدْلُ – পরিপূর্ণ-ন্যায়বিচারক ৩০. اللَّطِيفُ – সকল-গোপন-বিষয়ে-অবগত
৩১. الْخَبِيرُ – সকল ব্যাপারে জ্ঞাত ৩২. الْحَلِيمُ – অত্যন্ত ধৈর্যশীল ৩৩. الْعَظِيمُ – সর্বোচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৪. الْغَفُورُ – পরম ক্ষমাশীল ৩৫. الشَّكُورُ – গুণগ্রাহী ৩৬. الْعَلِيُّ – উচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৭. الْكَبِيرُ – সুমহান ৩৮. الْحَفِيظُ – সংরক্ষণকারী ৩৯. المُقيِت – সর্ব জীবের জীবনোপকরণ-দানকারী
৪০. الْحسِيبُ – হিসাব-গ্রহণকারী ৪১. الْجَلِيلُ – পরম মর্যাদার অধিকারী ৪২. الْكَرِيمُ – পরম উদার
৪৩. الرَّقِيبُ – তত্ত্বাবধায়ক ৪৪. الْمُجِيبُ – সাড়া/জবাবদানকারী, কবুলকারী ৪৫. الْوَاسِعُ – সর্বব্যাপী, সর্বত্র-বিরাজমান
৪৬. الْحَكِيمُ – পরম-প্রজ্ঞাময় ৪৭. الْوَدُودُ – (বান্দাদের প্রতি) সদয়/দয়ার্দ্রচিত্ত ৪৮. الْمَجِيدُ – অতীব সম্মানিত
৪৯. الْبَاعِثُ – পুনুরুজ্জীবিতকারী ৫০. الشَّهِيدُ – সব কিছুর সাক্ষী ৫১. الْحَقُّ – পরম সত্য
৫২. الْوَكِيلُ – পরম নির্ভরযোগ্য কর্ম-সম্পাদনকারী ৫৩. الْقَوِيُّ – পরম শক্তিধর ৫৪. الْمَتِينُ – সুদৃঢ়
৫৫. الْوَلِيُّ – অভিভাবক ও সাহায্যকারী ৫৬. الْحَمِيدُ – সকল প্রশংসার যোগ্য ৫৭. الْمُحْصِي – সকল সৃষ্টির ব্যপারে অবগত
৫৮. الْمُبْدِئُ – সৃষ্টির সূচনাকারী ৫৯. الْمُعِيدُ – পুনর্বার সৃষ্টিকারী ৬০. الْمُحْيِي – জীবন-দাতা
৬১. اَلْمُمِيتُ – মৃত্যু দানকারী ৬২. الْحَيُّ – চিরজীবী ৬৩. الْقَيُّومُ – সমস্তকিছুর ধারক ও সংরক্ষণকারী/ চির বিদ্যমান
৬৪. الْوَاجِدُ – অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী ৬৫. الْمَاجِدُ – -শ্রেষ্ঠত্ব/গৌরবের  অধিকারী ৬৬. الْواحِدُ – এক ও অদ্বিতীয়
৬৭. اَلاَحَدُ – -একক/অনন্য ৬৮. الصَّمَدُ – অমুখাপেক্ষী ৬৯. الْقَادِرُ – সর্বশক্তিমান
৭০. الْمُقْتَدِرُ – নিরঙ্কুশ-সিদ্ধান্তের-অধিকারী ৭১. الْمُقَدِّمُ – অগ্রসারক ৭২. الْمُؤَخِّرُ – অবকাশ দানকারী
৭৩. الأوَّلُ – অনাদি ৭৪. الآخِرُ – অনন্ত/সর্বশেষ ৭৫. الظَّاهِرُ – সম্পূর্ণরূপে-প্রকাশিত
৭৬. الْبَاطِنُ – দৃষ্টি হতে অদৃশ্য ৭৭. الْوَالِي – সমস্ত কিছুর অভিভাবক/পৃষ্টপোষক ৭৮. الْمُتَعَالِي – সৃষ্টির গুণাবলীর উর্দ্ধে/পরম গুণান্বিত
৭৯. الْبَرُّ – পরম-উপকারী, অনুগ্রহশীল ৮০. التَّوَابُ – তাওবার তাওফিক দানকারী এবং কবুলকারী ৮১. الْمُنْتَقِمُ – প্রতিশোধ-গ্রহণকারী
৮২. العَفُوُّ – পরম-উদার/ক্ষমাপরায়ণ ৮৩. الرَّؤُوفُ – পরম স্নেহশীল ৮৪. مَالِكُ الْمُلْكِ – রাজাধিরাজ/সমগ্র জগতের বাদশাহ্
৮৫. ذُوالْجَلاَلِ وَالإكْرَامِ – মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা ৮৬. الْمُقْسِطُ – হকদারের হক-আদায়কারী/ন্যায্যতা বিধানকারী ৮৭. الْجَامِعُ – একত্রকারী, সমবেতকারী
৮৮. الْغَنِيُّ – অভাবহীন ধনী ৮৯. الْمُغْنِي – পরম-অভাবমোচনকারী ৯০. ا اَلْمَانِعُ – অকল্যাণরোধক
৯১. الضَّارَّ – বিধ্বংস/ক্ষতিসাধনকারী ৯২. النَّافِعُ – পরম কল্যাণকারী ৯৩. النُّورُ – পরম-আলো
৯৪. الْهَادِي – পথ-প্রদর্শক ৯৫. الْبَدِيعُ – অতুলনীয় ৯৬. اَلْبَاقِي – চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর
৯৭. الْوَارِثُ – সবকিছুর উত্তরাধিকারী ৯৮. الرَّشِيدُ – সঠিক পথ-প্রদর্শক ৯৯. الصَّبُورُ – অত্যধিক ধৈর্যধারণকারী

 

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অফুরন্ত অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাশি

وَاِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوْهَاۤ اِنَّ اللهَ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (১৬:১৮)

মানবজাতির উপর আল্লাহ্ তায়ালার অফুরন্ত ও অপার নিয়ামতরাশি গণনাতীত। তাঁর অপরিসীম অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাশির কথা সমগ্র কুরআন জুড়ে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র কুরআনের ৭৮–আয়াত বিশিষ্ট ৫৫ নং সুরা ‘আর–রাহমান’ আল্লাহর নিয়ামতরাশির বিশদ বর্ণনা সম্বলিত একটি সুরা। এর প্রতিটি আয়াতে মহান আল্লাহ্ তাঁর নিয়ামতের হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা দিয়েছেন। সেই সাথে মানুষ ও জিন জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বারবার প্রশ্ন করেছেন, فَبِاَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ – “(হে মানব ও জিন জাতি) অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?” মানবজাতির ওপর আল্লাহ্ তায়ালার অগণিত নিয়ামতরাশি ও অপরিসীম অনুগ্রহের কথা বার বার ঘোষিত হয়েছে। জলে–স্থলে–অন্তরীক্ষে সর্বত্রই নিয়ামতের ছড়াছড়ি। আকাশে, বাতাসে, ভূমিতে, ভূ–অভ্যন্তরে, নদী–সমুদ্র ও তার জলরাশির নীচে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য এসব নিয়ামতরাশি। তাঁর নিয়ামতের সংখ্যা গণনাতীত। দুনিয়া ও আখিরাত এ উভয় জগতেই রয়েছে আল্লাহর অশেষ নিয়ামত। কিন্তু আখিরাতের নিয়ামত অতি উত্তম ও তুলনাহীন। দুনিয়ার নিয়ামত বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সবাই পেয়ে থাকে। তবে অকৃতজ্ঞ ও অবিশ্বাসীরা একটু বেশীই পেয়ে থাকে, কারণ মহান আল্লাহ্ তাদেরকে যথেষ্ট অবকাশ দিয়ে থাকেন যাতে তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে। আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী বহুগুণে উৎকৃষ্ট আখিরাতের এ অন্তহীন নিয়ামত শুধুমাত্র তাঁর বিশ্বাসী ও অনুগত বান্দাদের জন্যই সংরক্ষিত। আর অবিশ্বাসী কাফেরদের জন্য আখিরাতের অনন্ত সুখ–সম্ভোগে কোন অংশ নেই।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাশি সংক্রান্ত পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত এখানে উদ্ধৃত করা হলো :

