এ অধ্যায়ের বিষয়সমূহ
Toggleতাওহীদ বা একত্ববাদের দিকে আহ্বান
হযরত মুহামাম্মদ (সাঃ) প্রচারিত ইসলাম ধর্ম ছিল একত্ববাদের প্রতীক। ইসলাম প্রচলিত কুসংস্কারপূর্ণ মূর্তিপূজার অবসান ঘটিয়ে মানবজাতিকে মুক্তি দিয়েছে শত শত উপাস্যের নিগড় থেকে, তাকে করেছে মহিমান্বিত। মানুষ মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, তাই মানুষের স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে তার মাথা নত হোক তা মোটেই কাম্য নয়।
তৌহিদই হলো ইসলাম ধর্মের মূল স্তম্ভ যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে ইসলামী জীবন ও সংস্কৃতি। এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহর আনুগত্যের ওপর গড়ে ওঠা ইসলামী জীবন ব্যবস্থা সমাজিক বৈষম্যের সকল কৃত্রিম ও জটিল বেড়াজালগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। মানুষে মানুষে সকল ভেদাভেদের অবসান ঘটিয়েছে। এর ফলে:
- অধঃপতিত মানবসমাজ সুযোগ পেয়েছে শির উঁচু করে দাঁড়াবার। সৎকর্মপরায়ণতা ও পরহেজগারীর মানদন্ডে স্বমহিমায় উন্নীত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
- আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য ও পালনকর্তা হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন বা ধর্ম হিসেবে পেয়ে এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নবী ও রাসুল হিসেবে পেয়ে ধন্য ও কৃতজ্ঞ তৌহিদবাদী মুসলিম সমাজ।
- সপ্তম শতাব্দীতে এই তৌহিদের পথ ধরেই বিশ্বব্যাপী ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির দ্রুত বিকাশ লাভ ঘটে।
- জড়বাদী শয়তানী শক্তির দাপট ও শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের তৌহিদের মর্মবাণী ও তার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাব বিশ্বজুড়ে প্রসারিত হয়েছে ।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন,
قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا۠ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوْحٰىۤ اِلَىَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّه فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صٰلِحًا وَّلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِه اَحَدًا
“(হে নবী) বলুন: আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সূরা কাহাফ, ১৮:১১০)
ইসলামের মূল বিষয়বস্তু হলো “তৌহীদ” — এ মতবাদের প্রতিষ্ঠা
নবী করীম (সাঃ) প্রচারিত ধর্ম ইসলামের মূল বিষয়বস্তু হলো “তৌহীদ” অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদ ও সর্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা। মানবজাতি যখন এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উপাসনা পরিত্যাগ করে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার এবং পৌত্তলিকতায় লিপ্ত তখনই তিনি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানালেন আল্লাহর একত্ববাদের দিকে। তাঁর এ আহ্বানের মূল লক্ষ্য ছিল:
- মানবজাতির মধ্যে এ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা, যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, তিনি এক, অদ্বিতীয় ও অনন্য, আমাদের পালনকর্তা ও জীবন–মরণের মালিক, জগতসমূহের স্রষ্টা, সমগ্র বিশ্বের একক ও সর্বভৌম অধিপতি।
- বহু উপাস্যের দাসত্বের শিকল থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি আনুগত্যপূর্ণ জীবনের অভিমুখী করা যাতে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও সাফল্য অর্জন করতে পারে।
- যারা তাঁর এ আহ্বান থেকে বিমুখ থাকবে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের মহাবিপদ সম্পর্কে সতর্ক করা।
তাওহীদের মর্মবাণী
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রচারিত ধর্মীয় বিশ্বাস “তৌহীদ” বা একত্ববাদের সম্পূর্ণ বিপরীতে ‘শিরক বা পৌত্তলিক মতবাদ’ এর প্রধান বিষয় ছিল দেব–দেবীকে আল্লাহর সমকক্ষ বা শরীক সাব্যস্ত করা, মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করা এবং অন্যান্য সৃষ্ট বস্তু ও প্রাণীর উপাসনা করা ও এদেরকে ভাগ্য ও কর্মের নিয়ামক হিসেবে গণ্য ও মান্য করা।
