২৪ তম অধ্যায় : রোমান আক্রমণ আশঙ্কা ও তাবুক অভিযান

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি

মক্কা বিজয়ের পর সমগ্র আরব উপদ্বীপ জুড়ে ইসলামের প্রভাব–প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরবের গোত্রগুলো এ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন দলে দলে ইসলাম গ্রহণের সাড়া পড়ে যায়। এসব নব্য মুসলিম গোত্রের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার কাজে নবীজী (সাঃ) ব্যতিব্যস্ত হন। এদিকে উদীয়মান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ইসলামের আবির্ভাব ঘটায় পার্শ্ববর্তী খৃস্টান রোমান শাসক সতর্ক হয়ে উঠে। তারা ইসলামী শক্তিকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আরব–সিরিয়া সীমান্তবর্তী তাবুক থেকে তাদের ব্যাপক রণ-প্রস্তুতির সংবাদ আসে। নবী করীম (সাঃ) ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে এর মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। যুদ্ধের জন্য সময়টি অনুকূল ছিল না। একেতো গরম কাল – তদুপরি প্রচন্ড দাবদাহে পুড়ছিল আরবভূমি। পথও ছিল দীর্ঘ অর্থাৎ সিরিয়া সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল। পানি ও রসদসহ এ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা ছিল এক দুরূহ ব্যাপার। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বিরাট শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল চরম সাহসিকতার পরিচয়।

মুসলিম বাহিনীর জন্য সৈন্য সংগ্রহ ও তাদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নবীজী (সাঃ) আরবের বিভিন্ন গোত্রের সাথে যোগাযোগ করলেন। সে সাথে দানশীল ব্যক্তিদেরকে যুদ্ধ তহবিলে উদার হস্তে দান করার আহ্বান জানালেন। তাঁর উদাত্ত আহ্বানে দিকে দিকে যুদ্ধ-প্রস্তুতির সাড়া পড়ে গেলো। ইতোপূর্বে মুতার যুদ্ধে দেড়লক্ষাধিক বিশাল রোমক সৈন্য বাহিনীর বিরুদ্ধে মাত্র তিন সহস্র মুসলিম বাহিনীর সাহসিকতাপূর্ণ লড়াইটি ছিল মুসলমানদের কাছে উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণামূলক বীরত্ব গাঁথা। রোমকদের আসন্ন আক্রমণ ঠেকাতে সেই ঈমানী চেতনা এবং শহীদী মৃত্যুর বাসনা তাঁদেরকে আবারও উজ্জীবিত করে তুললো। যার যা আছে তাই নিয়ে তাঁরা নবী করীম (সাঃ) এর আহ্বানে সাড়া দিলেন। প্রতিকূল অবস্থা ও চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও নবীজী (সাঃ) দশ হাজার অশ্বারোহীসহ ত্রিশ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী গঠন করেন।

তবে কিছু দুর্বল ঈমানের অধিকারী ও মুনাফেক ব্যক্তিদের মনোভাব ছিল ভিন্ন ধরনের। তারা নানা ছলছুতোয় যুদ্ধে গমন থেকে অব্যাহতি পেতে চাচ্ছিল। এদেরই একটি দল সুওয়ায়লিম নামক এক ইহুদীর ঘরে বসে সাধারণ মুসলমানদেরকে যুদ্ধে গমন থেকে বিরত রাখার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। নবী করীম (সাঃ) এ খবর জানতে পারেন। তিনি এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে তাদের এ চক্রান্ত ভেস্তে যায়। যেহেতু তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পেছনে বসে থাকতে পছন্দ করছিল তাই মুসলিম সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এসব মুনাফেক প্রকৃতির লোকদেরকে। মহান আল্লাহ্ এসব মুনাফেক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবায় বলেন:

اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِکُمْ وَ اَنْفُسِکُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِکُمْ خَیْرٌ لَّکُمْ اِنْ کُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۝ لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِیْبًا وَّ سَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوْكَ وَ لٰكِنْۢ بَعُدَتْ عَلَیْهِمُ الشُّقَّۃُ ؕ وَ سَیَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ لَوِ اسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَکُمْ ۚ یُہْلِکُوْنَ اَنْفُسَهُمْ ۚ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ اِنَّهُمْ لَکٰذِبُوْنَ ۝ عَفَا اللّٰهُ عَنْكَ ۚ لِمَ اَذِنْتَ لَهُمْ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَكَ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَ تَعْلَمَ الْکٰذِبِیْنَ ۝ لَا یَسْتَاْذِنُكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ اَنْ یُّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالْمُتَّقِیْنَ ۝ اِنَّمَا یَسْتَاْذِنُكَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ ارْتَابَتْ قُلُوْبُهُمْ فَهُمْ فِیْ رَیْبِهِمْ یَتَرَدَّدُوْنَ ۝ وَ لَوْ اَرَادُوا الْخُرُوْجَ لَاَعَدُّوْا لَہٗ عُدَّۃً وَّ لٰكِنْ كَرِهَ اللّٰهُ انْۢبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَ قِیْلَ اقْعُدُوْا مَعَ الْقٰعِدِیْنَ ۝ لَوْ خَرَجُوْا فِیْکُمْ مَّا زَادُوْکُمْ اِلَّا خَبَالًا وَّ لَا۠اَوْضَعُوْا خِلٰلَکُمْ یَبْغُوْنَکُمُ الْفِتْنَۃَ ۚ وَ فِیْکُمْ سَمّٰعُوْنَ لَهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالظّٰلِمِیْنَ  ۝ لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَۃَ مِنْ قَبْلُ وَ قَلَّبُوْا لَكَ الْاُمُوْرَ حَتّٰی جَآءَ الْحَقُّ وَ ظَهَرَ اَمْرُ اللّٰهِ وَ هُمْ کٰرِهُوْنَ۝ وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ۝

“তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা (মুনাফেক ও দুর্বল ঈমানের লোকজন) অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী। আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের। আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর আল্লাহ সাবধানীদের ভাল জানেন। নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায়, যারা আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতে ঈমান রাখে না এবং তাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলেছে। আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক। যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুত আল্লাহ যালিমদের ভালভাবেই জানেন। তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা–পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল। আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং ফেতনায় ফেলবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই ফেতনায় পড়ে আছে এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।” (৯:৪১ – ৪৯)

فَرِحَ الْمُخَلَّفُوْنَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلٰفَ رَسُوْلِ اللّٰهِ وَ كَرِهُوْۤا اَنْ یُّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ قَالُوْا لَا تَنْفِرُوْا فِی الْحَرِّ ؕ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ اَشَدُّ حَرًّا ؕ لَوْ كَانُوْا یَفْقَهُوْنَ ۝ فَلْیَضْحَکُوْا قَلِیْلًا وَّ لْیَبْکُوْا كَثِیْرًا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَکْسِبُوْنَ ۝ فَاِنْ رَّجَعَكَ اللّٰهُ اِلٰی طَآئِفَۃٍ مِّنْهُمْ فَاسْتَاْذَنُوْكَ لِلْخُرُوْجِ فَقُلْ لَّنْ تَخْرُجُوْا مَعِیَ اَبَدًا وَّ لَنْ تُقَاتِلُوْا مَعِیَ عَدُوًّا ؕ اِنَّکُمْ رَضِیْتُمْ بِالْقُعُوْدِ اَوَّلَ مَرَّۃٍ فَاقْعُدُوْا مَعَ الْخٰلِفِیْنَ۝

“পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত। অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে। বস্তুত আল্লাহ যদি তোমাকে তাদের মধ্য থেকে কোন শ্রেণীবিশেষের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং অতঃপর তারা তোমার কাছে অভিযানে বেরোবার অনুমতি কামনা করে, তবে তুমি বলো যে, তোমরা কখনো আমার সাথে বেরোবে না এবং আমার পক্ষ হয়ে কোন শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে না, তোমরা তো প্রথমবারে বসে থাকা পছন্দ করেছ, কাজেই পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথেই বসে থাক।” (৯:৮১ – ৮৩)