اَلرَّحْمٰنُ ۝ عَلَّمَ الْقُرْاٰنَ ؕ۝ خَلَقَ الْاِنْسَانَ ۝ عَلَّمَهُ الْبَیَانَ ۝ اَلشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ ۝ وَّ النَّجْمُ وَ الشَّجَرُ یَسْجُدٰنِ ۝ وَ السَّمَآءَ رَفَعَهَا وَ وَضَعَ الْمِیْزَانَ ۝ اَلَّا تَطْغَوْا فِی الْمِیْزَانِ

˝করুণাময় আল্লাহ। শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বচনশৈলী (ভাষাজ্ঞান)। সূর্য ও চন্দ্র (তাঁরই নির্ধারিত) হিসাবমত চলে। এবং তৃণলতা ও গাছপালা সেজদারত আছে। তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং তাতে স্থাপন করেছেন ভারসাম্যতা। যাতে তোমরা ভারসাম্যতার সীমা লংঘন না কর।” (৫৫:১ – ৮)

يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِه مَنْ يَّشَآءُ وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيْمِ۝

“তিনি যাকে ইচ্ছা নিজের বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন। আর আল্লাহ মহাঅনুগ্রহশীল।” (৩:৭৪)

وَالْاَرْضَ وَضَعَهَا لِلْاَنَامِ۝ فِيْهَا فٰكِهَةٌ وَّالنَّخْلُ ذَاتُ الْاَكْمَامِ۝ وَالْحَبُّ ذُوْالْعَصْفِ وَالرَّيْحَانُ۝ فَبِاَىِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ۝

“তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে। এতে আছে ফলমূল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খর্জুর বৃক্ষ। আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে।” (৫৫:১০ – ১৩)

وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْۢ بُيُوْتِكُمْ سَكَنًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ جُلُوْدِ الْاَنْعٰمِ بُيُوْتًا تَسْتَخِفُّوْنَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ اِقَامَتِكُمْ لا وَمِنْ اَصْوَافِهَا وَاَوْبَارِهَا وَاَشْعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّمَتٰعًا اِلٰى حِيْنٍ۝ وَّاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الجِبَالِ اَكْنٰنًا وَّجَعَلَ لَكُمْ سَرٰبِيْلَ تَقِيْكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَاْسَكُمْ كَذٰلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَه عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُوْنَ۝

“আল্লাহ তোমাদের গৃহকে অবস্থানের জায়গা করে দিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর চামড়া দ্বারা করেছেন তোমাদের জন্যে তাঁবুর ব্যবস্থা। তোমরা এগুলোকে সফরকালে ও বিশ্রামকালে সহজে বহনযোগ্য হিসেবে পাও। ভেড়ার পশম, উটের বাবরি চুল ও ছাগলের লোম দ্বারা কত আসবাবপত্র ও ব্যবহারের সামগ্রী তৈরী করেছেন এক নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড়সমূহে তোমাদের জন্যে আত্ম গোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।” (১৬:৮০ – ৮১)

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِىۤ اٰدَمَ وَحَمَلْنٰهُمْ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنٰهُمْ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ وَفَضَّلْنٰهُمْ عَلٰى كَثِيْرٍ مِّمَنْ خَلَقْنَا تَفْضِيْلًا۝

“নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (১৭:৭০)

رَّبُّكُمُ الَّذِىْ يُزْجِى لَكُمُ الْفُلْكَ فِى الْبَحْرِ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه ط اِنَّه كَانَ بِكُمْ رَحِيْمًا۝

“তোমাদের পালনকর্তা তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সমুদ্রে জলযান চালনা করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষন করতে পারো। নিঃসন্দেহে তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।” (১৭:৬৬)

اَلَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّسَلَكَ لَكُمْ فِيْهَا سُبُلًا وَّاَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجْنَا بِه اَزْوٰجًا مِّنْ نَّبَاتٍ شَتّٰى۝ كُلُوْا وَارْعَوْا اَنْعٰمَكُمْ ط اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّاُوْلِى النُّهٰى۝

“তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। তোমরা আহার কর এবং তোমাদের চতুষ্পদ জন্তু চরাও। নিশ্চয় এতে বিবেকবানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।” (২০:৫৩ – ৫৪)

اِنَّ فِىْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِىْ تَجْرِىْ فِى الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ مَّآءٍ فَاَحْيَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيْهَا مِنْ كُلِّ دَآبَّةٍ وَتَصْرِيْفِ الرِّيٰحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ۝

“নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।” (২:১৬৪)

وَ الْاَرْضَ مَدَدْنٰهَا وَ اَلْقَیْنَا فِیْهَا رَوَاسِیَ وَ اَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ کُلِّ شَیْءٍ مَّوْزُوْنٍ ۝ وَ جَعَلْنَا لَکُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ وَ مَنْ لَّسْتُمْ لَہٗ بِرٰزِقِیْنَ ۝ وَ اِنْ مِّنْ شَیْءٍ اِلَّا عِنْدَنَا خَزَآئِنُہٗ ۫ وَ مَا نُنَزِّلُہٗۤ اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ ۝ وَ اَرْسَلْنَا الرِّیٰحَ لَوَاقِحَ فَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَسْقَیْنٰکُمُوْهُ ۚ وَ مَاۤ اَنْتُمْ لَہٗ بِخٰزِنِیْنَ۝

“আমি ভূপৃষ্ঠকে প্রশস্ত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি। আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও। আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমাণে তা অবতরণ করি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই।” (১৫:১৯ – ২২)

….. فَانظُرْ اِلى اثرِ رَحْمَتِ اللهِ كَيْفَ يُحْىِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا

“অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন…..।” (৩০:৫০)

قُلْ اَرَءَيْتُمْ اِنْ اَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَنْ يَاْتِيْكُم بِمَاءٍ مَّعِيْنٍۭ۝

“বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা।” (৬৭:৩০)

مَّا يَفْتَحِ اللهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَه مِنۢ بَعْدِه وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ۝ يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللهِ عَلَيْكُمْ هَلْ مِنْ خٰلِقٍ غَيْرُ اللهِ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ لَاۤاِلٰهَ اِلَّا هُوَ فَاَنّٰى تُؤْفَكُوْنَ۝

“আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের মধ্য থেকে মানুষের জন্য যা দান করেন, তা স্থগিত করার কেউ নেই এবং তিনি যা বারণ করেন, তিনি ব্যতীত তা কেউ প্রেরণ করতে পারে না। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। হে মানুষ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ।” (৩৫:২ – ৩)

وَمَا يَسْتَوِى الْبَحْرٰنِ ق هٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُه وَهٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ ط وَمِنْ كُلٍّ تَاْكُلُوْنَ لَحْمًا طَرِيًّا وَّتَسْتَخْرِجُوْنَ حِلْيَةً تَلْبَسُوْنَهَا ج وَتَرَى الْفُلْكَ فِيْهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝ يُوْلِجُ الَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى الَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِىْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّى ط ذٰلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ ط وَالَّذِيْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه مَا يَمْلِكُوْنَ مِنْ قِطْمِيْرٍ۝

“দু’টি সমুদ্র সমান হয় না – একটি মিঠা ও তৃষ্ণানিবারক এবং অপরটি লোনা। উভয়টি থেকেই তোমরা তাজা গোশত (মৎস) আহার কর এবং পরিধানে ব্যবহার্য গয়নাগাটি আহরণ কর। তুমি তাতে তার বুক চিরে জাহাজ চলতে দেখ, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। তিনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়।” (৩৫:১২ – ১৩)

ذٰلِكَ بِاَنَّ اللهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِّعْمَةً اَنْعَمَهَا عَلٰى قَوْمٍ حَتّٰى يُغَيِّرُوْا مَا بِاَنْفُسِهِمْ لا وَاَنَّ اللهَ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ۝

“তার কারণ এই যে, আল্লাহ কখনও পরিবর্তন করেন না, সে সব নেয়ামত, যা তিনি কোন জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুত আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।” (৮:৫৩)

اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَيْدِيْنَاۤ اَنْعٰمًا فَهُمْ لَهَا مٰلِكُوْنَ۝ وَذَلَّلْنٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا يَاْكُلُوْنَ۝ وَلَهُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক। আমি এগুলোকে তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে। তাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না।” (৩৬:৭১ – ৭৩)

اَلَمْ تَرَوْا اَنَّ اللهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ وَاَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَه ظٰهِرَةً وَّبَاطِنَةً وَّمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجٰدِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّلَا هُدًى وَّلَا كِتٰبٍ مُّنِيْرٍ۝