অপরদিকে ইসলামী বিশ্বাস ‘তাওহীদের’ মর্মবাণী হলো:
-
আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি এক–অদ্বিতীয়, অনন্য ও অতুলনীয় সত্তা, তাঁর কোন শরীক নেই এবং নেই কোন সমকক্ষ।
-
আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন, অথচ সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী।
-
নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর একচ্ছত্র মালিক তিনি। তিনিই সার্বভৌম শক্তি ও সকল আনুগত্যের অধিকারী এবং সকল প্রশংসার যোগ্য।
-
মানুষ একমাত্র তাঁরই আনুগত্য ও উপাসনা করবে, একমাত্র তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে, তাঁরই ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে।
তৌহীদের সাথে শিরকের দ্বন্দ
তৌহীদ ও শিরক এ দুই বিপরীতমুখী ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ ও সংঘাত। মক্কার কুরাইশগণ তাদের বাপ–দাদার ধর্মীয় বিশ্বাস পৌত্তলিকতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পছন্দ করলো এবং শক্তিবলে তৌহীদকে প্রতিরোধ করতে চাইলো।
- তারা আশঙ্কা করলো যে, কা’বা গৃহে স্থাপিত দেব–দেবীর কারণে তাদের মধ্যে যে সম্মান ও প্রতিপত্তি বিরাজ করছে তা এ নতুন ধর্মীয় বিশ্বাস বিনষ্ট করে দেবে।
- তারা হঠকারিতা ও অজ্ঞতাপ্রসূত হয়ে ইসলাম ধর্মের অবমূল্যায়ন ও বিরোধীতা শুরু করলো।
- এ পর্যন্ত যে গুটিকয়েক মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল তাদের উপর নেমে এলো কুরাইশদের জুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতনের খড়্গহস্ত।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক ইসলামী দ্বীনের দাওয়াত
নবুওতের প্রথম তিন বছর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়–স্বজন ও বন্ধুবর্গের মধ্যে মহান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। এ পর্যায়ে আল্লাহর দ্বীন প্রচারের জন্য যে আয়াতটি নাযিল হয় তা হলো:
وَ اَنْذِرْ عَشِیْرَتَكَ الْاَقْرَبِیْنَ وَ اخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ فَاِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ وَ تَوَكَلْ عَلَی الْعَزِیْزِ الرَّحِیْمِ الَّذِیْ یَرٰىكَ حِیْنَ تَقُوْمُ وَ تَقَلُّبَكَ فِی السّٰجِدِیْنَ اِنَّہٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ
“আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে (পরকাল সম্পর্কে) সতর্ক করে দিন। এবং আপনার অনুসারী মু’মিনদের প্রতি সদয় হোন। যদি তারা আপনার অবাধ্যতা করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত। আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর, যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন, এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।” (সূরা আশ-শো’আরা , ২৬:২১৪–২২০)
প্রাথমিক পর্যায়ের মুসলমানগণ
দ্বীন প্রচারের সূচনা লগ্নে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেন তাঁর স্ত্রী খাদীজা (রাঃ) ।
- এর পরই তাঁর গৃহে অবস্থানরত চাচাত ভাই কিশোর বয়সী হযরত আলী ইবনে তালিব (রাঃ), পালকপুত্র হযরত যায়েদ (রাঃ),
- এবং পরিবারের বাইরে বিশিষ্ট বন্ধুবর হযরত আবু বকর (রাঃ) ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।
এ প্রাথমিক পর্বে আরও যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন:
- হযরত ওসমান (রাঃ),
- হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ),
- হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাঃ),
- হযরত সা’আদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ),
- হযরত যোবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ), প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় হযরত আবু বকর (রাঃ)- এর আহ্বানে মক্কার বাইরেও কয়েকজন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ের ইবাদত–বন্দেগী
