এ অধ্যায়ের বিষয়সমূহ
Toggleপবিত্র কুরআনে বর্ণিত নবী ও রাসূলগণ
يٰبَنِىۤ اٰدَمَ اِمَّا يَاْتِيْنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ يَقُصُّوْنَ عَلَيْكُمْ اٰيٰتِىْ ۙ فَمَنِ اتَّقٰى وَاَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ
“হে আদম–সন্তান, (শুরুতেই আমি বলেছিলাম) যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে, তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ শোনায়, তবে (সে অনুযায়ী) যে ব্যক্তি তাক্বওয়া অবলম্বন করবে এবং সৎকাজ করবে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।” (৭:৩৫)
মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই নবুওত ও রিসালতের ধারা শুরু হয়। মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ) থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) পর্যন্ত নবুওত ও রিসালতের ধারা অব্যাহত ছিল। এর ধারাবাহিকতায় দুনিয়ার বুকে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর প্রেরিত হয়েছিলেন বলে ব্যাপক ধারণা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে মাত্র পঁচিশ জনের নামের উল্লেখ থাকলেও প্রত্যেক জাতির জন্য একজন নবী প্রেরণের কথা বলা হয়েছে। মানব জাতিকে সুপথ প্রদানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নবুওত ও রিসালতের ধারার প্রবর্তন করেন। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ যুগে যুগে নবী ও রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন মানব জাতির পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী স্বরূপ। তাঁরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা এবং নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী। তাঁরা নিজেরা যেমন সৎ ও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করেছেন তেমনি অন্যদেরকেও সৎ পথ প্রদর্শন করেছেন। মানুষ যখনই আল্লাহ্ প্রদত্ত খিলাফতের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, আল্লাহর নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত ও বিপথগামী হয়েছে এবং অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে ঠিক তখনই তিনি মানুষের হেদায়েতের জন্য তাঁর নবী–রাসূলকে পাঠিয়েছেন। মানুষের কল্যাণের জন্য তাঁরা সদুপদেশপূর্ণ আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন এবং সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণের মাধ্যমে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।
এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের ইবাতদ–বন্দেগী ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য এবং তাঁর হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহর খলীফা হিসেবেে মানবজাতি এ দুনিয়ায় প্রেরিত হয়েছে। কিন্তু মহান এ কাজে তার প্রধান অন্তরায় হলো তার নফস ও চিরশত্রু শয়তান যে তার আদি পিতা–মাতা আদম–হাওয়া (আ)-কে বেহেশত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার প্ররোচণাদাতা ছিল। তাঁরা উভয়ে করুণাময় দয়াল আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাঁদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং এ দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করেন। আর তখন থেকেই দুনিয়ায় নবুওয়ত ও রিসালতের ধারা সূচিত হয়। হযরত আদম (আ) থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) পর্যন্ত সকল নবী ও রাসূল দুনিয়ার বুকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠাকল্পে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন যাতে তারা খিলাফতের মহান দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারে। নবী–রাসূলগণের প্রচারিত মহান আল্লাহর হেদায়েতের বাণী সর্বকালেই পৃথিবীকে আলোকিত করছে, মানুষকে সঠিক পথের দিশা প্রদর্শন করেছে ও সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ২৫ জন নবী ও রাসূলগণের নাম
اٰدَمُ (আদম )
اِدْرِيْسَ (ইদ্রিস )
نُوْحٍ (নূহ )
هُوْدً (হূদ )
صَالِح (সালেহ )
اِبْرٰهِيْمَ (ইবরাহীম ) لُوْطً (লূত )
اِسْمٰعِيْلَ (ইসমা‘ঈল ) اِسْحٰقَ (ইসহাক )
يَعْقُوْبَ (ইয়া‘কুব )
يُوْسُفَ (ইউসুফ )
اَيُّوْبَ (আইয়ূব )
شُعَیْبً (শু‘আইব )
مُوْسٰى (মূসা )
هٰرُوْنَ (হারূন )
ذُوالْكِفْلَ (যুল-কিফলl ) دَاوُوْدَ (দাঊদ ) سُلَيْمٰنَ (সুলাইমান ) اِلْيَاسَ (ইলইয়াস )
اَلْيَسَعَ (আল্ইয়াসা )
يُونُسُ (ইউনুস )
زَكَرِيَّا (যাকারিয়্যা ) يَحْيٰى (ইয়াহ্ইয়া )
عِيْسَ (ঈসা )
مُحَمَّدٌ (মুহাম্মদ ﷺ)
হযরত আদম (আ) এবং পরবর্তী নবী ও রাসূলগণ সম্পর্কিত আয়াতসমূহ
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِيْنَ اِلَّا مُبَشِّرِيْنَ وَمُنذِرِيْنَ فَمَنْ اٰمَنْ وَاَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ
“আমি রাসূলগণকে শুধু সুসংবাদাতা ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করি, কিন্তু অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।” (৬:৪৮)
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নবী ও রাসূল সম্পর্কিত কিছু সংখ্যক আয়াত নীচে পেশ করা হলো:
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَقَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍقَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ“তারা (আদম–হাওয়া) উভয়ে বলল: হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। আল্লাহ বললেন: তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ফল ভোগ আছে। বললেন: তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুত্থিত হবে।” (৭:২৩–২৫)
فَتَلَقّٰىۤ اٰدَمُ مِنْ رَّبِّه كَلِمٰتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ اِنَّه هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ قُلْنَا اهْبِطُوْا مِنْهَا جَمِيْعًا ج فَاِمَّا يَاْتِيْنَّكُمْ مِّنِّى هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِاٰيٰتِنَاۤ اُوْلٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ج هُمْ فِيْهَا خٰلِدُوْنَ
অতঃপর হযরত আদম (আ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা–ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে। আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।” (২:৩৭ – ৩৯)
ثُمَّ اجْتَبٰهُ رَبُّہٗ فَتَابَ عَلَیْهِ وَ هَدٰی قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِیْعًۢا بَعْضُکُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاْتِیَنَّکُمْ مِّنِّیْ هُدًی ۬ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَ لَا یَشْقٰی
“এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন। তিনি বললেন: তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।” (২০:১২২ – ১২৩)
اِنَّاۤ اَوْحَيْنَاۤ اِلَيْكَ كَمَاۤ اَوْحَيْنَاۤ اِلٰى نُوْحٍ وَالنَّبِيِّيْنَ مِنْۢ بَعْدِه وَاَوْحَيْنَاۤ اِلٰىۤ اِبْرٰهِيْمَ وَاِسْمٰعِيْلَ وَاِسْحٰقَ وَيَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَعِيْسٰى وَاَيُّوْبَ وَيُوْنُسَ وَهٰرُوْنَ وَسُلَيْمٰنَ وَاٰتَيْنَا دَاودَ زَبُوْرًا
“আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী–রাসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।” (৪:১৬৩)
رُّسُلًا مُّبَشِّرِيْنَ وَمُنْذِرِيْنَ لِئَلَّا يَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌۢ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللهُ عَزِيْزًا حَكِيْمًا
“সুসংবাদদাতা ও ভীতি–প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।” (৪:১৬৫)
وَلِكُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلٌ فَاِذَا جَآءَ رَسُوْلُهُمْ قُضِىَ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ
“আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রাসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রাসূল এসে যান তখন ইনসাফের সাথে তাদের (ব্যাপারগুলোর) ফয়সালা হয়ে যায়, তখন আর তাদের উপর যুলুম করা হয় না।” (১০:৪৭)
وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِه لِيْبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللهُ مَنْ يَشَآءُ وَيَهْدِى مَنْ يَّشَآءُ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ
“আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।” (১৪:৪)
لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَیِّنٰتِ وَ اَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْمِیْزَانَ لِیَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۚ وَ اَنْزَلْنَا الْحَدِیْدَ فِیْهِ بَاْسٌ شَدِیْدٌ وَّ مَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَ لِیَعْلَمَ اللّٰهُ مَنْ یَّنْصُرُہٗ وَ رُسُلَہٗ بِالْغَیْبِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ قَوِیٌّ عَزِیْزٌ وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا وَّ اِبْرٰهِیْمَ وَ جَعَلْنَا فِیْ ذُرِّیَّتِهِمَا النُّبُوَّۃَ وَ الْكِتٰبَ فَمِنْهُمْ مُّہْتَدٍ ۚ وَ كَثِیْرٌ مِّنْهُمْ فٰسِقُوْنَ ثُمَّ قَفَّیْنَا عَلٰۤی اٰثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَ قَفَّیْنَا بِعِیْسَی ابْنِ مَرْیَمَ وَ اٰتَیْنٰهُ الْاِنْجِیْلَ ۬ۙ وَ جَعَلْنَا فِیْ قُلُوْبِ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُ رَاْفَۃً وَّ رَحْمَۃً ؕ وَ رَهْبَانِیَّۃَۨ ابْتَدَعُوْهَا مَا كَتَبْنٰهَا عَلَیْهِمْ اِلَّا ابْتِغَآءَ رِضْوَانِ اللّٰهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَایَتِهَا ۚ فَاٰتَیْنَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْهُمْ اَجْرَهُمْ ۚ وَ كَثِیْرٌ مِّنْهُمْ فٰسِقُوْنَ
“আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী। আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী। অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রাসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।” (৫৭:২৫ – ২৭)
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ مِّنْ اَهْلِ الْقُرٰی ؕ اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ وَ لَدَارُ الْاٰخِرَۃِ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ اتَّقَوْا ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ حَتّٰۤی اِذَا اسْتَیْـَٔسَ الرُّسُلُ وَ ظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ قَدْ کُذِبُوْا جَآءَهُمْ نَصْرُنَا ۙ فَنُجِّیَ مَنْ نَّشَآءُ ؕ وَلَا یُرَدُّ بَاْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِیْنَ
“আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম। তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল? সংযমকারীদের জন্যে পরকালের আবাসই উত্তম। তারা কি এখনও বোঝে না? এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।” (১২:১০৯ – ১১০)
لَقَدْ كَانَ فِىْ قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّاُوْلِى الْاَلْبٰبِ ط مَا كَانَ حَدِيْثًا يُّفْتَرٰى وَلٰكِنْ تَصْدِيْقَ الَّذِىْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيْلَ كُلِّ شَىْءٍ وَّهُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ
“তাদের (পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের) কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত।” (১২:১১১)
فَهَلْ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ وَ لَقَدْ بَعَثْنَا فِیْ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوْتَ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ هَدَی اللّٰهُ وَ مِنْهُمْ مَّنْ حَقَّتْ عَلَیْهِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الْمُكَذِّبِیْنَ
“……রাসূলের দায়িত্বতো শুধুমাত্র সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছিয়ে দেয়া। আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত (শয়তানী শক্তি) থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামীতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।” (১৬:৩৫ – ৩৬)
قَالَتْ رُسُلُهُمْ اَفِی اللّٰهِ شَکٌّ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ یَدْعُوْکُمْ لِیَغْفِرَ لَکُمْ مِّنْ ذُنُوْبِکُمْ وَ یُؤَخِّرَکُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ قَالُوْۤا اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا ؕ تُرِیْدُوْنَ اَنْ تَصُدُّوْنَا عَمَّا كَانَ یَعْبُدُ اٰبَآؤُنَا فَاْتُوْنَا بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ اِنْ نَّحْنُ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُکُمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ یَمُنُّ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِہٖ ؕ وَ مَا كَانَ لَنَاۤ اَنْ نَّاْتِیَکُمْ بِسُلْطٰنٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَلِ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ مَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَكَلَ عَلَی اللّٰهِ وَ قَدْ هَدٰىنَا سُبُلَنَا ؕ وَ لَنَصْبِرَنَّ عَلٰی مَاۤ اٰذَیْتُمُوْنَا ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَلِ الْمُتَوَكِلُوْنَ وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّکُمْ مِّنْ اَرْضِنَاۤ اَوْ لَتَعُوْدُنَّ فِیْ مِلَّتِنَا ؕ فَاَوْحٰۤی اِلَیْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُہْلِكَنَّ الظّٰلِمِیْنَ