“তোমরা কি দেখ না আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে।” (৩১:২০)

اَفَرَءَيْتُمْ مَّا تَحْرُثُوْنَ ۝ اٰنْتُمْ تَزْرَعُوْنَه اَمْ نَحْنُ الزّٰرِعُوْنَ ۝ لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنٰهُ حُطٰمًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُوْنَ ۝ اِنَّا لَمُغْرَمُوْنَ ۝ بَلْ نَحْنُ مَحْرُوْمُوْنَ ۝ اَفَرَءَيْتُمُ الْمَآءَ الَّذِىْ تَشْرَبُوْنَ۝ ءَاَنْتُمْ اَنْزَلْتُمُوْهُ مِنَ المُزْنِ اَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُوْنَ ۝ لَوْ نَشَآءُ جَعَلْنٰهُ اُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُوْنَ۝ اَفَرَءَيْتُمُ النَّارَ الَّتِى تُوْرُوْنَ ۝ ءَاَنْتُمْ اَنْشَاْتُمْ شَجَرَتَهَآ اَمْ نَحْنُ الْمُنْشِـُٔوْنَ۝ نَحْنُ جَعَلْنٰهَا تَذْكِرَةً وَّمَتٰعًا لِّلْمُقْوِيْنَ ۝ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيْمِ۝

“তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট। বলবে: আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম; বরং আমরা হৃতসর্বস্ব হয়ে পড়লাম। তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না? তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি? আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী। অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।” (৫৬:৬৩ – ৭৪)

وَلَئِنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ لَيَقُوْلُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيْزُ الْعَلِيْمُ۝ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّجَعَلَ لَكُمْ فِيْهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ۝ وَالَّذِىْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَنْشَرْنَا بِه بَلْدَةً مَّيْتًا كَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ۝ وَالَّذِىْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الفُلْكِ وَالْاَنْعٰمِ مَا تَرْكَبُوْنَ۝ لِتَسْتَوا عَلٰى ظُهُوْرِه ثُمَّ تَذْكُرُوْا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ اِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُوْلُوْا سُبْحٰنَ الَّذِىْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَه مُقْرِنِيْنَ۝ وَاِنَّاۤ اِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ۝

“(হে নবী) আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহ। যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছুতে পার। এবং যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন পরিমিতভাবে। অতঃপর তদ্দ্বারা আমি মৃত ভূ–ভাগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। তোমরা এমনিভাবে উত্থিত হবে। এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুষ্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত করেছেন, যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর আরোহণ কর। অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ কর এবং বল পবিত্র তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে যাব।” (৪৩:৯ – ১৪)

اَللهُ الَّذِىْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَاَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجَ بِه مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ ط وَسَخَّرَ لَكُمُ الْفُلْكَ لِتَجْرِىَ فِى الْبَحْرِ بِاَمْرِه وَسَخَّرَ لَكُمُ الْاَنْهٰرَ۝ وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَآئِبَيْنِ ج وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ۝ وَاٰتٰىكُمْ مِّنْ كُلِّ مَا سَاَلْتُمُوْهُ وَاِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَتَ اللهِ لَا تُحْصُوْهَا ط اِنَّ الْاِنْسَانَ لَظَلُوْمٌ كَفَّارٌ۝

“তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্যে ফলের রিযিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলা ফেরা করে এবং নদ–নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।” (১৪:৩২ – ৩৪)

وَالْاَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيْهَا دِفْءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ۝ وَلَكُمْ فِيْهَا جَمَالٌ حِيْنَ تُرِيْحُوْنَ وَحِيْنَ تَسْرَحُوْنَ۝ وَتَحْمِلُ اَثْقَالَكُمْ اِلٰى بَلَدٍ لَّمْ تَكُوْنُوْا بٰلِغِيْهِ اِلَّا بِشِقِّ الْاَنْفُسِ اِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ۝ وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيْرَ لِتَرْكَبُوْهَا وَزِيْنَةً وَّيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ۝

“চতুষ্পদ জন্তুকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। এতে তোমাদের জন্যে শীত বস্ত্রের উপকরণ আছে। আর অনেক উপকার হয়েছে এবং কিছু সংখ্যককে তোমরা আহার্যে পরিণত করে থাক। এদের দ্বারা তোমাদের সম্মান হয়, যখন বিকালে চারণভূমি থেকে নিয়ে আস এবং সকালে চারণভূমিতে নিয়ে যাও। এরা তোমাদের বোঝা এমন শহর পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যায়, যেখানে তোমরা প্রাণান্তকর পরিশ্রম ব্যতীত পৌঁছাতে পারতে না। নিশ্চয় তোমাদের প্রভু অত্যন্ত দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। তোমাদের আরোহণের জন্যে এবং শোভার জন্যে তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি এমন জিনিস সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না।” (১৬:৫ – ৮)

هُوَ الَّذِىْۤ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّكُمْ مِّنْهُ شَرَابٌ وَّمِنْهُ شَجَرٌ فِيْهِ تُسِيْمُوْنَ۝ يُنْۢبِتُ لَكُم بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُوْنَ وَالنَّخِيْلَ وَالْاَعْنٰبَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ج اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ۝ وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمْرِه طاِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ۝

“তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। এই পানি থেকে তোমরা পান কর এবং এ থেকেই উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যাতে তোমরা পশুচারণ কর। এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্যে উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙুর ও সর্বপ্রকার ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তিনিই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকাসমূহ তাঁরই বিধানের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (১৬:১০ – ১২)

وَمَا ذَرَاَ لَكُمْ فِى الْاَرْضِ مُخْتَلِفًا اَلْوٰنُه طاِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَذَّكَّرُوْنَ۝ وَهُوَ الَّذِىْ سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَاْكُلُوْا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيَّا وَّتَسْتَخْرِجُوْا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُوْنَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيْهِ وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝ وَاَلْقٰى فِى الْاَرْضِ رَوٰسِىَ اَنْ تَمِيْدَ بِكُمْ وَاَنْهٰرًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ۝ وَعَلٰمٰتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُوْنَ۝

“তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং–বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা–ভাবনা করে। তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযান সমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর। এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে–দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও। এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।” (১৬:১৩ – ১৬)

وَهُوَ الَّذِىْ يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْۢ بَعْدِ مَا قَنَطُوْا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَه وَهُوَ الْوَلِىُّ الْحَمِيْدُ۝

“মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই কার্যনির্বাহী, প্রশংসিত।” (৪২:২৮)

 

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অপরিসীম দয়া ও ক্ষমা

قُلْ يٰعِبَادِىَ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰىۤ اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ اِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا اِنَّه هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ۝

“বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (৩৯:৫৩)

আল্লাহ্ রহমানুর রহীম – পরম করুণাময়, দয়ালু ও দাতা এবং তাঁর বান্দাগণের প্রতি অতীব ক্ষমাশীল। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর সৃষ্টিকে অফুরন্ত দয়া ও ক্ষমার দ্বারা পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি তাঁর অপরিসীম দয়া ও করুণার শতভাগের মাত্র এক ভাগ সমগ্র প্রাণী জগতের অন্তরে বণ্টন করেছেন। বাকী নিরান্নব্বই ভাগ দয়া, ক্ষমা ও করুণার ভান্ডার আল্লাহ্ তাঁর নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। বিচার দিবসে তিনি তাঁর মু’মিন বান্দাগণের প্রতি এর পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন।’ মাত্র একভাগ করুণাপ্রাপ্ত হয়ে সমগ্র প্রাণীজগতে পাস্পরিক স্নেহ, মমতা ও দয়ার কি গভীর ও স্বতঃস্ফূর্ত  বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। আর দয়াল আল্লাহ্ যখন তাঁর পুরো করুণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন তখনকার অবস্থা কি হবে তা কল্পনাতীত। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বারবার তাঁর ক্ষমা, দয়া, করুণা ও মহানুভবতার কথা বর্ণিত হয়েছে যার কিছু উদ্ধৃতি নিম্নে পেশ করা হলো:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم

“শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।”

وَقُلْ رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰحِمِيْنَ۝

“(হে নবী) বলুন, হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। আপনিতো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াশীল।” (২৩:১১৮)