ঈমান আনয়নের পর প্রাথমিক অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ নামায আদায়ের নির্দেশ জারী হলো। এটা ছিলো মিরাজকালীন জারীকৃত নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিধানের পূর্বাবস্থা। তখন চুপিচুপি রুকু, সিজদা ও ক্বিরাতের মাধ্যমে নামায আদায় শুরু হয়।
সর্ব সাধারণ্যে ইসলামের প্রচার
প্রথম পর্বে তিন বছর গোপনে ইসলাম প্রচারের পর দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম প্রচারের নির্দেশ জারী হলো। এ পর্যায়ে প্রথমে মুহাম্মদ (সাঃ) নিজ বাড়ীতে এক ভোজ অনুষ্ঠানে বনু–হাশেম গোত্রীয় আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করেন। ভোজ শেষে তিনি তাদের মধ্যে তাঁর নবুওত প্রাপ্তি ও আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে বক্তব্য রাখলেন এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন।
কিন্তু কেহই তাঁর এ আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরে পড়তে শুরু করলো। তাঁর এক চাচা আবু লাহাব রাগান্বিত হয়ে উঠে গেল। অবস্থাদৃষ্টে উপস্থিত কিশোর আলী (রাঃ) ঘোষণা করলেন,
‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার সাহায্যকারী, আপনার বন্ধুদের বন্ধু এবং শত্রুদের শত্রু।’
তাঁর এ ঘোষণায় সবার মুখে অবজ্ঞার হাসি ফুটে উঠলো এবং তারা অবহেলাভরে স্থান ত্যাগ করলো।
এ সময় ওহী নাযিল হলো:
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَاَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِيْنَ اِنَّا كَفَيْنٰكَ الْمُسْتَهْزِءِيْنَ
“অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরেকদের পরওয়া করবেন না। বিদ্রূপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট।” (সূরা হিজর, ১৫:৯৪–৯৫)
সাফা পাহাড় থেকে প্রকাশ্য ঘোষণা
উপরোক্ত ঘটনার পর দ্বিতীয় বারে সর্ব সাধারণ্যে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) সাফা পাহাড়ের উপর উঠে মক্কাবাসী জনসাধারণকে আহ্বান জানালেন। তৎকালীন রীতি অনুযায়ী কোন জরুরী ঘোষণা সাফা পাহাড়ের উপর থেকে করা হত। তাঁর আহ্বানে চারপাশ থেকে লোকজন এসে সাফার পাদদেশে সমবেত হলো। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন,
‘হে কুরাইশগণ! আমি যদি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেই যে, এই পাহাড়ের বিপরীত পাশে এক দুর্ধর্ষ অশ্বারোহী শত্রুবাহিনী মক্কা আক্রমণের জন্য লুকিয়ে আছে, তবে কি তোমরা তা বিশ্বাস করবে?’
সমবেত কন্ঠে উত্তর আসলো, ‘অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করব – কারণ আমরা জানি আপনি সত্যবাদি ও বিশ্বাসী।’
নবী করীম (সাঃ) আশ্বস্ত হয়ে কুরাইশ বংশের প্রতিটি গোত্রের নাম উল্লেখ করে বললেন:
“হে বন্ধুবর্গ! পরকালে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আল্লাহ্ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন আমার ঘনিষ্ঠজনকে পরকালের ভয়াবহ আযাব সম্পর্কে সতর্ক করি। আমি এ কথা বলতে আদিষ্ট হয়েছি যে, “আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় – তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আমি তাঁর দাস ও রসূল। তোমরা যদি আমার এ কলেমায় বিশ্বাস করো তবে আমি তোমাদেরকে নিশ্চিত করতে পারি যে তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করবে। অন্যথায় আমি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের স্বজন হিসেবে কোন সাহায্য করতে পারব না।”
প্রকাশ্য এ আহ্বানের প্রতিত্রিয়া
তাঁর এ আহ্বানে অন্য কেহ কোনরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা করতে করতে সরে পড়লো। শুধুমাত্র গোঁড়া পৌত্তলিক আবু লাহাব উত্তেজিত হয়ে নবী করীম (সাঃ) এর দিকে একটি ঢিল ছুঁড়ে মারলো এবং চিৎকার করে বললো, ‘তোমার ধ্বংস হোক, এ কথা বলার জন্যই কি তুমি আমাদেরকে ডেকে এনেছো?’