“তাদের পয়গম্বরগণ বলেছিলেন: ‘আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন যাতে তোমাদের কিছু গুনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন।’ তারা বলত: ‘তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার এবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর।’ তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেন: ‘আমারাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত তোমাদের কাছে প্রমাণ নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়; ঈমানদারদের আল্লাহর উপর ভরসা করা চাই। আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা না করার কি কারণ থাকতে পারে, অথচ তিনি আমাদেরকে আমাদের পথ বলে দিয়েছেন। তোমরা আমাদেরকে যে পীড়ন করেছ, তজ্জন্যে আমরা সবর করব। ভরসাকারীগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।’ কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিল: ‘আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে।’ তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব।” (১৪:১০ – ১৩)
وَمَآ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِىۤ اِلَيْهِ اَنَّه لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَافَاعْبُدُوْنِ
“আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই এবাদত কর।” (২১:২৫)
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ ۘ مِّنْهُمْ مَّنْ كَلَّمَ اللهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجٰتٍ وَّاٰتَيْنَا عِيْسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنٰتِ وَاَيَّدْنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَآءَ اللهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِيْنَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَيِّنٰتُ وَلٰكِنِ اخْتَلَفُوْا فَمِنْهُمْ مَّنْ اٰمَنْ وَمِنْهُمْ مَّنْ كَفَرَ وَلَوْ شَآءَ اللهُ مَا اقْتَتَلُوْا وَلٰكِنَّ اللهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيْدُ
“এই রাসূলগণ – আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতোনা, কিন্তু আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।” (২:২৫৩)
اِنَّ الَّذِيْنَ يَكْفُرُوْنَ بِاللهِ وَرُسُلِه وَيُرِيْدُوْنَ اَنْ يُفَرِّقُوْا بَيْنَ اللهِ وَرُسُلِه وَيَقُوْلُوْنَ نُؤْمِنْ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيْدُوْنَ اَنْ يَّتَّخِذُوْا بَيْنَ ذٰلِكَ سَبِيْلًا اُوْلٰٓئِكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ حَقًّا وَّاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِيْنَ عَذَابًا مُّهِيْنًا وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاللهِ وَرُسُلِه وَلَمْ يُفَرِّقُوْا بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ اُوْلٰٓئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيْهِمْ اُجُوْرَهُمْ ط وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
“যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আযাব। আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রাসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।” (৪:১৫০ – ১৫২)
يٰۤاَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوْا مِنَ الطَّيِّبٰتِ وَاعْمَلُوْا صٰلِحًا اِنِّىْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِيْمٌ وَاِنَّ هٰذِه اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّاَنَا۠ رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ فَتَقَطَّعُوْٓا اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ فَذَرْهُمْ فِىْ غَمْرَتِهِمْ حَتّٰى حِيْنٍ
“হে রাসূলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। আপনাদের এই উম্মত সবতো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন। অতঃপর মানুষ তাদের বিষয়কে বহুধা বিভক্ত করে দিয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে। অতএব তাদের কিছু কালের জন্যে তাদের অজ্ঞানতায় নিমজ্জিত থাকতে দিন।” (২৩:৫১ – ৫৪)
وَ اِذْ اَخَذَ اللّٰهُ مِیْثَاقَ النَّبِیّٖنَ لَمَاۤ اٰتَیْتُکُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّ حِکْمَۃٍ ثُمَّ جَآءَکُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَکُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِہٖ وَ لَتَنْصُرُنَّہٗ ؕ قَالَ ءَاَقْرَرْتُمْ وَ اَخَذْتُمْ عَلٰی ذٰلِکُمْ اِصْرِیْ ؕ قَالُوْۤا اَقْرَرْنَا ؕ قَالَ فَاشْهَدُوْا وَ اَنَا مَعَکُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ
“আর আল্লাহ যখন নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদের কিতাব ও জ্ঞান যা কিছু দান করেছি, অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রাসূল আসেন এবং তোমাদের কিতাবকে প্রত্যয়ন করেন, তখন সে রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি এই শর্তে অঙ্গীকার করছো এবং আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ?’ তাঁরা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।” (৩:৮১)
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یَلْبِسُوْۤا اِیْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ اُولٰٓئِكَ لَهُمُ الْاَمْنُ وَ هُمْ مُّہْتَدُوْنَ وَتِلْكَ حُجَّتُنَآ اٰتَيْنٰهَآ اِبْرٰهِيْمَ عَلٰى قَوْمِه نَرْفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنْ نَّشَآءُط اِنَّ رَبَّكَ حَكِيْمٌ عَلِيْمٌ وَوَهَبْنَالَهاِسْحٰقَ وَيَعْقُوْبَ كُلًّاهَدَيْنَا وَنُوْحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيْتِه دَاودَ وَسُلَيْمٰنَ وَاَيُّوْبَ وَيُوْسُفَ وَمُوْسٰى وَهٰرُوْنَ وَكَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ وَزَكَرِيَّا وَيَحْيٰى وَعِيْسٰى وَاِلْيَاسَ كُلٌّ مِّنَ الصّٰلِحِيْنَ وَاِسْمٰعِيْلَ وَالْيَسَعَ وَيُوْنُسَ وَلُوْطًا ط وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعٰلَمِيْنَ وَمِنْ اٰبَآئِهِمْ وَذُرِّيّٰتِهِمْ وَاِخْوٰنِهِمْ ج وَاجْتَبَيْنٰهُمْ وَهَدَيْنٰهُمْ اِلٰى صِرٰطٍ مُّسْتَقِيْمٍ ذٰلِكَ هُدَى اللهِ يَهْدِىْ بِه مَنْ يَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه وَلَوْ اَشْرَكُوْا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ فَاُوْلٰٓئِكَ الَّذِيْنَاٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوْةَ
“যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শির্কের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। এটি ছিল আমার যুক্তি, যা আমি ইব্রাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি। আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী আমি তাঁকে (ইব্রাহীমকে) দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি – তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবং ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনূস, লূতকে প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর গৌরবাম্বিত করেছি। আরও তাদের কিছু সংখ্যক পিতৃপুরুষ, সন্তান–সন্ততি ও ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন করেছি। এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শিরকি করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত। তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও নবুওত দান করেছি ….।” (৬:৮২ – ৮৯)
وَاذْكُرْ فِى الْكِتٰبِ اِسْمٰعِيْلَ اِنَّه كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُوْلًا نَّبِيًّا وَكَانَ يَاْمُرُ اَهْلَه بِالصَّلَوٰةِ وَالزَّكَوٰةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّه مَرْضِيًّا
“এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী। তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।” (১৯:৫৪ – ৫৫)
وَاذْكُرْ فِى الْكِتٰبِ اِدْرِيْسَ اِنَّه كَانَ صِدِّيْقًا نَّبِيْا وَرَفَعْنٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا
“এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।” (১৯:৫৬ – ৫৭)
اُوْلٰٓئِكَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيْنَ مِنْ ذُرِّيْةِ اٰدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوْحٍ وَمِنْ ذُرِّيْةِ اِبْرٰهِيْمَ وَاِسْرَآءِيْلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا ط اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيٰتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا
“এরাই তারা – নবীগণের মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত।” (১৯:৫৮) [তেলাওয়াতে সাজাদার আয়াত]
وَ نَجَّیْنٰهُ وَ لُوْطًا اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَکْنَا فِیْهَا لِلْعٰلَمِیْنَ وَ وَهَبْنَا لَہٗۤ اِسْحٰقَ ؕ وَ یَعْقُوْبَ نَافِلَۃً ؕ وَ کُلًّا جَعَلْنَا صٰلِحِیْنَ وَ جَعَلْنٰهُمْ اَئِمَّۃً یَّہْدُوْنَ بِاَمْرِنَا وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِمْ فِعْلَ الْخَیْرٰتِ وَ اِقَامَ الصَّلٰوۃِ وَ اِیْتَآءَ الزَّکٰوۃِ ۚ وَ كَانُوْا لَنَا عٰبِدِیْنَ
“আমি তাঁকে (ইব্রাহীম আ. কে) ও লূতকে উদ্ধার করে সেই দেশে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্বের জন্যে কল্যাণ রেখেছি। আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও পুরস্কার স্বরূপ দিলাম ইয়াকুব এবং প্রত্যেককেই সৎকর্মপরায়ণ করলাম। আমি তাঁদেরকে নেতা করলাম। তাঁরা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করতেন। আমি তাঁদের প্রতি ওহী নাযিল করলাম সৎকর্ম করার, নামায কায়েম করার এবং যাকাত দান করার। তাঁরা আমার এবাদতে ব্যাপৃত ছিল।” (২১:৭১ – ৭৩)
وَلُوْطًا اٰتَيْنٰهُ حُكْمًا وَّعِلْمًا وَّنَجَّيْنٰهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِىْ كَانَتْ تَّعْمَلُ الْخَبٰۤئِثَ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فٰسِقِيْنَ وَاَدْخَلْنٰهُ فِىْ رَحْمَتِنَاۤ اِنَّه مِنَ الصّٰلِحِيْنَ
“এবং আমি লূতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাঁকে ঐ জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যারা নোংরা কাজে লিপ্ত ছিল। তারা মন্দ ও নাফরমান সম্প্রদায় ছিল। আমি তাকে আমার অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। সে ছিল সৎকর্মশীলদের একজন।” (২১:৭৪ – ৭৫)
وَاَيُّوْبَ اِذْ نَادٰى رَبَّه اَنِّى مَسَّنِىَ الضُّرُّ وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِيْنَ فَاسْتَجَبْنَا لَه فَكَشَفْنَا مَا بِه مِنْ ضُرٍّ وَاٰتَيْنٰهُ اَهْلَه وَمِثْلَهُمْ مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَذِكْرٰى لِلْعٰبِدِيْنَ
“এবং স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলেছিলেন: ‘আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান।’ অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁর দুঃখকষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা এবাদতকারীদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।” (২১:৮৩ – ৮৪)
وَزَكَرِيَّاۤ اِذْ نَادٰى رَبَّه رَبِّ لَا تَذَرْنِىْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْوٰرِثِيْنَ فَاسْتَجَبْنَا لَه وَوَهَبْنَا لَه يَحْيٰى وَاَصْلَحْنَا لَه زَوْجَه اِنَّهُمْ كَانُوْا يُسٰرِعُوْنَ فِى الْخَيْرٰتِ وَيَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَّرَهَبًا وَّكَانُوْا لَنَا خٰشِعِيْنَ
“এবং যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহ্বান করেছিল; ‘হে আমার পালনকর্তা আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।’ অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসবযোগ্য করেছিলাম। তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।” (২১:৮৯ – ৯০)
হযরত নূহ (আ): মহাপ্লাবণ ও তাঁর নৌকা
হযরত নূহ (আ) ছিলেন আল্লাহর একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ নবী। তিনি ৯৫০ বছর বেঁচেছিলেন এবং এ দীর্ঘ সময় তিনি আল্লাহর দ্বীন প্রচারে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্প্রদায় পৌত্তলিকতার মত মহাপাপ কর্মে নিয়োজিত ছিল। এসব মহাপাপের পরিণতি সম্পর্কে তিনি তার সম্প্রদায়কে বারংবার হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি তাদেরকে সংশোধনের জন্য দিবানিশি দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজনের দ্বারা ঠাট্টা ও বিদ্রূপের শিকার হন। এমনকি তাঁর পুত্রও তাঁর কথায় কর্ণপাত করলো না। তারা তাঁকে বলল: “…… হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যা দিয়ে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।” (১১:৩২) অবশেষে তিনি তাঁর অপারগতা ও ব্যর্থতার কথা জানিয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানালেন। আল্লাহ্ তাঁকে একটি বড় নৌকা তৈরী করতে বললেন এবং নৌকার নির্মাণ শেষ হওয়ার পর তাঁর অনুগত সঙ্গী–সাথী সহ প্রতিটি প্রাণীর জোড়া নিয়ে তাতে আরোহণ করতে বললেন। এরপর হযরত নূহের জাতিকে শাস্তি প্রদানের জন্য মহাপ্লাবনের সৃষ্টি করলেন। এ মহাপ্লাবনে নৌকার আরোহীগণ ব্যতীত সবাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো।
উপরোক্ত বিষয়ে নাযিলকৃত আয়াতসমূহ নীচে পেশ করা হলো:
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ فَكَذَّبُوْا عَبْدَنَا وَ قَالُوْا مَجْنُوْنٌ وَازْدُجِرَ فَدَعَا رَبَّہٗۤ اَنِّیْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ فَفَتَحْنَاۤ اَبْوَابَ السَّمَآءِ بِمَآءٍ مُّنْهَمِرٍ وَفَجَّرْنَا الْاَرْضَ عُیُوْنًا فَالْتَقَی الْمَآءُ عَلٰۤی اَمْرٍ قَدْ قُدِرَ وَحَمَلْنٰهُ عَلٰی ذَاتِ اَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ
“তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমার বান্দা নূহের প্রতি এবং বলেছিলঃ এ তো উম্মাদ। তাঁরা তাকে হুমকি প্রদর্শন করেছিল। অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বললঃ আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর। তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভুমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকম্পিত কাজে। আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও পেরেক নির্মিত জলযানে।” (৫৪:৯ – ১৩)
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِہٖ فَلَبِثَ فِیْهِمْ اَلْفَ سَنَۃٍ اِلَّا خَمْسِیْنَ عَامًا ؕ فَاَخَذَهُمُ الطُّوْفَانُ وَهُمْ ظٰلِمُوْنَ فَاَنْجَیْنٰهُ وَاَصْحٰبَ السَّفِیْنَۃِ وَجَعَلْنٰهَاۤ اٰیَۃً لِّلْعٰلَمِیْنَ
“আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিলেন। অতঃপর তাদেরকে মহাপ্লাবণ গ্রাস করেছিল। তারা ছিল পাপী। অতঃপর আমি তাঁকে ও নৌকারোহীগণকে রক্ষা করলাম এবং নৌকাকে নিদর্শন করলাম বিশ্ববাসীর জন্যে।” (২৯:১৪ – ১৫)
قَالُوْا یٰنُوْحُ قَدْ جٰدَلْتَنَا فَاَکْثَرْتَ جِدَالَنَا فَاْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ کُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ قَالَ اِنَّمَا یَاْتِیْکُمْ بِهِ اللّٰهُ اِنْ شَآءَ وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ وَلَا یَنْفَعُکُمْ نُصْحِیْۤ اِنْ اَرَدْتُّ اَنْ اَنْصَحَ لَکُمْ اِنْ كَانَ اللّٰهُ یُرِیْدُ اَنْ یُّغْوِیَکُمْ ؕ هُوَ رَبُّکُمْ ۟ وَاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ
“তারা বলল -‘হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না। আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে’।” (১১:৩২ – ৩৪)
وَاُوْحِیَ اِلٰی نُوْحٍ اَنَّہٗ لَنْ یُّؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ اِلَّا مَنْ قَدْ اٰمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوْا یَفْعَلُوْنَ وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِاَعْیُنِنَا وَوَحْیِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِیْ فِی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۚ اِنَّهُمْ مُّغْرَقُوْنَ وَیَصْنَعُ الْفُلْكَ ۟ وَکُلَّمَا مَرَّ عَلَیْهِ مَلَاٌ مِّنْ قَوْمِہٖ سَخِرُوْا مِنْهُ ؕ قَالَ اِنْ تَسْخَرُوْا مِنَّا فَاِنَّا نَسْخَرُ مِنْکُمْ كَمَا تَسْخَرُوْنَ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۙ مَنْ یَّاْتِیْهِ عَذَابٌ یُّخْزِیْهِ وَیَحِلُّ عَلَیْهِ عَذَابٌ مُّقِیْمٌ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّوْرُ ۙ قُلْنَا احْمِلْ فِیْهَا مِنْ کُلٍّ زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ وَاَهْلَكَ اِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَیْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ اٰمَنَ ؕ وَمَاۤ اٰمَنَ مَعَہٗۤ اِلَّا قَلِیْلٌ وَ قَالَ ارْكَبُوْا فِیْهَا بِسْمِ اللّٰهِ مَجْؔرٖىهَا وَمُرْسٰىهَا ؕ اِنَّ رَبِّیْ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ
“আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, ‘যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না। আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।’ তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, ‘তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি। অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে- লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।’ অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভূপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ ‘সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বহ্নেই হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন।’ বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল। আর তিনি বললেন, ‘তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান’।” (১১:৩৬ – ৪১)
وَهِیَ تَجْرِیْ بِهِمْ فِیْ مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادٰی نُوْحُ ابْنَہٗ وَكَانَ فِیْ مَعْزِلٍ یّٰـبُنَیَّ ارْكَبْ مَّعَنَا وَلَا تَکُنْ مَّعَ الْکٰفِرِیْنَ قَالَ سَاٰوِیْۤ اِلٰی جَبَلٍ یَّعْصِمُنِیْ مِنَ الْمَآءِ ؕ قَالَ لَا عَاصِمَ الْیَوْمَ مِنْ اَمْرِ اللّٰهِ اِلَّا مَنْ رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَیْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِیْنَ وَقِیْلَ یٰۤاَرْضُ ابْلَعِیْ مَآءَكِ وَیٰسَمَآءُ اَقْلِعِیْ وَغِیْضَ الْمَآءُ وَقُضِیَ الْاَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَی الْجُوْدِیِّ وَقِیْلَ بُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ
“আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, ‘প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।’ সে বলল, ‘আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে।’ নূহ (আঃ) বললেন, ‘আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন।’ এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল। আর নির্দেশ দেয়া হল- ‘হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও।’ আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষণা করা হল, /দুরাত্মা কাফেররা নিপাত যাক’।” (১১:৪২ – ৪৪)
وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۖ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۖ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِّنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلَىٰ أُمَمٍ مِّمَّن مَّعَكَ ۚ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
“আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন- ‘হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।’ আল্লাহ বলেন, ‘হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।’ নূহ (আঃ) বলেন- ‘হে আমার পালনকর্তা আমার যা জানা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ হুকুম হল- ‘হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুন।’ আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দারুণ আযাব আপতিত হবে।” (১১:৪৫ – ৪৮)
হযরত ইব্রাহীম (আ) এর বৃত্তান্ত
مَا كَانَ اِبْرٰهِیْمُ یَهُوْدِیًّا وَّ لَا نَصْرَانِیًّا وَّ لٰكِنْ كَانَ حَنِیْفًا مُّسْلِمًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ
“ইব্রাহীম ইহুদী ছিলেন না এবং খ্রীস্টানও ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরেক ছিলেন না।” (৩:৬৭)
হযরত ইব্রাহীম (আ) ছিলেন আল্লাহর নিকট এক উচ্চ–মর্যাদাসম্পন্ন নবী যাঁর এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভক্তি ছিল প্রগাঢ়। স্বীয় বিশ্বাসের উপর একনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা, ধৈর্যশীলতার কারণে তিনি তাঁর প্রভু আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের নিকট প্রশংসিত হয়েছেন এবং তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু ও মানব জাতির নেতা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। পবিত্র কুরআনে হযরত ইব্রাহীম (আ) মহান আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পিত একজন একেশ্বরবাদী মতাদার্শের বিশুদ্ধ প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। নিম্নের আয়াতসমূহে তাঁর জীবনাদর্শের বৃত্তান্ত উদ্ধৃত করা হলো:
হযরত ইব্রাহীম (আ) কর্তৃক আল্লাহর কুদরত দর্শন
وَ كَذٰلِكَ نُرِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ مَلَکُوْتَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لِیَکُوْنَ مِنَ الْمُوْقِنِیْنَ فَلَمَّا جَنَّ عَلَیْهِ الَّیْلُ رَاٰ كَوْكَبًا ۚ قَالَ هٰذَا رَبِّیْ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَاۤ اُحِبُّ الْاٰفِلِیْنَ فَلَمَّا رَاَ الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هٰذَا رَبِّیْ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَئِنْ لَّمْ یَہْدِنِیْ رَبِّیْ لَاَکُوْنَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّآلِّیْنَ فَلَمَّا رَاَ الشَّمْسَ بَازِغَۃً قَالَ هٰذَا رَبِّیْ هٰذَاۤ اَکْبَرُ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَتْ قَالَ یٰقَوْمِ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تُشْرِکُوْنَ اِنِّیْ وَجَّہْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ
“আমি এভাবেই ইব্রাহীমকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের যাবতীয় পরিচালনা ব্যবস্থা দেখাতে লাগলাম – যাতে সে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল, বলল: ‘ইহা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন বলল: আমি অস্তগামীদেরকে ভালবাসি না।’ অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বলল: ‘এটি আমার প্রতিপালক।’ অনন্তর যখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন বলল ‘যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ–প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বলল: ‘এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর।’ অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত। আমি একমুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই’।” (৬:৭৫ – ৭৯)
وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰہٖمُ رَبِّ اَرِنِیْ كَیْفَ تُحْیِ الْمَوْتٰی ؕ قَالَ اَوَ لَمْ تُؤْمِنْ ؕ قَالَ بَلٰی وَ لٰكِنْ لِّیَطْمَئِنَّ قَلْبِیْ ؕ قَالَ فَخُذْ اَرْبَعَۃً مِّنَ الطَّیْرِ فَصُرْهُنَّ اِلَیْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلٰی کُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ یَاْتِیْنَكَ سَعْیًا ؕ وَ اعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ
“আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে।’ বললেন; ‘তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। ‘বললেন, ‘তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন’।” (২:২৬০)
হযরত ইব্রাহীম (আ) এর সাথে তাঁর সম্প্রদায় ও বাদশাহ নমরুদের বিতর্ক
وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالِمِينَ إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَـٰذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَىٰ ذَٰلِكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ قَالُوا مَن فَعَلَ هَـٰذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَىٰ أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ قَالُوا أَأَنتَ فَعَلْتَ هَـٰذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَـٰذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِن كَانُوا يَنطِقُونَ فَرَجَعُوا إِلَىٰ أَنفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنتُمُ الظَّالِمُونَ ثُمَّ نُكِسُوا عَلَىٰ رُءُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَـٰؤُلَاءِ يَنطِقُونَ قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ أُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ “আর, আমি ইতিপূর্বে ইব্রাহীমকে তার সৎপন্থা দান করেছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত ও ছিলাম। যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেনঃ ‘এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ।’ তারা বললঃ ‘আমরা আমাদের বাপ–দাদাকে এদের পুজা করতে দেখেছি।’ তিনি বললেনঃ ‘তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের বাপ–দাদারাও।’ তারা বললঃ ‘তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছ, না তুমি কৌতুক করছ?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন; এবং আমি এই বিষয়েরই সাক্ষ্যদাতা। আল্লাহর কসম, যখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা অবলম্বন করব।’ অতঃপর তিনি সেগুলোকে চূর্ণ–বিচুর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীতঃ যাতে তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে। তারা বললঃ আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করল? সে তো নিশ্চয়ই কোন জালিম। কতক লোকে বললঃ ‘আমরা এক যুবককে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি; তাকে ইব্রাহীম বলা হয়।’ তারা বললঃ ‘তাকে জনসমক্ষে উপস্থিত কর, যাতে তারা দেখে।’ তারা বললঃ ‘হে ইব্রাহীম তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার করেছ?’ তিনি বললেনঃ ‘না এদের এই প্রধানই তো একাজ করেছে। অতএব তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তারা কথা বলতে পারে।’ অতঃপর মনে মনে চিন্তা করল এবং বললঃ ‘লোক সকল; তোমরাই বে –ইনসাফ।’ অতঃপর তারা ঝুঁকে গেল মস্তক নত করে, ‘তুমি তো জান যে, এরা কথা বলে না ।’ – তিনি বললেনঃ ‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর, যা তোমাদের কোন উপকার ও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না ? ধিক তোমাদের জন্যে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরই এবাদত কর, ওদের জন্যে। তোমরা কি বোঝ না’?” (২১:৫৭–৬৭)
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِي حَاجَّ إِبْرَاهِيمَ فِي رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ“তুমি কি সে লোককে (বাদশাহ নমরুদ) দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল ইব্রাহীমের সাথে এ কারণে যে, আল্লাহ সে ব্যাক্তিকে রাজ্য দান করেছিলেন? ইব্রাহীম যখন বললেন, ‘আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’ সে বলল, ‘আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি।’ ইব্রাহীম বললেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি সূর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।’ তখন সে কাফের হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ সীমালংঘণকারী সম্প্রদায়কে সরল পথ প্রদর্শন করেন না।” (২:২৫৮)
হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে আগুনে নিক্ষেপ
বাদশাহ’ (নমরুদ) হযরত ইব্রাহীমের (আ) এর সাথে বাদানুবাদে পরাভূত হয়ে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিলো। এ জন্য একটি বিরাট অগ্নিকুন্ড তৈরী করা হলো এবং সেখানে তাঁকে তারা নিক্ষেপ করলো। দয়াময় আল্লাহ্ সে আগুন থেকে তাঁকে বাঁচিয়ে দিলেন যা নিম্নোক্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে:
قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ “তারা বললঃ ‘একে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।’ আমি বললামঃ ‘হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল, অতঃপর আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ করে দিলাম।” (২১:৬৮–৭০)
পরীক্ষাস্বরূপ পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ)-কে কুরবানীর বৃত্তান্ত
হযরত ইব্রাহীমের (আ) আল্লাহ্ কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী করতে মনস্থ করলেন। এর পূর্বে তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ) ও পুত্র ইসমাঈল (আ) কে মক্কার ঊষর ও নির্জন ভূমিতে নির্বাসনের বিষয়টি ছিল তাঁর জন্য একটি মহাপরীক্ষা। এক্ষণে অতি স্নেহের পুত্রটিকে কুরবানী করতে গিয়ে আরো এক কঠিনতর পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন তিনি। নিম্নোক্ত আয়াতে এ পরীক্ষার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে:
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ الصّٰلِحِيْنَ فَبَشَّرْنٰهُ بِغُلٰمٍ حَلِيْمٍ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْىَ قَالَ يٰبُنَىَّ اِنِّىۤ اَرٰى فِى الْمَنَامِ اَنِّىْۤ اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرٰى قَالَ يٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِىۤ اِنْ شَاۤءَ اللهُ مِنَ الصّٰبِرِيْنَ فَلَمَّاۤ اَسْلَمَا وَتَلَّه لِلْجَبِيْنِ وَنٰدَيْنٰهُ اَن يٰۤاِبْرٰهِيْمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْيَاۤ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِيْنُ وَفَدَيْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيْمٍ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى الْاٰخِرِيْنَ سَلٰمٌ عَلٰۤى اِبْرٰهِيْمَ كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ اِنَّه مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ
(ইব্রাহীম আ: প্রার্থনা করলেন,) “হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎ পুত্র দান কর। সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের (ইসমাঈলের আ) সুসংবাদ দান করলাম। অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বলল: ‘বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ।’ সে বলল: ‘পিতঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।’ যখন পিতা–পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: ‘হে ইব্রাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে!’ আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে যবেহ করার জন্যে দিলাম এক মহান জন্তু। আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে (দৃষ্টান্তস্বরূপ) রেখে দিয়েছি যে, ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।” (৩৭:১০০ – ১১১)
মিল্লাতে-ইব্রাহীম (আ) ও দ্বীন-ই-হানীফ
মিল্লাতে–ইব্রাহীম বলতে হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর পথ বা মতাদর্শকে বুঝায় যা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কর্তৃক মনোনীত ও হযরত ইব্রাহীম (আ) -এর প্রদর্শিত “দ্বীন–ই–হানীফ” এর উপর প্রতিষ্ঠিত। বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদী দ্বীন বা আদর্শই হলো মিল্লাতে–ইব্রাহীম যা ইসলামের আদিরূপ হিসেবে বিবেচিত। সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা)-সহ হাজারো নবী ও রাসূলের পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আ) ছিলেন ‘দ্বীনে–হানীফ’ (বিশুদ্ধ ধর্ম) ও ‘তৌহিদের’ (আল্লাহর একত্ববাদের) একনিষ্ঠ প্রচারক। মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমোদনক্রমে মিল্লাতে–ইব্রাহীমের ধারাবাহিকতা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে উম্মতে–মুহাম্মদী ও ইসলাম। আর এ কারণেই ইব্রাহীম (আ) -এর প্রদর্শিত দ্বীনকে অনুসরণ করার নির্দেশ এসেছে মহান আল্লাহর তরফ থেকে।
পবিত্র কুরআনের নিম্নের আয়াতসমূহে তা সুস্পষ্ট হয়েছে:
اِنَّ اِبْرٰهِیْمَ كَانَ اُمَّۃً قَانِتًا لِّلّٰهِ حَنِیْفًا ؕ وَ لَمْ یَکُ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ شَاكِرًا لِّاَنْعُمِہٖ ؕ اِجْتَبٰهُ وَ هَدٰىهُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ وَ اٰتَیْنٰهُ فِی الدُّنْیَا حَسَنَۃً ؕ وَ اِنَّہٗ فِی الْاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ ثُمَّ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ اَنِ اتَّبِعْ مِلَّۃَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ
“নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিলেন এক উম্মত সদৃশ আদর্শ প্রতীক, সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহরই অনুগত এবং তিনি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি তাঁর (আল্লাহর) অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছিলেন এবং সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন। আমি তাঁকে দুনিয়াতে দান করেছি কল্যাণ এবং তিনি পরকালেও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, ইব্রাহীমের দ্বীন অনুসরণ করুন, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন এবং শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (১৬:১২০–১২৩)
……قَدْ كَانَتْ لَکُمْ اُسْوَۃٌ حَسَنَۃٌ فِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ الَّذِیْنَ مَعَہٗ ۚ اِذْ قَالُوْا لِقَوْمِهِمْ اِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنْکُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ۫ كَفَرْنَا بِکُمْ وَ بَدَا بَیْنَنَا وَ بَیْنَکُمُ الْعَدَاوَۃُ وَ الْبَغْضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ وَحْدَہٗۤ
“তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।” ……. (৬০:৪)
قُلْ صَدَقَ اللّٰهُ ۟ فَاتَّبِعُوْا مِلَّۃَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ
“(হে নবী) বলুন, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠভাবে সত্যধর্মের অনুসারী।’ তিনি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (৩:৯৫)
وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُ ۚ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ “ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও। সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।” (২:১৩০–১৩১)وَوَصَّىٰ بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ “এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।” (২:১৩২)
قُلْ اِنَّنِیْ هَدٰىنِیْ رَبِّیْۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۬ۚ دِیْنًا قِیَمًا مِّلَّۃَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ۚ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ
“আপনি (মুহাম্মদ সা) বলে দিন: আমার প্রতিপালক আমাকে প্রদর্শন করেছেন সরল পথ – একাগ্রচিত্ত ইব্রাহীমের প্রতিষ্ঠিত বিশুদ্ধ দ্বীন। তিনি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” (৬:১৬১)
মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ)
ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস ও আদর্শ - তৌহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের একজন বলিষ্ঠ প্রবক্তা ছিলেন হযরত ইব্রাহীম (আ)। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদীকে হযরত ইব্রাহীম (আ)- এর মিল্লাত বা আদর্শকে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রসঙ্গে বলেন:
مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَـٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
“তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরেক ছিলেন না” (৩:৬৭)।
তাঁর প্রচারিত “দ্বীনে হানীফ” ছিল শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর প্রচারিত “দ্বীন ইসলামের” আদিরূপ। তাই মহান আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী হযরত ইব্রাহীম (আ) হলেন মুসলিম জাতির পিতা ও ঘনিষ্ঠতম জন। নিম্নোক্ত দু’টি আয়াতে এ কথাই বর্ণিত হয়েছে:
وَ جَاهِدُوْا فِی اللّٰهِ حَقَّ جِهَادِہٖ ؕ هُوَ اجْتَبٰىکُمْ وَ مَا جَعَلَ عَلَیْکُمْ فِی الدِّیْنِ مِنْ حَرَجٍ ؕ مِلَّۃَ اَبِیْکُمْ اِبْرٰهِیْمَ ؕ هُوَ سَمّٰىکُمُ الْمُسْلِمِیْنَ ۬ۙ مِنْ قَبْلُ وَ فِیْ هٰذَا لِیَکُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِیْدًا عَلَیْکُمْ وَ تَکُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ ۚۖ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَ اعْتَصِمُوْا بِاللّٰهِ ؕ هُوَ مَوْلٰىکُمْ ۚ فَنِعْمَ الْمَوْلٰی وَ نِعْمَ النَّصِیْرُ
“তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। এ ধর্ম (ইসলাম) তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মের অনুরূপ। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কুরআনেও, যাতে রাসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।” (২২:৭৮)
اِنَّ اَوْلَی النَّاسِ بِاِبْرٰهِیْمَ لَلَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُ وَ هٰذَا النَّبِیُّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ وَ اللّٰهُ وَلِیُّ الْمُؤْمِنِیْنَ
“মানুষদের মধ্যে যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা, আর এই নবী (মুহাম্মদ সা) এবং যারা এ নবীর প্রতি ঈমান এনেছে তারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম -আর আল্লাহ হচ্ছেন মু’মিনদের বন্ধু।” (৩:৬৮)
বহু-পরীক্ষিত নবী ও রসূল হযরত ইব্রাহীম (আ)
তিনি ছিলেন আল্লাহ্ তায়ালার বহু–পরীক্ষিত ও প্রিয় নবী, উৎসর্গকৃত প্রাণ এক বান্দা, আত্মসমর্পিত ও নিবেদিত মুসলিম এবং একত্ববাদের একনিষ্ঠ প্রচারক। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁকে মনোনীত করেছিলেন নবী ও রসূল এবং মানব জাতির নেতা হিসেবে। তিনি হযরত ইব্রাহীম (আ) এর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে আনুগত্যের পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তাঁর বড় বড় পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ছিল:
-
পৌত্তলিকতার বিরোধীতা করায় মুশরেক সম্প্রদায় তাঁকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করলে সে অবস্থায়ও ঈমানী দৃঢ়তা ও আল্লাহর ওপর পরম নির্ভরতা প্রদর্শন,
-
আল্লাহর একত্ববাদ নিয়ে বিতর্কে বাদশাহ নমরুদের সামনে অকুতভয়ে তাঁর অকাট্য যুক্তি পেশ,
-
পৌত্তলিক পিতার সাথে আল্লাহর একত্ববাদের (তওহীদ) বিশ্বাসগত পার্থক্যের কারণে বিচ্ছেদ বরণ ও হিজরত,
-
আল্লাহর ইচ্ছায় স্ত্রী হাজেরা (আ) ও পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) কে পর্বত–সংকুল ও জনবসতিহীন মক্কার ঊষর মরুভূমিতে নির্বাসন,
-
স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রাণ প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী করার নিয়ত, ইত্যাদি।
আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে হযরত ইব্রাহীম (আ) প্রতিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাই মহান আল্লাহ্ তাঁকে পরীক্ষিত বন্ধুর সম্মানে অভিষিক্ত করে ‘খলীলুল্লাহ’ (আল্লাহর বন্ধু) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং তাঁকে দিয়েছিলেন মানব জাতির নেতার মর্যাদা। নিম্নোক্ত আয়াত দু’টিতে এ কথারই স্বীকৃতি মেলে:
وَ اِذِ ابْتَلٰۤی اِبْرٰہٖمَ رَبُّہٗ بِكَلِمٰتٍ فَاَتَمَّهُنَّ ؕ قَالَ اِنِّیْ جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ اِمَامًا ؕ قَالَ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ ؕ قَالَ لَا یَنَالُ عَہْدِی الظّٰلِمِیْنَ
“যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি (ইব্রাহীম) বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি (আল্লাহ্) বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।” (২:১২৪)
وَ مَنْ اَحْسَنُ دِیْنًا مِّمَّنْ اَسْلَمَ وَجْهَہٗ لِلّٰهِ وَ هُوَ مُحْسِنٌ وَّ اتَّبَعَ مِلَّۃَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَ اتَّخَذَ اللّٰهُ اِبْرٰهِیْمَ خَلِیْلًا
“যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইব্রাহীমের ধর্ম অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন, তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।” (৪:১২৫)
হযরত ইব্রাহীম (আ) এর কীর্তিসমূহ
হযরত ইব্রাহীম (আ) এর মহান কীর্তিসমূহ যা তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে এখনও বিদ্যমান আছে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এবং রোজ ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর মহৎ জীবনের বহু নিদর্শনসমূহ মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় আদর্শরূপে স্বীকৃতি দিয়েছেন যা হজ্ব ও ওমরা অনুষ্ঠান পালনের সময় অবশ্য পালনীয় ও অতীব সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। আল্লাহর নির্দেশ পালনে নিবেদিত প্রাণ হযরত ইব্রাহীম (আ) তাঁর প্রভুর সন্তুষ্টির জন্যেই এসব করেছিলেন। তাঁর এসব কাজ আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দনীয় ছিল। তাই তিনি সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উম্মতের মধ্যেও হযরত ইব্রাহীম (আ) এর মহান নিদর্শনসমূহ অব্যাহত রেখেছেন।