وَاِذَا جَآءَكَ الَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِـَٔايٰتِنَا فَقُلْ سَلٰمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلٰى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ اَنَّه مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْٓءًۢا بِجَهٰلَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْۢ بَعْدِه وَاَصْلَحَ فَاَنَّه غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“আর আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাসকারীগণ যখন আপনার কাছে আসবে, তখন আপনি বলে দিন: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক রহমত করা নিজ কর্তব্য বলে স্থির করেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।” (৬:৫৪)

قُلْ لِّمَنْ مَّا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ قُلْ لِلّٰهِ كَتَبَ عَلٰى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ۝

“জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিন, আল্লাহ। তিনি দয়া প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন।” (৬: ১২)

وَلَا تَايْـَٔسُوْا مِنْ رَّوْحِ اللهِ اِنَّه لَا يَايْـَٔسُ مِنْ رَّوْحِ اللهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْكٰفِرُوْنَ۝

“……এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।” (১২:৮৭)

ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِيْنَ عَمِلُوْا السُّوْٓءَ بِجَهٰلَةٍ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْۤا اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“অনন্তর যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, আপনার পালনকর্তা এসবের পরে তাদের জন্যে অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (১৬:১১৯)

اِلَّا الَّذِيْنَ تَابُوْا وَاَصْلَحُوْا وَاعْتَصَمُوْا بِاللهِ وَاَخْلَصُوْا دِيْنَهُمْ لِلّٰهِ فَاُوْلٰٓئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللهُ الْمُؤْمِنِيْنَ اَجْرًا عَظِيْمًا۝ مَّا يَفْعَلُ اللهُ بِعَذَابِكُمْ اِنْ شَكَرْتُمْ وَاٰمَنْتُمْ وَكَانَ اللهُ شَاكِرًا عَلِيْمًا۝

“অবশ্য যারা তওবা করে নিয়েছে, নিজেদের অবস্থার সংস্কার করেছে এবং আল্লাহর পথকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আল্লাহর ফরমাবরদার হয়েছে, তারা থাকবে মুসলমানদেরই সাথে। বস্তুত আল্লাহ শীঘ্রই ঈমানদারগণকে মহাপূণ্য দান করবেন। তোমাদের আযাব দিয়ে আল্লাহ কি করবেন যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক! আর আল্লাহ হচ্ছেন সমুচিত মূল্যদানকারী সর্বজ্ঞ।” (৪:১৪৬ – ১৪৭)

وَاِنِّى لَغَفَّارٌ لِّمَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صٰلِحًا ثُمَّ اهْتَدٰى۝

“আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।” (২০:৮২)

اِلَّا الَّذِيْنَ تَابُوْا وَاَصْلَحُوْا وَبَيَّنُوْا فَاُوْلٰٓئِكَ اَتُوْبُ عَلَيْهِمْ ج وَاَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ۝

“তবে যারা তওবা করে এবং বর্ণিত তথ্যাদির সংশোধন করে মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেয়, সে সমস্ত লোকের তওবা আমি কবুল করি এবং আমি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।” (২:১৬০)

اِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صٰلِحًا فَاُوْلٰٓئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنٰتٍ ط وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا ۝ وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صٰلِحًا فَاِنَّه يَتُوْبُ اِلَى اللهِ مَتَابًا۝

“তবে যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহর দিকে তাদের তওবাই সত্যিকারের তওবা।” (২৫:৭০ – ৭১)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا تُوْبُوْۤا اِلَى اللهِ تَوْبَةً نَّصُوْحًا عَسٰى رَبُّكُمْ اَنْ يُّكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِىْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ يَوْمَ لَا يُخْزِى اللهُ النَّبِىَّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَه نُوْرُهُمْ يَسْعٰى بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمٰنِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ج اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ۝

“মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর- আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।” (৬৬:৮)

يُرِيْدُ اللهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيْكُمْ سُنَنَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوْبَ عَلَيْكُمْ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ۝ وَاللهُ يُرِيْدُ اَنْ يَتُوْبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيْدُ الَّذِيْنَ يَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوٰتِ اَنْ تَمِيْلُوْا مَيْلًا عَظِيْمًا۝ يُرِيْدُ اللهُ انْ يُّخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْاِنْسٰنُ ضَعِيْفًا۝

“আল্লাহ তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান। এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়। আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষ দুর্বলভাবে সৃজিত হয়েছে।” (৪:২৬ – ২৮)

اِنْ تَجْتَنِبُوْا كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُّدْخَلًا كَرِيْمًا۝

“যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গুনাহগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ত্রুটি–বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (৪:৩১)

وَلِلّٰهِ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ يَغْفِرُ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَّشَآءُ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে, সেসবই আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা আযাব দান করবেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী, করুণাময়।” (৩:১২৯)

لَه مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيْمُ۝ تَكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَالْمَلٰٓئِكَةُ يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُوْنَ لِمَنْ فِى الْاَرْضِ ط اَلَاۤ اِنَّ اللهَ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ۝

“নভোমন্ডলে যা কিছু আছে এবং  ‍ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর। তিনি সমুন্নত, মহান। আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় আর তখন ফেরেশতাগণ তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং পৃথিবীবাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শুনে রাখ, আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।” (৪২:৪ – ৫)

اَلَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ هُوَ یَقْبَلُ التَّوْبَۃَ عَنْ عِبَادِہٖ وَ یَاْخُذُ الصَّدَقٰتِ وَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ۝

“তারা কি একথা জানতে পারেনি যে, আল্লাহ নিজেই স্বীয় বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং যাকাত গ্রহণ করেন? বস্তুত আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।” (৯:১০৪)

وَاٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صٰلِحًا وَاٰخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللهُ ان يَتُوْبَ عَلَيْهِمْ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেক-কাজ ও অন্য একটি বদ–কাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।” (৯:১০২)

وَاِنْ يَّمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَه اِلَّا هُوَ ج وَاِنْ يُّرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِه يُصِيْبُ بِه مَنْ يَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه وَهُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ۝

“আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতোও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।” (১০:১০৭)

وَ رَبُّكَ الْغَفُوْرُ ذُو الرَّحْمَۃِ ط لَوْ یُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوْا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ط بَلْ لَّهُمْ مَّوْعِدٌ لَّنْ یَّجِدُوْا مِنْ دُوْنِہٖ مَوْئِلًا۝

“আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।” (১৮:৫৮)

اِنَّه هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيْدُ۝ وَهُوَ الْغَفُوْرُ الْوَدُوْدُ۝ ذُوالْعَرْشِ الْمَجِيْدُ۝

“তিনিই প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন এবং পুনরায় জীবিত করেন। তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়; মহান আরশের অধিকারী।” (৮৫:১৩ – ১৫)

اِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ ۝

“…… নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুণাময়।” (২:১৪৩)

اَفَلَا يَتُوْبُوْنَ اِلَى اللهِ وَيَسْتَغْفِرُوْنَهط وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ ۝

“তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৫:৭৪)

اِنَّه كَانَ فَرِيْقٌ مِّنْ عِبَادِىْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰحِمِيْنَ۝

“আমার বান্দাদের একটি দল বলত, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।” (২৩:১০৯)

يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِى الْاَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيْهَا وَهُوَ الرَّحِيْمُ الْغَفُوْرُ۝

“তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়াময় ক্ষমাশীল।” (৩৪:২)

وَلِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ط يَغْفِرُ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَّشَآءُ ط وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا۝

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। কিন্তু আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।” (৪৮:১৪)

وَاَطِيْعُوْا اللهَ وَالرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۝

“আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।” (৩:১৩২)

قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِىْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ط وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝

“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।” (৩:৩১)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنكَ رَحْمَةً اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ۝

“হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।” (৩:৮)

اَلَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ ۝ اَلصّٰبِرِیْنَ وَ الصّٰدِقِیْنَ وَ الْقٰنِتِیْنَ وَ الْمُنْفِقِیْنَ وَ الْمُسْتَغْفِرِیْنَ بِالْاَسْحَارِ۝

“যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।” (৩:১৬ – ১৭)

لَقَد تَّابَ اللهُ عَلَى النَّبِىِّ وَالْمُهٰجِرِيْنَ وَالْاَنْصَارِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ فِىْ سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْۢ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيْغُ قُلُوْبُ فَرِيْقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ط اِنَّه بِهِمْ رَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ۝

“আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মূহুর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুণাময়।” (৯:১১৭)

