৭ম অধ্যায় : আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্টিবৈচিত্র

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্টির নিদর্শনাবলী

اِنَّ فِىْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالاَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيٰتٍ لِّاُوْلِى الْاَلْبَابِ۝ الَّذِينَ يَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ قِيٰمًا وَّقُعُودًا وَّعَلٰى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُوْنَ فِىْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالاَرْضِ ج رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ج سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ۝

“নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্যে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।” (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৯০–১৯১)

মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল বিন্যাস, নিখুঁত সামঞ্জস্য এবং অপরূপ সৌন্দর্য আল্লাহ্‌র অসীম প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং নিদর্শন। পবিত্র কুরআন মানুষকে শুধু ঈমানের আহ্বানই জানায় না, বরং তাকে চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে সত্য অনুধাবনের দিকেও পরিচালিত করে। মানবজ্ঞান যতই বিস্তৃত হোক না কেন, তা সর্বদা আল্লাহ্‌র অসীম জ্ঞানের তুলনায় সীমাবদ্ধই থেকে যায়। অতএব, কুরআনের আলোকে সৃষ্টিজগতের প্রতি গভীর মনোনিবেশ মানুষের অন্তরে তাওহীদের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে, সন্দেহ দূর করে এবং তাকে তার স্রষ্টার প্রতি বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে।

পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শনাবলী, নৈপুণ্য, উদ্দেশ্য ও শেষ পরিণতির কথা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আয়াতমূহ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো :

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَآءَ وَالْاَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لٰعِبِيْنَ ۝ لَوْ اَرَدْنَآ اَنْ نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّاۤ ق اِنْ كُنَّا فٰعِلِيْنَ۝

“আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি ক্রীড়া উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত।” (সূরাহ আম্বিয়া, ২১:১৬–১৭)

وَمَا خَلَقْنَا السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لٰعِبِيْنَ ۝ مَا خَلَقْنٰهُمَآ اِلَّا بِالْحَقِّ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ ۝

“আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি এগুলো যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না।” (সূরাহ আদ দোখান, ৪৪:৩৮)

اِنَّ اللهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوٰى ط يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِِّ ط ذٰلِكُمُ اللهُ فَاَنَّى تُؤْفَكُوْنَ ۝ فَالِقُ الْاِصْبَاحِ ج وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَّالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ط ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ ۝ وَهُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ النُّجُوْمَ لِتَهْتَدُوْا بِهَا فِىْ ظُلُمٰتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ط قَدْ فَصَّلْنَا الْاٰيٰتِ لِقَوْمٍ يَّعْلَمُوْنَ ۝

“নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ, অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ। তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নিদর্শনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।” (সূরাহ আল আন’আম, ৬:৯৫ – ৯৭)

وَهُوَ الَّذِىَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاءً ج فَاَخْرَجْنَا بِه نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَاَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُّخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا ج وَمِنَ النَّخْلِ مِنَ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ لا وَّجَنَّاتٍ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّالزَّيْتُوْنَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَّغَيْرَ مُتَشَابِهٍ ط اُنْظُرُوْا اِلٰى ثَمَرِه اِذَا اَثْمَرَ وَيَنْعِهط اِنَّ فِىْ ذٰلِكُمْ لَاٰيٰاتٍ لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ۝

“তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।” (সূরাহ আল আন’আম, ৬:৯৯)

وَمِنْ اٰيٰاتِه اَنْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَۤا اَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُوْنَ۝

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ।” (সূরাহ আর–রোম, ৩০:২০)

وَمِنْ اٰيٰاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافُ اَلْسِنَتِكُمْ وَاَلْوَانِكُمْ اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰاتٍ لِّلْعَالِمِيْنَ۝

“তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আর–রোম, ৩০:২২)

وَمِنْ اٰيٰتِه مَنَامُكُمْ بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَآؤُكُمْ مِّنْ فَضْلِه اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّسْمَعُوْنَ۝

“তাঁর আরও নিদর্শন: রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আর–রোম, ৩০:২৩)

وَمِنْ اٰيٰتِه يُرِيْكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَّطَمَعًا وَّيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَيُحْى بِه الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَاۤ اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ۝

“তাঁর আরও নিদর্শন: তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আর–রোম, ৩০:২৪)

وَمِنْ اٰيٰتِه اَنْ تَقُوْمَ السَّمَآءُ وَالْاَرْضُ بِاَمْرِه ثُمَّ اِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِّنَ الْاَرْضِ اِذَۤا اَنْتُمْ تَخْرُجُوْنَ ۝ وَلَه مَنْ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ كُلٌّ لَّه قٰنِتُوْنَ ۝ وَهُوَ الَّذِىْ يَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيْدُه وَهُوَ اَهْوَنُ عَلَيْهِ ط وَلَهُ الْمَثَلُ الْاَعْلٰى فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ ۝

“তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর যখন তিনি মৃত্তিকা থেকে উঠার জন্যে তোমাদের ডাক দেবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্যে সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় ।” (সূরাহ আর–রোম, ৩০:২৫–২৭)

اِنَّ فِىْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلٰفِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِىْ تَجْرِىْ فِى الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ مَّاۤءٍ فَاَحْيَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيْهَا مِنْ كُلِّ دَآبَّةٍ وَّتَصْرِيْفِ الرِّيٰحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُوْنَ ۝

“নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব–জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:১৬৪)

وَاٰيَةٌ لَّهُمُ الْاَرْضُ الْمَيْتَةُ اَحْيَيْنٰهَا وَاَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَاْكُلُوْنَ ۝ وَجَعَلْنَا فِيْهَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِيْلٍ وَاَعْنٰبٍ وَّفَجَّرْنَا فِيْهَا مِنَ الْعُيُوْنِ ۝ لِيْاْكُلُوْا مِنْ ثَمَرِه وَمَا عَمِلَتْهُ اَيْدِيْهِمْ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ ۝ سُبْحٰنَ الَّذِىْ خَلَقَ الْاَزْوٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ الْاَرْضُ وَمِنْ اَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُوْنَ ۝

“তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত ভূমি। আমি একে (বৃষ্টির দ্বারা) সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী। যাতে তারা তার ফলফলাদি খায়। তাদের হাত এসব সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন? পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।” (সূরাহ ইয়াসীন, ৩৬:৩৩–৩৬)

وَاٰيَةٌ لَّهُمُ الَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاِذَا هُمْ مُّظْلِمُوْنَ۝

“তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়।” (সূরাহ ইয়াসীন, ৩৬:৩৭)

اِنَّ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ لَاٰيٰتٍ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ ۝ وَفِىْ خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِنْ دَآبَّةٍ اٰيٰتٌ لِّقَوْمٍ يُّوْقِنُوْنَ ۝ وَاخْتِلٰفِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ رِّزْقٍ فَاَحْيَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَتَصْرِيْفِ الرِّيٰحِ اٰيٰتٌ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُوْنَ ۝

“নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে মু’মিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টির পানি, বায়ু, আলো) বর্ষণ করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আল জাসিয়া, ৪৫:৩–৫)

اَللهُ الَّذِىْ سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِىَ الْفُلْكُ فِيْهِ بِاَمْرِه وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ۝ وَسَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا مِّنْهُ اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُوْنَ۝

“তিনি আল্লাহ যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আল জাসিয়া, ৪৫:১২–১৩)

اَللهُ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَنْعٰمَ لِتَرْكَبُوْا مِنْهَا وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ۝ وَلَكُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَلِتَبْلُغُوْا عَلَيْهَا حَاجَةً فِىْ صُدُوْرِكُمْ وَعَلَيْهَا وَعَلَى الْفُلْكِ تُحْمَلُوْنَ۝ وَيُرِيْكُمْ اٰيٰتِه فَاَىَّ اٰيٰتِ اللهِ تُنْكِرُوْنَ۝

“আল্লাহ তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর। তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও। তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে।” (সূরাহ আল সূরা আল–মু’মিন, ৪০:৭৯–৮১)

وَكَاَيِّنْ مِّنْ اٰيَةٍ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ يَمُرُّوْنَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُوْنَ۝

“অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না।” (সূরাহ ইউনূস, ১২:১০৫)

وَمِنْ اٰيٰتِه اَنْ يُّرْسِلَ الرِّيْاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَلِيُذِيْقَكُمْ مِّنْ رَّحْمَتِه وَلِتَجْرِىَ الْفُلْكُ بِاَمْرِه وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِه وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ۝

“তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের আস্বাদন করান এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জাহাজসমূহ বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:৪৬)

اَللهُ الَّذِىْ يُرْسِلُ الرِّيٰحَ فَتُثِيْرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُه فِى السَّمَآءِ كَيْفَ يَشَآءُ وَيَجْعَلُه كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِه فَاِذَۤا اَصَابَ بِه مَنْ يَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه اِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ ۝ وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلِ اَنْ يُّنَزَّلَ عَلَيْهِمْ مِّنْ قَبْلِه لَمُبْلِسِيْنَ ۝ فَانْظُرْ اِلٰىۤ اٰثٰرِ رَحْمَتِ اللهِ كَيْفَ يُحْىِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَاۤ اِنَّ ذٰلِكَ لَمُحْىِ الْمَوْتٰى وَهُوْ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ ۝

“তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়। তারা প্রথম থেকেই তাদের প্রতি এই বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার পূর্বে নিরাশ ছিল। অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:৪৮–৫০)

وَجَعَلْنَا الَّيْلَ وَالنَّهَارَ اٰيَتَيْنِ فَمَحَوْنَاۤ اٰيَةَ الَّيْلِ وَجَعَلْنَاۤ اٰيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِّتَبْتَغُوْا فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِيْنَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَىْءٍ فَصَّلْنٰهُ تَفْصِيْلًا۝

“আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতঃপর নিষ্প্রভ করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা স্থির করতে পার বছরসমূহের গণনা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।” (সূরাহ বনি ইসরাঈল, ১৭:১২)

سَاَصْرِفُ عَنْ اٰيٰتِىَ الَّذِيْنَ يَتَكَبَّرُوْنَ فِى الْاَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَاِنْ يَّرَوْا كُلَّ اٰيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوْا بِهَا وَاِنْ يَّرَوْا سَبِيْلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوْهُ سَبِيْلًا وَاِنْ يَّرَوْا سَبِيْلَ الْغَىِّ يَتَّخِذُوْهُ سَبِيْلًا ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَا وَكَانُوْا عَنْهَا غٰفِلِيْنَ ۝ وَالَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَا وَلِقَآءِ الْاٰخِرَةِ حَبِطَتْ اَعْمٰلُهُمْ هَلْ يُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ۝

“আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে। বস্তুত যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত।” (সূরাহ আল আরাফ, ৭:১৪৬–১৪৭)

وَمِنْ اٰيٰتِه اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوٰجًا لِّتَسْكُنُوْۤا اِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّرَحْمَةً ط اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ۝

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ। আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:২০–২১)

 

সৃষ্টি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ ও বৈজ্ঞানিক মতবাদ

মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল বিন্যাস, নিখুঁত সামঞ্জস্য এবং অপরূপ সৌন্দর্য আল্লাহ্‌র অসীম প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তি। পবিত্র কুরআন মানুষকে শুধু ঈমান ও দ্বীনের আহ্বানই জানায় না, বরং তাকে চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে পরম সত্য অনুধাবনের দিকেও পরিচালিত করে। মানবজ্ঞান যতই বিস্তৃত হোক না কেন, তা সর্বদা আল্লাহ্‌র অসীম জ্ঞানের তুলনায় সীমাবদ্ধই থেকে যায়। অতএব, কুরআনের আলোকে সৃষ্টিজগতের প্রতি গভীর মনোনিবেশ এ মহবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি সম্প্রসারিত করে এবং তার অন্তরে তাওহীদের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে, সন্দেহ দূর করে এবং তাকে তার স্রষ্টার প্রতি বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে তোলে।

আল্লাহ্‌ তাআ‘লা নিজেই ঘোষণা করেন:

اَلَّذِىْ خَلَقَ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا مَّا تَرٰى فِىْ خَلْقِ الرَّحْمٰنِ مِنْ تَفٰوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرٰى مِنْ فُطُوْرٍ۝ ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ اِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَّهُوْ حَسِيْرٌ۝

“তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টি ফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ – তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।” (সূরাহ আল মুলক, ৬৭:৩–৪)

পবিত্র কুরআন কোনো কল্পকাহিনী নয়, আবার এটি কেবলমাত্র একটি বিজ্ঞানগ্রন্থও নয়; বরং এটি আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআ‘লার নাযিলকৃত পরিপূর্ণ হিদায়াতের গ্রন্থ। এর প্রতিটি বাণী চিরন্তন সত্যে পরিপূর্ণ—এতে নেই কোনো অসঙ্গতি, বিভ্রান্তি বা অন্তর্দ্বন্দ্ব। আল্লাহ্‌ তাআ‘লা বলেন:

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا۝

“তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা করে না? যদি এটি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে অনেক অসামঞ্জস্য পেত।” (সূরাহ আন-নিসা , ৪:৮২)

মহাজ্ঞানী আল্লাহ্‌ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও পরম নিপুণ পরিকল্পনাকারী। সৃষ্টির প্রতিটি উপাদান তাঁর সর্বজ্ঞ জ্ঞানের অধীন। তিনি যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, আর তা তৎক্ষণাৎ তাঁর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়ে যায়,

إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ۝
“তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়।” ( সূরা ইয়াসীন, ৩৬:৮২)

মহান আল্লাহ্‌ মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে বলেন:

قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَندَادًا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ۝وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِّلسَّائِلِينَ۝ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ۝فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ۝

“বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।” (সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১:৯–১২)

জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে তাঁর সৃষ্টিশৈলীর অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। কুরআনের বহু আয়াতে এই সৃষ্টিনৈপুণ্যের অনুপম বর্ণনা পাওয়া যায় এবং মানুষকে এসব নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আল্লাহ্‌ বলেন:

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ۝الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا   ۝

নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে—যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং চিন্তা করে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি সম্পর্কে (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি……।” (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৯০–১৯১)

ইতিহাস জুড়ে মানুষ স্রষ্টা ও সৃষ্টির রহস্য অনুধাবনের চেষ্টা করে এসেছে। ধীরে ধীরে বহু ভ্রান্ত ধারণা দূর করে আধুনিক বিজ্ঞান আজ এমন অনেক সত্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা কুরআনের বর্ণনার সাথে বিস্ময়কর সামঞ্জস্য প্রদর্শন করে। যেমন—মহাবিশ্বের সূচনা, জীবনের উৎপত্তি, দিন-রাত্রির আবর্তন, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি বিষয়ে কুরআনের ইঙ্গিতসমূহ আধুনিক গবেষণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ্‌ তাআ‘লা বলেন:

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ۝
“কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?” (সূরাহ আল-আম্বিয়া, ২১:৩০)

তবে মানবজ্ঞান স্বভাবতই সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। কুরআন এ বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে:

……وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ…… 

“….তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন।……” সূরা আল-বাক্বারা, ২:২৫৫)

এবং আরও বলেন:

بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ 

“তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, যা তারা জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারেনি…” (সূরাহ ইউনুস, ১০:৩৯)

অতএব, পবিত্র কুরআন এমন এক প্রজ্ঞাময় গ্রন্থ, যা যত গভীরভাবে অধ্যয়ন করা হয়, ততই এর অন্তর্নিহিত সত্য ও মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচিত হতে থাকে। এটি কেবল আধ্যাত্মিক পথনির্দেশ নয়, বরং মানুষকে চিন্তা, গবেষণা ও সত্য অনুসন্ধানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে—যা শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার স্রষ্টার পরিচয় ও মহিমার উপলব্ধির দিকে পরিচালিত করে।

এ সম্পর্কিত বহু আয়াত সমগ্র কুরআন জুড়ে বর্ণিত হয়েছে:

بَدَاَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللهُ يُنْشِئُ النَّشْاَةَ الْاٰخِرَةَ اِنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ۝ يُعَذِّبُ مَنْ يَّشَآءُ وَيَرْحَمُ مَنْ يَّشَآءُ وَاِلَيْهِ تُقْلَبُوْنَ۝ وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِيْنَ فِى الْاَرْضِ وَلَا فِى السَّمَآءِ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ وَّلِىٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ۝

“তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টিকর্ম শুরু করেন অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন? এটা আল্লাহর জন্যে সহজ। বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা স্থলে ও অন্তরীক্ষে আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন হিতাকাঙ্খী নেই, সাহায্যকারীও নেই।” (সূরাহ আল আনকাবুত, ২৯:১৯–২২)

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ تَعٰلٰى عَمَّا يُشْرِكُوْنَ

“যিনি যথাযথভাবে আকাশরাজি ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। তারা যাকে শরীক করে তিনি তার বহু উর্ধ্বে।” (সূরাহ নাহল, ১৬:৩)

هُوَ الَّذِىْ خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِى الْاَرْضِ جَمِيْعًا ثُمَّ اسْتَوٰۤى اِلَى السَّمَآءِ فَسَوّٰىهُنَّ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ وَهُوْ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“তিনিই সে সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুত তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।” (সূরাহ বাক্বারাহ, ২:২৯)

اِنَّا كُلَّ شَىْءٍ خَلَقْنٰهُ بِقَدَرٍ۝ وَمَاۤ اَمْرُنَاۤ اِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍۭ بِالْبَصَرِ۝

“আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত।” (সূরাহ আল ক্বামার, ৫৪:৪৯–৫০)

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَاَلْقٰى فِى الْاَرْضِ رَوٰسِىَ اَنْ تَمِيْدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيْهَا مِنْ كُلِّ دَآبَّةٍ وَاَنْزَلْنَا مِنْ السَّمَآءِ مَاۤءً فَاَنْۢبَتْنَا فِيْهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيْمٍ۝

“তিনি স্তম্ভ ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদ্গত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।” (সূরাহ লোকমান, ৩১:১০) ।”

اَللهُ يَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيْدُه ثُمَّ اِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ۝

“আদিতে আল্লাহই তাঁর সৃষ্টি প্রক্রিয়ার সূচনা করেন, আবার তিনিই তাকে (সৃষ্টিকে) তার মূলের দিকে ফিরিয়ে নেন, এরপর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:১১)