وَجَاءَ الْمُعَذِّرُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ لِيُؤْذَنَ لَهُمْ وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ سَيُصِيبُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ۝

“আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।” (৯:৯০)

তাবুক যুদ্ধের তহবিল গঠনে ধনী–দরিদ্র নির্বিশেষে সকল ঈমানদার মুসলমান নর–নারী এগিয়ে এসেছিল। সংগতিহীন দরিদ্র মুসলমানগণও তাদের সাধ্যমত অংশগ্রহণ করেছিল। মুনাফেকরা তাদের যৎসামান্য দান নিয়ে হাস্য–রসিকতা করতে শুরু করে দেয়। এদের সম্পর্কে সতর্ক বাণী নাযিল করে মহান আল্লাহ্ বলেন:

الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ ۙ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ۝

“সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা–বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান–খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। আল্লা্ তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।” (৯:৭৯)

 

তাবুক অভিমুখে যুদ্ধযাত্রা

হিজরী নবম সাল। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জীবনের শেষ লগ্নে এসে সর্ববৃহৎ তাবুক অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে মদীনার দায়িত্বভার অর্পিত হয় হযরত আলী (রাঃ) এর উপর। তারপর সিরিয়া সংলগ্ন আক্বাবা উপকূলবর্তী তাবুক সীমান্ত অভিমুখে মুসলিম বাহিনী রওয়ানা দেয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এ বাহিনী হিজর নামক এক স্থানে যাত্রা বিরতি করে। এরপর আবার তাদের যাত্রা শুরু হয়। অবশেষে মুসলিম বাহিনী তাবুক সীমান্তে পৌঁছেুয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা রোমক বাহিনীর কোন অস্তিত্ব খোঁজে পেলেন না। মুসলিম বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে ভীত রোমক বাহিনী তখন সীমান্ত ছেড়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরস্থিত দুর্গে অবস্থান করছিল। তারা ধারণা করতে পারেনিে মুসলমানরা এত বিরাট এক বাহিনী নিয়ে তাদের মোকাবেলা করতে আসবে। তাই তাবুক রোমক সম্রাটকে সংবাদ পাঠলো এ মুসলিম বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করা সমীচিন হবে না।

এ অবস্থায় নবী করীম (সাঃ) সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে তাবুকেই সতেরো দিন অবস্থান করেন। কিন্তু রোমক বাহিনী এতদিনেও যুদ্ধে নামতে সাহস পায়নি। নবী করীম (সাঃ) সীমান্তবর্তী ঈলার রোমান শাসক ইউহান্না ইবনে রাওবার নিকট যুদ্ধ অথবা আত্মসমর্পনের আহ্বান জানিয়ে দূত প্রেরণ করেন। ইউহান্না তাঁর সমীপে হাজির হয়ে আত্মসমর্পন করে। সে তার স্বর্ণ নির্মিত ক্রূশটি নবী করীম (সাঃ)-কে উপহার দেয় এবং যিযিয়া কর প্রদানের শর্তে সন্ধি করে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী জাররা ও আযরুহের অপর দুই রোমক শাসক যিযিয়া কর প্রদানের শর্তে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করে। তাবুক অভিযান শেষে নবীজী (সাঃ) মুসলিম বাহিনীকে সাথে নিয়ে মদীনায় ফিরে আসেন।

 

দূমাতুল জান্দাল অভিযান

তাবুক থেকে মদীনায় ফেরার পথে নবীজী (সাঃ) আরও একটি আশঙ্কার কথা চিন্তা করেন যে, সিরিয়ার সীমান্তবর্তী দূমাতুল জান্দাল থেকেও সেখানকার খৃস্টান শাসকের সহায়তায় রোমকদের আক্রমণ সূচিত হতে পারে। তিনি সেখানে নিজে না গিয়ে হযরত খালীদ ইবনে ওয়ালীদ (রাঃ)-কে পাঁচশত অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে দূমায় পাঠিয়ে দিলেন। খালীদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী দ্রুত দূমাতুল জান্দালে পৌঁছে যায়। তারা শহরে প্রবেশের পূর্বেই এর শাসক উকায়দির ইবনে আব্দুল মালেক আলকিন্দীকে মৃগয়ারত অবস্থায় পেয়ে বন্দী করেন। বিনা যুদ্ধেই শহরটির পতন ঘটে। সেখান থেকে বন্দী উকায়দির ও প্রচুর গনীমতের মালামালসহ মুসলিম বাহিনী মদীনায় ফিরে আসে। উকায়দির ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ও নবীজী (সাঃ) এর সাথে সন্ধিচুক্তি করে দূমাতুল জান্দালে ফিরে যান।