لِّيْعَذِّبَ اللهُ الْمُنٰفِقِيْنَ وَالْمُنٰفِقٰتِ وَالْمُشْرِكِيْنَ وَالْمُشْرِكٰتِ وَيَتُوْبَ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ج وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًۢا۝

“পরিণতিতে আল্লাহ মুনাফেক পুরুষ, মুনাফেক নারী, মুশরেক পুরুষ, মুশরেক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (৩৩:৭৩)

الَّذِيْنَ يَجْتَنِبُوْنَ كَبٰٓئِرَ الْاِثْمِ وَالْفَوٰحِشَ اِلَّا اللَّمَمَ اِنَّ رَبَّكَ وٰسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ اعْلَمُ بِكُمْ اِذْ اَنْشَاَكُمْ مِّنَ الاَرْضِ وَاِذْ اَنْتُمْ اَجِنَّةٌ فِىْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوْٓا اَنْفُسَكُمْ هُوَ اعْلَمُ بِمَنِ اتَّقٰى۝

“যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাটো অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।” (৫৩:৩২)

وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا

“যে গুনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।” (৪:১১০)

 وَاسْتَغْفِرُوْا اللهَ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌۢ۝

“……তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৭৩:২০)

اِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ اَنْ يُّشْرَكَ بِه وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَمَنْ يُّشْرِكْ بِاللهِ فَقَدِ افْتَرٰىۤ اِثْمًا عَظِيْمًا۝

“নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।” (৪:১১৬)

وَالَّذَانِ يَاْتِيٰنِهَا مِنْكُمْ فَـَٔاذُوْهُمَا فَاِنْ تَابَا وَاَصْلَحَا فَاَعْرِضُوْا عَنْهُمَاۤ اِنَّ اللهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيْمًا۝ اِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللهِ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السُّوْٓءَ بِجَهٰلَةٍ ثُمَّ يَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِيْبٍ فَاُوْلٰٓئِكَ يَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِمْ ط وَكَانَ اللهُ عَلِيْمًا حَكِيْمًا۝

“তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু। অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।” (৪:১৬ – ১৭)

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّـَٔاتِ حَتّٰى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّىْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَلَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ فَاُوْلٰٓئِكَ اعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا۝

“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে: আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (৪:১৮)

فَمَنْ تَابَ مِنْۢ بَعْدِ ظُلْمِه وَاَصْلَحَ فَاِنَّ اللهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ ط اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ۝ اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللهَ لَه مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ يُعَذِّبُ مَنْ يَّشَآءُ وَيَغْفِرُ لِمَنْ يَّشَآءُط وَاللهُ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ۝

“অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (৫:৩৯ – ৪০)

وَعَدَ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصّٰلِحٰتِۙ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَّاَجْرٌ عَظِيْمٌ۝

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহান প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” (৫:৯)

وَالَّذِيْنَ اِذَا فَعَلُوْا فٰحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْٓا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوْا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ وَمَنْ يَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ وَلَمْ يُصِرُّوْا عَلٰى مَا فَعَلُوْا وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ۝ اُوْلٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَجَنّٰتٌ تَجْرِىْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْهَا وَنِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِيْنَ۝

“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর যুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে–শুনে তাই করতে থাকে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।” (৩:১৩৫ – ১৩৬)

وَالَّذِيْنَ عَمِلُوْا السَّيِّـَٔاتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِهَا وَاٰمَنُوْٓا اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

“আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদেগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।” (৭:১৫৩)

وَاكْتُبْ لَنَا فِىْ هٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ اِنَّا هُدْنَآ اِلَيْكَ قَالَ عَذَابِىۤ اُصِيْبُ بِه مَنْ اَشَآءُ وَرَحْمَتِى وَسِعَتْ كُلَّ شَىْءٍ فَسَاَكْتُبُهَا لِلَّذِيْنَ يَتَّقُوْنَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكَوٰةَ وَالَّذِيْنَ هُم بِـَٔايٰتِنَا يُؤْمِنُوْنَ۝

“আর তুমি আমাদের জন্যে পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। আল্লাহ তা’আলা বললেন, (হ্যাঁ) আমার আযাব আমি যাকে ইচ্ছা তাকে দেই, আর আমার দয়া তো (আসমান–যমীনের) সবকিছুর উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং তা আমি অবশ্যই তাদের জন্য লিখে দেব যারা আমাকে ভয় করে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়াতসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।” (৭:১৫৬)

وَهُوَ الَّذِىْ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِه وَيَعْفُوْا عَنِ السَّيِّـَٔاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ۝ وَيَسْتَجِيْبُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصّٰلِحٰتِ وَيَزِيْدُهُم مِنْ فَضْلِه وَالْكٰفِرُوْنَ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ۝

“তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তিনি মু’মিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শুনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।” (৪২:২৫ – ২৬)

وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُه وَاَنَّ اللهَ تَوَّابٌ حَكِيْمٌ۝

“তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে এবং আল্লাহ তওবা কবুলকারী, প্রজ্ঞাময় না হলে কত কিছুই যে হয়ে যেত।” (২৪:১০)

رَّبُّكُمْ اَعْلَمُ بِمَا فِى نُفُوْسِكُمْ اِن تَكُوْنُوْا صٰلِحِيْنَ فَاِنَّه كَانَ لِلْاَوّٰبِيْنَ غَفُوْرًا۝

“তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মনে যা আছে তা ভাল করেই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্যে ক্ষমাশীল।” (১৭:২৫)

فَبِاَىِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ۝

“অতএব, তোমরা উভয়ে (জিন ও ইনসান) তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?” (৫৫:১৩)

 

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকল প্রাণীর জীবিকা সরবরাহকারী

مَاۤ اُرِيْدُ مِنْهُمْ مِّنْ رِّزْقٍ وَمَاۤ اُرِيْدُ اَنْ يُّطْعِمُوْنِ۝ اِنَّ اللهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُوْالْقُوْةِ الْمَتِيْنُ۝

“আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। আল্লাহ তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” (৫১:৫৭ – ৫৮)

মহান আল্লাহর রিযিক–বিষয়ক নীতিমালা সার্বজনীন। তিনি তাঁর সৃষ্ট প্রতিটি জীবের রিযিক সরবরাহের দায়িত্ব স্বয়ং গ্রহণ করেছেন। তাঁর বাধ্য–অবাধ্য সকলের জীবিকাই তিনি দান করেন।  মাতৃ–গর্ভে অবস্থানকালেই প্রতিটি প্রাণীর  রিযিকের ব্যবস্থা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন করে রেখেছেন। ভূমিষ্ট হওয়ার পর মাতৃ–স্তন্যে সঞ্চিত দুধই একটি শিশুর প্রধান খাদ্য। প্রতিটি মানুষ ও জীবের জন্য আল্লাহ্ আকাশ, পাতাল ও যমীনে তাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা রেখেছেন। আকাশে মেঘ থেকে বারি বর্ষিত হয়, সূর্যের আলো ও তাপ ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়ে মাটিকে ফল–ফসল ও পশু চারণের উপযোগি করে তুলে। মানুষ তার প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে ফসল ফলায়, জীবনের নানাবিধউপকরণ সংগ্রহ করে। এছাড়া  আকাশে–বাতাসে, ভূপৃষ্টে ও ভূগর্ভে আরও বহুবিধ উপকরণ রয়েছে যা মানুষের প্রয়োজন মেটায়। এ প্রসঙ্গে  যেসব আয়াত নাযিল হয়েছে তাতে আল্লাহ্ বলেন:

وَمَا مِنْ دَآبَّةٍ فِى الْاَرْضِ اِلَّا عَلَى اللهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ط كُلٌّ فِىْ كِتٰبٍ مُّبِيْنٍ۝

“আর পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণশীল জীব নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।” (১১:৬)

وَكَاَيِّنْ مِّنْ دَآبَّةٍ لَّا تَحْمِلُ رِزْقَهَا ق اللهُ يَرْزُقُهَا وَاِيْاكُمْ ز وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ۝

“এমন অনেক জন্তু আছে, যারা তাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (২৯:৬০)

هُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ ذَلُوْلًا فَامْشُوْا فِىْ مَنَاكِبِهَا وَكُلُوْا مِنْ رِّزْقِه ط وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ۝

“তিনি (আল্লাহ্) জমিনকে তোমাদের জন্য বাধ্যগত ও বশীভূত করে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা এর প্রশস্ততার উপর চলাচল কর এবং আহার কর তাঁর প্রদত্ত জীবিকা থেকে, আর জেনে রাখ তোমাদের আবার জীবিত হয়ে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে।” (৬৭: ১৫)