তার এমন রূঢ় আচরণ নতুন কিছু ছিল না। ইতিপূর্বেও সে এ রকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। শুরু থেকেই সে নবী করীম (সাঃ) এর নবুওতকে অস্বীকার করে তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছিল এবং তার স্ত্রীও নবীর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে তাঁকে কষ্ট দিত।
এর কিছুকাল পর সূরা লাহাব নাযিল হয়:
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
”আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।” (সূরা লাহাব, ১১১:১–৫)
নবী–রসূলগণের বিরোধীতা
আল্লাহর প্রেরিত প্রত্যেক নবী–রসূলগণ আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে স্বজাতির বিরোধীতার সম্মুখীন হয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। প্রত্যেক নবী–রসূলই ঠাট্টা–বিদ্রূপ, নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক যন্ত্রণা, এমনকি হত্যার শিকারও হয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এসব ঘটনার কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নবীকে সাত্ত্বনা দিয়েছেন।
নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে তা–ই বর্ণিত হয়েছে:
وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِیْنَ ؕ وَ كَفٰی بِرَبِّكَ هَادِیًا وَّ نَصِیْرًا
“এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তা পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।” (সূরা ফুরকান, ২৫:৩১)
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوْا عَلٰى مَاكُذِّبُوْا وَاُوْذُوْا حَتّٰۤى اَتٰى هُمْ نَصْرُنَا وَلَامُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِ اللهِ وَلَقَدْ جَآءَكَ مِنَ نَّبَاِى الْمُرْسَلِيْنَ
“আপনার পূর্বেও রসূলগণকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে তাঁরা তাঁদের প্রতি অস্বীকৃতি ও অন্যায়কে সহ্য করেছেন, যতক্ষণ না আমার সাহায্য তাঁদের নিকট পৌঁছেছিল। আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।” (সূরা আন’আম, ৬:৩৪)
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِىْ شِيْعِ الْاَوَّلِيْنَ وَمَا يَاْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِءُوْنَ
“আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি। ওদের কাছে এমন কোন রসূল আসেননি, যাদের সাথে ওরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাকেনি।” (সূরা হিজর, ১৫:১০–১১)
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুওতি মিশন
“আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল” এ বিশ্বজনীন আহ্বানই ছিল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওতী দায়িত্বের (prophetic mission) মূল মন্ত্র। আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তাঁকে শুধু তাঁর নিজ গোত্রের জন্যই প্রেরণ করেননি, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণ করেছেন। সমগ্র মানবজাতিকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করাই ছিল তাঁর নবুওতি মিশন। এ সম্পর্কে সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন:
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“তিনিই (আল্লাহ্) নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। এই রসূল প্রেরিত হয়েছেন অন্য আরও লোকদের জন্যে, যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। তিনি (আল্লাহ্) পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এটা আল্লাহর কৃপা, যাকে ইচ্ছা তিনি তা (নবুওত) দান করেন। আল্লাহ্ পরম করুণাময় (সূরা আল জুমুআহ, ৬২: ২–৪)।”
ধীরে ধীরে প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাকের নিকট থেকে ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশ আসতে লাগলো। যেমন:
- আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না,
- পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো,
- স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না,
- মহান আল্লাহ্ সবার রিজিকদাতা,,
- নির্লজ্জতার ধারে–কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য,
- যাকে হত্যা করা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায় বিচারের মাধ্যমে।
নিম্নোক্ত আয়াতে এসব নির্দেশ এসেছে:
قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۖ وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ ۖ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ۖ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
“হে নবী) আপনি বলুন: এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যা তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ্ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝতে পার (সূরা আন’আম, ৬: ১৫১)।”
নবুওতী জীবনের গুরু দায়িত্ব
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুওত -পূর্ববর্তী জীবন যেরূপ আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল ছিল, তেমনি নবুওত–পরবর্তী জীবনও ঐশী মহিমায় আরো মহিমান্বিত ও সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠলো। মানবজাতির এক মহাসংস্কার ও পরিবর্তনের গুরু দায়িত্বভার তাঁর কাঁধে অর্পিত হল।
পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল ও কঠিন, কারণ শত শত বছরের পৌত্তলিকতার পাপ–পঙ্কিলতায় আচ্ছন্ন পাষাণ হৃদয়সমূহ পরম সত্য গ্রহণে বিমুখ ছিল। সত্যের সাথে মিথ্যার দ্বন্দ সে তো চিরন্তন। তিনি জানেন, এ এক কঠিন কঠোর সংগ্রাম, মহা বিপদসংকুল পথে তাঁর যাত্রা। জানমাল বিসর্জন দিয়ে এ পথে এগুতে হবে। স্বয়ং আল্লাহ্ নিয়েছেন তাঁর প্রিয় নবীর নিরাপত্তার দায়িত্বভার। তিনি অকুতোভয়ে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্রতী হলেন।
আল্লাহর দ্বীন প্রচারের কৌশল
নবী করীম (সাঃ) আল্লাহর বাণী কুরআনের দ্বারা মানুষদেরকে সদুপদেশ দিতে লাগলেন। তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষায় এবং মার্জিত, রুচিশীল ও যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনা দ্বারা মানুষজনকে ধর্মোপদেশ দিতেন।
- তাঁর বক্তব্য হত নাতিদীর্ঘ – তা এমন সংক্ষিপ্ত হত না যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়, আবার ধৈর্যচ্যুতি ঘটানোর মত দীর্ঘও নয়।
- জামায়াতে তাঁর নামায পড়ানোর রীতিও ছিল তাই।
- তাঁর কোন কথা বা কাজ মানুষের উপর বোঝাস্বরূপ ছিল না। বরং মানুষের কোন কষ্ট বা অকল্যাণ তাঁর নিকট ছিল দুর্বিষহ।
- নিপীড়িত মানবতার কল্যাণের জন্য হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মহান আল্লাহর এক পরম অনুগ্রহ, তাঁর আগমণে সৃষ্ট জগত ধন্য হয়েছিল।
- মহান আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী তিনি ছিলেন ”সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত স্বরূপ (২১: ১০৭)।”
তাঁর প্রতি মহান আল্লাহর নির্দেশ ছিল:
اُدْعُ اِلٰى سَبِيْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجٰدِلْهُمْ بِالَّتِىْ هِىَ اَحْسَنُ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَن سَبِيْلِه وَهُوَ اعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ
“হে নবী) জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আপনার প্রভুর দিকে আহ্বান করুন এবং তাদের সামনে যুক্তি উত্থাপন করুন সর্বোত্তম পন্থায় (সূরা নহল, ১৬:১২৫)।”
দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্য ও মর্মকথা
শয়তানের প্ররোচনায় পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়াই ছিল নবী–রসূলগণের দায়িত্ব। সকল নবী ও রসূলের দ্বীনি দাওয়াত ছিল একই। নবী করীম (সা) এর আবির্ভাব ও দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যো ছিল একই।
নবী করীম (সা) এর প্রচারিত ইসলামী দ্বীনের উদ্দেশ্য ও মর্মকথা ছিল সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর সর্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্য ও স্বীকৃতি। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির কল্যাণ ও শান্তি। তা অর্জনের জন্য আল্লাহ্ মনোনীত ধর্ম ইসলামই একমাত্র পথ। কারণ পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের প্রচারিত দ্বীন শিরক বা পৌত্তলিকতার প্রভাবে বিকৃত হয়ে পড়েছিল।
তাঁর নবুওতি মিশন সম্পর্কে অবহিত করে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মানবজাতির উদ্দেশ্যে বলেন:
يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ الرَّسُوْلُ بِالْحَقِّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَاٰمِنُوْا خَيْرًا لَّكُمْ وَاِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ لِلّٰهِ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ط وَكَانَ اللهُ عَلِيْمًا حَكِيْمًا
“হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।” (সূরা নিসা, ৪:১৭০)
كَمَاۤ اَرْسَلْنَا فِيْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ يَتْلُوْا عَلَيْكُمْ اٰيٰتِنَا وَيُزَكِّيْكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَ
“আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমূহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।” (সূরা বাক্বারাহ, ২:১৫১)
قُلْ يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنِّىْ رَسُوْلُ اللهِ الَيْكُمْ جَمِيْعًا الَّذِىْ لَه مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ يُحْى وَيُمِيْتُ فَـَٔامِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ النَّبِىِّ الْاُمِّىِّ الَّذِىْ يُؤْمِنْ بِاللهِ وَكَلِمٰتِه وَاتَّبِعُوْهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ
“(হে নবী) ঘোষণা করুন, হে মানবমন্ডলী! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তাঁর রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহ তায়ালার উপর, তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর – যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ্ এবং তাঁর সকল বাণীর ওপর। তাঁর (নবীর) অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।” (সূরা আরাফ, ৭:১৫৮)
رَّسُوْلًا يَتْلُوْا عَلَيْكُمْ اٰيٰتِ اللهِ مُبَيِّنٰتٍ لِّيْخْرِجَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوْا الصّٰلِحٰتِ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ وَمَنْ يُّؤْمِنْۢ بِاللهِ وَيَعْمَلْ صٰلِحًا يُّدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِىْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْهَاۤ اَبَدًا قَدْ اَحْسَنَ اللهُ لَه رِزْقًا
“একজন রসূল, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন, যাতে বিশ্বাসী ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্ধকার থেকে আলোতে আনয়ন করেন। যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তথায় তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাকে উত্তম রিযিক দেবেন।” (সূরা আত তালাক্ব, ৬৫:১১)
وَمَآ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيْرًا قُلْ مَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ اَجْرٍ اِلَّا مَنْ شَآءَ اَنْ يَّتَّخِذَ اِلٰى رَبِّه سَبِيْلًا وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَىِّ الَّذِىْ لَا يَمُوْتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِه وَكَفٰى بِه بِذُنُوْبِ عِبَادِه خَبِيْرًا
“আমি আপনাকে (ইকালীন ও পরকালীন জীবনের) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করেছি। বলুন, আমি তোমাদের কাছে এর কোন বিনিময় চাই না, কিন্তু যে ইচ্ছা করে, সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক। আপনি সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা করুন, যার মৃত্যু নেই এবং তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন। তিনি বান্দার গোনাহ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকেবহাল।” (সূরা ফুরকান, ২৫:৫৬–৫৮)
قُلْ اَرَءَیْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَرُوْنِیْ مَاذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَهُمْ شِرْکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ؕ اِیْتُوْنِیْ بِكِتٰبٍ مِّنْ قَبْلِ هٰذَاۤ اَوْ اَثٰرَۃٍ مِّنْ عِلْمٍ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ وَ مَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ یَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَنْ لَّا یَسْتَجِیْبُ لَہٗۤ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَۃِ وَ هُمْ عَنْ دُعَآئِهِمْ غٰفِلُوْنَ وَ اِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ اَعْدَآءً وَّ كَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ کٰفِرِیْنَ
“(হে নবী) বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোন অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে ক্বিয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পূজা সম্পর্কেও বেখবর। যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে।” (সূরা আহকাফ, ৪৬:৪–৬)