তাঁর পুণ্যময় কীর্তির নিদর্শনসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো:
-
মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশ অনুযায়ী তিনি মক্কা নগরীর পত্তন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ) ও পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) কে সেখানে পুনর্বাসনের মাধ্যমে।
-
তিনি ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ) পুনর্নির্মাণ করেছিলেন বাইতুল্লাহ্ শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ক্বা’বা গৃহ যা মুসলিম জাতির ক্বিবলা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
-
আল্লাহর নির্দেশে তিনি বাইতুল্লাহ শরীফ অর্থাৎ কা’বা গৃহ তাওয়াফ ও হজ্জ্ব অনুষ্ঠান পালনের জন্য মানব জাতিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যা অধ্যাবধি চলমান।
-
তিনি নিজ সন্তান হযরত ইসমাঈল (আ) কে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবাণীর যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা স্মরণীয় করে রাখার জন্য আজ অবধি হজ্জ্ব মওসুমে পশু কুরবানীর বিধান প্রচলিত আছে।
এতদ্সংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিম্নে পেশ করা হলো:
وَ اِذْ جَعَلْنَا الْبَیْتَ مَثَابَۃً لِّلنَّاسِ وَ اَمْنًا ؕ وَ اتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِبْرٰہٖمَ مُصَلًّی ؕ وَ عَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰہٖمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ اَنْ طَهِرَا بَیْتِیَ لِلطَّآئِفِیْنَ وَ الْعٰكِفِیْنَ وَ الرُّكَعِ السُّجُوْدِ
“যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু–সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।” (২:১২৫)
وَ اِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرٰهِیْمَ مَكَانَ الْبَیْتِ اَنْ لَّا تُشْرِکْ بِیْ شَیْئًا وَّ طَهِرْ بَیْتِیَ لِلطَّآئِفِیْنَ وَ الْقَآئِمِیْنَ وَ الرُّكَعِ السُّجُوْدِ
“যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দন্ডায়মানদের জন্যে এবং রুকু সেজদাকারীদের জন্যে।” (২২:২৬)
وَاِذْ قَالَ اِبْرٰہٖمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّارْزُقْ اَهْلَہٗ مِنَ الثَّمَرٰتِ مَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ قَالَ وَ مَنْ كَفَرَ فَاُمَتِّعُہٗ قَلِیْلًا ثُمَّ اَضْطَرُّہٗۤ اِلٰی عَذَابِ النَّارِ ؕ وَ بِئْسَ الْمَصِیْرُ
“যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। (আল্লাহ্) বললেন: যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান।” (২:১২৬)
وَ اِذْ یَرْفَعُ اِبْرٰہٖمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَیْتِ وَ اِسْمٰعِیْلُ ؕ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ؕ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ رَبَّنَا وَ اجْعَلْنَا مُسْلِمَیْنِ لَكَ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّۃً مُّسْلِمَۃً لَّكَ ۪ وَ اَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَ تُبْ عَلَیْنَا ۚ اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ رَبَّنَا وَ ابْعَثْ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِکْمَۃَ وَ یُزَكِیْهِمْ ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ
“স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বা গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিল: পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী দয়ালু। হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুন যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।” (২:১২৭–১২৯)
اِنَّ اَوَّلَ بَیْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیْ بِبَكَۃَ مُبٰرَکًا وَّ هُدًی لِّلْعٰلَمِیْنَ فِیْهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبْرٰهِیْمَ ۬ۚ وَ مَنْ دَخَلَہٗ كَانَ اٰمِنًا ؕ وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ
“নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়। এতে রয়েছে ‘মকামে ইব্রাহীমের’ মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌঁছার। আর যে লোক তা মানে না; আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।” (৩:৯৬ – ৯৭)
وَ حَآجَّہٗ قَوْمُہٗ ؕ قَالَ اَتُحَآجُّوْٓنِّیْ فِی اللّٰهِ وَ قَدْ هَدٰىنِ ؕ وَ لَاۤ اَخَافُ مَا تُشْرِکُوْنَ بِہٖۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ رَبِّیْ شَیْئًا ؕ وَسِعَ رَبِّیْ کُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ؕ اَفَلَا تَتَذَكَرُوْنَ وَ كَیْفَ اَخَافُ مَاۤ اَشْرَکْتُمْ وَ لَا تَخَافُوْنَ اَنَّکُمْ اَشْرَکْتُمْ بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِہٖ عَلَیْکُمْ سُلْطٰنًا ؕ فَاَیُّ الْفَرِیْقَیْنِ اَحَقُّ بِالْاَمْنِ ۚ اِنْ کُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یَلْبِسُوْۤا اِیْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ اُولٰٓئِكَ لَهُمُ الْاَمْنُ وَ هُمْ مُّہْتَدُوْنَ وَ تِلْكَ حُجَّتُنَاۤ اٰتَیْنٰهَاۤ اِبْرٰهِیْمَ عَلٰی قَوْمِہٖ ؕ نَرْفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنْ نَّشَآءُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ
“তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বলল : তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ? যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক। যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। এটি ছিল আমার যুক্তি, যা আমি ইব্রাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি। আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।” (৬:৮০–৮৩)
وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِہٖۤ اِنَّنِیْ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعْبُدُوْنَ اِلَّا الَّذِیْ فَطَرَنِیْ فَاِنَّہٗ سَیَہْدِیْنِ وَ جَعَلَهَا كَلِمَۃًۢ بَاقِیَۃً فِیْ عَقِبِہٖ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ
“যখন ইব্রাহীম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা যাদের পূজা কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন। এ কথাটিকে সে অক্ষয় বাণীরূপে তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছে, যাতে তারা আল্লাহর দিকেই আকৃষ্ট থাকে।” (৪৩:২৬–২৮)
হযরত ইউছুফ (আ)-এর স্বপ্নের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বৃত্তান্ত
اِذْ قَالَ یُوْسُفُ لِاَبِیْهِ یٰۤاَبَتِ اِنِّیْ رَاَیْتُ اَحَدَعَشَرَ كَوْكَبًا وَّالشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ رَاَیْتُهُمْ لِیْ سٰجِدِیْنَ قَالَ یٰبُنَیَّ لَا تَقْصُصْ رُءْیَاكَ عَلٰۤی اِخْوَتِكَ فَیَكِیْدُوْا لَكَ كَیْدًا ؕ اِنَّ الشَّیْطٰنَ لِلْاِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ وَكَذٰلِكَ یَجْتَبِیْكَ رَبُّكَ وَ یُعَلِّمُكَ مِنْ تَاْوِیْلِ الْاَحَادِیْثِ وَ یُتِمُّ نِعْمَتَہٗ عَلَیْكَ وَ عَلٰۤی اٰلِ یَعْقُوْبَ كَمَاۤ اَتَمَّهَا عَلٰۤی اَبَوَیْكَ مِنْ قَبْلُ اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْحٰقَ ؕ اِنَّ رَبَّكَ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ
“যখন ইউসুফ পিতাকে বলল: ‘পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সূর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।’ তিনি বললেন: ‘বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।এমনিভাবে তোমার পালনকর্তা তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে বাণীসমূহের নিগুঢ় তত্ত্ব শিক্ষা দেবেন এবং পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবার–পরিজনের প্রতি; যেমন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা অত্যন্ত জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।” (১২:৪ – ৬)
فَلَمَّا دَخَلُوْا عَلٰی یُوْسُفَ اٰوٰۤی اِلَیْهِ اَبَوَیْهِ وَ قَالَ ادْخُلُوْا مِصْرَ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ اٰمِنِیْنَ وَ رَفَعَ اَبَوَیْهِ عَلَی الْعَرْشِ وَ خَرُّوْا لَہٗ سُجَّدًا ۚ وَ قَالَ یٰۤاَبَتِ هٰذَا تَاْوِیْلُ رُءْیَایَ مِنْ قَبْلُ ۫ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّیْ حَقًّا ؕ وَ قَدْ اَحْسَنَ بِیْۤ اِذْ اَخْرَجَنِیْ مِنَ السِّجْنِ وَ جَآءَ بِکُمْ مِّنَ الْبَدْوِ مِنْۢ بَعْدِ اَنْ نَّزَغَ الشَّیْطٰنُ بَیْنِیْ وَ بَیْنَ اِخْوَتِیْ ؕ اِنَّ رَبِّیْ لَطِیْفٌ لِّمَا یَشَآءُ ؕ اِنَّہٗ هُوَ الْعَلِیْمُ الْحَكِیْمُ
“অতঃপর যখন তারা (মিসরে) ইউসুফের কাছে পৌঁছল, তখন ইউসুফ পিতা–মাতাকে নিজের কাছে জায়গা দিলেন এবং বললেন: ‘আল্লাহ চাহেন তো শান্তিপূর্ণ চিত্তে মিসরে প্রবেশ করুন। এবং তিনি পিতা–মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেন: ‘পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’।” (১২:৯৯ – ১০০)
وَ دَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَیٰنِ ؕ قَالَ اَحَدُهُمَاۤ اِنِّیْۤ اَرٰىنِیْۤ اَعْصِرُ خَمْرًا ۚ وَ قَالَ الْاٰخَرُ اِنِّیْۤ اَرٰىنِیْۤ اَحْمِلُ فَوْقَ رَاْسِیْ خُبْزًا تَاْکُلُ الطَّیْرُ مِنْهُ ؕ نَبِّئْنَا بِتَاْوِیْلِہٖ ۚ اِنَّا نَرٰىكَ مِنَ الْمُحْسِنِیْنَ قَالَ لَا یَاْتِیْکُمَا طَعَامٌ تُرْزَقٰنِہٖۤ اِلَّا نَبَّاْتُکُمَا بِتَاْوِیْلِہٖ قَبْلَ اَنْ یَّاْتِیَکُمَا ؕ ذٰلِکُمَا مِمَّا عَلَّمَنِیْ رَبِّیْ ؕ اِنِّیْ تَرَکْتُ مِلَّۃَ قَوْمٍ لَّا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَۃِ هُمْ کٰفِرُوْنَ
“তাঁর (ইউসুফ আ) সাথে কারাগারে দুজন যুবক প্রবেশ করল। তাদের একজন বলল: ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ নিঙড়াচ্ছি।’ অপরজন বলল: ‘আমি দেখলাম যে, নিজ মাথায় রুটি বহন করছি। তা থেকে পাখী ঠুকরিয়ে খাচ্ছে। আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলুন। আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি বললেন: ‘তোমাদেরকে প্রত্যহ যে খাদ্য দেয়া হয়, তা তোমাদের কাছে আসার আগেই আমি তার ব্যাখ্যা বলে দেব। এ জ্ঞান আমার পালনকর্তা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি ঐসব লোকের ধর্ম পরিত্যাগ করেছি যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং পরকালে অবিশ্বাসী’।” (১২:৩৬ – ৩৭)
یٰصَاحِبَیِ السِّجْنِ اَمَّاۤ اَحَدُ کُمَا فَیَسْقِیْ رَبَّہٗ خَمْرًا ۚ وَ اَمَّا الْاٰخَرُ فَیُصْلَبُ فَتَاْکُلُ الطَّیْرُ مِنْ رَّاْسِہٖ ؕ قُضِیَ الْاَمْرُ الَّذِیْ فِیْهِ تَسْتَفْتِیٰنِ
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাস্বরূপ ইউসুফ আ বললেন) “হে কারাগারের সঙ্গীরা! তোমাদের একজন আপন প্রভুকে মদ্যপান করাবে এবং দ্বিতীয়জন, তাকে শুলে চড়ানো হবে। অতঃপর তার মস্তক থেকে পাখী আহার করবে। তোমরা যে, বিষয়ে জানার আগ্রহী তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।” (১২:৪১)
وَ قَالَ الْمَلِکُ اِنِّیْۤ اَرٰی سَبْعَ بَقَرٰتٍ سِمَانٍ یَّاْکُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَّ سَبْعَ سُنْۢبُلٰتٍ خُضْرٍ وَّ اُخَرَ یٰبِسٰتٍ ؕ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَاُ اَفْتُوْنِیْ فِیْ رُءْیَایَ اِنْ کُنْتُمْ لِلرُّءْیَا تَعْبُرُوْنَ قَالُوْۤا اَضْغَاثُ اَحْلَامٍ ۚ وَ مَا نَحْنُ بِتَاْوِیْلِ الْاَحْلَامِ بِعٰلِمِیْنَ وَ قَالَ الَّذِیْ نَجَا مِنْهُمَا وَ ادَّكَرَ بَعْدَ اُمَّۃٍ اَنَا اُنَبِّئُکُمْ بِتَاْوِیْلِہٖ فَاَرْسِلُوْنِ یُوْسُفُ اَیُّهَا الصِّدِّیْقُ اَفْتِنَا فِیْ سَبْعِ بَقَرٰتٍ سِمَانٍ یَّاْکُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَّ سَبْعِ سُنْۢبُلٰتٍ خُضْرٍ وَّ اُخَرَ یٰبِسٰتٍ ۙ لَّعَلِّیْۤ اَرْجِعُ اِلَی النَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَعْلَمُوْنَ قَالَ تَزْرَعُوْنَ سَبْعَ سِنِیْنَ دَاَبًا ۚ فَمَا حَصَدْتُّمْ فَذَرُوْهُ فِیْ سُنْۢبُلِہٖۤ اِلَّا قَلِیْلًا مِّمَّا تَاْکُلُوْنَ ثُمَّ یَاْتِیْ مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ یَّاْکُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ اِلَّا قَلِیْلًا مِّمَّا تُحْصِنُوْنَ ثُمَّ یَاْتِیْ مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ عَامٌ فِیْهِ یُغَاثُ النَّاسُ وَ فِیْهِ یَعْصِرُوْنَ
“(মিশরের) বাদশাহ বলল: আমি স্বপ্নে দেখলাম, ‘সাতটি মোটাতাজা গাভী -এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক।’ তারা বলল: ‘এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের জানা নেই।’ দু’জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, ‘আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি। তোমরা আমাকে প্রেরণ কর।’সে তথায় পৌঁছে বলল: ‘হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটাতাজা গাভী-তাদেরকে খাচ্ছে সাতটি শীর্ণ গাভী এবং সাতটি সবুজ শীর্ষ ও অন্যগুলো শুষ্ক; আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুন: যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের অবগত করাতে পারি।’ বলল: ‘তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে। অতঃপর যা কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য শীষ সমেত রেখে দেবে। এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে। এর পরেই আসবে একবছর – এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে’।” (১২:৪৩ – ৪৯)
আল্লাহ্ তায়ালার সাথে হযরত মূসা (আ)-এর কথপোকথন