وَاٰيَةٌ لَّهُمُ الْاَرْضُ الْمَيْتَةُ اَحْيَيْنٰهَا وَاَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَاْكُلُوْنَ۝ وَجَعَلْنَا فِيْهَا جَنّٰتٍ مِنْ نَّخِيْلٍ وَّاَعْنٰبٍ وَّفَجَّرْنَا فِيْهَا مِنَ العُيُوْنِ۝ لِيْاْكُلُوْا مِنْ ثَمَرِه وَمَا عَمِلَتْهُ اَيْدِيْهِمْ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী। যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন।” (৩৬:৩৩ – ৩৫)

اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَيْدِيْنَاۤ اَنْعٰمًا فَهُمْ لَهَا مٰلِكُوْنَ۝ وَذَلَّلْنٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا يَاْكُلُوْنَ۝ وَلَهُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক। আমি এগুলোকে তাদের হাতে বশীভূত করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে। তাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না।” (৩৬:৭১ – ৭৩)

اِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ اِنَّه كَانَ بِعِبَادِه خَبِيْرًۢا بَصِيْرًا۝

“নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত, তাদের সবকিছুই তাঁর দৃষ্টির আওতায়।” (১৭:৩০)

وَلَوْ بَسَطَ اللهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِه لَبَغَوْا فِى الْاَرْضِ وَلٰكِنْ يُّنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا يَشَاءُ اِنَّه بِعِبَادِه خَبِيْرٌ بَصِيْرٌ۝

“যদি আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাকে প্রচুর রিযিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক খবর রাখেন ও সবকিছু দেখেন।” (৪২:২৭)

…. وَاللهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

“……. আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা।” (৬২:১১)

وَلَقَدْ مَكَّنّٰكُمْ فِى الْاَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيْهَا مَعٰيِشَ ۗ قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” (৭:১০)

وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيْهَا مَعَايِشَ وَمَنْ لَّسْتُمْ لَه بِرٰزِقِيْنَ۝ وَاِنْ مِّنْ شَىْءٍ اِلَّا عِنْدَنَا خَزَآئِنُه وَمَا نُنَزِّلُه اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ۝ وَاَرْسَلْنَا الرِّيٰحَ لَوَاقِحَ فَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَسْقَيْنٰكُمُوْهُ ج وَمَآ اَنْتُمْ لَه بِخٰزِنِيْنَ۝

“আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও। আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমাণেই তা অবতরণ করি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই।” (১৫:২০ – ২২)

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللهِ عَلَيْكُمْ ط هَلْ مِنْ خٰلِقٍ غَيْرُ اللهِ يَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ ط لَۤا اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ز فَاَنّٰى تُؤْفَكُوْنَ۝

“হে মানুষ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় ফিরে যাচ্ছ।” (৩৫:৩)

لَه مَقَالِيْدُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ اِنَّه بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।” (৪২:১২)

اَللهُ لَطِيْفٌۢ بِعِبَادِه يَرْزُقُ مَنْ يَشَآءُ ط وَهُوَ الْقَوِىُّ الْعَزِيْزُ۝

“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে অবহিত আছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।” (৪২:১৯)

هُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ ذَلُوْلًا فَامْشُوْا فِىْ مَنَاكِبِهَا وَكُلُوْا مِنْ رِّزْقِه وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ۝

“তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।” (৬৭:১৫)

هُوَ الَّذِىْ يُرِيْكُمْ اٰيٰتِه وَيُنَزِّلُ لَكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ رِزْقًا وَّمَا يَتَذَكَّرُ اِلَّا مَنْ يُّنِيْبُ۝

“তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন জীবিকা। চিন্তা–ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।” (৪০:১৩)

اَهُمْ يَقْسِمُوْنَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ط نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَّعِيْشَتَهُمْ فِى الْحَيَوٰةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّيْتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا ط وَّرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ۝

“তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বণ্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম।” (৪৩:৩২)

وَاللهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلٰى بَعْضٍ فِى الرِّزْقِ فَمَا الَّذِيْنَ فُضِّلُوْا بِرَآدِّى رِزْقِهِمْ عَلٰى مَا مَلَكَتْ اَيْمَانُهُمْ فَهُمْ فِيْهِ سَوَآءٌ ط اَفَبِنِعْمَةِ اللهِ يَجْحَدُوْنَ۝

“আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস–দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।” (১৬:৭১)

اَللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه وَيَقْدِرُ لَهط اِنَّ اللهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” (২৯:৬২)

قُلْ اِنَّ رَبِّى يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه وَيَقْدِرُ لَه وَمَاۤ اَنْفَقْتُمْ مِنْ شَىْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهط وَهُوَ خَيْرُ الرّٰزِقِيْنَ۝

“বলুন, আমার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত পরিমাণে দেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তিনি তার বিনিময় দেন। তিনি উত্তম রিযিকদাতা।” (৩৪:৩৯)

اَمَّنْ هٰذَا الَّذِىْ يَرْزُقُكُمْ اِنْ اَمْسَكَ رِزْقَهج بَلْ لَّجُّوْا فِىْ عُتُوٍّ وَّنُفُوْرٍ۝

“তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে রয়েছে।” (৬৭:২১)

قُلْ اَغَيْرَ اللهِ اَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَيُطْعِمُ وَلَايُطْعَمُ ط قُلْ اِنِّىۤ اُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَسْلَمَ وَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ۝

“আপনি বলে দিন: আমি কি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? – যিনি (আল্লাহ) সবাইকে আহার্য দান করেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না। আপনি বলে দিন: আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কখনও অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।” (৬:১৪)

ضَرَبَ لَكُمْ مَّثَلًا مِّنْ اَنْفُسِكُمْ ط هَلْ لَّكُمْ مِّنْ مَّا مَلَكَتْ اَيْمٰنُكُمْ مِّنْ شُرَكَآءَ فِىْ مَا رَزَقْنٰكُمْ فَاَنْتُمْ فِيْهِ سَوَآءٌ تَخَافُوْنَهُمْ كَخِيْفَتِكُمْ اَنْفُسَكُمْ ط كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰيٰتِ لِقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ۝

“আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই মধ্য থেকে একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন: তোমাদের আমি যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস–দাসীরা কি তাতে তোমাদের সমান সমান অংশীদার? তোমরা কি তাদেরকে সেরূপ ভয় কর, যেরূপ নিজেদের সমকক্ষ লোককে ভয় কর? এমনিভাবে আমি সমঝদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করি।” (৩০:২৮)

وَلَا تَقْتُلُوْٓا اَوْلٰدَكُمْ خَشْيَةَ اِمْلٰقٍ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَاِيْاكُمْ اِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْـًٔا كَبِيْرًا۝

“দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ।” (১৭:৩১)

اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّ اللهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُوْنَ۝

“তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন এবং হ্রাস করেন। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (৩০:৩৭)

قُلْ مَنْ يَّرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ط قُلِ اللهُ لا وَاِنَّاۤ اَوْ اِيَّاكُمْ لَعَلٰى هُدًى اَوْ فِى ضَلٰلٍ مُّبِيْنٍ۝

“বলুন, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল থেকে কে তোমাদেরকে রিযিক দেয়? বলুন, আল্লাহ। আমরা অথবা তোমরা সৎপথে অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি ও আছ।” (৩৪:২৪)

اَللهُ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ قَرَارًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً وَّصَوَّرَكُمْ فَاَحْسَنَ صُوْرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبٰتِ ذٰلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمْ ج فَتَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعٰلَمِيْنَ ۝

“আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।” (৪০:৬৪)

 

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইনসাফ (ন্যায়নীতি)

اَللهُ الَّذِىۤ اَنْزَلَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ وَالْمِيْزَانَ