اَنَّ اللهَ يُوْلِجُ الَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى الَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَّجْرِىۤ اِلٰىۤ اَجَلٍ مُّسَمًّى وَاَنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ۝

“(হে নবী) আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?।” (সূরাহ লোকমান, ৩১:২৯)”

وَهُوَ الَّذِىْ مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَّهٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ وَّجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَّحِجْرًا مَّحْجُوْرًا۝

“তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, এটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও এটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৫৩)

وَهُوَ الَّذِىْ خَلَقَ مِنْ الْمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَه نَسَبًا وَّصِهْرًا ط وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيْرًا۝

“তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে, অতঃপর তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার পালনকর্তা সবকিছু করতে সক্ষম।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৫৪)

تَبَارَكَ الَّذِىْ جَعَلَ فِى السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّجَعَلَ فِيْهَا سِرٰجًا وَّقَمَرًا مُّنِيْرًا ۝ وَهُوَ الَّذِىْ جَعَلَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ يَّذَّكَّرَ اَوْ اَرَادَ شُكُوْرًا۝

“কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র। যারা অনুসন্ধানপ্রিয় অথবা যারা কৃতজ্ঞতাপ্রিয় তাদের জন্যে তিনি রাত্রি ও দিবস সৃষ্টি করেছেন পরিবর্তনশীলরূপে।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৬১–৬২)

يُقَلِّبُ اللهُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ اِنَّ فِىْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّاُوْلِى الْاَبْصٰرِ۝ وَاللهُ خَلَقَ كُلَّ دَآبَّةٍ مِّنْ مَّآءٍ فَمِنْهُمْ مَّنْ يَّمْشِىْ عَلٰى بَطْنِه وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّمْشِىْ عَلٰى رِجْلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّمْشِى عَلٰۤى اَرْبَعٍ يَّخْلُقُ اللهُ مَا يَشَآءُ ط اِنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ۝

“আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অন্তর্দৃষ্টি–সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে। আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।” (সূরাহ আন নূর, ২৪:৪৪–৪৫)

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ انْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجْنَا بِه ثَمَرٰتٍ مُّخْتَلِفًا اَلْوٰنُهَا وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌۢ بِيْضٌ وَحُمْرٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوٰنُهَا وَغَرَابِيْبُ سُوْدٌ۝ وَّمِنْ النَّاسِ وَالدَّوَآبِّ وَالْاَنْعٰمِ مُخْتَلِفٌ اَلْوٰنُه كَذٰلِكَ ط اِنَّمَا يَخْشَى اللهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمٰٓؤُا ط اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ غَفُوْرٌ۝

“(হে নবী) আপনি কি দেখেননি আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা আমি বিভিন্ন বর্ণের ফল–মূল উদ্গত করি। পর্বতসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ–সাদা, লাল ও নিকষ কালো কৃষ্ণ। অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুষ্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।” (সূরাহ ফাতির, ৩৫:২৭–২৮)

اَلَمْ تَرَ اِلٰى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَآءَ لَجَعَلَه سَاكِنًا ج ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيْلًا۝ ثُمَّ قَبَضْنٰهُ اِلَيْنَا قَبْضًا يَّسِيْرًا۝ وَهُوَ الَّذِىْ جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ لِبَاسًا وَّالنَّوْمَ سُبَاتًا وَّجَعَلَ النَّهَارَ نُشُوْرًا۝ وَهُوَ الَّذِىۤ اَرْسَلَ الرِّيٰحَ بُشْرًۢا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِه وَاَنْزَلْنَا مِنْ السَّمَآءِ مَآءً طَهُوْرًا۝ لِّنُحْىَ بِه بَلْدَةً مَّيْتًا وَّنُسْقِيْه مِمَّا خَلَقْنَاۤ اَنْعٰمًا وَاَنَاسِىَّ كَثِيْرًا۝ وَلَقَدْ صَرَّفْنٰهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوْا فَاَبٰۤى اَكْثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوْرًا۝

“(হে নবী) আপনি কি দেখেন না আপনার পালনকর্তাকে, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন। এরপর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক। অতঃপর আমি একে নিজের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি। তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে। তিনিই স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি। তদ্দ্বারা মৃত ভূভাগকে সঞ্জীবিত করার জন্যে এবং আমার সৃষ্ট জীবজন্তু ও অনেক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে। এবং আমি তা তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিতরণ করি, যাতে তারা স্মরণ করে। কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:৪৫–৫০)

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ طِيْنٍ۝ ثُمَّ جَعَلْنٰهُ نُطْفَةً فِىْ قَرَارٍ مَّكِيْنٍ۝ ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظٰمًا فَكَسَوْنَا الْعِظٰمَ لَحْمًا ق ثُمَّ اَنشَاْنٰهُ خَلْقًا اٰخَرَ ط فَتَبَارَكَ اللهُ احْسَنُ الْخٰلِقِيْنَ۝ ثُمَّ اِنَّكُم بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوْنَ۝ ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيْٰمَةِ تُبْعَثُوْنَ۝

“আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে।” (সূরাহ আল মু’মিনূন, ২৩:১২–১৬)

اَلَّذِىْ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْاَخْضَرِ نَارًا فَاِذَۤا اَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُوْنَ۝ اَوَلَيْسَ الَّذِىْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤى اَنْ يَّخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلٰى ق وَهُوَ الْخَلّٰقُ الْعَلِيْمُ۝ اِنَّمَاۤ اَمْرُه اِذَاۤ اَرَادَ شَيْـًٔا اَنْ يَّقُوْلَ لَه كُنْ فَيَكُوْنُ۝ فَسُبْحٰنَ الَّذِىْ بِيْدِه مَلَكُوْتُ كُلِّ شَىْءٍ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ۝

“যিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও। যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়। অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরাহ ইয়াসীন, ৩৬:৮০–৮৩)

أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ۝

“তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি? রহমান আল্লাহ–ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব বিষয় দেখেন।” (সূরাহ আল মুলক, ৬৭:১৯)

اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَيْدِيْنَاۤ اَنْعٰمًا فَهُمْ لَهَا مٰلِكُوْنَ۝ وَذَلَّلْنٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا يَاْكُلُوْنَ۝ وَلَهُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ۝

“তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক। আমি এগুলোকে তাদের হাতে অসহায় করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে। তাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না?” (সূরাহ ইয়াসীন, ৩৬:৭১–৭৩)

قُلْ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَکُمْ وَ جَعَلَ لَکُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَۃَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْکُرُوْنَ۝

“বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরাহ আল মুলক, ৬৭:২৩)

وَّخَلَقْنٰكُمْ اَزْوَاجًا۝ وَّجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا۝ وَّجَعَلْنَا الَّيْلَ لِبَاسًا۝ وَّجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا۝ وَّبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا۝ وَّجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا۝ وَّاَنْزَلْنَا مِنْ الْمُعْصِرٰتِ مَآءً ثَجَّاجًا۝ لِّنُخْرِجَ بِه حَبًّا وَنَبَاتًا۝ وَّجَنّٰتٍ اَلْفَافًا۝

“আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি নিবারণকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়, নির্মাণ করেছি তোমাদের মাথার উপর মজবুত সপ্ত-আকাশ। এবং একটি উজ্জ্বল প্রদীপ সৃষ্টি করেছি। আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি, যাতে তদ্দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ। এবং পল্লবঘন উদ্যান।” (সূরাহ আন–নাবা, ৭৮:৮–১৬)

فَلْيَنْظُرِ الْاِنْسَانُ اِلَى طَعَامِهِ ۝ اَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا ۝ ثُمَّ شَقَقْنَا الْاَرْضَ شَقًّا ۝ فَاَنْۢبَتْنَا فِيْهَا حَبًّا ۝ وَعِنَبًا وَّقَضْبًا ۝ وَزَيْتُونًا وَّنَخْلًا ۝ وَحَدَائِقَ غُلْبًا۝ وَفَاكِهَةً وَّاَبًّا۝ مَّتَاعًا لَّكُمْ وَلِاَنْعَامِكُمْ۝

“মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক (কিভাবে তা ভ‚মি থেকে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে আহার্য হিসেবে তাদের সামনে হাজির হয়), আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি, এরপর আমি ভ‚মিকে বিদীর্ণ করেছি, অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক–সব্জি, যয়তুন, খর্জূর, ঘন উদ্যান, ফল এবং ঘাস তোমাদেরও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপাকারার্থে।” (সূরাহ আবাসা, ৮০:২৪–৩২)

وَ فِی الْاَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّ جَنّٰتٌ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّ زَرْعٌ وَّ نَخِیْلٌ صِنْوَانٌ وَّغَیْرُ صِنْوَانٍ یُّسْقٰی بِمَآءٍ وَّاحِدٍ وَّ نُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلٰی بَعْضٍ فِی الْاُکُلِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۝

“এবং যমিনে বিভিন্ন শস্য ক্ষেত্র রয়েছে – একটি অপরটির সাথে সংলগ্ন এবং আঙুরের বাগান আছে আর শস্য ও খর্জুর রয়েছে – একটির মূল অপরটির সাথে মিলিত এবং কতক মিলিত নয়। এগুলোকে একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়। আর আমি স্বাদে একটিকে অপরটির চাইতে উৎকৃষ্টতর করে দেই। এগুলোর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা করে।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:৪)

فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوٰجًا وَّمِنْ الْاَنْعٰمِ اَزْوٰجًا يَّذْرَؤُكُمْ فِيْهِ لَيْسَ كَمِثْلِه شَىْءٌ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْبَصِيْرُ ۝ لَه مَقَالِيْدُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ اِنَّه بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ۝

“তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।” (সূরাহ আশ–শুরা, ৪২:১১–১২)

ءَاَنْتُمْ اَشَدُّ خَلْقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ بَنٰهَا ۝ رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوّٰىهَا ۝ وَ اَغْطَشَ لَیْلَهَا وَ اَخْرَجَ ضُحٰهَا ۝ وَ الْاَرْضَ بَعْدَ ذٰلِكَ دَحٰىهَا ۝ اَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَ مَرْعٰهَا ۝ وَ الْجِبَالَ اَرْسٰهَا ۝ مَتَاعًا لَّکُمْ وَ لِاَنْعَامِکُمْ ۝

“তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন। তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন, পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন – তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।” (সূরাহ আন–নযিআ’ত, ৭৯:২৭–৩৩)

وَتَرَی الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَۃً وَّهِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ صُنْعَ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اَتْقَنَ کُلَّ شَیْءٍ ؕ اِنَّہٗ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَفْعَلُوْنَ۝

“তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন।” (সূরাহ নমল, ২৭:৮৮)

اَوَلَمْ يَرَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا وَجَعَلْنَا مِنْ الْمَاۤءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّ اَفَلَا يُؤْمِنُوْنَ۝ وَجَعَلْنَا فِى الْاَرْضِ رَوٰسِىَ اَنْ تَمِيْدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيْهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمْ يَهْتَدُوْنَ۝ وَجَعَلْنَا السَّمَآءَ سَقْفًا مَّحْفُوْظًا وَهُمْ عَنْ اٰيٰتِهَا مُعْرِضُوْنَ۝ وَهُوَ الَّذِىْ خَلَقَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِىْ فَلَكٍ يَّسْبَحُوْنَ۝

“কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।” (সূরাহ আম্বিয়া, ২১:৩০–৩৩)

اَفَلَمْ یَنْظُرُوْۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوْقَهُمْ كَیْفَ بَنَیْنٰهَا وَزَیَّنّٰهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوْجٍ ۝

“তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও নেই।” (সূরাহ ক্বাফ, ৫০:৬)

وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِن لُّغُوبٍ۝

“আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।” (সূরাহ ক্বাফ, ৫০:৩৮)

اَوَ لَمْ یَتَفَكَرُوْا فِیْۤ  اَنْفُسِهِمْ مَا خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَاِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَآیِٔ رَبِّهِمْ لَکٰفِرُوْنَ۝

“তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথরূপে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:৮)

اِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِىْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ فِىْ سِتَّةِ اَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْاَمْرَ مَا مِنْ شَفِيْعٍ اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ اِذْنِه ذٰلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ۝

“নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না?” (সূরাহ ইউনূস, ১০:৩)

اِنَّ اللهَ يُمْسِكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ اَنْ تَزُوْلَا ج وَلَئِنْ زَالَتَاۤ اِنْ اَمْسَكَهُمَا مِنْ اَحَدٍ مِّنْۢ بَعْدِه ط اِنَّه كَانَ حَلِيْمًا غَفُوْرا۝

“নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।” (সূরাহ ফাতির,৩৫:৪১)

اللّٰهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى يُدَبِّرُ الأَمْرَ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاء رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ۝

“আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:২)

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ سَخَّرَ لَکُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِاَمْرِہٖ ؕ وَ یُمْسِکُ السَّمَآءَ  اَنْ تَقَعَ عَلَی الْاَرْضِ اِلَّا بِاِذْنِہٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۝

“তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।” (সূরাহ হাজ্জ্ব, ২২:৬৫)

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ ۚ یُكَوِّرُ الَّیْلَ عَلَی النَّهَارِ وَیُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَی الَّیْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجْرِیْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا هُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفَّارُ۝

“তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথ ও পরিমিতভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।……” (সূরাহ আল–যুমার, ৩৯:৫)

وَاٰيَةٌ لَّهُمُ الَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاِذَا هُمْ مُّظْلِمُوْنَ۝ وَالشَّمْسُ تَجْرِى لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ۝ وَالْقَمَرَ قَدَّرْنٰهُ مَنَازِلَ حَتّٰى عَادَ كَالْعُرْجُوْنِ الْقَدِيْمِ۝ لَا الشَّمْسُ يَنْۢبَغِىْ لَهَاۤ اَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا الَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِىْ فَلَكٍ يَّسْبَحُوْنَ۝ وَاٰيَةٌ لَّهُمْ اَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِى الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ۝ وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِّنْ مِّثْلِه مَا يَرْكَبُوْنَ۝

“তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের, প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। তাদের জন্যে একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান–সন্ততিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। এবং তাদের জন্যে নৌকার অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।” (সূরহ ইয়াসীন, ৩৬:৩৭–৪২)

اَلَمْ تَرَوْا كَیْفَ خَلَقَ اللّٰهُ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا۝ وَّجَعَلَ الْقَمَرَ فِیْهِنَّ نُوْرًا وَّجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا۝

“তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।” (সূরাহ নূহ, ৭১:১৫–৬)

هُوَ الَّذِىْ جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيْاۤءً وَّالْقَمَرَ نُوْرًا وَّقَدَّرَه مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِيْنَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللهُ ذٰلِكَ اِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْاٰيٰتِ لِقَوْمٍ يَّعْلَمُوْنَ ۝ اِنَّ فِى اخْتِلٰفِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللهُ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ لَاٰيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَّقُوْنَ۝

“তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিলসমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে। নিশ্চয়ই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সেসব লোকের জন্য যারা ভয় করে।” (সূরাহ ইউনূস, ১০:৫–৬)

وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَّحْفُوظًا ۖ وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُو۝ نَوَهُوَ الَّذِىْ خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِىْ فَلَكٍ يَسْبَحُوْنَ۝

“আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে “(সূরাহ আম্বিয়া, ২১:৩২–৩৩)

وَ السَّمَآءَ بَنَیْنٰهَا بِاَیْىدٍ وَّ اِنَّا لَمُوْسِعُوْنَ ۝

“আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে ও নৈপুণ্যে নভোমন্ডল নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই একে সম্প্রসারণশীল করেছি।” (সূরাহ আয-যারিয়াত, ৫১:৪৭)

الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ

“সূর্য ও চন্দ্র সঠিক হিসাবমত (কক্ষপথে) সন্তরনশীল।” (সূরাহ আর রহমান, ৫৫:৫).

یٰمَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ اِنِ اسْتَطَعْتُمْ اَنْ تَنْفُذُوْا مِنْ اَقْطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ فَانْفُذُوْا ؕ لَا تَنْفُذُوْنَ اِلَّا بِسُلْطٰنٍ۝

“হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু (আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ) ক্ষমতা ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।” (সূরাহ আর রহমান, ৫৫:৩৩)

اَنَّ اللهَ يُوْلِجُ الَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَيُوْلِجُ النَّهَارَ فِى الَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَّجْرِى اِلٰى اَجَلٍ مُّسَمًّى وَاَنَّ اللهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ۝

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?” (সূরাহ লোকমান, ৩১:২৯)

وَسَخَّرَ لَکُمُ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ ۙ وَالشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ ؕ وَالنُّجُوْمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمْرِہٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۝

“তিনিই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকাসমূহ তাঁরই বিধানের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (সূরাহ নহল,১৬:১২)

وَهُوَ الَّذِیْ مَدَّ الْاَرْضَ وَ جَعَلَ فِیْهَا رَوَاسِیَ وَ اَنْهٰرًا ؕ وَ مِنْ کُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِیْهَا زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَرُوْنَ۝

“তিনিই ভুমন্ডলকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পাহাড় পর্বত ও নদ–নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক ফলের মধ্যে দু’দু প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্যে নিদর্শণ রয়েছে, যারা চিন্তা করে।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:৩)

وَالْاَرْضَ مَدَدْنٰهَا وَاَلْقَیْنَا فِیْهَا رَوَاسِیَ وَاَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ کُلِّ شَیْءٍ مَّوْزُوْنٍ ۝ وَجَعَلْنَا لَکُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ وَمَنْ لَّسْتُمْ لَہٗ بِرٰزِقِیْنَ ۝ وَ اِنْ مِّنْ شَیْءٍ  اِلَّا عِنْدَنَا خَزَآئِنُہٗ ۫ وَ مَا نُنَزِّلُہٗۤ اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ۝وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ فَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَاكُمُوهُ وَمَا أَنتُمْ لَهُ بِخَازِنِينَ ۝ وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ ۝

“আমি ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি। আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও। আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমানেই তা অবতরণ করি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই। আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। (সূরাহ বনি ইসরাঈল, ১৫:১৯–৩১)

اَمَّنْ جَعَلَ الْاَرْضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَهَاۤ اَنْهٰرًا وَّجَعَلَ لَهَا رَوٰسِىَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًاط ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللهِ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ۝

“বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ–নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।” (সূরাহ নমল, ২৭:৬১)

اللهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاء كَيْفَ يَشَاء وَيَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ فَإِذَا أَصَابَ بِهِ مَن يَشَاء مِنْ عِبَادِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ۝

“তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।” (সূরাহ আর রোম, ৩০:৪৮)

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَكَہٗ یَنَابِیْعَ فِی الْاَرْضِ ثُمَّ یُخْرِجُ بِہٖ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا اَلْوَانُہٗ ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَجْعَلُہٗ حُطَامًا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَذِکْرٰی لِاُولِی الْاَلْبَابِ۝

“তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্দ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর আল্লাহ তাকে খড়–কুটায় পরিণত করে দেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।” (সূরাহ আল যুমার, ৩৯:২১))

اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ يُزْجِىْ سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَه ثُمَّ يَجْعَلُه رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِه ج وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ جِبَالٍ فِيْهَا مِنْۢ بَرَدٍ فَيُصِيْبُ بِه مَنْ يَّشَآءُ وَيَصْرِفُه عَنْ مَّنْ يَّشَآءُ يَكَادُ سَنَا بَرْقِه يَذْهَبُ بِالْاَبْصَارِ۝

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।” (সূরাহ আন নূর, ২৪:৪৩)

وَ اَرْسَلْنَا الرِّیٰحَ لَوَاقِحَ فَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَسْقَیْنٰکُمُوْهُ ۚ وَمَاۤ اَنْتُمْ لَہٗ بِخٰزِنِیْنَ۝

“আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই।” (সূরাহ বনি ইসরাঈল, ১৫:২২)

اَوْ كَظُلُمٰتٍ فِیْ بَحْرٍ لُّجِّیٍّ یَّغْشٰهُ مَوْجٌ مِّنْ فَوْقِہٖ مَوْجٌ مِّنْ فَوْقِہٖ سَحَابٌ ؕ ظُلُمٰتٌۢ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ ؕ اِذَاۤ اَخْرَجَ یَدَہٗ لَمْ یَكَدْ یَرٰىهَا ؕ وَمَنْ لَّمْ یَجْعَلِ اللّٰهُ  لَہٗ  نُوْرًا فَمَا لَہٗ مِنْ نُّوْرٍ۝

“অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।” (সূরাহ আন নূর, ২৪:৪০)

اَلَمْ نَجْعَلِ الْاَرْضَ مِهٰدًا۝ وَّالْجِبَالَ اَوْتَادًا۝

“আমি কি ভূমিকে শয্যা এবং পর্বতমালাকে পেরেক সদৃশ তৈরী করিনি?” (৭৮:৬ – ৭)

وَ اَلْقٰی فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِکُمْ وَاَنْهٰرًا وَسُبُلًا لَّعَلَّکُمْ تَہْتَدُوْنَ ۝وَعَلَامَاتٍ ۚ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ۝

“এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে–দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও। এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।” (সূরাহ নহল, ১৬:১৫–১৬)

يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِىْ رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَّغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِى الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰىۤ اَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰىۤ اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْۢ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْـًٔا ط

“হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। ……” (সূরাহ হাজ্জ্ব, ২২:৫)

وَخَلَقَ کُلَّ شَیْءٍ فَقَدَّرَہٗ تَقْدِیْرًا ۝

“……তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে।” (সূরাহ ফুরকান, ২৫:২))

اَلَمْ یَکُ نُطْفَۃً مِّنْ مَّنِیٍّ یُّمْنٰی ۝ ثُمَّ كَانَ عَلَقَۃً فَخَلَقَ فَسَوّٰی ۝ فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَیْنِ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰی۝

সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।” (সূরাহ আল ক্বেয়ামাহ, ৭৫:৩৭–৩৯)

اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسٰنَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنٰهُ سَمِيْعًۢا بَصِيْرًا۝

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।” (সূরাহ দাহর, ৭৬:২)

وَ اَنَّہٗ خَلَقَ الزَّوْجَیْنِ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰی ۝ مِنْ نُّطْفَۃٍ اِذَا تُمْنٰی۝

“এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী। একবিন্দু বীর্য থেকে যখন তা জরায়ুতে স্খলিত করা হয়।” (সূরাহ আন নজম, ৫৩:৪৫–৪৬)

اِنْ كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ۝ فَلْيَنْظُرِ الْاِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ۝ خُلِقَ مِنْ مَّآءٍ دَافِقٍ۝ يَخْرُجُ مِنْۢ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَآئِبِ۝ اِنَّه عَلٰى رَجْعِه لَقَادِرٌ۝

“প্রত্যেক আত্মার উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে। অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।” (সূরাহ আত্ব-তারিক্ব, ৮৬:৪–৮)

… یَخْلُقُکُمْ فِیْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِکُمْ خَلْقًا مِّنْۢ بَعْدِ خَلْقٍ فِیْ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ….

“…….. তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। ……” (সূরাহ আল যুমার, ৩৯:৬)

نَحْنُ خَلَقْنٰکُمْ فَلَوْ لَا تُصَدِّقُوْنَ ۝ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تُمْنُوْنَ ۝ ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَہٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ ۝ نَحْنُ قَدَّرْنَا بَیْنَکُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِیْنَ ۝ عَلٰۤی اَنْ نُّبَدِّلَ اَمْثَالَکُمْ وَنُنْشِئَکُمْ فِیْ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۝ وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْاَۃَ الْاُوْلٰی فَلَوْ لَا تَذَكَرُوْنَ ۝أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ ۝ أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ ۝ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ۝ إِنَّا لَمُغْرَمُونَ ۝ بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ ۝ أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ ۝ لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ ۝ أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُونَ ۝ نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِّلْمُقْوِينَ ۝ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ۝

“আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না। তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে। তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই। এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না। তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন? তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট। বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম; বরং আমরা হৃত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম। তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না? তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ? আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী। অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।” (সূরা হআল ওয়াক্বিয়া, ৫৬:৫৭–৭৪)

اَللهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ اُنْثٰى وَمَا تَغِيْضُ الْاَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَه بِمِقْدَارٍ۝

“আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সঙ্কুচিত ও বর্ধিত হয়। এবং তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটা পরিমাণ রয়েছে।” (সূরাহ আর রাদ, ১৩:৮)

اَلَّذِىۤ اَحْسَنَ كُلَّ شَىْءٍ خَلَقَه وَبَدَاَ خَلْقَ الْاِنْسَانِ مِنْ طِيْنٍ۝ ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَه مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ مَّآءٍ مَّهِيْنٍ۝ ثُمَّ سَوّٰىهُ وَنَفَخَ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِه وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَالْاَفْـِٔدَةَ ط قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۝

“যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে। অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরাহ সেজদাহ, ৩২:৭–৯)

اَلَمْ نَخْلُقكُّمْ مِّنْ مَّآءٍ مَّهِيْنٍ۝ فَجَعَلْنٰهُ فِىْ قَرَارٍ مَّكِيْنٍ۝ اِلٰى قَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ۝ فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقٰدِرُوْنَ۝

“আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি? অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সংরক্ষিত আধারে, এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত সক্ষম স্রষ্টা?” (সূরাহ আল মুরসালাত, ৭৭:২০–২৩)

اَلَمْ یَکُ نُطْفَۃً مِّنْ مَّنِیٍّ یُّمْنٰی ۝ ثُمَّ كَانَ عَلَقَۃً فَخَلَقَ فَسَوّٰی ۝ فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَیْنِ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰی۝

“সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী।” (সূরাহ আল ক্বেয়ামাহ, ৭৫:৩৭–৩৯)

الَّذِىْ خَلَقَ فَسَوّٰى۝ وَالَّذِىْ قَدَّرَ فَهَدٰى۝وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ ۝ وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَىٰ ۝ فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَىٰ ۝

“আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন। এবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেন, অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা।” (সূরাহ আল আ’লা, ৮৭:১–৫)

كَلَّا لَئِنْ لَّمْ یَنْتَهِ ۬ۙ لَنَسْفَعًۢا بِالنَّاصِیَۃِ ۝ نَاصِیَۃٍ كَاذِبَۃٍ خَاطِئَۃٍ۝

“কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ।” (সূরাহ আলাক, ৯৬:১৫–১৬)

[মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ যা চিন্তা–পরিকল্পনা, প্রণোদনা, সদ্ ও অসদাচারণ এবং সত্য ও মিথ্যা কথন, ইত্যাদি  ক্রিয়া–কর্মের জন্য দায়ী। Ref. Essentials of Anatomy & Physiology, Seeley and others, p. 211.]

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِیْهِمْ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنٰهُمْ جُلُوْدًا غَیْرَهَا لِیَذُوْقُوا الْعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَزِیْزًا حَكِیْمًا ۝

“এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।” (সূরাহ আন নিসা, ৪:৫৬)

[শরীরের চামড়ার ইন্দ্রিয়ানুভূতি নষ্ট হয়ে যায় যখন তা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সুতরাং নতুন চামড়া সংযোজনের প্রক্রিযা চালু থাকবে যাতে  দোযখের আগুনের কষ্টানুভূতি  অব্যাহত থাকে।]

كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِی النَّارِ وَسُقُوْا مَآءً حَمِیْمًا فَقَطَّعَ اَمْعَآءَهُمْ۝

“……. (জান্নাতবাসীরা) কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?” (সূরাহ মুহাম্মদ, ৪৭:১৫)

[অধুনা এটা আবিষ্কৃত হয়েছে যে, উত্তাপে নাড়িভুঁড়ি কষ্ট পায় না, কিন্তু যখন ফুটন্ত পানি নাড়িভুঁড়িকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে ফেলে তখন প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়।] 

وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخْرَجْنَا بِہٖ نَبَاتَ کُلِّ شَیْءٍ فَاَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُّخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا ۚ وَمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِیَۃٌ وَجَنّٰتٍ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّالزَّیْتُوْنَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِہًا وَّغَیْرَ مُتَشَابِہٍ ؕ اُنْظُرُوْۤا اِلٰی ثَمَرِہٖۤ اِذَا اَثْمَرَ وَیَنْعِہٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکُمْ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ۝

“তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।” (সূরাহ আন’আম, ৬:৯৯)

وَاِنَّ لَکُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَۃً ؕ نُسْقِیْکُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِہٖ مِنْۢ بَیْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیْنَ۝

“তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্যে উপাদেয়।” (সূরাহ নহল, ১৬:৬৬)

وَ مَا مِنْ دَآبَّۃٍ فِی الْاَرْضِ وَلَا طٰٓئِرٍ یَّطِیْرُ بِجَنَاحَیْهِ اِلَّا اُمَمٌ اَمْثَالُکُمْ ؕ مَا فَرَّطْنَا فِی الْكِتٰبِ مِنْ شَیْءٍ ثُمَّ  اِلٰی رَبِّهِمْ یُحْشَرُوْنَ۝

“আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।” (সূরাহ আন’আম, ৬:৩৮)

اَوَ لَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ فَوْقَهُمْ صٰٓفّٰتٍ وَّ یَقْبِضْنَ ؔۘؕ مَا یُمْسِکُهُنَّ اِلَّا الرَّحْمٰنُ ؕ اِنَّہٗ بِکُلِّ شَیْءٍۭ بَصِیْرٌ ۝

“তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান আল্লাহ-ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব-বিষয় দেখেন।” (সূরাহ আল মুলক, ৬৭:১৯)

اَلَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیْ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ مَا یُمْسِکُهُنَّ اِلَّا اللّٰهُ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ۝

“তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনবলী রয়েছে।” (সূরাহ নহল, ১৬:৭৯)

وَاَوْحٰی رَبُّكَ اِلَی النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِیْ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعْرِشُوْنَ ۝ ثُمَّ کُلِیْ مِنْ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسْلُكِیْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ؕ یَّخْرُجُ مِنْۢ بُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُہٗ فِیْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً  لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَرُوْنَ۝

“আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেনঃ পর্বতগাহে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর, এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথসমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।” (সূরাহ নহল, ১৬:৬৮ – ৬৯)

অধ্যায়সমূহ