হযরত মূসা (আ) এর এক বড় মর্যাদা ও মু’জেযা হলো মহান আল্লাহর সাথে তাঁর সরাসরি কথোপকথন। যদিও মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি এ দুনিয়ায় আল্লাহর দর্শন লাভ করতে পারেননি, তবে মহান আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথন ছিল এক অতি মর্যাদার প্রতীক। এ সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিম্নে পেশ করা হলো:
وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنٰهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللهُ مُوْسٰى تَكْلِيْمًا
“এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শুনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।” (৪:১৬৪)
وَ اذْکُرْ فِی الْكِتٰبِ مُوْسٰۤی ۫ اِنَّہٗ كَانَ مُخْلَصًا وَّ كَانَ رَسُوْلًا نَّبِیًّا وَ نَادَیْنٰهُ مِنْ جَانِبِ الطُّوْرِ الْاَیْمَنِ وَ قَرَّبْنٰهُ نَجِیًّا
“এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী। আমি তাকে আহবান করলাম তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে এবং গুঢ়তত্ত্ব আলোচনার উদ্দেশে তাকে নিকটবর্তী করলাম।” (১৯:৫১ – ৫২)
وَهَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ مُوْسٰی ۘ اِذْ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهْلِهِ امْکُثُوْۤا اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّیْۤ اٰتِیْکُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ اَوْ اَجِدُ عَلَی النَّارِ هُدًی فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوْدِیَ یٰمُوْسٰی اِنِّیْۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَیْكَ ۚ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًی وَاَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا یُوْحٰی اِنَّنِیْۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدْنِیْ ۙ وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِکْرِیْ اِنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ اَكَادُ اُخْفِیْهَا لِتُجْزٰی کُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا تَسْعٰی فَلَا یَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَّا یُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوٰىهُ فَتَرْدٰی
“আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি। তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেন: ‘তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌঁছে পথের সন্ধান পাব।’ অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ আসল ‘হে মূসা, আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শোনতে থাক। আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা (কেয়ামতে বিশ্বাস) থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে’।” (২০:৯ – ১৬)
قَالَ یٰمُوْسٰۤی اِنِّی اصْطَفَیْتُكَ عَلَی النَّاسِ بِرِسٰلٰتِیْ وَ بِكَلَامِیْ ۫ۖ فَخُذْ مَاۤ اٰتَیْتُكَ وَ کُنْ مِّنَ الشّٰكِرِیْنَ
“(আল্লাহ্) বললেন, ‘হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক’।” (৭:১৪৪)
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَىٰ لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَـٰكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًا ۚ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ“তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই।’ তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে।’ তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, ‘হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি’।” (৭:১৪৩)
হযরত ইউনুছ (আ)-এর অলৌকিক নাযাত লাভের বৃত্তান্ত
وَاِنَّ يُوْنُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ اِذْ اَبَقَ اِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِيْنَ فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوْ مُلِيْمٌ فَلَوْلَاۤ اَنَّه كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِيْنَ لَلَبِثَ فِىْ بَطْنِه اِلٰى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ فَنَبَذْنٰهُ بِالْعَرَآءِ وَهُوْ سَقِيْمٌ وَاَنْۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّنْ يَّقْطِيْنٍ وَاَرْسَلْنٰهُ اِلٰى مِائَةِ اَلْفٍ اَوْ يَزِيْدُوْنَ فَـَٔامَنْ وْا فَمَتَّعْنٰهُمْ اِلٰى حِيْنٍ
“আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন। যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন। অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন। অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন। যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন, তবে তাঁকে ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত। অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ – বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন। আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম। এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম। তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।” (৩৭:১৩৯ – ১৪৮)
وَ ذَاالنُّوْنِ اِذْ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنْ لَّنْ نَّقْدِرَ عَلَیْهِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ٭ۖ اِنِّیْ کُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ فَاسْتَجَبْنَا لَہٗ ۙ وَ نَجَّیْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ ؕ وَ كَذٰلِكَ نُــْۨجِی الْمُؤْمِنِیْنَ
“এবং মাছওয়ালার (হযরত ইউনুছ আ) কথা স্মরণ করুন তিনি রাগান্বিত হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধরতে পারব না। অতঃপর তিনি (মাছের পেটের ভেতরের) অন্ধকারের মধ্যে আহ্বান করলেন , ‘তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার। ‘অতঃপর আমি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্বাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।” (২১:৮৭ – ৮৮)
হযরত দাউদ (আ) ও হযরত সুলাইমান (আ) এর রাজত্ব ও শক্তিমত্তা
হযরত দাউদ (আ) ও তাঁর পুত্র ছিলেন আল্লাহর নবী ও সুবিশাল রাজত্বের অধিকারী। আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা তাঁদেরকে দান করেছিলেন প্রভূত জ্ঞান, শক্তিশালী রাজত্ব, সূক্ষ্ম বিচার–বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা। জ্বিন,মানুষ ও পক্ষীকুল দ্বারা গঠিত হয়েছিল তাঁদের সেনাবাহিনী। তাঁরা উভয়ে ছিলেন আল্লাহর অনুগত, কৃতজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান বান্দা। তাঁদের সম্পর্কিত আয়াতগুলো নীচে পেশ করা হলো:
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا دَاوٗدَ مِنَّا فَضْلًا ؕ یٰجِبَالُ اَوِّبِیْ مَعَہٗ وَ الطَّیْرَ ۚ وَ اَلَنَّا لَهُ الْحَدِیْدَ اَنِ اعْمَلْ سٰبِغٰتٍ وَّ قَدِّرْ فِی السَّرْدِ وَ اعْمَلُوْا صَالِحًا ؕ اِنِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ وَ لِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ غُدُوُّهَا شَہْرٌ وَّ رَوَاحُهَا شَہْرٌ ۚ وَ اَسَلْنَا لَہٗ عَیْنَ الْقِطْرِ ؕ وَ مِنَ الْجِنِّ مَنْ یَّعْمَلُ بَیْنَ یَدَیْهِ بِاِذْنِ رَبِّہٖ ؕ وَ مَنْ یَّزِغْ مِنْهُمْ عَنْ اَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِیْرِ یَعْمَلُوْنَ لَہٗ مَا یَشَآءُ مِنْ مَّحَارِیْبَ وَ تَمَاثِیْلَ وَ جِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَ قُدُوْرٍ رّٰسِیٰتٍ ؕ اِعْمَلُوْۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُکْرًا ؕ وَ قَلِیْلٌ مِّنْ عِبَادِیَ الشَّکُوْرُ
“আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম। এবং তাকে আমি বলে ছিলাম, ‘প্রশস্ত বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।’আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জিন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ্বলন্ত অগ্নির–শাস্তি আস্বাদন করাব। তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।” (৩৪:১০ – ১৩)
اِصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَ اذْکُرْ عَبْدَنَا دَاوٗدَ ذَا الْاَیْدِ ۚ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ اِنَّا سَخَّرْنَا الْجِبَالَ مَعَہٗ یُسَبِّحْنَ بِالْعَشِیِّ وَ الْاِشْرَاقِ وَ الطَّیْرَ مَحْشُوْرَۃً ؕ کُلٌّ لَّہٗۤ اَوَّابٌ وَ شَدَدْنَا مُلْكَہٗ وَاٰتَیْنٰهُ الْحِکْمَۃَ وَ فَصْلَ الْخِطَابِ
“তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত; আর পক্ষীকুলকেও, যারা তার কাছে সমবেত হত। সবাই ছিল তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল। আমি তাঁর সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাঁকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মীতা।” (৩৮:১৭ – ২০)
فَغَفَرْنَا لَہٗ ذٰلِكَ ؕ وَ اِنَّ لَہٗ عِنْدَنَا لَزُلْفٰی وَ حُسْنَ مَاٰبٍ یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلْنٰكَ خَلِیْفَۃً فِی الْاَرْضِ فَاحْکُمْ بَیْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَ لَا تَتَّبِعِ الْهَوٰی فَیُضِلَّكَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌۢ بِمَا نَسُوْا یَوْمَ الْحِسَابِ
“আমি তার (দাউদ আ এর) সে অপরাধ ক্ষমা করলাম। নিশ্চয় আমার কাছে তার জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্তবা ও সুন্দর আবাসস্থল। হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাব দিবসকে ভুলে যায়।” (৩৮:২৫ – ২৬)
وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَوَ وَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُوَ حُشِرَ لِسُلَيْمَانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ حَتَّىٰ إِذَا أَتَوْا عَلَىٰ وَادِ النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ
“আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব।’ সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন,মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল। যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, ‘হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।’ তার কথা শুনে সুলায়মান মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ‘হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা–মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর’।” (২৭:১৫ – ১৯)
وَوَهَبْنَا لِدَاوٗدَ سُلَیْمٰنَ ؕ نِعْمَ الْعَبْدُ ؕ اِنَّہٗۤ اَوَّابٌ اِذْ عُرِضَ عَلَیْهِ بِالْعَشِیِّ الصّٰفِنٰتُ الْجِیَادُ فَقَالَ اِنِّیْۤ اَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَیْرِ عَنْ ذِکْرِ رَبِّیْ ۚ حَتّٰی تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ رُدُّوْهَا عَلَیَّ ؕ فَطَفِقَ مَسْحًۢا بِالسُّوْقِ وَالْاَعْنَاقِ وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَیْمٰنَ وَاَلْقَیْنَا عَلٰی کُرْسِیِّہٖ جَسَدًا ثُمَّ اَنَابَ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَهَبْ لِیْ مُلْکًا لَّا یَنْۢبَغِیْ لِاَحَدٍ مِّنْۢ بَعْدِیْ ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَابُ فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّیْحَ تَجْرِیْ بِاَمْرِہٖ رُخَآءً حَیْثُ اَصَابَ وَالشَّیٰطِیْنَ کُلَّ بَنَّآءٍ وَغَوَّاصٍ وَاٰخَرِیْنَ مُقَرَّنِیْنَ فِی الْاَصْفَادِ هٰذَا عَطَآؤُنَا فَامْنُنْ اَوْ اَمْسِکْ بِغَیْرِ حِسَابٍ وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَآبٍ
“আমি দাউদকে সোলায়মান দান করেছি। সে একজন উত্তম বান্দা। সে ছিল প্রত্যাবর্তনশীল। যখন তার সামনে অপরাহ্নে উৎকৃষ্ট অশ্বরাজি পেশ করা হল, তখন সে বললঃ ‘আমি তো আমার পরওয়ারদেগারের স্মরণে বিস্মৃত হয়ে সম্পদের মহব্বতে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি -এমনকি সূর্য ডুবে গেছে। এগুলোকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন।’ অতঃপর সে তাদের পা ও গলদেশ ছেদন করতে শুরু করল। আমি সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং রেখে দিলাম তার সিংহাসনের উপর একটি নিস্প্রাণ দেহ। অতঃপর সে রুজু হল। সোলায়মান বললঃ ‘হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।’ তখন আমি বাতাসকে তার অনুগত করে দিলাম, যা তার হুকুমে অবাধে প্রবাহিত হত যেখানে সে পৌছাতে চাইত। আর সকল শয়তানকে তার অধীন করে দিলাম অর্থৎ, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী। এবং অন্য আরও অনেককে অধীন করে দিলাম, যারা আবদ্ধ থাকত শৃঙ্খলে। এগুলো আমার অনুগ্রহ, অতএব, এগুলো কাউকে দাও অথবা নিজে রেখে দাও-এর কোন হিসেব দিতে হবে না। নিশ্চয় তার জন্যে আমার কাছে রয়েছে মর্যাদা ও শুভ পরিণতি।” (৩৮: ৩০ – ৪০)
وَلِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ عَاصِفَۃً تَجْرِیْ بِاَمْرِہٖۤ اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَکْنَا فِیْهَا ؕ وَکُنَّا بِکُلِّ شَیْءٍ عٰلِمِیْنَ وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ
“এবং সুলায়মানের অধীন করে দিয়েছিলাম প্রবল বায়ুকে; তা তাঁর আদেশে প্রবাহিত হত ঐ দেশের দিকে, যেখানে আমি কল্যাণ দান করেছি। আমি সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছি। এবং অধীন করেছি শয়তানদের কতককে, যারা তার জন্যে ডুবুরীর কাজ করত এবং এ ছাড়া অন্য আরও অনেক কাজ করত। আমি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতাম।” (২১:৮১ - ৮২)