“আল্লাহই সত্যসহ কিতাব ও ইনসাফের মানদন্ড নাযিল করেছেন …. ।” (৪২:১৭)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অপরিমেয় শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এবং তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর অপর কোন শক্তি নেই। কিন্তু তিনি অতীব ধৈর্যবান ও সহনশীল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক। তিনি দুনিয়াতে যেমন ইনসাফের মানদন্ড নাযিল করেছেন, তেমনি বিচার দিবসেও ইনসাফের মানদন্ড স্থাপন করবেন। আল্লাহর আইনে সব মানুষ সমান, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাঁর ইনসাফের নীতিমালা সার্বজনীন। বিশ্বাসী, ন্যায়নিষ্ট ও সৎকর্মশীল মানুষকে তিনি ভালবাসেন। তাদেরকে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। আল্লাহ্ তাঁর অবাধ্য বান্দাদেরকে তাদের অপরাধের জন্য সাথে সাথে পাকড়াও করেন না। তিনি ভুল সংশোধন ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তাদেরকে যথেষ্ট সুযোগ ও অবকাশ দিয়ে থাকেন। এমনকি তিনি তাদের রিযিক থেকেও বঞ্চিত করেন না, বরং পার্থিব ধন–সম্পদ তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে দেন। মাঝে মধ্যে কিছুটা বিপদ–আপদ দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করেন। কিন্তু যারা ঈমান আনেনা ও পরিশুদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন অপকর্ম, শোষণ–নিপীড়ন, অন্যায় ও যুলুম দ্বারা পৃথিবীতে অশান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টি করেই চলে তাদেরকে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তির দ্বারা পাকড়াও করেন। আল্লাহ্ তায়ালা কারো ওপর বিন্দুমাত্র যুলুম করেন না এবং তাঁর বিচার অত্যন্ত সূক্ষ্ম, ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন। মহান আল্লাহ্ মানুষকে ন্যায্যতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব সম্পাদন করার তাকিদ দিয়েছেন – যাতে মানবসমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কেহ তার ন্যায্য ও প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত না হয়।

মহান আল্লাহর ন্যায়নীতি সম্পর্কিত আয়াতগুলো নীচে প্রদত্ত হলো:

وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَّعَدْلًا لَّا مُبَدِّلِ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ۝

“আপনার প্রতিপালকের কথা সত্য ও ইনসাফে পরিপূর্ণ। তাঁর কথার কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।” (৬:১১৫)

اَلَيْسَ اللهُ بِاَحْكَمِ الْحٰكِمِيْنَ

“আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন।” (৯৫:৮)

لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنٰتِ وَاَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيْزَانَ لِيَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ….. ۝

“আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে ….।” (৫৭:২৫)

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرٰىكَ اللهُ وَلَا تَكُنْ لِّلْخَآئِنِيْنَ خَصِيْمًا۝

“নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।” (৪:১০৫)

قُلْ اَمَرَ رَبِّىْ بِالْقِسْطِ وَاَقِيْمُوْا وُجُوْهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّادْعُوْهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ كَمَا بَدَاَكُمْ تَعُوْدُوْنَ۝

“আপনি বলে দিন: আমার প্রতিপালক সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক সেজদার সময় স্বীয় লক্ষ্য স্থির রাখো এবং তাঁকে বিশুদ্ধচিত্তে ও একনিষ্ঠভাবে ডাকো। তোমাদেরকে প্রথমে যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি পুনর্বারও সৃজিত হবে।” (৭:২৯)

وَنَضَعُ الْمَوَازِيْنَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْـًٔا وَّاِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَيْنَا بِهَا ط وَكَفٰى بِنَا حٰسِبِيْنَ۝

“আমি ক্বিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি যুলুম করা হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।” (২১:৪৭)

قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِيْمُ۝

“বলুন, আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে সমবেত করবেন, অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে সঠিকভাবে ফয়সালা করবেন। তিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক, সর্বজ্ঞ।” (৩৪:২৬)

اِنَّ اللهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَّاِنْ تَكُ حَسَنَةً يُّضٰعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ اَجْرًا عَظِيْمًا۝

“নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায়-অবিচার করেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।” (৪:৪০)

اِنَّ لِلْمُتَّقِيْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتِ النَّعِيْمِ۝ اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِيْنَ كَالْمُجْرِمِيْنَ۝ مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُوْنَ۝

“মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত। আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব? তোমাদের কি হল? এটা তোমাদের কেমন ফয়সালা?” (৬৮:৩৪ – ৩৬)

فَلِذٰلِكَ فَادْعُ ج وَاسْتَقِمْ كَمَاۤ اُمِرْتَ ج وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ ج وَقُلْ اٰمَنْتُ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ مِنْ كِتٰبٍ ج وَّاُمِرْتُ لِاَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ط اللهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ط لَنَاۤ اَعْمَالُنَا وَلَكُمْ اَعْمَالُكُمْ ط لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ط اللهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ج وَاِلَيْهِ الْمَصِيْرُ۝

“সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন হবে।” (৪২:১৫)

وَاَقِيْمُوْا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوْا الْمِيْزَانَ۝

“তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।” (৫৫:৯)

وَاللهُ يَقْضِىْ بِالْحَقِّ ط وَالَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه لَا يَقْضُوْنَ بِشَىْءٍ ط اِنَّ اللهَ هُوَ السَّمِيْعُ الْبَصِيْرُ۝

“আল্লাহ ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।” (৪০:২০)

لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ۝

“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে …. ।” (২:২৮৬)

اِنَّ اللهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْـًٔا وَّلٰكِنَّ النَّاسَ اَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُوْنَ۝

“আল্লাহ যুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর যুলুম করে।” (১০:৪৪)

وَاِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ ط اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ۝

“যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” (৫:৪২)

اِنَّ اللهَ يَاْمُرُكُمْ اَنْ تُؤَدُّوْا الْاَمٰنٰتِ اِلٰىۤ اَهْلِهَا وَاِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ اَنْ تَحْكُمُوْا بِالْعَدْلِ اِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِه ط اِنَّ اللهَ كَانَ سَمِيْعًۢا بَصِيْرًا۝

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।” (৪:৫৮)

اَفِىْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ اَمِ ارْتَابُوْۤا اَمْ يَخَافُوْنَ اَنْ َ-يَّحِيْفَ اللهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُوْلُه ط بَلْ اُوْلٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ۝ اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْۤا اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِه لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا وَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ۝

“তাদের অন্তরে কি রোগ আছে, না তারা ধোঁকায় পড়ে আছে; না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো অবিচারকারী? মু’মিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে তাদেরকে আহ্বান করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম।” (২৪:৫০ – ৫১)

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوْا بِـاٰيٰتِى ثَمَنًا قَلِيْلًاط وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ۝

“…….অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।” (৫:৪৪)

وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ۝

“…….যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই যালেম।” (৫:৪৫)

وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ۝

“…… আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী যারা ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।” (৫:৪৭)

وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيْهِ مِنْ شَىْءٍ فَحُكْمُه اِلَى اللهِ ط ذٰلِكُمُ اللهُ رَبِّىْ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ق وَاِلَيْهِ اُنِيْبُ۝

“তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।” (৪২:১০)

اَفَغَيْرَ اللهِ اَبْتَغِىْ حَكَمًا وَّهُوَ الَّذِىۤ اَنْزَلَ اِلَيْكُمُ الْكِتٰبَ مُفَصَّلًا۝

“তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন?……. ।” (৬:১১৪)

قُلِ اللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ عٰلِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهٰدَةِ اَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِىْ مَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ۝

“বলুন, হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত।” (৩৯:৪৬)

يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ ط وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ۝

“…….. তিনি তোমাদের মধ্যে (ন্যায়সঙ্গত) ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।” (৬০:১০)

وَاِنْ كَانَ طَآئِفَةٌ مِّنْكُمْ اٰمَنُوْا بِالَّذِىْۤ اُرْسِلْتُ بِه وَطَآئِفَةٌ لَّمْ يُؤْمِنُوْا فَاصْبِرُوْا حَتّٰى يَحْكُمَ اللهُ بَيْنَنَا ط وَهُوَ خَيْرُ الْحٰكِمِيْنَ۝

“আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি আর একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে সবর কর যে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।” (৭:৮৭)

وَاَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ اَنْ يَّفْتِنُوْكَ عَنْۢ بَعْضِ مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ الَيْكَ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ اَنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ انْ يُّصِيْبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوْبِهِمْ ط وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ النَّاسِ لَفٰسِقُوْنَ۝

“আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন – যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গুনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।” (৫:৪৯)

قُلْ إِنِّى عَلَى بَيِّنَةٍ مِّنْ رَّبّىْ وَكَذَّبْتُمْ بِهِ مَا عِنْدِىْ مَا تَسْتَعْجِلُوْنَ بِه اِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِيْنَ۝