 

তাবুক অভিযান পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ

আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের প্রতি আনুগত্যকে কেন্দ্র করে তাবুক যুদ্ধ মদীনার মু’মিন ও মুনাফেকদের মধ্যে এক সুস্পষ্ট পার্থক্য দৃশ্যমান করে তুলেছিল। এ স্পষ্ট বিভাজন মু’মিনদেরকে সাহায্য করেছিল মুনাফেকদের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ চরিত্র উন্মোচনে। তাবুক থেকে ফেরত আসার পর মুনাফেকরা এ যুদ্ধাভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে নানারূপ উপহাস ও বিরূপ মন্তব্য করছিল। তাদের কিছু সংখ্যক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারার অজুহাতও ব্যাখ্যা করছিল। অন্যদিকে কিছু সংখ্যক অপারগ মু’মিন যারা বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে তাবুক যুদ্ধে যেতে না পারায় দুঃখভরাক্রান্ত ও মনোকষ্টে ছিলেন। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন:

لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ۝  وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ۝

“দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু। আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে আপনার (নবী সাঃ) নিকট যেন আপনি তাদের বাহন দান করেন এবং আপনি বলেছেন, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।” (৯:৯১ – ৯২)

অপর দিকে যারা অযথা কারণ দেখিয়ে যুদ্ধে গমন থেকে বিরত ছিল তারা নবীজী (সাঃ) এর নিকট এসে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করছিল যা ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি তাদের ব্যাপারটি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলেন – নিজে কোন ব্যবস্থা নিলেন না। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন:

إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ وَهُمْ أَغْنِيَاءُ ۚ رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ۝   يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ ۚ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ ۚ وَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ۝   سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ إِنَّهُمْ رِجْسٌ ۖ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ۝   يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ ۖ فَإِن تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَىٰ عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ۝

“অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা আপনার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর আল্লাহ মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি। আপনি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবেন, তখন তারা আপনাদের নিকট ছল–ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; আপনি বলুন, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে। এখন তারা আপনার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন আপনি তাদের কাছে ফিরে যাবেন, যেন আপনি তাদের ক্ষমা করে দেন। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করেন – নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ। তারা আপনার সামনে কসম খাবে যাতে আপনি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যান। অতএব, আপনি যদি রাযী হয়ে যান তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।” (৯:৯৩ – ৯৬)

 

তিনজন অনুতপ্ত সাহাবীর ঘটনা

এ যুদ্ধাভিযান থেকে পেছনে রয়ে যাওয়া তিনজন সাহাবী ছিলেন – কাব ইবনে মালিক (রাঃ), মুরারা ইবনে আল–রাবি আল–আমর (রাঃ) ও হিলাল ইবনে আবু উমাইয়া আল–ওয়াশিফি (রাঃ)। তবে এদের মধ্যে তিনজন সাহাবী ছিলেন যাঁরা নবীজী (সাঃ) এর সম্মুখে এসে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী হলেন। তিনি তাঁদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিলেন না, বরং আল্লাহর নিকট থেকে ওহী নাযিলের অপেক্ষা করলেন। তিনি সকল মুসলমানকে পঞ্চাশ দিনের জন্য এ তিনজনের সংস্রব বর্জন করার নির্দেশ দিলেন। শেষ দশ দিন তাঁদেরকে তাঁদের স্ত্রীদের থেকেও পৃথক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ সময়টিতে তাঁরা সবার সংস্রব ছেড়ে লোকালয়ের বাইরে অনুশোচনাগ্রস্ত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় কাটিয়েছেন। অবশেষে মহান আল্লাহ্ তাঁদের তওবা কবুল করেন ও তাঁদেরকে ক্ষমা করে নিম্নের আয়াতটি নাযিল করেন:

وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّىٰ إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ۝

“এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই – অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।” (৯:১১৮)

 

মুনাফেকদের চক্রান্ত ও মসজিদে যেরার ঘটনা

মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরে অবস্থানকারী মুনাফেকরা বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। তাদের এ ষড়যন্ত্র যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলো কোবা পল্লীতে নির্মিত মসজিদে যেরার ঘটনা। মদীনার মুনাফেকদের একটি দল ইসলামের এক বিপদজনক শত্রু আবু আমীর আর রাহিবের চক্রান্তে কোবা পল্লীর কাছে একটি গৃহ নির্মাণ করে এবং এটিকে মসজিদের রূপ দেয় যাতে নিরাপদে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পারে। সে ছিল মদীনার মুনাফেক সর্দার আব্দুল্লাহ্ ইবনে উবাই এর চাচা। বদর ও ওহুদ যুদ্ধে সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। কথিত আছে যে, রোম সম্রাটের সাথে আবু আমীরের সম্পর্ক ছিল। তার উদ্দেশ্যে ছিল রোমান শাসকের যোগসাজশে মদীনা আক্রমণ এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ও মুসলমানদেরকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করা। এ মুনাফেকের দলটি নবী করীম (সা) এর নিকট অজুহাত পেশ করে যে, কোবার মসজিদটি দূরে হওয়ায় তারা জামাতে নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে এটি নির্মাণ করেছে। তাদের এ মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য তারা রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেন তাবুক অভিযান থেকে ফিরে এসে এ মসজিদে নামায আদায় করবেন। তাবুক থেকে ফিরে আসার পর আল্লাহ্ তায়ালা মুনাফেকদের এ ষড়যন্ত্রের কথা তাঁর নবী (সাঃ)-কে ওহী মারফত জানিয়ে সাবধান করে দেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দুষ্কর্মের এ গৃহটি পুড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে নিম্নের আয়াতগুলো প্রণিধানযোগ্য:

وَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَّ کُفْرًا وَّ تَفْرِیْقًۢا بَیْنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ اِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَہٗ مِنْ قَبْلُ ؕ وَ لَیَحْلِفُنَّ اِنْ اَرَدْنَاۤ اِلَّا الْحُسْنٰی ؕ وَ اللّٰهُ یَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَکٰذِبُوْنَ ۝ لَا تَقُمْ فِیْهِ اَبَدًا ؕ لَمَسْجِدٌ اُسِّسَ عَلَی التَّقْوٰی مِنْ اَوَّلِ یَوْمٍ اَحَقُّ اَنْ تَقُوْمَ فِیْهِ ؕ فِیْهِ رِجَالٌ یُّحِبُّوْنَ اَنْ یَّتَطَهَرُوْا ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُطَّهِرِیْنَ ۝اَفَمَنْ اَسَّسَ بُنْیَانَہٗ عَلٰی تَقْوٰی مِنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانٍ خَیْرٌ اَمْ مَّنْ اَسَّسَ بُنْیَانَہٗ عَلٰی شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِہٖ فِیْ نَارِ جَهَنَّمَ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَہْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۝ لَا یَزَالُ بُنْیَانُهُمُ الَّذِیْ بَنَوْا رِیْبَۃً فِیْ قُلُوْبِهِمْ اِلَّاۤ اَنْ تَقَطَّعَ قُلُوْبُهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ ۝

“আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাঁটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক। তুমি কখনো সেখানে দাঁড়াবে না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্যস্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধসে পড়ার নিকটবর্তী এবং অতঃপর তা ওকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর আল্লাহ যালেমদের পথ দেখান না। তাদের নির্মিত গৃহটি তাদের অন্তরে সদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের অন্তরগুলো চৌচির হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।” (৯:১০৭ – ১১০)

অধ্যায়সমূহ