وَتَفَقَّدَ الطَّیْرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الْهُدْهُدَ ۫ۖ اَمْ كَانَ مِنَ الْغَآئِبِیْنَ لَاُعَذِّبَنَّہٗ عَذَابًا شَدِیْدًا اَوْ لَاَاذْبَحَنَّہٗۤ اَوْ لَیَاْتِیَنِّیْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ فَمَكَثَ غَیْرَ بَعِیْدٍ فَقَالَ اَحَطْتُّ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِہٖ وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَاٍۭ بِنَبَاٍ یَّقِیْنٍ اِنِّیْ وَجَدْتُّ امْرَاَۃً تَمْلِکُهُمْ وَاُوْتِیَتْ مِنْ کُلِّ شَیْءٍ وَّلَهَا عَرْشٌ عَظِیْمٌ وَجَدْتُّهَا وَقَوْمَهَا یَسْجُدُوْنَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ فَهُمْ لَا یَہْتَدُوْنَ اَلَّا یَسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِیْ یُخْرِجُ الْخَبْءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَیَعْلَمُ مَا تُخْفُوْنَ وَمَا تُعْلِنُوْنَ اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ الْكَاذِبِينَ اذْهَب بِّكِتَابِي هَـٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ
“সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, ‘কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত? আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব অথবা সে উপস্থিত করবে উপযুক্ত কারণ।’ কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, ‘আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি। আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের উপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।’ সুলায়মান বললেন, ‘এখন আমি দেখব তুমি সত্য বলছ, না তুমি মিথ্যবাদী। তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও এবং এটা তাদের কাছে অর্পন কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় এবং দেখ, তারা কি জওয়াব দেয়।” (২৭:২০ – ২৮)
হযরত ঈসা (আ) – এর অলৌকিক জন্ম বৃত্তান্ত
হযরত ঈসা (আ) ছিলেন অল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালার একজন বিশিষ্ট নবী ও রাসূল। তিনি ছিলেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কুদরতের এক বিশেষ নিদর্শনস্বরূপ। কারণ তাঁর জন্ম ও বর্তমান অবস্থান রহস্যমন্ডিত ও অলৌকিকতাপূর্ণ। তিনি কোন পিতার ঔরসজাত সন্তান ছিলেন না, বরং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতা হযরত জিব্রাইল (আ) তাঁর মাতা মরিয়ম (আ) এর গর্ভে ‘রূহ’ ফুঁকে দেওয়ার কারণে তিনি গর্ভ ধারণ করেন এবং ঈসা (আ) -কে জন্মদান করেন। তাই পিতার পরিবর্তে তাঁর মাতার নাম সংযুক্ত হয়ে তাঁর নাম হয়েছে – ঈসা ইবনে মরিয়ম। তারপর একটি নির্দিষ্ট বয়সে আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা তাঁকে জীবিত অবস্থায় নিজের কাছে তুলে নেন – যদিও ইহুদী–খ্রীস্টানরা মনে করে তাঁকে শূলীতে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআনের ভাষ্যানুযায়ী তিনি ঊর্ধাকাশে অবস্থান করছেন এবং ক্বিয়ামতের নিদর্শনস্বরূপ তিনি পুনরায় পৃথিবীর বুকে ফিরে আসবেন, তবে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উম্মত হিসেবে গণ্য হবেন। তারপর তিনি দাজ্জাল ও ইয়াজুয–মা’জুযের কবল থেকে দুনিয়াবাসীকে উদ্ধারের পর স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবেন। এ সম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে বর্ণিত হলো:
اِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَۃُ یٰمَرْیَمُ اِنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُكِ بِكَلِمَۃٍ مِّنْهُ ٭ۖ اسْمُهُ الْمَسِیْحُ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ وَجِیْہًا فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَۃِ وَ مِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ وَ یُكَلِّمُ النَّاسَ فِی الْمَہْدِ وَ كَہْلًا وَّ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ قَالَتْ رَبِّ اَنّٰی یَکُوْنُ لِیْ وَلَدٌ وَّ لَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ ؕ قَالَ كَذٰلِكِ اللّٰهُ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَہٗ کُنْ فَیَکُوْنُ وَ یُعَلِّمُهُ الْكِتٰبَ وَ الْحِکْمَۃَ وَ التَّوْرٰىۃَ وَ الْاِنْجِیْلَ وَ رَسُوْلًا اِلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۬ۙ اَنِّیْ قَدْ جِئْتُکُمْ بِاٰیَۃٍ مِّنْ رَّبِّکُمْ ۙ اَنِّیْۤ اَخْلُقُ لَکُمْ مِّنَ الطِّیْنِ كَهَیْـَٔۃِ الطَّیْرِ فَاَنْفُخُ فِیْهِ فَیَکُوْنُ طَیْرًۢا بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَ اُبْرِیُٔ الْاَکْمَهَ وَ الْاَبْرَصَ وَ اُحْیِ الْمَوْتٰی بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَ اُنَبِّئُکُمْ بِمَا تَاْکُلُوْنَ وَ مَا تَدَّخِرُوْنَ ۙ فِیْ بُیُوْتِکُمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لَّکُمْ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ
“যখন ফেরেশতাগণ বললো, ‘হে মারইয়াম আল্লাহ তোমাকে তাঁর এক বাণীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ–মারইয়াম–তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত। যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ তিনি বললেন, ‘পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি।’ বললেন, ‘এ ভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়। আর তাকে তিনি শিখিয়ে দেবেন কিতাব, হিকমত, তওরাত, ইঞ্জিল। আর বনী ইসরাঈলদের জন্যে রাসূল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন।’ তিনি বললেন , ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দেই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দেই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও’।” (৩:৪৫ – ৪৯)
وَ اذْکُرْ فِی الْكِتٰبِ مَرْیَمَ ۘ اِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ اَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِیًّا فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُوْنِهِمْ حِجَابًا ۪۟ فَاَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهَا رُوْحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِیًّا قَالَتْ اِنِّیْۤ اَعُوْذُ بِالرَّحْمٰنِ مِنْكَ اِنْ کُنْتَ تَقِیًّا قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوْلُ رَبِّكِ ٭ۖ لِاَهَبَ لَكِ غُلٰمًا زَكِیًّا قَالَتْ اَنّٰی یَکُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّ لَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ وَّ لَمْ اَکُ بَغِیًّا قَالَ كَذٰلِكِ ۚ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَیَّ هَیِّنٌ ۚ وَ لِنَجْعَلَہٗۤ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَ رَحْمَۃً مِّنَّا ۚ وَ كَانَ اَمْرًا مَّقْضِیًّا فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِہٖ مَكَانًا قَصِیًّا فَاَجَآءَهَا الْمَخَاضُ اِلٰی جِذْعِ النَّخْلَۃِ ۚ قَالَتْ یٰلَیْتَنِیْ مِتُّ قَبْلَ هٰذَا وَ کُنْتُ نَسْیًا مَّنْسِیًّا فَنَادٰىهَا مِنْ تَحْتِهَاۤ اَلَّا تَحْزَنِیْ قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِیًّا وَ هُزِّیْۤ اِلَیْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَۃِ تُسٰقِطْ عَلَیْكِ رُطَبًا جَنِیًّا فَکُلِیْ وَ اشْرَبِیْ وَ قَرِّیْ عَیْنًا ۚ فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الْبَشَرِ اَحَدًا ۙ فَقُوْلِیْۤ اِنِّیْ نَذَرْتُ لِلرَّحْمٰنِ صَوْمًا فَلَنْ اُكَلِّمَ الْیَوْمَ اِنْسِیًّا
“এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল। অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। মারইয়াম বলল: ‘আমি তোমা থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।’ সে বলল: ‘আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।’ মরিইয়াম বলল: ‘কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি কখনও ব্যভিচারিণীও ছিলাম না ?’ সে বলল: ‘এমনিতেই হবে।’ তোমার পালনকর্তা বলেছেন, ‘এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।’ অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন। প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ–মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেন: ‘হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!’ অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্ন দিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, ‘তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন। আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে। যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিও: আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না’।” (১৯:১৬ – ২৬)
فَاَتَتْ بِہٖ قَوْمَهَا تَحْمِلُہٗ ؕ قَالُوْا یٰمَرْیَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَیْئًا فَرِیًّا یٰۤاُخْتَ هٰرُوْنَ مَا كَانَ اَبُوْكِ امْرَ اَ سَوْءٍ وَّ مَا كَانَتْ اُمُّكِ بَغِیًّا فَاَشَارَتْ اِلَیْهِ ؕ قَالُوْا كَیْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِی الْمَہْدِ صَبِیًّا
“অতঃপর তিনি (মারইয়াম) সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বলল: ‘হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। হে হারূন–ভগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।’ অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বলল: ‘যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব’?” (১৯:২৭ – ২৯)
قَالَ اِنِّیْ عَبْدُ اللّٰهِ ۟ؕ اٰتٰنِیَ الْكِتٰبَ وَ جَعَلَنِیْ نَبِیًّا وَّ جَعَلَنِیْ مُبٰرَکًا اَیْنَ مَا کُنْتُ ۪ وَ اَوْصٰنِیْ بِالصَّلٰوۃِ وَ الزَّکٰوۃِ مَا دُمْتُ حَیًّا وَّ بَرًّۢا بِوَالِدَتِیْ ۫ وَ لَمْ یَجْعَلْنِیْ جَبَّارًا شَقِیًّا وَ السَّلٰمُ عَلَیَّ یَوْمَ وُلِدْتُّ وَ یَوْمَ اَمُوْتُ وَ یَوْمَ اُبْعَثُ حَیًّا ذٰلِكَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ ۚ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِیْ فِیْهِ یَمْتَرُوْنَ
“সন্তান (ঈসা আ) বললেন: ‘আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।’ এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে।” (১৯:৩০ – ৩৪)
وَّ بِکُفْرِهِمْ وَ قَوْلِهِمْ عَلٰی مَرْیَمَ بُہْتَانًا عَظِیْمًا وَّ قَوْلِهِمْ اِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِیْحَ عِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ۚ وَ مَا قَتَلُوْهُ وَ مَا صَلَبُوْهُ وَ لٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ ؕ وَ اِنَّ الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِیْهِ لَفِیْ شَکٍّ مِّنْهُ ؕ مَا لَهُمْ بِہٖ مِنْ عِلْمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَ مَا قَتَلُوْهُ یَقِیْنًۢا بَلْ رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَیْهِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا وَ اِنْ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اِلَّا لَیُؤْمِنَنَّ بِہٖ قَبْلَ مَوْتِہٖ ۚ وَ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ یَکُوْنُ عَلَیْهِمْ شَهِیْدًا
“আর তারা কুফরী করেছিল এবং মরিয়মের প্রতি মহাঅপবাদ আরোপ করার কারণে। আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুত তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা‘আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর আহলে–কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।” (৪:১৫৬ – ১৫৯)
اِذْ قَالَ اللّٰهُ یٰعِیْسٰۤی اِنِّیْ مُتَوَفِّیْكَ وَ رَافِعُكَ اِلَیَّ وَ مُطَهِرُكَ مِنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ جَاعِلُ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْكَ فَوْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَۃِ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرْجِعُکُمْ فَاَحْکُمُ بَیْنَکُمْ فِیْمَا کُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ
“আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে নিয়ে নেবো এবং তোমাকে নিজের দিকে তুলে নেবো – কাফেরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করে দেবো। আর যারা তোমার অনুগত রয়েছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে তাদের (ইহুদীদের) উপর জয়ী করে রাখবো। বস্তুত তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। তখন যে বিষয়ে তোমরা বিবাদ করতে, আমি তোমাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবো।” (৩:৫৫)
নবী ও রাসূলগণের মু’জেযা
ইসলামী পরিভাষায় মু’জেযা হলো নবী ও রাসূলগণকে প্রদত্ত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অলৌকিক নিদর্শনসমূহ। এসব মু’জেযা বা নিদর্শনসমূহ সমকালীন বিষয়ের দক্ষতা ও উৎকর্ষতাকে ছাপিয়ে নবী ও রাসূলগণের মর্যাদাকে সর্বসাধারণের কাছে সমুন্নত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতো। নবী ও রাসূলগণ আল্লাহর অনুমতিক্রমে মু’জেযা প্রদর্শন করতেন। নবী ও রাসূলগণকে প্রদত্ত মু’জেযাসমূহে বিশ্বাস করা ঈমানের অঙ্গ। তাঁদের মু’জেযা সংক্রান্ত কিছু আয়াত নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো:
وَاِلٰى ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا قَالَ يٰقَوْمِ اعْبُدُوْا اللهَ مَا لَكُمْ مِّنْ الٰهٍ غَيْرُه قَدْ جَآءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ هٰذِه نَاقَةُ اللهِ لَكُمْ اٰيَةً فَذَرُوْهَا تَاْكُلْ فِىْ اَرْضِ اللهِ وَلَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَيَاْخُذَكُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
“সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বলল : ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভূমিতে চড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে না। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে’।” (৭:৭৩)