“আপনি বলে দিন: আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। আল্লাহ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।” (৬:৫৭)

اِنَّ رَبَّكَ يَقْضِىْ بَيْنَهُمْ بِحُكْمِه وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْعَلِيْمُ۝ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ اِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِيْنِ۝

“আপনার পালনকর্তা নিজ কর্তৃত্ব অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ। অতএব, আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আপনি সত্য ও স্পষ্ট পথে আছেন।” (২৭:৭৮ – ৭৯)

وَاتَّبِعْ مَا يُوْحٰىۤ اِلَيْكَ وَاصْبِرْ حَتّٰى يَحْكُمَ اللهُ وَهُوَ خَيْرُ الْحٰكِمِيْنَ۝

“আর আপনি চলুন সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে আপনার প্রতি এবং সবর করুন, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুত তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম বিচারক।” (১০:১০৯)

আল্লাহর শাস্তির কঠোরতা

اِنَّ اللهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْـًٔا وَّلٰكِنَّ النَّاسَ اَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُوْنَ۝

“আল্লাহ জুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর জুলুম করে।” (১০:৪৪)

আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের প্রতি যেমন অপরিসীম দয়াশীল ও ক্ষমাশীল, তেমনই তাদের অমার্জনীয় অপরাধের জন্য শাস্তি দানেও কঠোর। আল্লাহ্ বলেন, “…. আর ভয় কর আল্লাহকে, কারণ শাস্তি দানে আল্লাহ্ অতীব কঠোর।” (৫:২), (৫৯:৭)। মানুষ যাতে শয়তানের প্ররোচনায় ও প্রবৃত্তির তাড়নায় অন্যায়–অত্যাচার ও নানবিধ পাপ কর্মের দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি ও ফেতনা–ফেসাদের সৃষ্টি করতে না পারে তাই আল্লাহ্ শাস্তির কঠোরতা আরোপ করেছেন। শাস্তির ভয় মানুষকে এসব পাপ কর্ম থেকে সংযত ও বিরত রাখবে এবং সমাজে শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। সে সাথে মজলুম ও অত্যাচারিতের প্রতি ইনসাফ নিশ্চিত হবে।  শাস্তি প্রদানের পূর্বে আল্লাহ্ মানুষকে সতর্ক করেন এবং সংশোধনের যথেষ্ট অবকাশ দেন। এরপরও যদি মানুষ অসতর্ক থাকে এবং নিবৃত ও সংশোধিত না হয় তখন তাদেরকে  চরম শাস্তির দ্বারা পাকড়াও করার পূর্বে লঘু শাস্তি দিয়ে আবারও সতর্ক করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন, “গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।” (৩২:২১) । আল্লাহ্ দুনিয়ার বুকেই শুধু শাস্তি দেন না, আখিরাতের শাস্তি অবধারিত ও ভয়াবহ। তবে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “তোমাদের আযাব দিয়ে আল্লাহ কি করবেন যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক! আর আল্লাহ হচ্ছেন সমুচিত মূল্যদানকারী সর্বজ্ঞ।” (৪:১৪৭)। এ সম্পর্কিত আয়াতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো:

نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ۝ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ

“আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। এবং ইহাও যে, আমার শাস্তিই যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।” (১৫:৪৯ – ৫০)

اِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَیْرُ مَاْمُوْنٍ ۝

“নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না।” (৭০:২৮)

وَلَنُذِيْقَنَّهُْم مِّنَ الْعَذَابِ الْاَدْنى دُوْنَ الْعَذَابِ الْاَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ۝

“গুরু শাস্তির পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।” (৩২:২১)

وَمَا کُنَّا مُہْلِكِی الْقُرٰۤی اِلَّا وَاَهْلُهَا ظٰلِمُوْنَ ۝…….

“……. এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখন তার বাসিন্দারা জুলুম করে।” (২৮:৫৯)

وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ

“আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।” (১১:১১৭)

فَکُلًّا اَخَذْنَا بِذَنْۢبِہٖ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ اَرْسَلْنَا عَلَیْهِ حَاصِبًا ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ اَخَذَتْهُ الصَّیْحَۃُ ۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الْاَرْضَ ۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ اَغْرَقْنَا ۚ وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۝

“আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করার ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।” (২৯:৪০)

قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰۤی اَنْ یَّبْعَثَ عَلَیْکُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِکُمْ اَوْ مِنْ تَحْتِ اَرْجُلِکُمْ اَوْ یَلْبِسَکُمْ شِیَعًا وَیُذِیْقَ بَعْضَکُمْ بَاْسَ بَعْضٍ ؕ اُنْظُرْ كَیْفَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّهُمْ یَفْقَهُوْنَ ۝

“আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়।” (৬:৬৫)

لِّيْعَذِّبَ اللهُ الْمُنٰفِقِيْنَ وَالْمُنٰفِقٰتِ وَالْمُشْرِكِيْنَ وَالْمُشْرِكٰتِ

“……. আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (৩৩:৭৩)

……مَنْ عَمِلَ سَیِّئَۃً فَلَا یُجْزٰۤی اِلَّا مِثْلَهَا ۚ

“যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে….”  (৪০:৪০)

اِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ اَنْ يُّشْرَكَ بِه وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَمَنْ يُّشْرِكْ بِاللهِ فَقَدِ افْتَرٰىۤ اِثْمًا عَظِيْمًا۝

“নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।” (৪:১১৬)

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّـَٔاتِ حَتّٰى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّىْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَلَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ فَاُوْلٰٓئِكَ اعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا۝

“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” (৪:১৮)

…… قَالَ عَذَابِىْ اُصِيْبُ بِه مَنْ اَشَآءُ وَرَحْمَتِى وَسِعَتْ كُلَّ شَىْءٍ

“…… তিনি (আল্লাহ্) বললেন,  – আমার শাস্তি আমি যাকে ইচ্ছা তাকেই দেই, আর অমার দয়াতো সর্বত্র পরিব্যপ্ত……” (৭:১৫৬)

وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَعَذَابٌ اَلِیْمٌۢ بِمَا كَانُوْا یَکْفُرُوْنَ ۝

“আর যারা অবিশ্বাসী কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল।” (১০:৪)

 اِنَّ رَبَّكَ سَرِیْعُ الْعِقَابِ ۫ۖ  وَ اِنَّہٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۝

“…… আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৬:১৬৫)

اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ۬ؕ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ مَّغْفِرَۃٌ  وَ اَجْرٌ كَبِیْرٌ۝

“যারা কুফর করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।” (৩৫:৭)

وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاءُ سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ مَّا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ ۖ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا ۚ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

“আর যারা সঞ্চয় করেছে  মন্দ, তাদের মন্দের প্রতিফল সে পরিমাণ মন্দের মতই হবে,  অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহর হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আধাঁর রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হল দোযখবাসী। এরা এতেই থাকবে অনন্তকাল।” (১০:২৭)

وَمَآ اَصٰبَكُمْ مِّنْ مُّصِيْبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَيْدِيْكُمْ وَيَعْفُوْا عَنْ كَثِيْرٍ۝

“তোমাদের উপর যেসব বিপদ–আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।” (৪২:৩০)

اَمْ حَسِبَ الَّذِیْنَ اجْتَرَحُوا السَّیِّاٰتِ اَنْ نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ سَوَآءً مَّحْیَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ؕ سَآءَ مَا یَحْکُمُوْنَ ۝ وَخَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ وَلِتُجْزٰی کُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۝

“যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মৃত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।” (৪৫:২১ – ২২)

يَسْمَعُ اٰيٰتِ اللهِ تُتْلٰى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَاَن لَّمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ۝ وَاِذَا عَلِمَ مِنْ اٰيٰتِنَا شَيْـًٔا اتَّخَذَهَا هُزُوًا ط اُوْلٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ۝

“সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (৪৫:৮ – ৯)

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ رُسُلًا اِلٰى قَوْمِهِمْ فَجَآءُوْهُم بِالْبَيِّنٰتِ فَانْتَقَمْنَا مِنَ الَّذِيْنَ اَجْرَمُوْا وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِيْنَ۝

“আপনার পূর্বে আমি রসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।” (৩০:৪৭)

وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ۚ لَا یُقْضٰی عَلَیْهِمْ فَیَمُوْتُوْا وَلَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِیْ کُلَّ كَفُوْرٍ ۝

“আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।” (৩৫:৩৬)

অধ্যায়সমূহ