قَالُوْا حَرِّقُوْهُ وَانْصُرُوْا اٰلِهَتَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ فٰعِلِيْنَ قُلْنَا يٰنَارُ كُوْنِىْ بَرْدًا وَّسَلٰمًا عَلٰۤى اِبْرٰهِيْمَ وَاَرَادُوْا بِه كَيْدًا فَجَعَلْنٰهُمُ الْاَخْسَرِيْنَ
“তারা বলল: ‘একে (ইব্রাহীম আ) পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।’ আমি বললাম: ‘হে অগ্নি, তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল, অতঃপর আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।” (২১:৬৮ – ৭০)
وَمَا تِلْكَ بِيَمِيْنِكَ يٰمُوْسٰى قَالَ هِىَ عَصَاىَ اَتَوَكَّؤُا عَلَيْهَا وَاَهُشُّ بِهَا عَلٰى غَنَمِىْ وَلِىَ فِيْهَا مَـَٔارِبُ اُخْرٰى قَالَ اَلْقِهَا يٰمُوْسٰى فَاَلْقٰىهَا فَاِذَا هِىَ حَيَّةٌ تَسْعٰى قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ سَنُعِيْدُهَا سِيْرَتَهَا الْاُوْلٰى وَاضْمُمْ يَدَكَ اِلٰى جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوْٓءٍ اٰيَةً اُخْرٰى لِنُرِيَكَ مِنْ اٰيٰتِنَا الْكُبْرَى
“হে মূসা, ‘তোমার ডানহাতে ওটা কি?’ তিনি বললেন: ‘এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে।’ আল্লাহ বললেন: ‘হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল। আল্লাহ বললেন: ‘তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব। তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই। এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই’।” (২০:১৭ – ২৩)
وَقَالَ مُوْسٰى يٰفِرْعَوْنُ اِنِّى رَسُوْلٌ مِنْ رَّبِّ الْعٰلَمِيْنَ حَقِيْقٌ عَلٰۤى اَنْ لَاۤ اَقُوْلَ عَلَى اللهِ الَّا الْحَقَّ قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَيِّنَةٍ مِنْ رَّبِّكُمْ فَاَرْسِلْ مَعِىَ بَنِىۤ اِسْرٰٓءِيْلَ قَالَ اِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِـَٔايَةٍ فَاْتِ بِهَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِيْنَ فَاَلْقٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِىَ ثُعْبَانٌ مُّبِيْنٌ وَنَزَعَ يَدَه فَاِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنّٰظِرِيْنَ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِيْمٌ
“আর মূসা বললেন, ‘হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব–পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল। আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন (মু’জেযা) নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।’ সে বলল, ‘যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।’ তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ–পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ–যাদুকর।” (৭:১০৪ – ১০৯)
فَاَتْبَعُوْهُمْ مُّشْرِقِیْنَ فَلَمَّا تَرَآءَ الْجَمْعٰنِ قَالَ اَصْحٰبُ مُوْسٰۤی اِنَّا لَمُدْرَکُوْنَ قَالَ كَلَّا ۚ اِنَّ مَعِیَ رَبِّیْ سَیَہْدِیْنِ فَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ؕ فَانْفَلَقَ فَكَانَ کُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِیْمِ وَ اَزْلَفْنَا ثَمَّ الْاٰخَرِیْنَ وَ اَنْجَیْنَا مُوْسٰی وَ مَنْ مَّعَہٗۤ اَجْمَعِیْنَ ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً ؕ وَ مَا كَانَ اَکْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ
“অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা (ফেরআউনের দল) তাদের (বনী–ইসরাঈলদের) পশ্চাদ্ধাবন করল। যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, ‘আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।’ মূসা বলল, ‘কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।’ অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর।’ ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল। আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম। এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম। অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জিত করলাম। নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।” (২৬:৬০ – ৬৭)
وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًا ۚ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ إِذِ اسْتَسْقَاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۚ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ۚ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
“আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, ‘স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর।’ অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই।” (৭:১৬০)
وَّاٰتَيْنَا عِيْسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنٰتِ وَاَيَّدْنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ
“…… এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে…. ।” (২:২৫৩)
وَ رَسُوْلًا اِلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۬ۙ اَنِّیْ قَدْ جِئْتُکُمْ بِاٰیَۃٍ مِّنْ رَّبِّکُمْ ۙ اَنِّیْۤ اَخْلُقُ لَکُمْ مِّنَ الطِّیْنِ كَهَیْـَٔۃِ الطَّیْرِ فَاَنْفُخُ فِیْهِ فَیَکُوْنُ طَیْرًۢا بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَ اُبْرِیُٔ الْاَکْمَهَ وَ الْاَبْرَصَ وَ اُحْیِ الْمَوْتٰی بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَ اُنَبِّئُکُمْ بِمَا تَاْکُلُوْنَ وَ مَا تَدَّخِرُوْنَ ۙ فِیْ بُیُوْتِکُمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لَّکُمْ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ
“আর বনী ইসরাঈলদের জন্যে রাসূল হিসেবে তাকে (ঈসা আ: কে) মনোনীত করবেন। তিনি বলবেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দিব। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করব, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যাবে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলব জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দিব মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দিব যা তোমরা খেয়ে আসবে এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আসবে। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও’।” (৩:৪৯)
اِذْ قَالَ الْحَوَارِیُّوْنَ یٰعِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ هَلْ یَسْتَطِیْعُ رَبُّكَ اَنْ یُّنَزِّلَ عَلَیْنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ ؕ قَالَ اتَّقُوا اللّٰهَ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ قَالُوْا نُرِیْدُ اَنْ نَّاْکُلَ مِنْهَا وَ تَطْمَئِنَّ قُلُوْبُنَا وَنَعْلَمَ اَنْ قَدْ صَدَقْتَنَا وَ نَکُوْنَ عَلَیْهَا مِنَ الشّٰهِدِیْنَ قَالَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنْزِلْ عَلَیْنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ تَکُوْنُ لَنَا عِیْدًا لِّاَوَّلِنَا وَ اٰخِرِنَا وَ اٰیَۃً مِّنْكَ ۚ وَ ارْزُقْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ قَالَ اللّٰهُ اِنِّیْ مُنَزِّلُهَا عَلَیْکُمْ ۚ فَمَنْ یَّکْفُرْ بَعْدُ مِنْکُمْ فَاِنِّیْۤ اُعَذِّبُہٗ عَذَابًا لَّاۤ اُعَذِّبُہٗۤ اَحَدًا مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ
“যখন হাওয়ারীরা বলল: ‘হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন?’ তিনি বললেন: ‘যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর।’ তারা বলল: ‘আমরা তা থেকে খেতে চাই; আমাদের অন্তর পরিতৃপ্ত হবে; আমরা জেনে নেব যে, আপনি সত্য বলেছেন এবং আমরা সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাব।’ ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেন: ‘হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ রুযীদাতা।’ আল্লাহ বললেন: ‘নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না’।” (৫:১১২ – ১১৫)
وَ وَرِثَ سُلَیْمٰنُ دَاوٗدَ وَ قَالَ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّیْرِ وَ اُوْتِیْنَا مِنْ کُلِّ شَیْءٍ ؕ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِیْنُ
“সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব’।” (২৭:১৬)
নবী ও রাসূলগণের মর্যাদা ও তাঁদের প্রতি দরুদ, সালাম ও রহমত
নবী ও রাসূলগণ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের মনোনীত বিশেষ ও সম্মানার্হ বান্দা। আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতাগণ তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করেন এবং মু’মিন বান্দাগণকেও তাঁদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নবী ও রাসূলদের প্রতি দরুদ ও সালাম সংক্রান্ত কিছু আয়াত নীচে বর্ণিত হলো:
سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلٰمٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ
“পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে। পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।” (৩৭:১৮০ – ১৮২)
وَمَآ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعٰلَمِيْنَ
“আমি আপনাকে (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সা) বিশ্ববাসীর জন্যে রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” (২১:১০৭)
اِنَّ اللهَ وَمَلٰٓئِكَتَه يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا
”আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সা) প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।” (৩৩:৫৬)
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى الْاٰخِرِيْنَ سَلٰمٌ عَلٰى نُوْحٍ فِى الْعٰلَمِيْنَ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ
“আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে, বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি এভাবেই সৎকর্মপরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।” (৩৭:৭৮ – ৮০)
وَوَهَبْنَالَه اِسْحٰقَ وَيَعْقُوْبَ كُلًّاهَدَيْنَا وَنُوْحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِه دَاودَ وَسُلَيْمٰنَ وَاَيُّوْبَ وَيُوْسُفَ وَمُوْسٰى وَهٰرُوْنَ وَكَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ وَزَكَرِيَّا وَيَحْيٰى وَعِيْسٰى وَاِلْيَاسَ كُلٌّ مِّنَ الصّٰلِحِيْنَ وَاِسْمٰعِيْلَ وَالْيَسَعَ وَيُوْنُسَ وَلُوْطًا ط وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعٰلَمِيْنَ
“আমি তাঁকে (ইব্রাহীম আ) দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি – তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবং ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনূস, লূতকে প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর গৌরবাম্বিত করেছি।” (৬:৮৪ – ৮৬)
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى الْاٰخِرِيْنَ سَلٰمٌ عَلٰۤى اِبْرٰهِيْمَ كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ اِنَّه مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ
“আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।” (৩৭:১০৮ – ১১১)
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَ مَا یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ۙ وَهَبْنَا لَہٗۤ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ ؕ وَ کُلًّا جَعَلْنَا نَبِیًّا وَ وَهَبْنَا لَهُمْ مِّنْ رَّحْمَتِنَا وَ جَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِیًّا
“অতঃপর তিনি (ইব্রাহীম) যখন তাদেরকে এবং তার আল্লাহ ব্যতীত যাদের এবাদত করত, তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে নবী করলাম। আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং তাদেরকে দিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।” (১৯: ৪৯ – ৫০)
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى الْاٰخِرِيْنَ سَلٰمٌ عَلٰى مُوْسٰى وَهٰرُوْنَ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ اِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ
“আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে, মূসা ও হারুনের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। তারা উভয়েই ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।” (৩৭:১১৯ – ১২২)
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى الْاٰخِرِيْنَ سَلٰمٌ عَلٰۤى اِلْيَاسِيْنَ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ اِنَّه مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ
“আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে, ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক! এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।” (৩৭:১২৯ – ১৩২)
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوْتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
“তার (ইয়াহইয়া) প্রতি শান্তি -যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।” (১৯:১৫)
وَالسَّلَامُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدْتُّ وَيَوْمَ اَمُوْتُ وَيَوْمَ اُبْعَثُ حَيًّا
“আমার (ঈসা ইবনে মরিয়ম) প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।” (১৯:৩৩)
وَاِسْمٰعِيْلَ وَاِدْرِيْسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِيْنَ وَاَدْخَلْنٰهُمْ فِىْ رَحْمَتِنَاۤ اِنَّهُمْ مِّنَ الصّٰلِحِيْنَ
“এবং ইসমাঈল, ইদ্রীস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী। আমি তাঁদেরকে আমার রহমাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ।” (২১:৮৫ – ৮৬)